Debashish Bhattacharya RSS feed

Debashish Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

Debashish Bhattacharya

আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় মানুষ। যদিও দুঃখের বিষয় একদম শেষের কটি দিন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। যেইমাত্র আমার দ্বিতীয় কবিতার বই " যাই" দেবারতি ও মনীন্দ্রকে উৎসর্গ করেছি ধানসিঁড়ি বই মেলায় প্রকাশ করার অনতিপরেই কবি যাই বলে অন্তর্ধান করলেন।

অক্ষয় মালবেরি অখণ্ড পড়লাম অবভাস বের করেছে। জীবনের প্রথম বাইশ বছরের কাহিনী। না অন্তরকাহিনি? একটা একা ছেলের একান্ত গল্প। গল্পটাও ঘোরালো। জন্মভূমি বরিশালের গহন ভিটে ও শাখা প্রশাখাময় অরণ্য জলস্থল আকাশ ও জ্ঞাতিবর্গ, উদ্ভিদ ও লতাপাতা, পাখির ডাক, বড় মার আম পড়ার শব্দে কান খাড়া করে রাত্রি জাগা। আমার বাবা জন্মেছিলেন ১৯২৭এ মনীন্দ্রদা ১৯২৬এ। আমার বাবারই মত শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। ছোট মাকে বালক বয়সে তিনিই ঘরে এন্ট্রি দেন, কিভাবে, পড়ে নেবেন, বলব না। বাবার সঙ্গে দীর্ঘ গভীর ব্যঞ্জনাময় দূরত্ব। মাতৃহারা বালকরা বড় একা হয়। চিরকাল।

গদ্যটি সাধারণ নয়। কবি ও চিত্রকরের যুগ্ম অনুসন্ধানের লেন্স দেয়া ক্যামেরা। অসংখ্য স্কেচ নিজের হাতে করা। ঠাকুমার সখিদের থেকে শুরু করে বন জঙ্গল ঠাকুরদা ও একা বালক রংরুট সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রতিকৃতি। শিশু বালক ও সৈনিকের মধ্যবর্তী পর্যায়টি মহাপ্রভুর দেশ সিলেটে পাহার ও নদী, হাতির দল, দিদিমার শাসন, মাসির কূট নীতি, কোনও অতিথি আত্মীয়ার যৌনতার এক ঝলক। কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত ছবির ভাষায় কথা বলেন। তাই যৌন অযৌন সব প্রসঙ্গই আলো ছায়ার মাঝ দরিয়ায় এসে ভেলার মত দোলে, বাইশ বছরের সদ্য তরুণ শান্তিনিকেতনে গিয়ে এক উজ্জ্বল সকালে আচার্য নন্দলালকে তাই আলো ছায়ার রূপ আঁকা নিয়ে প্রশ্ন করেন উত্তরও পেতে দেরি হয় না।

লাহোরে সেনা ছাউনি, নাহারে নগ্ন স্নান, পতিতালয়ে গিয়েও দ্বার থেকে ফিরে আসা, ছেলেটি খুঁজছিল তার জীবন, তার পুঁজি, তার জায়গা, বাকি সত্তর বছর অনেক কিছু করেছেন কিছু অক্ষয় মালবেরি দাঁড়িয়ে ছিল সেই বাইশে, দেবারতির সঙ্গে দেখা হওয়ার বহু আগে, শেষ কিছু দিন চর্ম রোগে অশেষ কষ্টভোগের পূর্ব সীমানায়, নগ্ন বেদনার ওপারে এক চির আশ্রয় বটবৃক্ষের মত। গড়িয়ার একপ্রান্তে ছোট বাসাটিতে যখনই গেছি তিনি হাসিমুখে অভ্যর্থনা করেছেন। একদিনও মুড অফ দেখিনি আমার মত। একদিনও অনালাপি দেখিনি। কানে ভাল শোনেন না চোখে ঝাপসা দেখেন ক্লান্ত পরিবেশ চারদিকে হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে রেখেছে কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত তাঁর উপাস্য পূর্বসূরি বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালিতে শতাধিকবার ব্যাবহৃত শব্দটির মত মায়াময়, মায়াময়।

দেবারতিদিকে জিগ্যেস করতে বললেন শাক খেতে খুব ভালবাসতেন, অক্ষয় মালবেরি পড়ে দেখি শুধুই উদ্ভিদ, এ কোন আরেক আরণ্যক পাঠ করছি। রাজনীতির কবিতা যেমন আছে, সুশীলরা বিরোধীদের উদ্দেশে খিস্তি করেন যা দিয়ে, তেমনি আছে কবিতার রাজনীতি। তাই বাংলা একাডেমী ও রবীন্দ্র পুরস্কারের পরেও দীর্ঘ কাল তিনি একা ছিলেন, আনুষ্ঠানিক কবিতার কোলাহল কলহ থেকে বহু দূরে, হাঁ লিটল ম্যাগাজিনর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ছিল শেষ দিন পর্যন্ত উপন্যাসও লিখেছেন কিন্তু সফল ব্যাবসায়িক কবি প্রাতিষ্ঠানিক কাব্য ব্যবসায়ী হওয়ার সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য তাঁর জীবনে ঘটে নি।

দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি বয়স্ক কবিরা এখন সাহিত্য বাজারে জন সংযোগ ও প্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক বলেই নেমেছেন। অক্ষয় মালবেরির বালক যে চির প্রবাসের অমর তরুটির চারদিকে বিরানব্বই বছর প্রদক্ষিণ করল সে তা কি করে পারবে? তাঁর মনঃপ্রাণ ছিল মায়াময় সৃষ্টিতে, লেখা ও ছবির অন্তর্জগতে, গভীরতর শূন্যতায়, সেই শূন্যতা যা একমাত্র কবি শিল্পী মরমীরাই অনুভব করেন এবং ফলত নিঃসঙ্গ মহৎ জীবন যাপন করেন।

125 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

মনীন্দ্র গুপ্ত'র কবিতা
গল্পগুলো

মণিকর্ণিকার দেশে বিকেল ফুরোয় না। —শুয়ে থাকে
শান্ত অনন্তনাগের মতো অপরাহ্ণ ভরে।
নেশাড়ু বুড়োর কাঁধে আচাভুয়া পাখি নেমে বলে :
গপ্পো বলো—
জনহীন গোল চাতালের পিছে
পাহাড়ের মতো শূন্য উঁচুতে উঠেছে,
শূন্য সামনে নেমেছে খাদ হয়ে।
নেশার বুদবুদ— বিড়বিড় ভাষায় লহরী শোনা যায়— উদ্ভট শ্লোকের
ভাঙা সুর :
উত্তরকুরুর বন্র চামরী গরুরা নীল ঘাস থেকে
আকাশে লাফিয়ে ওঠে—
বৈকাল হ্রদের জলে ছায়া পড়ে নোমাডদলের।
একটা গল্প, শেয়ালের মতো গর্ত থেকে বের করতেই
গ্রামসুদ্ধ তেড়ে এলো—মার, মার! ধূর্ত বদমাশ, হাড়িচোর!
আহীর গ্রামের ভরা যুবতীরা ঘড়া ভরে দুধ নিয়ে মিশে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখায়।
নিকটে গাছের গম্ভীর ভাঙা দালানের ঘরে ঘন ছায়া—
একজন রাহী ঐখানে ফিরে এল সন্ধ্যাবেলা—রাত্রে এক মুশকিলয়াসান
তার আধখানা মুখে আলো ফেলে।
গোল চাতালের নিচে দূর খাদে, দুইজন চোর
হিমরাত্রে আগুনের কুঞ্জ জ্বালিয়েছে।
চাদনী রাতে স্কারটারিস পাহাড়ের ছায়া পড়ল
স্নেফেলের অনন্ত সাদায়।
দূর থেকে উদ্ভট শ্লোকের সুর শোনা যায় ঘুমের মতন।
গল্পগুলো পাখির ডিমের মতো ভাঙে…

‍‍‍~~~~
কবির সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আরো লিখুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন