Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...
  • কালচক্রের ছবি
    বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা ...
  • এয়ারপোর্টে
    ১।আর একটু পর উড়ে যাবভয় করেকথা ছিল কফি খাবফেরার গল্প নিয়েকত সহজেই না-ফিরেফুল হয়ে থাকা যায়যারা ফেরে নি উড়ার শেষেতাদের পাশ দিয়ে যাইভয় আসেকথা আছে কফি নেব দুজন টেবিলে ফেরার পর ২।সময় কাটানো যায়শুধু তাকিয়ে থেকেতোমার না বলা কথাওরা বলে দেয়তোমার না ছুঁতে পারাওরা ...
  • ভগবতী
    একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর ...
  • শীতের কবিতাগুচ্ছ
    ফাটাও বিষ্টুএবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব সেই মেয়েটার, সেই যারজয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।বাঁয়ে রাখো, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শুভ নববর্ষ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ নজরুল এই জনের ১৪০০ সাল নিয়ে পাল্টাপাল্টি কবিতা আছে।কেন জানি নজরুলের কবিতা লেখাটা আমার কাছে খুব খ্যাত খ্যাত লাগছে। ভাবছিলাম, কি দরকার ছিল তখনই জবাব দিয়ে কবিতা লেখার!! এখন শুধু রবীন্দ্রনাথের কবিতাটা থাকলে কি দারুণ হত!! এই চিন্তার কোন ভিত্তি নেই, মনে হয়েছিল আর কি!! শতাব্দী কে বরণ করে নেয়া কি জিনিস বুঝতে পারি নাই।

পারি নাই এর আরেকটা কারন হচ্ছে তখনো নববর্ষ উৎযাপন বাংলাদেশে তেমন কোন চেহারা পায় নাই। ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। চারুকলার ছাত্ররা ফুর্তি ফার্তা করে আর কি!! আমাদের অত মাথাব্যথা নেই এসব নিয়ে।শেরপুরে নববর্ষের বাতাস লাগতে সময় লেগেছে বহুকাল।
আস্তে আস্তে আমাদের চোখের সামনে নববর্ষ উৎযাপন ক্রমে আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হয়ে গেলো। মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে গেল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার প্রতি চাবুক স্বরূপ। যে শোভাযাত্রা চারুকলার ছেলেমেয়েরা করত শুধু তা এখন সার্বজনীন। প্রতিটা জেলায় এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। ঢাকায় এই একদিনে কি পরিমাণ মানুষ শুধু কোন কারন ছাড়াই হাঁটে তার কোন হিসেব সম্ভবত নাই কোথাও। রমানা থেকে শুরু করে শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত পর্যন্ত পা ফেলার জায়গা থাকে না। মানুষের প্রবল আগ্রহই এই দিনকে সার্বজনীন করে তুলেছে। এই দিন উপলক্ষে এখন ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাক তৈরি করে, মার্কেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ লগ্নি হয়, মানুষ কেনেও পাগলের মত। এই একদিন হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ, খ্রিস্টান হিসেব করে না কেউ। ধনী গরিব বাছবিচার থাকে না। শাহবাগ থেকে হেঁটে হেঁটে মৎস্য ভবন যেতে কারো কোন পয়সা লাগে না। তাই স্ত্রীকে পুরাতন শাড়ি পরিয়ে, বাচ্চাকে একটা লাল হলুদ ফতুয়া কিনে দিয়ে রিক্সাওয়ালা রিক্সায় করে ফুল ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরতে পারে। ১০ টাকা দিয়ে আচার কিনে ঘুরতে ঘুরতে খাওয়া চলে সাথে। এখন উৎসবের ব্যাপকতায় বহু কোম্পানির মানুষজন পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। কাজেই ঢাকা শহরে মোটামুটি ইচ্ছা থাকলে যে কেউ অংশ নিতে পারে নববর্ষ উৎযাপনে। এখন মানে গত কয়েক বছর ধরে নববর্ষ উৎযাপন শাহবাগ এলাকা ছেড়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে অনেকে এবং তারা মোটামুটি সফল। উত্তরার লোকজনের এখন শাহবাগে না আসলেও চলবে। কারন উত্তরায়ই বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে সেজে বসে থাকে। যাদের রমনা বটমূলে ছায়ানটের গান শুনতে হবে তাদের হিসেব আলাদা। অবশ্য একটু দেরি করে মানে একটু দেরি বলতে নয়টা দশটার দিকে গেলে রমনায় ঢুকতে পারবে এমন মর্দ তো আমি দেখি না!! রমনায় ঢুকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাখ মানুষ ঢুকার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে ততক্ষণে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হচ্ছে, অনেক ফাঁকি বাজি মেরে, লাইন আইন কয়েকবার করে ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে আমার আর ভাল লাগে নাই। মনে হল বাহিরেই তো কত্তবড় দুনিয়া!! গান আর কতক্ষণ ভাল লাগে!!
এই উৎসব বন্ধ করতে কত চেষ্টাই না করা হয়েছে। বোম মেরে বন্ধ করতে চেয়েছে, নানা রকমের বানী দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। যতবার এর উপরে আঘাত আসছে ততবার মানুষ বিপুল বিক্রমে দিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে হাজির হয়েছে রাস্তায়। উৎসবের রঙ আরো যেন বেরে গেছে প্রতিবার। ব্যাপ্তি হয়েছে বিশাল থেকে বিশালাকার। এই উৎসব যে ক্রমেই ঈদ পূজার পাশাপাশি অবস্থান নিবে তা কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়, ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হব না।

আশা করা ছাড়া আমরা আর কিছু করতে পারি না। প্রতিবছর আমরা নববর্ষের দিন আশা প্রকাশ করি যে এ বছর সব ভাল হবে, এ বছর একদম একটা অতুলনীয় বছর হবে। ধুয়া তুলসী পাতা হয়ে যাব আমরা সবাই। কিন্তু হয়ে উঠে না। আমরা কোথায় গিয়ে জানি খেই হারিয়ে ফেলি, আবার অতলে তলিয়ে যাই। যাক, নতুন বছরে শুরুতে নিরাশার কথা কব না আর। বরাবরের মত এবারও নতুন বছরের প্রতি আশা এবার সব অমঙ্গল দূর হবে, অশান্তি নিকেশ হবে, ভালবাসায় পরিপূরণ হবে দেশ। ভাল থাকবে জ্ঞানী ও জ্ঞানপাপী, ভাল ও মন্দ, ছেলে ও মেয়ে, নারী ও পুরুষ, যুবক ও যুবতী, শিশু, কিশোর ও কিশোরী। ভাল থাকুক যারা নববর্ষ কি যে জানে সেও, ভাল থাকুক যাকে আগামীকাল সক্কালে উঠে জীবিকার সন্ধান করতে যেতে হবে সেই মানুষটা। আগামী বছরটা ভাল কাটুক আমার নতুন পুরাতন, কাছে দূরের, দেশে বিদেশের সকল বন্ধুদের। ভাল হোক পরম শত্রুরও, ফেসবুকে ব্লক মারা আপনরাও।






93 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: স

Re: শুভ নববর্ষ

"নজরুলের কবিতা লেখাটা আমার কাছে খুব খ্যাত খ্যাত লাগছে"। ওর ছাগল, নিজেকে ছোট করলেই কি কলকে পাবি? বড় জোর পিঠ চাপড়ানি। আর নিজেকে ছোট করা থেকে বের হতে পারবি না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন