Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর
    পর্ব ১-------( লালগড় সম্প্রতি ফের খবরের শিরোনামে। শবর সম্প্রদায়ের সাতজন মানুষ সেখানে মারা গেছেন। মৃত্যু অনাহারে না রোগে, অপুষ্টিতে না মদের নেশায়, সেসব নিয়ে চাপান-উতোর অব্যাহত। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে বোধ হয় বিতর্কের অবকাশ নেই, প্রান্তিকেরও প্রান্তিক এইসব ...
  • 'কিছু মানুষ কিছু বই'
    পূর্ণেন্দু পত্রীর বিপুল-বিচিত্র সৃষ্টির ভেতর থেকে গুটিকয়েক কবিতার বই পর্যন্তই আমার দৌড়। তাঁর একটা প্রবন্ধের বই পড়ে দারুণ লাগলো। নিজের ভালোলাগাটুকু জানান দিতেই এ লেখা। বইয়ের নাম 'কিছু মানুষ কিছু বই'।বেশ বই। সুখপাঠ্য গদ্যের টানে পড়া কেমন তরতরিয়ে এগিয়ে যায়। ...
  • গানের মাস্টার
    আমাকে অংক করাতেন মনীশবাবু। গল্পটা ওনার কাছে শোনা। সত্যিমিথ্যে জানিনা, তবে মনীশবাবু মনে হয়না মিছে কথা বলার মানুষ। ওনার বয়ানেই বলি।তখনও আমরা কলেজ স্ট্রীটে থাকি। নকশাল মুভমেন্ট শেষ। বাংলাদেশ যুদ্ধও শেষ হয়ে গেছে। শহর আবার আস্তে আস্তে স্বভাবিক হচ্ছে। লোকজন ...
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

'পত্থলগড়ি'

Jhuma Samadder

'পত্থলগড়ি'
ঝুমা সমাদ্দার।

রাঁচী থেকে তার পড়শী জেলা খুঁটির দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা গ্রামে মুণ্ডা সম্প্রদায়ের মানুষের বাস।

এ সব পাহাড়-জঙ্গুলে জায়গায় গ্রামের সাধারণ আদিবাসী মানুষ যেমন হয়ে থাকেন, এঁরাও তার ব্যতিক্রম নন, সহজ, সরল, নির্বিরোধী।

'পত্থলগড়ি' এখানকার বহু প্রাচীন প্রথা । কারও মৃত্যু কিম্বা গ্রামের সীমানা নির্দেশ অথবা বিশেষ কোনো ঘটনাকে মনে রাখার জন্য একটি বড় পাথরে বক্তব্য খোদাই করে বিশেষ বিশেষ স্থানে খাড়া করে রেখে দেওয়া হয়।

মাস কয়েক ধরে এই 'পত্থলগড়ি' ক্রমশঃ খবরের শিরোনামে উঠে আসছে। সেখানকার মানুষজন নিজেদের এলাকা নির্দেশক সীমানায় পাথর পুঁতে, এলাকা ঘিরে রেখে একরকম স্বায়ত্তশাসন জারী করে রেখেছেন।

এঁদের নিজস্ব অনুশাসন জারী করা এই অঞ্চলে বাইরের কারওর প্রবেশাধিকার নেই। এঁদের নিজস্ব টহলদার বাহিনী,নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে।

এঁদের বক্তব্য, এঁরা ভোট দেবেন না। কোনো সরকারী প্রকল্পে নাম লেখাবেন না। ছেলেমেয়েদের সরকারী স্কুলে পাঠাবেন না। সেখানকার শিশুদের পাঠশালায় পড়ানো হচ্ছে,
'অ'-য়ে 'অধিগ্রহণ'।
'আ'-য়ে 'আদিবাসী'।
'খ'-য়ে 'খনিজ'।
'ব'-য়ে 'বিদেশী'।

পুলিশ কিম্বা সরকারী আইন তাঁরা মানেন না। নিজেদের ব্যবস্থা এঁরা নিজেরাই করবেন। এমনকি, প্রয়োজন হলে, এঁরা নিজেদের কারেন্সিও এঁরা নিজেরাই বের করবেন।


সেখানকার উপজাতি মানুষদের মতে, তাঁরা অবিচারের শিকার। তাঁদের নিয়ে কেবল ভোটের রাজনীতিই হয়। আসল 'বিকাশ' সেখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

সেখানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই, রাস্তাঘাট নেই, বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও বিদ্যুৎ নেই। গ্রামের বাহান্ন জন ছেলেমেয়ে গ্র্যাজুয়েট, অথচ রিজার্ভেশন থাকা স্বত্ত্বেও চাকরি হয়েছে কেবলমাত্র দুই জনের।

এমনকি তাঁদের 'জল-জঙ্গল-জমিন' এবং খনিজের উপরেও তাঁদের কাগজেকলমে (সংবিধানের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অনুসূচী এবং PESA এ্যাক্ট) অধিকার থাকলেও বাস্তবে নেই।

'তুষের আগুন প্রথমে ধিকি ধিকি' জ্বললেও পরে দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে মাসকয়েক আগে।

সমস্যাটা শুরু হয়েছিল, গতবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে। একটি কোরিয়ান কোম্পানি সেখানকার একটি গ্রামে ২১০ একর জমি অধিগ্রহন করে একটি অটোমাবাইল কোম্পানি তৈরী করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের জমি পছন্দ হয় এবং জমি সাফসুতরো করার কাজটিও সরকার থেকে সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন 'পত্থলগড়ি' স্থাপন করে সে জমির সীমানা নির্দেশ করে দেন এবং সে জমির অধিগ্রহন বন্ধ করে দেন ।

এরপরের ঘটনা ২৫শে আগস্টের। তিনশো পুলিশবাহিনী সে গ্রামে আফিংয়ের চাষ বন্ধ করতে হাজির হয়েছিলেন। গ্রামের মানুষ ওই তিনশো পুলিশকেই বন্দী করেন। আদিবাসীদের তিরধনুকের সামনে, তিনশো সিআরপিএফ জওয়ান অসহায় হয়ে পড়েন। প্রায় ২৪ ঘন্টা তাঁদের বন্দী থাকতে হয়।

এই ঘটনায় দোষীদের মধ্যে একজন গ্রামপ্রধানকেও পুলিশের সন্দেহ হয়। এবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পুলিশের একটি দল সেই গ্রামপ্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এগিয়ে যেতেই দেখেন পিছনে ২৫জন জওয়ানের পাত্তা নেই। তাঁদের বন্দী করেছেন গ্রামবাসীরা।

এর পরের ঘটনা ২২শে জুনের। পাঁচজন মহিলা এ্যক্টিভিস্টকে সেখানে গ্যাং-রেপ করা হয় বলে অভিযোগ।
তারপর, সচরাচর যা হয়ে থাকে...রাজনীতি, পাল্টা রাজনীতি। ভুঁই ফুঁড়ে উঠে আসছেন একের পর এক নেতা।

আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আন্দোলনও নকশাল আন্দোলনের মতোই সাধারণ মানুষের চোখে ধূলো দেওয়ার মাধ্যমই হতে চলেছে। শুরুটা সাধারন আদিবাসী মানুষদের দাবিদাওয়া দিয়ে হলেও, হয়তো হাওয়া ঘুরে যাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হিসেব নিকেশে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ সব আন্দোলন আসলে রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের পেছনে থাকা কর্পোরেটদের 'ধনবল' বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের যন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।
পাঁচজন মানুষকে কোনো একটি উদ্দেশ্যে একত্রিত হতে দেখলেই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি যেভাবে 'জনবলে'র ফায়দা তুলতে লেগে পড়ে, এখনও পর্যন্ত এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
সরল, সাদাসিধে মানুষগুলোকে ক্ষেপিয়ে তুলে নিজেদের মতলব হাসিল করার মাধ্যম নেতাদের এসব 'আন্দোলন' 'আন্দোলন' খেলা।

তবু....এইসব সাধারন গ্রামবাসীদের এই যে একত্রিত হওয়া, চকচকে চোখমুখ, মুঠো হাত আাকাশে তোলা, অন্য হাতে শক্ত করে ধরা তীরধনুক...কোথায় যেন একটু আশা জাগায়। আমরা, সুবিধেবাদী মধ্যবিত্তরাও হয়তো কোনো দিন....

91 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: d

Re: 'পত্থলগড়ি'

"আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আন্দোলনও নকশাল আন্দোলনের মতোই সাধারণ মানুষের চোখে ধূলো দেওয়ার মাধ্যমই হতে চলেছে। শুরুটা সাধারন আদিবাসী মানুষদের দাবিদাওয়া দিয়ে হলেও, হয়তো হাওয়া ঘুরে যাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হিসেব নিকেশে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ সব আন্দোলন আসলে রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের পেছনে থাকা কর্পোরেটদের 'ধনবল' বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের যন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।"

এই জায়গাটা বুঝলাম না। নকশালরা কন না কনও কর্পোরেটের ধনবল বৃদ্ধির হাতিয়ার? তাহলে আর সরকারের সাথে বিরোধ কোথায়? মানে সরকারও তো কোনও না কোনও কর্পোরেটের হাতে দেবার জন্যই খনিজসম্পদ ভরা অঞ্চলে সিআর্পিএফ লেলিয়ে দেয়।

সিআরপিএফ গুলী না চালিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে বন্দী হচ্ছে দেখে বেশ খুশী হলাম।

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

এপারেও একই চিত্র। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে আদিবাসীদের মতামত ছাড়াই উন্নয়ন চেষ্টা! কারণ কোনো সরকারই তাদের মানুষ মনে করেনি, বরং জংগলের উৎপাত মনে করেছে!

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে টাংগাইলের মধুপুরে গারো (মান্দি) আদিবাসী এলাকায় সরকার ট্যুরিস্ট স্পট ইকো-পার্ক বানাতে চেয়েছিল, এতে অরণ্যচারী (ভিলেজার) শত শত আদিবাসী উচ্ছেদের আশংকা দেখা দেয়!

একই প্রকল্প সিলেটের মৌলভীবাজারে করার উদ্যোগ নিলে উচ্ছেদের আশংকা দেখা দেয় খাসি পাহাড়ের শত শত খাসিয়া আদিবাসী!

সে সময় মাদল-সিংগা- তীর- ধনুকে মধুপুর ও খাসি পাহাড় সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, এক পর্যায়ে মধুপুরে আদিবাসীদের সম্মুখ লড়াইয়ে বন রক্ষীদের গুলিতে মারা পড়েন পিরেন স্নাল, তার রক্তে রুখে দেওয়া হয় ইকো-পার্ক!

সে সময় মাসের পর মাস ধরে খুব কাছ থেকে দেখেছি আদিবাসী সংগ্রাম, অনেক সরেজমিনে প্রতিবেদনও করেছি!
পরে কিছু ব্লগ নোটও লিখেছিলাম ।

জেনে ভাল লাগছে, খুঁটীর মুণ্ডা আদিবাসীরা একইভাবে সংগঠিত হয়ে জমি-জলা-জংগল রক্ষার আন্দোলন করছেন!

আরো আপডেট আশা করছি।

আর "সরল, সাদাসিধে মানুষগুলোকে ক্ষেপিয়ে তুলে নিজেদের মতলব হাসিল করার মাধ্যম নেতাদের এসব 'আন্দোলন' 'আন্দোলন' খেলা।" এই কথার অর্থ বুঝিনি।

তাহলে এই আন্দোলন কী জীবন ও জীবিকা রক্ষার নয়?


Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

ধন্যবাদ দ। নকশালরা ধনবল বৃদ্ধির হাতিয়ার নন। তাঁরা ধনবল বৃদ্ধির চাবিকাঠি।
এইসব আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই জমি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজটি মসৃন হয়। আন্দোলনের প্রথম দিক কার নেতারা ক্রমশঃ কোনঠাসা হয়ে পড়েন।।।নতুন নেতার আবির্ভাব হয়, যাঁরা জমি অধিগ্রহনে একরকম সরকারের সাহায্যই করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনায় বেশ পরিকল্পিতভাবে 'হিন্দু-খ্রীষ্টান' রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে নতুন নেতা উঠে আসতে চলেছেন।
না, এখনও গুলি চালানোর অর্ডার দেওয়া হয় নি।
Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

ধন্যবাদ বিপ্লব রহমান । এই আন্দোলন অবশ্যই জীবন ও জীবিকা রক্ষার লড়াই। তবে সঠিক নেতৃত্বের অভাব। রিজার্ভেশনের দোহাই দিয়ে আদিবাসী নেতাদের টোপ দেওয়ার খেলা তো চলতেই থাকবে।
আমার নিজের চোখে দেখেছি, মাওবাদী এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রথমদিকে যে কারণে একত্রিত হয়েছিলেন, পরে একদিকে নাগা রেজিমেন্ট অন্যদিকে মাওবাদী নেতা - এই উভয়সঙ্কটে পড়ে তাঁদের দিশেহারা অবস্থাটা ঠিক কেমন।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

ঝুমা সমাদ্দার,

"আমার নিজের চোখে দেখেছি, মাওবাদী এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রথমদিকে যে কারণে একত্রিত হয়েছিলেন, পরে একদিকে নাগা রেজিমেন্ট অন্যদিকে মাওবাদী নেতা - এই উভয়সঙ্কটে পড়ে তাঁদের দিশেহারা অবস্থাটা ঠিক কেমন।"
"

কেন?? আরো বিস্তারিত বলুন, প্রয়োজনে দু-একটি সংবাদ/মতামতের লিংক দিন। বিনীত অনুরোধ রইল।

এপার থেকে দু-এক প্যারায় রাজনৈতিক দিক-দর্শন বোঝা সম্ভব নয়। তবু #পত্থলগড়ির আদ্যোপান্ত বুঝতে চাই! নিজে আড়াই দশক ধরে আদিবাসী অধিকার নিয়ে লেখলেখির চেষ্টা করে জীবনপাত করছি, তাই! 🤐
Avatar: ঝুমা সমাদ্দার।

Re: 'পত্থলগড়ি'

বিপ্লব রহমান দাদা, আমাকে দু'চার দিন একটু বাইরে থাকতে হচ্ছে। একটু ব্যস্ত। ফিরে এসে নিশ্চয়ই উত্তর দেব, কেমন ?
Avatar: দ

Re: 'পত্থলগড়ি'

ধন্যবাদ ঝুমা।
পড়লাম আপনার ব্যাখ্যা, কিন্তু আমি একমত নই।

পরে কখনও আলাপ চালানো যাবে।

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

ঝুমা সমাদ্দার,

অপেক্ষায় রইলাম ভাই। ভাল থাকুন।
Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

একমত না হওয়াই তো বাঞ্ছনীয়, দ ,তবেই তো আলোচনা এগোবে। একমত হয়ে গেলেই তো আলোচনা শেষ।
শুধু এইটুকু বলি, যে কোরিয়ান কোম্পানি জমি কিনেছিল, তা-ও কিন্তু গ্রামসভার মাধ্যমেই । গ্রাম সভার সদস্যদের হাত করে জমি অধিগ্রহণ খুব অসম্ভব নয়, সে তো দেখাই যাচ্ছে ।
Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

বিপ্লব রহমান দাদা...আমি দেখেছি, মাওবাদী এলাকায় নাগা রেজিমেন্ট আর সাধারণ মানুষ একটা সুষ্পষ্ট দূরত্ব রেখে চলেন । যদিও , নাগা রেজিমেন্ট সেখানে রয়েইছে মাওবাদীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য। অথচ, কোনোরকম যোগাযোগ নেই বললেই চলে। (কেবলমাত্র মুরগী সংগ্রহে গ্রামবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ)।
সাধারণ মানুষ নাগা রেজিমেন্টের সৈন্যদের যখন তখন জঙ্গলের পাখী মেরে খাওয়া দেখে যারপরনাই বিরক্ত । অথচ, আদিবাসীদের 'শিকার উৎসব' কিম্বা বিশ্বকর্মা পুজোয় যে পাঁচরকম গাছের ডাল ঘরের দুয়ারে পোঁতার যে প্রথা ওঁদের রয়েছে, তাতে গাছের ডাল কাটার উপর বাধানিষেধ আরোপ - তাঁরা মোটেই ভালো চোখে দেখেন না।
এবার আসি মাওবাদীদের কথায়। ওঁরা জঙ্গলে শহরের মানুষ ঢোকা একেবারেই পছন্দ করেন না। শহরের মানুষকে থাকতে দিলে তাঁরা সে গেস্টহাউসে আগুন লাগিয়ে দিতেও কসুর করেন না।তার যথেষ্ট কারনও রয়েছে। শহরের মানুষের সেখানকার মানুষকে 'তুইতোকারি' করা , বনমুরগী কিম্বা অন্য বন্যপ্রাণী পুড়িয়ে খাওয়া (এক রিপোর্টারকে ভারী আফশোস করতে দেখেছিলাম ,রাতে গাড়ি চালানোর সময় একটা খরগোশ তার গাড়ির সামনে দিয়ে পেরিয়ে চলে গেল, অথচ মারা গেল না বলে),গ্রামের মেয়েদের লাল পাড় শাড়ী পরিয়ে তাঁদের সামনে নাচানো, তাঁদের নিয়ে ঘরে যাওয়া- এসব করতে বারণ করেন। গ্রামের মানুষকে মারধর করেন। গ্রামের মানুষ পয়সার লোভে এসব করতে বাধ্য হন। কিছু দালাল শ্রেণীর মানুষ সেখানে আছেন, যাঁরা গ্রামের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের হাতে পয়সা গুঁজে দিয়ে এসব করান।
মাওবাদীদের পরিচয় বলার জন্য মাওবাদীদের মার , আর না বলার জন্য সেনাদের মারের কাছে সারাক্ষণ গুটিয়ে থাকেন সাধারণ গ্রামবাসীরা। তাঁদের আখেরে কোনো লাভই হয় না। অথচ, প্রথমদিকে এঁদের ঘরের ছেলে-বুড়ো- মেয়েমানুষ সকলেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন, সে গল্প করেন।
পত্থলগড়ি আন্দোলনের বিষয়ে আপনি ইউটিউবে অনেক খবর পাবেন। সেখানকার প্রচুর ভিডিও রয়েছে। আমি কয়েকটা লিংক দিলাম। দেখুন, জানতে পারবেন।
https://www.youtube.com/watch


Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

আর একটা লিঙ্ক -হ্ত্ত্প্সঃ//্ব।য়ৌতুবে।োম/ত্চ?ভ=৪৮য়্ক্ষ৫জqআ&ত=৮স
Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

"মাওবাদীদের পরিচয় বলার জন্য মাওবাদীদের মার , //আর না বলার জন্য সেনাদের মারের কাছে সারাক্ষণ গুটিয়ে থাকেন সাধারণ গ্রামবাসীরা। "

ঝুমা সমাদ্দার,

এই জায়গায় এসে বিভ্রান্ত হলাম। ইন্সার্জেন্সি এরিয়াতে আদিবাসী অধিকার নিয়ে লেখালেখির পর্যবেক্ষণ থেকে বলতে পারি,

১) কোনো জনযুদ্ধ "জন" বাদ দিয়ে টিকে থাকতে পারে না।
কিন্তু খুঁটীতে তা টিকে আছে শুধু নয়, আপনার তথ্যমতে সেখানে "পত্থলগড়ি" বা মুক্তাঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে, আদিবাসী স্কুলে রাজনৈতিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে, এটি ব্যপক রাজনৈতিক ভিত্তি ছাড়া হতে পারে?

২) পর্যবেক্ষণ এ- ও বলছে, ইন্সার্জেন্সি এরিয়াতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান হলে ব্যপক মানবাধিকার লংঘন, এমন কি গণহত্যা, গণধর্ষন, গ্রামে লুঠপাট, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি হয়ে থাকে। খুঁটীতে কী তেমন কিছুই হয়নি? আপনার লেখায় এর আভাষ আছে, বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

৩) আপনার লেখায় এই বক্তব্য পরিস্কার হয়, খুটীতে মাওবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনী সমান নিপীড়ক, জিম্মি মুন্ডা আদিবাসী, আসলে কী তাই?

ধৈর্য্য ধরে প্রতিমন্তব্য করায় আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার ভিডিও লিংক একটিই মাত্র দেখতে পেলাম, যদিও হিন্দী তেমন বুঝি না।

আর গুগল করে পুরনো কিছু নিউজ লিংক পেলাম, তার একটি এখানে, https://www.dailypioneer.com/STATE-EDITIONS/ranchi/3-maoists-arrested-
from-gumla-khunti.html






Avatar: Jhuma Samadder

Re: 'পত্থলগড়ি'

১) রাজনৈতিক ভিত্তি আছেই। বড় কোনো সংগঠন থাকাও বিচিত্র নয়।
২)সত্যি কথা বলতে, খুঁটিতে এখনও জনসমর্থন এতটাই প্রবল যে, গ্রামবাসীরা মুখ খুলতেই চাইছেন না।লুঠপাট, জ্বালাও-পোড়াও কতটা হয়েছে বলা যাচ্ছে না। তবে মাওবাদী এলাকায় যে হয়েছে , সে তো আমার নিজের চোখেই দেখা।
৩)না, খুঁটিতে যাঁরা আছেন , তাঁরা মাওবাদী নন,এমনটাই তাঁরা বলে থাকেন।
আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই। গতকালই ঝাড়খন্ড থেকে ফিরেছি।
আমি যে ভি়ডিও লিঙ্ক দুটো দিলাম । তবে হিন্দী না বুঝলে তো মুশকিল, কারন, সব ভি়ডিওই যে হিন্দীতে।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

এইব
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'পত্থলগড়ি'

*এইবার কিছুটা বুঝলাম । ইউটিউবে আরো নিউজ দেখছি। হিন্দী অস্পষ্ট বুঝলেও আপনার এই লেখা ও মন্তবের ব্যাখ্যার কারণে প্রসংগ কিছুটা বুঝতে পারছি।

আদালা ব্লগ নোটে আপডেট চাই।

আবারও ধন্যবাদ ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন