souvik ghoshal RSS feed

souvik ghoshalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মার্কস এবং এই সময়

souvik ghoshal

মার্কসের জন্ম দ্বিশতবর্ষে আলোচনাসভা
---------------------
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী লেনিনিনাদী) লিবারেশন এর রাজ্য কমিটির উদ্যোগে কোলকাতার ভারতসভা হলে মার্কস ও আজকের সময় আলোচনাসভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক তথা মার্কসবাদের বিশিষ্ট গবেষক শোভনলাল দত্তগুপ্ত।
আলোচনা সভার প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক শোভনলাল দত্তগুপ্ত। শোভনলাল বাবু তাঁর বক্তব্য শুরু করেন মৃণাল সেন এর একটি সিনেমার এক ব্যাঙ্গাত্মক কল্পদৃশ্যের প্রসঙ্গ তুলে যেখানে দুনিয়ার দক্ষিণপন্থীদের এক হওয়ার একটা মিছিল চলছে। এরকম একটা চেহারা আজকে বাস্তবে অনেকটাই সত্যি হয়ে উঠেছে। বিপরীতে প্রগতিশীল শিবির একটি সংকটের মধ্যে আছেন। লেনিন একসময় বলেছিলেন তিনি সংকটে পড়লে মার্কসের সঙ্গে পরামর্শ করেন। বস্তুতপক্ষে আমাদেরও সেইরকম পরামর্শের দরকার আছে। মার্কসকে কেন প্রয়োজন সেই জরুরী প্রশ্নটায় ফেরার আগে কয়েকটা কথা বলে নেওয়া দরকার।
আমাদের মার্কসপাঠে মার্কসকে বোঝার মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। এই সমস্যার দুটো ধরণ। প্রথম সমস্যাটা মার্কসকে সার্বিকভাবে পাওয়ার, বোঝার। মার্কস যখন আমাদের কাছে আসছেন অনুবাদের মাধ্যমে তখন তার কতটুকু আমাদের কাছে এল, এই সংশয়টার বাস্তব ভিত্তি আছে। আজও পর্যন্ত মার্কসের সমগ্র রচনাবলী প্রকাশিত হয় নি। সোভিয়েত জমানায় একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেটি অনেকটাই এগিয়েছিল। তারপর সোভিয়েত ভেঙে যায়। তারপর আবার তা শুরু হয়। মোটামুটি ৫০ খণ্ডে তা সেসময় প্রকাশিত হয়। আমাদের ধারণা ছিল এটাই সম্পূর্ণ। কিন্তু এর পরে মার্কসের গবেষণা আবার এগিয়ে চলে। দেখা যায় এর বাইরেও অনেক কিছু রয়ে গেছে। সেগুলি প্রকাশের কাজ এখনো চলছে। বেশ কিছু খন্ড নতুনভাবে বেরিয়েছে। এবং হিসাব যা আছে তাতে ১১৪ টি এরকম নতুন খণ্ড প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার গোটা কুড়ি খণ্ড এখনো অবধি বেরিয়েছে।
দ্বিতীয় সমস্যা হল মার্কসের প্রকাশিত রচনাগুলি জনসাধারণের কাছে নিয়ে আসা সংক্রান্ত। মার্কসের বিপুল রচনাকে সোভিয়েত বিপ্লবের পর সহজভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিবেশন করার একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কাজে বাস্তব প্রয়োজন থেকেই কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেওয়া হয়েছিল। যেমন ক্যাপিটাল পড়ার বদলে ওয়েজ লেবার ক্যাপিটাল যা অনেক ছোট ও সহজ তাকেই ব্যাপকভাবে পরিবেশন করা। এছাড়াও বলশেভিক পার্টির ‘রিডিং’ অনুযায়ী একধরনের সরলীকৃত মার্কসকে পেশ করা হয়। সেখানে ইতিহাসের কিছু সরলীকৃত ব্যাখ্যাও আসে। একদিক থেকে এটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু অন্যদিকে মার্কসের যে ভাষ্য আমরা পেলাম, সেই কেজো ব্যবহারযোগ্য মার্কসই কী মার্কসের আসল চেহারা ? এই প্রশ্নটা আজকের দিনে সোভিয়েত ভাঙনের পর, সমাজতন্ত্রের পিছু হটার দিনে জরুরী হয়ে উঠছে।
অনেক রকম সরলীকরণকে জটিল সমস্যার মোকাবিলায় পেরনো দরকার। দক্ষিণপন্থার রমরমার যে জয়োল্লাস দেখা যাচ্ছে, তার সত্যিই কতটা কারণ আছে সেটা একটা প্রশ্ন। দক্ষিণপন্থার বিপদকে খাটো করে না দেখেও বলা যায়, তারাও খুব শক্তির জায়গায় নেই। অন্যদিকে সরলীকরণের আরো একটা দিক দেখা যাচ্ছে। বামপন্থীদের অনেকে বলছেন আমরা যদি ইউরোপ লাতিন আমেরিকার দিকে তাকাই তাহলে দেখব প্রগতিশীলরা এগিয়ে আসছেন, বামপন্থীরা এগিয়ে আসছেন, ফিরে আসছেন। কিন্তু এর মধ্যেও একধরনের সরলীকরণ রয়েছে। কারণ লাতিন আমেরিকাতেও অনেক জায়গায় নতুন করে পিছু হটার পর্ব শুরু হয়েছে। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে আসছে। তাদের আদর্শগত আবস্থান নিয়েও জটিলতা আছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতেও বামপন্থার সঙ্কট দেখা যাচ্ছে ভীষণ রকম। এইটা মাথায় রাখলে একটি সামগ্রিক জটিল পরিস্থিতি আমরা খুঁজে পাব।
এই পরিস্থিতিতে মার্কসের একটি দার্শনিক অবস্থানের দিকে বিশেষভাবে আলো ফেলার দরকার আছে। তরুণ মার্কস, উনিশ শতকের চল্লিশের দশকের গড়ায় যখন প্যারিসে প্রায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন, তখন একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন। সেটি অনেক পরে ১৯৩২ এ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়। ইকনমিক অ্যান্ড ফিলজফিক্যাল ম্যানুস্ক্রিপ্ট (ইপিএম) এ মার্কসের গভীর দার্শনিক একটা চেহারা পাই। পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিক তার উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাই নিয়ে মার্কস সেখানে দীর্ঘ আলোচনা করেন। মার্কস তাঁর পরবর্তীকালে এই নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনা করেন নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ আমেরিকার মার্কসবাদী চর্চায় এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে। ক্যাপিটালিজম কীভাবে তার দমন প্রক্রিয়ায় মানুষের মগজকে দখল করে নেহাৎ পীড়নের বাইরে, সেই আলোচনা সেখানে শুরু হয়। হাঙ্গেরীর দার্শনিক গেয়র্গ লুকাচ ‘ইপিএম’ প্রকাশের আগেই এই আলোচনা শুরু করেন তাঁর বিখ্যাত বই হিস্ট্রি অ্যান্ড ক্লাস কনসাসনেস এ (১৯২৩)। লুকাস দেখালেন মার্কস দেখিয়েছিলেন শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে সাবজেক্ট এর বদলে অবজেক্ট আর অবজেক্ট হয়ে যাচ্ছে সাবজেক্ট। অ্যালিয়েনেশনের প্রসঙ্গটি সেখানে তোলা হয়। জিনোভিয়েভ এর নির্দেশনায় এই বইটির প্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক পরে ১৯৬০ এর দশকে তার পুনঃপ্রকাশ হয়। ফ্রাঙ্কফ্রুট স্কুল এর অ্যাডের্নো, হর্কহাইমাররা, ইতালিতে গ্রামশি প্রায় একই সময়ে বোঝার চেষ্টা করেন কীভাবে ফ্যাসিবাদ আসছে, মানুষের মন জয় করছে। হিটলার থেকে ট্রাম্প মোদিদের সাফল্য বুঝতে এই আলোচনা জরুরী। ফ্যাসিবাদ কীভাবে মানুষের চিন্তার গভীরে প্রবেশ করে, পুঁজিবাদ কীভাবে পীড়নের টিঁকে থাকে সেই আলোচনা করতে গেলে দেখতে হয় সংস্কৃতির প্রশ্নটি। সংস্কৃতিকে কীভাবে ব্যবহার করছে পুঁজিবাদ, ফ্যাসিবাদ – সেটি বোঝার একটা জরুরী জায়গা।
মার্কসবাদ বজ্রকঠিন লৌহকঠিন শৃঙ্খলা হিসেবে দেখা গেল সোভিয়েত যুগে। অথচ মার্কস মুক্ত স্বাধীনতার প্রবক্তা। মানুষ সেই সময় পর্যন্ত যে জ্ঞান অর্জন করেছিল, তাকে আত্মস্থ করেন। রুশ বিপ্লবের পরে প্রলেতকাল্ট গোষ্ঠী তৈরি হয়। বিপ্লবের প্রতি যথেষ্ট দায়বদ্ধতা নিয়ে তারা লেনিনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন আমাদের আজকে যে পাঠ্যসূচী তৈরি হবে, সেখানে প্রাক মার্কস পর্বকে আর আনার দরকার নেই। তা হয় প্রতিক্রিয়াশীল বা অপ্রয়োজনীয়। লেনিন তখন তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন মার্কসের ক্যাপিটালের প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যায় পড়তে হেগেলকে খুব যত্ন করে আয়ত্ত করতে হবে। ইউরোপীয় চিন্তায় একটি ঘরানা আছে, যাকে বলা যায় ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদী। ইউরোপীয় ঘরানায় আরেকটি ধারা ছিল, অ্যারিস্টটল থেকে যার শুরু, তাতে সামাজিক স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের আগে স্থান দেওয়া হয়েছে। রুশো হেগেল হয়ে মার্কস এই ট্রাডিশনের অনুসরণকারী। এই দুটো ধারার দ্বন্দ্বের ইতিহাসকে বোঝার প্রয়োজন আছে।
মার্কসকে আমরা অনেক সময়েই সরলভাবে বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু মার্কসের চিন্তাপ্রক্রিয়াকে অনুসরণ করলে দেখা যাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিন্তার ধরণ বদলেছে। এই ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা তাঁর ছিল। ম্যানিফেস্টোর বিভিন্ন সংস্করণের ভূমিকা পড়লে আমরা এগুলি দেখতে পাব। সেখানে বদলগুলোর প্রয়োজনিয়তা নিয়ে খোলামেলা কথা আছে। এছাড়াও স্মরণ করা যায় একসময়ে উন্নত পুঁজিবাদী দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ধারণা মার্কসের ছিল। প্যারি কমিউনের ব্যর্থতার পর মার্কসের চিন্তায় ক্রমশ অন্যান্য দিক আসতে থাকে। রুশ ভাষা তিনি শেখেন। বিভিন্ন সামাজিক বিন্যাস সম্পর্কে পড়াশুনো করেন। প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ধারণাকে তিনি তখন পূবে বা রাশিয়ায় স্থাপণ করেন।
সময়টাকে ধরতে পারছেন কীনা তাই নিয়ে সবসময়েই মার্কসের একটা সৃজনশীল অস্থিরতা ছিল। মার্কসের মেয়ে লরা তাঁর ডায়েরীতে লেখেন মার্কস তাঁর লেখা অনেক কাগজ ছিঁড়ে ফেলছেন দেখে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান - যা বলতে চেয়েছিলেন, তা বলতে পারেন নি বলে এই কাজ। এটাই মার্কস এর নিজেকে ভাঙা। এই মার্কস মুক্ত মার্কস। ওপেন মার্কস। ওপেন মার্কসকে বোঝার চেষ্টা জরুরী।
এর পরের বক্তা ছিলেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন দেশের বিভিন্ন জায়গায় মার্কস সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের একটা আগ্রহ গোটা দেশের বিভিন্ন আলোচনাসভায় দেখা যাচ্ছে।
মার্কসের বিরোধীরা তো বলবেনই মার্কস ভুল, ব্যর্থ। অনেকে বলছেন মার্কস তো পুরনো। সত্যিই একদিক থেকে তিনি দুশো বছরের প্রাচীন। অন্যদিকে এই সমালোচকেরা পুরাণকে ইতিহাস বলে চালিয়ে দিতে পিছ পা নন। মহাভারতে ইন্টারনেট, গণেশের প্লাস্টিক সার্জারি, সীতা টেস্ট টিউব বেবী ইত্যাদি সব কাল্পনিক অতীতের কথা তারা অবিরল প্রচার করে চলেছেন।
আরেকটা কথা বলা হচ্ছে মার্কস বিদেশী। মার্কসের সাথে আমাদের আত্মীয়তা কিন্তু অনেক গভীর। ১৮৫৩ তে যখন রেলপথ তৈরি হচ্ছে ভারতে, তখন মার্কস লন্ডনে বসে। তিনি সেখানে বসে আমেরিকার একটা কাগজে লেখা পাঠাতেন। ব্রিটিশ উপেনিবেশের হেড কোয়ার্টারে বসে সেখানে আসা তথ্য খবরের ভিত্তিতে মার্কস লেখেন এই রেলপথ ভারতের উন্নয়নের স্বার্থে নয়, নিজেদের লাভের স্বার্থে। মার্কস মোটেও ব্রিটিশ শাসনকে প্রগতিশীল মনে করতেন না। এগুলি দিয়ে ভারতের সমাজে কোনও বড়সড় পরিবর্তন হবে না। এগুলি দিয়ে ভারতীয়রা কেবল তখনি সুফল পেতে পারেন যদি লন্ডনের শ্রমিকেরা বিপ্লব করে উপনিবেশের যুগ শেষ করেন বা ভারতের শ্রমিকেরা মানুষেরা শক্তিশালী হয়ে একে শেষ করে দিতে পারেন। কংগ্রেস ১৯২৮/২৯ এর আগে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী তুলতে পারে নি। মার্কস ১৮৫৩ তেই স্বাধীনতার কথা তুলছেন, ভারতের প্রথম স্বাধীনতার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি।
বিদেশী কোম্পানির চাঁদা শাসক দল নিতে পারে, বিদেশী পুঁজি আসতে পারে অকাতরে, বিদেশী আইডিয়া আসতে পারে না, এটা আশ্চর্য কথা। আসল কথা আইডিয়ার প্রগতিশীল দিকটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা তাদের। তাই লেনিনের পাশাপাশি এদেশের পেরিয়ার বা আম্বেদকরের মূর্তি তারা ভেঙে দেন।
মার্কসের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে এঙ্গেলস বলেছিলেন মার্কস স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর বিপ্লববাদের জন্য। মার্কস ব্যাখ্যা ও পরিবর্তনের মেলবন্ধনের কথা বলেছিলেন। পরিবর্তন সবসময়ই হতে থাকে। বড় পরিবর্তনই হল বিপ্লব। এই বিপ্লবটাই মার্কস চেয়েছিলেন।
কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো লেখার সময়ে একটা বড় ঝড়, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিৎ ছিল। সেটাকে ধরার চেষ্টা ছিল ম্যানিফেস্টোতে। সেই অনুযায়ী সাফল্য আসে নি তখন। প্যারি কমিউন ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু মার্কসের একটা অন্য দিক ছিল রুথলেস ক্রিটিসিজম। যা কিছু আছে তার সব কিছুরই। নিজের কাজ ব্যর্থতারও। আবার ক্ষমতার ভয়হীন সমালোচনাও, যার ফলে হামলা আসতে পারে।
ম্যানিফেস্টোতে মার্কস একটা কথা বলেছিলেন - বর্তমানের অবস্থানে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের কথা ভাবতে হয়। একটি আদর্শ সমাজে দাঁড়িয়ে লড়াই হচ্ছে না। ফলে যে উপাদান উপলব্ধ তার নিরিখেই পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে।
ক্যাপিটাল পড়তে গিয়ে তাকে একদম সাম্প্রতিক মনে হয়। সব জায়গায় পুঁজির ব্যাপক অনুপ্রবেশের কথা তিনি বলেছিলেন যা আমরা আজ দেখছি। পুঁজি হল একটা সামাজিক ক্ষমতা। রিসোর্সের ওপর অল্প কিছু মানুষের অধিকার। আর ব্যাপক সংখ্যক মানুষের কাছে শ্রমশক্তি বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা। এই পুঁজি বাধ্যতামূলক কীনা সেটা খতিয়ে দেখে মার্কসের সুনির্দিষ্ট উত্তর - একেবারেই নয়। বরং এটা ক্ষতিকারক। আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি এখানে সামন্তী জমিদারতন্ত্র ধাক্কা খেয়েছে, তার জন্য আমাদের কৃষি সঙ্কটে পড়ে নি, বা থেমে যায় নি। একইভাবে বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্পদ সমাজের বিকাশের জন্য পুঁজি জরুরী নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠর হাতে নিয়ন্ত্রণ আসা দরকার। হেগেলের মডেলকে মার্কস উল্টে দিতে চেয়েছিলেন। এটাকেই মার্কস মনে করেছেন বিপ্লব। মার্কসের অনেক ধারণা মেলে নি। যেমন পুঁজির বিকাশের জায়গা স্যাচুরেট করে গিয়ে বিপ্লব। এটা তাঁর সময়ে হয় নি। পরেও মার্কসের প্রাথমিক ধারণা মতো জার্মানী বা উন্নত পুঁজিবাদী দেশে স্যাচুরেশন এর মধ্য দিয়ে বিপ্লব এখনো হয় নি। পিছিয়ে পড়া দেশের প্রতিবন্ধকতা কাটানোর জন্য বিপ্লব হয়েছে।
ভারতের লড়াইতে মার্কসবাদ ও শ্রেণিসংগ্রামকে কীভাবে দেখা দরকার এরপর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সেই আলোচনায় নির্দিষ্টভাবে প্রবেশ করেন। অনেকে বলেন ভারতে ক্লাস নেই, কাস্ট নেই। মার্কসবাদীরা অনেকে ভাবেন কৃষক হিসেবে সে বা শ্রমিক হিসেবে সে যেটুকু লড়ছে, সেটাই শ্রেণিসংগ্রাম। কিন্তু এভাবে মার্কস শ্রেণিসংগ্রাম ভাবেন নি। শ্রেণি আধিপত্যের তিনটি দিক। এক হল সম্পদের ওপর মুষ্টিমেয়র নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয় হল রাষ্ট্র, তার দমন পীড়ন। তৃতীয় একটি ব্যাপার হল শাসক শ্রেণির চিন্তাধারা বা আইডিয়া। লড়তে হলে শাসকের আইডিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে ও শাসিতের আইডিয়াকে তুলে ধরতে হবে। শাসকের আইডিয়ার সাথে অ্যাকোমোডেট করে দেওয়ার একটা চেষ্টা ধর্মের বিধান, কর্মফলের নামে চলে। এটা মনুবাদের মধ্যে আছে। ভারতের কোনও মার্কসবাদীকে শ্রেণি শাসনকে উপরে ফেলার জন্য এই মনুবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেই হবে। ফুলে আম্বেদকাররা এটা বলেছিলেন। এটা আমাদের শ্রেণি সংগ্রামের ধারণার মধ্যে আনা দরকার। আইডেনটিটি স্ট্রাগেলের মধ্যেও একটা আইডিয়া আছে। আইডেনিটিটি বনাম ক্লাস স্ট্রাগেলের জায়গায় না গিয়ে আইডেনটিটির লড়াই যদি শোষণের বিরুদ্ধে হয়, সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ অবশ্যই দরকার। অফিসিয়াল সোসাইটি শুধু স্টেট নয়। তার মধ্যে পিতৃতন্ত্র, মনুবাদ, অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা এসবও আছে। এই সব মিলিয়েই একটা বোঝা। বোঝাটা সামগ্রিক সেটা বুঝেই তাকে উপড়ে ফেলতে হবে। মার্কসকে যান্ত্রিকভাবে না বুঝে, ওপেন মার্কসের জায়গা থেকে আমরা যদি অনুশীলনে তাকে নিয়ে আসি তাহলে আমরা তাঁকে ঠিকভাবে বুঝতে পারব। কমিউনিস্ট সমাজের পূর্ণাঙ্গ কোনও ছবি মার্কস এঙ্গেলস এঁকে যান নি। টুকরো টুকরো কথা বলেছেন। এঙ্গেলস পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা রাষ্ট্রের উদ্ভব বইতে বলেছিলেন এই সমাজ আগামীদিনের মুক্ত মানুষ তৈরি করবে। চেতনাকে অস্তিত্বকে মুক্তকরার যে লড়াই তাকে ঠেকাতে পুঁজিবাদ ক্রমশ বর্বর হয়ে উঠছে। পরিবর্তনের তাগিদ নিয়ে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র হবে। সেখানে মার্কসের সাহায্য আমরা পাব।
এর পরের বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রতন খাশনবীশ। তিনি বক্তব্য শুরু করেন মার্কসপাঠক এক তরুণ প্রজন্মের কথা দিয়ে, যে প্রজন্মের মার্কসের প্রতি জাগ্রত আগ্রহের কথা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও তুলেছিলেন। অধ্যাপক খাশনবীশ বলেন আমরা যখন কথা বলছি তখন একটা তরুণ প্রজন্ম আমাদের সামনে আছে, যার সামনে সোভিয়েতের হ্যাং ওভার নেই। চারপাশ দেখতে দেখতে বুঝতে বুঝতে সেই তরুণরা বড় হচ্ছেন। চারপাশ দেখে প্রতিবাদের জন্য মার্কসের প্রতি তাদের আকর্ষণ থাকবে। অন্যদিকে মার্কসের চিন্তা দর্শনকে মারার জন্য বহু মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা বিদ্যমান সমাজের পক্ষে তারা ক্যাপিটাল প্রকাশের সময় থেকে আজ পর্যন্ত মার্কসের বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়ে নি। মার্কসের বিরুদ্ধে দর্শন ও অর্থনীতিতে তাঁরা নিরন্তর লড়াই চালাচ্ছে।
এই সমাজ চলে কনসেন্ট ম্যানুফ্রাকচারিং এর ওপর। যা মজুরি বৃত্তি মেধার নামে নির্মাণ করা আছে, সেটাই ন্যায্যতার ভিত্তি নির্মাণ করে দিয়েছে। এই সমাজে ইকুয়াল অপারচুনিটির ব্যাপারটাই নেই। ইস্কুল থেকেই ব্যাপারটা শুরু হয়ে যায়। মিড ডে মিল স্কুল আর নামীদামী স্কুলের বিভাজন। মার্কস ইকুয়াল অপারচুনিটির কথাটা তুলেছিলেন। সেটা আমাদেরও জোর দিয়ে তুলতে হবে।
কোনও জিনিসের মূল্য কত ? আমরা যেটা দিই সেটা দাম। অ্যাডাম স্মিথ প্রথম একটা খটকা তোলেন। দাম তো বদলায় বিভিন্ন সময়। কিন্তু একটা জিনিসের ক্ষেত্রে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা মূল্য। ভ্যালু আর প্রাইস আলাদা বিষয়। এটা বুঝতে কস্ট অব প্রোডাকশান বোঝটা জরুরী। এক বোতল জলের দাম টিভির চেয়ে বেশি হবে না।
অ্যাভারেজ কস্ট অব প্রোডাকশান নিয়ে অ্যাডাম স্মিথ বেশি আলোচনা করেন নি। এটা করেন রিকার্ডো। তিনি এর নাম দেন মূল্য। মূল্যের মধ্যে দুটি উপাদান আছে। একটি শ্রমের উপাদান। একটি অশ্রমের উপাদান। জমি হল অশ্রমের উপাদান। যন্ত্রপাতি, মেধা, শ্রমিকের শ্রম হল শ্রমের উপাদান। যন্ত্রর মধ্যে যে শ্রম আছে তার নাম রিকার্ডো দেন ডেটেড লেবার। বর্তমান শ্রম হল কারেন্ট লেবার। জমির খাজনা ও মালিকানার মধ্যে একটা জোরের ইতিহাস আছে। বাকী অশ্রমের মধ্যে আছে ডেটেড লেবার বা যন্ত্রপাতি ও কারেন্ট লেবার বা বর্তমান শ্রম। পুঁজিপতি টাকা ঢেলেছেন। সেটা না থাকলেও জিনিসটা উৎপাদিত হতে পারত। কোনও কিছু যখন পণ্য হিসেবে বাজারে এল তার মূল্য হয় চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বা ক্রেডিটে নিয়ে আসা হয়েছে যা নিয়ে ক্যাপিটাল খণ্ড ৩ এ মার্কস আলোচনা করেছেন।
এই পণ্যের যে মূল্যটা তৈরি হল সবকিছু চোকানোর পর তার কে কত পাবে তাই নিয়ে জটিলতা। যে শ্রম দিল, যে মেধা দিল, যে সংগঠিত করল গোটা উৎপাদন ব্যবস্থা – তাদের পারস্পরিক দাবি সংক্রান্ত জটিলতা। উদবৃত্ত মূল্যের কে কতটা পাবে তাই নিয়ে পুঁজি আর শ্রমের একটা গেরিলা যুদ্ধের কথা মার্কস বলেছিলেন। পুঁজিবাদের ইতিহাসে এই যুদ্ধটা প্রথম থেকে একইভাবে সমভাবে আছে। যখন সামাজিক অবস্থা পুঁজিপতির অনুকুলে তখন পুঁজিপতি বেশি সুযোগ পান। কখনো বিপরীতটা। বন্টনের কোনও তত্ত্ব হয় না। এটা সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে
পিকেটি সাম্প্রতিককালে যে বই লিখেছেন সেখানে তথ্য ঘেঁটে দেখার চেষ্টা করেছেন আয়ের সামাজিক বিন্যাস কীরকম। ইউরোপে যতদিন সোভিয়েতের চাপ ছিল, শ্রমিকরা দরাদরিতে সুবিধে পেত। সামাজিক সুরক্ষাও সোভিয়েতের সাথে অদৃশ্য যুদ্ধের ফল।
পুঁজি তার সঙ্কটে শ্রম সময় বা শ্রমসময়ের ঘণত্ব বাড়িয়ে তার সঙ্কট মোচন করতে চায়। (ক্যাপিটাল প্রথম খণ্ড ষষ্ঠ অধ্যায়)। তার ধ্বসে রাষ্ট্র ছাড়া কেউ তাকে বাঁচাতে পারে না। সোভিয়েত ভাঙনের ফলে অদৃশ্য তৃতীয় পক্ষ মিলিয়ে গেছে। এখন যুদ্ধটা আবার প্রত্যক্ষ হয়েছে। এই জায়গায় মার্কস আবার ফিরবেন নতুনভাবে আজকের প্রজন্মের কাছে। শ্রমিক সংগঠনের নতুন গুরুত্ব তৈরি হবে। কারণ অসংগঠিত শ্রমিকের তুলনায় সংগঠিত শ্রমিক মজুরীর দরাদরিতে বেশি লাভবান হবে। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থাকুক না থাকুক শ্রমের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে শ্রমিকের বিদ্রোহের বাস্তবতা ক্রমশ বাড়ছে। এটা একটা অসুস্থ সমাজ, সিক সোশাইটি। এই অসুস্থ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ স্বাভাবিক।

48 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dc

Re: মার্কস এবং এই সময়

এই কঠিন সময়ে, যখন চতুর্দিকে পুঁজিবাদের হুংকার শোনা যাচ্ছে, তখন মার্ক্সকে গভীরভাবে পড়া ও তাঁর দর্শন ঠিকমতো বোঝা খুব জরুরি। মার্ক্সবাদ সাধারন মানুষের কাছাকাছি আনার জন্য আমাদের মতো মার্ক্সবাদীদের আরও বেশী সচেষ্ট হতে হবে। এছাড়া স্কুলে যদি ছাত্রাদের উপযোগী করে প্রাথমিক মার্ক্সবাদ শেখানো যায় তাহলে তরুণ সমাজের মধ্যে হয়তো তাঁর দর্শন সম্বন্ধে আগ্রহ জাগানো কিছুটা সহজ হতে পারে। স্কুল সিলেবাসে মার্ক্সীয় ইকোনমির দুয়েকটি প্রাথমিক তত্ত্ব অন্তর্গত করার দাবী আমাদের জোরালো ভাবে করা উচিত।
Avatar: T

Re: মার্কস এবং এই সময়

:) ডিসি ট্রোল কচ্চেন।
Avatar: dc

Re: মার্কস এবং এই সময়

অ্যাই একদম না। আজ দুপুর দুটো অবধি আমি মার্ক্সবাদী, তারপর এক হপ্তা সেন্ট্রিস্ট থাকবো।
Avatar: h

Re: মার্কস এবং এই সময়

ডিসি ঃ-)))) সখী যাতনা কা কাহারে বলে।
Avatar: b

Re: মার্কস এবং এই সময়

মার্ক্স বরাবরই আমার খুব প্রিয়।
" The secret of life is honesty and fair dealing. If you can fake that, you have got it made"
Avatar: কল্লোল

Re: মার্কস এবং এই সময়

মার্ক্সবাদের অনুশীলন করা তো দরকারই। আর শুধু মার্ক্সবাদ কেন, যে কোন চিন্তাই অনুশীলনের দাবী রাখে। মার্ক্সকে বুঝতে গেলে মার্ক্স যাদের পড়েছেন, যাদের বিরোধীতা করেছেন, সবেরই অনুশীলন দরকার।
ধরা যাক ভারত নিয়ে মার্কসের চিন্তা। স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম সমাজ বলতে মার্ক্স কি বুঝেছেন, ভারতের তখনকার বাস্তব পরিস্থিতি কি? সেগুলোরও অনুশীলন দরকার। সেগুলোর জন্য যেমন ইরফান হাবীব পড়তে হবে, তেমই বিপান চন্দ্র, যদুনাথ সরকার, রমেশন্দ্রও পড়তে হবে। গৌতম ভদ্র, শাহিদ আমিনও পড়তে হবে।
এইতো দীপেশ চক্রবর্তির লেখা পড়তে গিয়ে (মার্ক্স সম্পর্কিত) দুটো বিষয় জানা গেল। যোশেফ ব্লখ আর ভিরা জাসুলিচ দুজনেই দুটো চিঠি লেখেন, প্রথমজন এঙ্গেলসকে, দ্বিতীয়্জন মার্ক্সকে। প্রথমজনের জিজ্ঞাস্য ছিলো - মানুষের চেতনা কি তার সময়কার অর্থনৈতিক অবস্থার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল? দ্বিতীয়জনের প্রশ্নটাও কাছাকাছি বিষয় নিয়ে। রাশিয়ার কৃষককে কি ধণতন্ত্রের বিকাশের সবকটা স্তর পেরিয়েই যেতে হবে, সমাজতন্ত্রের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে, নাকি সে তার কৃষক চৈতন্য দিয়ে(যা বুর্জোয়া চৈতন্যের মতো স্বার্থপর নয়, তাদের একটা যৌথ যাপন ও চেতনা আছে) তার কাছে পোঁছে যেতে পারে। এগুলোও তো ভাবতে হবে। মার্ক্স বা এঙ্গেলস কি উত্তর দিয়েছিলেন। ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়েই অনেক পরে মাওয়ের জনগনতান্ত্রিক বিপ্লবের ডাক। ভাবতে হবে, পড়তে হবে।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন