Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আটানা-যুগ       (বকুবাবুকে খোলা চিঠি)
    যবে থেকে আটানা বিলুপ্ত হলো, বকুবাবু,নদীমাতৃক সভ্যতার থেকে, যবে থেকে বুনিয়াদী গোশালার ঠিকা নিলো রক্ষকবাহিনী,যবে থেকে, বকুবাবু, গেরুয়ার মানে শুধু ভয়,সেই থেকে, বকুবাবু, আমিও ভুলেছি ফুটানি।সেই কবে বিশটাকায়  খেয়েপরে লাগাতার স্বাচ্ছন্দ্য কিনেছি,সে ছিল  ...
  • বেকারার দিল
    বেহাল পাছায় তার দৈনিক বরাদ্দ লাথ,তবু তার বেকারার দিল!দিনগত যত পাপ ধুয়ে দেবে সন্ধ্যের লাজবাব দারু,উপমাও এনে দেবে যথাযথ ইনসাফজমে গেলে তার মাহফিল।তাকে সব ছেড়ে গেছে, কেননা এ-মেহেঙ্গাবাজার কাউকেই দেয়নি সেই স্বঘোষিত পাঙ্গাসুযোগ।তবুও সে নির্বিকার, লড়ে যায়, ...
  • বছর ছেচল্লিশ
    এমনই গজদাঁতের মিনার,  রূপ তেরা মস্তানা।শুনেই ঈষৎ মুখ বেঁকালে : 'ধুস এত শস্তা না!'সকল দামী, সালতামামি, শহরে ভিড় আজো।যখন দুপুর, কিশোর-লতায় আঁধির সুরে বাজো।হায় গো আমার দোখনো-হৃদয়, দুব্বো গজায় হাড়ে।তোমার সঙ্গে বাজে বকায় কেবলই রাত বাড়ে।চাল চাপিয়ে ফুঁকছি চুলো, ...
  • নাম (একটি সরল প্রয়াস)
    চাপের নাম টরিসেলি, বাপের নাম খগেন।লাফের নাম হনু-লুলু, বিবেকের নাম লরেন।হাঁফের নাম কোলেস্টেরল, মাফের নাম যীশু।আমার নাম জানতে চাও? ডেকো পিপুফিশু।খাপের নাম পঞ্চায়েত, খাপের বাপ পঞ্চু।বিরল খোয়াবনামায় নিদ যাচ্ছে হাঁসচঞ্চু।সাপের নাম বালকিষণ,  পাপের নাম লোভ।রাঘব ...
  • জর্জদা
    ''.... সেই বাল্যকালে কবে থেকে গান গাইতে শুরু করলাম তা আমার মনেও নেই-- গান গাইছি-তো-গাইছি-তো-গা...
  • বিষয় জিকেসিআইইটি - এপর্যন্ত
    নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি (প্রকাশঃ 26 July 2018 08:30:34 IST)আজব খবর -১ ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ ...
  • "নাহলে রেপ করে বডি বিছিয়ে দিতাম.."
    গত পরশু অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন, মালদা জিকেসিআইইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বাইকবাহিনী এসে শাসিয়ে যায়। তারপর আজকের খবর অনুযায়ী তাদেরকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মারধর করছে বিজেপির সমর্থক ...
  • উত্তর
    [ মূল গল্প --- Answer, লেখক --- Fredric Brown। ষাট-সত্তর দশকের মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক, কল্পবিজ্ঞান অণুগল্পের জাদুকর। ] ......সার্কিটের শেষ সংযোগটা ড্বর এভ সোনা দিয়ে ঝালাই করে জুড়ে দিলেন, এবং সেটা করলেন বেশ একটা উৎসবের মেজাজেই । ডজনখানেক দূরদর্শন ...
  • জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং জুতো
    কাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট দেখছি, কিছু ছবি মূলত, যার মূল কথা হলো জুতো পায়ে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো মোটেও ঠিক নয়। ওতে দেশের অসম্মান হয়। এর আগে এরকমটা শুনিনি। মানে ছোটবেলায়, অর্থাৎ কিনা যখন আমি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক ছিলাম এবং যুদ্ধে-ফুদ্ধে ...
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'

Jhuma Samadder

'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
ঝুমা সমাদ্দার।
ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।

চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার আইডিয়াটা কার ছিল, কাকা ? এটুকু বোধ নেই, আমরা মানুষ ? আমরা দ্বিনেত্র শ্রেনীর প্রাণী ? তায় 'মহান ভারত'বাসী। একসঙ্গে দুটি জিনিস আমরা দুই চোখে দেখতে পাই না।
আমরা হয় 'স্বচ্ছ' দেখতে পাই, নয়তো 'ভারত' দেখতে পাই। 'স্বচ্ছ ভারত' কথাটাই তো কেমন.... অদ্ভুত... 'সোনার পাথরবাটি' টাইপ শুনতে। বোকা বোকা। রাস্তায় ময়লা ফেলা, থুথু ফেলা, ইয়ে করা... এ সব আমাদের হক হ্যায়, বস্। আমরা অমনি ছেড়ে দেব? ইয়ার্কি নাকি?"

তারপর, আমাদের 'ঝাঁটা সেলফি' তোলা শেষ হয়ে গেলে দেখা যায়, কোথা দিয়ে হাজার হাজার কোটি গলে গিয়েছে।

সে যাকগে যাক। ও সব সরকারী 'দাগ'। আমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আমরা হলাম বেচারা 'ভোটার'...ট্যাক্সের জোগানদার, আদার ব্যাপারী।

আমরা ভারতীয়রা আজন্ম সমস্ত বিষয়ে জাতি-ধর্মের ধুঁয়ো তুলে ভাগাভাগি করে মরলেও 'দাগে'র ক্ষেত্রে একেবারে এককাট্টা। একই রকমের 'দাগী' আমরা সকলে।

সেই কবে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেব বলে গেলেন "মানুষ হয়ে জন্মেছিস, একটা দাগ রেখে যাস।"

ব্যস, সেই ইস্তক সমগ্র জাতি মুখে গুটখা নিয়ে তৈরী, দাগ রাখার জন্যে। যেখানে পারে সেখানেই খুনীয়া লালের স্প্রে ছিটোয় । অহো! কী নিখুঁত লক্ষ্য ! কী তেজোদ্দীপ্ত স্বভাব! (ভাষাটা লক্ষ্য করুন একবার।) এক 'থুঃ'... আর সঠিক নিশানা।

কিম্বা, দাঁড়িয়ে রইল কাঠকয়লা হাতে, যেখানেই ঐতিহাসিক ইমারত, কিম্বা, সুলভ শৌচালয় দেখেছে , সেখানেই 'বিজ্জু লাভস্ মুন্নি' লিখে ফেলেছে ঝট্ করে। প্রেমে একেবারে জড়ামড়ি দশা। না, ঠিক জড়ামড়ি নয়, ও আবার যত ইয়ে জিনিস। আমাদের ওসব একেবারে সাফসুতরো, 'পবিত্র' 'পবিত্র' ব্যাপার, 'নিকশিত হেম' কিম্বা 'রবীন্দ্রনাথ' মার্কা সাবানে কাচা প্লেটোনিক প্রেম।

রাস্তার ধার মানেই অলিখিত পাবলিক ইউরিনাল থেকে গড়িয়ে আসা 'কল্লোলিনী' দাগ, যা পথকে 'তিলোত্তমা' করে তোলে, আর রেললাইনের ধারের সকালবেলার খোলা হাওয়ায় হাল্কা হওয়ার দাগ ....

এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ভেদাভেদ নেই। জাত-ধর্ম নির্বিশেষে, এক মন... এক প্রাণ - একতা...

তবে, কিছু কিছু দাগ আছে, যা সাধারণ হয়েও অসাধারন। একান্ত ব্যক্তিগত ক্ষত সে সব।

আমার নিজের ছেলেবেলার জায়গার সঙ্গে শেষ বিচ্ছেদ বার্তা লেখা হয়েছিল , রেলের স্টেশনে, কোনো এক সকাল বেলায়। চিরতরে ছেলেবেলার জায়গা ছেড়ে চলে আসার সময় স্টেশনের শেড থেকে সে দাগ এঁকে দিয়েছিল এক হতভাগা 'ভারতীয় কাক'। সে দাগ পুরোপুরি ধুয়ে ফেলা যায়নি...এমনই নাছোড়বান্দা সে ভালোবাসার দাগ।

আহা! সে যে উড়ে যেতে যেতে 'খ্যাঁ খ্যাঁ' আওয়াজে কানে কানে বলে গিয়েছিল, 'দাগ আচ্ছে হ্যায়।'

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন