Salil Biswas RSS feed

bissal@rediffmail.com
Salil Biswasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...
  • যোজনগন্ধা
    ভূমিকা এই উপন্যাসের শুরু জানতে গেলে সময়ের স্রোতকে বলতে হবেএকটু উল্টোবাগে চলো। আইন করে নীল চাষ বন্ধ হয়েছে সদ্য সদ্য। তার কিছু আগের থেকে এ উপন্যাসের কুশীলবদের পথচলা শুরু। সুন্দরবন লাগোয়া ভবানীপুর গ্রামে রামতনু মুখার্জ্জীর পারবারিক প্রথা পুত্রবধূর প্রথম ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য"মা " এই শব্দ টার সাথে, আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজম একজনের মা ,তখন আমাদের নামের আগে একটা লড়াকু শব্দ দেয়াই যায়। আমরা একটা নিরস্ত্র যুদ্ধ করি।সকাল থেকে রাত।কাউকে ছোট করছিনা,মা মাত্রই তাই করেন বিশেষ করে যদি কর্মরতা ...
  • ভাসানের গল্প এবং
    ভাইফোঁটার স্মৃতির জোয়ারে চাপা পরে গেল ভাসানের গল্প. আমার ছোটবেলার সিঁথির গায়ে তখনো নকশাল আমলের দগদগে ঘা. বাঙ্গাল উদ্বাস্তুর সর্বহারানোর শেষে ফিরে-দাঁড়ানোর লড়াইতে সঙ্গী এপার বাংলার বিভিন্ন জেলার থেকে আসা মানুষেরা. কলকাতায় উড়তে থাকা সোনার টুকরো খপ করে ধরে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফ্রেইরি-চর্চা ৩ অধিগঠন/অধোগঠন বা সারফেস আর ডিপ স্ট্রাকচার

Salil Biswas

অধিগঠন/অধোগঠন বা সারফেস আর ডিপ স্ট্রাকচার

(একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। বিষয়টাই খুব জটিল। বুঝে গেলে অবশ্য মনে হবে, তেমন জটিল কিছু নয় তো! শুরুতেই তত্ত্বটা বলে নেওয়া হল। সেখান থেকে আমার জ্ঞানবুদ্ধি মত ব্যাখ্যায় যাবো। আর, যেহেতু মূল লেখার একটা অংশ অনুবাদ করে দেওয়া হল, একটু খটোমটো লাগতেই পারে। ফ্রেইরি পড়ে উপকৃত হবেনই পাঠক, কিন্তু তার জন্য একটু পরিশ্রম করতেও হবে। তাছাড়া, এইসব অপটু লেখা পড়েই সব বুঝে যাওয়া যাবে না … মূল লেখাগুলো পড়তেই হবে। ডায়ালোগ চাই। ‘অধিগঠন’ (‘surface structure’ ) আর ‘অধোগঠন’ (‘deep structure.’) শব্দদুটি তৈরি করেছেন পবিত্র সরকার। আমার একশো ভাগ পছন্দ না হলেও, আপাতত চলুক শব্দদুটো। আর একটা অনুরোধ – কিছু ব্যাখ্যার জন্য দেখুন -- কনসিয়েনটাইজেশন : বিশ্লেষণী চেতনা-উন্মেষ : ‘দুর্বার ভাবনা, খন্ড ১০, সংখ্যা ৪, অগাস্ট ২০০৮।)

গভীরে যাও – এটা আমাদের কথার একটা লব্জ হয়ে গেছে। আরও অনেক ‘লব্জ’র মত, এই কথাটাও আমরা গভীরে না গিয়েই ব্যবহার করে থাকি। খুব কমই আমরা কোনো কিছুর গভীরে যাই। আমাদের বিদ্যালয় ব্যবস্থা যে ‘শিক্ষা’ আমাদের দিয়ে থাকে তার মূল অবস্থানই হল, কোনো কিছু তলিয়ে না দেখা। আমাদের চেষ্টা যদি হয় বিশ্লেষণী চেতনা উন্মেষ বা কনসিয়েন্টাইজেশন, তাহলে তলিয়ে দেখা বা সব কিছুর গভীরে ঢুকে তাকে সব দিক থেকে দেখা-বোঝা হতে হবে আমাদের মৌলিক প্রচেষ্টা।
আমরা যা দেখি, যা বলি, যা শুনি, সব কিছুরই একটা বাহ্যিক চেহারা বা আকৃতি (একে বলা হচ্ছে ‘অধিগঠন’) থাকে, যা আবার রূপায়িত হয় কথায় (শব্দ বা বাক্য বা এমনকি, কেবল আওয়াজে) অথবা চিত্রে/চিত্রায়নে (ছবি বা মূর্তি বা চলচ্চিত্র বা অন্য কোনো শিল্প-মাধ্যমে)। এগুলো কিন্তু একাধারে মূর্ত (কনক্রিট) ও বিমূর্ত (অ্যাবস্ট্রাক্ট)। এই একই জিনিসের একটি অন্তর্লীন রূপ (একে বলা হচ্ছে ‘অধোগঠন’) থাকে, নিহিত একটা অর্থ থাকে, যেটা জেনে নিতে হয়, বাহ্যিক রূপকে ব্যবচ্ছেদ (এক ধরণের কাটাছেঁড়া) করে, তার অংশ উপাংশগুলিকে আলাদা আলাদা করে দেখে, জেনে, বুঝে। তাদের বিশ্লেষণ করে। বাহ্যিক রূপ ও অন্তর্লীন রূপের সমাহারকে বোঝা এবং জানাই হল সম্যক জ্ঞানার্জন।
ফ্রেইরি-র ‘কালচারাল অ্যাকশন ফর ফ্রিডম’ থেকে একটা দীর্ঘ উধৃতি দিয়ে শুরু করছি।
“কথোপকথনের বা পারস্পরিক বিনিময়ের তত্ত্বগত সূত্রে, বাস্তব অথবা মূর্ত পরিস্থিতিতে উপস্থাপিত তথ্যগুলিকে খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। এই বিশ্লেষণে প্রয়োজন হয় বিমূর্তন প্রকৃয়ার, যার মাধ্যমে, মূর্ত বাস্তবতাকে কল্পমূর্তিতে রূপায়ণের দ্বারা, আমরা সেই বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করি। আমাদের গৃহীত প্রণালীতে এই বিমূর্তন প্রকৃয়ায় আমরা সঙ্কেতায়ণ বা কোডিফিকেশন ব্যবহার করি। শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের প্রাপ্ত পরিস্থিতিগুলির কল্পমূর্তি রূপায়ণই হল এই সঙ্কেতায়ণ।
“এক দিকে, সঙ্কেতায়ণ মূর্ত রূপ এবং তাত্ত্বিক প্রেক্ষিতের (বাস্তবতার) মধ্যে মধ্যস্থতা করে। অন্যদিকে, জানা যায় এমন বস্তু হিসাবে সঙ্কেতায়ণ মধ্যস্থতা করবে তাদের মধ্যে, যারা (শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী) কথপোকথনের মাধ্যমে ‘পূর্ণ-অবয়ব কর্ম-বস্তু সমন্বয়’কে দৃষ্টিগ্রাহ্য করতে চাইছে।
“এই ধরণের ভাষাতাত্ত্বিক নিবন্ধকে ব্যাখ্যা করতে চাইলে আগে তাকে ‘পাঠ’ করতে হবে, সে নেহাত ছবি হলেও। চোমস্কি যাকে ‘অধিগঠন’ এবং ‘অধোগঠন’ বা ‘সারফেস’ এবং ‘ডিপ’ স্ট্রাকচার বলছেন তা ওই রূপায়ণের মধ্যে থাকবে অবশ্যই।
“সঙ্কেতায়ণের অধিগঠন ‘পূর্ণ-অবয়ব কর্ম-বস্তু সমন্বয়’-কে শুধুমাত্র বর্গীকৃত বা ট্যাক্সোনোমিক অবস্থায় দেখায়। সঙ্কেতভেদের প্রথম ধাপ – বা ‘পাঠ’ – বর্ণনামূলক হয়। এই পর্যায়ে ‘পাঠকরা – অথবা যারা সঙ্কেতভেদ করছে – সঙ্কেতায়ণে জড়িত বিভিন্ন বর্গের আন্তঃসম্পর্কের উপর মূল নজর দেয়। অধিগঠনের উপর প্রাথমিক এই নজর পাল্টে যায় সঙ্কেতায়িত পরিস্থিতির সমস্যায়ণে। শিক্ষার্থী এখান থেকে উপনীত হয় সঙ্কেতভেদের দ্বিতীয় এবং মৌলিক স্তরে, যখন সে সঙ্কেতায়ণের ‘অধোগঠন’কে বুঝতে পারে। সঙ্কেতায়ণের অধোগঠনকে বোঝার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী অধিগঠনে উপস্থিত বর্গগুলির অন্তর্লীন দ্বান্দ্বিকতাকে উপলব্ধি করতে পারে, আর ‘অধি’ এবং ‘অধো’ গঠনগুলির ঐক্যও তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।”
“In the theoretical context of dialogue, the facts presented by the real or concrete context are critically analyzed. This analysis involves the exercise of abstraction, through which, by means of representations of concrete reality, we seek knowledge of that reality. The instrument for this abstraction in our methodology is codification, or representation of the existential situations of the learners.
“Codification, on the one hand, mediates between the concrete and theoretical contexts (of reality). On the other hand, as knowable object, it mediates between the knowing subjects, educators and learners, who seek in dialogue to unveil the ‘action-object wholes.’
“This type of linguistic discourse must be ‘read’ by anyone who tries to interpret it, even when purely pictorial. As such, it presents what Chomsky calls ‘surface structure’ and ‘deep structure.’
“The ‘surface structure’ of codification makes the ‘action-object whole’ explicit in a purely taxonomic form. The first stage of decodification—or reading—is descriptive. At this stage, the ‘readers’—or decodifiers—focus on the relationship between the categories constituting the codification. This preliminary focus on the surface structure is followed by problematizing the codified situation. This leads the learner to the second and fundamental stage of decodification, the comprehension of the codification’s “deep structure”. By understanding the codification’s ‘deep structure’ the learner can then understand the dialectic that exists between the categories presented in the ‘surface structure,’ as well as the unity between the ‘surface’ and ‘deep’ structures.”
নোয়াম চোমস্কি-র ষাটের দশকে ‘ডিপ স্ট্রাকচার’ আর ‘সারফেস স্ট্রাকচার’ এই দুটি কথা জনপ্রিয় করেছিলেন। (‘দ্য লজিকাল বেসিস অব লিংগুইস্টিক থিওরি’ এবং ‘কারেন্ট ইসুজ ইন লিংগুইস্টিক থিওরি’, যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত) তার আগে ১৯৫৮ সালে ‘সারফেস গ্রামার’ এবং ‘ডিপ গ্রামার’ নাম দিয়ে এই দুই ধারণাকে চার্লস হকেট তাঁর ‘এ কোর্স ইন মডার্ন লিংগুইস্টিকস’ এই তুলে ধরেন। চোমস্কি শব্দ-বন্ধ দুটি হকেট-এর কাছ থেকে ধার করেছিলেন। লিংগুইস্টিকস বা ভাষাবিদ্যার জগতে ব্যবহৃত এই কথাগুলির প্রয়োগ ও দ্যোতনা খুবই জটিল এবং বহুমুখী। তা নিয়ে আলোচনার জায়গা এটা নয়, আর তা আমার ‘কম্মো’ও নয়।
একটা কথা শুধু বলি। আমি তো লিংগুইস্টিকস বিলকুল জানি না। কাজেই আবোলতাবোল বকে গেলেও ছাড় পেয়ে যাবো। এমন কি হতে পারে, যে, অধোগঠন বাক্যরূপ নিয়ে অধিগঠন হয়ে গিয়ে সচেতন ভাবে বলতে চাওয়া কথায় পরিণত হয়। কিন্তু যখন তা হয় না, অধোগঠন অনিচ্ছাতেও বেরিয়ে আসে, তখনই আমরা, যাকে বলে, “মুখ ফস্কে” কিছু বলে ফেলি। গভীর অর্থ আমাদের অগোচরেই বেরিয়ে পড়ে। হয়ত বা, ব্যাকরণ আমাদের উপরিতলের ছদ্মমুখকে ‘সভ্য’ থাকতে সাহায্য করে।
বয়স্ক শিক্ষার প্রক্রিয়া, ফ্রেইরি বলছেন, দ্বান্দ্বিক পথে এগোয়। সক্রিয়তা থেকে জন্ম নেয় চিন্তন এবং সেই চিন্তন নিয়ে আসে নতুন সক্রিয়তা। প্রথমে আসে শিক্ষার্থীর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতার কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশের চিত্রকল্পে রূপায়ণ। তাকে বিমূর্ত করে তোলা, একটি সমস্যার চেহারা দিয়ে। সেই চিত্রায়ণ হল তার অভিজ্ঞতার এক ধরণের সঙ্কেত বা ‘কোড’-এ রূপান্তর। সেই চিত্রকে ‘পাঠ’ করবে শিক্ষার্থী। পাঠ করে চিত্রিত বাস্তবকে আরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘জানা’র দিকে এগোবে সে। এইভাবে সে সঙ্কেতকে ‘ভেদ’ করবে, ‘ডিকোড’ করবে, অর্থাৎ, একটা বিমূর্ত আকৃতিকে, ‘অ্যাবস্ট্রাকট’ চেহারাকে, আবার তার, বলা যেতে পারে, মূর্ত বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা শ্রবণযোগ্য স্পর্শযোগ্য অনুভবনীয় অংশগুলিতে দৃষ্টিগোচর করে তুলবে। তৈরি করা সমাস্যাটির সমাধানের পথে এগিয়ে। এর সবটাই ঘটবে কথপোকথনের মধ্যে দিয়ে। সঠিক ভাবে এই জানার প্রক্রিয়া চলতে পারবে, যদি তা শিক্ষার্থীর যাপন-অভিজ্ঞতার অংশ হয়।
একই প্রক্রিয়া জারি থাকবে শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতার বাইরের বাস্তবতার ক্ষেত্রেও। কীভাবে, তা নিয়ে অন্যত্র আলোচনা করা যেতে পারে।
সঙ্কেতভেদ করার সময় অবিরত চলতে থাকবে চেনা বাস্তব আর চেনা জিনিসের অন্তর্নিহিত তত্ত্বগত অংশের মধ্যে আদানপ্রদান, শিক্ষার্থী আর শিক্ষা-সহকারীদের মধ্যে অনুঘটক হিসাবে চলতে থাকবে কথপোকথন। শিক্ষা-প্রার্থীরা - ‘ছাত্র’ ও ‘শিক্ষক’ উভয়েই – জ্ঞানার্জনে রত থাকবে, উভয়ে উভয়ের কাছ থেকে জানার চেষ্টার মাধ্যমে। দু’জনেই বাস্তবতার অধিগঠন আর অধোগঠনের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকবে, এই দুই অবয়বের জট খুলতে থাকবে। এই জট পাকানো আকৃতিই হ’ল ‘পূর্ণ-অবয়ব কর্ম-বস্তু সমন্বয়’ অথবা ‘অ্যাকশন-অবজেক্ট হোওল’ (“action-object whole”)।
চিত্রায়ণ দ্বারা সৃষ্টি হল ‘কোড’ বা সঙ্কেত। চিত্রের বিশ্লেষণ (শিক্ষার্থী-শিক্ষাসহকারীর ক্রিয়া বা অ্যাকশন) থেকে করা হ’ল ‘ডিকোড’ বা সঙ্কেতভেদ। এই দুই ‘ক্রিয়া’র দ্বারা সৃষ্টি হল বাস্তবের চিত্ররূপ আর গভীর অর্থের সমন্বিত রূপ। সামগ্রিক বাস্তব = বাহ্যিক রূপ+অন্তর্লীন রূপ। বাস্তবের এই যে পুনর্গঠন, এই যে নতুন রূপায়ণ – বিশ্লেষণী চেতনা দিয়ে পরিশীলিত চেহারায় – শিক্ষার্থীকে এনে দিল প্রকৃত অস্তিত্ব-সচেতন (এগজিস্টেনশিয়াল) জ্ঞান।
একটু অন্য উদাহরণ দেওয়া যাক।
লেখার ধরনটা একটু পাল্টাচ্ছি। কারণ খটোমটো ভাব কাটাতে গেলে কথ্য লিখনভঙ্গী খুব প্রয়োজন।
সাধারণভাবে চালু ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী যে জিনিসটা অনুভব করবে শিক্ষাগ্রহণের পরে, অথবা, সেই প্রক্রিয়া চলা কালেই, তা হল যে সে একটা বদ্ধ জায়গায় আটকে আছে, যেখান থেকে বেরোবার কোন পথ যেন নেই। এইটাই কিন্তু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে শেখায় – তুমি এখানে আছো, এখানেই থাকবে, এখান থেকে বেরোতে পারবে না। এই গণ্ডীর ভেতরে তুমি চলাফেরা করবে। এই ভ্রান্তির (শোষণের অন্য একটা রূপ) কোন শেষ নেই। কিন্তু এই আমাদের কর্ম-তত্ব সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে সে যদি যায়, তাহলে সে বুঝবে (আমি বোঝাবো না) যে, হ্যাঁ, পরিস্থিতিটা এরকম নয়, আমি শোষণ-নিপীড়নের মধ্যেই থাকি, কিন্তু এটা একটা বদ্ধ বৃত্ত নয়, এটার সীমানাকে ভেদ করা যায়, এই ফাঁদ ভেঙে বেরোনো যায়। এই যে ‘ভেঙে বেরোনো যায়’, এই কথাটা হৃদয়ঙ্গম করলেই বন্ধনমুক্তির একটা ছক আমাদের সামনে আসে। তখনই আমরা যে ভাঙতে পারি, এই বোধটা মনে আসে। শিক্ষক বা জ্ঞানার্জন-সহায়কের দায়িত্বই হল এই নাশকতার বীজ শিক্ষার্থীর মনে প্রোথিত করা। এইটাই আমরা তাদের শেখাবার চেষ্টা করব। শোষণ-নিপীড়ন সম্বলিত (যা প্রায় সর্বত্রই বর্তমান) পরিস্থিতি সম্পর্কে, পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হলে, যে কোন বিবেক-সম্পন্ন মানুষ তাকে পাল্টাতে চেষ্টা করবেই। স্পষ্ট ধারণা তখনই হবে যখন শব্দের/পরিস্থিতির/পারিপার্শ্বিকের আপাত অর্থ ভেদ করে বিশেষ আলোচ্য বস্তুর বহুমুখী দ্যোতনা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে পাঠক।
যেকোন একটা শব্দের বা বাক্যের একটা সুপারফিশিয়াল স্ট্রাকচার আছে। বাইরে থেকে কতগুলো বর্ণ পাশাপাশি বসলো, এবং সেগুলো জুড়ে গিয়ে একটা আওয়াজ হল – ‘শব্দ’ নয়, ‘আওয়াজ’ হল। সেই আওয়াজটার গোটা সমাজে গৃহীত একটা মানে আছে। সমাজের ‘দেওয়া’ বা ‘প্রাপ্ত’ একটা মানে আছে, সেই মানেটা হচ্ছে তার অধিগঠন বা সুপারফিশিয়াল স্ট্রাকচার। বাইরে থেকে দেখলে তাই হচ্ছে বর্ণ-সমষ্টিটার মানে। কিন্তু সেটাকে যদি এবারে তার সমস্ত উপাংশগুলিতে ভাঙ্গতে শুরু করা যায়, শব্দাংশ থেকে শুরু করে অর্থের দিক থেকে শুরু করে, যদি ভাঙ্গতে শুরু করা যায়, তখন কী তার গঠন বা স্ট্রাকচার আছে, তার ভেতরে কী নিহিত আছে সেটা বেরিয়ে আসে। এটা একটা শব্দের ক্ষেত্রেও যেমন ঠিক, একটা বাক্যের ক্ষেত্রেও তেমন ঠিক। একটা কথো-বচনের ক্ষেত্রেও ঠিক। কথো-বচন বলতে আমি বোঝাচ্ছি, যে প্রকাশিত মনের ভাব একটু দীর্ঘতর। সেটার সূত্রেও, সে ক্ষেত্রেও সেটা ঠিক। এইখানে আসবে সঙ্কেতভেদ-এর প্রশ্ন। এই কাজ করবে শিক্ষার্থী-শিক্ষাসহায়ক যুগল, অথবা, যিনিই এই অধোগঠনকে বুঝতে চাইছেন। এই যে শব্দগুলো, এগুলোকে যদি আমরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখি তাহলে নতুন কিছু বেরিয়ে আসবে।
একটা বাক্য নেওয়া যাক। “রাজনীতি খারাপ লোকেরা করে”।
নেওয়া যাক ‘রাজনীতি’ শব্দটা। রাজনীতি শব্দটা কী দিয়ে শুরু হচ্ছে? ‘র’ দিয়ে। ব-এ শূন্য ‘র’। এখন এই যে ব-এ শূন্য ‘র’ এর আকৃতিটা আমরা লিখছি/আঁকছি একটা ‘ব’ এরকম বাঁকা ত্রিভুজ এঁকে তার তলায় একটা পুটকি দিচ্ছি। সেটা একটা আওয়াজের সঙ্কেত। ‘র’ একটা আওয়াজের সাঙ্কেতিক উপস্থাপন। এই সঙ্কেতটা এক জটিল দীর্ঘ ঐতিহাসিক সামাজিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গৃহীত, এবং এটা কোনো না কোনো চেহারায় সব ভাষাতেই গৃহীত। এই সঙ্কেতের চেহারাটা বাংলায় হচ্ছে বাঁকা ত্রিভুজের তলায় একটা পুটকি, ইংরেজীতে হচ্ছে একটা পা-বাড়ানো আধা-বি (R), তার পাশে হয়ত একটা ‘ও’ বসলো বা ‘এ’ বসল। এইভাবে সমস্ত ভাষাতেই ‘র’ এই ধ্বনি/শব্দটা বিদ্যমান। কিন্তু তার নিজস্ব কোনো মানে নেই। (জটিল শব্দতত্ব অন্য কথা বলতেও পারে।) আমাদের মত সাধারণ ভাষা ব্যবহারকারীদের কাছে বর্ণগুলোর, আপনি ব্যঞ্জনবর্ণ বলুন স্বরবর্ণ বলুন ইংরেজীতে কনসোনেন্ট ভাওয়েল যাই বলুন, সেইগুলোর কিন্তু নিজস্ব কোন অর্থ থাকে না। সেগুলো কিন্তু কতগুলো ধ্বনি বা আওয়াজ। কিছু কিছু বর্ণ হয়ত আছে যেগুলো ধ্বন্যাত্মক। সেগুলোর কথা আমি বলছি না। আমি রোজকার কথার কথা বলছি। এবারে সেটাকে একটা মানের নিয়ে যেতে গেলে আরো কিছু সঙ্কেত যোগ করতে হয়। ‘র’-এর পাশে ‘আ’ বসালে, ‘রা’ হল, তারপরে ‘জ’ বসালে জ হল, দন্ত্য ন, ‘ন’ দীর্ঘ ঈ, ‘ত’ হ্রস্ব ই, হল ‘রাজনীতি’। ‘রাজনীতি’ একটা শব্দও হল, আওয়াজও হল। শব্দ হল, মানে অর্থবহ কতগুলো সাউন্ড, যেটার একটা সামাজিক ভাবে গৃহীত মানে এসেছে। ‘রা’ ‘জ’ ‘নী’ ‘তি’, রাজনীতি। আর, এখানে আবার বাধ্য হয়ে সবাইকে একটা কাজ করতে হবে, সেটা হচ্ছে বানান ঠিক করা।
আমরা এতদিন জানি ‘ঘোষ’-এ থাকে মূর্ধ্যণ্য ‘ষ’, কেউ কেউ বলছেন, এবারে করতে হবে তালব্য ‘শ’। আমার মনে হয়, আমার মনে হওয়াতে কিছু হবে না, তবুও বলছি, আমার মনে হয় এর কোন মানে হয় না। বানান নিয়ে আমরা খুব চিন্তা করি, কিন্তু বানানের এত বেশি এই-ওই-তাই আছে, যে কী বলব, ‘ডিফল্ট’ বা সর্বগৃহীত কিছু দরকার, যেটা ওই সরকারী ফতোয়াতে কখনো ঠিক হবে না। আমাদের এখানে সেই কাজ সম্পন্ন করবার মত পণ্ডিত ব্যক্তি কেউ নেই। সেই চেষ্টা করবার মত মানুষ, অত ভালো লিংগুইস্টিকস বোঝেন, অত ভালো সেটাকে প্রয়োগ করেন, এমন কেউই নেই। কপাল আমাদের ভালো, এখনকার সর্বজ্ঞ মাথামুণ্ডরা এনিয়ে এখনও ভাবতে শুরু করেননি। তবে, এই বানান নিয়ে এত ছুৎমার্গ, আমি ব্যক্তিগতভাবে বলছি, খুব একটা দরকার নেই। কিন্তু ঐ যে মুশকিল, পরীক্ষার জন্য ছেলেমেয়েগুলোকে আমাদের কিছু ঠোটস্থ করাতেই হবে, সে যত গুবলেটই হোক না কেন। তারা জানে মূর্ধন্য ষ, আর এটা হচ্ছে তালব্য শ, এগুলো চাই-ই চাই। বাংলায় ষ, শ আর স তিনটের উচ্চারণ আলাদা করে কেউ করে? প্রায় কেউ করে না। আদৌ করা যায় কী? তাহলে আর এইসব শব্দ নিয়ে আমরা কেন এত মাথা ঘামাই বুঝতে পারি না। তার একটা কারণ অবশ্য (জিভ কেটে বলছি) আমার বানান জ্ঞানের অভাব।
ধান ভাঙতে শিবের গীত হল? তা হল হয়ত। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মুক্ত কথপোকথন এইভাবেই এগোয়। তার মধ্যে দিয়েও কিন্তু নিহিত অর্থ বেরিয়ে আসে। কী করে? সে আবার অন্য কথপোকথনের বিষয়।
‘রা-জ-নী-তি’ লিখে/এঁকে আমরা সঙ্কেতায়ণ করলাম। তারপর, ‘রাজনীতি’ ভেঙ্গে ভেঙ্গে ওটার সঙ্কেতভেদ করে একটা অধিগঠন পেলাম। সুপারফিশিয়াল স্ট্রাকচারে এলাম। অধোগঠন বোঝার দিকে এক পা এগোলাম। ‘রাজনীতি’ শব্দটার গৃহীত মানে বুঝলাম। রাজার নীতি। রাজ করার নীতি। সেখানে ‘নীতি’র চাইতে ‘রাজ’ করার ইচ্ছা/প্রবণতা/লোভ ইত্যাদি প্রাধাণ্য পায়। আরো অনেক কিছু। রাজনীতি কথাটার মানে একেক জনের কাছে একেক রকম । আজকে ‘রাজনীতি’ শব্দটার মানেটা দাঁড়িয়ে গেছে ‘খারাপ’। রাজনীতি করে, দুষ্ট লোকেরা। রাজনীতি করে চোরেরা। সুতরাং ওখানে যেও না। এই যে ‘ওখানে যেও না’ আমাদের বলা হল, বলা হল রাজনীতির ভেতরে ঢুকবে না, সেটা কিন্তু পরিকল্পনা করেই বলা। কারন রাজনীতির মধ্যে আমরা ঢুকি না বলে, দুষ্টলোকেরাই রাজনীতিটা করে। সুতরাং এই যে একটা আমি মানে তৈরি করলাম, সেইটাকে একটা সমস্যার রূপ দিলাম, সেটার আবার একটা সমাধানে গেলাম, এই প্রক্রিয়া প্রতিনিয়ত চলছে। সবসময়ই এটা আমি আলাদা করে করব তা নয়, এটা চলতেই থাকে। এই ডিকোড করার একেবারে প্রাইমারী লেভেল হচ্ছে একটা বাক্য রচনা।
কিন্তু অধোগঠন-এ পৌঁছতে এর চাইতে বেশি কিছু চাই।
উপরের প্রণালী অনুসরণ করে ‘খারাপ’, ‘লোক’, ‘লোকে’, ‘করে’, এই শব্দগুলোকে আমরা ডিকোড করতে পারি, তাদের সঙ্কেতভেদ করতে পারি, প্রাথমিক ভাবে। এই ডিকোডিফিকেশান চলে আমাদের বাক্য পাঠের সঙ্গে সঙ্গে। তখন সঙ্কেতগুলোকে ভেদ করতে করতে যাই, তবে গিয়ে বাক্যটার আমরা একটা কিছু মানে পাই। এবং আরো অনেকগুলো বাক্য পাশাপাশি বসে সেই মানেটা আরো বেশি গভীরতর হয় বা আরো ব্যাপ্ত হয় এবং সেটা তখন আমরা একটা বৃহত্তর সঙ্কেতবদ্ধ বা কোডিফায়েড কিছু পেলাম। এবারে আমি যখন ওটার মানে করছি সেটাকে আমি তখন একটু একটু করে বুঝছি, তখন সেটাকে আমি ডি-কোড করছি, সেটার সঙ্কেতভেদ ভেদ করছি। করতে করতে যেন পরতে পরতে তাকে আবরণ থেকে উন্মোচিত করছি, তার অভ্যন্তরে ঢুকছি। তখন আমি বাক্যটির ভিতরের ‘মানে’ বুঝছি। অবাক হয়েই দেখছি, আমাদের এই কথাটা শেখায় কিন্তু রাজনীতি করা লোকেরা আর তাদের চেলারা। তাদের নিযুক্ত করা অ-নিগ্রহী রাষ্ট্রযন্ত্রীরা। শিখতে শিখতে এটাই চালু কথা হয়ে গেছে। ‘রাজনীতি’ শব্দটার যে সৎ কিছু দ্যোতনা থাকতে পারে, সেটা আমরা ভুলেই গেছি। আমি একবার এক আদ্যন্ত রাজনীতি করা লোককে বলতে শুনেছি, আমি না, একেবারে একটা অমানুষ হয়ে গেছি। আর এক গোয়েন্দাকে বলতে শুনেছি, রাজনীতি করে ছোটোলোকেরা, আপনি শিক্ষিত ভদ্রলোক, ওসবের মধ্যে যাবেন কেন! কী রাগ তার চোখেমুখে তখন। সেই অধোগঠন কিন্তু সংবেদনশীল মানুষকে অর্থের আরও অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সেখান থেকে সে এগোয় চিন্তন থেকে পরবর্তী ক্রিয়াশীলতার দিকে। কী করা যায়, ভাবতে শুরু করে সে। এর যুক্তিসম্মত পরবর্তী পদক্ষেপই হবে এক গুণগত পরিবর্তন –চিন্তন থেকে ক্রিয়াশীলতায় উপনীত হওয়া। সে এখন নিজের চারদিকের স্থানিক-মানসিক-বৌদ্ধিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতির লুক্কায়িত দ্যোতনা সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে, এবং, একজন সচেতন জ্ঞানার্জনে সক্ষম মানুষ হিসাবে পরিস্থিতিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় সক্রিয় হচ্ছে। তার বোঝার খামতি থেকে বেরিয়ে আসছে এবং তাকে অ-জ্ঞান করে রেখে তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে রাখার চক্রান্তকে সচেতন ভাবে পরাস্ত করার দিকে পা বাড়াছে।
শিক্ষা-সহায়ক বা জ্ঞানার্জন-সহায়কের উদ্দেশ্য তো সবসময় থাকবে শিক্ষার্থীর মনে স্বাধীন চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো। সহায়ক কখনোই তার নিজের চিন্তাশক্তির প্রভাব শিক্ষার্থীর উপর চাপিয়ে দেবেন না। তাহলে তো সেই বস্তা ভরার তত্ত্ব, হজমী শিক্ষার তত্ত্বকেই বহাল রাখা হবে। সাবেকী ‘শিক্ষক’ হয়ে উঠলে ব্যাপারটা সেখানেই চলে যাবার সুযোগ থেকে যায়। কিন্তু আমাদের তো কখনোই সেটা উদ্দেশ্য হবে না যে আমি যে ভাবনা-চিন্তায় বিশ্বাস করি তা আমি কখনোই চাপিয়ে দিতে চাইব। আমরা চাইব সচেতন বিশ্লেষণ করার স্বাধীন ক্ষমতা বিকশিত হোক। জ্ঞানার্জন তো তথ্য আহরন বা তথ্য সরবরাহ নয়। সেটা আত্ম-শক্তি বিকাশের জন্য। জ্ঞানার্জন সহায়ক হিসাবে আমার কাজ হবে বিশ্লেষণের উপকরণগুলো তার সামনে তুলে ধরা, সমস্ত তথ্য বা ইনফর্মেশনগুলো সঠিক ভাবে তার সামনে এনে দেওয়া, আমার যেরকম যেরকম অভিজ্ঞতা আছে সেগুলো তাকে বলা। ভালো হয় যদি বাছাইটা আমি না করে, ছাকনিটা কী হবে সেটা তার সামনে রাখা। নিরপেক্ষ ভাবে নয়, নিপীড়িতের পক্ষে দাঁড়িয়ে। শিক্ষার্থী তার নিজের সিদ্ধান্ত তৈরি করবে।
রাজনীতি ভালো, না রাজনীতি খারাপ – আমি তাকে বলে দেব না। তার অবস্থান থেকে সে ঠিক তা বুঝে নেবে। আমি শুধু তার বিশ্লেষণী চেতনা-উন্মেষে সহায়তা করব।

এন্ডনোটগুলি দিতে পারলাম না।

161 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন