Sumit Roy RSS feed

Sumit Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রেন লেট্ আছে!
    আমরা প্রচন্ড বুদ্ধিমান। গত কয়েকদিনে আমরা বুঝে গেছি যে ভারতবর্ষ দেশটা আসলে একটা ট্রেনের মতো, যে ট্রেনে একবার উদ্বাস্তুগুলোকে সিটে বসতে দিলে শেষমেশ নিজেদেরই সিট জুটবে না। নিচে নেমে বসতে হবে তারপর। কারণ সিট শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা ! দেশ ব্যাপারটা এতটাই সোজা। ...
  • একটা নতুন গান
    আসমানী জহরত (The 0ne Rupee Film Project)-এর কাজ যখন চলছে দেবদীপ-এর মোমবাতি গানটা তখন অলরেডি রেকর্ড হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগেই। গানটা প্রথম শুনেছিলাম ২০১১-র লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সম্ভবত। সামনাসামনি। তো, সেই গানের একটা আনপ্লাগড লাইভ ভার্শন আমরা পার্টি ...
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...
  • অনুপ্রদান
    শিক্ষাক্ষেত্রে তোলাবাজিতে অনিয়ম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত গত কিছুদিনে কলেজে ভর্তি নিয়ে তোলাবাজি তথা অনুদান নিয়ে অভিযোগের সামনে নানা মহল থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পরে রাজ্য সরকার।শিক্ষামন্ত্রী এদিন ...
  • গুজবের সংসার
    গুজব নিয়ে সেই মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চারটা লাশ আর চারজন ধর্ষণের গুজব কি গুজব ছিল না? এত বড় একটা মিথ্যাচার, যার কারনে কত কি হয়ে যেতে পারত, এই জনপথের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারত অথচ রসিকতার ছলে এই মিথ্যাচার কে হালকা করে দেওয়া হল। ছাত্রলীগ যে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কিলার বি কেলেঙ্কারি

Sumit Roy


http://cdn.iflscience.com/images/83be9bab-a2f4-5631-b93f-7440e7db35b4/
extra_large-1528453494-cover-image.jpg


পঞ্চাশের দশকে এক ব্রাজিলিয়ান এন্টমোলজিস্ট (পোকামাকড় নিয়ে গবেষণা করে যারা তাদেরকে এন্টমোলজিস্ট বলে) একটা কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে বসেন। তিনি ভাবছিলেন, কিভাবে হানি বি বা মৌমাছিদের তৈরি মধুর স্বাদ আরও বেশি বাড়ানো যায়। নরমাল টেস্টে মন ভরছিল না আরকি... তাই তিনি একটা কাজ করে বসলেন। তিনি ইউরোপিয়ান হানি বি এর এর বিভিন্ন প্রজাতির সাথে আফ্রিকান হানি বি এর ক্রস করে হাইব্রিড জাত তৈরি করেন। কিন্তু এর রেজাল্ট যা হল তা ছিল ভয়ানক। এই ক্রসিং এর ফলে যে মৌমাছি তৈরি হয় তারা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আক্রমণাত্মক ও বদরাগী। এদের নাম দেয়া হয় আফ্রিকানাইজড হানি বি। তবে সাধারণ মানুষ এদের আরেক নামে চেন... কিলার বি...

যাই হোক, এই কিলার বি-দেরকে বন্দী করেই রাখা হয়েছিল, কিন্তু ১৯৫৭ সালে এরা পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া কিলার বি এর সংখ্যা একটা দুটো ছিল না, পুরো ২৬টা ঝাক! এরপর এরা বংশবিস্তার করে, উত্তর-দক্ষিণ উভয় আমেরিকাতেই ছড়িয়ে পরে, আর এভাবেই ১৯৮৫ সালে এরা চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রে।

এই কিলার বি সম্পর্কে কিছু কথা বলা যায়। এদের আকার ইউরোপিয়ান হানি বি এর চেয়ে ছোট, আর এদের বিষও কম প্রাণঘাতী। কিন্তু তাতে নিশ্চিন্ত হবার কিছু নেই, এদের হিংস্রতা, তাদের রাগী মেজাজই তাদেরকে "কিলার বি"-তে পরিণত করেছে। এরা মানুষকে ৪০০ মিটার অবধি তাড়া করতে পারে, আর সাধারণ মৌমাছিদের চেয়েও এরা ১০ গুণ বেশি হুল ফোটায়। এপর্যন্ত কিলার বি এর "কামড়ে" প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছে, সেই সাথে ঘোড়া বা অন্যান্য প্রাণী তো আছেই...

কিন্তু কেন এরা এত বেশি এগ্রেসিভ? সেই ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাই এটা বের করার দায়িত্ব নিয়েছেন। গবেষণা করে তারা কি পেলেন সেটা পড়েই আজকে এটা নিয়ে লেখার আগ্রহ তৈরি হল আরকি... গবেষকগণ কিলার বি এর মৌচাকের পাশে একটা চামড়ার বল ছুড়ে দেয়, এরপর কিলার বিরা ক্ষেপে গিয়ে সেই বলে হুল ফোটায়। সেখান থেকে গবেষকগণ কয়েকটা কিলার বি তুলে নিয়ে লিকুইড নাইট্রোজেনে জমিয়ে ফেলেন।

এরপর এই গবেষকগণ এদের মস্তিষ্কের প্রোটিনগুলোর দিকে নজর দেন, যাদেরকে নিউরোপেপটাইড বলা হয়। এটা তারা করেন মাস স্পেকটাল ইমেজিং নামে একটি পদ্ধতিতে। আর দেখেন এই নিউরোপেপটাইড এর দুটো গ্রুপের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্রথম গ্রুপটির নাম হচ্ছে এলাটোস্টেটিনস এ। এই প্রোটিনটি এদের শিক্ষা, স্মৃতি, সাধারণ বিকাশ এর সাথে সম্পর্কিত। আর দ্বিতীয় প্রকরণের প্রটিনকে বলা হয় টাকিকিনিন-রিলেটেড পেপটাইড। এই টাইপের প্রোটিনটি একটু রহস্যময়। কিন্তু সবাই জানেন, এই প্রোটিনটির সাথে সেন্সরি স্টিমুলি এর সম্পর্ক আছে, মানে যেকোন ধরণের সেন্স এর সাথে সম্পর্কিত উদ্দীপনার সাথে এর সম্পর্ক। গবেষকগণ আবিষ্কার করলেন কিলার বি-দের ক্ষেত্রে এই দুরকম প্রোটিন এর দৈর্ঘ্যই নরমাল মৌমাছিদের বেলায় এর যে দৈর্ঘ্য থাকে তার চেয়ে কম। এটা ছাড়াও অবশ্য তারা এদের ব্রেইন ক্লাস্টার বা নিউরোপিলসেও সামান্য পার্থক্য পেয়েছেন।

যাই হোক, এইটুকু পেলেই তো হবে না, আরও দূরে যেতে হবে। গবেষকরা বুঝলেন যে এই প্রোটিনগুলো কিলার বিদের বেলায় খাটো তাই এরা এত রাগী, কিন্তু এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেতে এই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটানো চাই, নাকি? তারা এবারে কিছু শান্ত শিষ্ট হানি বি-কে ধরে এনে, এদেরকে অজ্ঞান করে দিয়ে এদের মধ্যে ঐ খাটো ভারশনের প্রোটিনগুলোকে ইনজেক্ট করে দিল। ব্যাস, দেখা গেল, ঘুম থেকে ওঠার পর এই শান্ত শিষ্ট মৌমাছিগুলোও কিলার বি-দের মত সাংঘাতিক রকমের আক্রমণাত্মক হয়ে গেছে। এই বছরের ১৮ই মে-তে জার্নাল অফ প্রটিওম রিসার্চ নামক জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

কী অসাধারণ আবিষ্কার... আগে কিলার বি বানাতে কষ্ট করে বিভিন্ন প্রজাতির হানি বি ধরে এনে ক্রসিং করতে হত, এখন সেটারও দরকার নেই, এই প্রোটিনগুলোর ইনজেকশন দিলেই চলবে... ইউরেকা!! তবে এখনও পরিষ্কার নয় যে খাটো ভারশনের প্রোটিনগুলোই কেন মৌমাছিদের আচরণে এতটা প্রভাব ফেলছে। এটা জানতে আরও গবেষণা দরকার। যদি জানা যায়, তাহলে শুধু মৌমাছি নয়, আরও অনেক কীটপতঙ্গের আচরণ, তাদের মস্তিষ্কের প্রকৃতি বিষয়ক অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যাবে, তখন এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার, এদেরকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার আরও অনেক নতুন উপায়ও হয়তো আবিষ্কার হবে। দেখা যাক, কিলার বি কেলেঙ্কারি থেকে আরও ভাল কিছু পাওয়া যায় কিনা...


তথ্যসূত্র:

১। কিলার বি এর উদ্ভব: http://www.badbeekeeping.com/kerr.htm
২। প্রায় এক হাজার মানুষ হত্যা: http://www.badbeekeeping.com/kerr.htm
৩। জার্নাল অফ প্রটিওম রিসার্চ-এ প্রকাশিত পেপারটি: https://pubs.acs.org/doi/10.1021/acs.jproteome.8b00098

শেয়ার করুন


Avatar: Atoz

Re: কিলার বি কেলেঙ্কারি

২৬ ঝাঁক খুনে-মৌমাছি পালালো কী করে????? নাকি ওগুলোকে ছেড়ে দিল?
Avatar: pi

Re: কিলার বি কেলেঙ্কারি

ইন্টারেস্টিং কাজ। এরকম ঝরঝরে ভাষায় বিজ্ঞান নিয়ে লিখলে পড়তেও ভাল লাগে। এতে অনেক কৌতূহলের নিরসন হবে, আরো আরো না জানার বন্ধ দরজাও এই লাইন ধরে পরের আবিষ্কারেরা খুলবে নিশ্চয়, কিন্তু অন্য একটা ছোট কৌতূহল। এর বাস্তব প্রয়োগ কিছু আছে? অদূর না হোক সুদূর ভবিষ্যতে?
Avatar: Sumit Roy

Re: কিলার বি কেলেঙ্কারি

কিভাবে পালালো সেটা জানিনা। বাস্তব প্রয়োগ বলতে, কিভাবে এই নিউরোপেপটাইডের প্রোটিন ছোট বড় হবার সাথে মৌমাছির আচরণ কিভাবে নির্ভর করে, এটা জানা গেলে, অনেক পতঙ্গকেই নিয়ন্ত্রণ করার উপায় আবিষ্কৃত হতে পারে...
Avatar: শঙ্খ

Re: কিলার বি কেলেঙ্কারি

আমিও এরম একটা ইন্জেকশান নিতে চাই। কোথায় পাই?
Avatar: দ

Re: কিলার বি কেলেঙ্কারি

বাঃ বাঃ খাসা লাগল পড়তে।
এভাবেই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন হয় আর কি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন