স্বাতী রায় RSS feed

Swati Rayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...
  • সারে জঁহা সে আচ্ছা
    আচ্ছা স্যার, আপনি মালয়েশিয়া বা বোর্ণিওর জঙ্গল দেখেছেন? অথবা অ্যামাজনের জঙ্গল? নিজের চোখে না দেখলেও , নিদেনপক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের পাতায়? একজন বনগাঁর লোকের হাতে যখন সে ম্যাগাজিন পৌঁছে যেত, তখন আপনি তো স্যার কলকাতার ছেলে - হাত বাড়ালেই পেয়ে যেতেন ...
  • ট্রেন লেট্ আছে!
    আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা ! দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ...
  • একটা নতুন গান
    আসমানী জহরত (The 0ne Rupee Film Project)-এর কাজ যখন চলছে দেবদীপ-এর মোমবাতি গানটা তখন অলরেডি রেকর্ড হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। গানটা প্রথম শুনেছিলাম ২০১১-র লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সম্ভবত। সামনাসামনি। তো, সেই গানের একটা আনপ্লাগড লাইভ ভার্শন আমরা পার্টি ...
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

স্বাতী রায়

দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন জানাতে চললেন তিনি। সঙ্গে আরেক ছেলে সিকন্দর হাশমত। অথচ যার জন্য করা, সেই নবাবই রয়ে গেলেন কলকাতায়। সাল ১৮৫৬। আসলে নবাবটি একটু অন্য ধাতের - যুদ্ধ বিগ্রহ রাজ্য শাসনের থেকে তাঁর মন বেশি গান- নাচ- কবিতা-প্রেম এই সবে।

সে বছরই রাজ্য হাতছাড়া হবার পরে মে মাসে লন্ডন যাবেন বলে কলকাতায় এসেছেন নবাব। লক্ষণৌ থেকে বারাণসী - সেখান থেকে দু মাসের নৌকা ভ্রমণ - স্টিমার ম্যাকলয়েড এ চড়ে কলকাতা। কলকাতায় এসে নবাব আর লড়লেন না - অজুহাত ভগ্নস্বাস্থ্য । মাঝ বয়সী বেগমসাহেবা চললেন বিদেশে। কুইনের সঙ্গে দেখা করে সুবিচার জোগাড় করার আশায়। মায়ের স্বপ্ন অবশ্য পুরণ হয় নি। ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তার যে মোলাকাত হয়, সেটি শুধুই সৌজন্যসাক্ষাৎ - তারপরে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে আবেদন করেন সেটি নিয়েও অকারণ তাল-বাহানা করে সরকার। ইতিমধ্যে হয় ১৮৫৭ র সিপাহী বিদ্রোহ। ওয়াজিদ কে ইংরেজ্ রা সাময়িক ভাবে বন্দী করে ফোরট উইলিয়ামে - জুন ১৮৫৭ থেকে জুলাই ১৮৫৯ অবধি তিনি নজরবন্দী থাকেন ফোর্ট উইলিয়ামের ভিতর, আরমহারস্ট কুঠীতে। এদিকে ল্ক্ষ্শনৌ তে ওয়াজিদ আলির এক বেগম হজরত মহল বিদ্রোহে যোগ দেন। এরপর আর বেগমের আশা পুরণ হওয়ারও কোন সম্ভাবনা থাকে না - দেশের পথে রওনা দেন। পথেই মৃত্যু - প্যারিসের Père Lachaise তে সমাধি দেওয়া হয় তাকে। রাজ সম্মান জানাতে উপস্থিত ছিলেন তুর্কী আর পারস্যের সুলতানের প্রতিনিধি। দিনটা ২৪ শে জানুয়ারী, ১৯৫৮। কলকাতায় সেদিন কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বরষ-পূর্তি উৎসব।

নবাবের কি হল? নজরবন্দীর থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে তার ঠিকানা হল পরীখানা - বেগম, তওয়ায়েফদের সৌন্দর্যে সত্যিই সেখানে পরী নেমে আসে যেন। নবাব রইলেন তার পশু, পাখি, কবিতা, নাচ, গান আর হারেম সুন্দরীদের নিয়ে। বছরে বার লক্ষ টাকা পেন্সন। তারই মধ্যে সংসার চালান ৩৮৪ জন বেগম নিয়ে। লক্ষণৌ নগরীর আদলে গড়ে তুললেন ইমামবাড়া, মসজিদ, চিড়িয়াখানা। এই চিড়িয়াখানার থেকেই নাকি একবার এক বাঘ পালিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে ওপারের শিবপুরের বট্যানিকাল গার্ডেনে গিয়ে হানা দেয়!

এত কথা কেন? আজ সকালে গিয়েছিলাম মেটিয়াবুরুজ সফরে। হেরিটেজ ওয়াক কলকাতার ব্যবস্থাপনায়। শ্রীনন্দার তত্ত্বাবধানে Space and Memory : The Exile Walk -এ অংশ নিতে। জানতাম ইতিহাসের বেশিটাই আর নেই, কারণ ১৮৮৭ সালে নবাবের মৃত্যুর পরে ইংরেজরা নবাবের সব সম্পত্তি দখল করে নেয়, তবু যেটুকু আছে সেই টুকুও হারিয়ে যাওয়ার আগে দেখে ফেলাটা দরকার মনে হল। পরীখানা, যেটা বোধহয় এখন রেলের সম্পত্তি, সেটা দেখার লিস্টিতে ছিল না। ছিল চারটি ঐতিহাসিক মনুমেন্ট - Qasrul Buqa Imambara. আজকেই প্রথম জানলাম ইমামবাড়া আর মসজিদের মধ্যে তফাত। জন্মে ইস্তক হুগলীর ইমামবাড়া দেখেও জানা ছিল না যে ইমামবাড়া তে মহরমের মিছিলের জিনিসপত্র রাখা থাকে। অবশ্য বাড়ি ফিরে গুগুল বাবার দৌলতে জানলাম যে ইমামবাড়াতে মেয়ে এবং শিশুদের ঢোকার মানা নেই যেটা মসজিদে বারণ। এই Qasrul Buqa Imambara চারপাশের বাড়ীঘরের দখলদারির মধ্যে কোনক্রমে এখনও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ছোট্ট একটি বাড়ী অথবা ঘরই বলা উচিত - শুধু রাস্তার উপর বোর্ডটি আছে বলে বোঝা এটি খুব সম্ভবতঃ মেটিয়াবুরুজের প্রথম ইমামবাড়া।

পরের গন্তব্য শাহী মসজিদ। ভিতরে ঢোকা গেল না। বাইরে থেকেই যেটুকু দেখা - আমাদের চোখে মসজিদ বলতেই যে ছবি ভাসে, তার থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। কোন গোল গম্বুজ নেই মাথার উপরে , নেই সরু লম্বা নজর কাড়া মিনারেট। তবে ছাদের উপরে সূর্যের নিশানটি বেশ ইউনিক। কোন এক সময় হয়তো গঙ্গার পাড়েই ছিল এই মসজিদ। এখন সে সব দেওয়ালে ঢেকে গেছে। শুনেছিলাম এই মসজিদের ভিতরে একটি মারবেলের মিরহাব আছে - কিন্তু ভিতরে ঢুকতে না পারায় সেটা দেখার সৌভাগ্য হল না।

এর পরের যে গন্তব্য সেটি নবাবের এক স্ত্রীর বানান এক ইমামবাড়া। নাম বোধহয় বেগম মসজিদ। আসলে শ্রীনন্দা যখন এর নাম বলছিল আমি তখন মন দিয়ে সেখানকার উঠোনের রান্নার প্রস্তুতি দেখছিলাম - দরিদ্রদের খাওয়ানর প্রস্তুতি চলছে। বিশাল বিশাল হাড়িতে রান্না চেপেছে। যে কোন ধর্মস্থানের এটাই একমাত্র মহিমা - চাইলে অতি সহজে সে জনকল্যাণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। যে কোন ডোল সিস্টেমের কুফল নিয়ে আলোচনা হতেই পারে - তবু যার অধিক আছে তার এই ভূমিকাটুকুই বড় ভালো। ভিতরের দেওয়ালটি অসাধারণ সুন্দর - কাঁচের উপর রং দিয়ে মার্বেলের উপর ইনলে কাজের এফেক্ট আনা হয়েছে। সব জায়গাতেই বড় বড় ঝাড়-লণ্ঠন ঝোলানো। আমাদের আধুনিক ইন্টিরিয়রের চোখে এতটুকু জায়গায় এত বড় ঝাড়লনঠন একটু বেমানান লাগে বটে। কিন্তু হয়তো সেই প্রাক ইলেক্টিরিসিটি যুগে সেটাই দস্তুর ছিল।

আজকের শেষ দ্রষ্টব্য শাহী ইমামবাড়া - মধ্যযুগের কারুকার্যময় উত্তর বা পশ্চিম ভারতীয় মসজিদ বা ইমামবাড়ার তুলনায় সে কিছু নয় অবশ্য। তবু সরল সাদাসিদের উপর বেশ। লক্ষনৌর সিবতৈনবাদ ইমামবাড়ার আদলে তৈরি। নবাবও ঘুমিয়ে আছেন এখানেই। এখানেই আছে নবাবী আমলের তাজিয়া। আর আছে নবাবের ইনসিগনিয়া - একটি বিশালাকৃতির সূর্য-সদৃশ ব্রোঞ্জের ঢালের উপর সিংহ, সূর্য , জোড়া ফেরেস্তার ছবি। অবাক লাগে সেই এক সূর্য হিন্দু রাজপুত রাজ্যেরও প্রতীক আবার মুসলিম অযোধ্যার নবাবেরও প্রতীক। প্রকৃতির তো কোন ধর্ম নেই।

নবাব ছিলেন কতদিনই বা - ১৮৫৬ থেকে ১৮৮৭ - মোটে একত্রিশ বছর। নিজের চারপাশে গণ্ডী কেটে বসবাস করেছেন। স্থানীয় বরেণ্যদের সঙ্গে তেমন মিশেছেন কি? পড়ি নি কোথাও। তেমন ভাবে মেশেন নি স্থানীয় সুন্নি মুসলমানদের সঙ্গেও। তবু তাঁর দরবারের সারেঙ্গীর সুর, কত্থকের বোল ধীরে ধীরে মিশে গেল বাঙ্গালীর জীবনে। গোরেবাজ, পতংবাজ , মেয়েবাজ মানুষটা জায়গা পেলেন ইতিহাসে। সে সৌভাগ্য হয় নি অবশ্য সেই মানুষগুলোর যারা সারা ভারত থেকে বিশেষত উত্তর প্রদেশ, বিহার ইত্যাদি থেকে এসে পৌছেছিলেন কলকাতায় তারপর কন্ট্র্যাক্ট লেবার হিসেবে পাড়ি দিয়েছেন মরিশাস, ত্রিনিদাদ, সুরিনাম ইত্যাদি দিকে দিকে। ১৮৩৩ থেকে ১৯১৭ - চলেছে এই পর্ব। দাসপ্রথার থেকে কিছু মাত্র উন্নত কি? মনে তো হয় না। আরও অদ্ভুত হল এই পর্বের একটা বড় সময় কালকে আমরা বলি বাংলার নবজাগরণ পর্ব যার কেন্দ্রে রয়েছে কলকাতা। অথচ তখন কলকাতাই ছিল এই নব্য দাসপ্রথার অন্যতম কেন্দ্র। প্রদীপের নীচেই অন্ধকার! আর যে ওয়াজিদ আলি শাহ তখন সংস্কৃতির পেট্রণ হচ্ছেন, তখন তাঁর প্রাক্তন রাজ্যের প্রজারাও তো এভাবে হারিয়ে যাচ্ছেন চেনা মাটি, চেনা দেশ ছেড়ে - তবু কোন মুজরোর আসরের সুর কাটল কি? নবাবদের সঙ্গে অবশ্য সাধারণ মানুষের কি ই বা সম্পর্ক! প্রায় বার লাখ লোক এই ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ১৮৭৩ সালের ৫ই জুন ( সে বছরই বিহারে মহাদুর্ভিক্ষ হয়) কলকাতা থেকে প্রথমবারের জন্য লাল্লা রুখ জাহাজে চেপে ৩৯৯ জন শ্রমিক গিয়ে পৌঁছায় আখের ক্ষেতে কাজ করার জন্য। হোক না সুরিনাম ডাচ কলোনি - লাভের টাকা গুণে নিতে পারলে তার জন্য শ্রমিক খুঁজে দেবেন চিরশত্রু ইংরেজরাও। যারা বলেন করপোরেট রাজত্বের আমলেই সীমাহীন লোভের জাল বোনা শুরু হয়েছে আর তার আগে প্রায় রাম রাজ্য ছিল, তাদের একটু এই সব ইতিহাস পড়ে দেখতে বলি। সুরিনাম সরকার তাদের এই পিতৃপুরুষদের মাইগ্রেশনকে মান্যতা দিতে তাদের যাত্রা পথের দুই প্রান্তে বসান দুটি একই রকম মাই-বাপ স্ট্যাচু। একটি কলকাতায় , একটি পারামারিবো তে। সেই সুরিনাম মেমোরিয়াল স্ট্যাচু দিয়ে আমরা আজকের হাঁটা শুরু করেছিলাম।

প্রায় আড়াই- পৌনে তিন ঘন্টা হাঁটার পরে পেটে তখন আগুন জ্বলছে। হেরিটেজ ওয়াকের বদান্যতায় জুটল একটি দুর্ধর্ষ ব্রেকফাস্ট। নিহারি আর তন্দুরি রুটি। কলেস্টরলের নিয়মিত ওষুধের দাপটে রেড মিট প্রায় বন্ধই - তবু তুলতুলে একটি বৃহদাকার মাংস খন্ড যার উপরের দিকটায় প্রায় এক ইঞ্চি পরিমাণ চর্বি আর জিভে দিলেই গলে যাচ্ছে - এ জিনিস ছাড়া যাবে না। গতকালের রথের পাঁপড় মিশে গেল আজকের নিহারির ঝোলে।

( যে ছবিগুলো তুলেছিলাম সেগুলো ঠিক পাতে দেবার যোগ্য নয় - নিজের চোখে দেখে আসাটা অনেক ভালো। আর জায়গাটার বেশ ট্যুরিজম সম্ভাবনা আছে - কিনতু সেজন্য একটু রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন করা , একটু সৌধগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, একটু মশা মাছি কমান এগুলো প্রয়োজন। সরকার যদি নাও তাকায় , একটা লোক্যাল NGO হতে পারে যারা স্থানীয় ছেলে মেয়েদের ট্রেনিং দিয়ে walk এর বন্দোবস্ত করল আর লাভ দিয়ে জায়গাটার রক্ষণাবেক্ষণ করল। ভাবা যায়? )

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

বাঃ যেতে হবে একবার।
Avatar: শঙ্খ

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

ভালো লাগল পড়ে। যেতে হবে।
Avatar: প্রতীক

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

সিংহ-সূর্য প্রতীকের জন্ম আড়াইহাজার বছর আগের দারিউসের আখামেনিদ পারস্য। 'lion-sun emblem' লিখে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

@প্রতীক অনেক ধন্যবাদ। দেখলাম। আরও খুঁজতে গিয়ে দেখলাম যে এই অযোধ্যার লোকজনের মুল লুকিয়ে আছে আজকের আজারবাইজানে - আর পারস্যের সঙ্গে বিবাহ যোগ তো ছিলই। তাই হয়তো এম্বলেমটা অনুপ্রাণিত ছিল - অন্য কোন ইতিহাস জানলে একটু জানাবেন।
Avatar: I

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ

দারুণ লেখা। আর একটু চলত না?
Avatar: ।

Re: পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন