সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু
    'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় ...
  • যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা
    অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে ...
  • আমার বাড়ির বিজয় দিবস...
    মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় ...
  • রান্নাঘর ও রাজ্যপাট
    কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে ...
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পটাকা : নতুন ছবি

Srijita Sanyal Sur

মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।

আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা মনডোলা"ও আমার দারুণ লেগেছিল। একটা দেশি, স্ট্রীট থিয়েটার ব্যাপার থাকে।একটা "Willing suspension of disbelief" ঘিরে ফেলে।

এই সিনেমাতেও তাই! প্রথমেই মনে হয়, দুই বোন এত লড়াই কেন করে। যত সিনেমা এগোয়, কেন করে ভুলে গিয়ে, এবার কি করবে ভাব

আরও পড়ুন...

বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ভাণ করে, এবং সেহেতু শেষে একটি ভুয়ো সূত্রনির্দেশও দেওয়া আছে । সেই প্রাচীনগন্ধী মেজাজটি অক্ষুণ্ণ রাখতে অনুবাদের গদ্যটিকে কিঞ্চিৎ ‘আর্কায়িক’ রূপ দিতে হল । এ গল্পটি সেই অর্থে কল্পবিজ্ঞান নয়, তবে, হয়ত বা বিজ্ঞান নিয়ে । বাস্তবতা, বৈজ্

আরও পড়ুন...

একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

ন্যাড়া

এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির দশকে ছিল আমাদের ঠেক। ৮৭-সালের ওয়ার্ল্ড কাপে পাকিস্তান হারবার পর এই অকুস্থলেই বাস থামিয়ে উদ্দাম নৃত্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। 'সান্থাল টুইস্ট' না হলেও তার কাছাকাছি। তবে কেউই নেশা করেনি। এবং বাসে শর্মিলা ঠাকুরও ছিলনা, কাবেরী বোসও নয়।

আজ থেকে

আরও পড়ুন...

অলৌকিক ইস্টিমার~

বিপ্লব রহমান

ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে আসছেন একটি নিরখরচের জাহাজ হাসপাতাল 'লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল'।

বৃহত্তর রংপুরের মঙ্গা পীড়িত চরাঞ্চলে এই জাহাজ - হাসপাতাল যমুনায় ভেসে ক্যাম্প করে গরীব মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। তারা অনুসন্ধানে দেখেছেন, দরিদ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে হত

আরও পড়ুন...

চলো এগিয়ে চলি 3

Sumon Ganguly Bhattacharyya

#চলো এগিয়ে চলি
#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য

আমরা যখন ছোট তখন থেকেই দেখবেন মা -বাবা রা আমাদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে শেখান।সাঁতার না জানলে পুকুরের ধারে যাবেনা,খোলা ইলেকট্রিক তার এ হাত দিতে নেই,ভিজে হাতে সুইচ বোর্ড ধরতে নেই, ইত্যাদি। আমাদের সন্তান রা যেহেতু একটু পিছিয়ে তাই এই বিপদের সম্ভবনা কিন্তু তাদের
অনেক বেশি।আমাদের মধ্যে অনেকের সন্তান
হয় তো বিপদের আন্দাজ করতে পারেন না সেই ভাবে তাই আমরা যারা স্পেশাল বাচ্চার বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা হয় তো একটু বেশি।
আমি বিশেষজ্ঞ নই আমার অভ

আরও পড়ুন...

কেয়া শরম কি বাত!! ব্যভিচারও লীগ্যাল হলো শেষে

Bishan Basu

কেয়া শরম কি বাত!! ব্যভিচারও লীগাল হলো শেষে!!

বিষাণ বসু


রায় বেরোনোর পর থেকেই, বেজায় খিল্লি।

বস, আর চাপ নেই। সুপ্রীম কোর্ট ব্যভিচারকে আইনী করে দিয়েছে।

আরেক মহল, জ্যেঠামশাইয়েরা, বলছেন, দেশের কী হাল। একশো তিরিশ কোটি মানুষের সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিলো কয়েকটা দায়িত্বজ্ঞানহীন বিচারপতি।

বলি, এর পরেও সমাজ সংসার বলে কিছু আর বাকি থাকবে, নাকি?

সত্যিই, দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। ভাবলাম, হাতে গরম একটা পোস্ট করেই বসি।

তারপর, মনে হলো, পুরোনো ব

আরও পড়ুন...

এই দেশ সেই সময়

#পার্টিশানের_অজানা_কাহিনী ৩

১৯৪৭ এর ডিসেম্বর মাসে হুমায়ুনস টুম্ব রিফিউজি ক্যাম্পে একদিন দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। ৫০০০ রিফিউজির একটি দল খাটিয়া , বড় বড় শস্যের বস্তা, টুকিটাকি ঘর গেরস্থালির জিনিষপত্র, মায় ছাঁকনি পর্যন্ত যাবতীয় গৃহস্থালির জিনিষপত্র সঙ্গে করে এসে ঢুকছে। যথেষ্ট সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান এই দলটিতে মেয়েরাও বেশ পরিপাটি গয়নাগাঁটিতে সেজেগুজে এসে হাজির। এঁরা কেন রিফিউজি ক্যাম্পে এসেছেন বোঝা যাচ্ছে না, কারণ এঁরা লুন্ঠিত, দাঙ্গাবিধ্বস্ত যে নন সে তো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। জিগ্যেস করে এক অভ

আরও পড়ুন...

সিটি লাইটস বুক স্টোর

ন্যাড়া

অ্যামেরিকায় যখন একটেরে বইয়ের দোকানগুলো উড়ে-পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে, স্যান ফ্র্যানসিস্কো শহরে একটা পঁয়ষট্টি বছরের পুরোন বইয়ের দোকান শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে রমরম করে চলছে। শত্রু বলতে আগে ছিল বার্নস-অ্যান্ড-নোবেল, বর্ডারস ধরণের চেন বুকস্টোরগুলো। এখন সবাইয়ের শত্রু অ্যামাজনের মতন অনলাইন বুকস্টোর। সে যুদ্ধে হেরে বর্ডারস শয্যা নিয়েছে। বার্নস-অ্যান্ড-নোবেল অনলাইন বিক্কিরিতে জোর দিয়েছে। এমতাবস্থায় এই পঁয়ষট্টি বছরের বৃদ্ধ দোকানটি যে কী যাদুতে এখনও হইহই করে চলছে, সেটা বুঝতে গেলে ইতিহাস জানতে হবে।

কলাম্বা

আরও পড়ুন...

ডিপ্রেশন

Sarit Chatterjee

ডিপ্রেশন
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় ।

ললিতা শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঠিক করল, তারও ডিপ্রেশন হবে।

কেন হবে না? রাজাদার গতবছর হয়েছিল। মানসদার বউ মালতীও তো সেবার পুজোর পর বলেছিল, "মাত্র আটটা শাড়িতে কি লোকসমাজে বেরনো যায়! এত ডিপ্রেশন হচ্ছে জানিস? আজ দশদিন ওষুধ খাচ্ছি। মানসের মুখটা দেখলেই ইচ্ছে করছে ডাক ছেড়ে কাঁদি। দেখিস, একদিন ঠিক আমি সুইসাইড করব!"

ললিতা অনিকেতকে ফোন করল।
: এই শোনো না, আমার খুব ডিপ্রেশন হচ্ছে।
: সেকী! কখন? কী করে?
: আজ। এক্ষুনি।
: আরে কী

আরও পড়ুন...

অন্তিমে

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প - The End, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশ – ১৯৬১ । লক্ষ্য করে দেখবেন, এটি একটি ‘প্যালিন্ড্রোম’ গল্প, আমি জানি না পৃথিবীর একমাত্র প্যালিন্ড্রোম গল্প কিনা । একমাত্র হোক বা না-ই হোক, আসল কথাটা হচ্ছে, একে প্যালিন্ড্রোম বানানোটা কিন্তু নিছকই এক ক্যারদানি নয়, গল্পের থিমের সঙ্গে তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত । এর বেশি বললে গল্পের চেয়ে বড় হয়ে যাবে ।] ....................



বছরের পর বছর ধরে সময় বিষয়ক তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে আসছেন প্রোফেসর জোন্‌স্‌ ।

একদিন তিনি মেয়েকে ডেকে বল

আরও পড়ুন...

চলো এগিয়ে চলি 2

Sumon Ganguly Bhattacharyya

#চলো এগিয়ে চলি 2
#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য
বিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মানুষ কথা বলতে শিখেছে আমার জানা নেই।তবে আগুন
আবিষ্কারের চেয়ে এর গুরুত্ব কিছু কম নয়।
মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম জায়গা
কথা বলা।
A person with Autism Spectrum দের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কথা বলা,বা
সঠিকভাবে ভাব প্রকাশ এর সমস্যা দেখা যায়
শতকরা আশি ভাগ ক্ষেত্রে। কথা বলতে শেখার প্রথম শর্ত শুনতে পাওয়া,স্বরযন্ত্রের সক্ষমতা,এবং কথা মাথার ভিতরে তৈরি করা।
বোধ্যাঙ্ক বা IQ একটা মানুষের নির্দিষ্ট মানের ন

আরও পড়ুন...

চলো এগিয়ে চলি

Sumon Ganguly Bhattacharyya

#চলো এগিয়ে চলি
#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য

দ্রোণাচার্য অর্জুনকে বললেন, "ওই গাছের ডালে কী দেখতে পাচ্ছ বলো,,"
অর্জুন বলল, "আমি শুধু পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি"।,,
এর আগে তাঁর কোনও শিষ্যের উত্তর আচার্য দ্রোণের মনঃপূত হয় নি।
অর্জুন শর সংযোজন করে শর নিক্ষেপ করলেন।পলকে চক্ষুবিদ্ধ সেই পাখি মাটিতে।
মহাভারতের এই অংশ টি আমাদের মায়েদের
খুব প্রিয় বলুন।একটাই লক্ষ্য আমাদের বাচ্চা কে মানুষ করা, বড় করা। পাখির চোখ ।
কিন্তু একজন বিশেষ শিশুর মা -বাবা যাঁরা, ওই গল্প আমাদের ও জানা আমর

আরও পড়ুন...

একটি বই, আর আমার এই সময়

Bishan Basu

একটি বই, আর আমার সময়

বিষাণ বসু



একটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।

প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।

বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ছাউনি। সেই ছাউনির রঙ লাল। সব বাড়িতেই। সময়ের প্রভাবে, কোনোটি উজ্জ্বল, কোনোটি বা ফিকে হয়ে আসা লাল। স্থানীয় ভাষায়, সেই ক্যানভাস কাপড়ের ছাউনির নাম টেনডা। টেন্ট শব্দটি কি একই সূত্র থেকে এসেছে? জানিনা।

আরও পড়ুন...

রবি-বিলাপ

Koushik Ghosh

তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!
শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।
কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!
এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।
তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।
জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।

তামুক সাজায়ে দিছি, দুয়ারে তৈয়ার তব হুঁকা।
তোমা লাগি সাজিয়াছে, দ্যাখো, দেওদাসী সুতনুকা।
কপালে বিন্দিয়া, আর, কেশদামে রচিয়াছি ফুল।
রবিমামা দেয় হামা, তুমি নাক ডাকিছ আকুল।
আজু শুভ রবিবার, কুচুমনা, গিয়াছ কি ভুলে?

আরও পড়ুন...

৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস

Sumit Roy

গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা হয়নি...

১৯৬২ সালের এই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলছিল শিক্ষা আন্দোলন, সেই আন্দোলনে শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে পুলিসের গুলিতে মারা যান নবকুমার স্কুলের ছাত্র বাবুল, বাস কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহক

আরও পড়ুন...

বহু যুগের ওপার হতে

Tapas Kumar Das

কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের সুতো সখৎ সাম্যবাদী হয়ে উঠবে এবং আকাশে উঠে ঘুড়ি আচরণ করবে সুশীল সমাজের মতো মধ্যপন্থায় থেকে - সেই সূক্ষ্ম হিসেব অনেকটা রান্নায় নুন দেওয়ার মতোই।

এখন তার বয়েস দশ হতে চললো, কিন্তু কেলে যখন নিতান্তই শিশুমাত্র তখন থেকেই আমার একটা চেষ্টা ছিল

আরও পড়ুন...

ভাষা

Prativa Sarker

এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়।

সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই।
বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক।
ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের বাছাবাছি আছে। মা বলে ডেকে ভুলিয়েভালিয়ে অন্ধকার কোণে ফুসলে নিয়ে যাওয়া নেই।

বাগড়ি মার্কেটের সবহারা ব্যবসায়ীর কান্না দেখে আমাদের নিজস্ব মন্ত্রীমশাইয়ের প্রতিক্রিয়া শুধু নয়, উত্তর প্রদেশের সবার বড় মুখিয়াও একই কথা বলেছিলে

আরও পড়ুন...

মুজতবা

ন্যাড়া

আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা যখন মারা গেছেন তখনও আমি ঘুন্সি পরি। দেবব্রতর মৃত্যুর সময়ে আমার বয়েস এগারো-বারো। কাজেই এনাদের মূল্য আমি বুঝেছি অনেক পরে। সলিল চৌধুরী অবশ্য আমার যৈবনকাল অব্দি জীবিত ছিলেন, কিন্তু শেষ অব্দি আর সাক্ষাৎ করে উঠতে পারিনি।

এখন মনে হয় এনাদের কারু

আরও পড়ুন...

সতী

Prosenjit Bose

সতী : শেষ পর্ব
প্ৰসেনজিৎ বসু

[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]

-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"

--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ খেলে বাপ বলার জোর থাকবে না।"

--"ঠাপের লোভ দেখাস না ওয়াড়া। একেই চড়ে আছে। ভালমন্দ করে দেব কিছু একটা।"

--"ভালমন্দ করতেই তো বলছি শালা। তিনজন আছি। ঠিক সাল্টে নেব। কী ? ঠিক কিনা ?"

প্রথমে

আরও পড়ুন...

মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

Bishan Basu

বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)

কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি বদলায় নি। হয়তো, কিছুটা অধঃপতনই হয়েছে।

শিল্প বা শিল্পীর প্রতি সাধারণ মানুষের অবজ্ঞা বা অনীহা চোখে পড়ার মতো। তথাকথিত শিক্ষিত মানুষও, যাঁরা এমনকি বিভিন্ন তাত্ত্বিক বিষয়ের চর্চা করে থাকেন, তাঁরাও রীতিমতো গর্বের সাথে বলে থাকেন, মডা

আরও পড়ুন...

আমি সংখ্যা লঘুর দলে...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষ নিজেকে শরণার্থী বলে আবিষ্কার করার পিছনেও থাকে নানা প্রক্রিয়া। নিজের ও পরিবারের জীবন যখন ঝুঁকির মধ্যে পরে তখন কখন কিভাবে সে উদ্বাস্তু হয়ে যায় নিজেও সম্ভবত জানে না। তখন সে জানে শুধু জীবন বাঁচানো।বিশ্ব জুড়ে এ একে মারছে, ও ওকে মারছে আর ব

আরও পড়ুন...

প্রহরী

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .....................


বাড়ি থেকে পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এক গ্রহের মাটিতে কর্তব্যরত সে, জলে-কাদায় যতটা মাখামাখি, খিদে আর শীতে তার চেয়ে কিছু কম নয় ।

এখানে আলোটা পাওয়া যায় এক বিদ্‌ঘুটে নীল রঙের সূর্য থেকে, আর মাধ্যাকর্ষণের যা দশা সে আর বলে কাজ নেই । সে যাতে অভ্যস্ত তার দ্বিগুণ মাধ্যাকর্ষণ এখানে, নড়াচড়া করাই দায় ।

যুদ্ধের এমন কতকগুলো মৌলিক ব্যাপার আছে, লাখো বছরেও যার কোনও পরিবর্তন হয়না । যার

আরও পড়ুন...

ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা

Bishan Basu

ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।

একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, বিরক্তি, ক্রোধ, কিছুটা হতাশাও।

গত দেড়-দুবছরে, এই রাজ্যে, চিকিৎসকদের উপর হামলা বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। তথ্য হিসেব করলে, সংখ্যাটা দাঁড়ায়, গড়ে, প্রতি সাড়ে তিন দিনে, রাজ্যের কোনো না কোনো প্রান্তে, চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন...

সতী

Prosenjit Bose

সতী : প্রথম পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

মেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।
মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক কী শালা ? কুমারী নয়, কারণ ফুলশয্যা হয়ে গেছে। সধবা নয়, কারণ বর্তমানে বর নেই। আবার বিধবাও নয়, কারণ বর মরেনি। তাহলে ? ধ্যার ওয়াড়া ! ছেলেদের নিয়ে এসব ঝামেলা নেই। ছেলে ছেলেই। জল-বরফ-বাষ্প কিস্যু নয়। ছেলে।

তো কথা হচ্ছিল এ

আরও পড়ুন...

দুচাকায় দুনিয়া - বিমল মুখার্জি

Muhammad Sadequzzaman Sharif

এক জীবনে একজন মানুষের কি চাওয়া থাকতে পারে? যদি সে হয় একটু অভিযান প্রিয়, যদি সে হয় পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখার ইচ্ছাসহ কোন মানুষ? কি চাইতে পারে সে? বিমল মুখার্জি নামক এক বাঙালি নিজের মনের ভিতরের দুনিয়া ঘুরে দেখার ইচ্ছাটা বাস্তবে রূপান্তর করতে পেরেছিলেন। সাথে পেয়েছিলেন একজন মানুষ এক জীবনে যা চাইতে পারে তার সব। তিনি ডেনমার্কের এক ধনাঢ্য পরিবারের সর্বোচ্চ স্নেহ ভালবাসা পেয়েছিলেন। তারা তাকে তাদের সম্পত্তির অংশীদার করে রেখে দিতে চেয়েছিলেন। জন্মদিনে বাড়ি, গাড়ি এমন কি বিমান পর্যন্ত উপহার দিয়েছিলেন।বিমান চালি

আরও পড়ুন...

আমার ভাই মানব~

বিপ্লব রহমান

আমার বড় ভাই মেসবাহ রহমান, মানব গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর সাভার সিআরপিতে ভোর বেলা দেহ রেখেছিলেন, ঘুমের ভেতরেই হার্ট এটাক।

সেদিন মর্নিং ডিউটি ছিল, সকাল ৭টার টেলিভিশন নিউজ বুলেটিন অন এয়ার হয়েছে মাত্র। এমন সময় ভাইয়ার নার্সের হাউমাউ কান্না। আমি তাকে স্থির বুদ্ধিতে একজন ডাক্তার ডেকে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলি। অফিসে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ছুটি নিয়ে সাভারের পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছুটে যাই। পাগলের মত একেতাকে টেলিফোন করি, আমার একমাত্র ভাই!

আগের দিনই ডে অফের বিকালে দুঘন্টার বাস জার্নি করে সাভা

আরও পড়ুন...

পায়ের তলায় সর্ষে - বাংলাদেশ

স্বাতী রায়

#জলছবি-বাংলাদেশ
( সবার যেমন কিছু স্বপ্নের ভ্রমণ থাকে, আমারটা ছিল বাংলাদেশ। বাবা-পিতামো’র চরণধুলি যেখানে পড়েছিল সেই দেশ দেখব। এই ছিল স্বপ্ন। চূড়ান্ত পিতৃতান্ত্রিক ভাবনা। তবুও। গিয়েওছিলাম। অসম্ভব আনন্দ হয়েছিল। আজ প্রায় এক দশক পরে দেখছি স্মৃতিটা ঝাপসা হয়ে আসছে। কিন্তু এই স্মৃতিটা এমন, যাকে আমি একদম ফিকে হয়ে যেতে দিতে চাই না। সেই ধরে রাখার তাগিদে এই লেখা। তবে হয়তো একটু ভালবাসায় বায়াসড, কখনো বা পলিটিক্যালি ভুল লেখা হবে। যারা পড়বেন তাঁরা নিজ গুণে মার্জনা করবেন এই আশা। )

দিন - ১

আরও পড়ুন...

ফ্রেইরি-চর্চা ৩ অধিগঠন/অধোগঠন বা সারফেস আর ডিপ স্ট্রাকচার

Salil Biswas

অধিগঠন/অধোগঠন বা সারফেস আর ডিপ স্ট্রাকচার

(একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। বিষয়টাই খুব জটিল। বুঝে গেলে অবশ্য মনে হবে, তেমন জটিল কিছু নয় তো! শুরুতেই তত্ত্বটা বলে নেওয়া হল। সেখান থেকে আমার জ্ঞানবুদ্ধি মত ব্যাখ্যায় যাবো। আর, যেহেতু মূল লেখার একটা অংশ অনুবাদ করে দেওয়া হল, একটু খটোমটো লাগতেই পারে। ফ্রেইরি পড়ে উপকৃত হবেনই পাঠক, কিন্তু তার জন্য একটু পরিশ্রম করতেও হবে। তাছাড়া, এইসব অপটু লেখা পড়েই সব বুঝে যাওয়া যাবে না … মূল লেখাগুলো পড়তেই হবে। ডায়ালোগ চাই। ‘অধিগঠন’ (‘surface structure’ ) আর ‘অধোগঠন

আরও পড়ুন...

তাপস দাস

Tapas Das

নেহি তো হাম সরকার বদল দেঙ্গে-৩
তাপস দাস

কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা দেহটার একটা হাত, একটা পা বাইরে। ক্ষেতের পাশে মরে পড়ে থাকা ফুলে ওঠা পোকা পড়া বেওয়ারিশ নীল গাইয়ের মতো। ও যখন মাঝেরহাট ব্রিজের নীচে চাপা পড়ে, তখন কোলাহল থেমে ছিল মাত্র কিছুক্ষণ। তারপরে রাস্তার সৌন্দর্যের পোঁচ পড়েছে। মোলায়েম পিচে ঢেকে দিয়েছে ক্ষত স্থান। মুখ্যমন্ত্রী হেঁটে যাবেন সপার্ষদ। ব্যঙ্গ বিদ্রূপে ঢেকেছে মগজ। তার বেশি কিছু নয়। মিছিল হয় নি। মিছিল সাজে নি। চোখের জলের অপচয় করে নি কেউ। রেগে ফেটে পড়ে নি কেউ। এমনকি তার

আরও পড়ুন...

আমারে কবর দিও হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে - ডি. ব্রাউন

Muhammad Sadequzzaman Sharif

Bury my heart at wounded knee - An Indian history of the American west বইটি লিখেছেন আমেরিকান লেখক ডি. ব্রাউন। বাংলায় অনুবাদ করে আমার মত মূর্খকে এই দারুণ করুন ইতিহাস কে জানতে সহায়তা করেছেন দাউদ হোসেন। অনুবাদক এর বাংলা নাম দিয়েছেন “আমারে কবর দিও হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে”। অনুবাদ মোটামুটি ভাল, পাঠযোগ্য। যেহেতু এটা উপন্যাস না তাই উপন্যাসের রস জাতীয় কিছু এখানে নাই। এর রস যা আছে তা পুরোটাই ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাসের কালো দিক গুলোর মাঝে অন্যতম আমেরিকা মহাদেশ থেকে রেড ইন্দিয়ানদের নিশ্চিহ্ন করার ইতিহাস। স্পর্শকা

আরও পড়ুন...

উত্তরাধিকার

ন্যাড়া

অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে নাকি সলিল চৌধুরী অশৌচ পালন করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে বাংলা নাগরিক সঙ্গীতের বাবা ধরলে সলিল নিশ্চয়ই তাঁর উজ্জ্বলতম পুত্র। সেই হিসেবে পিতৃবিয়োগে কাছা-ধারণের মধ্যে আশ্চর্য কিছু নেই। অথচ সলিলের গান শুনে আর যার গানের কথাই মনে হোক, রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ে না। হিমাংশু দত্তর কথা মনে পড়তে পারে, দ্বিজেন্দ্রলালের কথা মনে পড়লেও পড়তে পারে - কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নন। সঙ্গীতের অ্যাপ্রোচে এতটাই তাদের তফাত। অনেকটা যেন শচীনকর্তার "শ্যামরূপ ধরিয়া এসেছে মরণ" শোনার পরে

আরও পড়ুন...

ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৩

Kallol Lahiri

ছ্যাঁচড়া
কোন এক বর্ষার সকালে জন্ম হয়েছিল ইন্দুবালার। কোন এক মাঘের কুয়াশা ভরা ধান ক্ষেতের আল দিয়ে হেঁটে বাবার হাত ধরে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। শুধু এইটুক মনে আছে ফুল ফুল ছাপ একটা ফ্রক পড়েছিলেন। গায়ে ছিল মায়ের বোনা সোয়েটার। মাথায় উলের টুপি। ঠাম্মার কাছে শোনা রূপকথার রানী বলে মনে হচ্ছিল সেদিন নিজেকে। ঠাকুরদার টোলটা তখনও চলছে টিম টিম করে। সেই টোলে বর্ণপরিচয়, ধারাপাত এইসব টুকটাক শিখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বেশি দিন সেখানে পড়া হলো না। আমের গাছে মুকুল ভরিয়ে, সরস্বতী পুজোয় হাতে খড়ি দিয়ে দাদুর বড্ড তাড়

আরও পড়ুন...

তাপস দাস

Tapas Das

নেহি তো হাম সরকার বদল দেঙ্গে-২
তাপস দাস

দিল্লি থেকে অাগ্রা যেতে চাইলে দুটো পথ। এক, নয়ডা টু অাগ্রা, যমুনা এক্সপ্রেস ওয়ে। ঝা চকচকে ডিজাইন ইন্ডিয়া। অন্য পথ চিরাচরিত ধ্যারধেরা খানাখন্দর জ্যামে কাহিল পুরনো পথ। যমুনা এক্সপ্রেস ওয়েতে চলতে গেলে অতিরিক্ত কড়ি গুনতে হবে। নো কড়ি, নো এন্ট্রি। মানে সবকা পথ নয়, সব কা বিকাশ নয়, কুছ কুছ লোগো কা বিকাশ । উদার অর্থনীতি, যার অাছে সে খাবে, যার নেই সে খাবে না ব্যাস। দেশ চুরি যাচ্ছে প্রতিদিন।

দিল্লি কিষান মজদুর জমায়েতে কত লোক হয়েছিল? পঞ্চাশ লক্ষ,

আরও পড়ুন...

তাপস দাস

Tapas Das

নেহি তো হাম সরকার বদল দেঙ্গে
তাপস দাস

এন জি পি উদয়পুর অাপ এক্সপ্রেসে অামরা পাঁচজন। উঠেছি কিসানগঞ্জ থেকে। যাত্রাপথে পরিচয় হলো নেপাল ঝাপা জেলা, দমকের সূর্য কারকির সঙ্গে। অবসর প্রাপ্ত কমর্চারী। যাবেন মাউন্ট অাবু। ততক্ষণে কথায় কথায় জেনে নিয়েছেন অামরা যাচ্ছি দিল্লি। কিসান মজদুর সংঘর্ষ যাত্রায়। অামাদের সংগঠনের পতাকা দেখতে চাইলেন। তারপর হঠাৎ করে জানতে চাইলেন " অাপকা কমিটি মে লাইব্রেরী হ্যায়? পার্টি স্কুলিং হোতা হ্যায়? এ জরুরি হ্যায়। নেহি তো পার্টি মেম্বার কুছ নেহি শিখেগা।" অামি থতমত। উনি

আরও পড়ুন...

অর্ধেক আকাশ

Arijit Guha

দিল্লির রাস্তা আজ লালে লাল।দিল্লি আজ লালঝান্ডার দখলে।মিছিলের ছবি আর ভিডিওগুলো দেখছি আর মনে মনে একটু আপশোষ হচ্ছে।ব্যক্তিগত কারনের জন্য এবার যেতে পারলাম না বলে।শ্রমিক কৃষক মহিলা কারা নেই সেই মিছিলে!বিশেষ করে মহিলারা! দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে আসা তাদের ছবি আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে গতবছরের এক দৃশ্যে।গতবছর নভেম্বরে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্মের ডাকে তিনদিনের ধর্না দেওয়া হয়েছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিটে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে।তো সেই ধর্নায় যোগ দেওয়ার জন্য আমাদের সংগঠনের ৪০ জনের একটা দল চেপে

আরও পড়ুন...

এই মিছিল

Prativa Sarker

এখানে বৃষ্টি থামলেও, ওখানে চলছেই। দিল্লীতে, রামলীলা ময়দানে, সংসদ ভবনের সাজানো গাছগুলোর ওপর সর্বত্র। সেই বৃষ্টিতেই পথ হাঁটছে লাখো জনতা। বৃষ্টি অগ্রাহ্য করেই বর্শামুখের মতো আকাশ ফুঁড়ে দেওয়া লাখো লাল নিশান।

কারো ব্যানারে লেখা কৃষক শ্রমিক সংঘর্ষ সমিতি, কারো বা শুধুই সি আই টি ইউ। কিন্তু এমন জোর গলায় , যে শাসকের মুর্দাবাদ ধ্বনিতে ভেজা আকাশেই পাখি উড়ে যাচ্ছে কাতারে। নাসিক থেকে আসা বালু শঙ্কর, বেতিয়া জেলার গরহন রাম, রাজস্থানী কৃষক মডু রাম, বরদি রাম সবাই হাঁক দিচ্ছেন, খবরদার / মোদি সরকার। অ

আরও পড়ুন...

কোই হ্যায়? (পূর্ব বঙ্গের ইংরেজ সিভিলিয়ন) - মুনতাসীর মামুন

Muhammad Sadequzzaman Sharif

পূর্ববঙ্গের ইতিহাসের উপরে গবেষণা ধর্মী বই লিখেছেন মুনতাসীর মামুন। বইয়ের নাম “কোই হ্যায়?” বইয়ের ফ্লাপে লেখা আছে - “পূর্ববঙ্গে ইংরেজ সিভিলিয়ানদের জীবন চর্চা, কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোপূ্র্বে কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। পূর্ববঙ্গের ইতিহাস রচনার পথিকৃৎ ড. মুনতাসীর মামুনের বর্তমান গ্রন্থ সেই অচেনা অজানা বিষয় নিয়ে। দীর্ঘদিন গবেষণার পর পূর্ববঙ্গ সম্পর্কিত সিভিলিয়ানদের লেখা ১৯টি স্মৃতিকাহিনীর ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘কোই হ্যায়’। গ্রন্থের প্রথম পর্বে ইংরেজ বা ইউরোপিয়দের এ দেশে আগমন, ক্ষমতাদখল ও ঔপনিবেশিক শাস

আরও পড়ুন...

ছায়া আবছায়ার গপ্পো সপ্পো

Parthasarathi Giri

ছায়া-আবছায়ার গপ্পোসপ্পো
**********************

আমার বাবা শিকারে যেতেন। তাঁর লক্ষ্যভেদ অব্যর্থ এবং প্রায় অলৌকিক পর্যায়ের।

এই পর্যন্ত পড়ে মনে হবে আমি একটি জিম করবেটের নাতিসুলভ আখ্যানের ভণিতা শুরু করলাম।
আমার বাবাকে যারা চাক্ষুষ দেখেছেন বা কোনো সূত্রে পরিচিত তাদের অনেক ভালবাসা শ্রদ্ধা তাঁর পায়ের ওপর জমে আছে এযাবৎ।

****
প্রসঙ্গ : পশুপ্রেম, পৌরুষ কিংবা একটি সাদামাটা ভালোবাসার কথকতা।
****

সেই ভদ্রলোক, প্রদীপবাবু বা সকলের প্রিয় খোকনদা। চিরহাস্যময়,

আরও পড়ুন...