Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৭)
    থাচুংসে – কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৭.০৯.২০১৮) --------------------...
  • রাষ্ট্রের ম্যাজিকথলি
    রাষ্ট্র একটি কল্পিত ব্যবস্থা। রাষ্ট্র বলে আসলে কিছু হয় না। আমরা ভেবে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করছি তাই রাষ্ট্র আছে। আমার সামনে এই মুহূর্তে যে কম্পিউটারটা রয়েছে রাষ্ট্রের থেকে তা অনেক বেশি সত্যি। এই স্ক্রীনটাকে আমি ছুঁয়ে দেখতে পারি, রাষ্ট্রকে ছুঁয়ে দেখতে পারি ...
  • অ্যান্টনির বেহালা
    তখন আমি এফডি ব্লকে মুস্তাফির নেটে খেলতে যাই। আমার নিজের কোন ব্যাট ছিল না। ইংলিশ উইলো আর কোত্থেকে পাব! বাবা কাশ্মীরে কাজে গেছিল। একটা কাশ্মীর উইলোর ব্যাট এনে দিয়েছিল। সে ব্যাটে খেলা হয়নি। আসলে ব্যাটটা একেবারে কাঁচা, কারখানা থেকে কেনা। দেশের সব ভাল ব্যাট ...
  • সেন্সরের হাত থেকে বাঁচার সহজ উপায়
    অনেকেই বুঝতে পারছেননা, ভবিষ্যতের ভূত বাতিল হয়েছে স্রেফ শিল্পগত কারণে। বাংলায় এখন শিল্পী একজনই, ভুল করলে তিনি কান মলে দেবেনই। কেউ সেটা না বুঝলে তার একমাত্র কারণ, তিনি মাননীয়ার কবিতা খুঁটিয়ে পড়েনি। পুরোটাই শিক্ষার অভাব। মাননীয়া তাঁর 'নামতা' শীর্ষক কবিতায় ...
  • জঙ্গিবাদ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই দায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ
    জঙ্গিবাদ বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা ও সব থেকে উত্তপ্ত টপিকগুলোর মধ্যে একটি। জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর জন্য সব সময়ই নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, নেয়াও হচ্ছে। কিন্তু কোন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে সেই সমস্যার কারণ জানাটা আবশ্যক। আর সেই ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৬)
    মারখা – থাচুংসে (০৬.০৯.২০১৮)--------...
  • শেষ অস্ত্র
    ইঁদুরের উপদ্রব এতোই বেড়েছে যে, তাদের যন্ত্রণায় বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে। আব্দুর রহমান সাহেব তার এই পঞ্চাশ বছরের জীবনে এমন ইঁদুরের বিস্তার দেখেন নি। সারা বাড়িতে ইঁদুর আর ইঁদুর। দিনে দুপুরে দেখা যায় ইঁদুরেরা দলবল নিয়ে ঘোরাঘোরি করছে। এতোসব ইঁদুরকে ...
  • জার্ণাল ২০১৯ - ২
    জার্ণাল ২০১৯ লেখা শুরু হয়েছিল বছরের গোড়ায়। যেমন হয়, বাকি পড়ে, কিছু লেখাও হয়। আগের লেখার নিচে পর পর জুড়ব ভেবেছিলাম, তা আর হচ্ছে না, তার বদলে আগের লেখার লিঙ্ক রইল। http://www.guruchand...
  • শ্রীপঞ্চমী: পুণ্য মাঘ মাস
    "যায় অন্তরীক্ষেতে অঙ্গদ ডাকাবুকা।বায়ুভরে উড়ে যেন জ্বলন্ত উল্কা।।লঙ্কাপুরী গেল বীর ত্বরিত গমন।পাত্রমিত্র লয়ে যথা বসেছে রাবণ।।"গল্পটি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সৌমেন্দ্রনাথ পালের কাছে শোনা। সৌমেনবাবু আমার বাবারই বয়েসী ছিলেন। স্যারের জন্মদিন বোধহয় 11ই মার্চ, বাবার 5ই ...
  • অভাজনের ভারত ভ্রমণ
    ছোটবেলায় একবার আমার প্রায় ভারত ভ্রমণ হয়েই গিয়েছিল। আমার ছোটবেলা বলতে ১৯৯৭ সালের কথা। ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুল থেকে পিকনিকের আয়োজন করা হল। আমাদের শেরপুরের গজনীতে যাওয়া হবে। গজনীর পাস দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরেখা। একটু বেখেয়ালে একটু বেশি হাঁটলে নিজের অজান্তেই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিশ্ব যখন নিদ্রামগন

Sutapa Das

প্রত্যেকটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়া কিছু দিন থাকে, থাকে রাত, যার পর আর কিছুতেই নিজের পূর্বসত্বার কাছে ফিরতে পারা যায় না, ওটাই বোধহয় নিজঅস্ত্বিত্বের 'রেস্টোর পয়েন্ট' হয়ে দাঁড়ায় সর্বশক্তিমান প্রোগ্রামারের মর্জিমাফিক।

25শে সেপ্টেম্বর, 1992 রাত আনুমানিক পৌনে তিনটা, ঈভল্যান্ড ক্লিনিক। ঠিক ঐ দিন ঘন্টাখানেক পরে আমার 'সফ্টওয়্যার আপডেট' হয়েছিলো। তারপরেও, অনেক, অনেক, প্রায় প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে পাল্টাতে পাল্টাতে সিস্টেম আপডেটেড হলেও বহুবার, অমন 'উল্টে দেখো, পাল্টে গেছি' পরিবর্তন হয়নি এ যাবত।

সে রাতের সে সময়ে , আবারও ফেরা যাবে না, শুধু মগজে তালাবন্দী স্মৃতিকে 'রিকভার' করবার চেষ্টা করা যেতে পারে মাত্র!

আমার প্রথম সন্তানের ভূমিষ্ঠ হবার সময় আসন্ন, আসন্নপ্রসবাকে ডাক্তার বাবু আগেই বুঝিয়েছেন তার অত্যধিক উচ্চরক্তচাপের দরুন স্বাভাবিক প্রসবের ঝুঁকি নেবেন না তিনি। উপরন্তু অপারেশনের আগের রাতে রক্তচাপ স্হিতিশীল করতে অন্যান্য ঔষধের সাথে মৃদুমাত্রার ঘুমের ঔষধও দেওয়া হয়েছে।

তো, সেই মধ্যযামে অন্তর্নিহিত উদ্বেগেই হোক কি পাশের শয্যার মেয়েটির প্রসববেদনাজনিত লাগাতার কান্নাকাটিতেই, নিদ্রাদেবী উধাও হলেন। চোখ মেললে নার্সদের তাড়না আর চোখ বুজলে মেয়েটির আর্তনাদ, কোনটি শ্রেয় বোঝবার চেষ্টা করেই কাটিয়ে দিলাম প্রায় আরেকটি ঘন্টা।

এবার অপূর্ণ ঘুমের ক্লান্তিতে অবসন্ন বোধ হচ্ছে। ছন্নছাড়া, আপাত সম্পর্কহীন যতসব চিন্তাগুলো উড়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু থিতু হয়ে জমিয়ে বসছে না মগজে।

আরো খানিক এপাশ সেপাশ করে প্রাতকৃত্য সম্পাদনের ইচ্ছেয় শয্যাত্যাগ, হাল্কা বিবাদ ডিউটিরত সিস্টারের সাথে। তিনি তার দায়িত্ববোধ থেকে আমায় একা কলঘরে যেতে দেবেন না, আর আমি, বরাবরের একগুঁয়ে মেয়ে, স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছি তো সহায়িকা ট্যাগ করা হবে কোন যুক্তিতে বোঝবার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, এবং অবশেষে... প্রত্যাশিত ফললাভ, প্রতিপক্ষ রণে ভঙ্গ দিলেন!! যুদ্ধজয়ের আনন্দে, একা গেলাম প্র্যাত্যহিক কর্ম সম্পাদনে আর, তারপরই, ফেরার পথে বারান্দায়... সেই ব্রাহ্মমূহুর্তের অন্ধকারে, গোটা পুবাকাশ এক নবীনদিন কে বরণ করে নেবার জন্যে প্রস্তুতিমগ্ন দেখে, এক অভূতপূর্ব, অনাস্বাদিত বোধসিক্ত হলো এ মন।

মন্ত্রমুগ্ধের মত, গুটি গুটি পায়ে শেষরাতে ঘুমিয়ে পড়া রাতপ্রহরীকে পাশ কাটিয়ে, শব্দহীন অর্গলমুক্ত করে দরজা কে (গত শতকের শেষদশকে মফঃস্বলের সে সদ্য গড়ে উঠতে থাকা নার্সিংহোমে কোন কোলাপসিবল ছিলো না তখনো), অর্ধসমাপ্ত নির্মানকে সাবধানে পিছে ফেলে, সকলকে ফাঁকি দিয়ে রাস্তার ধারে মুক্ত প্রান্তরের ওপারে নতুন সূর্যকে স্বাগত জানাবার সেই মূহুর্ত কে পলকহীন দেখতে থাকলাম এই অগভীর , কুতার্কিক , অস্হিরমনা হবু মা, আমি।

খু..উ..ব ধীরে ধীরে মনে শল্য সংক্রান্ত উদ্বেগ, অবচেতনে ঘুমিয়ে থাকা নিজের মৃত্যুভয় সব শরতের মেঘের মত মিলিয়ে যেতে থাকলো। মনের ভেতরের মন, শব্দ উচ্চারন না করে এক প্রত্যয় জন্ম দিলো বোধে, আজকের সূর্য পাল্টে দেবে আমার বাকী জীবনের গতিধারা, প্রজাপতির মত ভাবনাহীন জীবনের হাত ছেড়ে বিদায় জানানোর মহামূহুর্ত উপস্হিত আজ...আজ 'আমি মা হবো' , আমার দায়িত্ব হবে সেই অসহায় প্রাণটির সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা প্রদান আর অন্তর্নিহিত সব সম্ভাবনাকে বিকশিত হবার সুযোগ দেওয়া।

জীবননদীতে বয়ে যেতে যেতে, পাল্টে যাই আমরা, একপর্যায়ে এসে দেখি সময়ের স্রোত ভাসিয়ে এনেছে অনেকদুর, কিন্তু পদ্ধতিটি চলাকালীন সচেতন মন সর্বদা অনুভব করে না পরিবর্তন।

কিন্তু এ এক অদ্ভুত মূহুর্ত, যেন মোহাবিষ্ট অবস্হায় দৈবী আশিস প্রাপ্তি! গুরুগম্ভীর দায়িত্ব চেপে বসতে চলেছে তাই পথ দেখানোর জন্যে নিজের জন্মদাত্রীর অনুপস্হিতিতে সারা চরাচর যেন একীভূত হয়ে আমার অবচেতনকে আশ্বস্ত করে , পরিস্হিতি মুকাবিলা করবার জন্যে পর্যাপ্ত আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা যোগান দেবার দায়িত্ব গ্রহন করলো!! এক নতুন দিন যখন জন্ম নেয়, প্রকৃতি মা যেমন সাদরে দুহাত বাড়িয়ে গ্রহণ করেন তাকে, ঠিক তেমনই এক ‘মাতৃত্ব’ আগে জন্ম নিলো আমার মধ্যে সব ছেলেমানুষী সরিয়ে রেখে, যে দিনের আলো ফোটার পর নার্সিংহোমে ফিরে সবার উদ্বিগ্ন প্রশ্ন আর শাসনে, এতোটুকুও বাদানুবাদ না করে, স্হির প্রত্যয়ে, নির্ভয়ে কাটায় আরো সাড়ে ছয় ঘন্টা। অপারেশন থিয়েটারে নিজে হেঁটে যাবার সময়, যেন শ্রাবণজাতাকে স্বস্তি আর সাহস দিতেই, আশ্বিনেও , মেঘমল্লার, রিমঝিম নামে বৃষ্টি। বেলা বারোটা বেজে ছত্তিরিশ মিনিটে সম্পূর্ন সজ্ঞানে, নির্ভয়ে, ডাক্তারকে সম্পূর্ন সহায়তা করে সীজারিয়ান সেকশনে ,পৃথিবীর আলো দেখায় নতুন 'মা', তার জীবন পাল্টে দেবার তুলি’কে।
আজও হরেক রঙ জুড়ে চলেছে আমার জীবনে সে ,কালের নিরিখে আরেকটু সময় মাত্র দেরী, নিজের জীবনও রাঙিয়ে তুলবে ঠিক এমনই, আমার তুলি।

128 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন