Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম
    পর্ব ১: আমরাভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে ...
  • ঔদ্ধত্যের খতিয়ান
    সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো ...
  • ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...
    ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪
    আম তেলবিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯
    আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…। '.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র) https://www.youtube....
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ঈদ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

ঈদ ঠিক ঈদের দিন হয়না। ঈদ শুরু হয় রোজার শুরু থেকে। ঈদের দিন ঈদ শেষ হয়। দৈনিক ঈদ হচ্ছে এখন বাংলাদেশে আনাচেকানাচে, সর্বত্র। ছোট শহর থেকে বড় শহর, মেগা শহর। ঈদের আমেজ তৈরি হয়ে গেছে। ঈদের দিন তার সমাপ্তি হবে শুধু। শপিং নামের যুদ্ধ না শুধু, ঈদের আমেজ ঈদ আসছে এ কথার মাঝেই বেশি। ঈদের দিন কে কি করবে তার পরিকল্পনায় ঈদের ফুর্তি, ঈদের ছুটিতে ছুটতে ছুটতে বাড়ি ফেরাতে ঈদ, বাড়ি ফিরে বহুদিন পড়ে বন্ধুর মুখ দেখার মাঝে ঈদ, রাত পার করে দেওয়া বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ঈদ, চানরাত পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সারা বছরের মূল ব্যবসা করে নেওয়ার মাঝে ঈদ। ঈদের দিন ঈদের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

আমার আগের ব্যস্ততা নাই। ঢাকা থেকে রীতিমত অভিযান শেষ করে বাড়ির ফেরার দিনগুলি এখন স্মৃতি। এখন অঢেল সময় নিয়ে মানুষের ছোটাছুটি দেখি আমার মফস্বল শহরে। আস্তে আস্তে ঈদের উত্তাপ বেড়ে যাচ্ছে, যতদিন দিন যাচ্ছে তত রাত গভীর করে মার্কেট বন্ধ হচ্ছে। আলোকসজ্জার বাহারি রূপ মফস্বলেও এসে লেগেছে দারুণ ভাবে। মানুষ আসছে, স্বপ্ন কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে, আনন্দ কিনে ফিরছে, উৎসব কিনে নিচ্ছে। কেউ মলিন মুখে দোকানে এসে দাঁড়াচ্ছে, না, কালকে যেটা কিনে নিয়ে গেছে তা পছন্দ হয়নি বাড়ির লোকের। আজকে আবার এসে হাজির, দোকানদার কি বলে তা এক চিন্তা, অন্য চিন্তা আবার যে নিয়ে যাবে, যদি পছন্দ না হয়!! পরের বার দোকানদারের সামনে আসবে কোন মুখে!!

আগে মার্কেট বা শপিং সেন্টারে ভিড় হত। তবে ঈদের শপিং অনেকে বাসায় বসেও করে ফেলত। এখনো করে, তবে তরিকা ভিন্ন। আগে ফেরিওয়ালা নামে এক আজব মানুষ আসত বাড়ি বাড়ি। কাঁধে কাপড়ের টোপলা থাকত। আর হাতে থাকত কাচের ঢাকনা লাগানো বড় একটা বক্স। কাচের উপর দিয়ে দেখা যেত নানা রকমের কানের দুল, গলার মালা সহ আরও কত কি! পোশাক আশাক হয়ত দোকান থেকে কেনা হত, সাজসজ্জার ব্যাপার গুলি সামাল দিত ফেরিওয়ালারাই। কানের দুল কেনা হত, লিপস্টিক, চুড়ি, চুলের ফিতা, নকল চুল!! আমি অবাক হতাম ওই লোকের সংগ্রহের পরিমাণ দেখে। আরও অবাক হতাম উনার আত্মবিশ্বাস দেখে। সব চেয়ে ভাল জিনিস নাকি তিনিই আনতে পারেন, অন্য কেউ এই জিনিস চোখেও দেখিনি কোনদিন।কোন আইটেম উনার কাছে না থাকলে বা কম পড়ে গেলে, উনি ওই জিনিস আবার এনে দিবেন, সামনের সপ্তাহেই এনে দিবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দিতেন তা কতখানি রক্ষা করতেন আজ আর মনে নেই। কারন এদের সাথে ছেলেদের খুব একটা সখ্যতা ছিল না। ছোটবেলার অনেক আফসোসের মধ্যে এটা একটা বড় আফসোস যে উনারা ছেলেদের জন্য কোন জিনিস আনত না। সম বয়সী মেয়ে যে আছে তার জন্যও হয়ত চুড়ি কেনা হল আর আমার জন্য লবডঙ্কা! ওই বয়সে মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর ছিল আমার জন্য।

ছোট বেলাটা খুব একটা সহজ ছিল না আমার। নতুন জামা ঈদে মিস করে গেছে অনেকবার। চানরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকতাম। চানরাতেও যখন আস্তে আস্তে সবাই বাড়ি ফিরে আসত আর আমার পোশাকের কোন খোঁজ পেতাম না তখন বাড়ির সর্বশেষ সদস্যের জন্য আমি না ঘুমিয়ে বসে থাকতাম। তিনিও যখন খালি হাতে ফিরতেন বা তিনি হয়ত সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন কাজে কোথাও গিয়ে ফিরেছেন, কাজেই আমার পোশাকের ব্যাপারে তিনি হয়ত বিন্দুমাত্র কোন খোঁজ খবর জানেন না, তখন আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যেত। ছোট বুকের ওই ব্যথা আজো ভুলতে পারি না।আজকে এসে মনে হয়, কি অবুঝের অত কান্নাকাটি করে আম্মা আব্বাকে কি একটা বিব্রতর ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিতাম তখন। কিন্তু একটা সময় অবস্থার পরিবর্তন হলো। কিন্তু তবুও আমি ঈদের নতুন জামার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। ছোট্ট ঘটনা, কিন্তু আমি এখনো ভুলতে পারিনি।ওই গপ্প করেই শেষ করি ঈদনামচা। সেবার ঈদে আমার পোশাক আশাকের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হয়েছে। মানে আপাদমস্তক যাকে বলে। ফুর্তিতে আমি উড়ছি আর কি! চানরাত মানে ঈদের আগের রাতে আমি কোন কারনে তখনো বাড়ি ফিরিনি। কোথাও যাচ্ছি বা বাড়ি ফিরছি। হাঁটছি, এমন সময় আমার সাথের এক পথচারীর সগক্তি কানে এলো। তিনি বলছেন, আমি কি কমু বাড়িত ফিইরা, জামা কিনমু কি দিয়া, ট্যাহা কই!! আহ! মাইয়া বুঝব আমার কথা!!... আমি হাঁটছিলাম জোরেশোরেই। আমার হাঁটা থেমে গেলো মানে গতি কমে গেলো। ঈদের নতুন জামার ফুর্তি এক ফুঁৎকারে নিভে গিয়েছিল সেইদিন। আমি সেই বাবার কণ্ঠস্বর আজো নিয়ে ঘুরছি। আমি সেদিন সহ্য করতে পারিনি, আজো মনে পড়লে ব্যাকুল হয়ে পড়ি। ঈদের নতুন জামার প্রতি আগ্রহ আমার এরপরে আর ছিল না বললেই চলে। এখনো যতখানি সাধ্য হয় ততখানি করেই ঈদে সাহায্য করি, করার চেষ্টা করি। কিছু না হলেও চা দোকানের যে পিচ্চি প্রতিদিন চা খাওয়া খাওয়ায় তাকে অন্তত একটা জামা বা একটা প্যান্ট বা কিছু না হলে একশ টাকা।নিজের টাকা উপার্জনের পরে শুধু আম্মাকে শাড়ি কিনে দিছিলাম। বাকি সবাই কে বই কিনে উপহার দিছি। ঈদ উপলক্ষে জামা কাপড় কেনা আমার জন্য একটু মুশকিল আসলে। কি করব? নিজের ঈদের জামা না পাওয়ার কষ্টের সাথে ওই অজানা অচেনা এক লোকের কণ্ঠস্বর বড় বেশি উৎপাত করে যে আমাকে!!




235 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: ঈদ

আহ ফেরীওয়ালা!

অনলাইন শপিং এর যুগে এসব রূপকথা মনে হয়!
Avatar: Atoz

Re: ঈদ

আহ, আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনে ছিল ফেরিওয়ালার ম্যাজিক ঝুড়ি। কত কী থাকতো ঝুড়িতে ! এখনও হয়তো আছে কোথাও না কোথাও। জীবনের রূপকথার মত।
Avatar: Du

Re: ঈদ

আপনি ইদের আসল জামা পেয়েছেন। আসমানী জামা।
Avatar: aranya

Re: ঈদ

খুব ভাল লাগল, এই লেখাটা।

'এখনো যতখানি সাধ্য হয় ততখানি করেই ঈদে সাহায্য করি, করার চেষ্টা করি। কিছু না হলেও চা দোকানের যে পিচ্চি প্রতিদিন চা খাওয়া খাওয়ায় তাকে অন্তত একটা জামা বা একটা প্যান্ট বা কিছু না হলে একশ টাকা'

- সকলেই যদি এমন হত..


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন