Malay Bhattacharjee RSS feed

Malay Bhattacharjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...
  • অনুপ্রদান
    শিক্ষাক্ষেত্রে তোলাবাজিতে অনিয়ম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত গত কিছুদিনে কলেজে ভর্তি নিয়ে তোলাবাজি তথা অনুদান নিয়ে অভিযোগের সামনে নানা মহল থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পরে রাজ্য সরকার।শিক্ষামন্ত্রী এদিন ...
  • গুজবের সংসার
    গুজব নিয়ে সেই মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চারটা লাশ আর চারজন ধর্ষণের গুজব কি গুজব ছিল না? এত বড় একটা মিথ্যাচার, যার কারনে কত কি হয়ে যেতে পারত, এই জনপথের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারত অথচ রসিকতার ছলে এই মিথ্যাচার কে হালকা করে দেওয়া হল। ছাত্রলীগ যে ...
  • মহামূর্খের দল
    মূল গল্প : আইজ্যাক আসিমভরাইগেল গ্রহের যে দীর্ঘজীবী প্রজাতির হাতে এই গ্যালাক্সির নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণের ভার, সে পরম্পরায় নারন হল গিয়ে চতুর্থজন ।দুটো খাতা আছে ওনার কাছে । একটা হচ্ছে প্রকাণ্ড জাবদা খাতা, আর অন্যটা তার চেয়ে অনেকটা ছোট । গ্যালাক্সির সমস্ত ...
  • মানুষ মানুষের জন্য?
    স্মৃতির পটে জীবনের ছবি যে আঁকে সে শুধু রঙ তুলি বুলিয়ে ছবিই আঁকে, অবিকল নকল করা তার কাজ নয়। আগেরটা পরে, পরেরটা পরে সাজাতে তার একটুও বাঁধেনা। আরো অনেক সত্যের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতির আরম্ভেই এই ধ্রুব সত্য মনে করিয়ে দিয়েছেন। কথাটা মনে রেখেই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

Malay Bhattacharjee



দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল।

আরোরা সাহেব।

সাল টা ১৯৯৩ / ৯৪।সদ্য বছর ৩ কলেজ ছেড়ে মাল্টিন্যাশনাল চাকরি, চরকির মত সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি। সকালে দিল্লী, বম্বে, মাদ্রাস (তখনো মুম্বাই / চেন্নাই হয় নি) গিয়ে রাতে ফিরে বাড়ির ভাত খাওয়া তখন এলি তেলি ব্যাপার আমার কাছে।পাড়ার বন্ধু বান্ধবের কাছে কেতাই আলাদা। নিজেও ভাবতাম কি না হনুর চাকরি করছি। বয়স বাড়ার পর বুঝেছি ওই সময় যে কাজটা করতাম, ওই হিল্লী দিল্লী করে সেটা আসলে সিনিয়র দের খুব একটা পছন্দের ছিল না। আমি সবচেয়ে জুনিয়র বলে আমার বস নির্দ্বিধায় আমাকেই চাপাতো ওই ভার। ভার বলে ভার? প্রতিটি টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিনে আমাদের রাত জেগে টেন্ডার শেষ হোত। তারপর ইয়াব্বড় বড় স্যুটকেসে টেণ্ডার ভরে সেই দিল্লী তে মারুতি, দাইউ, হন্ডা, নয়তো বম্বে হয়ে পুণে গিয়ে টাটাতে জমা। আর মাদ্রাস এর ফোর্ড এর হাত ধরে সব বড় কোম্পানী রাই তখন গাড়ি বানাচ্ছে। তা আমি ঘুমোতে ঘুমোতে যেতাম, স্যুটকেস জমা করতাম আবার সন্ধ্যের ফ্লাইট এ কলকাতা ফিরে স্নান ফান সেরে ঠেকে গিয়ে আবাল বন্ধু বান্ধবের কাছে এমন হাব ভাব করতাম যেনো কি না কি বিরাট বিজনেস ডিল করে ফিরলাম। যাক সে কথা। আসল ঘটনা টায় আসি।

যারা ওই সময় ট্রাভেল করতেন তাদের মনে থাকবে, তখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এর সাথে ধীরে ধীরে ভারতীয় আকাশে দামানিয়া, মোদিলুফৎ ডানা মেলছে। দামানিয়া তে তখন অন্তর্দেশীয় উড়ান গুলোতেও মদ্যপানের বন্দবস্তো ছিল আর সাথে শেষের ৫/৬ টি রো তে ধূমপানের অবাধ অনুমতি। সে এক রাজকীয় অনুভুতি।হাতে হুইস্কি,ঠোঁটে সিগারেট আর জানলা দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি,গাড়ি,পুকুর, মাঠ। আমার মনে হয় জীবনের প্রথম প্লেন চড়া দামানিয়া এয়ারলাইন্স এই। ঘন বেগুনী রঙের টিকিটের জ্যাকেট ছিল। চেক ইন করে হাতের ব্যাগ এ ট্যাগ টা লাগাতে গিয়ে মনে আছে ( ছি ছি, কি বোকা ছিলাম) ওই ইলাস্টিক এর ব্যান্ড টার গিঁট খুলে তারপর ব্যাগ এর হাতলে জড়িয়ে আবার গিঁট মেরেছিলাম। এই পুরো ঘটনা টা আমার বস পাশে বসে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে দেখেছিলেন। তারপর সীটবেল্ট লাগানো র গল্প টা না হয় থাক। খালি আসল গল্প থেকে সরে যাচ্ছি।

সেই সময় জেনেরাল মোটর, গুজারাট এর হ্যালোল এ গাড়ী কারখানা বানাবে। সেই টেন্ডার, সেই স্যুটকেস,সেই আমি। কলকাতা থেকে দিল্লী হয়ে আমেদাবাদ মোদিলুফৎ।( তখন এই মোদীর নাম ও শুনিনি, কেশুভাই তখন সর্বেসর্বা)। টেন্ডার জমা করে সেই দিন ই ফেরা সম্ভব ছিল না। ফ্লাইট পরের দিন। সেই মোদিলুফৎ। আমেদাবাদ থেকে দিল্লী এসে সবাইকে নামিয়ে দিয়ে ২ ঘন্টা বাদে আবার দিল্লী থেকে কোলকাতা।

স্যুটকেস যথাস্থানে যথাসময়ে নামিয়ে এস টি ডি বুথ থেকে বস কে জমা করার খবর দিয়ে দিয়েছি। ( তখন মোবাইল নেই পাঠকবৃন্দ। আর আমার বস ছিলেন চেইন স্মোকার। বুথ থেকে ফোন করে ওনার কাশি শুনতে শুনতেই ৭০ / ৮০ টাকা উঠে যেত। তারপর টেন্ডার জমা পড়ে গ্যাছে খবর দেওয়াটা আরো ৫ টাকার মত লাগতো।)

আমেদাবাদ থেকে দিল্লী নির্বিঘ্নে পৌঁছে এয়ারপোর্ট এর মধ্যেই সিগারেট ধরিয়ে (হ্যাঁ, তখন কোন বাঁধা ছিল না) ঘুরে বেড়াচ্ছি। হঠাৎ আমার চেয়েও প্রায় ২/৩ ইঞ্চি লম্বা প্রায় ৬ ফিট ২/৩ হবে এক ভদ্রলোক আমার পথ আটকালো। প্রথমে নিজের পরিচয় দিলো। দিল্লী এয়ারপোর্ট এর সিকিউরিটি আধিকারিক বলে। আমার পরের গন্তব্য জেনে, অল্প কথায় পরিচয় সেরেই আমাকে নিয়ে সোজা দোতলায় নিজের অফিস। অবস্থা বুঝতেই পারছেন। আমার তখন শুধু প্যান্ট ভেজা বাকী। খালিস্থান তখন হট টপিক। কি ভাবতে কার মত দেখতে ভেবে আমাকে ধরলো এসব ভাবতে ভাবতেই এক কাপ গরম কফি নামলো সামনে সাথে সামোসা। বলির আগে শেষ খাওয়া নয়তো? দু তিন টে ফোন সেরে সেই মিস্টার অরোরা ঘুরে বসলেন আমার দিকে। আমি তখন মনে মনে মা কালী র জপ ৭৭ তম বার শেষ করেছি। প্রথমেই সেই ঝাঁট জালানো প্রশ্ন " ডর লাগ রাহা হ্যায় ক্যায়া? "। আমি হ্যাঁ না মিশিয়ে একটা ঘোঁৎ করে আওয়াজ বের করে ৩২ পাটি বের করে " নাহি নাহি" বলতেই " শাব্বাস" শুনলাম। তারপর আমাকে এই ভাবে তুলে আনার রহস্য ভেদ শুরু করলেন অরোরা সাহেব।

এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি তখন ধীরে ধীরে খারাপ সময়ের জন্য তৈরি হচ্ছে। সেই এয়ারপোর্টের সামনে গাড়ি থেকে নেমে ৫/৭ মিনিটের মধ্যে ডিপার্চার গেটের সামনে পৌছে যাওয়ার দিন গুলো আস্তে আস্তে অবলুপ্তির দিকে এগোচ্ছে। অবিশ্বাস বাড়ছে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিকিউরিটির সময় আর বহর। এই প্রেক্ষাপটে অরোরা সাহেব দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর এয়ারপোর্ট এর সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত অফিসার আর আমি সেইদিনের জন্য ওনার ব্যাক্তিগত পছন্দের ছাগল। হ্যাঁ, আমি সেদিনের সরকারী সাজানো উগ্রপন্থী। যারা বডি ফ্রিস্কিং করেন তাদের পরীক্ষার প্রশ্ন। তফাৎ একটাই, তারা কেউ জানেন না আজ পরীক্ষা।

ব্যাপারটা এবার খোলসা করে বোঝানো শুরু করলেন অরোরা সাহেব। আমার শরীরে উনি একটা রিভলবার লুকিয়ে দেবেন। আমাকে অপেক্ষা করতে হবে ফ্লাইট এর ফাইনাল বোর্ডিং ঘোষণা পর্যন্ত। তারপর শেষ মূহুর্তে দৌড়াদৌড়ি করে সিকিউরিটি তে পৌছতে হবে। অরোরা সাহেব নিশ্চিত, ওনার অধঃস্থন অফিসার রা ঠিক এই সময় সবচেয়ে বেশী ভুল করেন। উনি সেটাই ধরে খান দুই সাসপেন্ড না করে আজ রাতে রাম খাবেন না প্রতিজ্ঞা করেছেন।

আমার ফ্লাইট ছাড়তে প্রায় এক ঘন্টা বাকি। উনি এইটুকু বুঝিয়ে আমাকে বসিয়ে রেখে আরেকটি ছাগল ধরতে বেরিয়ে গেলেন। সাথে রেখে গেলেন আরেক অফিসার কে যাতে আমি না পালাই। আর এই অনভিপ্রেত উত্তেজনা যেনো কোনভাবেই আমার চোখে মুখে ছাপ না ফ্যালে সেই মহেন্দ্রক্ষনে, তাই হাতে দিয়ে গেলেন এক গাদা ডেবোনেয়ার ম্যাগাজিন। ঘোড়েল অফিসার। কোনবয়সে কোন ম্যাগাজিন মন কে দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে রাখতে পারে তার সম্যক ধারণা ওনার আছে সেটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়ে শিস দিতে দিতে উনি বেরিয়ে গেলেন।

এবার আমার কথা। সামনে ক্ষীণ বসনা সুন্দরীদের প্রচুর ছবি অথচ আমার মন অস্থির। নানা প্রশ্ন ভিড় করে আসছে মনে। যেমন এই অরোরা ব্যাটা নিজেই কি সত্যি? আমি যদি ফেঁসে যাই। যদি ধরা পড়ে সরকারের খাতায় বোনাফাইড আতংকবাদীর পরিচয় হয়। বাকি জীবন টা কোন জেল এ পচে মরবো? ইস। সকালেই মা কে ফোন করেছিলাম। বলেছি আলু সিদ্ধ ভাত, ঘি দিয়ে খাবো রাত্রে। আর কি আমার ঘি ভাত খাওয়া হবে এ জম্মে? স্যুটকেস বয়ে টেন্ডার জমা করার লোক, বস এক হপ্তায় খুঁজে নেবে। তারপর কি আর আমায় ছাড়াতে আসবে? এসব ভাবতে ভাবতে যে চিন্তা টা মাথায় এল তাতে শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা কুল কুল করে একটা শিরশিরানি নেমে এল। অরোরা ব্যাটাচ্ছেলে এখন তো খুব সামোসা খাওয়াচ্ছে। আমি যখন ওই ষন্ডা গুলোর সামনে পাখির মত দু হাত তুলে দাঁড়াবো, তখন তো আমি একা। অরোরা ব্যাটা সামনে আসবে না। কোথায় নাকি লুকিয়ে লক্ষ্য রাখবে আমাকে আর ওর ষন্ডা গুলোর ওপর। তা সেই সময় যদি সিকিউরিটির ষন্ডা গুলো আমার শরীরে লুকিয়ে রাখা রিভলভার টা হাতে পায়, বোঝাবুঝি পরে, আগে মাটিতে ফেলে কয়েক ঘা লাথালাথি, চড় থাপ্পড় মারবে না তার গ্যারান্টী অরোর নেবে? আর নিলেই বা, সে গ্যারান্টির কোন দাম আছে? আমতা আমতা করে সাথের অফিসার টা কে এই সম্ভাবনার কথাটা জিজ্ঞাসা করতেই ব্যাটা এক গাল হেসে বলে " হাঁ, ইয়ে হো সাকতা হ্যায়"। অবস্থা ভাবুন আমার। টপ টপ করে ঘাম ঝরে সেই অল্পবসনারা তখন সব সিক্তবসনা। মনে মনে ঠাকুর কে ডাকছি। আর কোনদিন টেন্ডার শেষ দিনের জন্য ফেলে রাখবো না। ৩ দিন আগে শেষ করে ট্রেন এ আসবো তাও ভালো। আর দরকার নেই আমার প্লেন চড়ার ফুটানির গল্প মারা ওই ঘ্যাম বাপি, লেবু বাপি, কাতলা বাপি দের কাছে। ( বাপি নামেই পাড়ায় ৩/৪ জন বন্ধু ছিল। আলাদা করে বোঝার জন্য আমরা এই ভাবেই ডাকতাম
যাক সে কথা)।

এর মধ্যে একবার ছোট টয়লেট ঘুরে এসেছি। বলাবাহুল্য সেই অফিসার টি সংগ ছাড়েন নি তখন ও। হঠাৎ আমার ফ্লাইট এর বোর্ডিং ঘোষনা শুনতেই এক লাফে হৃৎপিন্ড আমার গলায়। অরোরা র দেখা নেই।যা বুঝলাম, উনি আর দেখা দেবেন না। যা হবার এবার স্টেজ এই হবে। এইবার সেই আমার ল্যাজে রেখে যাওয়া অফিসার নড়ে চড়ে আমার মেক আপ নিয়ে পড়লেন। অরোরার টেবিল এর ড্রয়ার থেকে ছোট্ট একটা কুচকুচে কালো রিভলভার বের করে টেবিল এর উপর রাখতেই আমার আবার হিসু পেয়ে গেলো। বেশ বিরক্তি নিয়েই আবার আমাকে নিয়ে টয়লেট।চোখে মুখে জল দিয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে একটু মনে জোর পেলাম যেনো। এইবার আমার পোশাক পরিধান এর সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নিলেন সেই অফিসার। গোঁজা জামা এক টানে প্যান্ট থেকে মুক্ত হল। সুনিপুন হাতে ঠিক যেখানে শিরদাঁড়া টা শেষ, সেখানে রিভলভার টা অন্তর্বাস এর মধ্যে গুঁজে হাল্কা টেপ লাগিয়ে টাইট করে লাগালেন। ( অন্তর্বাস এর ছিদ্র গুলো দেখেছিল কি না কে জানে? ) তারপর আবার জামা গুঁজে এত সুন্দর করে সেটিং করা হল আমার নিজের ই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল যে আমি শরীরে একটা রিভলভার নিয়ে রয়েছি। ততক্ষনে ফাইনাল বোর্ডিং ঘোষণা হয়ে গ্যাছে। অরোরার ঘরের আয়নায় চোখ পড়তেই নিজের মুখ টা অন্য কার সাথে যেন ভীষণ মিল খুঁজে পেলাম। সেই মগনলাল যখন জটায়ু কে দেওয়ালে সাঁটিয়ে ছুরি ছোড়ানো খেলছিল, ঠিক সেই সন্তোষ বাবুর মুখ।

অরোরা কোথায় জিজ্ঞাসা করতেই যা বুঝলাম উনি ঘুর পথে বাইরে দিয়ে গিয়ে ডিপার্চার লাউঞ্জ এর কোন এক কোণে বসে থাকবেন। সোজাপথে গেলে ওনার ষন্ডা গুলো বুঝে যেতে পারে আজ ওনার চেকিং আছে। সাবধান হয়ে যাবে। আর ওদের কে অপ্রস্তুত করাটাই এনার কাজ। সব বসেদের এক ই বেলেল্লাপানা আর কি।

ফাইনাল কল এবং আর ৫ মিনিটের মধ্যে গেট বন্ধ হবার হুমকি শুনেই আমাদের যাত্রা শুরু হল। দুড়দাড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে দৌড় দৌড় সিকিউরিটি জোন এ। আমার রক্তের আড্রেনালিন এ তখন পুরীর ভরা জোয়ার এর সমুদ্র। ঠিক সিকিউরিটি পৌছানোর আগেই সাথের অফিসার টিও কেটে গেলেন। বুঝুন কেস।কোমরে গোঁজা রিভলভার নিয়ে একা দিল্লী এয়ারপোর্ট এ।

সিকিউরিটির পাদানি তে দাঁড়িয়ে আমার চোখ তখন এন্টার দি ড্রাগন এর ব্রুস লী। অরোরা কে খুঁজছি পাগলের মত। না, লোক টা ধোঁকা দেয় নি। বার তিনেক এপ্রান্ত ওপ্রান্ত চোখ বুলিয়েই চোখে পড়ে গেল দীর্ঘদেহী সাদা সাফারি পরা সাহেব কে। চুপটি করে প্রায় ১০০ ফিট দূরে এক কোনে বসে হাত নাড়ছেন আমাকে। সত্যি মাইরি ঠিক ওই মুহুর্তের আনন্দ টা একমাত্র দেওয়ালে টানানো জয়েন্ট এর রেসাল্ট লিস্ট এ আমার রোল নাম্বার টা দেখতে পাওয়ার মতই আশ্বসনীয়। এবার আমার সব ভয় এক লহমায় ধাঁ। খুব রেলা নিয়ে পাঁদানি তে দাঁড়ালাম। শুরু হল বডি ফ্রিস্কিং। সত্যি বলছি, সেই মুহুর্তে মন চাইছিলো এরা যেন ধরতে না পারে আমায়। এত টেনশন নিয়ে নেমেছি যখন, জিতেই ফিরবো।

আমাকে চেকিং করছিলো এক সর্দার। বেশ ঘেঁটে ঘেঁটে পিছনের পকেট এ রাখা পার্স, চিরুনি সব বার করালো কিন্তু জাস্ট দু আংগুল দূরে গোঁজা রিভলবার টায় হাত ঠেকলো না। এদিকে মোদিলুফৎ এর গ্রাউন্ড স্টাফ পরিত্রাহি চিৎকার করছে আমায় বোর্ড করানোর জন্য। বোর্ডিং পাস টায় স্টাম্প মেরে আমার হাতে দিতেই বুঝলাম জিতে গেছি। সেটা ওই দূরে বসে অরোরাও বুঝেছে। আর সাথে সাথে ক্ষিপ্র গতিতে ওই অত দূর থেকে একদম আমার আর ওই সর্দার এর সামনে।

অরোরা দু হাতের সামনে, কোমরে রিভলবার যেখানে ছিল সেখানেই আর আমায় দ্যাখে কে। ঠিক শোলের ওই সিন টা, যেখানে হেমা নেচেই চলেছে, সানির বাবা কুত্তো কুত্তো করছে আর গুরু দূর থেকে এক গুলিতে সাম্বার বন্দুক উড়িয়ে দিয়ে সেই ডায়লগ টা " আগর কোই হিলনে কা কোসিস কি, তো ভুন্দকে রাখ দুংগা" ঠিক ওইরকম একটা ফিলিং এসেছে আমার। কোমর থেকে লোম টোম সমেত একটানে রিভলবার টা বার করে উঁচু করে ধরেছি। মনে হচ্ছে চারিদিকে যেনো সিটি ও পড়ছে। ঠিক দশ হাত দূরে বসা বিশাল বপু মাড়োয়ারি তখন আমার সেই রিভলবার হাতে রুদ্র মূর্তি দেখে মুখ ভরা জর্দা আর থুতু গিলে ফেলে সিট ছেড়ে পালানোর জন্য হাঁইফাই করছে। ও তো আর জানে না আমি কে? গুলি গোলা চলবেই এবার ভেবে হনুমান চালিসা শুরু করবে কি না ভাবছে। আমি তখন একদম শৌর্যের চূড়ায়। সেই সর্দার এর মুখ টা তখন ৭ টা স্কচ এর পরে খুশবন্ত সিং এর মুখের মত, সাথে আমার তীব্র প্রশ্নবান। " আপ জাইসা লোগ কে হাত মে হামারা দেশ কা সুরক্সা কা ভবিস্য? আপকো সরম আনা চাইয়ে টাইয়ে " বলে দেদার পাংগা নিচ্ছি। অরোরাও ধমকাচ্ছে। ব্যাটা মোদিলুফৎ এর চ্যাংড়া টা প্রায় আমার হাত ধরে টান তে টান তে বাস এ না ওঠালে সেইদিন একটা হেস্তনেস্ত করেই আসতাম। অরোরা শেষ বারের মত একটা থ্যাংকু দিয়ে টাটা করে বিদায় নিলেন। সেই শেষ দেখা। তারপর কতবার দেশের কত এয়ারপোর্ট এ গেছি। আর কোনদিন দেখিনি ওকে।

কলকাতা এয়ারপোর্ট এ নেমে ট্যাক্সি নিয়ে পাড়ায় ঢুকেই বাপিদের বাড়ি। নিচ থেকে হাঁকডাক করতেই বারান্দায় মাসিমা। উত্তেজনায় তখনো কাঁপছি। সটান মাসিমা কে জিজ্ঞাসা করলাম " লেবু বাপি আছে?"। মাসিমা লেবু টা না বুঝলেও বাকি টা বুঝলেন। বললেন আছে স্নান করছে। মাসিমা কে বলে দিলাম বেরোলেই মাঠে আসতে বলুন, আমি ততক্ষনে কাতলা আর ঘ্যাম বাপি কে ডেকে নিয়ে আসি। হেব্বি গল্প বলার আছে।

মলয় ভট্টাচার্য।

১৫.০৬.২০১৭



শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

উরেদ্দাদাআআ
গুরুদেব লোক আপনি অ্যাদ্দিন বাদে এলেন! সেই খোকাখুকু সামলানোর পরে এই আবার।
Avatar: Amit

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

এটা দারুন জমেছে। জব্বর
Avatar: de

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

ব্যাপক, ব্যাপক!! ঃ))
Avatar: T

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

:))
Avatar: সিকি

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

চরম জিনিস, জাস্ট চ্রম!!
Avatar: dd

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

দারুন দারুন
Avatar: Tim

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

এটা দূর্দান্ত ! আরো হোক ঃ-)
Avatar: Atoz

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

এটা দারুণ। ঃ-)
Avatar: h

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

গুরুর (মলয় বাবু কে গুরু না মানার কোন কারণ নেই, রামদেব স্যার বাংলা পড়তে পারলে হায়, এঁর পদধূলি প্যাকেট করে বিক্রি করতেন) প্রতিটা লেখাই হীরক খন্ড। জাস্ট কোন কথা হবে না। চেপে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসতে হাসতে কাশি হয়ে গেল।
Avatar: b

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

'অল্পবসনারা সিক্তবসনা হয়ে গেলো'

জাস্ট ভালো।
Avatar: Ratri

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

বিয়াপ্পক।
Avatar: Paramita

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব

হেব্বি..


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন