Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মাজার সংস্কৃতি
    মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় ...
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অনুষঙ্গে

Sutapa Das



(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

শব্দগুলো একরাশ স্মৃতি, সুগন্ধী জুঁইয়ের মতো ছড়িয়ে দিলো মগজে, আর আজকের বৃষ্টিভেজা রাতে অতীতের পাকদন্ডী বেয়ে সোওওজা নিয়ে ফেললো পঁয়ত্রিশবছর আগে। অবশ্য আজ এ যাত্রায় বেরোতে হবে বুঝতে পেরেছিলাম দুপুরেই, ফেসবুকের এক গ্রুপে, বন্ধু উস্মিত অরল অহু র পোস্ট করা সেই ফুলটি হঠাত করেই দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই।

(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

মামাবাড়ী থাকতে এসেছি সাতবছর হস্টেলজীবন কাটানোর পর। তার আগের মামাবাড়ী অভিযান হতো সংক্ষিপ্ত, ১৫ দিন কি ২০ দিন বড়জোর! তো হৈ হৈ করে কেটে যাওয়া সময়ের ফাঁকে গাছগাছালির দিকে নজর পড়তো না তেমন, আর ছোট্টটি ছিলাম কিনা তখনো! এবার এখানে থেকে, পড়াশুনা করতে হবে আমায়। ছোটবেলায় বড্ড (সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হয়, এখনো কিঞ্চিত) একলষেড়ে, একবগ্গা ছিলাম আমি। ছোটভাইবোনগুলোর সাথেই, এই গাছটিও বন্ধু হলো আমার।
তার কাঁঠালপাতার মত শক্ত পাতা, একহারা গড়ন ।। আমি কল্পনা করতাম (মাইরি দেখতে পাচ্ছি মেয়েটাকে, কল্পনা, নাকি!!) ও,সেই রাধার আর্তির তমাল গাছই হবে হয়তো বা !!

মার্চ মাস। দাদুর অবশ্যসঙ্গী পঞ্জিকা বলছে সময়টা চৈত্র, ঋতু বসন্ত। গাছে এলো এই ফুল। প্রথম প্রথম একটা দুটো, তারপর কোন কোনদিন পাঁচ ছটাও।
গন্ধ?! আমার কৈশোরের সবটুকু সুখস্মৃতি যেন! পাপড়ীর ভেতর ঢাকা স্বর্নরেনু। এই নাকি পারিজাত!
তখন ঘরে ঘরে ফুলদানী ছিলো না। দাদু-মাগোর (দিদুন আর কি) ঘরে ফাঁকা ধোয়া হরলিক্সের শিশিতে, বড়মামার ঘরে মীনাকারী স্টিলের সরু ফুলদানীতে, মেজ , সোনা মামাদের ঘরে এমনকি গ্লাসেও , ডাঁটি ভাঙ্গা ডাঁটো , দর্পিত অথচ মখমলী সে ফুল শোভা বাড়াত, মাতিয়ে রাখতো দিনের পর দিন, রাতও।

আমরা তাকে ডাকতাম ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরা! বৈজ্ঞানিক নামগোত্র জানতেই চাইনি কখনো!

(জলপাইগুড়ি, কলেজমুখো সেই আমি, অভিসার আর উপহারে সেই পারিজাতপুষ্প)

সত্যি। তখন কোথায় 'পকেটমানি'! সিনেমা দেখবার পয়সা চাইতে তিনদিন আগে থেকে রিহার্সাল দিতাম রে বাবা!

তা বলে কি যখের ধন পেতাম না নাকি ?! বাবা তো কলেজের ফী দিতেন মাসে বোধহয় সতেরো টাকা, সাইকেল চালাতাম বলে কোন রিক্সাভাড়া বরাদ্দ ছিলো না। জন্মদিনে কি ভাইফোঁটায় পাওয়া আশির্বাদী, কিংবা মাগোর কাছ থেকে পাওয়া টাকা, 'ইয়ে যো থোড়ি সি প্যায়সে', ইস, খরচ করতে প্রাণে চাইতো না। বছরশেষে হায়ার সেকেন্ডারীর রেজাল্টের জন্যে কলেজের ফী, ফুল ফ্রী হয়ে গেলে বেতন যখন ফেরত হতো, আহ্! তবে গিয়ে শখের খুঁটিনাটি, বিশেষবন্ধুর জন্যে গিফ্ট কেনা যেত!

ফাল্গুনে অবশ্য, 'তাঁকে' দেবার মত বিশেষ একটি উপহার ছিলো আমার। হ্যাঁ, বাবার বাড়ীতেও ছিলো ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার একটি গাছ। তার ফুল, আমার চিরপছন্দের, যেন কৃষ্ণসখার উপহার দ্রৌপদীর অনন্ত লজ্জাবস্ত্রের মতো, আমার মান বাঁচাতো।

বিয়ের পর, বাবা নিজ হাতে কলম কেটে একখানি আমায় দিয়েছিলেন চারা, বলেছিলেন ঠিক একটিবছর আগলে রাখলে , আর ভাবতে হবে না, প্রতি ফাগুনে পারিজাত আসবে দেখা করে,মেয়েবেলা ফেরত দিতে।

সেবারই, ১৯৯০ সাল, পুজোর অষ্টমীতে যেন চরাচর ভেসে গেলো। নিচু এলাকায় জল দাঁড়ালো প্রায় দুদিন। সন্তান স্নেহে যার পাতা গুনতাম, ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পড়লো পাতা। বুঝিয়ে গেলো,জীবনধারনের জন্যে যা অপরিহার্য, তার অঢেল যোগানের ফল কিন্তু প্রাণঘাতী!

(শিলিগুড়ি কি জলপাইগুড়ি, 'কেউ কোথথাও নেই' )

একটু পেছনে যাই। কলেজের দ্বিতীয়বর্ষে পড়াকালীন, একদিন খবর পাওয়া গেলো, সোনামামা , জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত অথবা পরাজিত অথবা দুটিরই শিকার হয়ে, মামাবাড়ীর ম্যাগনোলিয়া গাছের সবচেয়ে নিচু যে ডালটি, যাকে ছুঁয়ে থাকলে মাটিতেই ছুঁয়ে থাকে পা, তাতে গলায়, পড়নের প্যান্টটি দিয়ে ফাঁস দিয়ে এক সন্ধ্যায়, জীবন থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!

মাগো আর সইতে পারেনি গাছটিকে। জীবন , সোনামামাকে, অথবা সোনামামা জীবনকে কি দিয়েছে, দিতে পেরেছে , মায়ের মন কিচ্ছুটি হিসেব না করে, লোক ডেকে গাছটি পত্রপাঠ সমূল উতপাটিত করেছে। তারও অনেক বছর পরে, মাগোও বিদায় নেবার পর, শেষকাজের দিনে, নজর পড়েছিলো ওখানে, গাছটিকে ঘিরে যে সিমেন্টের গোল করে ঘিরে দেওয়া বৃত্ত, গাছ না থাকলেও, তাকে তুলে দেবার কথা ভাবেইনি কেউ, রয়ে গেছে মধ্যবর্তিনীর মতো, পারিজাতপুষ্পের স্মৃতি আমায় উসকে দেবে বলে।

বাবার বাড়ীর গাছটিও ( যদিও বাবা বলেনি কখনো, কিন্তু আমার দৃঢ় ধারনা, মামাবাড়ীর কারো উস্কানিতেই হয়ে থাকবে) গৃহস্হের অকল্যাণ আশঙ্কায়, কুঠারের আঘাতে ।।।। ।

হয়তো তাই-ই, ন Kইল্লিঙ্গ আ ট্রী পড়াতে পড়াতে প্রতিবার অনিবার্য যান্ত্রিকতায় আমার মগজে ভীড় করে আসে তমালবৃক্ষেরা, আমার পারিজাতপুষ্পস্মৃতি।। গভীরভাবে পড়াতে ইচ্ছে করে না আর, পাছে অন্তরগত হাহাকার ,দমনের হাত ফস্কে উঁকি দেয় গলার স্বরে!!

আমার মেয়েবেলা, ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার সুবাস জড়িয়ে,ইলেকট্রার মতো স্বেচ্ছানির্বাসনে।

দেখা পাইনা আর।


শেয়ার করুন


Avatar: Sutapa Das

Re: অনুষঙ্গে

ইংরাজী হরফের শব্দগুলো উল্টেপাল্টে বাংলা হরফে জাপানী উচ্চারনের নাম মনে হচ্ছে। সংশোধন করা যায় বলে জানা নেই, তাই পরিমার্জন।
ফেসবুক বন্ধুঃ সুস্মিতা বড়াল সাহু,
পড়াই ঃ অন কিলিং এ ট্রী (দ্বাদশে দ্বিতীয় ভাষার অবশ্যপাঠ্য)
পাঠক নিজগুণে ক্ষমিবেন।
Avatar: Prativa Sarker

Re: অনুষঙ্গে

ফুলটা চেনা। এটা কি কেবল উত্তরবঙ্গেই পাওয়া যায়।

লেখাটা ফেসবুকের ভাষায়, হৃদয় ছুঁয়ে গেল। সত্যিই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন