Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভাঙ্গর ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে
    এই লেখাটা ভাঙ্গর, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা স্ট্যাটাস, টুকরো লেখায়, অনলাইন আলোচনায় যে কথাগুলো বলেছি, বলে চলেছি সেইগুলো এক জায়গায় লেখার একটা অগোছালো প্রয়াস। এখানে দুটো আলাদা আলাদা বিষয় আছে। সেই বিষয় দুটোয় বিজ্ঞানের সাথে ...
  • বিদ্যালয় নিয়ে ...
    “তবে যেহেতু এটি একটি ইস্কুল,জোরে কথা বলা নিষেধ। - কর্তৃপক্ষ” (বিলাস সরকার-এর ‘ইস্কুল’ পুস্তক থেকে।)আমার ইস্কুল। হেয়ার স্কুল। গর্বের জায়গা। কত স্মৃতি মিশে আছে। আনন্দ দুঃখ রাগ অভিমান, ক্ষোভ তৃপ্তি আশা হতাশা, সাফল্য ব্যার্থতা, এক-চোখ ঘুগনিওয়ালা, গামছা কাঁধে ...
  • সমর্থনের অন্ধত্বরোগ ও তৎপরবর্তী স্থবিরতা
    একটা ধারণা গড়ে ওঠার সময় অনেক বাধা পায়। প্রশ্ন ওঠে। সঙ্গত বা অসঙ্গত প্রশ্ন। ধারণাটি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়, কখনও জেতে, কখনও একটু পিছিয়ে যায়, নিজেকে আরও প্রস্তুত করে ফের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তার এই দমটা থাকলে তবে সে পরবর্তী কালে কখনও একসময়ে মানুষের গ্রহণযোগ্য ...
  • ভি এস নইপাল : অভিবাসী জীবনের শক্তিশালী বিতর্কিত কথাকার
    ভারতীয় বংশদ্ভূত নোবেল বিজয়ী এই লেখকের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদে, ১৯৩২ সালের ১৭ অগস্ট। পরে পড়াশোনার জন্য আসেন লন্ডনে এবং পাকাপাকিভাবে সেতাই হয়ে ওঠে তাঁর আবাসভূমি। এর মাঝে অবশ্য তিনি ঘুরেছেন থেকেছেন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ভারত সহ ...
  • আবার ধনঞ্জয়
    আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে আজকের দিনে রাষ্ট্রের হাতে খুন হয়েছিলেন মেদিনীপুরের যুবক ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। এই "খুন" কথাটা খুব ভেবেচিন্তেই লিখলাম, অনেকেই আপত্তি করবেন জেনেও। আপত্তির দুটি কারণ - প্রথমতঃ এটি একটি বাংলায় যাকে বলে পলিটিকালি ইনকারেক্ট বক্তব্য, আর ...
  • সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!
    "সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ ...
  • অনুপ্রদান
    শিক্ষাক্ষেত্রে তোলাবাজিতে অনিয়ম নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রসঙ্গত গত কিছুদিনে কলেজে ভর্তি নিয়ে তোলাবাজি তথা অনুদান নিয়ে অভিযোগের সামনে নানা মহল থেকেই কড়া সমালোচনার মুখে পরে রাজ্য সরকার।শিক্ষামন্ত্রী এদিন ...
  • গুজবের সংসার
    গুজব নিয়ে সেই মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু চারটা লাশ আর চারজন ধর্ষণের গুজব কি গুজব ছিল না? এত বড় একটা মিথ্যাচার, যার কারনে কত কি হয়ে যেতে পারত, এই জনপথের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারত অথচ রসিকতার ছলে এই মিথ্যাচার কে হালকা করে দেওয়া হল। ছাত্রলীগ যে ...
  • মহামূর্খের দল
    মূল গল্প : আইজ্যাক আসিমভরাইগেল গ্রহের যে দীর্ঘজীবী প্রজাতির হাতে এই গ্যালাক্সির নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণের ভার, সে পরম্পরায় নারন হল গিয়ে চতুর্থজন ।দুটো খাতা আছে ওনার কাছে । একটা হচ্ছে প্রকাণ্ড জাবদা খাতা, আর অন্যটা তার চেয়ে অনেকটা ছোট । গ্যালাক্সির সমস্ত ...
  • মানুষ মানুষের জন্য?
    স্মৃতির পটে জীবনের ছবি যে আঁকে সে শুধু রঙ তুলি বুলিয়ে ছবিই আঁকে, অবিকল নকল করা তার কাজ নয়। আগেরটা পরে, পরেরটা পরে সাজাতে তার একটুও বাঁধেনা। আরো অনেক সত্যের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতির আরম্ভেই এই ধ্রুব সত্য মনে করিয়ে দিয়েছেন। কথাটা মনে রেখেই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মাজার সংস্কৃতি

Muhammad Sadequzzaman Sharif

মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় না। মাজার ভেদে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়। বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় মাজার সম্ভবত সিলেটের শাহজালালের মাজার। ওই মাজারের ব্যবসা দেখেই কিনা কে জানে, সিলেটে অলিতে গলিতে মাজার। চট্টগ্রামের অবস্থাও তেমনই। বায়জিদ বোস্তামির মাজার কে ঘিরে জমজমাট অবস্থা। আরেকটা মাজার আছে যেখানে যাওয়ার হয় নাই আমার, কুষ্টিয়ার লালনে মাজার। যেহেতু দেখি নাই তাই মন্তব্য করব না। এর বাহিরে যা দেখছি সব মাজার কে ঘিরে ধান্দা, বিরাট অংকের টাকার খেলা। ঢাকা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে মাজার চুটিয়ে ব্যবসা করছে কেউ বলার নাই। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সমাজের উঁচু নিচু সবার যাওয়া আসা আছে মাজারে। এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে দেশের সব মাজারেই পায়ের ধূলি দিয়েছিলেন, যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি।

আমি আসলে মাজারের বিপক্ষে কুৎসা গাইতে চাচ্ছি না। পরিস্থিতিটা বললাম আর কি। যা বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে মাজারের অন্য একটা দিক। মাজার সংস্কৃতির শক্তি যেটা। আমার কাছে মনে হয় মাজার সংস্কৃতির শক্তি হচ্ছে এর অসাম্প্রদায়িক ব্যাপারটা। কোন কারনে বা কেন একজন খাঁটি হিন্দু মুসলিম একজনের মাজারে মানত করে? যে মানত করে সে কি সব জায়গায় মানত করে? মানত করা অভ্যাস তাই করে? আমার মনে হয় না। সিলেটে দেখছি, ভারতের আজমেরি শরীফের কথা শুনেছি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এই সব মাজারে গিয়ে বসে থাকছে, মাথা ঠুকছে। এই যে অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মাজারের, এটাই শক্তিশালী করে রেখেছে মাজার কে। মাজার কাঁটাতারের বেড়া কেও অতিক্রম করে। শেরপুরের সীমানা মানে বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষে যে মাজার আছে সেখানে যখন ওরস হয় বর্ডার খুলে দেওয়া হত এই সেদিনও। কোন এক অজানা কারনে এখন বন্ধ আছে। চরনতলায় যে মেলা হয় তা যদিও ওরস না, কালীপূজা উপলক্ষে মেলা তবুও সেই মেলায় বর্ডার ওপেন থাকত সব সময়। আমার দেখার সৌভাগ্য না হলেও আমার বন্ধুদের অনেকেরই এই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু কোন অজানা কারনে এখন আর বর্ডার ওপেন থাকে না। যদিও কামালপুরের মাজারের ওরসের সময় কাঁটাতারের দুই পাসে মানুষ জময়ায়েত হয়, দুই পাসেই মেলা বসে, কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দান খয়রাত সব চলে, শুধু বর্ডার ওপেন থাকে না। বিএসএফ আর বিজিবি দাঁড়িয়ে থাকে পাহারায়।

আমি এসব থেকে শত হস্তে দূরে থাকার মানুষ। শুধু কৌতূহল বসে শেরপুরের খুব প্রাচীন মাজার শাহ কামালের মাজাররে বার্ষিক ওরসে গিয়ে ছিলাম। মাস ব্যাপী ওরস। হাজার হাজার মানুষ আসছে মাজারে। এতদিন ধরে দেখছি এই মাজার কিন্তু এর এই বিশাল সৌন্দর্য আমার চোখে পড়েনি। সত্য হচ্ছে ওরস চলাকালে এই এলাকা থেকে দুরেই থাকতাম। আমার যাওয়া হলোও আমার এক হিন্দু বন্ধুর মাধ্যমেই। ও মাজারে শিন্নি দিবে। আমাকে বলল থাকিস, আমি রাজি হলাম ব্যাপারটা দেখার জন্য। মাজারে শিন্নি কি বস্তু তা জানতাম না, শুনেই এসেছি শুধু। দেখলাম মানুষের ঢল আর সার্বজনীন চরিত্র। মনে হলো দেখা যাক ভিতরে কি আছে। খুব বেশি কিছু অবশ্য জানতে পারলাম না। যেদিন আমি গেলাম সেদিন শেষ দিন, আগের রাতেই আনঅফিসিয়ালই ওরস শেষ, ওরস উপলক্ষে মেলা বসে সেই মেলাও শেষ। তবুও মানুষ প্রচুর মানুষ। মেলার এক প্রান্তে পাগলদের জন্য আলাদা করে জায়গা করে দেওয়া আছে। সেখানে পলিথিনের তাঁবু টাঙ্গিয়ে তাঁরা থাকে। ওরস বা মেলার প্রাণ এরা। এরাই সারা দেশে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ওরসে যোগ দেয়। তাঁদের তাঁবু ঘুরে দেখলাম। গাঁজা নিয়ে এখানে কোন লুকোচুরি নেই। বানাচ্ছে, খাচ্ছে, মেলে নিয়ে বসে আছে। শেষ দিন দেখে তাদেরও ঘর গোছানোর চিন্তা, পরবর্তী ঠিকানা জামালপুরের দুর্মুঠ। সেখানেও শাহ কামালের ওরস। দুই জায়গায় একজনের মাজার? কাহিনী বলছি, একটু অপেক্ষা …

আমাদের শেরপুরে যে শাহ কামালের মাজার সেখানে আসলে শাহ কামালের কবর নেই। এখানে তার সঙ্গী সাথীর কবর আছে আর তার এক ঘোড়ার কবর আছে। এই তথ্য আমি সেখানকার খাদেমকে বলে জানতে পারিনি, তিনি অত কিছু জানেন না। শুধু জানেন তার বাপ দাদা এই মাজারের খাদেম ছিলেন, এখন তিনি খাদেম। আমি একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে জানলাম যে শেরপুরে এই স্থানে তিনি কিছুদিন বসবাস করেন। এখানে তার সহচর কয়েকজনের কবর আছে। আবার ভিন্ন মতও আছে।শাহ কামাল এবং শাহ জামাল দুইজন ভাই বলে পরিচয় পাওয়া যায়। শাহ জামালের নামে জামালপুর জেলার নামকরণ হয়েছে। ১৫০০ শতকের দিকে বাংলায় যে ১২ জন আউলিয়া ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম শাহজালাল, এই দুই জন সেই সময় এদের সাথেই ছিলেন। চার পাঁচশ বছর পুরাতন মাজার দেখেই সম্ভবত ধীরে ধীরে এই মাজার গুলো সার্বজনীন আকার ধারণ করেছে।

দুই একদিন পরেই আমার দুর্মুঠ যাওয়ার সুযোগ হয়ে গেলো। এবার আমার আগ্রহ আসল মাজার দেখার, যেখানে এই আউলিয়া শুয়ে আছে। ভণ্ডামি কোন মাত্রায় চলে তা দেখাও আরেকটা উদ্দেশ্য। শেরপুরের মাজারে তুলনায় এই মাজারের ব্যাপকতা অনেক বেশি। বিশাল এলাকা নিয়ে মেলা শুরু হয়ে গেছে। হেন জিনিস নাই যা মেলায় উঠেনি। পাগলদের আড্ডাও অনেক বড়। সারা দেশ থেকে সব হাজির হয়ে গেছে। গান চলছে, ঢোল করতালের শব্দে পরিবেশ যেন হয়ে উঠছে অন্য রকম। ওরস নাকি এখনো জমেনি, কিন্তু আমি পা ফেলার জায়গা পাচ্ছি না। জমে গেলে সেখানে নাকি দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়। এক দোকানীর সাথে কথা বললাম মাজার সম্পর্কে, তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, কয়েক হাজার বছর পুরাতন মাজার এটা। বুঝলাম মিথ কিভাবে তৈরি হয়। মাজার দেখলাম। সিলেট, চট্টগ্রামের মত অত বড় না বলেই হয়ত ধান্দা বা ভণ্ডামির মাত্রা তেমন দেখলাম না। তবে যেটা শুরুতেই বলেছিলাম, অসাম্প্রদায়িক চরিত্র, তা পুরোপুরি বিরাজমান। শাঁখা সিঁদুর পড়া নারী, ধুতি পড়া বৃদ্ধ, টুপি পড়া মাওলানা সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে কবরের কাছে যাচ্ছে, খাদেম কে যার যার সাধ্যমত দান খয়রাত করে আসছে। পাসে সরে যাচ্ছে অন্য জন এসে দাঁড়াচ্ছে। রান্না করে আনছে, কেউ এখানেই রান্না করে খাওয়াচ্ছে সবাই কে। এখানেও এক মাস ধরে ওরস চলবে এবং এটা নিশ্চিত এই একমাস আশেপাশের কোন পরিবার না খেয়ে থাকবেন না। ঐতিহাসিক মূল্য ছাড়াও, মাজারের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র আর এর অছিলায় গরিব দুঃখীদের তিন বেলা খাওর ব্যবস্থার জন্যও না হয় টিকে থাক মাজার গুলো। যতদিন না আমরা বুঝতে শিখছি কবরে শায়িত কেউ আমার জন্য কিছু করতে পারবে না, যতদিন না আমরা একজন অন্য জনের উপরে ধর্মের কারনে ঝাঁপিয়ে পরা বন্ধ না করছি ততদিন মাজার থেকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে পরুক।

শেয়ার করুন


Avatar: কল্লোল

Re: মাজার সংস্কৃতি

ভালো লাগলো।
একসময় ফারজীরা এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন। মুসলমানের কাছে এটি বুত্পরস্তি বা পৌত্তলিকতার পাপ। এই মাজারে গিয়ে নিজের দুঃখ দূর করার জন্য মানত করা মানে আল্লা যিনি একমাত্র তাকে অস্বীকার করা - ফারজীদের এইসব যুক্তি ছিলো।
কিন্তু তাতে কোন ফল হয় নি।
পশ্চিমবাংলাতেও সতী মায়ের মেলা, কেঁদুলীর মেলার মতো বহু মেলা ও দাদাপীরের মাজার, ফুরফুরা শরিফের মাজার সহ বহু মাজারে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে যোগ দেন।
এই ফকির-দরবেশ-বাউলেরা তো বাংলার সুফি ঐতিহ্যের ধারা। এখানে হিন্দু-মুসলমান হয় না, শুধুই মানুষ হয়।
একই দৃশ্য আজমীর শরিফে, নিজামুদ্দীন আওলিয়ার দরগায়, সলিম চিস্তির দরগায়।

Avatar: শঙ্খ

Re: মাজার সংস্কৃতি

ভালো লাগল।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: মাজার সংস্কৃতি

সুফিবাদ আর মাজার মিলেমিশে আছে। এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রথমে আসছে সুফিবাদের হাত ধরে। পরে আসছে অন্যভাবে।সুফিবাদের হাত ধরে আসার কারনে এইদিকের ইসলামের চেহারা আর আরবের ইসলামের চেহারা ভিন্ন। আরবে যতদিনে ওহাবিজম চালু হইছে ততদিনে এদিকে সুফিবাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার পেয়ে গেছে। পরবর্তীতে ফরায়েজিরা নতুন করে সালাফি তথা ওহাবি মতবাদ চালু করতে চাইলেও সফল হয়নি। এখন পর্যন্ত এই উপমহাদেশের ইসলামের চেহারা আর আরবের ইসলামের চেহারা ভিন্ন।
সুফিবাদ নিয়ে কিছু বলি নাই লেখায় কারন সুফিবাদ নামক মহাসমুদ্র থেকে আমি এক গ্লাস পানিও পান করি নাই। তাই সেই বিষয় নিয়ে কিছু বলি নাই। আমি নিজেও মাজারে বিশ্বাস করি না। ধর্মমতে আমি জানি মৃত ব্যক্তি আমার জন্য কোন কিছু করতে পারবে না। উল্টা আমি তার জন্য দোয়া করতে পারব, সেই দোয়ার ভাগ তিনি পেতে পারেন। কিন্তু এও জানি সুফিবাদ এক অতল সমুদ্র, আমার মত মানুষ এর তল পাবে না সহজে। লেখা ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
Avatar: aranya

Re: মাজার সংস্কৃতি

দিব্য লেখা, বেশ লাগল।

'পরবর্তীতে ফরায়েজিরা নতুন করে সালাফি তথা ওহাবি মতবাদ চালু করতে চাইলেও সফল হয়নি। এখন পর্যন্ত এই উপমহাদেশের ইসলামের চেহারা আর আরবের ইসলামের চেহারা ভিন্ন'

- এটা সত্যি হলে আনন্দের কথা। আমার ধারণা ছিল বাংলাদেশে ওয়াহাবি মতবাদ ক্রমেই প্রবল হচ্ছে, সৌদি আরবের পেট্রো ডলারে প্রচুর মাদ্রাসা তৈরী হচ্ছে, যারা এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: মাজার সংস্কৃতি

সৌদি টাকা যে আসছে না তা না। তবে আমরা বড় খারাপ জাতি, নুন খায়া গুন গাই না!! মসজিদ হচ্ছে, টাকা আসছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না তেমন। তবে প্রভাব যে কিছু পরছে না তা না। প্রভাবের কারনেই তো ব্লগার হত্যা, জঙ্গি উত্থান, হলি আর্টিজেন... তারপরেও সংখ্যায় তারা আর কয়জন? এখনো সংখ্যা গুরু আমরাই। ধন্যবাদ।
Avatar: aranya

Re: মাজার সংস্কৃতি

'এখনো সংখ্যা গুরু আমরাই' - আশা আছে তাহলে। ভাল লাগল
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: মাজার সংস্কৃতি

অবশ্যই আশা আছে। বললাম না আমরা নুন খাই কিন্তু গুন গাই না!! যাদের এই অভ্যাস আছে তাঁদের কে কিনে নেওয়া মুশকিল। একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা বলি। আমার বাড়ি বাংলাদেশে শেরপুর জেলায়, এখানে রাজাকার কামরুজ্জামানের বাড়ি। আমার বাড়ির পাসেই তার শশুর বাড়ি। ছোট বেলায় আমরা যে কোন অনুষ্ঠানেই তার কাছ থেকে চাঁদা নিতাম। বলতে দ্বিধা নেই তিনি ভাল চাঁদা দিতেন। বড় হয়েও দেখলাম একই অবস্থা, সারা জেলার মানুষই উনার কাছ থেকে নানা ছলে বলে টাকা নিত। উনার নামে কি পরিমাণ মানুষ ঢাকায় বিনে খরচে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে তার কোন হিসেব অন্তত আমার জানা নাই। কিন্তু আমরা অন্য জায়গায় একদম কঠিন! যতই টাকা দেক আর আমরা নেই, কোনদিন কামরুজ্জামান আমাদের এখান থেকে নির্বাচনে পাশ করতে পারিনি। টাকার জোরে ভোট বাড়ছিল আস্তে আস্তে কিন্তু জিততে পারেনি কোন বারেই। ফাঁসি না হলে কি হত জানি না, রাজনীতির মার প্যাঁচে সামনে কোনদিন এখানকার এমপি হতে পারত কিনা জানা নেই। তবে আমরা কোনদিন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিইনি। কামরুজ্জামান জামাতের যে মাপের নেতা ছিলেন সেই মাপের নেতা হিসেবে সে যে প্রতিবার হেরে গেছে এখান থেকে এটা আমাদের একটা গর্বেরও বিষয়।
শুধু আমার এলাকা না। ওয়াজ শুনান আর যাই শুনান ভোটের সময় আমরা নৌকা আর ধানের শিষ খুঁজে নেই। এও কারনেই যে মাওলার ওয়াজে লাখ লাখ মানুষ হয় তার মার্কায় সিল পরে না শয়ে শয়েও!! এইটা আমাদের চরিত্র। এ আছে বলেই টিকে আছে। নাহলে এতদিনে পীর ফকিরেরাই সরকার গঠন করে ফেলত।
Avatar: কল্লোল

Re: মাজার সংস্কৃতি

এটা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। সুবিধা নিচ্ছে, ভোট দিচ্ছে না।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: মাজার সংস্কৃতি

সুবিধা নিচ্ছে ভোট দিচ্ছে না এটা আমার এলাকার কথা বললাম। কিন্তু যে পীর সাহেবের ওয়াজে লাখ লাখ মানুষ হয়, সারা দেশে যার ফ্রাঞ্চাইজ খোলা সে কেন নির্বাচনে জামানত হারাচ্ছে? কারন এইদিকের লোক রাজনীতি আর ধর্ম দুইটা দুই জায়গায় রাখতে পছন্দ করে। এইটাই হচ্ছে টার্গেট অনেকের। তাঁরা এটাকেই ভাঙ্গতে চাচ্ছে। ধর্ম আর রাজনীতি এক করে মানুষকে বোঝাতে চাচ্ছে অনেকে। এই চেষ্টার নাম হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম, জেএমবি, হলি আর্টিজেন। তবে তারা যারাই হোক বা যে নামেই হোক, তারা যে ভুলটা করছে তা হচ্ছে এদিকের লোকের পালস বুঝতে না পারা। পাকিস্তান আমলেরও আগে থেকে এদিকের লোকজন রাজনৈতিক ভাবে সচেতন। পাকিস্তানও বলছিল যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে তারা কাফের, তারা ইসলামের ধ্বংস চায়। লাভ হয় নাই। এখনো হবে না তা তীব্রভাবে আশা করি। এখনো আমরা ওয়াজ শুনি কিন্তু ভোট দেই না। যে মসজিদের ইমাম সাহেব রাজনৈতিক কথা বার্তা কইতে চায় সে ফিনিশ হয়ে যায়। মানুষজন মুখ ফিরিয়ে নেয় তার কাছ থেকে। তাই আশা আছে, আলো জ্বলবেই।
Avatar: aranya

Re: মাজার সংস্কৃতি

আপনার লেখা খুবই ভাল লাগছে। বাংলাদেশকে নিজের দেশ বলেই মনে হয়। গুরু সাইট-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষজনের সাথে কথাবার্তা হচ্ছে, এটা আমার কাছে খুবই আনন্দের ব্যাপার।

'পীর সাহেবের ওয়াজে লাখ লাখ মানুষ হয়' - কিছু ওয়াজের ক্লিপিং শুনেছি, যাতে স্লোগান থাকে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে বা অন্য ধর্মের মানুষ - কাফের-দের বিরুদ্ধে। এ ধরণের ওয়াজে র জনপ্রিয়তা কেমন?
Avatar: কল্লোল

Re: মাজার সংস্কৃতি

এই চিত্রটি কি শুধুই ওই এলাকার? নাকি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশেরও
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: মাজার সংস্কৃতি

আমি সম্ভবত বুঝাতে পারছি না। পীরের ওয়াজে মানুষ হয় যেহেতু তাই তারা যে জনপ্রিয় তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তা ওই ওয়াজ শুনা পর্যন্তই। যখন ভোটের প্রসঙ্গ এসে যায় তখন এই ভোটারদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে তাদের সমর্থক যে নাই তা না। আমাদের এখানে কামরুজ্জামান নির্বাচনে হারলেও ভোট তো পেয়েছিল খারাপ না। আমি বলতে চাচ্ছি ভোট বেশি পেলেও তা এখনো কমই আছে অন্য দল গুলো থেকে। আবার অন্য এলাকার কথা যদি বলি সেদিকে তো জামাতের অনেক নেতাই পাশ করেছে। পাশ করেছে অকল্পনীয় পরিমান টাকা খরচ করে। আমার এলাকার উদাহরণ আবার দেই। কামরুজ্জামান জামাতের নেতা ছিলেন। জামাতের অর্থে ইসলামি ব্যাকং চলে। নির্বাচনের সময় কোন চেক ফেক লাগত না কিচ্ছু লাগত না। কাগজের স্লিপে কামরুজ্জামানের স্বাক্ষর থাকত আর টাকার পরিমান লেখা থাকত, ব্যাংকে গেলে টাকা দিয়ে দিত। এগুলা আমরা নিজেরাই দেখছি। অন্য এলাকাও এমন না হওয়ার কোন কারন নাই। টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে জিতেছিল জামাত নেতারা। আর ওয়াজ করা হুজুরা কোনদিনই পাস করতে পারেনি। জামানত হারানোর রেকর্ড আছে অনেক মাওলানার। এই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম হচ্ছে সাইদি। সাইদি ওয়াজ করা হুজুর সাথে আবার জামাত নেতা। সব মিলিয়ে সে পাশ করেছিল নির্বাচন। সাইদি নিজেও অবশ্য রাজাকার ছিল। যাই হোক, ধন্যবাদ আপনাদের কে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন