Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মাজার সংস্কৃতি
    মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় ...
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শুভ নববর্ষ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ নজরুল এই জনের ১৪০০ সাল নিয়ে পাল্টাপাল্টি কবিতা আছে।কেন জানি নজরুলের কবিতা লেখাটা আমার কাছে খুব খ্যাত খ্যাত লাগছে। ভাবছিলাম, কি দরকার ছিল তখনই জবাব দিয়ে কবিতা লেখার!! এখন শুধু রবীন্দ্রনাথের কবিতাটা থাকলে কি দারুণ হত!! এই চিন্তার কোন ভিত্তি নেই, মনে হয়েছিল আর কি!! শতাব্দী কে বরণ করে নেয়া কি জিনিস বুঝতে পারি নাই।

পারি নাই এর আরেকটা কারন হচ্ছে তখনো নববর্ষ উৎযাপন বাংলাদেশে তেমন কোন চেহারা পায় নাই। ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। চারুকলার ছাত্ররা ফুর্তি ফার্তা করে আর কি!! আমাদের অত মাথাব্যথা নেই এসব নিয়ে।শেরপুরে নববর্ষের বাতাস লাগতে সময় লেগেছে বহুকাল।
আস্তে আস্তে আমাদের চোখের সামনে নববর্ষ উৎযাপন ক্রমে আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হয়ে গেলো। মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে গেল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার প্রতি চাবুক স্বরূপ। যে শোভাযাত্রা চারুকলার ছেলেমেয়েরা করত শুধু তা এখন সার্বজনীন। প্রতিটা জেলায় এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। ঢাকায় এই একদিনে কি পরিমাণ মানুষ শুধু কোন কারন ছাড়াই হাঁটে তার কোন হিসেব সম্ভবত নাই কোথাও। রমানা থেকে শুরু করে শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত পর্যন্ত পা ফেলার জায়গা থাকে না। মানুষের প্রবল আগ্রহই এই দিনকে সার্বজনীন করে তুলেছে। এই দিন উপলক্ষে এখন ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাক তৈরি করে, মার্কেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নি হয়, মানুষ কেনেও পাগলের মত। এই একদিন হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ, খ্রিস্টান হিসেব করে না কেউ। ধনী গরিব বাছবিচার থাকে না। শাহবাগ থেকে হেঁটে হেঁটে মৎস্য ভবন যেতে কারো কোন পয়সা লাগে না। তাই স্ত্রীকে পুরাতন শাড়ি পরিয়ে, বাচ্চাকে একটা লাল হলুদ ফতুয়া কিনে দিয়ে রিক্সাওয়ালা রিক্সায় করে ফুল ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে পারে। ১০ টাকা দিয়ে আচার কিনে ঘুরতে ঘুরতে খাওয়া চলে সাথে। এখন উৎসবের ব্যাপকতায় বহু কোম্পানির মানুষজন পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। কাজেই ঢাকা শহরে মোটামুটি ইচ্ছা থাকলে যে কেউ অংশ নিতে পারে নববর্ষ উৎযাপনে। এখন মানে গত কয়েক বছর ধরে নববর্ষ উৎযাপন শাহবাগ এলাকা ছেড়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে অনেকে এবং তারা মোটামুটি সফল। উত্তরার লোকজনের এখন শাহবাগে না আসলেও চলবে। কারন উত্তরায়ই বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে সেজে বসে থাকে। যাদের রমনা বটমূলে ছায়ানটের গান শুনতে হবে তাদের হিসেব আলাদা। অবশ্য একটু দেরি করে মানে একটু দেরি বলতে নয়টা দশটার দিকে গেলে রমনায় ঢুকতে পারবে এমন মর্দ তো আমি দেখি না!! রমনায় ঢুকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাখ মানুষ ঢুকার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে ততক্ষণে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হচ্ছে, অনেক ফাঁকি বাজি মেরে, লাইন আইন কয়েকবার করে ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে আমার আর ভাল লাগে নাই। মনে হল বাহিরেই তো কত্তবড় দুনিয়া!! গান আর কতক্ষণ ভাল লাগে!!
এই উৎসব বন্ধ করতে কত চেষ্টাই না করা হয়েছে। বোম মেরে বন্ধ করতে চেয়েছে, নানা রকমের বানী দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। যতবার এর উপরে আঘাত আসছে ততবার মানুষ বিপুল বিক্রমে দিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে হাজির হয়েছে রাস্তায়। উৎসবের রঙ আরো যেন বেরে গেছে প্রতিবার। ব্যাপ্তি হয়েছে বিশাল থেকে বিশালাকার। এই উৎসব যে ক্রমেই ঈদ পূজার পাশাপাশি অবস্থান নিবে তা কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়, ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হব না।

আশা করা ছাড়া আমরা আর কিছু করতে পারি না। প্রতিবছর আমরা নববর্ষের দিন আশা প্রকাশ করি যে এ বছর সব ভাল হবে, এ বছর একদম একটা অতুলনীয় বছর হবে। ধুয়া তুলসী পাতা হয়ে যাব আমরা সবাই। কিন্তু হয়ে উঠে না। আমরা কোথায় গিয়ে জানি খেই হারিয়ে ফেলি, আবার অতলে তলিয়ে যাই। যাক, নতুন বছরে শুরুতে নিরাশার কথা কব না আর। বরাবরের মত এবারও নতুন বছরের প্রতি আশা এবার সব অমঙ্গল দূর হবে, অশান্তি নিকেশ হবে, ভালবাসায় পরিপূরণ হবে দেশ। ভাল থাকবে জ্ঞানী ও জ্ঞানপাপী, ভাল ও মন্দ, ছেলে ও মেয়ে, নারী ও পুরুষ, যুবক ও যুবতী, শিশু, কিশোর ও কিশোরী। ভাল থাকুক যারা নববর্ষ কি যে জানে সেও, ভাল থাকুক যাকে আগামীকাল সক্কালে উঠে জীবিকার সন্ধান করতে যেতে হবে সেই মানুষটা। আগামী বছরটা ভাল কাটুক আমার নতুন পুরাতন, কাছে দূরের, দেশে বিদেশের সকল বন্ধুদের। ভাল হোক পরম শত্রুরও, ফেসবুকে ব্লক মারা আপনরাও।






শেয়ার করুন


Avatar: স

Re: শুভ নববর্ষ

"নজরুলের কবিতা লেখাটা আমার কাছে খুব খ্যাত খ্যাত লাগছে"। ওর ছাগল, নিজেকে ছোট করলেই কি কলকে পাবি? বড় জোর পিঠ চাপড়ানি। আর নিজেকে ছোট করা থেকে বের হতে পারবি না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন