Prativa Sarker RSS feed

Prativa Sarkerএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মাজার সংস্কৃতি
    মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় ...
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

Prativa Sarker

ওপরচালাক, পেশীকলাগর্বিত, ধনগর্বী, অথচ ভেতরে শিশুর মতো অসহায় এক চিত্রাভিনেতা সাজা পেয়েছে বলে, পুরো সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হয় প্রবল চ্যাঁ ভ্যাঁ, নয়ত থুথুছেটানো ছিছিক্কার দেখে হাসি পায়, রাগও ধরে। হয় লোকে অন্ধ, কেবল সুগঠন দেখে অক্কা পায়, নয় তো মিচকে, ভেতর ভেতর বেজায় খুশি যে কোন ক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন হলেই। দ্যাখ ব্যাটা কেমন লাগে, খুব বাড় বেড়েছিলি তো - গোছের মানসিকতা আর কি। স্যাডিস্ট, মর্ষকামী।
এই তুমুল আলোড়নে বিচারের বাণী বা বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে কোন আলোচনা সেঁদোতেই পারছে না। সত্যিকারের নায়কদের জন্য কোন কথাই নেই। সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে ফ্যান ক্লাবের মাসলবাজ সদস্যরা বা থু থু ছেটানো পাবলিকের দল।

এই হাল্লাবোলে তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না। মানে বিশনইদের কথা। কতটা গোঁ থাকলে এতো বছর ধরে অক্লান্ত লড়া যায়, কি বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হলে বিশ বছর আগের কথায় তন্নিষ্ঠ থাকা যায় ভয় বা লোভ ত্যাগ করে, তা বুঝতে হলে আজ বিশনইদের (২০+৯) নিয়ে আলোচনা জরুরী।
এই আখাম্বা ধর্মহীন পাপিষ্ঠার মুখেও মৌলবাদী না হলে সহিষ্ণু ধার্মিকদের প্রতি চোখা চোখা গালাগাল যে আসে না, তার কারণ ত্রিশ বত্রিশ বছর আগে এক তরুণীর যোধপুরে এক বিশনই দর্শন। তখন না ছিল স্মার্ট ফোন, না ফেসবুক। তবু যে সাদা ধুতি আর মস্ত পাগড়ির আবছা ছবিটি বয়ে নিয়ে বেড়ায় সে, তার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট মানুষটির গাছ আর অন্য প্রাণীর জন্য ভালোবাসা।

অনেক গল্প হয়েছিল সেদিন। তাদের গ্রাম দেখতে যাবার প্রতিশ্রুতি। পাঁচমুড়ো পাহাড়ের তলায় শ্যামলী নদীর ধারে নয়, মাঝে মাঝেই মরুঝড় বিচিত্র আলপনা আঁকে সেখানে উঠোনে, আর খেজুর গাছের সারি উসকে দেয় খেজারলি গণহত্যার স্মৃতি।
সুন্দর লাল বহুগুণার চিপকো আন্দোলনের বহু আগেই বৃক্ষনিধনে বাধা দিয়ে প্রাণ দিয়েছিল ৩৬৩ জন বিশনই নারীপুরুষ। সবার পুরোভাগে ছিলেন হয়তো পৃথিবীর প্রথম নারী পরিবেশ আন্দোলনকারী অমৃতা দেবী।
সেটা ১৮৪৭ সালের কথা। যোধপুররাজ অভয় সিংহের ইচ্ছে হয়েছিল বিশনইদের এলাকার খেজুরবন ধ্বংস করে রাজমহিষীর প্রাসাদ বানাবে। ভাবতেও পারেনি দলে দলে মানুষ এসে জড়িয়ে ধরবে গাছ আর কচুকাটা হবে সৈন্যদের তলোয়ারে। এতো অনুতাপ হয় তার, যে ওই এলাকায় রাজাদেশে বন্ধ হয়ে যায় গাছ কাটা এবং বন্য প্রাণ শিকার।
রাজশক্তি এবং উদ্যত অস্ত্র যাদের ভয় দেখাতে পারেনি, প্রকৃতির জন্য ভালবাসা যাদের কোষে কোষে, তারা কি কয়েকটি মনুষ্যের বন্দুকবাজি এবং টাকার খেলায় ভয় পাবে ! হোক এই সুদর্শন মনুষ্যেরা মুম্বাইয়ের রুপোলী স্বর্গের বাসিন্দা। চিঙ্কারাশাবকের গলা কাটার সময় তেনারা এইসব জানলে ভালো হতো।

যাইহোক, বিশনই মানুষটি আমায় বলেছিলেন তাদের গুরু জাম্ভোজী এবং তার শেখানো ২৯টি জীবনদীক্ষার কথা। দীর্ঘ খরায় প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই মানুষটি গাছের গোড়ায় সঞ্চিত জলভান্ডারের স্বপ্ন সবাইকে বলে। শিখিয়েছিলেন প্রকৃতিতে সবার সমান অধিকার। পশুর এবং মনুষ্যের। তারপর থেকেই স্বভাবরুদ্র ক্ষত্রিয়দের একাংশ বিশনই সম্প্রদায়ভুক্ত হয়। নিরামিষাশী তো বটেই, জ্যান্ত গাছ কাটে না আর, জ্বালানির মূল উৎস ঘুঁটে ও মরা শুকনো ডালপালা। সাম্যের রঙ এদের কাছে শ্বেত, পুরুষ তাই সাদা ধুতি, মেয়েরা মূলত লাল। নীল রঙ নিষিদ্ধ, কারণ এই রঙে ছোপাতে হলে একবারে প্রচুর পরিমাণ উদ্ভিদকে নিংড়ে নিতে হয়।
কৃষ্ণসার এবং চিঙ্কারা হরিণ শুধু চারপেয়ে জীব নয় এদের কাছে। পূর্বজদের আত্মার বাস ঐ নিরীহ শান্ত প্রাণিগুলির মধ্যে এই নাকি প্রচলিত বিশ্বাস। তাই বিশনই গ্রামে এদের অবাধ বিচরণ।
মৃত্যুর পর বিশনই-দেহ চিতায় যায় না, গায়ে মাটি জড়িয়ে সোজা সমাধিতে। পাছে গাছ কেটে কেউ চিতা জ্বালায়, তাই এ সাবধানতা। রাতে সেই কবরে শুয়ে মাটির ওপর ছুটে যাওয়া অসংখ্য খুরের শব্দ গোণে হয়তো দেহহীন বিশনই।
এই মানুষগুলো শিকারি, চোরাশিকারি কাউকে রেয়াৎ করে না আজ অব্দি। তাদের লড়াই জারি আছে।

মাতামাতি করতে হয় তো এদের নিয়ে করি, বন্দুকবাজদের নিয়ে নয়।

বিশাল পাগড়ি বিদায় নেবার সময় তার হাতের রাবণহাত্থা দেখিয়ে বলেছিলাম, এক গানা শুনাও না।
হা হা হাসিতে টাল খেলো ত্রিভুবন। সে বলল, পাধারিয়ে মেরা গাঁও।

সে তো হলো, কিন্তু গ্রামের নামটা কি যেন বলেছিল সে ? জাম্ভা না মুকাম ! ভেবেছিলাম এতোদিন পর এবার রাজস্থান গিয়ে বিশনই ভিলেজ সাফারিতে যাব। তা এতো ভুলে গেলে আর কি হবে ! 😊

শেয়ার করুন


Avatar: সুতপা

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

কথা দিয়ে এলে, যেতে হয়। ভারতীয় ঐতিহ্য, 'প্রাণ যায়ে পর বচন না জায়ে'। সিরিয়াস হয়ে বলি, ভ্রমন অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ লেখা পাওয়া যায় তো প্রতিবার বেড়িয়ে এলেই , তাই..., আর সে বড়ো মনোগ্রাহী লেখা! কত অজানা তথ্য, জানা তথ্যের নতুন বিশ্লেষণ, নতুন করে ভাবতে শেখা। বিশনই সম্প্রদায়ের কথাই যেমন, এত বিস্তারিত জানতাম না তো। আরো চাই , আরো চাই।
Avatar: santanu

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

বেশ ভালো লাগলো, আর প্রথম দুটো প্যারা না থাকলে আরো ভালো লাগতো।
Avatar: AS

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

জানতাম ই না এত কথা । ভালো লাগল
Avatar: Prativa Sarker

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

কথা দিয়েছিল যে তরুণী সেইই আর নেই, তো যাওয়া। 😊তবু সত্যি ইচ্ছেটা আছে।তবে অই সাফারিটাফারিতে নয়, নিজের উদ্যোগে।
Avatar: তিতাস

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

'ভেতরে শিশুর মতো অসহায়" ছাড়া আর সবকিছুই ভাল্লাগলো। কখনো সেই গ্রামে গেলে লিখবেন কিন্তু
Avatar: Prativa Sarker

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

হ্যাঁ, লিখব।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন