Debashish Bhattacharya RSS feed

Debashish Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

Debashish Bhattacharya

আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় মানুষ। যদিও দুঃখের বিষয় একদম শেষের কটি দিন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। যেইমাত্র আমার দ্বিতীয় কবিতার বই " যাই" দেবারতি ও মনীন্দ্রকে উৎসর্গ করেছি ধানসিঁড়ি বই মেলায় প্রকাশ করার অনতিপরেই কবি যাই বলে অন্তর্ধান করলেন।

অক্ষয় মালবেরি অখণ্ড পড়লাম অবভাস বের করেছে। জীবনের প্রথম বাইশ বছরের কাহিনী। না অন্তরকাহিনি? একটা একা ছেলের একান্ত গল্প। গল্পটাও ঘোরালো। জন্মভূমি বরিশালের গহন ভিটে ও শাখা প্রশাখাময় অরণ্য জলস্থল আকাশ ও জ্ঞাতিবর্গ, উদ্ভিদ ও লতাপাতা, পাখির ডাক, বড় মার আম পড়ার শব্দে কান খাড়া করে রাত্রি জাগা। আমার বাবা জন্মেছিলেন ১৯২৭এ মনীন্দ্রদা ১৯২৬এ। আমার বাবারই মত শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। ছোট মাকে বালক বয়সে তিনিই ঘরে এন্ট্রি দেন, কিভাবে, পড়ে নেবেন, বলব না। বাবার সঙ্গে দীর্ঘ গভীর ব্যঞ্জনাময় দূরত্ব। মাতৃহারা বালকরা বড় একা হয়। চিরকাল।

গদ্যটি সাধারণ নয়। কবি ও চিত্রকরের যুগ্ম অনুসন্ধানের লেন্স দেয়া ক্যামেরা। অসংখ্য স্কেচ নিজের হাতে করা। ঠাকুমার সখিদের থেকে শুরু করে বন জঙ্গল ঠাকুরদা ও একা বালক রংরুট সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রতিকৃতি। শিশু বালক ও সৈনিকের মধ্যবর্তী পর্যায়টি মহাপ্রভুর দেশ সিলেটে পাহার ও নদী, হাতির দল, দিদিমার শাসন, মাসির কূট নীতি, কোনও অতিথি আত্মীয়ার যৌনতার এক ঝলক। কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত ছবির ভাষায় কথা বলেন। তাই যৌন অযৌন সব প্রসঙ্গই আলো ছায়ার মাঝ দরিয়ায় এসে ভেলার মত দোলে, বাইশ বছরের সদ্য তরুণ শান্তিনিকেতনে গিয়ে এক উজ্জ্বল সকালে আচার্য নন্দলালকে তাই আলো ছায়ার রূপ আঁকা নিয়ে প্রশ্ন করেন উত্তরও পেতে দেরি হয় না।

লাহোরে সেনা ছাউনি, নাহারে নগ্ন স্নান, পতিতালয়ে গিয়েও দ্বার থেকে ফিরে আসা, ছেলেটি খুঁজছিল তার জীবন, তার পুঁজি, তার জায়গা, বাকি সত্তর বছর অনেক কিছু করেছেন কিছু অক্ষয় মালবেরি দাঁড়িয়ে ছিল সেই বাইশে, দেবারতির সঙ্গে দেখা হওয়ার বহু আগে, শেষ কিছু দিন চর্ম রোগে অশেষ কষ্টভোগের পূর্ব সীমানায়, নগ্ন বেদনার ওপারে এক চির আশ্রয় বটবৃক্ষের মত। গড়িয়ার একপ্রান্তে ছোট বাসাটিতে যখনই গেছি তিনি হাসিমুখে অভ্যর্থনা করেছেন। একদিনও মুড অফ দেখিনি আমার মত। একদিনও অনালাপি দেখিনি। কানে ভাল শোনেন না চোখে ঝাপসা দেখেন ক্লান্ত পরিবেশ চারদিকে হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে রেখেছে কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত তাঁর উপাস্য পূর্বসূরি বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালিতে শতাধিকবার ব্যাবহৃত শব্দটির মত মায়াময়, মায়াময়।

দেবারতিদিকে জিগ্যেস করতে বললেন শাক খেতে খুব ভালবাসতেন, অক্ষয় মালবেরি পড়ে দেখি শুধুই উদ্ভিদ, এ কোন আরেক আরণ্যক পাঠ করছি। রাজনীতির কবিতা যেমন আছে, সুশীলরা বিরোধীদের উদ্দেশে খিস্তি করেন যা দিয়ে, তেমনি আছে কবিতার রাজনীতি। তাই বাংলা একাডেমী ও রবীন্দ্র পুরস্কারের পরেও দীর্ঘ কাল তিনি একা ছিলেন, আনুষ্ঠানিক কবিতার কোলাহল কলহ থেকে বহু দূরে, হাঁ লিটল ম্যাগাজিনর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ছিল শেষ দিন পর্যন্ত উপন্যাসও লিখেছেন কিন্তু সফল ব্যাবসায়িক কবি প্রাতিষ্ঠানিক কাব্য ব্যবসায়ী হওয়ার সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য তাঁর জীবনে ঘটে নি।

দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি বয়স্ক কবিরা এখন সাহিত্য বাজারে জন সংযোগ ও প্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক বলেই নেমেছেন। অক্ষয় মালবেরির বালক যে চির প্রবাসের অমর তরুটির চারদিকে বিরানব্বই বছর প্রদক্ষিণ করল সে তা কি করে পারবে? তাঁর মনঃপ্রাণ ছিল মায়াময় সৃষ্টিতে, লেখা ও ছবির অন্তর্জগতে, গভীরতর শূন্যতায়, সেই শূন্যতা যা একমাত্র কবি শিল্পী মরমীরাই অনুভব করেন এবং ফলত নিঃসঙ্গ মহৎ জীবন যাপন করেন।

43 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

মনীন্দ্র গুপ্ত'র কবিতা
গল্পগুলো

মণিকর্ণিকার দেশে বিকেল ফুরোয় না। —শুয়ে থাকে
শান্ত অনন্তনাগের মতো অপরাহ্ণ ভরে।
নেশাড়ু বুড়োর কাঁধে আচাভুয়া পাখি নেমে বলে :
গপ্পো বলো—
জনহীন গোল চাতালের পিছে
পাহাড়ের মতো শূন্য উঁচুতে উঠেছে,
শূন্য সামনে নেমেছে খাদ হয়ে।
নেশার বুদবুদ— বিড়বিড় ভাষায় লহরী শোনা যায়— উদ্ভট শ্লোকের
ভাঙা সুর :
উত্তরকুরুর বন্র চামরী গরুরা নীল ঘাস থেকে
আকাশে লাফিয়ে ওঠে—
বৈকাল হ্রদের জলে ছায়া পড়ে নোমাডদলের।
একটা গল্প, শেয়ালের মতো গর্ত থেকে বের করতেই
গ্রামসুদ্ধ তেড়ে এলো—মার, মার! ধূর্ত বদমাশ, হাড়িচোর!
আহীর গ্রামের ভরা যুবতীরা ঘড়া ভরে দুধ নিয়ে মিশে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখায়।
নিকটে গাছের গম্ভীর ভাঙা দালানের ঘরে ঘন ছায়া—
একজন রাহী ঐখানে ফিরে এল সন্ধ্যাবেলা—রাত্রে এক মুশকিলয়াসান
তার আধখানা মুখে আলো ফেলে।
গোল চাতালের নিচে দূর খাদে, দুইজন চোর
হিমরাত্রে আগুনের কুঞ্জ জ্বালিয়েছে।
চাদনী রাতে স্কারটারিস পাহাড়ের ছায়া পড়ল
স্নেফেলের অনন্ত সাদায়।
দূর থেকে উদ্ভট শ্লোকের সুর শোনা যায় ঘুমের মতন।
গল্পগুলো পাখির ডিমের মতো ভাঙে…

‍‍‍~~~~
কবির সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আরো লিখুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন