Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • 'চোখের সামনেই ওরা গুলি করে বাবা মা ভাই বৌদিকে'
    বায়ান্ন, একাত্তর, নব্বইসহ বাংলাদেশের প্রতিটি গণ-আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সদা হাস্যোজ্জ্বল, সবার প্রিয় মধুদাকে (মধুসূদন দে) পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভোরে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের ...
  • নায়ক
    আমার দুঃসম্পর্কের ভাগ্নেটা হঠাৎ করে নায়ক হয়ে গেছে। ওর চালচলন,হাবভাব,বেশভুষ...
  • বিয়ের মত
    কয়েকদিন আগে খেতে বসে আব্বু আম্মুকে বলছিলেন, লাবণ্যর জন্য একটা ভালো ছেলের সন্ধান পাওয়া পাওয়া গেছে। টেবিলে আরো কয়েকজন বসে ছিল। খালামনি,খালাত ভাই আর আমার ছোটবোন। সবার সামনে ভাব নিয়ে বললাম, দেখো আব্বু! খবরদার আর বিয়েটিয়ের কথা এখন তুলবা না! আমি এখনো ...
  • বিজ্ঞানের অ(নেক?)-ক্ষমতা # পর্ব-১
    ১৯৫৬ সালে প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান (১৯১৮-৮৮) ক্যালিফর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনলজি-তে খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ছাত্রদের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজনে মিলিত হয়ে একটি বক্তৃতায় বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক বিষয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। [Feynman 1956]। ষাট বছর ...
  • শিশু নির্যাতনের ফলে হয় মস্তিষ্কে পরিবর্তন, আর তার ফলে হয় তীব্র বিষণ্ণতার সমস্যা
    বিজ্ঞানের অবদানের কারণে আমরা আজ জানি যে চাইল্ড এবিউজ বা শিশু নির্যাতন ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও বিভিন্ন খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এসম্পর্কে জানাচ্ছে আরও নতুন একটি তথ্য। এই গবেষণাটি আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে শিশু নির্যাতনের ফলে ...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • সরল ছেলে
    তিনবছর ধরে চোখেচোখে দেখা, ভালোলাগা, ভালোবাসার পর নতুন রিলেশন শুরু করেছি। ছেলেটা একটু কেমন জানি। আমার এটা প্রথম প্রেম। আমি সঠিক জানিনা কিভাবে প্রেম করতে হয়। জ্ঞানার্জনের জন্য প্রেম করে বিয়ে করা বান্ধবীটাকে ফোন দিলাম। বললাম, তোদের প্রেম কিভাবে হয়েছিলো,কি ...
  • টালমাটাল টিনএজ
    টালমাটাল টিনএজশুভেন্দু দেবনাথদশটি মেয়ে এবং ছ-টি ছেলে। ষোলো জন কিশোর কিশোরী জড়ো হয়েছিল ২৩ শে জুলাই এক বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে। সকলেই যে ঘনিষ্ঠ তা নয়। বেশির ভাগেরই পরিচয় স্বল্প দিনের। কেউ কেউ তো আবার অচেনাও। এদের মধ্যেই একজন আবেশ দাশগুপ্ত, যে ...
  • সম্রাট অশোকের স্তম্ভ
    সম্রাট অশোকের স্তম্ভ রাষ্ট্র-কাঠামোর প্রতীক সম্রাট অশোকের ‘স্তম্ভে’ মোট চার প্রকার সত্তার মূর্তকল্প উপস্থিতি দেখা যায়। সিংহ, বৃষ, অশ্ব ও হস্তী। এর মধ্যে সিংহ শব্দটি (মূর্তকল্পটি) ক্ষত্রিয় রাজকীয়তার প্রতীক (স্মর্তব্য: সিংহাসন, সিংহদুয়ার, বীরসিংহ, সিংহভাগ, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অনুষঙ্গে

Sutapa Das



(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

শব্দগুলো একরাশ স্মৃতি, সুগন্ধী জুঁইয়ের মতো ছড়িয়ে দিলো মগজে, আর আজকের বৃষ্টিভেজা রাতে অতীতের পাকদন্ডী বেয়ে সোওওজা নিয়ে ফেললো পঁয়ত্রিশবছর আগে। অবশ্য আজ এ যাত্রায় বেরোতে হবে বুঝতে পেরেছিলাম দুপুরেই, ফেসবুকের এক গ্রুপে, বন্ধু উস্মিত অরল অহু র পোস্ট করা সেই ফুলটি হঠাত করেই দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই।

(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

মামাবাড়ী থাকতে এসেছি সাতবছর হস্টেলজীবন কাটানোর পর। তার আগের মামাবাড়ী অভিযান হতো সংক্ষিপ্ত, ১৫ দিন কি ২০ দিন বড়জোর! তো হৈ হৈ করে কেটে যাওয়া সময়ের ফাঁকে গাছগাছালির দিকে নজর পড়তো না তেমন, আর ছোট্টটি ছিলাম কিনা তখনো! এবার এখানে থেকে, পড়াশুনা করতে হবে আমায়। ছোটবেলায় বড্ড (সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হয়, এখনো কিঞ্চিত) একলষেড়ে, একবগ্গা ছিলাম আমি। ছোটভাইবোনগুলোর সাথেই, এই গাছটিও বন্ধু হলো আমার।
তার কাঁঠালপাতার মত শক্ত পাতা, একহারা গড়ন ।। আমি কল্পনা করতাম (মাইরি দেখতে পাচ্ছি মেয়েটাকে, কল্পনা, নাকি!!) ও,সেই রাধার আর্তির তমাল গাছই হবে হয়তো বা !!

মার্চ মাস। দাদুর অবশ্যসঙ্গী পঞ্জিকা বলছে সময়টা চৈত্র, ঋতু বসন্ত। গাছে এলো এই ফুল। প্রথম প্রথম একটা দুটো, তারপর কোন কোনদিন পাঁচ ছটাও।
গন্ধ?! আমার কৈশোরের সবটুকু সুখস্মৃতি যেন! পাপড়ীর ভেতর ঢাকা স্বর্নরেনু। এই নাকি পারিজাত!
তখন ঘরে ঘরে ফুলদানী ছিলো না। দাদু-মাগোর (দিদুন আর কি) ঘরে ফাঁকা ধোয়া হরলিক্সের শিশিতে, বড়মামার ঘরে মীনাকারী স্টিলের সরু ফুলদানীতে, মেজ , সোনা মামাদের ঘরে এমনকি গ্লাসেও , ডাঁটি ভাঙ্গা ডাঁটো , দর্পিত অথচ মখমলী সে ফুল শোভা বাড়াত, মাতিয়ে রাখতো দিনের পর দিন, রাতও।

আমরা তাকে ডাকতাম ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরা! বৈজ্ঞানিক নামগোত্র জানতেই চাইনি কখনো!

(জলপাইগুড়ি, কলেজমুখো সেই আমি, অভিসার আর উপহারে সেই পারিজাতপুষ্প)

সত্যি। তখন কোথায় 'পকেটমানি'! সিনেমা দেখবার পয়সা চাইতে তিনদিন আগে থেকে রিহার্সাল দিতাম রে বাবা!

তা বলে কি যখের ধন পেতাম না নাকি ?! বাবা তো কলেজের ফী দিতেন মাসে বোধহয় সতেরো টাকা, সাইকেল চালাতাম বলে কোন রিক্সাভাড়া বরাদ্দ ছিলো না। জন্মদিনে কি ভাইফোঁটায় পাওয়া আশির্বাদী, কিংবা মাগোর কাছ থেকে পাওয়া টাকা, 'ইয়ে যো থোড়ি সি প্যায়সে', ইস, খরচ করতে প্রাণে চাইতো না। বছরশেষে হায়ার সেকেন্ডারীর রেজাল্টের জন্যে কলেজের ফী, ফুল ফ্রী হয়ে গেলে বেতন যখন ফেরত হতো, আহ্! তবে গিয়ে শখের খুঁটিনাটি, বিশেষবন্ধুর জন্যে গিফ্ট কেনা যেত!

ফাল্গুনে অবশ্য, 'তাঁকে' দেবার মত বিশেষ একটি উপহার ছিলো আমার। হ্যাঁ, বাবার বাড়ীতেও ছিলো ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার একটি গাছ। তার ফুল, আমার চিরপছন্দের, যেন কৃষ্ণসখার উপহার দ্রৌপদীর অনন্ত লজ্জাবস্ত্রের মতো, আমার মান বাঁচাতো।

বিয়ের পর, বাবা নিজ হাতে কলম কেটে একখানি আমায় দিয়েছিলেন চারা, বলেছিলেন ঠিক একটিবছর আগলে রাখলে , আর ভাবতে হবে না, প্রতি ফাগুনে পারিজাত আসবে দেখা করে,মেয়েবেলা ফেরত দিতে।

সেবারই, ১৯৯০ সাল, পুজোর অষ্টমীতে যেন চরাচর ভেসে গেলো। নিচু এলাকায় জল দাঁড়ালো প্রায় দুদিন। সন্তান স্নেহে যার পাতা গুনতাম, ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পড়লো পাতা। বুঝিয়ে গেলো,জীবনধারনের জন্যে যা অপরিহার্য, তার অঢেল যোগানের ফল কিন্তু প্রাণঘাতী!

(শিলিগুড়ি কি জলপাইগুড়ি, 'কেউ কোথথাও নেই' )

একটু পেছনে যাই। কলেজের দ্বিতীয়বর্ষে পড়াকালীন, একদিন খবর পাওয়া গেলো, সোনামামা , জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত অথবা পরাজিত অথবা দুটিরই শিকার হয়ে, মামাবাড়ীর ম্যাগনোলিয়া গাছের সবচেয়ে নিচু যে ডালটি, যাকে ছুঁয়ে থাকলে মাটিতেই ছুঁয়ে থাকে পা, তাতে গলায়, পড়নের প্যান্টটি দিয়ে ফাঁস দিয়ে এক সন্ধ্যায়, জীবন থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!

মাগো আর সইতে পারেনি গাছটিকে। জীবন , সোনামামাকে, অথবা সোনামামা জীবনকে কি দিয়েছে, দিতে পেরেছে , মায়ের মন কিচ্ছুটি হিসেব না করে, লোক ডেকে গাছটি পত্রপাঠ সমূল উতপাটিত করেছে। তারও অনেক বছর পরে, মাগোও বিদায় নেবার পর, শেষকাজের দিনে, নজর পড়েছিলো ওখানে, গাছটিকে ঘিরে যে সিমেন্টের গোল করে ঘিরে দেওয়া বৃত্ত, গাছ না থাকলেও, তাকে তুলে দেবার কথা ভাবেইনি কেউ, রয়ে গেছে মধ্যবর্তিনীর মতো, পারিজাতপুষ্পের স্মৃতি আমায় উসকে দেবে বলে।

বাবার বাড়ীর গাছটিও ( যদিও বাবা বলেনি কখনো, কিন্তু আমার দৃঢ় ধারনা, মামাবাড়ীর কারো উস্কানিতেই হয়ে থাকবে) গৃহস্হের অকল্যাণ আশঙ্কায়, কুঠারের আঘাতে ।।।। ।

হয়তো তাই-ই, ন Kইল্লিঙ্গ আ ট্রী পড়াতে পড়াতে প্রতিবার অনিবার্য যান্ত্রিকতায় আমার মগজে ভীড় করে আসে তমালবৃক্ষেরা, আমার পারিজাতপুষ্পস্মৃতি।। গভীরভাবে পড়াতে ইচ্ছে করে না আর, পাছে অন্তরগত হাহাকার ,দমনের হাত ফস্কে উঁকি দেয় গলার স্বরে!!

আমার মেয়েবেলা, ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার সুবাস জড়িয়ে,ইলেকট্রার মতো স্বেচ্ছানির্বাসনে।

দেখা পাইনা আর।


168 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Sutapa Das

Re: অনুষঙ্গে

ইংরাজী হরফের শব্দগুলো উল্টেপাল্টে বাংলা হরফে জাপানী উচ্চারনের নাম মনে হচ্ছে। সংশোধন করা যায় বলে জানা নেই, তাই পরিমার্জন।
ফেসবুক বন্ধুঃ সুস্মিতা বড়াল সাহু,
পড়াই ঃ অন কিলিং এ ট্রী (দ্বাদশে দ্বিতীয় ভাষার অবশ্যপাঠ্য)
পাঠক নিজগুণে ক্ষমিবেন।
Avatar: Prativa Sarker

Re: অনুষঙ্গে

ফুলটা চেনা। এটা কি কেবল উত্তরবঙ্গেই পাওয়া যায়।

লেখাটা ফেসবুকের ভাষায়, হৃদয় ছুঁয়ে গেল। সত্যিই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন