Sumit Roy RSS feed

Sumit Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কুলীন ব্রাহ্মণের কন্যা, বিবাহ বণিক এবং রবার্ট মার্টনের সমাজচিন্তা

Sumit Roy

ব্রাহ্মণদের বহুবিবাহ প্রথার জন্য প্রায় উনবিংশ শতক পর্যন্ত বাঙ্গালী সমাজ কলঙ্কিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ বা রাঢ় অঞ্চলে ব্রাহ্মণের অভাবের কারণে একাদশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের কনৌজ থেকে বাংলায় ৫টি গোত্রের ব্রাহ্মণকে আনা হয় বলে জানা যায়। এরাই বাংলায় কুলীন ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হয়।

এই কুলীন ব্রাহ্মণদের পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায়, চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও ভট্টাচার্য। সামাজিক মর্যাদায় এই কু্লীন ব্রাহ্মণদের মর্যাদা সমাজের অন্যদের চাইতে, এমনকি অন্যান্য ব্রাহ্মণদের চাইতেও উপরে ছিল। মধ্যযুগে বাংলায় আসার পর, এদের বিবাহের যে প্রচলিত নিয়ম তৈরি হয় তা হল, একজন পুরুষ কুলীন ব্রাহ্মণ কুলীন বা অকুলীন যেকোন ব্রাহ্মণ বংশেই বিয়ে করতে পারবেন, কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যার বিয়ে হবে কেবলমাত্র কুলীন বংশেই (যদি কুলীন কন্য কুলীন বংশের বাইরের কাউকে বিয়ে করত তবে তার পিতা কৌলিন্য হারাতো)।

তো, কুলীনদের মধ্যে নারী ও পুরুষের এই বৈবাহিক বৈষম্যের ফলাফল কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। দেখা গেল, কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের জন্য পাত্র পাওয়া যায় না। কুলীন পুরুষেরা কুলীন পাত্রী না পেলে ঠিকই অকুলীন কন্যাকে বিয়ে করে নিত, কিন্তু কুলীন কন্যারা ছিল এক্ষেত্রে অসহায়। আর এরই সুযোগে কুলীনদের মধ্যে বেড়ে গেল বহুবিবাহ। কিন্তু এই বহুবিবাহ একটু অন্যরকম ছিল। কন্যার পিতার ছিল সামাজিক রীতিতে কন্যাদায় মুক্ত হবার তাড়া, কুলীন ব্রাহ্মণ পেলেই কন্যার পিতাকে যে করেই হোক তার সাথে বিয়ে দিয়ে কন্যাদায়মুক্ত হতে হবে।

এদিকে কুলীন পুরুষেরা যদি বিয়ে করে তাহলে পকেটে পয়সাকড়িও আসবে। এক্ষেত্রে সমাজে যে নীতিটি তৈরি হল তা অনেকটা এমন- এক শ্রেণীর কুলীন পুরুষেরা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে কুলীন কন্যাকে বিয়ে করে কন্যার পিতাকে কন্যাদায় থেকে মুক্ত করবে, আর কুলীন পাত্র কন্যা ও তার পিতার নাম ধাম একটা খাতায় লিখে নিয়ে চলে যাবে। এক্ষেত্রে কুলীন কন্যা নিজের বাপের বাড়িতেই থাকবে। এরপর মাঝেমাঝে বছরে দুই একবার কুলীন স্বামী তার স্ত্রীকে দেখতে আসবে, এরপর ভালমন্দ খেয়ে দেয়ে, রাত কাটিয়ে আবার চলে যাবে। অর্থের লোভে কুলীন পুরুষেরা একে বাণিজ্যিক পেশায় পরিণত করেছিল। রামনারায়ণ তর্করত্ন এদের নাম দিয়েছিলেন বিবাহবণিক। এদের পেশাই ছিল বিয়ে করে আয় করা, আর বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্ত্রীদের বাড়িতে গিয়ে কয়েকদিনের জন্য থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও সালিয়ানা দক্ষিণা আদায় করা।

দেখা যেত অনেক সময় কুলীন ব্রাহ্মণেরা কুল রক্ষার জন্য মৃত্যুশহ্যায় থাকা কোন কুলীন পাত্রের সাথেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিত। আর দুইদিন পরেই পাত্রের মৃত্যু হলে মেয়ে বিধবা হয়ে যেত। অনেক সময় বিবাহবণিকেরা রাতে শুতে গিয়ে স্ত্রীর সব গয়না নিয়ে চম্পট দিত। এই বিবাহবণিকদের সাথে বিবাহিতা কুলীন নারী যৌনতৃষ্ণা মেটাতে অনেক সময় পরপুরুষের সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হত, আর তার ফল হত অবাঞ্চিত সন্তান আর ভ্রূণ হত্যা। আর এমন হলে পরিবারে, সমাজে তার কী অবস্থা হত বোঝাই যায়।

কুলীন নারীদের এই অবৈধ সহবাসের কথা রামনারায়ণ তর্করত্ন ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। রামনারায়ণ তার কুলীনকলসর্বস্ব’ নাটকের এক অংশে লেখেন "পুত্র তিন বৎসর শ্বশুরবাড়ি যায়নি। হঠাৎ খবর এল তার একটি কন্যাসন্তান হয়েছে। পুত্র আশ্চর্য হয়ে পিতাকে যখন এ কথা বলছে, তখন পিতা বলছেন–বাপু হে, তাতে ক্ষতি কি? আমি বিবাহ করবার পর একবারও শ্বশুর বাড়ি যাইনি। শুভদৃষ্টির পর একেবারে তোমার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়।"

রামনারায়ণের কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক ছাড়াও ও বিদ্যাসাগরের 'বহুবিবাহ' প্রবন্ধে এবং পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'বামুনের মেয়ে' উপন্যাসে এর উল্লেখ পাওয়া যাবে। এই কৌলীন্য প্রথা নিরোধের জন্য নিরলস প্রয়াস চালিয়েছিলেন রামনারায়ণ তর্করত্ন ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। যদিও বিধবা বিবাহ বৈধ করবার জন্য বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল (১৮৫৬ সালের ১৫ নম্বর আইন দ্বারা), কিন্তু কৌলীন্য প্রথা নিরোধের জন্য তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ফলবতীর্ণ হয়নি। সরকার এ সম্বন্ধে কোন আইন প্রণয়ন করে নি। তবে সরকারের দ্বারা এটি প্রণীত না হলেও বিদ্যাসাগরের প্রচেস্টার ফলে যে জনমত গড়ে ওঠে তারই প্রভাবে পরবর্তীতে কৌলীন্য প্রথার অবলুপ্তি ঘটে।

এবার আরেক আলোচনায় যাচ্ছি। এখানে আমরা দেখছি, কোন নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর স্ট্যাটাসকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এদের নারীদের উপর কিছু বৈষম্যমূলক বিধি (যার পিতৃতন্ত্রের প্রভাব), আর এরপর সমাজে সেই বিধান রক্ষা করার ফলে একটি সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হওয়া এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, এর ফলে এক পক্ষের অর্থনৈতিক লাভ (কুলীন পুরুষ), আর এক পক্ষের সামাজিক বিচ্যুতি (নারী)।

এই পুরো ব্যাপারটাকে রবার্ট মারটনের এনোমিক থিওরির (নৈরাজ্যমূলক তত্ত্ব) আলোকে পর্যালোচনা করা যায়। মারটন তার বিখ্যাত থিওরি এন্ড সোশ্যাল স্ট্রাকচার গ্রন্থে এটা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন সমাজের বিচ্যুতি বা ডেভিয়েন্স এর কারণ কী। জানতে চেয়েছিলেন, কিভাবে সমাজ কাঠামো কিছু ব্যক্তির উপর এমন চাপ প্রয়োগ করে যার ফলে তারা সমাজের সাথে আপসমূলক বা কনফর্মিং না হয়ে আপসহীণ বা ননকনফরমিং আচরণ করে।

যখন সংস্কৃতি কোন লক্ষ্য (cultural goal) আর উপায় (institutionalized mean) এর মধ্যে সুসংঘবদ্ধ থাকে তখন তাকে ইকুইলিব্রিয়াম বলে। আর ভারসাম্যহীনতা আসে তখনই যখন এই লক্ষ্য আর উপায় এর মধ্যকার সংগতি হারিয়ে যায়। যখন এই লক্ষ্য আর উপায় এর মধ্য কোনটা ঠিক থাকে না তখনই এরকমটা হয়।

নৈরাজ্য বিরাজ করবে যখন ব্যক্তি একটি লক্ষ্যকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু উপায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে, বা বৈধ উপায় ব্যবহার করতে পারছে না, বা বিকল্প উপায় নির্ধারণ করছে। অথবা, ধরুন উপায় ঠিক আছে, কিন্তু লক্ষ্যই ভুল। আবার ধরুন লক্ষ্য আর উপায় দুটোকেই প্রত্যাখ্যান করা হল। সব ক্ষেত্রেই নৈরাজ্য তৈরি হতে পারে। আর এভাবেই লক্ষ্য ও উপায় এর মধ্যে ভারসাম্যের অভাব তৈরি হলেই সমাজে বিভিন্ন ধরণের এডাপ্টেশন দেখা যায়, যার মাধ্যমে সমাজে একটা প্রতিষ্ঠান বা রীতি স্থিতিশীল হয়, নৈরাজ্য নিয়েই...

বিভিন্ন ধরণের বাস্তবতার নিরিখে মার্টন নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতির সাথে ব্যক্তির অভিযোজনকে কয়েক প্রকার অবস্থা বা mode of adaptation দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। বিবাহবনিকদের কালচারের সাথে এর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি...

মার্টন ৫ ধরণের মোড অফ এডাপ্টেশনের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হল কনফরমিটি, ইনোভেশন, রিচুয়ালিজম, রিট্রিটিজম আর রেবেলিয়ন। এই আলোচনায় রিচুয়ালিজম আর ইনোভেশনের ব্যাপারটা নিয়ে আসব।

কুলীন ব্রাহ্মণদের লক্ষ্য ছিল একরকম তাদের স্ট্যাটাস বজায় রাখা (ওয়েবারের কনসেপ্ট যার জন্য মার্ক্স এর ক্লাস কনসেপ্টের জন্য সম্পদের তারতম্যের দরকার নেই, বরং বিভিন্ন সামাজিক তারতম্যে স্ট্যাটাসের তারতম্য ঘটে) বা অন্যান্য বর্ণদের উপর আধিপত্য বজায় রাখা। আর তার জন্য তারা পিতৃতান্ত্রিক চিন্তায় নারীদের অ-কুলীন ব্রাহ্মণদের সাথে বিবাহ রহিত করল, যেটা একটা উপায়। কিন্তু যেহেতু উক্ত লক্ষ্যের কারণে কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের বিবাহযোগ্য কুলীন পাত্র পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, সুতরাং বলা যায় এই লক্ষ্যটা ঠিক ছিল না। কিন্তু যেহেতু এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত বিধানটি সমাজ স্বীকৃত ছিল, কাজেই বলা যায়, এর উপায়টি ইনস্টিটিউশনালাইজড বা ওকে ছিল। এখন যেহেতু লক্ষ্য ভুল, কিন্তু উপায় ঠিক, এক্ষেত্রে সংস্কৃতির লক্ষ্য আর উপায় এর মধ্যে একটি ভারসাম্যহীনতার তৈরি হবে, যা অবশ্যই এক প্রকার নৈরাজ্যকেই নির্দেশ করবে। আর এই নৈরাজ্যের জন্য সমাজে একপ্রকার এডাপ্টেশন আসবে যার দ্বারা মানুষ এই নৈরাজ্যমূলক অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নেবে।

মার্টন এই লক্ষ্য ভুল, কিন্তু উপায় ঠিক, এইরকম পরিস্থিতির মোড অফ এডাপ্টেশনের নাম দেন "রিচুয়ালিজম" বা প্রথানিষ্ঠতা। এক্ষেত্রে ব্যক্তি কালচারালি ডেফাইনড গোল সম্পর্কে অসচেতন থাকে, ভীত হয়ে ওঠে, বা মনে করে এটা ঠিক নয়। কিন্তু এটা অর্জনের উপায় ইনস্টিটিউশনালাইজড রূপ লাভ করে বলে ব্যক্তি এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। মার্টন বলেন, কোন সমাজে যখন এই স্ট্যাটাসের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়, তখন তারা লক্ষ্যের চেয়ে উপায়ের দিকেই অনেক বেশি জোড় দেন, কারণ এই উপায়নিষ্ঠতার উপরেই সমাজে ব্যক্তির স্ট্যাটাস বা মর্যাদা নির্ভর করে। এদিকে লক্ষ্য ঠিক না ভুল এসবে ব্যক্তির কিছু আসে যায় না। এই অবস্থাটিকেই মার্টন রিচুয়ালিজম বলেছেন। আর এই অভিযোজনের ফলে এই বিশেষ নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি সমাজে টিকে যেতে পারে।

এবার ব্রাহ্মণ কন্যার কথায় আসি। বিবাহের প্রধান সাংস্কৃতিক লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক সম্মতিতে যৌনকামনা পুরণ করা। সুতরাং এখানে একটা ভ্যালিড গোল আছে, কিন্তু প্রচলিত নিয়ম নিয়ম দ্বারা সেই উদ্দেশ্যটি পূরণ হচ্ছিল না, আর তাই তাদেরকে স্বীকৃত সামাজিক উপায়টিকে অস্বীকার করতে হয়। আর সেই সাথে এমন একটা ব্যবস্থাকে গ্রহণ করতে হয় যাতে এই লক্ষ্যটি ঠিক থাকে। কারণ এই লক্ষ্যটি একটা মৌলিক জীববিজ্ঞানগত চাহিদা। এমন অবস্থাতেই মানুষ সমাজ-অস্বীকৃত উপায়কে গ্রহণ করে। মারটন এই এডাপ্টেশনের নাম দেন ইনোভেশন বা উদ্ভাবন। এক্ষেত্রে যৌনকামনা পূরণের লক্ষ্যে সমাজ স্বীকৃত উপায় ফেইল করেছিল, অর্থাৎ লক্ষ্য ঠিক ছিল, কিন্তু উপায় ঠিক ছিল না, তাই নতুন মোড অফ এডাপ্টেশন যেটা আসে তাহল ইনোভেশন। অর্থাৎ, লক্ষ্য ঠিক, কিন্তু স্বীকৃত উপায় ভুল, তাই বিবাহ বণিক ব্রাহ্মণদের সাথে বিবাহে আবদ্ধ কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদের অনেককে গোপন অভিসারে যেতে হয়।

মারটন চুরি, ডাকাতি, আত্মসাৎ, প্রতারণা এগুলোকেও উদ্ভাবনের উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। মার্টন এটা নিয়ে একটা মূল্যবান কথা বলেছিলেন, "It is only when a system of cultural values, extolls, virtually above all else, certain common success goals for the population of large while the social structure rigorously restricts or completely closes access to approved modes of reaching these goals for a considerable part of the same population that deviant behaviour ensures on a large scale."

এবার আসছি আরেকটা মোড অফ এডাপ্টেশন নিয়ে, যার নাম হল রেবেলিয়ন বা বিদ্রোহ। যখন ব্যক্তি দেখেন যে, বিদ্যমান সমাজ কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক উপায় স্বীকৃত সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অপর্যাপ্ত বা অকার্যকর, তখন ব্যক্তি বিদ্রোহের পথ বেছে নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্ম, আন্দোলন, বিপ্লব এই বিদ্রোহের উদাহরণ। আর এখানে বিদ্রোহের অর্থ কেবল উপায় ও লক্ষ্য প্রত্যাখ্যানজনিত অসন্তোষ নয়, এটি একই সাথে নতুন লক্ষ্য ও উপায় নির্ধারণের জন্য বিকল্প অনুসন্ধানের জন্য উৎসাহিত করে। মার্টন বলেন, "Rebellious behaviour is most likely ... where frustration and perceived deprivation over the failure to realize goals through legitimate channels dramatically increase and where group condifying and ideology capable of mobiliging deprivations exist."

এই সামাজিক অবস্থার নিরসনের জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আন্দোলন করেছিলেন, কিন্তু তিনি সরকারী সমৰ্থন পাননি। কিন্তু এর পরও বলতে গেলে তার আন্দোলনের ফলেই এই প্রথা বাঙালী সমাজ থেকে গত শতাব্দীতে বিলপ্ত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর যা করেছিলেন তা হচ্ছে রেবেলিয়ন। একটি সমাজসংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি নতুন লক্ষ্য এবং নতুন উপায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এই নতুন প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্য ও উপায় সঠিক ও স্বীকৃত হবে, আর তাতে লক্ষ্য ও উপায়ের নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লক্ষ্য ও উপায় উভয়ের ঠিক হবার ফলে তা যে মোড অফ এডাপ্টেশন গ্রহণ করবে তার নাম কনফরমিটি বা সামঞ্জস্য, যেখানে মানুষ কালচারাল গোল বা সাংস্কৃতিক লক্ষ্যকে মেনে নেয়, এবং এটি অর্জনের উপায়ও ইনস্টিটিউশনালাইজড বা সমাজস্বীকৃত। এই মোড অফ এডাপ্টেশন এনোমি বা নৈরাজ্য এবং ডেভিয়েন্স বা বিচ্যুতির বিপরীত। এটি প্রতিষ্ঠিত হবার মাধ্যমে পূর্বের বেঠিক লক্ষ্যের ফলে তৈরি রিচুয়ালিজম এবং বেঠিক উপায় এর কারণে তৈরি ইনোভেশন এর নৈরাজ্যমূলক অবস্থার সমাপ্তি হয়। যদি এই রেবেলিয়ন না আসত, তবে সেই নৈরাজ্যগুলো সেই অবস্থাতেই টিকে যেতে পারত, কেননা মানুষ এগুলোতে অভিযোজিত হয়ে গিয়েছিল।

মারটন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট দিয়ে গেছেন, যেগুলোর মধ্যে দুটো হচ্ছে থিওরি অফ ডেভিয়েন্স বা বিচ্যুতি তত্ত্ব এবং ডিসফাংশন বা অপক্রিয়া। প্রাসঙ্গিক হবে বলে এক্ষেত্রে এই দুটো নিয়ে আলোচনাও নিয়ে আসছি।

মার্টনের মতে এনোমিক বা নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি হল সোশ্যাল স্ট্রাকচার ও কালচারাল স্ট্রাকচার বা সমাজ কাঠামো এবং কালচারাল স্ট্রাকচার বা সাংস্কৃতিক কাঠামোর পারস্পরিক ও অন্তর্গত অসংবদ্ধতার ফল। তিনি এই তত্ত্বের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন, কিভাবে সমাজকাঠামো বিচ্যুত ব্যক্তির উপর এমন ধরণের চাপ প্রয়োগ করে, যার ফল তারা সমাজের সাথে আপোসমূলক না হয়ে আপসহীন হয়ে পড়ে। মানুষ তখনই স্বাভাবিক আচরণ করে যখন কালচারাল গোল ও ইনস্টিউশনাল মিন্স ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। এই দুটোর মধ্যে বিস্তর ব্যবধান দেখা গেলে এনোমিক বা নৈরাজ্য দেখা যায়।

মারটনের পূর্বে সমাজতাত্ত্বিক ডুরখেইম নৈরাজ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন কিছুটা। তিনি বলেছিলেন নৈরাজ্য হল নিয়মের অভাব বা নর্মলেসনেস। কিন্তু মার্টনের এনোমিক ডুরখেইম এর থেকে ভিন্ন। এটা কালচারাল গোল আর লেজিটিমেট মিনস এর অসম ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলেই হয়। আর ডেভিয়েন্স বা বিচ্যুতি হচ্ছে, এইসব নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মানুষের প্রক্রিয়া বা অভিযোজনের একটি রূপ। সেই অভিযোজনের রূপ বা মোড অফ এডাপ্টেশন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেই মার্টন সেই ৫টা মোডের কথা বলেছিলেন।

মার্টন একজন ক্রিয়াবাদী বা ফাংশনালিস্ট। তার পূর্বে ক্রিয়াবাদ বা ফাংশনালিজম নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক হারবার্ট স্পেন্সার, মেলিনস্কি, রেডক্লিফ ব্রাউন, এমিল ডুরখেইম ও ট্যালকট পারসনস ব্যাপক কাজ করেছিলেন। এরা এই ফাংশনালিজমের মাধ্যমেই সামাজিক প্রপঞ্চগুলোর বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু মার্টন একজন ফাংশনালিস্ট হলেও তার চিন্তাধারা পূর্বোক্ত সমাজতাত্ত্বিকদের থেকে একটু ভিন্ন ছিল।

ক্রিয়াবাদী তত্ত্ব বলে, সমাজ হল পরষ্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন অংশের একটি ব্যবস্থা যা সম্মিলিতভাবে সামঞ্জস্য বিধানের কাজ করে যাতে সামগ্রিকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় থাকে। সমাজের বিভিন্ন বিষয়, সমস্যা নিয়ে এই ফাংশনালিস্ট পারস্পেকটিভের নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। ট্যালকট পারসনস বলেছিলেন, বিদ্যমান সকল প্রতিষ্ঠানেরই সমাজের জন্য ইতিবাচক কার্যকরী দিক আছে। মার্টন সহ অনেক ফাংশনালিস্ট পারসনস এর মতের বিরোধিতা করেছেন। মার্টন বলতেন, প্রতিষ্ঠানসমূহের কাজ যে সবসময় ইতিবাচক হবে তা নয়, এটা নেতিবাচকও হতে পারে।

স্ট্রাকচারাল ফাংশনালিজমের পুরনো মতামতকে বাদ দিয়ে মার্টন তাই ডিসফাংশন বা অপক্রিয়া নামের একটি নতুন কনসেপ্ট দাঁড় করান। তিনি বলেন, স্ট্রাকচারস বা ইনস্টিটিউশনগুলো সোশ্যাল সিস্টেম পরিচালনায় একে অপরকে সহায়তা করে, এরা সবাই মিলে সমাজ গঠন করে। কিন্তু এদের সবাই যে ইতিবাচক হবে, এদের প্রভাব যে সবার প্রতি ইতিবাচক হবে, এমনটা নাও হতে পারে। এগুলোর প্রভাব নেতিবাচকও হতে পারে।

মার্টনের মতে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো সোশ্যাল সিস্টেমের সাথে সমন্বয় করতে পারেনা, সেগুলোর ফল ডিসফাংশন বা অপক্রিয়া হয়। মার্টন অপক্রিয়ার একটা উদাহরণ দিয়েছেন, সেটা হল ব্যুরোক্রেসি বা আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্রকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটির জন্য একটা ফাংশনাল ইনস্টিটিউশন বলে মনে করা হয়, কারণ এতে মেধা ও দক্ষতার সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হয়। কিন্তু মার্টন বলেন, দৃঢ় আমলাতান্ত্রিক নিয়ম কখনও কখনও মানুষকে রিচুয়ালিজম স্টেজে পৌঁছে দেয়, যেখানে মানুষের কাছে আমলাতান্ত্রিক উপায় লক্ষ্যের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, আর এরপর এটার ফাংশন নেগেটিভ হওয়া শুরু করে। বিবাহবণিকদের তৈরি নিয়মও এরকমই ছিল। এই বিশেষ সামাজিক প্রতিষ্ঠান দিয়ে সমাজ গঠনে কোন সমস্যা হয় নি, সমাজ টিকেই ছিল, পরিবর্তন না হলে টিকেই থাকত, কিন্তু এর ফাংশন ছিল নেতিবাচক।

মার্টনের মতে এই ডিসফাংশনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একই প্রতিষ্ঠান কিছু লোকের জন্য ফাংশনাল হতে পারে, আবার কিছু লোকের জন্য ডিসফাংশনাল হতে পারে। এক্ষেত্রে মার্টন বিবাহ ও পরিবারের উদাহরণ দেন। অনেকে এই পরিবার-বিবাহের নীতির দ্বারা সুখী হতে পারেন, আবার অনেকে সুখী নাও হতে পারেন। কখনও একটা গোষ্ঠীর জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ফাংশনাল হয়, কখনও আরেকটা গোষ্ঠীর জন্য ডিসফাংশনাল। অনেক নারীবাদী এই ডিসফাংশন কনসেপ্ট ব্যবহার করে বলেন, এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অনেক প্রতিষ্ঠানই পুরুষের জন্য ফাংশনাল এবং নারীর জন্য ডিসফাংশনাল। বিবাহ বণিকদের ঐ রীতিটির কথা যদি বলা হয় তাহলে দেখা যাবে পুরুষ কুলিন ব্রাহ্মণদের জন্য সেটা ফাংশনাল ছিল, অনেকের অর্থনৈতিক লাভ হত এর ফলে। এদিকে একই প্রতিষ্ঠান নারী কুলিন ব্রাহ্মণদের জন্য ছিল ডিসফাংশনাল। কারণ এই রীতির ফলে তাদের ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।

এই উদাহরণ এবং মার্টনের ব্যাখ্যার আলোচনা থেকে আমরা বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হই। এর মধ্যে একটা হচ্ছে, সমাজে যেকোন নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতির আগমনের ফলেই যে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায় তা নয়, বরং এই নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতিতেও সমাজ টিকে যেতে পারে, আর সেই সমাজ খুব ভালভাবেই চলতে পারে। এক্ষেত্রে সমাজের মানুষেরাই নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতিতে অভিযোজিত হয় এবং বিচ্যুতির আশ্রয় নেয়। সমাজের এইসব নৈরাজ্যগুলো ঘটে সাংস্কৃতিক লক্ষ্য এবং স্বীকৃত রীতির ভারসাম্যহীনতার জন্য। এই নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি সমাজ, তথা সমাজের অনেক মানুষের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের সৃষ্টি করে, এমনও হতে পারে, একটি গোষ্ঠীর ক্ষতি হচ্ছে আরেক গোষ্ঠীর লাভ হচ্ছে। কিন্তু এরপরও সমাজ টিকে যেতে পারে। কিন্তু এই অভিযোজনের পরও অনেকের মাঝেই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

এই অসন্তোষের কারণে সমাজের লক্ষ্য ও উপায়কে যদি প্রত্যাখ্যান করে নতুন সাংস্কৃতিক লক্ষ্য ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয় তাহলে সেই বিশেষ এডাপ্টেশনের নাম হচ্ছে রেবেলিয়ন বা বিদ্রোহ। আর এর দ্বারা সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ সংস্কার সম্ভব। যা বিদ্যাসাগর করেছিলেন, এবং সমাজ সংস্কারও হয়েছিল এই রীতির উচ্ছেদের মাধ্যমে।


https://fthmb.tqn.com/SLafkT10RQytvCZ__rvOeCL-M90=/675x822/filters:fil
l(auto,1)/nchem.2455-f6-58b88d3b3df78c353cc18458.jpg


শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন