Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আটানা-যুগ       (বকুবাবুকে খোলা চিঠি)
    যবে থেকে আটানা বিলুপ্ত হলো, বকুবাবু,নদীমাতৃক সভ্যতার থেকে, যবে থেকে বুনিয়াদী গোশালার ঠিকা নিলো রক্ষকবাহিনী,যবে থেকে, বকুবাবু, গেরুয়ার মানে শুধু ভয়,সেই থেকে, বকুবাবু, আমিও ভুলেছি ফুটানি।সেই কবে বিশটাকায়  খেয়েপরে লাগাতার স্বাচ্ছন্দ্য কিনেছি,সে ছিল  ...
  • বেকারার দিল
    বেহাল পাছায় তার দৈনিক বরাদ্দ লাথ,তবু তার বেকারার দিল!দিনগত যত পাপ ধুয়ে দেবে সন্ধ্যের লাজবাব দারু,উপমাও এনে দেবে যথাযথ ইনসাফজমে গেলে তার মাহফিল।তাকে সব ছেড়ে গেছে, কেননা এ-মেহেঙ্গাবাজার কাউকেই দেয়নি সেই স্বঘোষিত পাঙ্গাসুযোগ।তবুও সে নির্বিকার, লড়ে যায়, ...
  • বছর ছেচল্লিশ
    এমনই গজদাঁতের মিনার,  রূপ তেরা মস্তানা।শুনেই ঈষৎ মুখ বেঁকালে : 'ধুস এত শস্তা না!'সকল দামী, সালতামামি, শহরে ভিড় আজো।যখন দুপুর, কিশোর-লতায় আঁধির সুরে বাজো।হায় গো আমার দোখনো-হৃদয়, দুব্বো গজায় হাড়ে।তোমার সঙ্গে বাজে বকায় কেবলই রাত বাড়ে।চাল চাপিয়ে ফুঁকছি চুলো, ...
  • নাম (একটি সরল প্রয়াস)
    চাপের নাম টরিসেলি, বাপের নাম খগেন।লাফের নাম হনু-লুলু, বিবেকের নাম লরেন।হাঁফের নাম কোলেস্টেরল, মাফের নাম যীশু।আমার নাম জানতে চাও? ডেকো পিপুফিশু।খাপের নাম পঞ্চায়েত, খাপের বাপ পঞ্চু।বিরল খোয়াবনামায় নিদ যাচ্ছে হাঁসচঞ্চু।সাপের নাম বালকিষণ,  পাপের নাম লোভ।রাঘব ...
  • জর্জদা
    ''.... সেই বাল্যকালে কবে থেকে গান গাইতে শুরু করলাম তা আমার মনেও নেই-- গান গাইছি-তো-গাইছি-তো-গা...
  • বিষয় জিকেসিআইইটি - এপর্যন্ত
    নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি (প্রকাশঃ 26 July 2018 08:30:34 IST)আজব খবর -১ ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ ...
  • "নাহলে রেপ করে বডি বিছিয়ে দিতাম.."
    গত পরশু অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন, মালদা জিকেসিআইইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বাইকবাহিনী এসে শাসিয়ে যায়। তারপর আজকের খবর অনুযায়ী তাদেরকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মারধর করছে বিজেপির সমর্থক ...
  • উত্তর
    [ মূল গল্প --- Answer, লেখক --- Fredric Brown। ষাট-সত্তর দশকের মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক, কল্পবিজ্ঞান অণুগল্পের জাদুকর। ] ......সার্কিটের শেষ সংযোগটা ড্বর এভ সোনা দিয়ে ঝালাই করে জুড়ে দিলেন, এবং সেটা করলেন বেশ একটা উৎসবের মেজাজেই । ডজনখানেক দূরদর্শন ...
  • জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং জুতো
    কাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট দেখছি, কিছু ছবি মূলত, যার মূল কথা হলো জুতো পায়ে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো মোটেও ঠিক নয়। ওতে দেশের অসম্মান হয়। এর আগে এরকমটা শুনিনি। মানে ছোটবেলায়, অর্থাৎ কিনা যখন আমি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক ছিলাম এবং যুদ্ধে-ফুদ্ধে ...
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান

Sutapa Das

Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে,
“…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”

এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন রেখেছিলাম গত 25 শে এপ্রিল রাতে,মেসেজে, "আমার একটি মেয়ে হারিয়ে গেছে, মানসিক চিকিতসাধীন ছিলো, অবসেসড, স্কুল থেকে বেড়িয়ে আর বাড়ী ফেরেনি,দোহাই খুঁজে দিন।"

সংগঠনটি সারা বাংলায় নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের কল্যানমূলক কাজকর্মের জন্যে প্রসিদ্ধ, আমাকে তাদের কাছেই আবেদন জানানোর সুপরামর্শ দিয়েছিলেন দিদিয়া, আমাদের সব্বার বড় কাছের প্রতিভা সরকার দি।
সে সময়টায় আমি শহরের বাইরে, ব্যক্তিগত ভীষনই প্রয়োজনীয় কাজে, স্কুল থেকে আমার দুই অতি প্রিয় সহকর্মিনী দুঃসংবাদটি দিলো।
আমরা জানতাম 'আমাদের মেয়েটি' তীব্র মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত, পরিবার সীমিত সামর্থ্যেও প্রয়োজনীয় চিকিতসার ভার বহন করতে পিছপা হয়নি। কিন্তু, অটো ইমিউন ডিসঅর্ডারের মতোই, পরিবারের বিরুদ্ধেই ওর যাবতীয় ক্ষোভ কেন্দ্রীভূত! চলে গেছে তাই, সব মায়ার বাঁধন হেলায় ফেলে।

কথা হয়েছিলো আগেই, ওর মানসিক পরিচর্যাকারী মেডিক্যাল কলেজের অ্যাডোলেসেন্ট কাউন্সিলর লক্ষী ম্যাডামের সাথেও। জানছিলাম ছোট ছোট 'সেসন'য়ের মধ্যে দিয়ে, 'আমাদের মেয়ে'কে।ওর মামাতো বোনগুলির নিরাপত্তার জন্যে উতকন্ঠা, ওর মায়ের নিষিদ্ধ পেশার প্রেক্ষাপটে ওর নিজের নিরাপত্তাহীনতার অসহায় বোধ, যে মামার কাছে ও ছোট থেকে বড় হয়েছে সেই মামীকে মানতে না পারা, অসংলগ্নতার আরও ছোট ছোট ঘটনার কোলাজ।
ঠিক সাতদিনের দিন , যখন হতাশ বিষন্নতায় ধরে নিয়েছে মন যে মেয়ে আর ফিরবে না, শেষদুপুরে ওর আপনজনের ফোন, ফিরছে মেয়ে, খুব নিরাপদ আশ্রয়েই ছিলো।কথা বললাম, ফোনেই বকুনি..উতকন্ঠা প্রকাশ.....আদর..নিশ্চয়তা প্রদানের চেষ্টা।
স্বস্তি!!

শহরে ফিরলাম দুদিন পর, দেখা করতে এলো স্কুলে। আমি বললাম, ও বললো, সকলে বললো ও শুনলো, এবং ও বললো সকলে শুনলো ।পরবর্তী কয়েকদিন অন্য পেশাগত কাজের পাশে পাশেই সরকারী আধিকারিক কে সাক্ষাত করা, আর সরকারী অফিসারদের সম্পর্কে প্রচলিত ধারনার অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সমাজকল্যান আধিকারিকের যথাসাধ্য প্রয়াস মেয়েকে চিকিতসা সহ ওর মনোমত ,পরিবার ছাড়া অন্য কোন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখবার খোঁজ, কারন চিকিতসায় সাড়া দেবার পূর্বশর্ত যে ওইটিই!!
ফলপ্রসু হলো না যদিও আইনের হিজিবিজি নিয়মেই, কিন্তু সাহায্যের প্রচেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ না দেওয়া বোধহয় বড়ই অকৃতজ্ঞতা হয়ে যায়।


মনোচিকিতসক বন্ধু স্বস্তিশোভন তার প্রেসক্রিপশন দেখে বললেন যদিও, যে নিয়মিত ঔষধ খাওয়াতে পারলে বাড়ীতেই ওকে রাখা সম্ভব, কিন্তু যে নিজে সহযোগিতা করছে না তাকে ঔষধ খাওয়ানো , অনভিজ্ঞ লোকের পক্ষে বোঝানো আর সর্বদা চোখে রাখা, না, আমি হলেও সম্ভবত পারতাম না।
যখন কোথায় রাখি তারে ভেবে দিশাহারা, অভিভাবকের সাথে আমরাও চাইছি না ও মানসিক হসপিটালে যাক, দেবদূত এক, দিদিয়াকে পরিপূর্নতা বলে এক মানসিক অসাম্যতায় (ভারসাম্যহীন নয় আমাদের মেয়ে)ভোগা মেয়েদের আবাসিক চিকিতসা করে, কিছু পেশাপ্রশিক্ষনও দেয় এমন সংস্হার খোঁজ দিলেন।
এরই মধ্যে, সদ্য দু তারিখ বাড়ী ফিরে, 13/05 দুপুরেই মেয়ে আবার উধাও! সেই মূহুর্তে স্টেশনে চাইল্ড হেল্প লাইন, RPF সকলকে জানানো, ছবি দেওয়া, সমাজকল্যাণ আধিকারিককে জানানো, থানায় ইনফর্ম করা, সেই এন জিও কে আবার জানানো, মেয়ের মামার মুখের দিকে তাকাতে খারাপ লাগছিলো, মনে হচ্ছিলো নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি , তবে কি আমার তরফে অবহেলা ছিলো কোথাও?

পরিপূর্নতার ওয়েবসাইট দেখে, মেল আইডি বের করে লিখলাম সহায়তা প্রার্থনা করে , আবেদনপত্র। ঠিক দুদিন, মাননীয় সম্পাদক প্রত্যুত্তর দিলেন মেয়েকে খুঁজে পেলেই যাতে বহরমপুর হাসপাতালে ভর্তি করার সুব্যবস্হা করা যায় সে পথ বাতলিয়ে, কিন্তু মেয়ে আমাদের হাসপাতালে পাঠানোর মত নয় যে! ওর চাই মানসিক নিরাপত্তা, পরিচর্যা, অনেক অনেক ভালোবাসা যা ওকে নিজের প্রতি ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলবে। আবারও আবেদন, সাথে কাউন্সিলর লক্ষীদি, দিদিয়া, ওর অভিভাবকের ফোন নং সহ যাতে ওনারা আমার বয়ানের সত্যতা যাচাই করে পরিপূর্নতাতেই ওকে কিছুদিন থাকবার সুযোগ দেন। কথা দিলাম অর্থসাহায্য থেকে ও সুস্হ হয়ে ফিরিয়ে নেবার জন্যে আমরা দায়বদ্ধ থাকবো।

নির্বাচন পর্ব মিটতে মামা চিকিতসাপ্রয়োজনে সেই সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে যান যেখানে আগেও ওকে পাওয়া গেছিলো ও মেয়ে আমাদের সেখানেই ,আবারও পাওয়া যায়।ওখানে ও নিজেকে নিরাপদ ভাবে, সব্বাই দেখে রাখে, শুধু তাই ছুটে গিয়েছিলো সে!

আর দেরী নয় .. আর দেরী নয়।

গতকাল অফিসিয়াল মুচলেকা লিখে দিয়ে বলে দেওয়া হলো মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হবে মঙ্গলবার ‘হোমে’। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হয়তো ঠাঁই পাবে সে আপাতত, সুস্হতা ফেরানোর প্রয়াসের লড়াইতে সামিল সেখানের কর্তাব্যক্তিরাও। আপাতত কোন অর্থসাহায্য নিচ্ছেন না তারা!!

এ অব্দি পড়ে, আমাদের টীমের অন্তর্ভুক্ত স্কুলশিক্ষিকারা ও সেই পরানসখী বড়দিদিমনি যে প্রত্যেকটি মূহুর্তে সাহস আর আশা জুগিয়েছে, দিদিয়া , লক্ষ্মীদি, সরকারী আধিকারিকরা, মেয়ের পরিবার, সেই দেবদূত বন্ধু, এন জি ও’র প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী সদস্যবৃন্দ , পরিপূর্ণতার পরিচালক মন্ডলী বা আমাকে, ধন্যবাদ জানাতে চাইবেন যারা, সবিনয়ে বলি , আমরা প্রত্যেকে আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব, সামাজিক জীব হিসেবে পালন করেছি মাত্র, আর আমরা সবাই চেয়েছি বলেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ কি সহায়তা সব পাওয়া গেছে দরকারের সময়। শুধু ভালোবাসা ,প্রাপ্তি-প্রত্যাশাহীন, জীবনকে সত্যি দুহাত উজাড় করে দেয়, যা চাই তাই-ই, হয়তো বা আরো অনেক অনেক বেশী!!

আপনারাও থাকুন আমাদের সাথে , প্রার্থনায়, যাতে ‘আমাদের মেয়ে’ সুস্হতা অর্জন করে খুব তাড়াতাড়ি, নিজের দায়িত্ব নেওয়ার মত কোন কর্মক্ষেত্র খুঁজে নিতে পারে সবার সাহায্যে আর শুভকামনায়।
হাতে হাত বাঁধা পড়ুক।




শেয়ার করুন


Avatar: Prativa Sarker

Re: জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান

এইরকম দরদী শিক্ষক ডোডোপাখি হয়ে গেছেন বহুদিন আগে। সেই পরম্পরা বয়ে নিয়ে যাচ্ছো তুমি, সবাই তোমার পাশে থাকবে। ✌✌


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন