Prosenjit Bose RSS feed

Prosenjit Boseএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...
  • হউল মাছের মজা
    এইবার আমি যেই গল্পটি বলব আপনাকে তা কিন্তু আমার জীবনের না সরাসরি, তবে একেবারে আমার জীবনের না তাও বলা যায় না, বরং একরকম জীবনের সাথে সংযুক্ত বলা যায়; কিন্তু একেবারে নিজের গল্প যেমন, যেমন আমার ছেলেবেলার গল্প, আলোর ইস্কুলে যাবার গল্প, কিংবা কিংবা দূর দীঘির জলে ...
  • আনন্দের বাজারে হাম্পটি ডাম্পটি
    পথিকের প্রদর্শিত পথ সুজয়যুক্ত করতে আনন্দের বাজারে এখন হাম্পটি ডাম্পটি।গতকাল ( ৬ই এপ্রিল, ২০১৮) যে দৈনিক দৈনিক না পড়লে আপনি পিছিয়ে পড়বেন তাঁরা আপনাকে এগিয়ে রাখতে জেনেভা থেকে নিয়ে এলেন হাম্পটি ডাম্পটি কে ( এখানে দেখুনঃঃ ...
  • কৃত্যা
    কৃত্যা : তৃতীয় পর্বপ্রসেনজিৎ বসু[পাণ্ডবগণ অধোনেত্রে নীরব এবং ধৃতরাষ্ট্র অন্ধনেত্রে সরব -- এমন সময়ে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রাঞ্চল ধরে সজোরে টান দেন।]প্রবল উল্লাসধ্বনির মাঝে প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। পৈশাচিক আমোদে সভা তখন মত্ত। আঁচল খসে যায়, কিন্তু দ্রৌপদীর ...
  • মকুবাবুর প্রত্যাবর্তন
    গোটা ব্যাপারটাই বোগাস ! তবে সুখের কথা এই যে কোনোরকম বাওয়ালি ছাড়াই ২৪ ঘন্টার ওপর কেটে গেছে। বামৈস্লামিক ফিরে এসেছে যথাস্থানে। স্ক্রেপিংপূর্বক আমাদের আদরের থাম্বনেলটিও ফেরত পাওয়া গেছে। তন্ময়বাবু জানিয়েছেন যে গোটা ব্যাপারটাই আসলে ভুলবোঝাবুঝি ছিল। ত্রিপুরায় ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কৃত্যা

Prosenjit Bose

কৃত্যা : তৃতীয় পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

[পাণ্ডবগণ অধোনেত্রে নীরব এবং ধৃতরাষ্ট্র অন্ধনেত্রে সরব -- এমন সময়ে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রাঞ্চল ধরে সজোরে টান দেন।]

প্রবল উল্লাসধ্বনির মাঝে প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। পৈশাচিক আমোদে সভা তখন মত্ত। আঁচল খসে যায়, কিন্তু দ্রৌপদীর স্কন্ধদেশ অনাবৃত হতে-হতেও যেন হয় না। কিন্তু সভার প্রত্যন্ত এক কোণ থেকে একটি মর্মান্তিক আর্তনাদ ওঠে, যা বিপুল হর্ষধ্বনির মাঝে কারুর শ্রুতিগোচর হয় না। মত্ত জনতা লক্ষই করে না, দুঃসহ নামক এক কৌরবভ্রাতা রক্তাক্ত দেহে সভাকক্ষে লুটিয়ে পড়লেন।

ওদিকে দ্রৌপদী সুস্থির ভঙ্গিমায় দণ্ডায়মান। দুঃশাসন স্থানচ্যুত বস্ত্রাঞ্চলটি টানতে-টানতে দ্রৌপদীর দেহটিকে একবার পরিক্রমা করেন। আবারও খানিকটা বস্ত্র খুলে আসে, কিন্তু দ্রৌপদীর দেহাংশ অনাবৃত হয় না। উল্লাসমগ্ন জনগণের অবশ্য অত ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা আবারও লক্ষ করে না, রক্তাপ্লুত দেহে ভূমিশয্যা নিচ্ছেন দুঃশল, জলসন্ধ, বলবর্ধন ও চিত্রবাণ -- এই চার কৌরব। দুঃশাসন পুনরায় পরিক্রমা করে দ্রৌপদীর দেহ। নিষঙ্গী, বৃন্দারক, দৃঢ়বর্মা ও দৃঢ়ক্ষত্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে-করতে সাহায্যের জন্য বৃথাই আর্তচিৎকার করতে থাকেন।

আরও এক পাক। প্রায় অর্ধেক বস্ত্র এখন দুঃশাসনের হাতে। অথচ একবসনা দ্রৌপদীর দেহ যেন অন্য কিছুতে আবৃত। এইবার কেউ-কেউ লক্ষ করেন বিষয়টি। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই কবচী, ক্রথন, কুণ্ডী ও ভীমরথের ক্ষতবিক্ষত দেহ সভায় আছড়ে পড়ে এবং এতক্ষণে বিষয়টি কারুর কারুর বোধগম্য হয়। যাঁরা দুটি ঘটনার সম্পর্কসূত্রটি বুঝতে পারেন, তাঁরা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন ও অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যান। কিন্তু মত্ত জনতার অন্য কোনও দিকেই মনোযোগ নেই। যেমন নেই দুঃশাসনের।

আরও এক পাক। জনতার উল্লাস। কিন্তু শকুনি জিজ্ঞাসা করেন, "একবস্ত্রা দ্রৌপদীর গায়ে পীতবস্ত্র ছাড়া আবার কীসের আবরণ ওটি ? কীসের, ভাগিনেয় ? চর্ম ? ওটি কি চর্ম ? হ্যাঁ, দুর্যোধন, চর্মই তো ! নরলোমযুক্ত নরচর্ম কি ?! দুর্যোধন ! এ আমি কী দেখছি ! দ্রৌপদী কি নরচর্মপরিহিতা ? তাই কি তার দেহ এখনও অনাবৃত ? এ কী করে সম্ভব !"

আনতমুখ ভীষ্ম এতক্ষণে মুখ তোলেন। যা দেখেন, যা বোঝেন, তাতে বিভীষিকায় স্তম্ভিত হয়ে যান ! "থামাও দুর্যোধন ! হতবুদ্ধি দুঃশাসনকে থামাও ! ও কুরুকুলকে নিজের হাতে ধ্বংস করে দিচ্ছে ! চেয়ে দেখো দুর্যোধন, দ্রৌপদীর বস্ত্র আকর্ষণ করার সাথে-সাথে কিছু সংখ্যক কৌরবের সমগ্র দেহচর্ম আপনা হতেই কর্তিত হয়ে অলক্ষ্যে যুক্ত হচ্ছে দ্রৌপদীর বসনে ! চর্মহীন কুক্কুরের মতো ছটফট করতে করতে তারা মারা যাচ্ছে দুর্যোধন ! তুমি কি এর কিছুই বুঝছ না ? দ্রৌপদী সামান্যা নারী নয় দুর্যোধন, সে কুরুকুলের নিয়তি !"

ভীষ্মের এবম্বিধ কাতরোক্তি যেন দুর্যোধনের আদৌ কর্ণগোচর হয় না ! তখনও তিনি সোল্লাসে দুঃশাসনকে বস্ত্রলুণ্ঠনকর্মে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। মাতুল শকুনির কথাতেও তিনি কর্ণপাত করেন না।

আকুল ভীষ্মের স্কন্ধে হাত রাখেন দ্রোণ। "শান্ত হোন, গঙ্গাপুত্র। আপনার কোনও প্রয়াস ফলপ্রসূ হবে না। দুর্যোধন ও অন্যান্য কৌরবগণ বর্তমানে সম্মোহিত। দেখছেন না, দ্রৌপদীর পীতবস্ত্র বহুপূর্বেই নিঃশেষিত এবং বহুক্ষণ ধরে দুঃশাসন তার ভ্রাতাদের মেদমাংসরক্তময় চর্মই নিজের হাতে আকর্ষণ করে চলেছে, তাও তার কোনও বিকার নেই ! আপনি প্রকৃতই বুঝেছেন গাঙ্গেয়। দ্রৌপদী সামান্যা নারী নয়। সে কে জানেন ? কৃত্যা ! অথর্ব বেদোক্ত আভিচারিক ক্রিয়ায় উৎপন্ন কৃত্যা। কুরুকুল বিনাশের জন্যই তার জন্ম। কী ? পাণ্ডবদের সচেতন করবেন ? কী মনে করেন আপনি ? পাণ্ডবগণ এই বিনাশযজ্ঞ থেকে অব্যাহতি পাবে ? পাঞ্চালজয়ের নেপথ্যে পাণ্ডবগণের ভূমিকাই সর্বাধিক ছিল, এ-কথা আপনি বিস্মৃত হতে পারেন, কৃত্যা বিস্মৃত হয়নি। বিস্মরণ কৃত্যার স্বভাব নয়।"

অসহায় বৃদ্ধ ভীষ্ম মাটিতেই বসে পড়েন। চোখের সামনে দেখেন মৃত্যুর মহোৎসব। দ্রৌপদীর শরীর ঘিরে দুঃশাসনের পরিক্রমা, যেন শনির চারপাশে শনির বলয় ! কামমত্ত কৌরব ও অন্যান্য সভাসদগণ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কদর্যতম মৃত্যুর শিকার হতে লাগলেন। নরচর্মের স্তূপ তৈরি হল। সভাগৃহ নররক্তে পিচ্ছিল ও নরমেদমাংসে পঙ্কিল হতে লাগল।

কিয়ৎক্ষণ পর। পাণ্ডব-কৌরব উভয়পক্ষই নিঃশেষিত। মৃতদেহের স্তূপের মাঝে নির্বিকারে দাঁড়িয়ে আছেন বিমুক্তকুন্তলা, নরচর্মবসনা দ্রৌপদী। জীবিত তখনও মাত্র দু'জন। ভীষ্ম, দ্রোণ।

শীতল কণ্ঠে দ্রৌপদী বলেন, "গঙ্গাবাক্য স্মরণ করো ভীষ্ম। স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করা ছাড়া তোমার গত্যন্তর নেই। আর দ্রোণ ? তোমার জন্য অন্য ব্যবস্থা। শবসৎকারের উপায়ও তো করতে হবে !"

রজঃলিপ্ত বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে কৃত্যা দ্রৌপদী সভাভূমিতে মাত্র একটি শব্দ লিখলেন। মাত্র একটি মন্ত্রপদ।

"স্বাহা"।

ঋতুরক্তে লিখিত সে নাম আগুন হয়ে দপ করে জ্বলে উঠল। সাথেসাথে জ্বলে উঠল সমগ্র কুরুসভা। দগ্ধ মৃতদেহের কটূগন্ধে আবিল হয়ে উঠল চারিদিক। নিস্পৃহ ভীষ্ম প্রাণত্যাগের সংকল্পমন্ত্র পাঠ করছেন আর নিশ্চেষ্ট দ্রোণ চেয়ে রয়েছেন লেলিহান অগ্নিশিখার দিকে, এমত অবস্থায় দ্রৌপদী বেরিয়ে এলেন অগ্নিগ্রস্ত কুরুসভা থেকে।

পাঞ্চালের এক গহিন বনে তখন মহর্ষি উপযাজ বসেছেন প্রত্যাহার হোমে, তাঁর সফলকৃত্য কৃত্যাকে জগতের আরেক প্রান্তে ফেরত পাঠাবেন বলে।

(সমাপ্ত)

শেয়ার করুন


Avatar: সুতপা

Re: কৃত্যা

বাকরুদ্ধ!!!
Avatar: দ

Re: কৃত্যা

....
Avatar: শঙ্খ

Re: কৃত্যা

কী জিনিস নামিয়েছেন গুরু!
Avatar: dd

Re: কৃত্যা

ভালো লাগলো।

তবে এর পরে যখন লিখবেন ,একাধিক পর্বে, তখন আলাদা আলাদা করে তিনটে ব্লগ না খুলে, একটার নীচে আরেকটা জুড়ে দিবেন। পড়তেও সুবিধে হয়।
Avatar: dc

Re: কৃত্যা

প্রথম পর্বটা বেশ ভালো লেগেছিল। দ্বিতীয় পর্ব আর বিশেষ করে তৃতীয় পর্বে খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা শেষ হয়েছে মনে হলো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন