বিপ্লব রহমান RSS feed

biplobr@gmail.com
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমার ভাই মানব~

বিপ্লব রহমান

আমার বড় ভাই মেসবাহ রহমান, মানব গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর সাভার সিআরপিতে ভোর বেলা দেহ রেখেছিলেন, ঘুমের ভেতরেই হার্ট এটাক।

সেদিন মর্নিং ডিউটি ছিল, সকাল ৭টার টেলিভিশন নিউজ বুলেটিন অন এয়ার হয়েছে মাত্র। এমন সময় ভাইয়ার নার্সের হাউমাউ কান্না। আমি তাকে স্থির বুদ্ধিতে একজন ডাক্তার ডেকে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলি। অফিসে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ছুটি নিয়ে সাভারের পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছুটে যাই। পাগলের মত একেতাকে টেলিফোন করি, আমার একমাত্র ভাই!

আগের দিনই ডে অফের বিকালে দুঘন্টার বাস জার্নি করে সাভার সিআরপিতে গিয়ে ভাইয়ার সংগে অনেক সময় কাটিয়েছি। তার শরীর স্পঞ্জ করে দেই। জামাকাপড় বদলে নার্স মনোয়ারসহ ভাইয়ার হুইল চেয়ার ঠেলে কেবিনের বাইরে খোলা লনে বেড়াই। আমরা পুকুরের পাড়ে বিশাল কড়ই গাছের নীচে থামি, সন্ধ্যা বিলাস।

আমি ভাইয়াকে সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলরি টেইলরের গল্প বলি। সিআরপির আরো কিছু হুইলচেয়ার করে বেড়াতে বের হওয়া নারী-পুরুষ রোগি আমাদের আলাপচারিতায় যোগ দেন। ভাইয়া ভেলরি টেইলরের সাথে দেখা করার ইচ্ছে পোষণ করেন। সিআরপির খোলা পরিবেশে তাকে কিছুটা সুখি মনে হয়।

রাত ৮টায় কেন্টিনে নিয়ে গিয়ে ভাইয়াকে ডিনার করাই। তারপর গুনে গুনে গোটা দশেক হরেক রকমের অষুধ। এরপর বাস ধরে ঢাকার বাসায় ফেরা। আর সেই ভাই পরদিন সকালে চলে গেলেন! এতই সহজ!

মানব ভাই নকশাল আমলের বিপ্লবী ছিলেন। গত বছর প্রয়াত বৃদ্ধ বাবা আজিজ মেহেরের সাবেক দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (মতিন-আলাউদ্দীন) সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় ভাষানীর সন্তোষের সম্মেলন করেছিলেন। এইসব করতে গিয়ে সে সময় শত্রু পক্ষের গুলি লেগেছিল তার পায়ে।

সাতের দশকে আমার ভাই সব ছেড়ে দিয়ে পপ সম্রাট আজম খানের গানের দলে যোগ দেন। তিনি ছিলেন তার অন্যতম গিটারিস্ট। সে সময় গুলিস্তানে চো চিংচো চাইনিজ রেস্তোরাঁয় আজম খানের সংগে অনেক কনসার্ট করেছিলেন।

এখনো চোখ বুজলে শৈশবের সেই ভাইকে যেন দেখি, লম্বা চুল দাড়ি, নোংরা বেল বটম প্যান্ট, রঙচঙ শার্ট, সরু কালো মোর সিগারেট ফুকতে ফুকতে গিটার বাজিয়ে গাইছেন, “রেল লাইনের ওই বস্তিতে!”

আজম খানের জনপ্রিয় সব গান রেকর্ড বন্দি হওয়ার আগেই সে সময় আমি মানব ভাইয়ের গলাতেই শুনেছি। বিডিনিউজে কাজ করার সময় আজম খানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। পরে “আজম খানের মুক্তিযুদ্ধ“ নামে মুক্তমনাসহ বিভিন্ন সাইটে ব্লগ নোট লিখেছিলাম, সেখানে মানব ভাইয়ের কথা কিছু বলেছি, গুগোল করলে সে লেখাটি বোধহয় পাওয়া যাবে।

সেই ভাই বড় হতে হতে, দূরাগত হতে হতে, অনেক বছর আরব দেশে, প্রায় বেদুইন হয়ে গিয়েছিলেন!

দুবছর আগে আগস্টের কোনো এক বিকালে হঠাৎ টেলিফোন – দুবাই হসপিটালে আমার ভাই কোমায় আছেন! তার ব্রেইন স্ট্রোক করেছে, হার্ট ফেইল করেছে, এখনতখন অবস্থা! বিদেশ বিভূঁইয়ে একা, নিষ্প্রাণ, সাবেক বিপ্লবী, সাবেক আজম খানের গিটারিস্ট, প্রকৌশলী মানব ভাই পক্ষাঘাতে অতি বিপন্ন।

একমাস পর মেডিকেল সায়েন্সকে চমকে দিয়ে তিনি চোখ মেলে তাকালেন, ততোদিনে তার বামপাশ অসাড় হয়ে গিয়েছে, অবশ্য কথাবার্তা পরিস্কার, মস্তিস্ক কিছু এলোমেলো। …

দুবাই থেকে ঢাকা, ডাক্তার, নার্স, তার সহকর্মীদের সংগে টেলিফোনের পর টেলিফোন! আমার ভাইপো অনিন্দ্য (পেশায় ব্যাংকার, সেও দারুণ গিটারিস্ট, ভাইয়ার কাছেই গিটারে তার হাতেখড়ি) ভাইয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তার মা আর আমার বোনেরাসহ অনেক কাঠখড় পোড়ায়। দুমাসের অবিরাম চেষ্টার পর সেই ভাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ল্যাব এইড হাসপাতালে তার অনেক চিকিৎসা, ডাক্তার, থেরাপিস্ট, নার্স, অষুধের বাক্স।

ঢাকার মগবাজারের বিশাল ফ্লাট বাড়ির পুরোটাই অস্থায়ী হাসপাতালে পরিনত হয়। তার জন্য রাখা হয় সার্বক্ষণিক নার্স।

হুইল চেয়ার বন্দি ভাইয়ের সেভিং ও স্নানের দায়িত্ব নেই আমি। মাঝে মাঝে ভাইকে বিভিন্ন ব্লগপোস্ট, পত্রিকা থেকে পড়ে শোনাই, একসাথে ডিসকভারি দেখি, নানান বিষয়ে গল্প করি। গতবছর ১০ আগস্ট বাবা চলে যাওয়ার পর তাকে নিয়ে মুক্তমনাসহ বিভিন্ন সাইটে লেখা “আমার বাবা আজিজ মেহের“ নোটটি ভাইয়াকে পড়ে শোনাই। সেই লেখাটি শুনতে শুনতে ভাইয়া চোখ মোছেন। নকশাল বাড়ি আন্দোলনের আগুন ঝড়া দিনগুলোর কথা বলেন। বলেন, তার সহযোদ্ধা খোদ কৃষকের ছেলে নিদানের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর কথা। সাতের দশকে নিদানকে শত্রুপক্ষ বিভৎসভাবে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুন করে। এইসব বিপ্লবীর আত্মত্যাগ কী বৃথাই গেল? আমরা তো ভুলি নাই শহীদ…।

সেই মানব ভাই বছর খানেক অনেক ভুগে কেমন আলগোছে চলে গেলেন! যেন হাতের ভেতর থেকে আচমকা ফস্কে গেল হাত। ভাই আমার হারান অতল অন্ধকারে।

তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ভাইয়ার স্ত্রী ছেলেমেয়ে, আমার বোনেরা সবাই সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়ি মুগবেলাই জড়ো হয়েছিলাম। সেখানেই আমার ভাই জন্মেছিলেন, স্কুলে পড়েছেন, কৃষক রাজনীতিতে জড়িয়ে রাষ্ট্রবিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

বব ডিলানকে মনে পড়ছে, ” পিপল ডোন্ট লিভ অর ডাই, পিপল যাস্ট ফ্লোট”… মানুষের আসলে মরণ নাই, কর্মের ভেতরে, প্রিয়জনের পরানের গহিনে তার বাস, অবিরাম স্মৃতিতে তার বয়ে চলা।…

5 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: আমার ভাই মানব~

কি দ্রুত সময় বয়ে যায়! মানব-এর মৃত্যুর পর বিপ্লব-এর লেখা পড়েছিলাম গত বছর, মনে হয় এই তো সেদিন
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আমার ভাই মানব~

মানব ভাই অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে একটি খসড়া নোট লিখেছিলাম, তুমি হয়তো সেটাই দেখে থাকবে।

সত্যিই সময় খুব নিষ্ঠুর।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন