Sumit Roy RSS feed

Sumit Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মার্কসীয় চোখে শিল্প

Sumit Roy

(আজকের এক জায়গার আলোচনার প্রত্যুত্তরে লেখা... এখানে সংরক্ষণ করে রাখলাম...)

মার্কসীয় দর্শন বস্তুবাদী শিল্পতত্ত্ব বস্তুবাদী ভাবধারায় প্রবর্তিত। মার্কসবাদ শিল্প বিষয়ক আলোচনায় সর্বপ্রকার ভাববাদী ধারণা বর্জন করে। এই মতাদর্শ অনুসারে শিহিক্কল্পের সৃজন, মূল্য তথা শিল্পের উপভোগ, প্রচলন সবই বস্তুবাদী নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ঐতিহাসিক বস্তুবাদি দৃষ্টিতে মার্কসবাদ ইতিহাসের যে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে সেখানে শিল্পের উৎপত্তিও চিত্রিত হয়েছে মানুষের বস্তুগত জীবনের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে। এঙ্গেলস দেখান যে মানুষের সেই আদিম কাল থেকেই শিকার কৃষিকাজ ইত্যাদি বাস্তব জীবনমুখী কর্মকাণ্ডের সহায়ক হিসেবে বিজ্ঞানের ও শিল্পের উদ্ভব ঘটেছে। এঙ্গেলস বলেন, "with each generation labour itself become different, more perfect, more diversified. Agriculture was added to hunting and cattle breeding, then spinning, weaving, metal working, pottery and navigation, along with trade and industry their appeared finally Art and Science."

মার্কসবাদী নন্দনতত্ত্ব অনুযায়ী সামাজিক বাস্তবতাই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর সামাজিক বাস্তবতা মূলত সংশ্লিষ্ট সমাজের উৎপাদন প্রক্রিয়া তথা অর্থনৈতিক অবস্থা দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। শিল্প সম্পর্কে মার্কসের একটি বিখ্যাত উক্তি হল, শিল্প হল সমাজ চেতনার একটি রূপ (Art is a form of social consciousness)- A contribution to the critique of political economy. ভাববাদী শিল্পতাত্ত্বিকগণ অনেকেই শিল্পকে মানুষের কল্পনার ফসল হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এই কল্পনাকে অতীন্দ্রিয় জগতের ভাবের উপর নির্ভর করাতে চান। কিন্তু মার্কসবাদী দর্শন অনুযায়ী কোন অতীন্দ্রিয় ভাবজগত থেকে শিল্পীর কল্পনা বা শিল্পচেতনা নির্ধারিত বা নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং সমাজের বাস্তবতাই কল্পনা তথা সকল মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শিল্পভাবও সামাজিক বাস্তবতার ফসল। শিল্পচেতনা থেকে শুরু করে সকল চেতনাই মার্কসীয় তত্ত্ব অনুসারে সমাজের বাস্তবতা দ্বারা নির্ধারিত। একই গ্রন্থে মার্কস এর ভাষায়, it is not the consciousness of men that determine their being, but on the contrary their social being that determines their consciousness"। অর্থাৎ মানব সত্তা বা মানব প্রকৃতি কোন চেতনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা নির্ধারিত হয় না বরং মানুষের সামাজিক সত্তাই তাদের চেতনাকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্পের ক্ষেত্রে তাই কোন শিল্পীর সামাজিক অবস্থা তার শিল্পচেতনা ও শিল্পের ধরন নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। একজন শিল্পী কোন ধরনের শিল্প সৃজন করবেন তা তার সংশ্লিষ্ট সামাজিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক বাস্তবতা দ্বারা নির্ধারিত যে সামাজিক অবস্থায় শিল্পী অবস্থান করছেন তার উপরই তার শিল্পকর্ম নির্ভর করে। শিল্পের চাহিদাও শিল্প সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। মার্কস তার The German Ideology নামক গ্রন্থে বলেছেন, রাসেল এর মত একজন শিল্পী তার শিল্প প্রতিভাকে কিভাবে বিকশিত করবেন তা নির্ভর করে সমাজের চাহিদার উপর। মানুষ যে ধরনের শিল্প পছন্দ করে, যে ধরনের শিল্প ও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সে ধরনের শিল্প তৈরিতে শিল্পী আগ্রহী হন।

মার্ক্সবাদ মনে করে অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে দ্বান্দ্বিক গতিতে সমাজ বিবর্তিত হয়, অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রেণী দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সভ্যতার বিবর্তন ঘটে। নতুন নতুন উৎপাদনের মাধ্যমে সমাজের মানুষের চেতনাও বিবর্তিত হয়। শিল্পীর চেতনাও উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দ্বারা শোভিত, সভ্যতাকে সাহচার্য দ্বারাই এটি নির্ধারিত হয় অতি সুচারুভাবে। Economic Manuscripts এর ভূমিকা অংশে মার্ক্স বলেন, "রেলপথ বিদ্যুৎ বা টেলিগ্রাফের বিকাশের এই দিনে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের কিছু রচনা এখন আর হয়ে উঠবে না। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হবার পর আর 'ইলিয়াড' এর মত কোন কিছু রচনা হতে পারে না। বন্দুক আবিষ্কারের পর আর 'একিলিস' এর মত চরিত্র সৃজন শোভনীয় নয়।"

উপরের কথাগুলোয় মনে হচ্ছে, মার্কসবাদ অনুসারে কেবল অর্থনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সামাজিক বাস্তবতায় শিল্পের একমাত্র নিয়ন্ত্রক। কিন্তু মার্কসীয় তত্ত্বে একে একমাত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে অস্বীকার করার কথাও রয়েছে। মার্কসবাদ অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর সামাজিক বাস্তবতাকে শিল্পের মূল কাঠামো বা skeleton হিসেবে মনে করেছে। এর সাথে সামাজিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক জীবন, রুচিবোধ ইত্যাদি সংক্রান্ত বাস্তবতাকেও শিল্প সৃজনের ক্ষেত্রে নিয়ামক শক্তি হিসেবে এখানে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যেমন the German ideology গ্রন্থে, মার্কস বলেছেন, "As regards art, it is well known that some of its peaks by no means correspond to the general developments of society; nor do they, therefore, to the material substructure, The skeleton as it were of its organisation"।

মার্কস এর এই উক্তি তার পূর্ববর্তী উদ্ধৃতি, যেখানে সামাজিক সত্তাকে মানুষের চেতনার নিয়ন্ত্রক বলা হয়েছে, তার সাথে বিরোধপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কারণ রুচি, সামাজিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি - এগুলো তো মানুষের চেতনারই ফসল। আর চেতনা যদি সমাজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় আর সমাজ যদি অর্থনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে শিল্পও পরোক্ষভাবে অর্থনীতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে, অর্থনৈতিক কারণই একমাত্র নিয়ামক হয়ে উঠবে। আসলে অর্থনৈতিক কারণকেই মার্কসবাদ মূল ভিত্তি (base) বলে মনে করে। মার্কস তার a contribution to the critique of political economy এর ভূমিকায় বলেন, "the mode of production of material life conditions the social political and intellectual life process in general."

মার্কসবাদ যেকোনো সামাজিক সম্পর্ক কেউ কোনো না কোনোভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের আদলে ব্যাখ্যা করতে চায়। তাই সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণের সাথে আলাদা হিসেবে শিল্পের ক্ষেত্রে সামাজিক সম্পর্ক, রুচি, সাংস্কৃতিক জীবন- এগুলোর সমন্বয় করার প্রচেষ্টা মার্কসীয় ভাবনার মূল চেতনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয় না। বিষয়টি আরো স্পষ্ট করার জন্য একই গ্রন্থে মার্কসের এই উক্তিটি লক্ষ্য করা যেতে পারে, "In the social production in their life, men enter into definite relations that are indispensable and independent of their will, relations of production which correspond to a definite stage of development of their material productive forces. The sum total of these relations of production constitutes the economic structure of society, the real foundation, on which rises a legal and political superstructure and to which correspond definite forms of social consciousness." অর্থাৎ, "জীবনের সমাজগত উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মানুষ তাদের ইচ্ছার পরিধির বাইরে এমন কিছু নির্দিষ্ট এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের গন্ডিতে প্রবেশ করে; এমন কিছু উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে তারা নিপতিত হয় যা তাদের উৎপাদনের বস্তুগত উপায় বিকাশের বিশেষ স্তরের অনুরূপ। এই উৎপাদন সম্পর্কের সমগ্রতাই সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো- যেটা হলো আসল ভিত্তি; আর এই ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে আইনগত ও রাজনৈতিক উপরিকাঠামো; এবং এরই অবিকল অনুরূপ হয়ে থাকে সামাজিক চেতনা।"

আসলে মার্কসবাদে শিল্পকে, রাজনীতিকে যতই উপরিকাঠামো বা superstructure বলা হোক না কেন, এগুলো এর base বা মূল কাঠামো তথা অর্থনৈতিক অবস্থা দাঁড়ায় যে পরোক্ষভাবে হলেও নিয়ন্ত্রিত হয় বলে এই মতবাদ মনে করে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে শিল্পকে রাজনীতির বাইরে বিবেচনা করা অথবা শিল্পের জন্য শিল্প এমন মত পোষণ করার তীব্র বিরোধিতা করেন মার্কস ও এঙ্গেলস।

মার্কসবাদ শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ বিতর্কিত মতবাদ প্রদান করে। বিশ্বের অধিকাংশ শিল্পতাত্ত্বিক শিল্পীর স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অনেকেই শিল্পীর স্বাধীনতাকে স্বীকার করেছেন এবং শিল্প সৃষ্টিতে এই স্বাধীনতাকে কেউ কেউ আবশ্যক বলেও মনে করছেন। কিন্তু মার্কসবাদে শিল্পীর স্বাধীনতা স্বীকৃত নয়। এই মতবাদ অনুযায়ী পুঁজিবাদী এমনকি সাম্যবাদী উভয় প্রকার সমাজ ব্যবস্থায় শিল্পী পরাধীন থাকেন বলে মনে করা হয়। পুঁজিবাদী সমাজে শিল্পী পুঁজিপতিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন এবং সাম্যবাদী সমাজের গণ মানুষের স্বার্থে নিবেদিত হয়ে শিল্পী তার নিজের স্বাধীনতাকে হারিয়ে ফেলেন। মার্কসবাদ দেখায় যে পুঁজিবাদী সমাজে সবকিছুই পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পুঁজিবাদী মানসিকতায় সকলেই ব্যক্তিবাদী। মার্কস-এঙ্গেলস তাদের The Manifesto of Communist Party-তে পুঁজিবাদী সমাজের সব কিছুকে আত্মগততার বরফ জলে নিমজ্জিত (...in the icy water of egoistical calculation) বলে মন্তব্য করেছেন। এ সমাজে সকলেই আত্মস্বার্থ অনুযায়ী হিসাব করে। তাই এই সমাজে কোন শিল্প সমাদৃত হয় মূলত ভোগবাদী মানসিকতা দ্বারা। আত্মস্বার্থের বিবেচনায় মানুষ শিল্প ও সৌন্দর্যকে দেখতে চেষ্টা করে। অন্যদিকে শিল্পের পৃষ্ঠপোষক দল তাদের নিজেদের উন্নতির জন্য, অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য শিল্পীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেন। পুঁজিবাদী তথা বুর্জোয়া সমাজের লেখকদের উদ্দেশ্য করে একবার লেনিন তার Party Organization and Party Literature গ্রন্থে বলেছিলেন, "বুর্জোয়া লেখকগন! আপনারা যে অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলেন, সেটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। যে সমাজ ব্যবস্থায় অর্থই শক্তি, যেখানে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ দুঃসহ দারিদ্র্যের কষ্টে নিমজ্জিত, অন্যদিকে মুষ্টিমেয় ধনী পরগাছার মত জীবন যাপন করে, সে সময় যে 'সত্য' ও 'স্বাধীনতা' বলে কিছু থাকে না। আপনারা কি আপনাদের বুর্জোয়া প্রশাসকদের নিকট স্বাধীন, যারা আপনাদের কাছ থেকে উপন্যাসের নামে পর্নোগ্রাফি আশা করেন?"

লেনিন এখানে যা বলতে চান তা হলো: শিল্পীও মানুষ, তিনিও শিল্প চর্চার মধ্য দিয়ে জীবিকার সংগ্রহ করে থাকেন। তাই তাদের অর্থ ও সুবিধা দিয়ে শিল্প নিয়ে ব্যবসা করে এমন বুর্জোয়ারা বা পুঁজিপতিগণ তাদের অনাকাঙ্খিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারে। একই গ্রন্থে বুর্জোয়া সমাজের লেখকদের তথাকথিত স্বাধীনতা সম্পর্কে লেলিন বলেন, "[it] is simply masket (or hypocritically masket) dependence on the money-bag, on corruption, on prostitution."

পুঁজিবাদী সমাজে শিল্পীর স্বাধীনতা নেই বলে মার্কসবাদ নিশ্চিত করে বলে থাকলেও প্রশ্ন ওঠে সাম্যবাদী সমাজ নিয়ে। সাম্যবাদী সমাজে কি শিল্পী স্বাধীন? আমরা জানি মার্কসীয় সাম্যবাদ সর্বহারার একনায়কতন্ত্র বা dictatorship of the proletariat এর ধারণায় বিশ্বাসী। এই একনায়কতন্ত্র একটি নিরঙ্কুশ সর্বাত্মকবাদ। এখানে সর্বহারার শাসক ছাড়া কেউই স্বাধীন নয়। তাই কবি, সাহিত্যিক, ভাস্কর, চিত্রকর, নাট্যকার কোন ধরনের শিল্পী স্বাধীন নয় সাম্যবাদী সমাজ বা রাষ্ট্রে। এমনকি এই ব্যবস্থায় সাংবাদিকতা তথা মিডিয়ারও স্বাধীনতা থাকে না। পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি হয়তো অর্থের মোহে শিল্পীকে প্রভাবিত করতে পারেন কিন্তু সাধারণত কোনো প্রকাশক বা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী কোন শিল্পীকে কোন কিছু করতে বাধ্য করেন না বা করতে পারে না। কিন্তু সাম্যবাদী রাষ্ট্রের শিল্পীকে বাধ্য করার ব্যবস্থা রয়েছে। এই রাষ্ট্রে শিল্পীকে সর্বহারা শ্রেণীর পক্ষে কাজ করার বা শিল্প কর্ম করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

তবে সাম্যবাদীরা যে শিল্পকে একান্তভাবে তাদের রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করে থাকেন তা নয়। যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সাম্যবাদীদের হাতে থাকে তাহলে তারা তাদের মতাদর্শের বিরোধী শিল্পকে তারা প্রতিহত করে থাকেন। এছাড়া সাধারণভাবে শিল্পক্ষেত্রে মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গি কেবল এই নয় যে, একান্তভাবে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে পারলেই তা যথার্থ শিল্প হবে। মার্কসবাদীদের মতে যে শিল্পের মধ্যে শৈল্পিক গুণের অভাব, তা যদি রাজনৈতিক দিক থেকে প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা পুষ্ট হয় তবুও তাকে যথার্থ শিল্প বলা চলে না। এখন প্রশ্ন হলো শিল্পগুণ বলতে মার্কসবাদে কী বোঝানো হয়েছে? শিল্পমূল্য বলতে কখনো কখনো ভালোলাগার উপাদান, সৌন্দর্য সৃজনের যোগ্যতা, এমনকি কোথাও কোথাও সৌন্দর্যের নিয়মানুসারে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

মার্কসবাদ শিল্পকে বস্তুনিষ্ঠ হবার কথা বলে। মার্কসবাদে সেই শিল্প উন্নত বাস্তবভিত্তিক। কল্পনা নির্ভর অবাস্তব শিল্পকে মার্কসবাদ যথার্থ শিল্পের মর্যাদা দিতে আগ্রহী নয়, তবে কেবলমাত্র বাস্তবের বর্ণনা তুলে ধরলে শিল্প শিল্পের যথার্থ ভূমিকা পালন করা হয়ে যায় না বলে মার্কসবাদ মনে করে। বাস্তবতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ বাস্তবতাকে তুলে ধরাও শিল্পীর কাজ হবে বলে মার্কসবাদে মনে করা হয়। সাহিত্য তথা শিল্পের যথার্থ বাস্তবতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এঙ্গেলস তার ১৮৮০ সালে লেখা এম. হার্কনেসকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলেছিলেন, এটা হবে, "... reproduction of typical characters under the circumstances"।

মার্কসবাদ অনুসারে শিল্পকে জ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। আমরা জানি শিল্প অনেকটাই কল্পনা নির্ভর হয়ে থাকে। তবে মার্কসবাদও কল্পনা কে অগ্রাহ্য করে না। একাদশ পার্টি কংগ্রেসে লেলিন বলেছিলেন, "কল্পনা কেবল শিল্প ক্ষেত্রে নয়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও জরুরি; তবে এই কল্পনা অবাস্তব বা আজগুবি কল্পনা নয়। কল্পনা হবে জ্ঞানভিত্তিক। এ কল্পনার সাথে জ্ঞানের কোন পার্থক্য থাকবে না।" মার্কসবাদ রোমান্টিকতারও বিরোধী নয়, তবে এক্ষেত্রে সেই রোমান্টিকতাকেই শিল্পে কাম্য বলে মনে করা হয় যা হবে বাস্তবভিত্তিক। এ বিশেষ ধরনের রোমান্টিকতাকে মার্কসবাদে "বিপ্লবী রোমান্টিকতা" বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মার্কসবাদী শিল্প তত্ত্বের যে বর্ণনা এবং আলোচনা উপরে উল্লেখ করা হলো তার থেকে দুটো দিক স্পষ্ট। একটি হলো এক ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক বর্ণনা উপস্থাপনের প্রচেষ্টা, এবং অন্যটি হলো এক ধরনের আদর্শমূলক মন্তব্য। উল্লিখিত বিজ্ঞানভিত্তিক বর্ণনায় মার্কসবাদ শিল্প কেমন, শিল্পের বাস্তবতা কী, কিভাবে শিল্প সৃষ্টি হয়, ও শিল্পের বিবর্তন ঘটে তা তুলে ধরার চেষ্টা করে। অন্যদিকে আদর্শনিষ্ঠ পর্যালোচনায় শিল্প কেমন হওয়া উচিত, শিল্পের মূল্য কিসের উপর নির্ভর করে, আদর্শ শিল্পের প্রকৃতি বা ধরন কেমন হবে ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে মার্কসবাদে। তবে অনেকেই মনে করেন, এই উভয় চেষ্টাই অনেক ক্ষেত্রেই ভ্রান্তিপূর্ণ। কোনো চূড়ান্ত সত্য বা যথার্থ আদর্শ নয়। তাদের মতে, মার্কসবাদ মূলত রাজনৈতিক অভিপ্রায় থেকে শিল্পকে বিচার করতে গিয়ে এরকম তাত্ত্বিক জটিলতায় নিপতিত হয়েছে। তাদের মতে, যেভাবেই বলা হোক না কেন মার্কসবাদী শিল্পতত্ত্ব বা নন্দনতত্ত্ব মূলত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-নিয়ন্ত্রিত মতবাদ। স্টুয়ার্ট সিম তার Marxism and aesthetics গ্রন্থে লিখেছেন, "Marxism is the prime example of a politically motivated aesthetic theory and it is a theory which accordingly lays great stress on the didactic role of the arts. Of all aesthetic theories Marxism is the one most explicitly tied to a political programme. Value is probably the area of greatest contention in Marxist aesthetics, but despite the arguments of competing schools on the issue there is general agreement that, at some point, the arts must be considered to be subsidiary to politics."

শেয়ার করুন


Avatar: DP

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

লেখাটা পড়ার পর এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর স্বপ্ন দেখছি একজন সৌমদর্শন শিক্ষক ক্লাসে দাঁড়িয়ে 'মার্ক্সীয় চিন্তার আলোকে শীল্প' বোঝাচ্ছেন, আর সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনছে। শিক্ষকের বর্ননায় সবাই মোহিত। এমন সময় পিছনের বেঞ্চ থেকে এক বেয়ারা ছাত্র প্রশ্ন করে বসল- "স্যার পুঁজিবাদী সমাজে শীল্পী ততক্ষণই কারো দ্বারা প্রভাবীত হতে পারে যতক্ষণ সে নিজের সৃষ্টিকে অন্যের সাহায্যে বাজারজাত করতে চায়। কিন্তু ধরুন যদি কেউ নিজেই প্রদর্শীত করে? বা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে? তখন? ইনস্টাগ্রাম, ফ্লিকার, ইউটিউব এগুলোর মাধ্যমে তো বহু শীল্পী উঠে এসেছেন? সেখানে মার্ক্সবাদ তো শীল্পীকে কার্যত ক্রিতদাসে পরিনত করছে!"
শিক্ষক বললেন "ইন্টারনেট সম্পর্কে মার্ক্স কিছু বলেন নাই। আর বুর্জোয়া ইন্টারনেটে সবাই বুর্জোয়াদের অধীন। যদি প্রলেতারিয়েতের ইন্টারনেট হয় তখন তারা প্রলেতারিয়েতের অধীন হবে। আর মার্ক্সীয় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে থাকা মানে সর্বোত্তম ব্যবস্থা। যারা মার্ক্স বিরোধী তারাই একে স্বাধীনতা হারানো বলে থাকে। অতএব তুমি তাদের কথায় কান দিওনা।"
এই উত্তরে সকলে আরও মুগ্ধ হয়ে শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু বেয়ারা ছাত্রটি "ধূর বা*! এ তো সেই আমিই সবজান্তা মার্কা মাল!" বলে অশ্লীল আচরন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেল। শিক্ষক বললেন "দেখো, বুর্জোয়া অপসংস্কৃতির প্রভাব! শিক্ষকে বেরিয়ে যাও বলার সময়টুকুও দিল না!"
Avatar: সিকি

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

সংক্ষেপে বলিতে গেলে, হিং টিং ছট।
Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

ডিপি যে প্যাঁক দিতে পারলেন এবং সিকি যে প্যাঁক দিলেন না প্যাঁক কে প্যাঁক দিলেন বোঝা গেল না, তার কারণ টা হল, সুমিত উদাহরণ এবং সোর্স জিনিসটা খুব কম ব্যবহার করেছেন। সংস্কৃতি বিশেষতঃ ম্যাস কালচার নিয়ে প্রথম দিকে আর্ন্স্ট ফিশার (necessity of art, শুরু হচ্ছে জাঁ ককতোর একটা উক্তি দিয়ে, Poetry is indispensible if I only knew what for), বা গিওর্গে লুকাচ এর উপন্যাস এর থিয়োরির উপরে কাজ যেগুলো, সেগুলো কিন্তু প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জড হচ্ছে, ফ্র্যাংকফুর্ট স্কুলের কাজ দিয়ে (আদোর্নো,হরকহাইমার,মারকিউজ) , জার্মানি তে এবং যুদ্ধের আগে পালিয়ে আসার পরে আমেরিকায়। বা প্রথাগা শিক্ষার বাইরে থাকা ক্রিস্টোফার কডওয়েল এর কাজ দিয়ে, যিনি স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারে অংশগ্রহণ করছেন এবং মারা যাচ্ছেন, এঁরা প্রত্যেকেই গ্রামশি সহ নিজেদের মার্ক্সবাদী আলোচনার পরিসর কে অস্বীকার করছেন না, কিন্তু ক্লিয়ারলি মার্ক্স এর কনসার্ন গুলো আলাদা ছিল , রাশিয়ার সংস্কৃতি তত্ত্বালোচনার ইতিহাসে, গোর্কি, আইজেন্স্টাইন, বাখতিন কো একসিস্ট করছেন, অফ অল পিপল স্তালিন মানডেলস্টাম এর হত্যার পরেও, পাস্তেরনাক, বুলগাকভ এবং শস্তাকোভিচ কে কেন বাঁচিয়ে রাখছেন সেটাও ক্লিয়ার হচ্ছে না, তারা নিজেদের মত কনট্রিবিউট করছেন। যে বুলগাকভ কে মাস্টার এবং মার্গারিটার জন্য, স্তালিন এবং রাষ্ট্র বিরোধিতার দিক চিহ্ন বলে ধরা হচ্ছে, তিনি ই কান্ট্রি ডকটর ডায়রি ইত্যাদি লিখছেন, বা যুদ্ধের সময়ে অসম্ভব পার্টিজান এবং জাতীয়তাবাদী গল্প লিখছেন। (এর একটা আমি ভাষা বন্ধনের জন্য অনুবাদ করে দিয়েছিলাম, অনেক দিন আগে, নাবারুণ বেঁচে থাকতে, সেটা পড়ার দরকার নেই, তবে ডরিস লেসিং এর বুলগাকভ এর সারভাইভাল ইনস্টি'ম্কট নিয়ে হিলারিয়াস প্রবন্ধ আছে, পড়ে দেখতে পারেন। রাশিয়ান আর্কাইভসা বেরোনোর পরে দেখা যাচ্ছে, ৫০স এ কি পরিমান আনডারগ্রাউন্ড গে কালচার ছিল মস্কো তে বা পিটারসবার্গে।

সুতরাং যেটা বুঝতে হবে, ওয়েস্টার্ন লিবেরাল লেফট পজিশন যেটা (লুইঅ আরাগঁঅ মিলান কুন্দেরা কে প্যারিসে পালিয়ে আসার পরে বই ছাপাতে সাহায্য করছেন), সেটা যদি নাও ধরা হয় , তাহলেও আর্বান সেন্টার গুলো তে , এমন কি নিঃশ্বাস বন্ধ করা অথরিটারিয়ান রুলের মধ্যেও, ব্যক্তিগত এবং গ্রুপ ভিত্তিক বিকল্প চর্চা থাকছে, এবং ডিসিডেন্ট রা, সকলেই প্রখর পার্টি বিরোধি হলেও, শিল্পীর স্বাধিনতার নামে ঠিক ট্র্যাশ লিখছেন না। এবং শিলা ফিটজপ্যাট্রিক দের কাজ থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৯০৫ অনওয়ার্ড মস্কো তে বিচিত্র কিশ গোছের লিটারেচার এর একটা বাজার থাকছে, যেটা মহৎ সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি চলছে। সুতরাংঅ সম্স্কৃতির দর্শন শুধুই একটা পরিচিত শিবির দ্বন্দ্বের বিষয় না, যদিও কোন মুর্খই দাবী করবেন না, প্রতি মুহুর্তে মরার ভয় নিয়ে ভিষণ ফুর ফুরে বসন্তের বিকেলের মৃদুমন্দের মত, সংস্কৃতি আলোচনা হচ্ছে। সাংহাই য়ে যেমন কালচারাল রিভোলিউশনের আমলেও, আনডারগ্রাউন্ড কালচার বাড়ছে, এবং সেটা কলোনিয়াল আর্বান কালচারের কন্টিনিউয়েশন হিসেবেই হচ্ছে, সেরকম, ভাবেই ইউরোপে , রাশিয়ায় , আমেরিকায় (ম্যাকার্থি আমলে), দক্ষিন আমেরিকায় (ডিকটেটরশিপ গুলোর সময়ে), দক্ষিন আফ্রিকায় (অ্যাপারথাইডের সময়ে) হচ্ছে। আরবানিটি র নেচার ই হল রেজিস্টান্স এর ধারক হিসেবে কাজ করা, এটা ইন্দোনেশিয়া ইজিপ্ট, টার্কি তে প্রচুর হচ্ছে। সম্প্রতি অফ অল প্লেসেস, তাইঅওয়ানের এক লেসবিয়ান ঔপন্যাসিকের প্রেমের গল্প পরহলাম, ন্যাশনালিস্ট পার্টির দমবন্ধ করা দেশপ্রেমের মধ্যে লেসবিয়ান প্রেম। এন ওয়াই আর বি ক্লাসিস্ক্স বের করেছে।
তত্ত্বালোচনা কে প্যাঁক রেজিস্টান্ট করতে গেলে রিয়াল উদা লাগবেঃ-))) সোশালিস্ট রিয়েলিজম বনাম আর্ট ফর আর্ট্স সেক শুধু মাত্র এই দ্বন্দ্বে বিংশ শতাম্বির মধ্যভাগের সংস্কৃতি চর্চা সীমাবদ্ধ না।
Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

এবং আর দুটো জিনিশ খেয়াল করতে হবে। ভিক্টর সার্জের মেমোয়ার যদি পড়েন, দেখবেন ১৯১৭ র আগে কার বলশেভিক পার্টির মধ্যেকার যে নানা আইডিয়ার প্রতিযোগিতামূলক সহাবস্থানের একটা ইতিহাস আছে, এবং সেটা ঊনাবিংশ শতকের সোশালিস্ট আনার্কিস্ট নিহিলিস্ট ট্র্যাডিশন গুলোর কন্টিনিউয়েশন। আরেকটা কথা বুঝতে হবে, সোলঝেনেত্সিন, আখতামোভা, মান্ডেলস্টাম, গ্রোস ম্যান, ইলিয়া এরেনবুর্গ, আর কাদারে, কুন্দেরা, হ্রাবাল দের অ্যান্টি অথরিটারিয়ানিজম টার ফোকাস আলাদা আলাদা। সকলের কল্পনাই বুর্জোয়া গণতন্ত্র ই শ্রেষ্ঠ সমাধান, ইত্যাদি তে পৌচ্ছে না, কীউ কেউ সমাধান এ কনসেন্ট্রেট করছেন ই না। কেউ কেউ নিজের সময়ে বাঁধা পড়ে যাচ্ছেন। হ্রাবাল যেমন অসাধারণ হিউমরিস্ট হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব ইউরোপের ট্র্যাডিশনাল অর্থডক্সি অনুযায়ী অ্যান্তি সেমিটিজম থেকে বেরোতে পারছেন না। তো এই সব নানা দিক আছে। সবটাই ঠিক ১৯৪৫ এর জর্মানি ভাগ থেকে, বার্লিন ওয়াল পতন অব্দি দেওয়ালের এপার ওপারের শিবির বিভাজন না। ফোকাস আলাদা আলাদা, সোলঝেনেত্সিন সবাই কে এম্ব্যারাস করে পুতিন এর মধ্যে মহান রাশিয়া কে দেখতে পাচ্ছেন। পোলিটিকাল তাত্বিক আলোচনায় কালচরাল হিস্টরি না থাকলে বিপদ। মনে রাখবেন, সাংঘাতিক এবং জাস্টিফায়েড ভাবে, সোভিয়েত বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমের ঐতিহাসিক রা ১৯৭৪ থেকেই (১৯৮৯ অব্দি অপেক্ষা না করে), সোভিয়েট স্টাডিজ বিষয়টার নাম বদলে দিয়ে পররাষ্ট্রনীতির নিগড় থেকে বের করে, সোভিয়েত হিস্টরি বলে একটা বিষয় তৈরী করছেন, তাঁদের কাছে এই সত্য প্রতিভাত হচ্ছে, যে ডিকটেটরশিপের মধ্যে সোসাইটি বলে একটা বস্তু থেকে যাচ্ছে, গোটাটাই একসিকিউশন অর্ডারের তালিকা না। এ বিষয়ে শিলা ফিট্জপ্যাট্রিকের লেখা পড়ে দেখতে পারেন। সোভিয়ে প্রসঙ্গে আলোচনা য় আর্কাইভস খোলার পরের আলোচনা গবেষণার ছাপ এখনো না থাকলে মুশকিল।
Avatar: T

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

ট, ডেথ অফ স্তালিন দেখলি?
Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

মস্কোতে, ৫০স এর আন্ডারগ্রাউন্ড আরবান কালচার নিয়ে নানা কাজ হয়েছে, উপন্যাস ফর্মে যদি পড়তে চান ওলগা গ্রুশিন এর ড্রিমস অফ মিস্টার সুখানভ পড়তে পারেন, একেবারে অল্পবয়সী ঔপন্যাসিক।
যেটা বোঝা দরকার অ্যান্টি অথরিটেরিয়ান কালচারের সবটাই ডিসিডেন্ট স্পেক্টাকল হয় নি। আসল প্রতিরোধ আয়রন ওয়ালের ভেতোরে ও ছিল। আর শৈলী বা আঙ্গিক যদি দেখা হয় তাহলে তো বৈচিত্রের পরিধি বাড়বে বই কমবে না
Avatar: :(

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

বোধিবাবু এক কিলোমিটর দূরের হামিং বার্ডের ছানা দেখতে পান। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হাতির দল, হাতির বাচ্চা আর হাতির লাদির পাহাড় দেখতে পান না এইটা ক্ষুব দুক্ষজনক!

কথাটা হচ্ছে মার্ক্স সাহেব, এংগেলস সাহেব ও বলশেভিক ফ্যাকশন কান্ডারি লেনিন, ফার্স্ট পলিটবুরো, ট্টটস্কি, স্টালিন, ডিস্টালিনাইজেশনের পরে ক্রুশ্চেভ,ব্রেজনেভ, আন্দ্রোপভ, চেরনেনকো এবং পাশাপাশি মাও ও মাওপরবর্তীরা (আফ্টার দ্য থ, আফ্টার হাংগেরি) এরা কী শিল্প কাকে বলে? শৈল্পিক প্রেষণা কীভাবে আসে? শিল্পীর 'কর্তব্য' (?) কী? রাস্ট্রের শিল্পীর কর্মকান্ডের হস্তক্ষেপ করার রাইট আছে কিনা থাকলে কতদূর? সর্বপরি 'সোশ্যালিস্ট রিয়েলিজম নামের জিনিসটির চাপিয়ে দেবার নায্যতা ও ওর শিল্পমূল্য কী হতে

অর্থাৎ ডায়েলেক্টিক্সের মশাল আবিস্কারক ও বাহকরা থিওরাইজেশন ও প্র্যাক্টিস কেমন করেছেন?
Avatar: π

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

দেবাশিস হালদারের পোস্ট।

ট্রু কলারে যাঁর নাম দেখাচ্চে, দেখে সত্যিই হুব্বা হয়ে গেলাম!


'অনশনকারী অসুস্থ ডাক্তারি পড়ুয়া আপন সামন্তের বাড়িতে পুলিশ গেল। থ্রেট মারল যে আপনার ছেলে অনশন করছে জানেন? কি হতে পারে জানেন?

কাকু কাকিমা বললেন জানি, আমার ছেলে ন্যায্য কারণে লড়ছে। প্রয়োজনে আমরাও অনশন করব। তাতে পুলিশ একটা নাম্বার দিয়ে বলে, এই নাম্বারে ফোন করে কথা বলুন, সব জানতে পারবেন।

তো সেই নাম্বার টা আমরা ট্রু কলার এ দেখলাম এবং হোলি শিট! নাম টা নিজেরাই দেখুন। সক্কলে দেখুন। নোংরামি দেখুন।

পারলে সব্বাই যাচাই করুন। কতটা নোংরামি চলছে সেটা দেখুন।

#MCKisFighting
#ShameOnAuthority
Avatar: π

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

সরি। ভুল জায়গায় পোস্ট।
Avatar: h :-((

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

গোমড়ামুখো বাবু যেটা ডেলিবারেটলি এড়িয়ে যাচ্ছেন, সোভিয়েত স্টেটের ক্রিমিনালিটি, বিষেশতঃ শিল্প চর্চায় সোশালিস্ট রিয়ালিজম এর চোখ রাঙানি, অস্বীকর করার কোন জায়্গাই আমার অন্তত নেই। মনেই করি না, প্রগতি প্রকাশনি র বুক লিস্ট বা ডিসিডেন্ট লিটারেচার বুকলিস্ট (স্টেট ক্রাইম এর কথা বলা হচ্ছে না) কোনোটাই রাশিয়ান ইনটেলেকচুয়াল ট্র্যাডিশনের পূর্নাংগ পরিচয় পাওয়া সম্ভব। আমি শুধু এটাই বলছি , সোভিয়েত ইউনিয়নে র সমস্ত সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চাকেই শিবির বিভাজন দিয়ে দেখা মুশকিল। একটু এগিয়ে বলছি, রাশিয়ান রোমান্টিক ন্যাশনালিজম এর ট্র্যাডিশন কে ব অর্লি অ্যান্টি জারিস্ট পজিশন কে , স্তালিন রা যত সহজে কো অপ্ট করছেন, (পাস্তেরনাক কে প্রায় গৃহবন্দী রাখলেও, মেরে ফেলা হচ্ছে না), নতুন আর্বান ইন্টালেকচুয়াল দের কে স্টেট বেশি ভয় পাচ্ছে, ইন ফ্যাক্ট অসিপ মান্ডেলস্টাম হত্যার পরে স্তালিন নাকি বার বার খোঁজ নিতেন এর প্রভাব আর্বান ইন্টেলেকচুয়াল দের মধ্যে কিরকম। বুলগাকভ যে কারণে বেঁচে থাকছেন, মান্ডেলস্টাম হয়তো বেশি থ্রেট হিসেবে সেই কারণেই মারা যাচ্ছেন। আর শিল্পের আঙ্গিক এর প্রয়োজন, তার রাজনৈতিক ব্যবহার, ও পোলিটিকাল এক্সিজেন্সি অনুযায়ী বদলাচ্ছে। যেমন এশিয়ান সোভিয়েত রিপাবলিকে নানা ধরণের অনুবাদ ট্রান্সলেশন হচ্ছে, তাতে স্থানীয় জাতীয়তাবাদ কে প্রশ্রয় না দেওয়া হলেও, লুকোনো মুশকিল হচ্ছে। এবং এটা র সঙ্গে মার্কস এর আর্ট সম্পর্কে পজিশন এর সম্পর্ক খুব ই দুর্বল। এটা ক্রিমিনাল স্টেট এর ব্যাপার। মার্ক্স বা এঙ্গেল্স হিউম্যান ইনটেলেকচুয়াল এন্ডিভর কে দার্শনিক ইনকোয়ারির অ্যাঙ্গল থেকে দেখে কিছুটা থিয়োরাইজ করছেন, কিন্তু কালচার অ্যাজ অ্যান ইনডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন, এই জিনিসের ধারণা অনেক পরে আসছে, তাঁদের এক্সপেরিয়েন্সে এ জিনিস ছিল ই না।
আর ফাইনালি, রিয়েলিজম এর নিগড় থেকে বেরোতে অন্তত মহৎ সাহিত্য কে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, শুধু সোশালিজম কে তাড়িয়ে বা নিন্দে করে সুবিধা হয় নি।

পুরোনো বিতর্কের সমস্যা হল, উত্তর ও তো জানা শুধু না, লোকের মেরিট অফ আর্গুমেন্ট না দেখে, লোকের নিক দেখে একটা কিছু বলে দিয়ে লোকে ফুর্তি পান। সুমিত রায় এর প্রবন্ধের যেটা সম্ভাব্য দুর্বলতা সেটাই উল্লেখ করেছিলাম, উদাহরণ এবং সোর্স ব্যবহার করেন নি বেশি। দর্শন্চর্চা সম্পর্কে , মানব সমাজে আর্ট ক করে এলো গোছের থিয়্রাইজেশন থেকে, ক্ষমতার দম্ভের জাস্টিফিকেশন তৈরী করেছিল সোভিয়েত স্টেট, এত কাজের পরেও, এক ই কাজ যদি সমালোচক ওকরেন কিসু বলার থাকে না। তাই আমার পোস্টে সেটাই সাপ্লাই করা হয়েছে। সৃষ্টি প্রসঙ্গের থিয়োরাইজেশন কালচারাল হিস্টরির উদাহরণ ছাড়া সম্ভব না। ক্রিস্টোফার কডওয়েল যাদের মনে আছে, তাতে সুকান্ত বা কাসাব্লাংকা সুলভ মরাল হাই পজিশন কিছু কম নেই, লুকাচ এর লেখা পড়লে মনে হবে সেটা ঐতিহাসিক উপন্যাস সম্পর্কে আপারাতচিক দের মিটিং এর রিজোলিউশন। কিন্তু এঁরা স্টেট ক্রিমিনালিটির অংশ ছিলেন না বলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট থিংকার হিসেবে সম্মান পেয়েছেন।

এই জন্যেই টই তে আর তর্ক করতে ভালো লাগে না, মেরিট অফ দ্য আর্গুমেন্ট দেখার অভ্যেস, আর্গুমেন্ট দেওয়ার অভ্যেস সব ই মৃতপ্রায়, নিক দেখে ব্যান্টার চলছে। আস্তে আস্তে ডিকটেটরশিপ অফ দ্য গোমড়ামুখো হবার চান্স, সকলের ই এই নিক গ্রহণ করা উচিত।
Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

*কালচার অ্যাজ ইনডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন, অথবা ইউজ অফ ক্লাসিসিটি অর কন্টেম্পোরারিটি ইন লিটেরেচার অ্যাজ আ ক্লেইম ফর পোলিটিকাল লেজিটেমিসি এটা বিংশ শতাব্দীর স্টেট প্রোজেক্ট।
Avatar: :(

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

সরি ফর দ্য প্রিভিয়াস আউটবার্স্ট

ইনডিভিজুয়ালের পার্সোন্যাল স্পেস আছে এবং সেটা স্যাক্রেড, এবং আর্টিস্টিক জেনেসিসে এই পার্সোন্যাল স্পেসএর একটা বিরাট অবদান আছে।

এবং এই ক্রিয়েশন প্রসেসকে ডাইলেক্টিক্স, ইকনোমিক্স, বা সাইকোল্যাজিক্যাল কোনো অ। এনকমপ্যাসিং থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অণুচিত । সে যতোই সাইন্টেফিং তকমা লাগাই না কেন। এবং এইজন্যই আর্ট সম্বন্ধে 'হোয়াট ইট ইজ' এই ব্যাখ্যা ও 'হোয়াট ইট শুড বি' এই প্রেস্ক্রিপশন, প্রথম ভুল ও দ্বিতীয়টা আউটরাইট ক্রিমিনালিটি মনে হয়

এবং এটা আমার মনে হয় লেনিন যদি লুনাচার্সকি প্রোলেকাল্টদের এরকম হতচ্ছেদ্দা না করতেন, তাহলে শুরুতে বাজে উদাহরণগুলো কম হতো। যেগুলো স্টালিন ঢাল হিসেবে দেখিয়েছেন ।




Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

মোটামুটি একমত। তবে পোলিটিকাল অপারেটিভ রা এবং সাহিত্যচর্চার কাসাব্লাংকা গণ ( একটু রুড হল, বিরাট মহত আর্টিস্ট দের সম্পর্কে, কিন্তু সময়ে সময়ে এরকম ই মনে হয়েছে) নানা সমস্যা নিজেরাও করেছেন। শুধু এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়েই করেছেন বা বলা যেতে পারে ক্লস্ট্রোফোবিক হিউম্যান কন্ডিশন কে বোঝাতে গিয়ে নানা সমস্যা করেছেন। আমি যেহেতু ডেলিবারেটলি উদাহরণের পক্ষে, কয়েকটা উদাহরণ দি, উইটোল্ড গোম্ব্রো-উইচ, উনি মনেই করতেন না, অ্যাসেকসুয়াল কোন হিউম্যান অ্যাকশন সম্ভব, এটা আমার কাছে অ্যাবসার্ড। ডরিস লেসিং উপন্যাস লিখেছেন, পুরুষ চরিত্র ই নেই, সেই পৃথিবী তে, এই ফেমিনিজম এর কোন অর্থ হয় না। অ্যাআপারথাইডের আমলে কোয়েটজি উপন্যাস লিখছেন, শ্বেতাংগ অধ্যাপক এর একাকিত্ত্ব নিয়ে, যেটা ইতিহাসের সম্পূর্ণ একটা আলাদা সময় কে বেস করেও লেখা যেত, বহুমিল হ্রাবাল, কে ইস্ট ইউরোপিয়ান অথরিটির ক্রিটিক হিসেবে দেখার সময়ে তাঁর অ্যান্টি সেমিটিজম এর জন্য এক লাইন ও থাকবে না, এই আলোচনা পদ্ধতি আসলে পররাষ্ট্র নীতির দ্বারা ইনফর্ম্ড।
আরালোচক রাও সমস্যা করেন, পুতুল নাচের ইতিকথা ফ্রয়েডিয়, আর উত্তরকালের মানিক মার্ক্সবাদী এবং শুধুই মার্ক্সবাদী এসব বাজে আলোচনা পদ্ধতির কোন মানেই হয় না।
হ্যাঁ গ্রেট আর্টিস্ট দের নিয়ে আমরা কোথাকার কে, দুটো কথা বললাম তাতে তাঁদের কিসু এসে যায় না, কোন মার্ক্স বাদী তারাশংকরের মত গ্রাম সমাজএর অথেন্টিসিটি করতে পারেন নি, তাই বলে তাঁরা খারাপ লেখক ছিলেন না, শুধু মতাদর্শএর জন্য পারেন নি, তাও নয়, এলেম সকলের সমান হয় না। এই যে শীর্ষেন্দু এত অপছন্দ করি, এক লাইন লিখতে পারবো, যেটা লক্ষ মানুষ পড়বে? আমরা পাকাচো* তাই নানা কথা বলি।

আরেকটা কথা, স্তালিন এর ডিকটেটরশিপ এর মতাদর্শগত ব্যাখ্যা হয় কিনা আমার সে জায়্গায় সন্দেহ আছে। শস্তাকোভিচ, যিনি সিম্ফনিক মুভমেন্ট এর ধারণা বদলে দিচ্ছেন, এবং ঊনবিংশ শতকের ক্লাসিকাল মিউজিক কে বিংশ শতকের মিউজিক করছেন, তাকে ১৯৩৭ এর পারজের আমলে কাজ করতে দেওয়া টা আর্টিস্টিক অ্যাপ্রিসিয়েশন, না জাস্ট তখনকার আর্বান ইনটেলেকচুয়াল দের একটা অংশ কে হাতে রাখার চেষ্টা কে জানে, কিন্তু শস্তাকোভিচ এর সঙ্গে অন্তত সোশালিস্ট রিয়ালিজম এর সম্পর্ক ক্ষীণ। বিধাতার মত আচরণ করেছেন, একটা গোটা প্রজন্মকে কে ভোর রাতে কড়া নাড়ার ভয়ে নিমজ্জিত করেছেন। ক্ষমা করাই মুশকিল, অথচ, গোর্কি কে ফেরত আনছেন, বুলগাকভ বাঁচিয়ে রাখছেন, তাঁর আমলেই এশিয়ান সোভিয়েতে নানা ট্রান্সলেশন হচ্ছে, যেটা শুধু মুখে ব্যালাডিক গান ছিল। সত্যি ই বিধাতা, কারন পোলিশ জেনেরাল দের অমান্য করে জুকভ কে মার্শাল করছেন, জিনি অর্ধশিক্ষিত বললে কম বলা হয়, আনুগত্য তৈরী তে মন দিচ্ছেন, কিন্তু যুদ্ধ টা জিতে যাচ্ছেন, এবং নিজেকে নিয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন। সেই পার্ট টায় চার্চিল এর সঙ্গে মিল পাচ্ছি, ক্যাপিটালিস্ট আমেরিকা রিপাবলিকান রুজভেল্টের নেতৃত্ত্বে প্রোগ্রেসিভ কাজ করছেন, কিন্তু রুজভেল্ট ডেকে ডেকে শস্তাকোভিচ শুনছেন, এরকম কোন এভিডেন্স নেই। ইত্যাদি। ইনি একজন সর্ব অর্থে ডিক্টেটর শুধু নন, সর্ব অর্থে স্বইরাচারি বাঘা ইনটেলেকচুয়াল দের থিয়োরাইজেশনের মুখে তাঁকে টেঁকার জন্য নানা কাজ করতে হয়েছে। অবশ্যই খুন সহ।
Avatar: h

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

"হোয়ট ইট শুড বি" র তর্ক , উইদাউট দ্য ব্যাকিং অফ স্টেট রিপ্রেশন অনেক মূল্য পেয়েছে, যেটা সব সময়ে ডিজারভিং ছিল কিনা জানি না। কডওয়েল, লুকাচ এর কথা বলেছি। জাঁ ককতো কে কি কেউ স্তালিনিস্ট হিসেবে মনে রেখেছে? কামু কে কি কেউ রেসিস্ট সাম্রাজ্যাবাদের কোলাবরেটর হিসবে মনে রেখেছে, নুট হামসুন কে কি কেউ ফ্যাসিস্ট সিম্প্যাথাইজার হিসেবে মনে রেখেছে? তাঁদের সময়কার আর্টিস্টিক বিতর্কে অমূল্য কন্ট্রিবিউটর হিসেবে মনে রেখেছে। আমার মনে হয় এরা সকলেই ট্র্যাপ্ড ইন টাইম, কমিউস্ট দের বেলায় যেটা হয়েছিল মনে হয়, মোনার্কি বা ক্রিশ্চিয়ান চার্চের বিরাট ক্ষমতা থেকে ক্যাপিটালিজম এর উত্থানের সময়ে ক্ষমতার ভারসাম্যের এমন সব পরিবর্তন দেখছেন, যে নিজেরা সোশাল চেঞ্জ এর বড় প্রোগ্রাম নিয়ে ফেলছেন। জীবনের সব ধরণের এক্সপ্রেশনে নাক গলাতে চাইছেন। ভাবছেন পরের চেঞ্জ আমাদের জীবদ্দশাতে ই আমরা করেই ফেলব। এই করতে গিয়ে ছড়াচ্ছেন। অমাদের লিবেরাল পজিশন অনেকটাই স্টেটাস কুয়ো তে আমরা সুবিধাভোগী বলে, বার্লিন ওয়াল পতন পরবর্তী স্থিতিশীলতার পক্ষে, কিন্তু আমরা কিসুই জানি না, কোথায় কোন ধরণের সাহিত্য মানুষের কথা সত্যি করে বলতে পারবে। আমরা একটু লম্বা করে বোঝার চেষ্টা করতে পারি মাত্র।
Avatar: কল্লোল

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

হনু। টইটাকে পাঠযোগ্য করার জন্য, ধন্যবাদ। লেখ, আরো লেখ। ক্ষমতার উল্টোবাগে যে শিল্প ফোটে তা প্রায়শই অন্তসলিল। মজা হলো সোভিয়েতে ক্ষমতা মার্ক্সবাদী, তার উল্টোদিকেও অনেক সময় মার্ক্সবাদী। ফলে কোনটাকে
Avatar: কল্লোল

Re: মার্কসীয় চোখে শিল্প

মার্ক্সবাদী শিল্প বলবো টসি নিয়ে বুজভূমবুল অবস্থা।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন