Prosenjit Bose RSS feed

Prosenjit Boseএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...
  • কালচক্রের ছবি
    বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা ...
  • এয়ারপোর্টে
    ১।আর একটু পর উড়ে যাবভয় করেকথা ছিল কফি খাবফেরার গল্প নিয়েকত সহজেই না-ফিরেফুল হয়ে থাকা যায়যারা ফেরে নি উড়ার শেষেতাদের পাশ দিয়ে যাইভয় আসেকথা আছে কফি নেব দুজন টেবিলে ফেরার পর ২।সময় কাটানো যায়শুধু তাকিয়ে থেকেতোমার না বলা কথাওরা বলে দেয়তোমার না ছুঁতে পারাওরা ...
  • ভগবতী
    একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর ...
  • শীতের কবিতাগুচ্ছ
    ফাটাও বিষ্টুএবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব সেই মেয়েটার, সেই যারজয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।বাঁয়ে রাখো, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কৃত্যা

Prosenjit Bose

কৃত্যা : তৃতীয় পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

[পাণ্ডবগণ অধোনেত্রে নীরব এবং ধৃতরাষ্ট্র অন্ধনেত্রে সরব -- এমন সময়ে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রাঞ্চল ধরে সজোরে টান দেন।]

প্রবল উল্লাসধ্বনির মাঝে প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। পৈশাচিক আমোদে সভা তখন মত্ত। আঁচল খসে যায়, কিন্তু দ্রৌপদীর স্কন্ধদেশ অনাবৃত হতে-হতেও যেন হয় না। কিন্তু সভার প্রত্যন্ত এক কোণ থেকে একটি মর্মান্তিক আর্তনাদ ওঠে, যা বিপুল হর্ষধ্বনির মাঝে কারুর শ্রুতিগোচর হয় না। মত্ত জনতা লক্ষই করে না, দুঃসহ নামক এক কৌরবভ্রাতা রক্তাক্ত দেহে সভাকক্ষে লুটিয়ে পড়লেন।

ওদিকে দ্রৌপদী সুস্থির ভঙ্গিমায় দণ্ডায়মান। দুঃশাসন স্থানচ্যুত বস্ত্রাঞ্চলটি টানতে-টানতে দ্রৌপদীর দেহটিকে একবার পরিক্রমা করেন। আবারও খানিকটা বস্ত্র খুলে আসে, কিন্তু দ্রৌপদীর দেহাংশ অনাবৃত হয় না। উল্লাসমগ্ন জনগণের অবশ্য অত ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা আবারও লক্ষ করে না, রক্তাপ্লুত দেহে ভূমিশয্যা নিচ্ছেন দুঃশল, জলসন্ধ, বলবর্ধন ও চিত্রবাণ -- এই চার কৌরব। দুঃশাসন পুনরায় পরিক্রমা করে দ্রৌপদীর দেহ। নিষঙ্গী, বৃন্দারক, দৃঢ়বর্মা ও দৃঢ়ক্ষত্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে-করতে সাহায্যের জন্য বৃথাই আর্তচিৎকার করতে থাকেন।

আরও এক পাক। প্রায় অর্ধেক বস্ত্র এখন দুঃশাসনের হাতে। অথচ একবসনা দ্রৌপদীর দেহ যেন অন্য কিছুতে আবৃত। এইবার কেউ-কেউ লক্ষ করেন বিষয়টি। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই কবচী, ক্রথন, কুণ্ডী ও ভীমরথের ক্ষতবিক্ষত দেহ সভায় আছড়ে পড়ে এবং এতক্ষণে বিষয়টি কারুর কারুর বোধগম্য হয়। যাঁরা দুটি ঘটনার সম্পর্কসূত্রটি বুঝতে পারেন, তাঁরা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন ও অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যান। কিন্তু মত্ত জনতার অন্য কোনও দিকেই মনোযোগ নেই। যেমন নেই দুঃশাসনের।

আরও এক পাক। জনতার উল্লাস। কিন্তু শকুনি জিজ্ঞাসা করেন, "একবস্ত্রা দ্রৌপদীর গায়ে পীতবস্ত্র ছাড়া আবার কীসের আবরণ ওটি ? কীসের, ভাগিনেয় ? চর্ম ? ওটি কি চর্ম ? হ্যাঁ, দুর্যোধন, চর্মই তো ! নরলোমযুক্ত নরচর্ম কি ?! দুর্যোধন ! এ আমি কী দেখছি ! দ্রৌপদী কি নরচর্মপরিহিতা ? তাই কি তার দেহ এখনও অনাবৃত ? এ কী করে সম্ভব !"

আনতমুখ ভীষ্ম এতক্ষণে মুখ তোলেন। যা দেখেন, যা বোঝেন, তাতে বিভীষিকায় স্তম্ভিত হয়ে যান ! "থামাও দুর্যোধন ! হতবুদ্ধি দুঃশাসনকে থামাও ! ও কুরুকুলকে নিজের হাতে ধ্বংস করে দিচ্ছে ! চেয়ে দেখো দুর্যোধন, দ্রৌপদীর বস্ত্র আকর্ষণ করার সাথে-সাথে কিছু সংখ্যক কৌরবের সমগ্র দেহচর্ম আপনা হতেই কর্তিত হয়ে অলক্ষ্যে যুক্ত হচ্ছে দ্রৌপদীর বসনে ! চর্মহীন কুক্কুরের মতো ছটফট করতে করতে তারা মারা যাচ্ছে দুর্যোধন ! তুমি কি এর কিছুই বুঝছ না ? দ্রৌপদী সামান্যা নারী নয় দুর্যোধন, সে কুরুকুলের নিয়তি !"

ভীষ্মের এবম্বিধ কাতরোক্তি যেন দুর্যোধনের আদৌ কর্ণগোচর হয় না ! তখনও তিনি সোল্লাসে দুঃশাসনকে বস্ত্রলুণ্ঠনকর্মে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। মাতুল শকুনির কথাতেও তিনি কর্ণপাত করেন না।

আকুল ভীষ্মের স্কন্ধে হাত রাখেন দ্রোণ। "শান্ত হোন, গঙ্গাপুত্র। আপনার কোনও প্রয়াস ফলপ্রসূ হবে না। দুর্যোধন ও অন্যান্য কৌরবগণ বর্তমানে সম্মোহিত। দেখছেন না, দ্রৌপদীর পীতবস্ত্র বহুপূর্বেই নিঃশেষিত এবং বহুক্ষণ ধরে দুঃশাসন তার ভ্রাতাদের মেদমাংসরক্তময় চর্মই নিজের হাতে আকর্ষণ করে চলেছে, তাও তার কোনও বিকার নেই ! আপনি প্রকৃতই বুঝেছেন গাঙ্গেয়। দ্রৌপদী সামান্যা নারী নয়। সে কে জানেন ? কৃত্যা ! অথর্ব বেদোক্ত আভিচারিক ক্রিয়ায় উৎপন্ন কৃত্যা। কুরুকুল বিনাশের জন্যই তার জন্ম। কী ? পাণ্ডবদের সচেতন করবেন ? কী মনে করেন আপনি ? পাণ্ডবগণ এই বিনাশযজ্ঞ থেকে অব্যাহতি পাবে ? পাঞ্চালজয়ের নেপথ্যে পাণ্ডবগণের ভূমিকাই সর্বাধিক ছিল, এ-কথা আপনি বিস্মৃত হতে পারেন, কৃত্যা বিস্মৃত হয়নি। বিস্মরণ কৃত্যার স্বভাব নয়।"

অসহায় বৃদ্ধ ভীষ্ম মাটিতেই বসে পড়েন। চোখের সামনে দেখেন মৃত্যুর মহোৎসব। দ্রৌপদীর শরীর ঘিরে দুঃশাসনের পরিক্রমা, যেন শনির চারপাশে শনির বলয় ! কামমত্ত কৌরব ও অন্যান্য সভাসদগণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কদর্যতম মৃত্যুর শিকার হতে লাগলেন। নরচর্মের স্তূপ তৈরি হল। সভাগৃহ নররক্তে পিচ্ছিল ও নরমেদমাংসে পঙ্কিল হতে লাগল।

কিয়ৎক্ষণ পর। পাণ্ডব-কৌরব উভয়পক্ষই নিঃশেষিত। মৃতদেহের স্তূপের মাঝে নির্বিকারে দাঁড়িয়ে আছেন বিমুক্তকুন্তলা, নরচর্মবসনা দ্রৌপদী। জীবিত তখনও মাত্র দু'জন। ভীষ্ম, দ্রোণ।

শীতল কণ্ঠে দ্রৌপদী বলেন, "গঙ্গাবাক্য স্মরণ করো ভীষ্ম। স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করা ছাড়া তোমার গত্যন্তর নেই। আর দ্রোণ ? তোমার জন্য অন্য ব্যবস্থা। শবসৎকারের উপায়ও তো করতে হবে !"

রজঃলিপ্ত বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে কৃত্যা দ্রৌপদী সভাভূমিতে মাত্র একটি শব্দ লিখলেন। মাত্র একটি মন্ত্রপদ।

"স্বাহা"।

ঋতুরক্তে লিখিত সে নাম আগুন হয়ে দপ করে জ্বলে উঠল। সাথেসাথে জ্বলে উঠল সমগ্র কুরুসভা। দগ্ধ মৃতদেহের কটূগন্ধে আবিল হয়ে উঠল চারিদিক। নিস্পৃহ ভীষ্ম প্রাণত্যাগের সংকল্পমন্ত্র পাঠ করছেন আর নিশ্চেষ্ট দ্রোণ চেয়ে রয়েছেন লেলিহান অগ্নিশিখার দিকে, এমত অবস্থায় দ্রৌপদী বেরিয়ে এলেন অগ্নিগ্রস্ত কুরুসভা থেকে।

পাঞ্চালের এক গহিন বনে তখন মহর্ষি উপযাজ বসেছেন প্রত্যাহার হোমে, তাঁর সফলকৃত্য কৃত্যাকে জগতের আরেক প্রান্তে ফেরত পাঠাবেন বলে।

(সমাপ্ত)

104 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সুতপা

Re: কৃত্যা

বাকরুদ্ধ!!!
Avatar: দ

Re: কৃত্যা

....
Avatar: শঙ্খ

Re: কৃত্যা

কী জিনিস নামিয়েছেন গুরু!
Avatar: dd

Re: কৃত্যা

ভালো লাগলো।

তবে এর পরে যখন লিখবেন ,একাধিক পর্বে, তখন আলাদা আলাদা করে তিনটে ব্লগ না খুলে, একটার নীচে আরেকটা জুড়ে দিবেন। পড়তেও সুবিধে হয়।
Avatar: dc

Re: কৃত্যা

প্রথম পর্বটা বেশ ভালো লেগেছিল। দ্বিতীয় পর্ব আর বিশেষ করে তৃতীয় পর্বে খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা শেষ হয়েছে মনে হলো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন