Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...
  • সারে জঁহা সে আচ্ছা
    আচ্ছা স্যার, আপনি মালয়েশিয়া বা বোর্ণিওর জঙ্গল দেখেছেন? অথবা অ্যামাজনের জঙ্গল? নিজের চোখে না দেখলেও , নিদেনপক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পাতায়? একজন বনগাঁর লোকের হাতে যখন সে ম্যাগাজিন পৌঁছে যেত, তখন আপনি তো স্যার কলকাতার ছেলে - হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতেন ...
  • ট্রেন লেট্ আছে!
    আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা ! দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ...
  • একটা নতুন গান
    আসমানী জহরত (The 0ne Rupee Film Project)-এর কাজ যখন চলছে দেবদীপ-এর মোমবাতি গানটা তখন অলরেডি রেকর্ড হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। গানটা প্রথম শুনেছিলাম ২০১১-র লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সম্ভবত। সামনাসামনি। তো, সেই গানের একটা আনপ্লাগড লাইভ ভার্শন আমরা পার্টি ...
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আয় খিস্তি ঝেঁপে

Anamitra Roy

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো যে বুদ্ধবাবু বা সিপিএমকে নতুন করে এতো বছর বাদে খিস্তি করার জন্য এই লেখা নয়। এবং অবশ্যই বলে রাখা দরকার যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে এই লেখার দূরদূরান্ত অবধি কোনো সম্পর্ক নেই। সেরকম কারো মনে হলে সেটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।

পটভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের স্লোগানের অশ্লীলতা নিয়ে আশেপাশে অনেকেই বেশ ভাবিত হয়ে পড়েছেন যা দেখছি। এই "নেতাচোদা" বা পুলিশকে "চ্যাটের বাল" বলা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি হচ্ছে। আমার তো বেশ মজা লাগলো দেখে। তুমি আমায় মারছো, তার ওপর তোমার আবার গায়ে জোরও বেশি, তা আমি তোমায় গালাগালি করবো না? এটাই তো স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া !

অনেক ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ছে। ক্লাস ফোরে পড়ি তখন। আমাদের ক্লাসের একটি ছেলে চেহারায় বেশ বড়সড় ছিল। সূর্যকান্ত নাম। বাকিদের থেকে তার গায়ে অনেক বেশি জোর। ঘটনাচক্রে সে আবার আমার তখনকার খুব ভালো বন্ধুদের একজন ছিল। তো, একবার হলো কি, ক্রিকেট খেলার মাঝে কি একটা ঝামেলা নিয়ে যেন সে আমায় সজোরে একটা চড় কষালো। ঘটনাটা কি এখন আর মনে নেই, তবে দিব্যি মনে আছে যে আমি সর্ষেফুল-চাঁদ-পাখি-গ্রহ-তারা সব দেখে মর্ত্যভূমে ফিরে এসেও মিনিট পনেরো দুনিয়াটাকে আবছা আবছা দেখছিলুম। আরেকটা জিনিসও মনে আছে স্পষ্টভাবে। চড়টা আমার গালে পড়ার সাথে সাথে মুখ দিয়ে বেরিয়েছিল "শুয়োরের বাচ্চা"....
"শুয়োরের বাচ্চা"-ই কেন? কারণ প্রথমত তখন আমি শুয়োরকে মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী বলে ভাবতাম; আর দ্বিতীয়ত, তখন এর চেয়ে ভয়ানক গালাগালি আমার জগতে আর কিছু ছিল না। অন্য কিছু জানা থাকলে আমি নিশ্চিতভাবেই অন্যকিছুই বলতাম। ভাগ্যিস জানা ছিল না, কারণ ঘটনাটা আমার বাড়ি অবধি পৌঁছেছিল স্কুল থেকে।

ফিরে আসা যাক বুদ্ধবাবুর কথায়। না, উনি কিছু করেননি। এই বয়সে নতুন করে আর কিই বা করবেন। বরং আরও দু'একটা মার্কেজ অনুবাদ করতে পারেন চাইলে। সেই ভালো !
ঘটনাটা সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়কার। তখনও আন্দোলন তত জোরদার হয়নি। অর্থাৎ বাইরের দাদাদিদিদের প্রভাব তখনও সেরকমভাবে পড়েনি আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর। সম্ভবত ২০০৬-এর মে মাস, খুব নিশ্চিত হতে পারছি না এতবছর বাদে, খাসেরভেড়িতে স্লোগান উঠেছিল "খানকির ছেলে বুদ্ধ, তোর আজকে শ্রাদ্ধ।" আমরা তখন হেব্বি হাংরি; আমি তো বিশেষ করে টিনেজ হাংরি, লোকজন খিস্তি লিখলে কি উচ্চারণ করলেই গ্লোরিফাই করে দিচ্ছি। তো, এরকম একটা ব্যাপারকে তো আর চোখ এড়িয়ে যেতে দিতে পারি না, পোস্টার লিখে কফিহাউসের সিঁড়িতে সাঁটিয়ে দিলাম। দিনতিনেক বাদে গিয়ে দেখি বাকি সবকটা পোস্টার আছে, শুধু ওইটা ভ্যানিশ। কালচারকাকুদের বোধহয় কফি খেয়ে বেশি অম্বল হচ্ছিলো ওই পোস্টারটা থাকলে, তাই বাড়ি যাওয়ার পথে ছিঁড়ে দিয়ে গেছে। গোটা ঘটনাটাই লেখা ছিল ওখানে ; কারা স্লোগান দিয়েছিলো, কবে, কোথায়, ইত্যাদি। কিন্তু হায় , শ্রমিক-কৃষকের ভাষা তার প্রাপ্য সম্মান পেলো কই কবিকূলের কাছে !

তা সেই হচ্ছিলো কথা। মনের কথা মনের মতো করে বলতে গেলে দু'একটা খিস্তি মাঝেসাঝে চলে আসে বৈকি! আমরা তো আর তেমন করে বলতে পারি না, তাই আমরা ভিনরাজ্যে থেকে ধার করে জেনেরিক স্লোগান দিই; ওই "হাল্লা বোল" কি "লড়কে লেঙ্গে..." ইসে টাইপের। বাচ্চাদের মনে হয়েছে খিস্তি করবে, করেছে, বেশ করেছে, আরও করুক। এরকম সরকারের খিস্তি খাওয়াই উচিত।

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আয় খিস্তি ঝেঁপে

এই লেখার শেষ বাক্যে একমত।

(সুধিজন, মাফ করবেন), কিশোর বিদ্রোহের কয়েকটি অশৈলী শ্লোগান এরকমঃ

"পুলিশ কোন চ্যাটের বাল?"

"লাঠির ভয় দেখাবে না, লাঠি একদম ভরে দিব।"

"রাজা আছে নীতি নাই, নেতা চোদার টাইম নাই।"

আপনাকে ধন্যবাদ। উড়ুক।
Avatar: Anamitra Roy

Re: আয় খিস্তি ঝেঁপে

৫ বছরে তুমি থেকে আপনি হয়ে গেলাম? @বিপ্লবদা
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আয় খিস্তি ঝেঁপে

আরে তাই তো! অনেক দিনপর তোমার লেখা পড়লাম। শুভ।👍
Avatar: আড্ডাবাজ

Re: আয় খিস্তি ঝেঁপে

দারুণ আলোচনা ।
বাংলা ** আড্ডা নামে একটা সাইটে প্রচুর খিস্তি হয়


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন