Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাম্মানিক
    বেশ কিছুদিন এই :লেখালিখি'র কচকচানিতে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়নি বলতে ইচ্ছে ছিল ষোল'র জায়গায় আঠারো আনা, এমনকি, যখন আমাদের জুমলাবাবু 'কচি' হতে হতে তেল-পয়সা সবাইকেই ডুগডুগি বাজিয়ে বুলেট ট্রেনে ওঠাচ্ছেন তখনও আমি 'ঝালিয়ে নেওয়া'র সুযোগকে কাঁচকলা ...
  • তোত্তো-চান - তেৎসুকো কুররোয়ানাগি
    তোত্তো-চানের নামের অর্থ ছোট্ট খুকু। তোত্তো-চানের অত্যাচারে তাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। যদিও সেই সম্পর্কে তোত্তো-চানের বিন্দু মাত্র ধারনা নেই। মায়ের সঙ্গে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সে চলছে। নানা বিষয়ে নানা প্রশ্ন, নানান আগ্রহ তার। স্টেশনের টিকেট ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য প্রথম ভাগের উৎসব শেষ। এরপরে দীপাবলি। আলোর উৎসব।তার সাথে শব্দবাজি। আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজমতাদের ক্ষেত্রে সব সময় এই উৎসব সুখের নাও হতে পারে। অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় আওয়াজ,চিৎকার, কর্কশ শব্দশারীরিক ...
  • সিনেমা দেখার টাটকা অভিজ্ঞতা - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
    চট করে আজকাল সিনেমা দেখতে যাই না। বাংলা সিনেমা তো নয়ই। যদিও, টেলিভিশনের কল্যাণে আপটুডেট থাকা হয়ে যায়।এইভাবেই জানা যায়, এক ধাঁচের সমান্তরাল বাংলা ছবির হয়ে ওঠার গল্প। মধ্যমেধার এই রমরমার বাজারে, সিনেমার দুনিয়া আলাদা হবে, এমন দুরাশার কারণ দেখিনা। কিন্তু, এই ...
  • কিংবদন্তীর প্রস্থান স্মরণে...
    প্রথমে ফিতার ক্যাসেট দিয়ে শুরু তারপর সম্ভবত টিভিতে দুই একটা গান শোনা তারপর আস্তে আস্তে সিডিতে, মেমরি কার্ডে সমস্ত গান নিয়ে চলা। এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চু দিনের পর দিন মুগ্ধ করে গেছে আমাদের।তখনকার সময় মুরুব্বিদের খুব অপছন্দ ছিল বাচ্চুকে। কী গান গায় এগুলা বলে ...
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অনুভবে...

Sutapa Das

অনুভবে...

সকালবেলায় আমার সেই (নাম) 'বলা বারণ' অসীম গুনবতী পরানসখী খালিগলায় 'দুখজাগানিয়া' গেয়ে ঘুম ভাঙ্গিয়েছে।

কোথাও তোলপাড় হলো, অভাববোধ জেগে উঠলো নতুন করে, তাঁর জন্যে, যিনি আনন্দে-আবেগে-বিষাদে-বিচ্ছেদে এক‌লব্য-নিষ্ঠায় আঁকড়ে থাকতেন কবিগুরুকে, তাঁর গানের ডালিসহ, যার রেডিও, পরে টেপরেকর্ডারে সময় পেলেই বেজে চলা গীতমাল্যের মাধ্যমে আমার সুচিত্রা-কনিকা-দেবব্রত-দ্বিজেন নামের তারকা পরিচিতি।

যেবছর বাবা ছেড়ে যান আমাদের, ঠিক তার পরের দোল পূর্নিমা। আবীরসঙ্গত্যাগ করেছি সেই স্কুলবেলায়, পরবর্তীতে অনিচ্ছাপ্রকাশ সত্ত্বেও রঙ লাগানোয় বন্ধু এবং আত্মীয়বিচ্ছেদও ঘটেছে দু চারটি, কোল্যাটারাল ড্যামেজ আর কি, নিজের অপছন্দকে অন্যের পছন্দের সমান মর্যাদা দেওয়ায়। সুতরাং রঙীন হবার প্রশ্ন নেই, আর স্কুলছুটি হওয়ায় কাজে নিজেকে ভুলিয়ে রাখবার অবকাশও নেই। দিনমানে যা ঘরের কাজ, গুছিয়ে ফেলে বড়ই বিপাকে! কবির আক্ষেপ ছিলো 'যতবার আলো জ্বালাতে ‍চাই, নিভে যায় বারে বারে', তার বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে যতবার ভুলতে চাইছি প্রয়াত বাবার ঊনকোটি ছত্তিরিশ, তত্তোবার যেন সামনে আসছে ঢেউয়ের মতো, স্মৃতির বারিশবুন্দ। চোখেও নাম, তা নয় ! চোখের খরায় আক্ষরিকার্থেই ছটফট করছে অন্তরমহল, কি শাস্তি! সেই নিদারুন দশা আজ ভবিতব্য, যখন অতল ঘুমে তলিয়ে যাওয়ামাত্র শ্বাসবন্ধ হয়ে ছটফট করে উঠে বসতে হয় রাতের পর রাত, যখন ঘুমোতে চাওয়াও বিভীষিকা হয়ে দাঁড়ায় একেকদিন!

ডেক্সটপ চালু করলাম রাতের খাবার খেয়ে। তখনো স্মার্ট হয়নি আমার ফোন, একটু আন্তর্জালে বিচরন করে নিজেকে যদি ব্যস্ত করে দেওয়া যায়। বেসিক ফোনটারই মিউজিক প্লেয়ার অন করে ইয়ারফোনে হাল্কা কোন গান ... একের পর এক.. শুনছি কিন্তু বুঝছি না...চোখের সামনে সাঁতরাচ্ছে শব্দেরা, দেখছি কিন্তু পড়ছি না.. শান্ত চরাচর, জোছনাস্নাতা... চলমান সময় যে দিশায় নিয়ে যাক আজ, শুধু শয্যাগ্রহন করা চলবে না!

ঐ অতল জলের আহ্বান বড় বিভীষিকা যে!

মাঝবয়েসী রাত যে ভেল্কি দেখাতে পারে, থোড়াই বুঝেছি তখন।

নিশ্চুপ দুপ'র রাতে , বাজতে বাজতে মোবাইলি সম্ভার, পালা এসেছে 'আজ বিজন ঘরে... নিশীথ রাতে, আসবে যদি, শূন্য হাতে...'। ঘটনাচক্রে, 'কৃষ্ণকলি'র পর যে গান বাবা সবচে' বেশী শুনতেন, তাঁর বড় প্রিয় যে গান! ইন্দ্রানী সেনের গাওয়া সে রবীন্দ্রসঙ্গীত, অবিশ্বাস্যভাবেই, এক বোধ জন্ম দিলো আমার মধ্যে! আমার অনুভবের এ প্রকাশভঙ্গী সহজ ও সুচারু নাই ঠেকতে পারে আপনার কাছে, কিন্তু আমার অনুভবে সে বোধ সূর্যালোকের মতোই সত্য, বাস্তব ও জীবনদায়ী।


সমস্যাজর্জরিত জীবনে একমাত্র ও নিঃস্বার্থ সঙ্গী ও পরামর্শদাতা ছিলেন বাবা, যার হঠাত চলে যাওয়া আমায় যতখানি দিশাহারা করেছিলো, তার চেয়ে বেশী করেছিলো অভিমানে স্তব্ধ। সব যুক্তি, বিবেচনাবোধ সরিয়ে রেখে মন ভাবতো, বাবা আরেকটু লড়াই করলেই বোধহয়... নিদেন আমার জন্যে আরেকটু অপেক্ষা করলেই... কিংবা জরুরী তলব পাঠালেও... কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে শমনকে ভূমিচুম্বন করাতাম না সেযাত্রা!! এ বোধ কি প্রকারে এক অভিমানী অসহায় নিরাপত্তাহীনতা জন্ম দেয় আমার মধ্যে, অতল জলের আহ্বান তারই ফসল!
কিন্তু সে চরাচরভাসা পূর্নিমায়, জীবনকবির পূর্ণবিশ্বাসে বাঁধা শব্দবন্ধ যখন ইন্দ্রানী সেন কানে ঢেলে দিলেন..'জানি বন্ধু জানি, তোমার আছে তো হাতখানি...' কোন অলৌকিক উপায়েই হয়তো,আমার সত্তার সে অভিমানিনী শিশু , মাথায় হাত রেখে দাঁড়ানো বাবাকে অনুভব করে আশ্বস্ত হলো, নিরাপত্তা পেলো ফিরে, অনুচ্চারিত প্রতিশ্রতি প্রতিধ্বনিত হলো কোথাও, 'শুন্য' হলেও সে হাতখানি , 'হামেশা'ই থাকবে আমার মাথায় আশির্বানী হয়ে , অথবা হাতে , লড়াইয়ের দুর্দম জেদ হয়ে, 'তোমার পরশ' থাকবে, 'আমার হৃদয়ভরা', 'জীবন দোলায় দুলে দুলে আপনারে' ভুলে থাকলে আমার চলবে না, কারন আমার অস্ত্বিত্বের মধ্যেই রইলেন আমার জন্মদাতা, আমি-তুমির বিভেদ স্পষ্ট না করেই, কিন্তু থাকাটুকু ঐ অ‌পার্থিব জোছনা-রাতে জানান দিলেন স্পষ্ট!

অভিমান ভেসে গেলো চোখের হড়পা বানে, বাবাকে জাগতিক বিচারে হারাবার পাঁচমাস পর সেই প্রথম আমার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রন হারানো!
অভিমানের মেঘ ,বর্ষনে নিঃশেষিত হওয়ায়, দৈত্যের বাগানে বসন্ত ফেরার মত, আমার নির্বিঘ্ন ঘুমও এলো ফিরে , সে রাতের শেষে।

সে রাতে পরমপিতার আশীর্বাদ হয়ে আপনার গান এক পিতা-পুত্রীকে অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বেঁধে দিয়েছিলো, আমায় নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছিলো। আমার অসহায়তা, আমার একাকীত্ব তাই আপনাকেই উতসর্গ করলাম গুরুদেব, আর আমার অপারগতাকেও, ভাবনাকে সঠিক শব্দে প্রকাশের যে অক্ষমতা আমার সহজাত।

কিছুই যে হারায় না, আপনি ছাড়া কে আর প্রত্যয়িত করতো?!

22 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: prativa

Re: অনুভবে...

লাইজা আহমদ লিজার গানের মতো সুন্দর লেখা!
Avatar: স্বাতী রায়

Re: অনুভবে...

আজকেই আমার এক বন্ধু বলেছে রবীন্দ্রনাথ শেষ পর্যন্ত আমাদের সুখ দুঃখের ব্লটিং পেপার - আপনার লেখাটা পড়ে সেটাই আবার অনুভব করলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন