Debashish Bhattacharya RSS feed

Debashish Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আটানা-যুগ       (বকুবাবুকে খোলা চিঠি)
    যবে থেকে আটানা বিলুপ্ত হলো, বকুবাবু,নদীমাতৃক সভ্যতার থেকে, যবে থেকে বুনিয়াদী গোশালার ঠিকা নিলো রক্ষকবাহিনী,যবে থেকে, বকুবাবু, গেরুয়ার মানে শুধু ভয়,সেই থেকে, বকুবাবু, আমিও ভুলেছি ফুটানি।সেই কবে বিশটাকায়  খেয়েপরে লাগাতার স্বাচ্ছন্দ্য কিনেছি,সে ছিল  ...
  • বেকারার দিল
    বেহাল পাছায় তার দৈনিক বরাদ্দ লাথ,তবু তার বেকারার দিল!দিনগত যত পাপ ধুয়ে দেবে সন্ধ্যের লাজবাব দারু,উপমাও এনে দেবে যথাযথ ইনসাফজমে গেলে তার মাহফিল।তাকে সব ছেড়ে গেছে, কেননা এ-মেহেঙ্গাবাজার কাউকেই দেয়নি সেই স্বঘোষিত পাঙ্গাসুযোগ।তবুও সে নির্বিকার, লড়ে যায়, ...
  • বছর ছেচল্লিশ
    এমনই গজদাঁতের মিনার,  রূপ তেরা মস্তানা।শুনেই ঈষৎ মুখ বেঁকালে : 'ধুস এত শস্তা না!'সকল দামী, সালতামামি, শহরে ভিড় আজো।যখন দুপুর, কিশোর-লতায় আঁধির সুরে বাজো।হায় গো আমার দোখনো-হৃদয়, দুব্বো গজায় হাড়ে।তোমার সঙ্গে বাজে বকায় কেবলই রাত বাড়ে।চাল চাপিয়ে ফুঁকছি চুলো, ...
  • নাম (একটি সরল প্রয়াস)
    চাপের নাম টরিসেলি, বাপের নাম খগেন।লাফের নাম হনু-লুলু, বিবেকের নাম লরেন।হাঁফের নাম কোলেস্টেরল, মাফের নাম যীশু।আমার নাম জানতে চাও? ডেকো পিপুফিশু।খাপের নাম পঞ্চায়েত, খাপের বাপ পঞ্চু।বিরল খোয়াবনামায় নিদ যাচ্ছে হাঁসচঞ্চু।সাপের নাম বালকিষণ,  পাপের নাম লোভ।রাঘব ...
  • জর্জদা
    ''.... সেই বাল্যকালে কবে থেকে গান গাইতে শুরু করলাম তা আমার মনেও নেই-- গান গাইছি-তো-গাইছি-তো-গা...
  • বিষয় জিকেসিআইইটি - এপর্যন্ত
    নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি (প্রকাশঃ 26 July 2018 08:30:34 IST)আজব খবর -১ ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ ...
  • "নাহলে রেপ করে বডি বিছিয়ে দিতাম.."
    গত পরশু অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন, মালদা জিকেসিআইইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বাইকবাহিনী এসে শাসিয়ে যায়। তারপর আজকের খবর অনুযায়ী তাদেরকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মারধর করছে বিজেপির সমর্থক ...
  • উত্তর
    [ মূল গল্প --- Answer, লেখক --- Fredric Brown। ষাট-সত্তর দশকের মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক, কল্পবিজ্ঞান অণুগল্পের জাদুকর। ] ......সার্কিটের শেষ সংযোগটা ড্বর এভ সোনা দিয়ে ঝালাই করে জুড়ে দিলেন, এবং সেটা করলেন বেশ একটা উৎসবের মেজাজেই । ডজনখানেক দূরদর্শন ...
  • জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং জুতো
    কাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট দেখছি, কিছু ছবি মূলত, যার মূল কথা হলো জুতো পায়ে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো মোটেও ঠিক নয়। ওতে দেশের অসম্মান হয়। এর আগে এরকমটা শুনিনি। মানে ছোটবেলায়, অর্থাৎ কিনা যখন আমি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক ছিলাম এবং যুদ্ধে-ফুদ্ধে ...
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

Debashish Bhattacharya

আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় মানুষ। যদিও দুঃখের বিষয় একদম শেষের কটি দিন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। যেইমাত্র আমার দ্বিতীয় কবিতার বই " যাই" দেবারতি ও মনীন্দ্রকে উৎসর্গ করেছি ধানসিঁড়ি বই মেলায় প্রকাশ করার অনতিপরেই কবি যাই বলে অন্তর্ধান করলেন।

অক্ষয় মালবেরি অখণ্ড পড়লাম অবভাস বের করেছে। জীবনের প্রথম বাইশ বছরের কাহিনী। না অন্তরকাহিনি? একটা একা ছেলের একান্ত গল্প। গল্পটাও ঘোরালো। জন্মভূমি বরিশালের গহন ভিটে ও শাখা প্রশাখাময় অরণ্য জলস্থল আকাশ ও জ্ঞাতিবর্গ, উদ্ভিদ ও লতাপাতা, পাখির ডাক, বড় মার আম পড়ার শব্দে কান খাড়া করে রাত্রি জাগা। আমার বাবা জন্মেছিলেন ১৯২৭এ মনীন্দ্রদা ১৯২৬এ। আমার বাবারই মত শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। ছোট মাকে বালক বয়সে তিনিই ঘরে এন্ট্রি দেন, কিভাবে, পড়ে নেবেন, বলব না। বাবার সঙ্গে দীর্ঘ গভীর ব্যঞ্জনাময় দূরত্ব। মাতৃহারা বালকরা বড় একা হয়। চিরকাল।

গদ্যটি সাধারণ নয়। কবি ও চিত্রকরের যুগ্ম অনুসন্ধানের লেন্স দেয়া ক্যামেরা। অসংখ্য স্কেচ নিজের হাতে করা। ঠাকুমার সখিদের থেকে শুরু করে বন জঙ্গল ঠাকুরদা ও একা বালক রংরুট সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রতিকৃতি। শিশু বালক ও সৈনিকের মধ্যবর্তী পর্যায়টি মহাপ্রভুর দেশ সিলেটে পাহার ও নদী, হাতির দল, দিদিমার শাসন, মাসির কূট নীতি, কোনও অতিথি আত্মীয়ার যৌনতার এক ঝলক। কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত ছবির ভাষায় কথা বলেন। তাই যৌন অযৌন সব প্রসঙ্গই আলো ছায়ার মাঝ দরিয়ায় এসে ভেলার মত দোলে, বাইশ বছরের সদ্য তরুণ শান্তিনিকেতনে গিয়ে এক উজ্জ্বল সকালে আচার্য নন্দলালকে তাই আলো ছায়ার রূপ আঁকা নিয়ে প্রশ্ন করেন উত্তরও পেতে দেরি হয় না।

লাহোরে সেনা ছাউনি, নাহারে নগ্ন স্নান, পতিতালয়ে গিয়েও দ্বার থেকে ফিরে আসা, ছেলেটি খুঁজছিল তার জীবন, তার পুঁজি, তার জায়গা, বাকি সত্তর বছর অনেক কিছু করেছেন কিছু অক্ষয় মালবেরি দাঁড়িয়ে ছিল সেই বাইশে, দেবারতির সঙ্গে দেখা হওয়ার বহু আগে, শেষ কিছু দিন চর্ম রোগে অশেষ কষ্টভোগের পূর্ব সীমানায়, নগ্ন বেদনার ওপারে এক চির আশ্রয় বটবৃক্ষের মত। গড়িয়ার একপ্রান্তে ছোট বাসাটিতে যখনই গেছি তিনি হাসিমুখে অভ্যর্থনা করেছেন। একদিনও মুড অফ দেখিনি আমার মত। একদিনও অনালাপি দেখিনি। কানে ভাল শোনেন না চোখে ঝাপসা দেখেন ক্লান্ত পরিবেশ চারদিকে হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে রেখেছে কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত তাঁর উপাস্য পূর্বসূরি বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালিতে শতাধিকবার ব্যাবহৃত শব্দটির মত মায়াময়, মায়াময়।

দেবারতিদিকে জিগ্যেস করতে বললেন শাক খেতে খুব ভালবাসতেন, অক্ষয় মালবেরি পড়ে দেখি শুধুই উদ্ভিদ, এ কোন আরেক আরণ্যক পাঠ করছি। রাজনীতির কবিতা যেমন আছে, সুশীলরা বিরোধীদের উদ্দেশে খিস্তি করেন যা দিয়ে, তেমনি আছে কবিতার রাজনীতি। তাই বাংলা একাডেমী ও রবীন্দ্র পুরস্কারের পরেও দীর্ঘ কাল তিনি একা ছিলেন, আনুষ্ঠানিক কবিতার কোলাহল কলহ থেকে বহু দূরে, হাঁ লিটল ম্যাগাজিনর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ছিল শেষ দিন পর্যন্ত উপন্যাসও লিখেছেন কিন্তু সফল ব্যাবসায়িক কবি প্রাতিষ্ঠানিক কাব্য ব্যবসায়ী হওয়ার সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য তাঁর জীবনে ঘটে নি।

দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি বয়স্ক কবিরা এখন সাহিত্য বাজারে জন সংযোগ ও প্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক বলেই নেমেছেন। অক্ষয় মালবেরির বালক যে চির প্রবাসের অমর তরুটির চারদিকে বিরানব্বই বছর প্রদক্ষিণ করল সে তা কি করে পারবে? তাঁর মনঃপ্রাণ ছিল মায়াময় সৃষ্টিতে, লেখা ও ছবির অন্তর্জগতে, গভীরতর শূন্যতায়, সেই শূন্যতা যা একমাত্র কবি শিল্পী মরমীরাই অনুভব করেন এবং ফলত নিঃসঙ্গ মহৎ জীবন যাপন করেন।

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

মনীন্দ্র গুপ্ত'র কবিতা
গল্পগুলো

মণিকর্ণিকার দেশে বিকেল ফুরোয় না। —শুয়ে থাকে
শান্ত অনন্তনাগের মতো অপরাহ্ণ ভরে।
নেশাড়ু বুড়োর কাঁধে আচাভুয়া পাখি নেমে বলে :
গপ্পো বলো—
জনহীন গোল চাতালের পিছে
পাহাড়ের মতো শূন্য উঁচুতে উঠেছে,
শূন্য সামনে নেমেছে খাদ হয়ে।
নেশার বুদবুদ— বিড়বিড় ভাষায় লহরী শোনা যায়— উদ্ভট শ্লোকের
ভাঙা সুর :
উত্তরকুরুর বন্র চামরী গরুরা নীল ঘাস থেকে
আকাশে লাফিয়ে ওঠে—
বৈকাল হ্রদের জলে ছায়া পড়ে নোমাডদলের।
একটা গল্প, শেয়ালের মতো গর্ত থেকে বের করতেই
গ্রামসুদ্ধ তেড়ে এলো—মার, মার! ধূর্ত বদমাশ, হাড়িচোর!
আহীর গ্রামের ভরা যুবতীরা ঘড়া ভরে দুধ নিয়ে মিশে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখায়।
নিকটে গাছের গম্ভীর ভাঙা দালানের ঘরে ঘন ছায়া—
একজন রাহী ঐখানে ফিরে এল সন্ধ্যাবেলা—রাত্রে এক মুশকিলয়াসান
তার আধখানা মুখে আলো ফেলে।
গোল চাতালের নিচে দূর খাদে, দুইজন চোর
হিমরাত্রে আগুনের কুঞ্জ জ্বালিয়েছে।
চাদনী রাতে স্কারটারিস পাহাড়ের ছায়া পড়ল
স্নেফেলের অনন্ত সাদায়।
দূর থেকে উদ্ভট শ্লোকের সুর শোনা যায় ঘুমের মতন।
গল্পগুলো পাখির ডিমের মতো ভাঙে…

‍‍‍~~~~
কবির সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আরো লিখুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন