Prativa Sarker RSS feed

Prativa Sarkerএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • চলো এগিয়ে চলি 2
    #চলো এগিয়ে চলি 2#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যবিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মানুষ কথা বলতে শিখেছে আমার জানা নেই।তবে আগুনআবিষ্কারের চেয়ে এর গুরুত্ব কিছু কম নয়।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম জায়গাকথা বলা।A person with Autism Spectrum দের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কথা ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যদ্রোণাচার্...
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

Prativa Sarker

ওপরচালাক, পেশীকলাগর্বিত, ধনগর্বী, অথচ ভেতরে শিশুর মতো অসহায় এক চিত্রাভিনেতা সাজা পেয়েছে বলে, পুরো সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হয় প্রবল চ্যাঁ ভ্যাঁ, নয়ত থুথুছেটানো ছিছিক্কার দেখে হাসি পায়, রাগও ধরে। হয় লোকে অন্ধ, কেবল সুগঠন দেখে অক্কা পায়, নয় তো মিচকে, ভেতর ভেতর বেজায় খুশি যে কোন ক্ষেত্রে ইন্দ্রপতন হলেই। দ্যাখ ব্যাটা কেমন লাগে, খুব বাড় বেড়েছিলি তো - গোছের মানসিকতা আর কি। স্যাডিস্ট, মর্ষকামী।
এই তুমুল আলোড়নে বিচারের বাণী বা বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে কোন আলোচনা সেঁদোতেই পারছে না। সত্যিকারের নায়কদের জন্য কোন কথাই নেই। সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছে ফ্যান ক্লাবের মাসলবাজ সদস্যরা বা থু থু ছেটানো পাবলিকের দল।

এই হাল্লাবোলে তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না। মানে বিশনইদের কথা। কতটা গোঁ থাকলে এতো বছর ধরে অক্লান্ত লড়া যায়, কি বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হলে বিশ বছর আগের কথায় তন্নিষ্ঠ থাকা যায় ভয় বা লোভ ত্যাগ করে, তা বুঝতে হলে আজ বিশনইদের (২০+৯) নিয়ে আলোচনা জরুরী।
এই আখাম্বা ধর্মহীন পাপিষ্ঠার মুখেও মৌলবাদী না হলে সহিষ্ণু ধার্মিকদের প্রতি চোখা চোখা গালাগাল যে আসে না, তার কারণ ত্রিশ বত্রিশ বছর আগে এক তরুণীর যোধপুরে এক বিশনই দর্শন। তখন না ছিল স্মার্ট ফোন, না ফেসবুক। তবু যে সাদা ধুতি আর মস্ত পাগড়ির আবছা ছবিটি বয়ে নিয়ে বেড়ায় সে, তার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট মানুষটির গাছ আর অন্য প্রাণীর জন্য ভালোবাসা।

অনেক গল্প হয়েছিল সেদিন। তাদের গ্রাম দেখতে যাবার প্রতিশ্রুতি। পাঁচমুড়ো পাহাড়ের তলায় শ্যামলী নদীর ধারে নয়, মাঝে মাঝেই মরুঝড় বিচিত্র আলপনা আঁকে সেখানে উঠোনে, আর খেজুর গাছের সারি উসকে দেয় খেজারলি গণহত্যার স্মৃতি।
সুন্দর লাল বহুগুণার চিপকো আন্দোলনের বহু আগেই বৃক্ষনিধনে বাধা দিয়ে প্রাণ দিয়েছিল ৩৬৩ জন বিশনই নারীপুরুষ। সবার পুরোভাগে ছিলেন হয়তো পৃথিবীর প্রথম নারী পরিবেশ আন্দোলনকারী অমৃতা দেবী।
সেটা ১৮৪৭ সালের কথা। যোধপুররাজ অভয় সিংহের ইচ্ছে হয়েছিল বিশনইদের এলাকার খেজুরবন ধ্বংস করে রাজমহিষীর প্রাসাদ বানাবে। ভাবতেও পারেনি দলে দলে মানুষ এসে জড়িয়ে ধরবে গাছ আর কচুকাটা হবে সৈন্যদের তলোয়ারে। এতো অনুতাপ হয় তার, যে ওই এলাকায় রাজাদেশে বন্ধ হয়ে যায় গাছ কাটা এবং বন্য প্রাণ শিকার।
রাজশক্তি এবং উদ্যত অস্ত্র যাদের ভয় দেখাতে পারেনি, প্রকৃতির জন্য ভালবাসা যাদের কোষে কোষে, তারা কি কয়েকটি মনুষ্যের বন্দুকবাজি এবং টাকার খেলায় ভয় পাবে ! হোক এই সুদর্শন মনুষ্যেরা মুম্বাইয়ের রুপোলী স্বর্গের বাসিন্দা। চিঙ্কারাশাবকের গলা কাটার সময় তেনারা এইসব জানলে ভালো হতো।

যাইহোক, বিশনই মানুষটি আমায় বলেছিলেন তাদের গুরু জাম্ভোজী এবং তার শেখানো ২৯টি জীবনদীক্ষার কথা। দীর্ঘ খরায় প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই মানুষটি গাছের গোড়ায় সঞ্চিত জলভান্ডারের স্বপ্ন সবাইকে বলে। শিখিয়েছিলেন প্রকৃতিতে সবার সমান অধিকার। পশুর এবং মনুষ্যের। তারপর থেকেই স্বভাবরুদ্র ক্ষত্রিয়দের একাংশ বিশনই সম্প্রদায়ভুক্ত হয়। নিরামিষাশী তো বটেই, জ্যান্ত গাছ কাটে না আর, জ্বালানির মূল উৎস ঘুঁটে ও মরা শুকনো ডালপালা। সাম্যের রঙ এদের কাছে শ্বেত, পুরুষ তাই সাদা ধুতি, মেয়েরা মূলত লাল। নীল রঙ নিষিদ্ধ, কারণ এই রঙে ছোপাতে হলে একবারে প্রচুর পরিমাণ উদ্ভিদকে নিংড়ে নিতে হয়।
কৃষ্ণসার এবং চিঙ্কারা হরিণ শুধু চারপেয়ে জীব নয় এদের কাছে। পূর্বজদের আত্মার বাস ঐ নিরীহ শান্ত প্রাণিগুলির মধ্যে এই নাকি প্রচলিত বিশ্বাস। তাই বিশনই গ্রামে এদের অবাধ বিচরণ।
মৃত্যুর পর বিশনই-দেহ চিতায় যায় না, গায়ে মাটি জড়িয়ে সোজা সমাধিতে। পাছে গাছ কেটে কেউ চিতা জ্বালায়, তাই এ সাবধানতা। রাতে সেই কবরে শুয়ে মাটির ওপর ছুটে যাওয়া অসংখ্য খুরের শব্দ গোণে হয়তো দেহহীন বিশনই।
এই মানুষগুলো শিকারি, চোরাশিকারি কাউকে রেয়াৎ করে না আজ অব্দি। তাদের লড়াই জারি আছে।

মাতামাতি করতে হয় তো এদের নিয়ে করি, বন্দুকবাজদের নিয়ে নয়।

বিশাল পাগড়ি বিদায় নেবার সময় তার হাতের রাবণহাত্থা দেখিয়ে বলেছিলাম, এক গানা শুনাও না।
হা হা হাসিতে টাল খেলো ত্রিভুবন। সে বলল, পাধারিয়ে মেরা গাঁও।

সে তো হলো, কিন্তু গ্রামের নামটা কি যেন বলেছিল সে ? জাম্ভা না মুকাম ! ভেবেছিলাম এতোদিন পর এবার রাজস্থান গিয়ে বিশনই ভিলেজ সাফারিতে যাব। তা এতো ভুলে গেলে আর কি হবে ! 😊

2 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সুতপা

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

কথা দিয়ে এলে, যেতে হয়। ভারতীয় ঐতিহ্য, 'প্রাণ যায়ে পর বচন না জায়ে'। সিরিয়াস হয়ে বলি, ভ্রমন অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ লেখা পাওয়া যায় তো প্রতিবার বেড়িয়ে এলেই , তাই..., আর সে বড়ো মনোগ্রাহী লেখা! কত অজানা তথ্য, জানা তথ্যের নতুন বিশ্লেষণ, নতুন করে ভাবতে শেখা। বিশনই সম্প্রদায়ের কথাই যেমন, এত বিস্তারিত জানতাম না তো। আরো চাই , আরো চাই।
Avatar: santanu

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

বেশ ভালো লাগলো, আর প্রথম দুটো প্যারা না থাকলে আরো ভালো লাগতো।
Avatar: AS

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

জানতাম ই না এত কথা । ভালো লাগল
Avatar: Prativa Sarker

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

কথা দিয়েছিল যে তরুণী সেইই আর নেই, তো যাওয়া। 😊তবু সত্যি ইচ্ছেটা আছে।তবে অই সাফারিটাফারিতে নয়, নিজের উদ্যোগে।
Avatar: তিতাস

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

'ভেতরে শিশুর মতো অসহায়" ছাড়া আর সবকিছুই ভাল্লাগলো। কখনো সেই গ্রামে গেলে লিখবেন কিন্তু
Avatar: Prativa Sarker

Re: যে গ্রামে যাবার কথা ছিল।

হ্যাঁ, লিখব।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন