Srijita Sanyal Sur RSS feed

Srijita Sanyal Surএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................
  • ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা
    ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, ...
  • সতী
    সতী : প্রথম পর্বপ্রসেনজিৎ বসুমেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

Srijita Sanyal Sur

ইপ্সিতা বলল, রিভিউ লেখ। আমি বললাম, আমি কি সিনেমা বুঝি নাকি? ইপ্সিতা বলল, যা দেখে ভাল লাগল তাই লেখ। আমি বললাম, তবে তাই হোক।

সিনেমা র নাম, রেনবো জেলি। ইউটিউবে ট্রেলার দেখেই বড্ড ভাল লাগল। তাই রিলিজ করার পরের দিনই আমার চারবছুরের কন্যে সহ আমি হলমুখী।
টাইটেল কার্ড। দুর্দান্ত ঝকঝকে। উজ্জ্বল রঙ কিন্তু স্বপ্নের মত। রূপকথা শুরু সেখান থেকেই। শুরুতেই ট্রিবিউট লীলা মজুমদারকে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল টার্ম এর বাংলা পরিভাষা চোখ টানল। এডিটিং এর বাংলা বুনোট। বেশ। শুরু হোক তবে।
ঘোঁতন। এমন একটা বয়স ছেলেটির যেখানে সব কিছু ভাল লাগার কথা। আর এ বেচারা আটকে রান্নাঘরে। মামার খিদমত খাটতে। মহাব্রত নাম এই খুদে অভিনেতার। প্রতিটা শব্দ সে ঘোঁতন হয়ে বলে গেছে। " আহ, আমি পড়ে যাব তো।" কিম্বা লজ্জা পেয়ে, " না না তেমন কিছু নয়।"। চলা ফেরা, তাকানো কিছুতেই সে ঘোঁতনের বাইরে অন্য কেউ নয়। পরিমিতিবোধ শেখা উচিত অনেকেরই এর কাছে। আর প্রশংসা করতেই হয় এই চরিত্রটি যিনি সৃষ্টি করেছেন। অসহায় কিন্তু নির্বোধ নয়। নিজেকে বাঁচানোর, ঠিক সার্ভাইভ করার বোধ দিয়ে গড়া "বুদ্ধিমান" একটি লো আইকিউ কিশোর। যার জন্য মায়া হবে, করুণা নয়। সাইডলাইন থেকে যার জন্য, "যা বেটা, লড়ে খেল" বলে চেঁচানো যায়।
শ্রীলেখা মিত্র। উফফ। কি আর বলব। মানে যা বলব তাই কম। পরীপিসি একদম এমনই তো হবে। পারফেক্ট লীলা মজুমদার টোনে, " আরে: রামো"। শি ইজ বিউটি।
ঝরঝরে গল্প। একে চিত্রনাট্য র প্রশংসাই বলতে হবে তো? মানে এই যে অনেক গুলো চরিত্র, যাদের একদম মূল গল্পের সাথে যোগ নেই, অথচ যারা আছে বলে গল্প এগোয়, তাদের সুন্দর করে গুছিয়ে সাজিয়ে পেশ করা। এটা দারুণ। আর খলচরিত্ররাও কেউ পুরো খল যেন নয়। সবার কাছেই একটু কিছু ভাল আছে। ছোটোরা দুষ্টু লোক হিসেবে কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না। " না, মানে ও তো ভালই হয়ে গেল" দিয়ে শেষ হচ্ছে।
আর ছিল কিছু সময়। উড়ন্ত এরোপ্লেন। শুরুতেই উথলোনো চা দেখে লাফিয়ে ওঠা ঘোঁতন যে আসলে এরোপ্লেনের টানে লাফাচ্ছে, বুঝে আপনিই মনটা ছোটোবেলায় ফেরে। ভাল লাগে ঘোঁতনের উলটো জবাব দিয়ে পাড়ায় মাস্তানি। আদুরে দুষ্টু ছেলেটির ছবি আঁকা। লোকজনকে বিশ্বাস করতে পারার অদ্ভুত ক্ষমতা।
ছবিটির দৈর্ঘ্য সুন্দর। কখনই আমরা ধৈর্য্য হারাই না। আলোর ব্যবহার ভারি ভাল। নিচের ঝুপসি ঘর, কিম্বা সকাল আর রাতে একই উঠোনের দুরকম চেহারা, অথবা ফুটপাথের আলো, আমার চোখে পুরোটাই জ্যান্ত রূপকথার মত।
পুরোটা না চাইতেই পেয়ে যাওয়া নয়, রীতিমত লড়াই করে খুশী খুঁজে আনার গল্প এই সিনেমা।

শুধু আমার মনে হচ্ছিল একটু খুশী ভরা গান থাকলে আরেকটু ভাল লাগত। ঘোঁতন তো শুধু কষ্টে বাঁচে না, সে তার বাঁচাকে সুন্দর করে নেয়। নিজের জন্মদিনে নিজেকে উইশ করে। ঘোঁতন একটা জম্পেশ গান উপহার পেলে আমার তো খুব ভাল লাগত।

আর আমাদের পছন্দের আরেকটা কারণ হচ্ছে ঘোঁতনের বন্ধু ছোট্টো মেয়েটির নাম পপিন্স। আমার সহ-দর্শকটির নামও পপিন্স কিনা।

1 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23
Avatar: সমীর ভট্টাচার্য

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

ঠিকই বলেছেন
Avatar: Sutapa Das

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

জানিনা, দেখবার সুযোগ হবে কিনা। নাম শুনেছি আগে, আপনার অভিজ্ঞতা দেখবার খিদে বাড়িয়ে তুললো।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

কবে যে দেখবো? ইউটিউবে প্রকাশ পেতে বছর গড়াবে বোধহয়। :/

লেখাটি খুব প্রাণোচ্ছল। শাবাশ!
Avatar: ফুটকি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

দমদি, পপিন্স খুবই মজা পেয়েছে। ঘোঁতন রান্না করতে পারে দেখে ভীষণ ইম্প্রেসড। পপিন্সও রান্নাবান্না ভালবাসে কিনা।

সিনেমাটি সত্যিই বড্ড ভাল। সকলেই দেখে ফেলার চেষ্টা করতেই পারেন।
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

এত ছবি হচ্ছে, এই ছবিটা নিয়ে পড়ে আছে কেন ? কলকাতায় গুটিকয়েক হলে রিলিজ হলে তৃতীয় সপ্তাহে আইনক্সের দুটো হলে একটা শো টিকে আছে । বোধ হয় চতুর্থ সপ্তাহ টানতে পারবে না । দেখুন "সুলতান দ্য সেভিয়ার "। টেলিফিল্ম দেখা বন্ধ করে বড় পর্দার সিনেমা দেখার অভ্যাস করুন ।
Avatar: ফুটকি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

নিশ্চই দেখবো। মাশায়াল্লা তোর জেল্লা। আমি সব দেখি। যদিও কেউ ওই " এটা নয় ওটা দেখুন" বললে না দেখার চান্সটা বেড়ে যায়।
Avatar: সিনেমাপ্রেমী বাঙালি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

পাতি বাঙালি কি সাহাদা নাকি? এখনো ওই সব ক্যাটল ক্লাস সাউথের রিমেক দেখে যাচ্ছেন?
Avatar: i

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

সৃজিতার লেখা সুন্দর, আন্তরিক। ভালো লাগল। ফুটকির উত্তরও ( রাত ১১ঃ০৫) ।
Avatar: i

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

পাতি বাঙালী,
চতুর্থ সপ্তাহ হয়ে গেছে। পঞ্চমে পা। আজ থেকে নন্দনে।
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

আধা আঁতলা ছবির শেষ গতি নন্দন ই হয় ।এই ছবিগুলো তো কলকাতা ছেড়ে যেতে চায় না । একমাত্র আঁতেল বাঙালিরাই "রিমেক " ছবি নিয়ে ঘেন্না করে । সারা ভারতে এত রিমেক ছবি হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ কি সুন্দর ভাবে গ্রহণ করে । রিমেক ছবি দেখি কারণ বাংলার পরিচালকরা "সিনেমা " বানাতে শিখল এই সময়ে । বর্তমান বুদ্ধিদীপ্ত বাংলা ছবি মানে তো ডাস্টবিন । "পদ্মাবত " বা " বাহুবলী" এর মত ছবি এখনকার বুদ্ধিদীপ্ত পরিচালকরা পারবে কি ?
Avatar: pi

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

'সারা ভারতে এত রিমেক ছবি হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ কি সুন্দর ভাবে গ্রহণ করে '

এই অথচ টা জোড়ার কারণ?
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

তামিল তেলেগু তে প্রচুর হিন্দি ছবির রিমেক হচ্ছে । সেগুলো নিয়ে ওদের শিক্ষিত মহলে ঘেন্না পিত্তি নেই। "কাহিনী "র তামিল ভার্সন কি সুন্দর ভাবে গ্রহণ করেছিল ।যত নাক সিঁটকানো আমাদের মধ্যে ।" পোস্ত" দেখার পর এক চিত্র সমালোচক জানতে চেয়েছিল কেমন লাগলো আমার । আমি কি বলব, তখন তো "বাহুবলী " র যাদুতে আচ্ছন্ন । কোথায় "বাহুবলী " আর কোথায় আমরা? পাব্লিকদের " আলু পোস্ত " খাওয়াচ্ছি । আমাদের পরিচালকরা কি পারবে না? সেদিন দেখলাম "সুলতান দ্য সেভিয়ার " , ছবির কিছু কিছু দৃশ্য অনেকটা সাধ পূরণ করেছে। এই ছবির শুধু নন্দনে রিলিজ হয়নি বলে আনন্দবাজার গালমন্দ করেছে।
Avatar: র২হ

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

তাইতো। শুধু রিমেকই হোক। রিমেকের রিমেক তার রিমেক তার রিমেক। যে অরিজিনালিটি আমাকে ব্লক বাস্টার দিতে পারিবেনা তাহা লইয়া আমি কিতা করতাম।

তবে পাতি বাঙালী বলেছেন ‘এত ছবি হচ্ছে, এই ছবিটা নিয়ে পড়ে আছে কেন ?‘। এখন যার যেমন রুচি, আপনি ইতিউতি অরিজিনালের মাঝে নকলের ভীড় নিয়ে পড়ে আছেন, এতে আপত্তির কি আছে।

আর ‘বাংলার পরিচালকরা "সিনেমা " বানাতে শিখল এই সময়ে’ এটা ভয়ানক দাবী; কি আর করা।

বাণিজ্যসফল সিনেমা অবশ্যই হোক, এতে সমস্যা কি। কিন্তু অরিজিনালিটি নিয়ে আপত্তি করলে তো আপনার উপাস্য ছবি করিয়েরাও সহমত হবেন বলে মনে হয় না।

যাগ্গে, এই লেখাতে এসব বোধয় কিছু অবান্তর।
Avatar: pi

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

পোস্ত আর রেনবো জেলি সমতুল্য বলছেন ? অথচ পোস্ত কে তো আপনার 'আঁতেল বাঙালি'রাই বেশ ভালই গাল দিয়েছে।সৃজিতের অনেক ছবিই 'আঁতেল বাঙালি' র কাছে দিনরাত খিস্তি খায়।
তাই আপনার লজিকটা মোটেও বোধগম্য হচ্ছেনা।
ওখানে ' অথচ' কেন জুড়েছিলেন , এখনো বুঝিনি।

ভাল কথা, আপনি কি এটা দেখে খারাপ বলছেন ?
Avatar: দ

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

পোস্ত আর রেনবো জেলি একইরকম! আবার বাহুবলী!!


এ কে রে? এ কে?
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

রিমেক আর অরিজিনাল, সব হবে। কিন্তু বর্তমানে অরিজিনাল বা বুদ্ধিদীপ্ত যে সব বাংলা ছবি হচ্ছে তার বেশির ভাগ ভূষিমাল। সেই জায়গায় রিমেক ভালো ছবি হলে তো অসুবিধা নেই। এই ক মাসে তো দেখলাম অনেক ছবি। এর মধ্যে " গুপ্তধনের সন্ধানে " মন্দ নয় । কিন্তু "দৃষ্টিকোণ " , পুরো রদ্দিমার্কা । তার পর "উমা " , " ঘরে & বাইরে " , বসে দেখা যায় না । "হামি " মিডিয়ার সাপোর্ট থাকলে কি না করা যেতে পারে । ওটা সিনেমা না সিরিয়াল? ভালো লেগেছিল " ধারাস্নান" ।যেহেতু হরনাথ চক্রবর্তীর ছবি , কোন পেপার রিভিউ লিখবে না । আঁতেল বাঙালি এই ছবিটার পথ মারাবে না । এমন অরিজিনাল ভূষিমাল দেখার থেকে রিমেক দেখা ভালো নয় কি ?
Avatar: r2h

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

হামি, উমা ওগুলো ঢপের সিনেমা এতে অবশ্য আপত্তি নেই।
কিন্তু রেনবো জেলি, আমি যদিও এখনো দেখার সুযোগ পাইনি, প্রোমো, রিভিউ ইত্যাদি দেখে পড়ে যা বুঝছি, অন্য রকম, অন্য জঁর।

মুশকিল হলো হামি, উমা ওগুলোও আমি দেখিনি, কিন্তু হামি টিমের আগের সিনেমাগুলো দেখেছি কিছু, ইচ্ছে খুব ভালো লেগেছিলো, তারপর থেকে আর নেওয়া যায়নি, বেলাশেষে ইত্যাদি তো খুবই খারাপ লেগেছে, তাই আর রিস্ক নিই না। উমা - প্লট সামারি এসব পড়ে গগনবিহারী গল্পের গরু টাইপ মনে হলো। তাছাড়া সৃজিতবাবু লেটলি কিছু বৃহৎ গজভুক্ত কপিত্থ বানিয়েছেন, একটু আধটু দেখেছি, তাই আর ভরসা হয়না।
আবার বাহুবলী আমি কিন্তু দেখেছি, দুটোই, পুরোপুরি ফ্যান্টাসি, এনারটেনিং, যদিও দেখা শেষ হওয়ার পরই সিনেমা শেষ, কিছু মনে থাকেনা, তবে সে ঠিক আছে।

কিন্তু এখানে আলোচ্য সিনেমাটির সঙ্গে তো এই সিনেমাগুলোর কোনটাই ধারার দিক দিয়ে মেলে না। সাধারন দর্শক হিসেবে এইটুকুই বুঝতে পারছি, সিনেমার টেকনিকেল বা তাত্ত্বিক ব্যাপার তো কিছু জানিনা।

এখানে কি আলোচনাতে, ফড়িং, বাকিটা ব্যক্তিগত - এসব সিনেমা আসতে পারতো? ইন্ডি মুভি?

গোয়েনদা বলে একটা সিনেমা দেখেছিলাম, টেলিছবি বোধয়। বেশ ভালো লেগেছিল।

তবে ঐ আরকি, এখানে অন্য সিনেমার সঙ্গে তুলনা এসব মনে হয় একেবারেই অবান্তর হচ্ছে। আর লিখবো না এসব।

রেনবো জেলি দেখতে খুবই আগ্রহী, সুযোগ পেলে অবশ্যই দেখবো। যারা দেখেছে তাদের আরো মতামত জানতে চাই।
Avatar: pi

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

যা লেখার হুতৈ লিখে দিয়েছে। ইচ্ছে বা রামধনু যত ভাল লেগেছিল, অলীক সুক্জ, মুক্তধারা, বা প্রাক্তন যেটুকু দেখেছি, ততটাই খারাপ লেগেছে, হামি নিয়েও যা পড়েছি, বেশিরভাগই তেড়ে গাল দিয়েছে।
বেলাশেষের মতই উমার প্লট শুনে আর ট্রেইলর দেখে, রিভ্যু পথে দেখার মোটেও ইচ্ছে নেই, রাজকাহিনি আর হেমলক সোসাইটির পরে এমনি চলে গেছিল, চতুষ্কোণ দেখে আবার কিছিটস জেগেছিল।

সহজপাঠের গপ্পো, আসা যাওয়ার মাঝে বা রেনবো জেলির ট্রেইলর, নানা লেখা, রিভ্যু
পড়ে এগুলোর থেকে আলাদা লেগেছে।

বাকিটা ব্যক্তিগত দেখে বেশ ভাল লেগেছিল, ফড়িঙ্গ ও বেশ।


তো কথা হল, এগুলোকে ভাল বলা লোকজনের বেশিরভাগকেই প্রথম প্যারার বেশিরভাগ সিনেমা কে গালি দিতে দেখি।


তাই কোথাও যেন মনে হচ্ছে আপনি মুড়ি মিছরি গোলাচ্ছেন।
Avatar: i

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

আমার মনে হয় পাতি বাঙালী মিডিয়ার সাপোর্টের কথা বলতে চাইছেন। আমি ওঁর পোস্ট পড়ে যা বুঝ্লাম,উনি বলছেন, কিছু সিনেমা বাজারী মিডিয়ার পাবলিসিটি পায় অথচ সিনেমা হিসেবে সেগুলি 'রদ্দিমার্কা' বা 'বসে দেখা যায় না'; এদিকে তথাকথিত রিমেক বা না রিমেক পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক সিনেমা যেগুলি ওঁর ভালো লেগেছে, বাজারী মিডিয়ায় এবং গুরুচন্ডালির মত ফোরামে ব্রাত্য থেকে যায়/ গেছে।
সিনেমাগুলি যা উনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেগুলি একটিও দেখি নি তাই কিছুই বলতে পারলাম না। তবে ধারাস্নানের রিভিউ না হোক, উল্লাস মল্লিকের উপন্যাস নিয়ে সিনেমা তৈরি হওয়ার কথা, ঋতুপর্ণা কাঞ্চনের জুটির কথা, দেবজ্যোতি মিশ্রর সঙ্গীত পরিচালনার কথা আমি বাজারী কাগজেই পড়েছি।

বলি কি,পাতি বাঙালী, আপনি এখনকার বাংলা সিনেমা নিয়ে আলাদা করে লিখুন না। ভিন্ন টই খুলে। কেন খারাপ, কেন ভালো-এই সব।
আমরা পড়ব।
Avatar: পাতি বাঙ্গালী

Re: রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....

কাল নন্দনে দেখলাম " রেনবো জেলি "। ছবিটা নিয়ে এখানে কি আলোড়ন, নন্দনে টিকিট কেটে দেখি লাইন, কিসের লাইন ? জানলাম ঢোকার জন্য নাকি লাইন দিতে হয়, কিন্তু কেন ? আমার কাছে তো বৈধ টিকিট আছে আর তাতে আসন সংখ্যা আছে, আগে গেলে বসার জন্য ভালো আসন পাবো, ব্যাপারটা তো তা নয়, নন্দনের বুদ্ধিজীবিরা দেখলাম আমার কথার মানে বুঝতে পারলো না ,
ছবির কথায় আসি , একটা শিশু চলচ্চিত্র বানাবার প্রয়াস, প্রসাসকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু শুরুতেই "ইউ এ " সার্টিফিকেট দেখে বমকে গেলাম, এখানে " এ" এলো কোথা থেকে ? শিশু নিগ্রহ না কি ঘোতন ও পপিন্স-এর বাল্য প্রেমের জন্য ?
ঘোতন সুস্থ স্বাভাবিক নয়, মা বাবা প্রয়াত, মামার ( কৌশিক সেন ) কাছে আশ্রিত, মামার খিদমত খাটে আর পান থেকে চুন খসলে মামা "লাতের বাত" বলে পেছনে লাথি মারে । জানা গেলে, ঘোতনের বাবা নাকি অনেক কিছু রেখে গেছে, কিন্তু ঘোতন প্রাপ্তবয়স্ক না হলে সেই সম্পত্তির অধিকারী হবে না, তত দিন মামার লাঠি ঝ্যাটা খাও ।
গল্পটা শুনে খুব ঘিসি পিটি মনে হয়, এমন গল্প নিয়ে তো কত ছবি হয়ে গেছে, আর সেই সোনার কেল্লা থেকে শিশু চলচ্চিত্র মানেই কি বেশ একটা গুপ্তধন পাবার চব্য থাকবে, এই গুপ্তধন পাবার ফান্ডাটা শিশুরা গিলে ফেলেলেও তাদের বাবা মায়েরা এখনও ক্লান্তি বোধ করে না । সব ছবিতেই এই ফান্ডাটার সঙ্গে থাকে একটা পাসওয়ার্ডের ঝক্কি ।
তবুও ঠিকঠাক ছিল, মোটামুটি উতরে গেছিল এই ধরনের অরিজিনাল সিনেমা । মুশকিলটা হল অরিজিনাল ছবি যারা করেন, আনন্দবাজার একটু ভালো বলে দিলেই ভাবতে থাকেন " আমি বড় হনু "।
পুরো ছবির সময়টা হল ফেব্রুয়ারী মাস, শীতকাল, যখন ঘোতন সোয়েটার পড়ে তখন অন্যান্যদের গায়ে একটা গরম জামা থাকে না, এই ছবিতে শীতকালে ঘোতনের শুধু শীত করে । অথচ ছবিতে সময়টাকে ঠিকঠাক ধরতে পারলে ছবির একটা মাত্রা পেত সেই জ্ঞানটা নেই পরিচালক শৌকর্য ঘোষালের ।
এর পর তো নানা অসঙ্গতি, গন্ডারিয়া মানে মামা ঠিক কি করে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু কাবুলীওয়ালার (ইকবাল সুলতান )মত কেউ এসে তাগাদা করে ।
রাত বিরেতে দরজায় কড়া নেড়ে বাড়ীতে ঢোকে পরীপিসি ( শ্রীলেখা মিত্র ) সাত দিনে সাত স্বাদের রান্না করবে বলে ঘোতনকে কি সব ভুজুং ভাজুং দেয়, আর সেই যে আঁতলামোটা ছবিতে জোরজবস্তি ঢোকালেন কোন শিশুর মাথায় কি ঢুকবে, বাড়ীতে আছেন, অথচ বাড়ীর মালিক কিছুই জানতে পারছে না, এটা তো দর্শকদের ভুজুং ভাজুং দেওয়া নয় কি ?
বাড়ীর সেই পুরোনো রোবোট, মামা পাসওয়ার্ড সন্ধানে জেরবার, সেটায় তো একদিন আগুন ধরে গেল , ঘোতন কিন্তু সেটা সারিয়ে ঠিকঠাক পাসওয়ার্ড দিয়ে ঠিক গুপ্তধন হজম করে নিল, কি অরিজিনল ভাবনা ?
আর মামা হঠাৎ পটল তুললো কেন, পাড়া পড়শী ঘোতনকে কেন "অপয়া" বলল, তার যুক্তি খুঁজতে যাবেন না ।
আর ঐ দৃশ্যটা, সাত রঙের লজেন্স ছাদ থেকে ছুড়ে দিচ্ছে পপিন্স বলে মেয়েটাকে, কেউ খেয়াল করেছেন কিনা,।, সেই লজেন্স ছাদে গিয়ে বিলকুল বদলে যাচ্ছে, এত বড় কন্টিনিউটি ভুল কি দেখলেন না পরিচালক মশাই । এখন অনেক নিকৃষ্টমানের পরিচালকের ছবিতেও এই রকম ভুল থাকে না ।
সবই খারাপ, ভালো কিছুই নেই, ভালো লাগবে কৌশিক সেনকে । ঘোতনের চরিত্রে মহাব্রত বসুও ভালো, অন্তন্ত মনে হয়নি, "হামি"র মত ডুগডুগি বাজিয়ে বাঁদর নাচাচ্ছে ।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন