Debashish Bhattacharya RSS feed

Debashish Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম
    পর্ব ১: আমরাভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে ...
  • ঔদ্ধত্যের খতিয়ান
    সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো ...
  • ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...
    ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪
    আম তেলবিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯
    আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…। '.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র) https://www.youtube....
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

Debashish Bhattacharya

আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় মানুষ। যদিও দুঃখের বিষয় একদম শেষের কটি দিন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। যেইমাত্র আমার দ্বিতীয় কবিতার বই " যাই" দেবারতি ও মনীন্দ্রকে উৎসর্গ করেছি ধানসিঁড়ি বই মেলায় প্রকাশ করার অনতিপরেই কবি যাই বলে অন্তর্ধান করলেন।

অক্ষয় মালবেরি অখণ্ড পড়লাম অবভাস বের করেছে। জীবনের প্রথম বাইশ বছরের কাহিনী। না অন্তরকাহিনি? একটা একা ছেলের একান্ত গল্প। গল্পটাও ঘোরালো। জন্মভূমি বরিশালের গহন ভিটে ও শাখা প্রশাখাময় অরণ্য জলস্থল আকাশ ও জ্ঞাতিবর্গ, উদ্ভিদ ও লতাপাতা, পাখির ডাক, বড় মার আম পড়ার শব্দে কান খাড়া করে রাত্রি জাগা। আমার বাবা জন্মেছিলেন ১৯২৭এ মনীন্দ্রদা ১৯২৬এ। আমার বাবারই মত শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। ছোট মাকে বালক বয়সে তিনিই ঘরে এন্ট্রি দেন, কিভাবে, পড়ে নেবেন, বলব না। বাবার সঙ্গে দীর্ঘ গভীর ব্যঞ্জনাময় দূরত্ব। মাতৃহারা বালকরা বড় একা হয়। চিরকাল।

গদ্যটি সাধারণ নয়। কবি ও চিত্রকরের যুগ্ম অনুসন্ধানের লেন্স দেয়া ক্যামেরা। অসংখ্য স্কেচ নিজের হাতে করা। ঠাকুমার সখিদের থেকে শুরু করে বন জঙ্গল ঠাকুরদা ও একা বালক রংরুট সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রতিকৃতি। শিশু বালক ও সৈনিকের মধ্যবর্তী পর্যায়টি মহাপ্রভুর দেশ সিলেটে পাহার ও নদী, হাতির দল, দিদিমার শাসন, মাসির কূট নীতি, কোনও অতিথি আত্মীয়ার যৌনতার এক ঝলক। কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত ছবির ভাষায় কথা বলেন। তাই যৌন অযৌন সব প্রসঙ্গই আলো ছায়ার মাঝ দরিয়ায় এসে ভেলার মত দোলে, বাইশ বছরের সদ্য তরুণ শান্তিনিকেতনে গিয়ে এক উজ্জ্বল সকালে আচার্য নন্দলালকে তাই আলো ছায়ার রূপ আঁকা নিয়ে প্রশ্ন করেন উত্তরও পেতে দেরি হয় না।

লাহোরে সেনা ছাউনি, নাহারে নগ্ন স্নান, পতিতালয়ে গিয়েও দ্বার থেকে ফিরে আসা, ছেলেটি খুঁজছিল তার জীবন, তার পুঁজি, তার জায়গা, বাকি সত্তর বছর অনেক কিছু করেছেন কিছু অক্ষয় মালবেরি দাঁড়িয়ে ছিল সেই বাইশে, দেবারতির সঙ্গে দেখা হওয়ার বহু আগে, শেষ কিছু দিন চর্ম রোগে অশেষ কষ্টভোগের পূর্ব সীমানায়, নগ্ন বেদনার ওপারে এক চির আশ্রয় বটবৃক্ষের মত। গড়িয়ার একপ্রান্তে ছোট বাসাটিতে যখনই গেছি তিনি হাসিমুখে অভ্যর্থনা করেছেন। একদিনও মুড অফ দেখিনি আমার মত। একদিনও অনালাপি দেখিনি। কানে ভাল শোনেন না চোখে ঝাপসা দেখেন ক্লান্ত পরিবেশ চারদিকে হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে রেখেছে কিন্তু মনীন্দ্র গুপ্ত তাঁর উপাস্য পূর্বসূরি বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালিতে শতাধিকবার ব্যাবহৃত শব্দটির মত মায়াময়, মায়াময়।

দেবারতিদিকে জিগ্যেস করতে বললেন শাক খেতে খুব ভালবাসতেন, অক্ষয় মালবেরি পড়ে দেখি শুধুই উদ্ভিদ, এ কোন আরেক আরণ্যক পাঠ করছি। রাজনীতির কবিতা যেমন আছে, সুশীলরা বিরোধীদের উদ্দেশে খিস্তি করেন যা দিয়ে, তেমনি আছে কবিতার রাজনীতি। তাই বাংলা একাডেমী ও রবীন্দ্র পুরস্কারের পরেও দীর্ঘ কাল তিনি একা ছিলেন, আনুষ্ঠানিক কবিতার কোলাহল কলহ থেকে বহু দূরে, হাঁ লিটল ম্যাগাজিনর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ছিল শেষ দিন পর্যন্ত উপন্যাসও লিখেছেন কিন্তু সফল ব্যাবসায়িক কবি প্রাতিষ্ঠানিক কাব্য ব্যবসায়ী হওয়ার সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য তাঁর জীবনে ঘটে নি।

দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি বয়স্ক কবিরা এখন সাহিত্য বাজারে জন সংযোগ ও প্রচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক বলেই নেমেছেন। অক্ষয় মালবেরির বালক যে চির প্রবাসের অমর তরুটির চারদিকে বিরানব্বই বছর প্রদক্ষিণ করল সে তা কি করে পারবে? তাঁর মনঃপ্রাণ ছিল মায়াময় সৃষ্টিতে, লেখা ও ছবির অন্তর্জগতে, গভীরতর শূন্যতায়, সেই শূন্যতা যা একমাত্র কবি শিল্পী মরমীরাই অনুভব করেন এবং ফলত নিঃসঙ্গ মহৎ জীবন যাপন করেন।

229 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক

মনীন্দ্র গুপ্ত'র কবিতা
গল্পগুলো

মণিকর্ণিকার দেশে বিকেল ফুরোয় না। —শুয়ে থাকে
শান্ত অনন্তনাগের মতো অপরাহ্ণ ভরে।
নেশাড়ু বুড়োর কাঁধে আচাভুয়া পাখি নেমে বলে :
গপ্পো বলো—
জনহীন গোল চাতালের পিছে
পাহাড়ের মতো শূন্য উঁচুতে উঠেছে,
শূন্য সামনে নেমেছে খাদ হয়ে।
নেশার বুদবুদ— বিড়বিড় ভাষায় লহরী শোনা যায়— উদ্ভট শ্লোকের
ভাঙা সুর :
উত্তরকুরুর বন্র চামরী গরুরা নীল ঘাস থেকে
আকাশে লাফিয়ে ওঠে—
বৈকাল হ্রদের জলে ছায়া পড়ে নোমাডদলের।
একটা গল্প, শেয়ালের মতো গর্ত থেকে বের করতেই
গ্রামসুদ্ধ তেড়ে এলো—মার, মার! ধূর্ত বদমাশ, হাড়িচোর!
আহীর গ্রামের ভরা যুবতীরা ঘড়া ভরে দুধ নিয়ে মিশে যাচ্ছে
দিগন্ত রেখায়।
নিকটে গাছের গম্ভীর ভাঙা দালানের ঘরে ঘন ছায়া—
একজন রাহী ঐখানে ফিরে এল সন্ধ্যাবেলা—রাত্রে এক মুশকিলয়াসান
তার আধখানা মুখে আলো ফেলে।
গোল চাতালের নিচে দূর খাদে, দুইজন চোর
হিমরাত্রে আগুনের কুঞ্জ জ্বালিয়েছে।
চাদনী রাতে স্কারটারিস পাহাড়ের ছায়া পড়ল
স্নেফেলের অনন্ত সাদায়।
দূর থেকে উদ্ভট শ্লোকের সুর শোনা যায় ঘুমের মতন।
গল্পগুলো পাখির ডিমের মতো ভাঙে…

‍‍‍~~~~
কবির সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আরো লিখুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন