Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...
  • কালচক্রের ছবি
    বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা ...
  • এয়ারপোর্টে
    ১।আর একটু পর উড়ে যাবভয় করেকথা ছিল কফি খাবফেরার গল্প নিয়েকত সহজেই না-ফিরেফুল হয়ে থাকা যায়যারা ফেরে নি উড়ার শেষেতাদের পাশ দিয়ে যাইভয় আসেকথা আছে কফি নেব দুজন টেবিলে ফেরার পর ২।সময় কাটানো যায়শুধু তাকিয়ে থেকেতোমার না বলা কথাওরা বলে দেয়তোমার না ছুঁতে পারাওরা ...
  • ভগবতী
    একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর ...
  • শীতের কবিতাগুচ্ছ
    ফাটাও বিষ্টুএবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব সেই মেয়েটার, সেই যারজয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।বাঁয়ে রাখো, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অনুষঙ্গে

Sutapa Das



(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

শব্দগুলো একরাশ স্মৃতি, সুগন্ধী জুঁইয়ের মতো ছড়িয়ে দিলো মগজে, আর আজকের বৃষ্টিভেজা রাতে অতীতের পাকদন্ডী বেয়ে সোওওজা নিয়ে ফেললো পঁয়ত্রিশবছর আগে। অবশ্য আজ এ যাত্রায় বেরোতে হবে বুঝতে পেরেছিলাম দুপুরেই, ফেসবুকের এক গ্রুপে, বন্ধু উস্মিত অরল অহু র পোস্ট করা সেই ফুলটি হঠাত করেই দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই।

(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

মামাবাড়ী থাকতে এসেছি সাতবছর হস্টেলজীবন কাটানোর পর। তার আগের মামাবাড়ী অভিযান হতো সংক্ষিপ্ত, ১৫ দিন কি ২০ দিন বড়জোর! তো হৈ হৈ করে কেটে যাওয়া সময়ের ফাঁকে গাছগাছালির দিকে নজর পড়তো না তেমন, আর ছোট্টটি ছিলাম কিনা তখনো! এবার এখানে থেকে, পড়াশুনা করতে হবে আমায়। ছোটবেলায় বড্ড (সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হয়, এখনো কিঞ্চিত) একলষেড়ে, একবগ্গা ছিলাম আমি। ছোটভাইবোনগুলোর সাথেই, এই গাছটিও বন্ধু হলো আমার।
তার কাঁঠালপাতার মত শক্ত পাতা, একহারা গড়ন ।। আমি কল্পনা করতাম (মাইরি দেখতে পাচ্ছি মেয়েটাকে, কল্পনা, নাকি!!) ও,সেই রাধার আর্তির তমাল গাছই হবে হয়তো বা !!

মার্চ মাস। দাদুর অবশ্যসঙ্গী পঞ্জিকা বলছে সময়টা চৈত্র, ঋতু বসন্ত। গাছে এলো এই ফুল। প্রথম প্রথম একটা দুটো, তারপর কোন কোনদিন পাঁচ ছটাও।
গন্ধ?! আমার কৈশোরের সবটুকু সুখস্মৃতি যেন! পাপড়ীর ভেতর ঢাকা স্বর্নরেনু। এই নাকি পারিজাত!
তখন ঘরে ঘরে ফুলদানী ছিলো না। দাদু-মাগোর (দিদুন আর কি) ঘরে ফাঁকা ধোয়া হরলিক্সের শিশিতে, বড়মামার ঘরে মীনাকারী স্টিলের সরু ফুলদানীতে, মেজ , সোনা মামাদের ঘরে এমনকি গ্লাসেও , ডাঁটি ভাঙ্গা ডাঁটো , দর্পিত অথচ মখমলী সে ফুল শোভা বাড়াত, মাতিয়ে রাখতো দিনের পর দিন, রাতও।

আমরা তাকে ডাকতাম ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরা! বৈজ্ঞানিক নামগোত্র জানতেই চাইনি কখনো!

(জলপাইগুড়ি, কলেজমুখো সেই আমি, অভিসার আর উপহারে সেই পারিজাতপুষ্প)

সত্যি। তখন কোথায় 'পকেটমানি'! সিনেমা দেখবার পয়সা চাইতে তিনদিন আগে থেকে রিহার্সাল দিতাম রে বাবা!

তা বলে কি যখের ধন পেতাম না নাকি ?! বাবা তো কলেজের ফী দিতেন মাসে বোধহয় সতেরো টাকা, সাইকেল চালাতাম বলে কোন রিক্সাভাড়া বরাদ্দ ছিলো না। জন্মদিনে কি ভাইফোঁটায় পাওয়া আশির্বাদী, কিংবা মাগোর কাছ থেকে পাওয়া টাকা, 'ইয়ে যো থোড়ি সি প্যায়সে', ইস, খরচ করতে প্রাণে চাইতো না। বছরশেষে হায়ার সেকেন্ডারীর রেজাল্টের জন্যে কলেজের ফী, ফুল ফ্রী হয়ে গেলে বেতন যখন ফেরত হতো, আহ্! তবে গিয়ে শখের খুঁটিনাটি, বিশেষবন্ধুর জন্যে গিফ্ট কেনা যেত!

ফাল্গুনে অবশ্য, 'তাঁকে' দেবার মত বিশেষ একটি উপহার ছিলো আমার। হ্যাঁ, বাবার বাড়ীতেও ছিলো ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার একটি গাছ। তার ফুল, আমার চিরপছন্দের, যেন কৃষ্ণসখার উপহার দ্রৌপদীর অনন্ত লজ্জাবস্ত্রের মতো, আমার মান বাঁচাতো।

বিয়ের পর, বাবা নিজ হাতে কলম কেটে একখানি আমায় দিয়েছিলেন চারা, বলেছিলেন ঠিক একটিবছর আগলে রাখলে , আর ভাবতে হবে না, প্রতি ফাগুনে পারিজাত আসবে দেখা করে,মেয়েবেলা ফেরত দিতে।

সেবারই, ১৯৯০ সাল, পুজোর অষ্টমীতে যেন চরাচর ভেসে গেলো। নিচু এলাকায় জল দাঁড়ালো প্রায় দুদিন। সন্তান স্নেহে যার পাতা গুনতাম, ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পড়লো পাতা। বুঝিয়ে গেলো,জীবনধারনের জন্যে যা অপরিহার্য, তার অঢেল যোগানের ফল কিন্তু প্রাণঘাতী!

(শিলিগুড়ি কি জলপাইগুড়ি, 'কেউ কোথথাও নেই' )

একটু পেছনে যাই। কলেজের দ্বিতীয়বর্ষে পড়াকালীন, একদিন খবর পাওয়া গেলো, সোনামামা , জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত অথবা পরাজিত অথবা দুটিরই শিকার হয়ে, মামাবাড়ীর ম্যাগনোলিয়া গাছের সবচেয়ে নিচু যে ডালটি, যাকে ছুঁয়ে থাকলে মাটিতেই ছুঁয়ে থাকে পা, তাতে গলায়, পড়নের প্যান্টটি দিয়ে ফাঁস দিয়ে এক সন্ধ্যায়, জীবন থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!

মাগো আর সইতে পারেনি গাছটিকে। জীবন , সোনামামাকে, অথবা সোনামামা জীবনকে কি দিয়েছে, দিতে পেরেছে , মায়ের মন কিচ্ছুটি হিসেব না করে, লোক ডেকে গাছটি পত্রপাঠ সমূল উতপাটিত করেছে। তারও অনেক বছর পরে, মাগোও বিদায় নেবার পর, শেষকাজের দিনে, নজর পড়েছিলো ওখানে, গাছটিকে ঘিরে যে সিমেন্টের গোল করে ঘিরে দেওয়া বৃত্ত, গাছ না থাকলেও, তাকে তুলে দেবার কথা ভাবেইনি কেউ, রয়ে গেছে মধ্যবর্তিনীর মতো, পারিজাতপুষ্পের স্মৃতি আমায় উসকে দেবে বলে।

বাবার বাড়ীর গাছটিও ( যদিও বাবা বলেনি কখনো, কিন্তু আমার দৃঢ় ধারনা, মামাবাড়ীর কারো উস্কানিতেই হয়ে থাকবে) গৃহস্হের অকল্যাণ আশঙ্কায়, কুঠারের আঘাতে ।।।। ।

হয়তো তাই-ই, ন Kইল্লিঙ্গ আ ট্রী পড়াতে পড়াতে প্রতিবার অনিবার্য যান্ত্রিকতায় আমার মগজে ভীড় করে আসে তমালবৃক্ষেরা, আমার পারিজাতপুষ্পস্মৃতি।। গভীরভাবে পড়াতে ইচ্ছে করে না আর, পাছে অন্তরগত হাহাকার ,দমনের হাত ফস্কে উঁকি দেয় গলার স্বরে!!

আমার মেয়েবেলা, ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার সুবাস জড়িয়ে,ইলেকট্রার মতো স্বেচ্ছানির্বাসনে।

দেখা পাইনা আর।


73 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Sutapa Das

Re: অনুষঙ্গে

ইংরাজী হরফের শব্দগুলো উল্টেপাল্টে বাংলা হরফে জাপানী উচ্চারনের নাম মনে হচ্ছে। সংশোধন করা যায় বলে জানা নেই, তাই পরিমার্জন।
ফেসবুক বন্ধুঃ সুস্মিতা বড়াল সাহু,
পড়াই ঃ অন কিলিং এ ট্রী (দ্বাদশে দ্বিতীয় ভাষার অবশ্যপাঠ্য)
পাঠক নিজগুণে ক্ষমিবেন।
Avatar: Prativa Sarker

Re: অনুষঙ্গে

ফুলটা চেনা। এটা কি কেবল উত্তরবঙ্গেই পাওয়া যায়।

লেখাটা ফেসবুকের ভাষায়, হৃদয় ছুঁয়ে গেল। সত্যিই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন