Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাছে কবিতা না হয়...

Sutapa Das


এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'

আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই প্রতিভাত আমার কাছে। কিন্তু তাও.... কখনও কখনও, আগ্নেয়গিরির লাভা উদ্গীরন করে অন্দরমহলের ভারসাম্য রাখার মতোই, অনুভব বের হয়ে আসে শব্দে মাখামাখি হয়ে।

স্বতঃস্ফূর্ত উতসারিত প্রচন্ড আবেগ কে চাপা দিয়ে রাখতে চেয়েছি গত দু সপ্তাহ জুড়েই, বুঝলেন! তপ্ত লোহায় আঘাত হানলে তবে অভীষ্টমত আকার দেয়া যায়, আবেগ তো আর তা নয়। বিস্ফোরন ঘটলে প্রিয়জন সস্নেহে বকুনি দেবেন 'আবাগী' থুড়ি আবেগী বলে! তো কবিবাক্য নিরন্তর জপে, আবেগ কে থিতু হতে দেবার সময় দিতে চেয়েছিলাম.... বৃথা চেষ্টা, বুঝিনি তখন।

জলপাইগুড়ি ছিলাম তখন, মায়ের অপারেশন পরবর্তী দেখভালের জন্যে, সকন্যে। বেশ কিছুদিন থাকতে পারলে নিজের শেকড় গুলোকে , আশ্বিনের গোলাপের শেকড়ের মাটি আলগা করে রোদ মাখানোর মতই, সম্পর্কের ওমে সেঁকতে ইচ্ছে হয়, ছুঁয়ে দেখতে প্রাণ চায় নিজের ফেলে আসা সময়কে।

বাবা গত হয়েছেন আটবছর হতে চললো। এবার সময় পেয়ে মনে হলো, রক্ত সম্বন্ধিত নন অথচ আমাদের বরাবরের পারিবারিক সর্বার্থেই শুভচিন্তক, বাবার সহকর্মিনী সেই পিসিকে, যিনি বয়সের সাথে চোখে চোখ রেখে লড়ছেন, দেখে আসি। তো আমার বোনটি , পিসির একমাত্র সন্তান, জন্মসূত্রে পাওয়া দশভুজাবৈশিষ্ট্যে যে অনায়াসে সামলে চলেছে সন্তান সংসার , কলকাতা থেকে জানান দিলো, 'সুতপাদি , তুমি যাবার আগে ...মামার সাথে কথা বলে , মামা থাকাকালীন যেও, নইলে মা চিনতে পারবে না'।

অসম্ভব ধাক্কা! আমার ছোটবেলার নাহেতুক বাঁদরামি, পারিবারিক সমস্যায় অন্নজল ত্যাগ করাার পর বুঝিয়ে ডেকে দিনের পর দিন খাওয়ানো, এমনকি প্রথম ঋতুদর্শনের পর গুরুজনের করনীয় কর্তব্য পালন করেছেন যিনি, তিনি আজ নাও চিনতে পারেন আমায়, ধাক্কা নয়!!?? অনেকটা বড় না হয়ে তো জানতেই পারিনি, উনি আমার রক্তসম্পর্কিত পিসি নন!

আর সেই 'মামা'টি!! শব্দ হাতড়াই তার বিবরনে। তিনি , আমার পরমশ্রদ্ধেয় মাস্টারমশাই, যতই বলি তাঁর সম্পর্কে, না বলা থেকে যাবে বহুগুণ। অমন নিঃস্বার্থ সমর্থন আর স্নেহ যদি আমি দিতে পারতাম আমার ছাত্রীদের, তারা জীবনযুদ্ধে বিজয়িনী হতোই। তিনিও কিন্তু পিসির রক্তসম্পর্কিত নন, অথচ শ্রদ্ধায়, আত্মিক টানে, জুড়ে গেছেন পরিবারে, বোধহয় বোনটিও জন্মানোর আগে থেকেই। তাই অন্য কেউ মনে না করিয়ে দিলে, মাস্টারমশাই , একমাত্র মামা, প্রশ্রয়ী, অথচ প্রয়োজনে কঠোর।

তখন আমি হোস্টেলে থাকি, জলপাইগুড়ি সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের। সিক্স সেভেন। আজকে নিজেদের সে বয়েসী বাচ্চাদের মত নই, ছোট থেকে হস্টেলবাসী হওয়ায় গোঁয়ার, একরোখা,তীব্র একাকীত্বে ভোগা এক অতৃপ্ত আত্মা(ভূত কালে, ভূত নয়)। অবসাদ আমার জিনসূত্রে পাওয়া আর বিজ্ঞজন জানেন, কৈশোরে অবসাদ মারাত্মক চেহারা নেয়। পরিবারের স্পর্শ সেখানে অনেকটা প্রলেপ দিতে পারলেও আমার সে সুযোগ ছিলো না, সে কাহিনী উহ্য থাক।

মাস্টারমশাই পড়াতে আসতেন হস্টেলে। চূড়ান্ত অমনোযোগী ছাত্রীর শুধুই পড়াশুনা পেশাগত শিক্ষকের মত না দেখে, ঠেলে পাঠাতেন দাঁত মাজতে। মর্জিমাফিক স্নান করতাম তখন। কে দেখবে, কে খোঁজ নেবে?দুরপনেয় অভিমান, পরিবার , সংসারের ওপর। মানসিক চাপে সারাবছর পেটরোগা। পড়াশুনা করতেই চাইছি না।
মাস্টারমশাই খোঁজ নিতেন স্নান করেছি কি না! না বললে কড়া নির্দেশ। ঐ সময় যদি পড়া ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে না গিয়ে থাকি জীবন থেকে, 70 শতাংশ কৃতিত্ব মাস্টারমশাইয়ের আর বাকী টুকু আমার বাবার প্রাপ্য।

আজ যদি কোথাও পৌঁছে থাকি, একটিও আশা প্রদীপ কারো জীবনে জ্বালিয়ে থাকতে পারি শিক্ষকজীবনে, যদি জীবনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পালানোর প্ররোচনার উর্ধে উঠে থাকতে পারি, মাস্টারমশাই আপনার জন্যে। শিরদাঁড়া সোজা রাখবার শিক্ষা, মাস্টারমশাই, আপনার সৌজন্যে প্রাপ্ত।

বাবা গত হবার পর মাস্টারমশাই যাবতীয় দায়িত্ব নিয়ে মায়ের পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্হা করে দেন। আমি মেয়ে হয়ে , পেশাগত দায়িত্ব সামলে, পারিনি। রক্ত সম্বন্ধীয় নন!!

পিসির কথায় ফিরি। ঘন্টাখানেক সময়ে বার কয়েক ,পোড়খাওয়া সৈনিক আমার চোখে জল আসা বড় কষ্টে সামলাতে হয়েছে। সময়, সমাজ আমার কাছে কিছু তথাকথিত পুরুষোচিত বৈশিষ্ট্য দাবী করে। প্রকাশ্যে অশ্রুপাত সম্বরন তার একটি। আমার ছোটবেলার রাশভারী , স্নেহময়ী পিসি আজ শিশু। একটিমাত্র কথা, আমার কয়টি মেয়ে? ছেলে নেই? নির্দয় সময় সব বিস্মরনের স্রোতে ভাসিয়ে নিয়েছে। অথচ সুদূর অতীতে কবে মালদা আসতেন অন্তত পঁচিশবার উল্লেখ করলেন। নিজেকে অসহায় মনে হলো বড়, নিশ্ছিদ্র যত্নে , মমতায় যদি মুড়ে রাখতে পারতাম মাতৃরূপাকে! দায়িত্ব নিয়ে সাথে থাকতে পারতাম যদি ! কত অপারগতা যে জীবনে ঠাঁটিয়ে চড় কষাবে আর !!

স্বার্থশূন্য , রক্তসম্পর্কশূন্য এমন আদর্শ সম্পর্কগুলো বোধহয় এ শতাব্দীর সিকিভাগেই এক্সপায়ারি ডেট পার করে ফেলবে , নতুন করে আর তৈরী তো প্রায় বন্ধই আছে। শুনিনা , দেখিনা এই ব্যক্তিস্বার্থসর্বস্ব জীবনের ত্রিসীমানায়।

সুস্হ থাকুন আপনারা, নিজ স্বার্থেই আরো দীর্ধজীবন কামনা করি আপনাদের। আমার ছোটবেলা, আজ দেখলে মনে হয় আপনাদেরই সুরক্ষাবলয়ে , নিরাপদ ছিলো!



64 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: পাছে কবিতা না হয়...

স্বার্থশুন্য, রক্তসম্পর্কশুন্য এমন সম্পর্ক এখনও হয় তো। আগে খুব বেশী হত কি! কি জানি! আমার অভিজ্ঞতায় তেমন তো নয়। জগতজোড়া জালেই আমি এমন কিছু সম্পর্ক কুড়িয়ে পেয়েছি যাদের সাথে বাস্তবে বোধহয় কোনওদিনই দেখা হত না।

ভাল থাকুন আপনার পিসি, আপনি, আপনার চারপাশের সক্কলে। সবাই সবাইকে নিয়ে ভাল থাকুন।
Avatar: Sutapa Das

Re: পাছে কবিতা না হয়...

আমি যে একেবারেই বাস্তব সম্পর্কের কথা বলেছি, বায়বীয় দুনিয়ার নয়। আজ , যখন নিজের স্বজন, শিক্ষক সকলের কাছে মেয়েরা নিরাপদ নয়, যখন শিক্তষকের অত্খযাচারে অঙ্গহানি ঘটছে ছাত্রদের, ঐ বয়সের আমার অভিজ্ঞতা এই সময়ের নিরিখে তো রূপকথা। আন্তর্জালের সম্পর্কের বাইরে সেই পাশের ঘরের মানুষদের কৃতজ্ঞতা জানাতে চেয়েছি আমি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন