Sutapa Das RSS feed

Sutapa Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • চলো এগিয়ে চলি 2
    #চলো এগিয়ে চলি 2#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যবিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মানুষ কথা বলতে শিখেছে আমার জানা নেই।তবে আগুনআবিষ্কারের চেয়ে এর গুরুত্ব কিছু কম নয়।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম জায়গাকথা বলা।A person with Autism Spectrum দের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কথা ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যদ্রোণাচার্...
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অনুষঙ্গে

Sutapa Das



(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

শব্দগুলো একরাশ স্মৃতি, সুগন্ধী জুঁইয়ের মতো ছড়িয়ে দিলো মগজে, আর আজকের বৃষ্টিভেজা রাতে অতীতের পাকদন্ডী বেয়ে সোওওজা নিয়ে ফেললো পঁয়ত্রিশবছর আগে। অবশ্য আজ এ যাত্রায় বেরোতে হবে বুঝতে পেরেছিলাম দুপুরেই, ফেসবুকের এক গ্রুপে, বন্ধু উস্মিত অরল অহু র পোস্ট করা সেই ফুলটি হঠাত করেই দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই।

(তখন আমি দুই বিনুনী, খয়েরী পাড় স্কুলের শাড়ী, শিলিগুড়িবাসী)

মামাবাড়ী থাকতে এসেছি সাতবছর হস্টেলজীবন কাটানোর পর। তার আগের মামাবাড়ী অভিযান হতো সংক্ষিপ্ত, ১৫ দিন কি ২০ দিন বড়জোর! তো হৈ হৈ করে কেটে যাওয়া সময়ের ফাঁকে গাছগাছালির দিকে নজর পড়তো না তেমন, আর ছোট্টটি ছিলাম কিনা তখনো! এবার এখানে থেকে, পড়াশুনা করতে হবে আমায়। ছোটবেলায় বড্ড (সত্যের খাতিরে স্বীকার করতেই হয়, এখনো কিঞ্চিত) একলষেড়ে, একবগ্গা ছিলাম আমি। ছোটভাইবোনগুলোর সাথেই, এই গাছটিও বন্ধু হলো আমার।
তার কাঁঠালপাতার মত শক্ত পাতা, একহারা গড়ন ।। আমি কল্পনা করতাম (মাইরি দেখতে পাচ্ছি মেয়েটাকে, কল্পনা, নাকি!!) ও,সেই রাধার আর্তির তমাল গাছই হবে হয়তো বা !!

মার্চ মাস। দাদুর অবশ্যসঙ্গী পঞ্জিকা বলছে সময়টা চৈত্র, ঋতু বসন্ত। গাছে এলো এই ফুল। প্রথম প্রথম একটা দুটো, তারপর কোন কোনদিন পাঁচ ছটাও।
গন্ধ?! আমার কৈশোরের সবটুকু সুখস্মৃতি যেন! পাপড়ীর ভেতর ঢাকা স্বর্নরেনু। এই নাকি পারিজাত!
তখন ঘরে ঘরে ফুলদানী ছিলো না। দাদু-মাগোর (দিদুন আর কি) ঘরে ফাঁকা ধোয়া হরলিক্সের শিশিতে, বড়মামার ঘরে মীনাকারী স্টিলের সরু ফুলদানীতে, মেজ , সোনা মামাদের ঘরে এমনকি গ্লাসেও , ডাঁটি ভাঙ্গা ডাঁটো , দর্পিত অথচ মখমলী সে ফুল শোভা বাড়াত, মাতিয়ে রাখতো দিনের পর দিন, রাতও।

আমরা তাকে ডাকতাম ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরা! বৈজ্ঞানিক নামগোত্র জানতেই চাইনি কখনো!

(জলপাইগুড়ি, কলেজমুখো সেই আমি, অভিসার আর উপহারে সেই পারিজাতপুষ্প)

সত্যি। তখন কোথায় 'পকেটমানি'! সিনেমা দেখবার পয়সা চাইতে তিনদিন আগে থেকে রিহার্সাল দিতাম রে বাবা!

তা বলে কি যখের ধন পেতাম না নাকি ?! বাবা তো কলেজের ফী দিতেন মাসে বোধহয় সতেরো টাকা, সাইকেল চালাতাম বলে কোন রিক্সাভাড়া বরাদ্দ ছিলো না। জন্মদিনে কি ভাইফোঁটায় পাওয়া আশির্বাদী, কিংবা মাগোর কাছ থেকে পাওয়া টাকা, 'ইয়ে যো থোড়ি সি প্যায়সে', ইস, খরচ করতে প্রাণে চাইতো না। বছরশেষে হায়ার সেকেন্ডারীর রেজাল্টের জন্যে কলেজের ফী, ফুল ফ্রী হয়ে গেলে বেতন যখন ফেরত হতো, আহ্! তবে গিয়ে শখের খুঁটিনাটি, বিশেষবন্ধুর জন্যে গিফ্ট কেনা যেত!

ফাল্গুনে অবশ্য, 'তাঁকে' দেবার মত বিশেষ একটি উপহার ছিলো আমার। হ্যাঁ, বাবার বাড়ীতেও ছিলো ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার একটি গাছ। তার ফুল, আমার চিরপছন্দের, যেন কৃষ্ণসখার উপহার দ্রৌপদীর অনন্ত লজ্জাবস্ত্রের মতো, আমার মান বাঁচাতো।

বিয়ের পর, বাবা নিজ হাতে কলম কেটে একখানি আমায় দিয়েছিলেন চারা, বলেছিলেন ঠিক একটিবছর আগলে রাখলে , আর ভাবতে হবে না, প্রতি ফাগুনে পারিজাত আসবে দেখা করে,মেয়েবেলা ফেরত দিতে।

সেবারই, ১৯৯০ সাল, পুজোর অষ্টমীতে যেন চরাচর ভেসে গেলো। নিচু এলাকায় জল দাঁড়ালো প্রায় দুদিন। সন্তান স্নেহে যার পাতা গুনতাম, ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে পড়লো পাতা। বুঝিয়ে গেলো,জীবনধারনের জন্যে যা অপরিহার্য, তার অঢেল যোগানের ফল কিন্তু প্রাণঘাতী!

(শিলিগুড়ি কি জলপাইগুড়ি, 'কেউ কোথথাও নেই' )

একটু পেছনে যাই। কলেজের দ্বিতীয়বর্ষে পড়াকালীন, একদিন খবর পাওয়া গেলো, সোনামামা , জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত অথবা পরাজিত অথবা দুটিরই শিকার হয়ে, মামাবাড়ীর ম্যাগনোলিয়া গাছের সবচেয়ে নিচু যে ডালটি, যাকে ছুঁয়ে থাকলে মাটিতেই ছুঁয়ে থাকে পা, তাতে গলায়, পড়নের প্যান্টটি দিয়ে ফাঁস দিয়ে এক সন্ধ্যায়, জীবন থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন!

মাগো আর সইতে পারেনি গাছটিকে। জীবন , সোনামামাকে, অথবা সোনামামা জীবনকে কি দিয়েছে, দিতে পেরেছে , মায়ের মন কিচ্ছুটি হিসেব না করে, লোক ডেকে গাছটি পত্রপাঠ সমূল উতপাটিত করেছে। তারও অনেক বছর পরে, মাগোও বিদায় নেবার পর, শেষকাজের দিনে, নজর পড়েছিলো ওখানে, গাছটিকে ঘিরে যে সিমেন্টের গোল করে ঘিরে দেওয়া বৃত্ত, গাছ না থাকলেও, তাকে তুলে দেবার কথা ভাবেইনি কেউ, রয়ে গেছে মধ্যবর্তিনীর মতো, পারিজাতপুষ্পের স্মৃতি আমায় উসকে দেবে বলে।

বাবার বাড়ীর গাছটিও ( যদিও বাবা বলেনি কখনো, কিন্তু আমার দৃঢ় ধারনা, মামাবাড়ীর কারো উস্কানিতেই হয়ে থাকবে) গৃহস্হের অকল্যাণ আশঙ্কায়, কুঠারের আঘাতে ।।।। ।

হয়তো তাই-ই, ন Kইল্লিঙ্গ আ ট্রী পড়াতে পড়াতে প্রতিবার অনিবার্য যান্ত্রিকতায় আমার মগজে ভীড় করে আসে তমালবৃক্ষেরা, আমার পারিজাতপুষ্পস্মৃতি।। গভীরভাবে পড়াতে ইচ্ছে করে না আর, পাছে অন্তরগত হাহাকার ,দমনের হাত ফস্কে উঁকি দেয় গলার স্বরে!!

আমার মেয়েবেলা, ম্যাগনোলিয়া গ্র্যান্ডিফ্লোরার সুবাস জড়িয়ে,ইলেকট্রার মতো স্বেচ্ছানির্বাসনে।

দেখা পাইনা আর।


1 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Sutapa Das

Re: অনুষঙ্গে

ইংরাজী হরফের শব্দগুলো উল্টেপাল্টে বাংলা হরফে জাপানী উচ্চারনের নাম মনে হচ্ছে। সংশোধন করা যায় বলে জানা নেই, তাই পরিমার্জন।
ফেসবুক বন্ধুঃ সুস্মিতা বড়াল সাহু,
পড়াই ঃ অন কিলিং এ ট্রী (দ্বাদশে দ্বিতীয় ভাষার অবশ্যপাঠ্য)
পাঠক নিজগুণে ক্ষমিবেন।
Avatar: Prativa Sarker

Re: অনুষঙ্গে

ফুলটা চেনা। এটা কি কেবল উত্তরবঙ্গেই পাওয়া যায়।

লেখাটা ফেসবুকের ভাষায়, হৃদয় ছুঁয়ে গেল। সত্যিই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন