Sumit Roy RSS feed

Sumit Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর
    পর্ব ১-------( লালগড় সম্প্রতি ফের খবরের শিরোনামে। শবর সম্প্রদায়ের সাতজন মানুষ সেখানে মারা গেছেন। মৃত্যু অনাহারে না রোগে, অপুষ্টিতে না মদের নেশায়, সেসব নিয়ে চাপান-উতোর অব্যাহত। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে বোধ হয় বিতর্কের অবকাশ নেই, প্রান্তিকেরও প্রান্তিক এইসব ...
  • 'কিছু মানুষ কিছু বই'
    পূর্ণেন্দু পত্রীর বিপুল-বিচিত্র সৃষ্টির ভেতর থেকে গুটিকয়েক কবিতার বই পর্যন্তই আমার দৌড়। তাঁর একটা প্রবন্ধের বই পড়ে দারুণ লাগলো। নিজের ভালোলাগাটুকু জানান দিতেই এ লেখা। বইয়ের নাম 'কিছু মানুষ কিছু বই'।বেশ বই। সুখপাঠ্য গদ্যের টানে পড়া কেমন তরতরিয়ে এগিয়ে যায়। ...
  • গানের মাস্টার
    আমাকে অংক করাতেন মনীশবাবু। গল্পটা ওনার কাছে শোনা। সত্যিমিথ্যে জানিনা, তবে মনীশবাবু মনে হয়না মিছে কথা বলার মানুষ। ওনার বয়ানেই বলি।তখনও আমরা কলেজ স্ট্রীটে থাকি। নকশাল মুভমেন্ট শেষ। বাংলাদেশ যুদ্ধও শেষ হয়ে গেছে। শহর আবার আস্তে আস্তে স্বভাবিক হচ্ছে। লোকজন ...
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ট্রেড ওয়ার ও ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কিছু সাধারণ আলোচনা

Sumit Roy

বর্তমানে আলোচনায় আসা সব খবরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিলিয়ন ডলার মূল্যের উপর কঠিন শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে, যাদের মধ্যে ডিশ ওয়াশার থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফট টায়ার সবই আছে। চায়না অনেক দিন ধরেই এই হুমকির মুখে ছিল, এটা শোনার সাথে সাথে তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়ে দেয়। আর এভাবেই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই ইকোনমি যেন একে অপরের কলার চেপে ধরে।

* ট্রেড ওয়ার কী?

ট্রেড ওয়ার বা বাণিজ্য যুদ্ধ তখনই হয় যখন একটি দেশ আরেকটি দেশকে তার বাণিজ্যের উপর কর ও কোটা বসিয়ে দেয়। যদি একটি দেশ অন্য দেশ থেকে আমদানী পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার জবাবে অপর দেশটিও সেই দেশ থেকে আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়ে দেবার পর, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক বসানোতে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হল। এই ঘটনাটি দেশ দুটোর ইকোনমিকে আঘাত করবে এবং এদের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়িয়ে দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন এটা তাদের জন্য ভাল, আর তিনি এটা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না।

* আচ্ছা, শুল্ক কী? আর এর প্রভাবই বা কী?

শুল্ক হচ্ছে একরকম কর যা বাইরের দেশ থেকে আসা তৈরি পণ্যের উপর বসানো হয়। তাত্ত্বিকভাবে, বিদেশ থেকে দেশে আসা পণ্যের উপর কর আরোপ করলে, দেশের মানুষের পক্ষে সেই পণ্য কেনা কঠিন হয়ে যায়, কারণ তার দাম বেড়ে যায়। এই শুল্ক যত বেশি হবে, দেশে এর দাম তত বৃদ্ধি পাবে। আর এই শুল্ক বসানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশী পণ্যের জায়গায় সস্তায় দেশী পণ্যই কিনতে পারে। এর ফলে দেশটির ইকোনমিও বৃদ্ধি পায়।

* কেন ট্রাম্প এই কাজটি করছেন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আসা ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন। তিনি চীনকে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করেন যে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বা মেধাসম্পদ চুরি করছে, অর্থাৎ তারা যুক্তরাষ্ট্রের ডিজাইন ও প্রোডাক্ট আইডিয়াগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। আর এরই প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্প এমনটা করছেন জানিয়েছেন। এছাড়াও ট্রাম্প চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড ডেফিসিট বা বাণিজ্য ঘাটতিকেও কমিয়ে আনতে চান। ট্রাম্পের চোখে এই বাণিজ্য ঘাটতি ছিল অন্যায্য, আর প্রেসিডেন্ট হবার পূর্বেই তিনি এটা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনেও জনগণকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি অন্যান্য দেশের সাথে নিজেদের ট্রেড ডেফিসিট কমিয়ে আনবেন। তিনি বলেন, এই ট্রেড ডেফিসিট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং এর অনেক ক্ষতি করেছে।

* এই ট্রেড ডেফিসিট আবার কী জিনিস?

ট্রেড ডেফিসিট অর্থ হচ্ছে, একটি দেশ আরেকটি দেশ থেকে কতটা কেনে, আর সেই দেশে দেশটি কতটা বিক্রি করতে পারে তার মধ্যে পার্থক্য। আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বিশাল পরিমাণে ট্রেড ডেফিসিট রয়েছে। গত বছরে এই ট্রেড ডেফিসিটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারে। অর্থাৎ, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর যে অর্থমূল্যের পণ্য ক্রয় করে, তার তুলনায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৭৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারের পণ্য বেশি বিক্রি করে। ট্রাম্প অবশ্যই এটায় খুব একটা খুশি নন। তিনি এই ট্রেড ডেফিসিটকে কমিয়ে আনতে চান, আর সেজন্যই তিনি চীনা পণ্যের উপর শুল্ক বসাতে চান।

* নিশ্চই তাহলে ট্রেড ডেফিসিট হওয়া একটা রাষ্ট্রের জন্য খুব ক্ষতিকর?

না, এমন কোন কথা নেই। ট্রেড ডেফিসিট যে খারাপ আর একটা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর, এমন নাও হতে পারে অনেক সম্পদশালী রাষ্ট্রের ইকোনমিই সম্প্রতি ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোনমি থেকে সারভিস ইকোনমিতে শিফট করেছে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ২৪২.৭ ইউএস ডলারের সারভিস রপ্তানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইকোনমির ৯০% ই কাভার করে এর সারভিস সেকটর। যুক্তরাষ্ট্রের সারভিস সেক্টরের মূল্য তা সারা বিশ্বের মোট সারভিসের ৩০%। কিন্তু চীন যে পরিমাণে ম্যানুফ্যাকচারড গুড বা উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে সেরকম সারভিস তারা রপ্তানি করতে পারে না। এসব কারণে ট্রাম্পের ট্রেড ডেফিসিট নিয়ে অবসেশন খুব একটা পপুলার নয়, আর সমালোচকরা ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশনের এই কাজকে প্রোটেকশনিজম হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

* প্রোটেকশনিজম আবার কী?

প্রোটেকশনিজম হল হচ্ছে শুল্ক আরোপের চেষ্টা, যেটা নিজের দেশের ইন্ডাস্ট্রিকে আরও বেশি সচল করতে, এবং একে বাইরের কম্পিটিশন থেকে বাঁচানোর জন্য করা হয়। এই যেমন ধরুন ট্রাম্পের স্টিল ও এলুমিনিয়ামের উপর শুল্ক আরোপ। চীনের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গ্রহণের আগে, মার্চের শুরুতেই তিনি স্টিল আমদানিতে ২৫% এবং এলুমিনিয়ান আমদানিতে ১০% শুল্ক আরোপ করেন। ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন দাবী করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ধাতুর জন্য অন্য দেশগুলোর উপর অনেক বেশিই নির্ভর করছে, আর এর জন্য যুদ্ধ শুরু হলে তারা তাদের নিজেদের ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে যথেষ্ট অস্ত্র ও যানবাহন তৈরি করতে পারেনা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশিরভাগ স্টিলই আমদানি করত কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রপক্ষের।

তাত্ত্বিকভাবে এই বাইরের স্টিল ও এলুমিনিয়ামে কর বসানোর অর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো চওড়া দামে বাইরের দেশের স্টিল না কিনে দেশের স্টিলই কিনবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ও এলুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, কারণ আরও বেশি কোম্পানি তাদের থেকে স্টিল আর এলুমিনিয়াম কিনছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে স্টিল ও এলুমিনিয়ামের দাম বেড়ে যাবে কারণ বাইরে থেকে এসব পণ্য অনেক কম আসবে, তাই লোকাল স্টিলের এই বাড়তি চাহিদা এর দাম বাড়িয়ে দেবে, আর স্টিল মেকারদের মুনাফাও বাড়াবে।

* কিন্তু এতে কি ভাল হবে?

কিছুটা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ইন্ডাস্ট্রি সচল হলে, লোকাল স্টিলের ডিমান্ড স্টিল মেকারদের জন্য অনেক মুনাফা এনে দেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যে সব কোম্পানির স্টিল কাঁচামাল দরকার, যেমন গাড়ি ও এরোপ্লেন মেকার কোম্পানিগুলো, এদের খরচ বেড়ে যাবে। এর ফলে তাদেরকেও তাদের ফিনিশড প্রোডাক্টের দাম বাড়াতে হবে। আর এর ফলটা ভোগ করতে হবে সাধারণ কাস্টোমারকেই। সুতরাং, এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম বেড়ে যেতে পারে। সেই সাথে বাড়তে পারে বিভিন্ন গ্যাজেটের দাম, প্লেইনের টিকিটের দাম, এমনকি বিয়ারের দামও (এর স্টিলের ক্যানের জন্য)।

* এটা সাধারণ মানুষকে কিভাবে প্রভাবিত করবে?

এটা সারা পৃথিবীর মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্বষ করে যেহেতু চীনও শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে, সেজন্য। বিশ্বের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোনমিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প পণ্যে শুল্ক বসিয়েছে, যেখানে সয়াবিন, পর্ক, তুলা থেকে শুরু করে এরোপ্লেন, গাড়ি ও স্টিল পাইপ পর্যন্ত আছে। চীন এপলের মত যুক্তরাষ্ট্রের টেক কোম্পানিগুলোর উপরেও শুল্ক আরোপ করতে পারে। এর প্রভাবটা পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্টগুলোর উপরেই, আর তার কারণে এর ক্ষতিপুরণের জন্য এগুলোর দামও বেড়ে যাবে। এভাবে একটি গ্লোবাল ট্রেড ওয়ার সব কোম্পানির জন্যই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে তার দাম বৃদ্ধি করে, যার খেসারত দিতে হয় বিশ্বের সব দেশের কাস্টোমারকেই।

* তাহলে কি ফ্রি ট্রেডই ভাল?

এটা নির্ভর করে আপনি কাকে প্রশ্নটা করছেন তার উপর। ফ্রি ট্রেড বা মুক্ত বাজার হচ্ছে প্রোটেকশনিজম এর বিপরীত। এর অর্থ হচ্ছে যত পারা যায় কম শুল্ক আরোপ করা। এর ফলে জনগণকে সস্তা ও ভাল পণ্য কেনার স্বাধীনতা দেয়া হয়, যা পৃথিবির যেখানেই তৈরি করা হোক। এটা কোম্পানিগুলোর জন্য খুব ভাল। এটা পণ্যের দাম কমাতে সাহায্য করে, এবং সারা বিশ্বের ইকোনমিকেই বাড়িয়ে দেয়। গাড়ি, স্মার্টফোন, খাদ্য, ফুল - ফ্রি ট্রেডের সারা পৃথিবী থেকে এইসব পণ্য বহনযোগ্য দামেই হাতের কাছে পাওয়া যায়।

কিন্তু একই সাথে, এর জন্য কোম্পানিগুলো লোকাল প্রোডাক্ট কিনতে চাবে না। যদি বাইরের দেশের প্রোডাক্ট কম দামে পাওয়া যায় তাহলে কেউ বেশি দাম দিয়ে দেশের প্রোডাক্ট কেন কিনতে যাবে? এর ফলে দেশগুলোতে চাকরির সুযোগ কমে যায়, এবং অসম বিকাশ ঘটে। অসম বিকাশ ঘটে কেননা এই ফ্রি ট্রেডের কারণে কিছু লোক ধনী হয়, আর কিছু লোক হয় গরিব, ফলে রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পায়।

* তাহলে এর পরিণাম কী হতে যাচ্ছে?

কিছুই বলা যাচ্ছে না। ঐতিহাসিকগণ বলছেন, শুল্ক বসানোর পর প্রায় সময়েই কাস্টোমারদের খরচ বেড়ে গেছে, আর অর্থনীতিবিদগণও এর বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের দলের রিপাবলিকানরাও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, কারণ তারা বরাবরেই ফ্রি ট্রেড বা মুক্ত বাজারের অনেক বড় সমর্থক (তারা দক্ষিণপন্থী কিনা, তবে দুপক্ষের উদ্দেশ্য বিভিন্ন, বামপন্থীরা প্রোটেকশনিজম সাপোর্ট করে বা ফ্রি ট্রেড এর বিরোধিতা করে সাধারণ জনগণকে ট্রান্সন্যাশনালিস্ট ক্যাপিটালিস্টদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য, আর ট্রাম্পের মত দক্ষিণপন্থীরা করছে দেশের জব সেক্টরকে বাঁচাতে বা নতুন করে তৈরি করতে, এখন অনেক দক্ষিণপন্থীই রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণপন্থী হলেও অর্থনৈতিকভাবে বামপন্থার দিকে যাচ্ছেন কেননা তাদের মতে মুক্ত বাজার কার্যকরীভাবে কাজ করে না আর একে আটকাবার জন্য সরকারী বাঁধাদানের দরকার আছে। এদিকে এদের বিরোধিতা করার জন্য কিছু বামপন্থী ফ্রি ট্রেডকেও সমর্থন করছে...)। যাই হোক, সম্ভাবনা আছে যে চীনা পণ্যের উপর শুল্কারোপে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভোক্তাদের জন্যই ক্ষতিকর হচ্ছে না, সেই সাথে ক্ষতিকর হতে পারে পৃথিবীর সব ভোক্তার জন্যই।

(বিবিসি এর একটি প্রতিবেদন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা)


239 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন