Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রেড ওয়ার ও ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কিছু সাধারণ আলোচনা
    বর্তমানে আলোচনায় আসা সব খবরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিলিয়ন ডলার মূল্যের উপর কঠিন শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে, যাদের মধ্যে ডিশ ওয়াশার থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফট টায়ার সবই আছে। চায়না অনেক দিন ধরেই এই হুমকির মুখে ...
  • নারীবাদ নিয়ে ইমরান খানের বক্তব্য ও নারীবাদে মাতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক
    সম্প্রতি একটা খবর পড়লাম। পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ এর নেতা ও পাকিস্তান দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান বলেছেন, তিনি পশ্চিমাদের থেকে আমদানি করা নারীবাদ সমর্থন করেন না। তার নারীবাদকে সমর্থন না করবার কারণও তিনি জানান, তার মতে নারীবাদ মাতৃত্বের মর্যাদাকে ছোট ...
  • রেনবো জেলি: যেমন লাগলো দেখে.....
    ইপ্সিতা বলল, রিভিউ লেখ। আমি বললাম, আমি কি সিনেমা বুঝি নাকি? ইপ্সিতা বলল, যা দেখে ভাল লাগল তাই লেখ। আমি বললাম, তবে তাই হোক।সিনেমা র নাম, রেনবো জেলি। ইউটিউবে ট্রেলার দেখেই বড্ড ভাল লাগল। তাই রিলিজ করার পরের দিনই আমার চারবছুরের কন্যে সহ আমি হলমুখী।টাইটেল ...
  • বর্ষা ও খিচুড়ি
    বর্ষাকাল। তিনদিন ধরে ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। আমাদেরও ইস্কুল টিস্কুল বন্ধ। রাস্তায় এক হাঁটু জল। মায়েরও আজ অফিস যাওয়ার উপায় নেই। কি মজা। যদিও পুরোনো বাড়ির ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, ঘরের মেঝেতে ড্যাম্প, জামাকাপড় না শুকিয়ে স্যাঁতস্যাঁত করছে, কিন্তু তাতে আমাদের ...
  • বিজ্ঞাপনের কল
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • বিশ্বাস, পরিবর্তন ও আয়ার্ল্যান্ড
    সম্প্রতি আয়ার্ল্যান্ডে আইনসিদ্ধ হল গর্ভপাত । যদিও এ সিদ্ধান্তকে এখনও অপেক্ষা করতে হবে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য, তবু সকলেই নিশ্চিত যে, সে কেবল সময়ের অপেক্ষা । এ সিদ্ধান্ত সমর্থিত হয়েছে ৬৬.৪ শতাংশ ভোটে । গত ২৫ মে (২০১৮) এ ব্যাপারে আইরিশ সংসদের ...
  • মব জাস্টিস-মব লিঞ্চিং এর সংস্কৃতি ও কিছু সমাজ-মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
    (আজকে এখানে "জুনেদ-এর চিঠিঃ ঈদের নতুন পোশাকে" আর্টিকেলটি পড়তে গিয়ে একটা নতুন টার্মের সাথে পরিচিত হলাম - "মব লিঞ্চিং এর সংস্কৃতি"। এটা কেবল একটা নতুন টার্মই নয়, একটি নতুন কনসার্নও, তাই এটা নিয়ে লেখা...)মব লিঞ্চিং এর ব্যাপারটা এখন আমরা প্রায়ই শুনি। ...
  • বিশ্ব যখন নিদ্রামগন
    প্রত্যেকটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়া কিছু দিন থাকে, থাকে রাত, যার পর আর কিছুতেই নিজের পূর্বসত্বার কাছে ফিরতে পারা যায় না, ওটাই বোধহয় নিজঅস্ত্বিত্বের 'রেস্টোর পয়েন্ট' হয়ে দাঁড়ায় সর্বশক্তিমান প্রোগ্রামারের মর্জিমাফিক।25শে সেপ্টেম্বর, 1992 রাত আনুমানিক পৌনে ...
  • শিক্ষায় সমস্যা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন
    (সম্প্রতি গুরুচণ্ডালির ফেইসবুক গ্রুপে Gour Adhikary বাবুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা পড়লাম। বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি সেখানে। এরমধ্যে কয়েকটি প্রশ্নকে সাজিয়ে লিখলে এরকম হয়, "যারা ফেইল করে, তারা কেন সামান্য পাশ মার্ক জোগাড় করতে পারে ...
  • পরবাসে পরিযায়ী
    আজকে ভারতে চাঁদরাত। অনেকটা দূরে বসে আমি ভাবছি কি হচ্ছে আমার বাড়িতে, আমার পাড়াতে। প্রতিবারের মতো এবারেও নিশ্চয়ই সুন্দর করে সাজিয়েছে পুরো শহরটা। আমাদের বাড়ির সামনের ক্লাবে সার সার দিয়ে বসে আলুকাবলি, আচার, ফুচকা, আইসক্রীম এবং আরো কতকি খাবারের স্টল! আমি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ঈদ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

ঈদ ঠিক ঈদের দিন হয়না। ঈদ শুরু হয় রোজার শুরু থেকে। ঈদের দিন ঈদ শেষ হয়। দৈনিক ঈদ হচ্ছে এখন বাংলাদেশে আনাচেকানাচে, সর্বত্র। ছোট শহর থেকে বড় শহর, মেগা শহর। ঈদের আমেজ তৈরি হয়ে গেছে। ঈদের দিন তার সমাপ্তি হবে শুধু। শপিং নামের যুদ্ধ না শুধু, ঈদের আমেজ ঈদ আসছে এ কথার মাঝেই বেশি। ঈদের দিন কে কি করবে তার পরিকল্পনায় ঈদের ফুর্তি, ঈদের ছুটিতে ছুটতে ছুটতে বাড়ি ফেরাতে ঈদ, বাড়ি ফিরে বহুদিন পড়ে বন্ধুর মুখ দেখার মাঝে ঈদ, রাত পার করে দেওয়া বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ঈদ, চানরাত পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সারা বছরের মূল ব্যবসা করে নেওয়ার মাঝে ঈদ। ঈদের দিন ঈদের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

আমার আগের ব্যস্ততা নাই। ঢাকা থেকে রীতিমত অভিযান শেষ করে বাড়ির ফেরার দিনগুলি এখন স্মৃতি। এখন অঢেল সময় নিয়ে মানুষের ছোটাছুটি দেখি আমার মফস্বল শহরে। আস্তে আস্তে ঈদের উত্তাপ বেড়ে যাচ্ছে, যতদিন দিন যাচ্ছে তত রাত গভীর করে মার্কেট বন্ধ হচ্ছে। আলোকসজ্জার বাহারি রূপ মফস্বলেও এসে লেগেছে দারুণ ভাবে। মানুষ আসছে, স্বপ্ন কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে, আনন্দ কিনে ফিরছে, উৎসব কিনে নিচ্ছে। কেউ মলিন মুখে দোকানে এসে দাঁড়াচ্ছে, না, কালকে যেটা কিনে নিয়ে গেছে তা পছন্দ হয়নি বাড়ির লোকের। আজকে আবার এসে হাজির, দোকানদার কি বলে তা এক চিন্তা, অন্য চিন্তা আবার যে নিয়ে যাবে, যদি পছন্দ না হয়!! পরের বার দোকানদারের সামনে আসবে কোন মুখে!!

আগে মার্কেট বা শপিং সেন্টারে ভিড় হত। তবে ঈদের শপিং অনেকে বাসায় বসেও করে ফেলত। এখনো করে, তবে তরিকা ভিন্ন। আগে ফেরিওয়ালা নামে এক আজব মানুষ আসত বাড়ি বাড়ি। কাঁধে কাপড়ের টোপলা থাকত। আর হাতে থাকত কাচের ঢাকনা লাগানো বড় একটা বক্স। কাচের উপর দিয়ে দেখা যেত নানা রকমের কানের দুল, গলার মালা সহ আরও কত কি! পোশাক আশাক হয়ত দোকান থেকে কেনা হত, সাজসজ্জার ব্যাপার গুলি সামাল দিত ফেরিওয়ালারাই। কানের দুল কেনা হত, লিপস্টিক, চুড়ি, চুলের ফিতা, নকল চুল!! আমি অবাক হতাম ওই লোকের সংগ্রহের পরিমাণ দেখে। আরও অবাক হতাম উনার আত্মবিশ্বাস দেখে। সব চেয়ে ভাল জিনিস নাকি তিনিই আনতে পারেন, অন্য কেউ এই জিনিস চোখেও দেখিনি কোনদিন।কোন আইটেম উনার কাছে না থাকলে বা কম পড়ে গেলে, উনি ওই জিনিস আবার এনে দিবেন, সামনের সপ্তাহেই এনে দিবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দিতেন তা কতখানি রক্ষা করতেন আজ আর মনে নেই। কারন এদের সাথে ছেলেদের খুব একটা সখ্যতা ছিল না। ছোটবেলার অনেক আফসোসের মধ্যে এটা একটা বড় আফসোস যে উনারা ছেলেদের জন্য কোন জিনিস আনত না। সম বয়সী মেয়ে যে আছে তার জন্যও হয়ত চুড়ি কেনা হল আর আমার জন্য লবডঙ্কা! ওই বয়সে মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর ছিল আমার জন্য।

ছোট বেলাটা খুব একটা সহজ ছিল না আমার। নতুন জামা ঈদে মিস করে গেছে অনেকবার। চানরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকতাম। চানরাতেও যখন আস্তে আস্তে সবাই বাড়ি ফিরে আসত আর আমার পোশাকের কোন খোঁজ পেতাম না তখন বাড়ির সর্বশেষ সদস্যের জন্য আমি না ঘুমিয়ে বসে থাকতাম। তিনিও যখন খালি হাতে ফিরতেন বা তিনি হয়ত সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন কাজে কোথাও গিয়ে ফিরেছেন, কাজেই আমার পোশাকের ব্যাপারে তিনি হয়ত বিন্দুমাত্র কোন খোঁজ খবর জানেন না, তখন আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যেত। ছোট বুকের ওই ব্যথা আজো ভুলতে পারি না।আজকে এসে মনে হয়, কি অবুঝের অত কান্নাকাটি করে আম্মা আব্বাকে কি একটা বিব্রতর ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিতাম তখন। কিন্তু একটা সময় অবস্থার পরিবর্তন হলো। কিন্তু তবুও আমি ঈদের নতুন জামার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। ছোট্ট ঘটনা, কিন্তু আমি এখনো ভুলতে পারিনি।ওই গপ্প করেই শেষ করি ঈদনামচা। সেবার ঈদে আমার পোশাক আশাকের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হয়েছে। মানে আপাদমস্তক যাকে বলে। ফুর্তিতে আমি উড়ছি আর কি! চানরাত মানে ঈদের আগের রাতে আমি কোন কারনে তখনো বাড়ি ফিরিনি। কোথাও যাচ্ছি বা বাড়ি ফিরছি। হাঁটছি, এমন সময় আমার সাথের এক পথচারীর সগক্তি কানে এলো। তিনি বলছেন, আমি কি কমু বাড়িত ফিইরা, জামা কিনমু কি দিয়া, ট্যাহা কই!! আহ! মাইয়া বুঝব আমার কথা!!... আমি হাঁটছিলাম জোরেশোরেই। আমার হাঁটা থেমে গেলো মানে গতি কমে গেলো। ঈদের নতুন জামার ফুর্তি এক ফুঁৎকারে নিভে গিয়েছিল সেইদিন। আমি সেই বাবার কণ্ঠস্বর আজো নিয়ে ঘুরছি। আমি সেদিন সহ্য করতে পারিনি, আজো মনে পড়লে ব্যাকুল হয়ে পড়ি। ঈদের নতুন জামার প্রতি আগ্রহ আমার এরপরে আর ছিল না বললেই চলে। এখনো যতখানি সাধ্য হয় ততখানি করেই ঈদে সাহায্য করি, করার চেষ্টা করি। কিছু না হলেও চা দোকানের যে পিচ্চি প্রতিদিন চা খাওয়া খাওয়ায় তাকে অন্তত একটা জামা বা একটা প্যান্ট বা কিছু না হলে একশ টাকা।নিজের টাকা উপার্জনের পরে শুধু আম্মাকে শাড়ি কিনে দিছিলাম। বাকি সবাই কে বই কিনে উপহার দিছি। ঈদ উপলক্ষে জামা কাপড় কেনা আমার জন্য একটু মুশকিল আসলে। কি করব? নিজের ঈদের জামা না পাওয়ার কষ্টের সাথে ওই অজানা অচেনা এক লোকের কণ্ঠস্বর বড় বেশি উৎপাত করে যে আমাকে!!




শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: ঈদ

আহ ফেরীওয়ালা!

অনলাইন শপিং এর যুগে এসব রূপকথা মনে হয়!
Avatar: Atoz

Re: ঈদ

আহ, আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনে ছিল ফেরিওয়ালার ম্যাজিক ঝুড়ি। কত কী থাকতো ঝুড়িতে ! এখনও হয়তো আছে কোথাও না কোথাও। জীবনের রূপকথার মত।
Avatar: Du

Re: ঈদ

আপনি ইদের আসল জামা পেয়েছেন। আসমানী জামা।
Avatar: aranya

Re: ঈদ

খুব ভাল লাগল, এই লেখাটা।

'এখনো যতখানি সাধ্য হয় ততখানি করেই ঈদে সাহায্য করি, করার চেষ্টা করি। কিছু না হলেও চা দোকানের যে পিচ্চি প্রতিদিন চা খাওয়া খাওয়ায় তাকে অন্তত একটা জামা বা একটা প্যান্ট বা কিছু না হলে একশ টাকা'

- সকলেই যদি এমন হত..


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন