Punyabrata Gun RSS feed

Punyabrata Gunএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...
  • সারে জঁহা সে আচ্ছা
    আচ্ছা স্যার, আপনি মালয়েশিয়া বা বোর্ণিওর জঙ্গল দেখেছেন? অথবা অ্যামাজনের জঙ্গল? নিজের চোখে না দেখলেও , নিদেনপক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পাতায়? একজন বনগাঁর লোকের হাতে যখন সে ম্যাগাজিন পৌঁছে যেত, তখন আপনি তো স্যার কলকাতার ছেলে - হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতেন ...
  • ট্রেন লেট্ আছে!
    আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা ! দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ...
  • একটা নতুন গান
    আসমানী জহরত (The 0ne Rupee Film Project)-এর কাজ যখন চলছে দেবদীপ-এর মোমবাতি গানটা তখন অলরেডি রেকর্ড হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। গানটা প্রথম শুনেছিলাম ২০১১-র লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সম্ভবত। সামনাসামনি। তো, সেই গানের একটা আনপ্লাগড লাইভ ভার্শন আমরা পার্টি ...
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচন, ২০১৮

Punyabrata Gun

প্রত্যেকটা রাজ্যে একটা করে মেডিক্যাল কাউন্সিল আছে আর একটা মেডিক্যাল কাউন্সিল আছে জাতীয় স্তরে। জাতীয় স্তরে যে মেডিক্যাল কাউন্সিল সেটাকে বলা হয় মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া আর প্রত্যেকটা রাজ্যে একটা করে স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিল থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিলের নাম হচ্ছে West Bengal Medical Council। স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিলের যে কাজ সেটা প্রধানত হচ্ছে যে MBBS বা আধুনিক চিকিৎসার অন্যান্য ডিগ্রি বা ডিপ্লোমাধারী যে ডাক্তাররা আছেন তাদের একটি রেজিস্টার মেন্টেন করা আর এছাড়া ডাক্তাররা নিয়মনীতি মেনে কাজ করছেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিলের ওপর। স্টেট মেডিক্যাল কাউন্সিলের ৫ বছর ছাড়া নির্বাচন হয়। যদিও ২০১৮-র নির্বাচনকে ধীরে যেরকম উদ্দীপনা এবং উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে এর আগে আমরা সে ধরনের উত্তেজনা বা উদ্দীপনা দেখিনি। ডাক্তারদের কাছে ব্যালট আসত বা আসত না, আমরা সেটাকে খেয়ালও করতাম না।

মেডিক্যাল কাউন্সিলে সিট-এর সংখ্যা হচ্ছে ১৬টা। ১৬টার মধ্যে ৭টা সিট হচ্ছে টিচারদের জন্য, টিচার মানে সরকারি বা বেসরকারি যেসব মেডিক্যাল কলেজগুলো আছে সেই মেডিক্যাল কলেজগুলোর অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর, এই তিনটে র্যা ঙ্কের যে টিচাররা আছেন, সেই টিচাররা নিজেদের মধ্যে থেকে ৭জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। এই হল ৭টা সিটের হিসেব আর সমস্ত ডাক্তার, MBBS বা ততোধিক ডিগ্রি বা ডিপ্লোমাসম্পন্ন যে ডাক্তাররা, যাদের মধ্যে শিক্ষক-অশিক্ষক সব ডাক্তাররাই আছেন তারা নিজেদের মধ্যে থেকে আরও ৭ জনকে নির্বাচিত করবেন। সাত, সাত চোদ্দ, আরও দুটো সিট রাখা আছে Licentiate Medical Practitioner-দের ওপর। আমরা জানি যে আগে কলকাতায় যে মেডিক্যাল কলেজ একটা ছিল আর বাকিগুলো ছিল মেডিক্যাল স্কুল, সেই মেডিক্যাল স্কুল থেকে যারা পাস করে বেরোতেন তারা ডিপ্লোমা ডাক্তার ছিলেন, তাদের ডিপ্লোমার নাম ছিল LMF। এই Licentiate Medical Practitioner-দের জন্য দুটো সিট রাখা আছে। যেহেতু Licentiate Medical Practitioner-দের সংখ্যাটা খুব কমে গেছে, এই দুটো সিট খালিই থাকে। এতদিন অব্দি যেটা হয়েছে, শাসকদল, যখন রাজ্যে যে শাসকদল থেকেছে,তারা কায়দা করে মেডিক্যাল কাউন্সিলটাকে দখল করে নিয়েছে। মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনের নিয়ম হল—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে ভোটাররা আছেন, নির্বাচক যারা আছেন (এটাকে বলা হয় Clause-G) তাদের নামে একটা করে ব্যালট পেপার পৌঁছাবে প্রিন্সিপালের কাছে। প্রিন্সিপ্যাল শিক্ষকদের মধ্যে এই ব্যালট পেপারগুলো ডিস্ট্রিবিউট করবেন। এবার টিচাররা এটাকে ভোট দিয়ে আবার মেডিক্যাল কাউন্সিলে ফেরত পাঠাবেন। এটা হচ্ছে টিচারদের জন্য, আর সমস্ত ডাক্তারদের জন্য (Clause-H) যে ব্যালট পেপার সেই ব্যালট পেপারটা আসার কথা হচ্ছে তাদের বাড়িতে। তাদের যে রেজিস্ট্রেশান সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশান সার্টিফিকেটে যে অ্যাড্রেস দেওয়া আছে সেই অ্যাড্রেসে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর কথা।
আগের বার ২০১৩-তে যে নির্বাচন হয়েছে সেই ১৩-র নির্বাচনে আমরা দেখেছিলাম যে মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে একটা খাম এসছিল যে খামের মধ্যে ব্যালট পেপার ছিল, আরেকটা খাম ছিল যার মধ্যে মেডিক্যাল কাউন্সিলের ঠিকানা লেখা যার মধ্যে স্ট্যাম্প লাগাতে হয় না। ভোট দিয়ে, ভোটার তিনি ওই খামের মধ্যে ব্যালট পেপারটাকে রাখবেন, খামটাকে সীল করবেন, সীল করে পোস্ট করে দেবেন অথবা তিনি যদি চান তাহলে মেডিক্যাল কাউন্সিলে গিয়ে G এবং H, দুটো বাক্স রাখা আছে, সেই রেস্পেক্টিভ বাক্সের মধ্যে ব্যালট পেপারটাকে ফেলবেন। এটা ছিল নিয়ম।

এবারে যেটা হয়, যে ২০১৭ পশ্চিমবঙ্গ Clinical Establishment Act, মমতা ব্যানার্জি তৈরি করার পরে, সেই আইনের পরে যখন আসলে বেসরকারি হাসপাতাল বা কর্পোরেট হাসপাতালকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে যখন ডাক্তারদের ওপর আক্রমণ বাড়তে থাকে তখন কতগুলো নতুন সংগঠন গড়ে ওঠে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে যেটার নাম করতে হয় সেটা হচ্ছে West Bengal Doctor’s Forum বা WBDF। WBDF ছাড়া আরও ৬ টি সংগঠন, মানে মোট ৭টা সংগঠন একসঙ্গে মিলে আন্দোলন করতে থাকে। West Bengal Doctor’s Forum, পুরনো সংগঠনের মধ্যে Association of Health Service Doctors (AHSD), অপেক্ষাকৃত নতুন সংগঠন DOPA (Doctors for Patients), Doctors for Democracy, আমার সংগঠন, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ এবং দু-টি SUCI-ঘেঁষা সংগঠন, একটি Service Doctors Forum বা SDF এবং অন্যটি Medical Service Centre—এই সাতটা সংগঠন মিলে আমারা Clinical Establishment Act-এর বিরুদ্ধে এবং ডাক্তারদের ওপর ক্রমবর্ধমান যে হিংসা, সেই হিংসার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে থাকি।
WBMC নির্বাচন যখন এগিয়ে আসতে থাকে তখনই আলাপ আলোচনা চলতে থাকে যে শাসক দলকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ করা উচিত। এই প্রস্তুতি পর্বে Medical Service Centre এবং Service Doctors Forum-এর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারিনি আমরা। আমরা চেয়েছিলাম যে সার্বিক বিরোধি ঐক্য এবং এমন ক্যান্ডিডেটদের মেডিক্যাল কাউন্সিলে নিয়ে যেতে যারা নিরপেক্ষ হবেন যাদের টিকি কোন শাসক দলের কাছে বাঁধা থাকবে না এবং যারা ডাক্তারদের ওপর যদি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন সেটা পুরোপুরি বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নেবেন, কোন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়। আমরা যখন আসন সমঝোতার জন্য আলাপ আলোচনা করতে থাকি তখন Service Doctors Forum এবং Medical Service Centre এরা দুটি clause-এ, Clause-G এবং Clause-H, দু-টি দু-টি করে আসন দাবি করে এবং সমঝোতাটা ফেল করে। এর মধ্যে DOPA, Doctors for Patients এরা ঠিক করে যে এরা এই নির্বাচনে অংশ নেবে না তাহলে পড়ে রইল চারটি সংগঠন West Bengal Doctor’s Forum, Association of Health Service Doctors, Doctors for Democracy, শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ। এর সঙ্গে পাঁচ নম্বর সংগঠন Health Service Association। Health Service Association সার্ভিস ডাক্তারদের সর্বপ্রাচীন সংগঠন। আগে হেলথ সার্ভিস ডাক্তারদের একটাই মাত্র সংগঠন ছিল Health Service Association। এই পাঁচটা সংগঠন মিলে আমরা একসঙ্গে নির্বাচন লড়ব বলে ঠিক করি। এই নির্বাচন আমরা একসঙ্গে লড়ব এই খবরে শাসক দলের মধ্যে থরহরি কম্প দেখা যায়। আগেকার মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃণমূল বিধায়ক ডাক্তার নির্মল মাঝি, সদস্য হিসেবে ছিলেন তৃনমূলের অন্যান্য ডাক্তার নেতারা এবং ডাক্তার শান্তনু সেন যিনি আবার তৃণমূলের রাজ্য সভার MP। মমতা ব্যানার্জি এই মেডিক্যাল কাউন্সিল ইলেকশানটাকে নিজের লড়াই হিসেবে নেন বলে আমরা শুনেছি। তিনি তার এমএলএ দের কে নির্দেশ দেন তারা যেন নিজ নিজ এলাকার ডাক্তারদের blank ballot কালেকশান করেন। মাসখানেক আগে শান্তনু সেনের নামে একটা বাল্ক এসএমএস বিভিন্ন ডাক্তারদের কাছে আসতে থাকে, প্রত্যেককে কোটা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে কত সংখ্যক তাদেরকে ব্ল্যাঙ্ক ব্যালট জোগাড় করতে হবে এবং এই ব্ল্যাংক ব্যালোট গুলো শান্তনু সেনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ ছিল, এই এসএমএস-টি তে। যদিও শান্তনু সেন এটিকে অস্বীকার করেন এটা নাকি তার পাঠানো নয়, তার নির্দেশে পাঠানো নয়, এটা কোনো চক্রান্তের অংশ। মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে আমাদের যে পাঁচটি সংগঠন, তাদের পক্ষে শিক্ষক ক্যাটাগরির যে সাত জন ক্যান্ডিডেট তাদের মধ্যে আছেন, ডাক্তার অমিতাভ চক্রবর্তী, ডাক্তার অনুপ রায়, ডাক্তার বিষান বসু, ডাক্তার বৈজয়ন্তী বাউর, ডাক্তার বাঁশরী গোস্বামী, ডাক্তার গৌতম দাস এবং ডাক্তার অর্ণব সেনগুপ্ত। অশিক্ষক ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে আছি, ডাক্তার ইন্দ্রজিত রায়, ডাক্তার রেজাউল করিম, আমি ডাক্তার পুণ্যব্রত গুণ, ডাক্তার হীরালাল কোনার, ডাক্তার হিরন্ময় ঘোষাল, ডাক্তার আর ডি দুবে এবং ডাক্তার বারীন রায় চৌধুরী। জেনেরাল ক্যাটিগরিতে তৃণমূল মোট ১৬ ক্যান্ডিডেটের নমিনেশান ফাইল করে। এইটা শোনা যায় যে তৃনমূলের ডাক্তার সংগঠনের মধ্যে যে দুটি লবি আছে, একটি ডাক্তার নির্মল মাঝির লবি এবং অন্যটা ডাক্তার শান্তনু সেনের লবি, এই দুটো লবি থেকেই নমিনেশান ফাইল করা হয়েছিল। Withdrawal-এর দিন সাধারণত যেটা হয় যে নমিনেশান উইথড্রলের যে সময় সেই সময়ের এক ঘণ্টার মধ্যেই কারা কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে গেলেন তাদের নাম মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রকাশ করে দেওয়ার কথা। আমরা আশ্চর্যজনক ভাবে দেখি যে সেই সময় ক্যান্ডিডেটদের লিস্ট পাব্লিশ হয় না। তখন আমাদের পক্ষ থেকে তার পরের দিন মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার যিনি আবার WBMC ইলেকশানের রিটার্নিং অফিসারও, তাকে ফোন করা হয়। তখন তিনি তড়িঘড়ি করে বিকেল বেলা অফিস আওয়ার্সের পরে ক্যান্ডিডেটদের লিস্ট বার করেন। সেখানে আমরা দেখি যে তৃণমূলের মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দিতায় আছেন। কিছুদিন পরে দেখা যায় এই ১০ জনের মধ্যে ৭ জনকে তৃণমূল তার ক্যান্ডিডেট হিসেবে ঘোষণা করেছে, ৩ জন প্রতিদ্বন্দিতায় আছেন যারা কিন্তু তৃণমূলের টিকিট পাননি—ডাক্তার চন্দন ব্যানার্জি, ডাক্তার কৌশিক বিশ্বাস এবং West Bengal Health University’র পূর্বতন উপাচার্য ডাক্তার ভবতোষ বিশ্বাস।

আমাদের প্রচার যেমন যেমন চলতে থাকে, তেমন তেমন শাসক দলের পক্ষ থেকে নতুন নতুন কায়দা কানুন আমরা দেখতে থাকি। প্রথম আমরা যেটা দেখি, যে Clause-G যেখানে কেবলমাত্র Assistant Professor, Associate Professor এবং Professor দের থাকার কথা সেখানে সেই লিস্টে, সাড়ে আঠাশ শ’য়ের মতো ভোটারের লিস্ট, তাদের মধ্যে তিনশো-র বেশি Demonstrator, RMO Clinical Tutor, SNCU Medical Officer, Post Graduate Trainee, এমনকী House Staff অব্দির নাম ঢোকানো হয়েছে ভোটার হিসেবে। আমরা এটা নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবাদ জানাই, রেজিস্ট্রার বলেন যে এটা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে যখন মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভোটারের ব্যালট পেপার পৌঁছানো আরম্ভ হয় তখন আমরা দেখি যে এদের নামেও কিন্তু ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। প্রথমে শান্তনু সেনের যে এসএমএস, সেই এসএমএস-টাকে যদি আমরা ধরেও নিই যে না উনি ওটা পাঠাননি তাহলেও যেটা হচ্ছে যে তৃণমূলের কিছু মার্কা-মারা ডাক্তার মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভয় দেখিয়ে খালি ব্যালট জোগাড় করার চেষ্টা করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে, আমাদের পাঁচটা সগঠনের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেকটা কলেজের প্রিন্সিপালকে ডেপুটেশান দিয়ে রেখেছিলাম যে ব্ল্যাঙ্ক ব্যালট যাতে কারুর হাতে তুলে না দেওয়া হয়, প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়ালকে যেন তার নিজের নিজের ব্যালট সই করিয়ে দেওয়া হয়। কলেজগুলোর প্রিন্সিপালরা তাই করছেন। টিচারের হাতে ব্যালট আসার পরে কিছু অতি উৎসাহী তৃণমূলের ডাক্তার খালি ব্যালট সংগ্রহ করার কাজে নেমেছেন। দ্বিতীয়ত আমরা যেটা দেখতে থাকি সেটা হচ্ছে যে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে যে ব্যালট পেপারের খাম আসে সেগুলোতে একটা অদ্ভুত জিনিস। বাইরে একটা খাম, সেই খামের ভেতর আরেকটা খাম যে খামে করে ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে এবং ব্যালট পেপার। খাম খুলে দেখা যেতে থাকে যে ব্যালট পেপার নেই। বড়ো খামের মধ্যে ছোটো খাম আছে কিন্তু ব্যালট পেপার অনুপস্থিত। এরকম বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ, নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ, সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ, এই মেডিক্যাল কলেজগুলোতে অধিকাংশ টিচারের ব্যালট এসে পৌঁছায়নি, খালি খাম এসেছে। খালি খামের মধ্যে ছোটো খাম। যখন এটা বুঝতে পারা গেল তখন, টিচাররা যখন খাম খুলছেন তখন তার ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখছেন সেই ভিডিও রেকর্ডিং আমাদের সংগ্রহে আছে। তৃতীয়ত যেটা হচ্ছে যে, মনে করুন আমার নাম পুণ্যব্রত গুণ, আমার ঠিকানা HA-44, Salt Lake Sector – III, Calcutta – 97, এই ঠিকানায় আর কোনো ডাক্তার কিন্তু থাকেন না। আমার ঠিকানায় একটি ব্যালট পেপার এল যাতে নাম আছে প্রিয়ব্রত গুণ HA-44, Saltlake Sector – III, Calcutta – 97। এবার স্বভাবতই রেজিস্ট্রি চিঠি পোষ্টম্যান এসে কিন্তু আমাকে খামটা দিচ্ছে না, (কাউকে কাউকে পোস্টম্যান দিয়ে দিয়েছে ভুল করে) এই খাম গুলো কিন্তু ফেরত যাচ্ছে। অর্থাৎ যারা ভোটার তাদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার আসছে কিন্তু ভুল নাম থাকার জন্য তারা ব্যালট পাচ্ছেন না।

এই অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত ২৫শে জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ৬টা অবধি আমরা একটি অবস্থান করি মেডিক্যাল কাউন্সিলের সামনে। রেজিস্ট্রাররকে একটা ডেপুটেশন দেওয়া হয়। আমরা যখন রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তীকে ডেপুটেশন দিচ্ছি তখন উনি একটা অদ্ভুত কথা বলেন; তাঁকে আমরা জিজ্ঞেস করি যে এই ভুল কেমন করে হচ্ছে, এই যে খামগুলো খালি যাচ্ছে তার মধ্যে কোনো ব্যালট পেপার নেই! তখন উনি বলেন যে, ব্যালট এবং খাম ছাপা হয়েছে সরস্বতী প্রেসে এবং সরস্বতী প্রেস থেকে ব্যালট এবং খাম গেছে জিপিও-তে, সেখানেই নাকি খামে ব্যালট ভরা হয়েছে, সুতরাং ভুল যদি কিছু হয়ে থাকে তা হলে সেটা জিপিও-র দোষ। তখন আমরা জিজ্ঞেস করি যে আমরা এটা প্রথম শুনছি যে জিপিও-তে খামে ব্যালট ভরা হয়! জিপিও-র তো কাজ কেবল চিঠিটাকে এক জায়গায় পাঠানো, খামে চিঠি ভরা কি তাদের কাজ? তখন তিনি বলেন যে জিপিও-তে নাকি এরকম একটা সেকশন আছে যারা খামে চিঠি ভরে। তখন আমরা জিজ্ঞেস করি যে আপনি কি তাহলে সেখানে কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা দেখার জন্য কাউকে পাঠিয়েছিলেন? তখন উনি বলেন যে, "হ্যাঁ আমার দু-জন লোক ছিল সেখানে, তাদের সামনেই কাজগুলো হয়েছে।”
সে দিনই বিকাল ৩টার সময় কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটা প্রেস কনফারেন্স করি আমরা।
৩০ শে জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে WBMC নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদ করে আমরা এক মামলা দায়ের করি। আজ ২রা আগস্ট সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।



শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন