Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - দশম ভাগ

Anamitra Roy

ডাবের জলটা বেশ মিষ্টি। বহুদিন এতো ভালো ডাব খায়নি অভিমন্যু। স্ট্রয়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছিলো সে। তাকে এখন দেখতে লাগছে গম্ভীর এবং চিন্তামগ্ন। আর থেকে থেকে "হুম" বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে সে। যেন কত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে তার অর্ধোন্মিলিত চোখের সামনে। কত জটলার জট ছাড়িয়ে সে বুঝে যাচ্ছে যেন এরপরে ঠিক কি ঘটতে চলেছে। আসলে গোটাটাই ভাঁওতা। শুভাশীষকে চাপে রাখার উপায়। সে ভাবছে বলতে মূলত ওইটাই --- আহা রে! কি মিষ্টি ডাবের জল! রোজ যদি এরকম পাওয়া যেত!
জলটা শেষ হয়ে যেতে ওইভাবেই না তাকিয়ে কোনোদিকে না ফিরে বাঁহাতে শুভাশীষের দিকে খালি ডাবটা এগিয়ে ধরলো অভিমন্যু। স্ট্র সমেত! "শাঁস খাবেন তো স্যার, শাঁস? এই, ডাবটা ছাড়িয়ে দাও। স্যার শাঁস খাবেন।" -- অভিমন্যুকে হ্যাঁ না কিছু বলতেই হলো না। মানুষকে চাপে রাখার এই এক সুবিধা। পটাপট কাজ হয়ে যায়। তা না হলে এক্ষুনি খাজুর করতে হতো। আপনার কোথায় বাড়ি ! হেঁ হেঁ ! বাড়িতে কে কে আছে ! হেঁ হেঁ ! আজকে গরমটা কেমন পড়েছে বলুন ! হেঁ হেঁ ! যত্তসব ! জেমস বন্ড কোনোদিন করেছে ওসব? --- বন্ড! হেঁ হেঁ ! জেমস বন্ড! --- ওরকম করলে কেউ আর কোনোদিন তাকে সিরিয়াসলি নিতোইনা। লোকে শুধু হাঁ করে দেখবে কিন্তু শিখবে না কিছুই। এইজন্যেই বাঙালির কিচ্ছু হলো না !

- "স্যার, শাঁস!" শুভাশীষ মাঝখান থেকে ভাগ করা ডাবটা অভিমন্যুর দিকে এগিয়ে ধরেছে।
- " হ্যাঁ? ও!" বলে হালকা করে একবার তাকিয়ে ডাবটা নেয় অভিমন্যু অন্যমনস্কভাবে। তারপর আবার যেদিকে তাকিয়ে ছিল সেদিকেই ফিরে চিন্তামগ্নভাবে শাঁস খেতে থাকে। আদতে সে অন্যমনস্ক নয় মোটেই। তার গোটা মন জুড়ে একটি কচি ডাব, তাহার শাঁস ও তাহার জল। মন থেকে গোটা ব্যাপারটার ধীরে ধীরে পেটে স্থানান্তর ঘটছে। জলটা আগেই চলে গেছে। শাঁসটাও যাচ্ছে এবার। চিন্তা বলতে একটাই। এমন নরম শাঁস, আশেপাশে কেউ না থাকলে বেশ সপাৎ সপাৎ আওয়াজ করে খাওয়া যেত। ভদ্রতার খাতিরে সেটা করা যাচ্ছেনা আপাতত। ওয়েট কমে যাবে ওরকমটা করলে। শুভাশীষের ওপর থেকে চাপটাও কমে যাবে সেক্ষেত্রে। বড় মানুষরা ওরকমটা করেন না। রাষ্ট্রপতি সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দে চা খান না। প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণ দিতে উঠে হাঁচি পায় না প্রধানমন্ত্রীর। বা পেলেও তিনি কাউকে বুঝতে দেন না। কারণ এরকমটাই চলে আসছে। এটাই নিয়ম। রাষ্ট্রপুঞ্জে বৈঠক চলাকালীন পুতিন আসলে টেকো কিনা সেই নিয়ে ফিসফাস আলোচনা জুড়ে দেয় না কেউ। সিরিয়াস ব্যাপারস্যাপারে এইসব ফচকেমির কোনো স্থান নেই। এখানে দু'দুটো লোক ভ্যানিশ হয়ে গেছে। মরেও গিয়ে থাকতে পারে, বলা যায় না। সেই ঘটনার তদন্তে এসে ডাবের শাঁস খেতে খেতে শব্দ করাটা উচিত হবে না মোটেই।

শাঁসটা শেষ হয়ে এসেছে। ডাবের খোলা কেটে বানানো চামচটা দিয়ে শেষ টুকরোটা তুলে মুখে দিতেই ওই জায়গাটায় চোখ পড়লো অভিমন্যুর। এতক্ষন শাঁসের আড়ালে থাকায় প্রাকৃতিক আঁকিবুকি মনে হচ্ছিলো। জিনিসটা দেখে একটু চমকেই গেলো অভিমন্যু।এটা কি ডাবওলার কাজ? শুভাশীষকে দেখানো কি উচিত হবে? নাকি সেও জড়িত থাকতে পারে এই চক্রান্তে? কিন্তু ডাবওলার হাতে তো দা ! দা-এর মতো জিনিস দিয়ে তো এটা করা সম্ভব নয়! স্পষ্ট মনে হচ্ছে ডাবের খোলার ভিতরের দিকের গায়ে ছুরি দিয়ে কেউ একটা "না" খোদাই করে রেখেছে। একটা বন্ধ ডাবের খোলার ভিতর শাঁসের নিচে কিভাবে সম্ভব হয় এটা?
-"আরেকটা ডাব কাটুন তো", ডাবওলাকে বলে অভিমন্যু। ডাব কাটার পদ্ধতিটাকে সে ভালোভাবে লক্ষ্য করে এবার। না, কোনও গোলমাল নেই সেখানে। ডাবটা হাতে পেতেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলটা খেয়ে নেয় অভিমন্যু। তারপর ডাবটা ডাবওলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, "শাঁস খাবো"। ডাবওলা সেকেন্ড দশেকের মধ্যে ডাবটা চিরে খোলা কেটে চামচ বানিয়ে অভিমন্যুর হাতে ফিরিয়ে দেয়। গোটাটা ভালো করে লক্ষ্য করে অভিমন্যু। এখানেও কোনো চালাকি নেই। গপগপ করে শাঁসটা খেয়ে ফেলে সে মিনিট দেড়েকের মধ্যে। এবারেও একই কেস। অক্ষরগুলো একটু ছোট, কিন্তু বার্তাটি আরও স্পষ্ট। "একদম না" লেখা আছে ডাবের ভিতরে !
- "আরও একটা কাটুন!" অভিমন্যু বলে।
- "আপনি একটাও খাবেন না স্যার? কচি ছিল কিন্তু!" ডাবওলা বলে শুভাশীষের দিকে তাকিয়ে।
- "হ্যাঁ! স্যারের তো মনে হচ্ছে বেশ মনে ধরেছে। দিন আমাকেও একটা। কিন্তু ওই একটাই।" শুভাশীষ বলে।
- "আচ্ছা। আমি আমি জোর করতে যাবো কেন? ভালো মাল আছে, একটাও খাবেন না? তাই বললাম। চিনির মতো মিষ্টি!"
- "সে কি! পিঁপড়ে ধরে যাবে তো!" শুভাশীষ মনে হয় মনের মতো লোক পেয়েছে এতক্ষনে।
- "কি যে বলেন স্যার!" ডাবওলাটি বেশ লাজুক ধরণের।
- "আচ্ছা হয়েছে! আমারটা তাড়াতাড়ি কাটুন তো!" অভিমন্যু বাগড়া দিয়ে রসভঙ্গ ঘটিয়ে বলে ওঠে।
- "হ্যাঁ হ্যাঁ! ওনারটা কেটে দিন আগে", শুভাশীষ বলে।
- "এই তো। হয়ে গেছে।" ডাবওলা তৃতীয় ডাবটি এগিয়ে দেয়।

তারপর শুভাশীষ আর ডাবওলার মধ্যে কি কথা হয় না হয় সেসব কিছুই কানে ঢোকে না অভিমন্যুর। সে কোনোমতে জলটা শেষ করে ফিরিয়ে দেয় ডাবটা। কিছু বলতেও হয় না তাকে। ডাবওলা বকবক করতে করতেই মন্ত্রমুগ্ধের মতো ডাবটাকে ফাঁক করে ফেলে মাঝখান থেকে। একপ্রকার ছিনিয়েই নেয় অভিমন্যু ডাবটা তার থেকে। ওদিকে শুভাশীষও তখন ডাব খাচ্ছে। কিন্তু অভিমন্যুর সেদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই। সে ভাবছে এবারেও কি একই ঘটনা ঘটতে চলেছে? কি লেখা থাকতে পারে এবার? কিসের "না"? কেনই বা "একদম না"? উত্তর মেলে তাড়াতাড়িই !

"খবরদার !" লিখে সাবধান করা রয়েছে তৃতীয় ডাবটির ভিতরে, একদম বিস্ময়বোধক চিহ্ন সহকারে ! কেন কেউ অভিমন্যুকে সাবধান করতে চাইছে? কি থেকেই বা? কেন কেউ তাকে বারণ করতে যাবে কোনোকিছু করতে? তাও এরকম অদ্ভুত উপায়ে? কিভাবেই বা এটা সম্ভব! বিস্ময় কাটতে চায় না অভিমন্যুর। তারই মধ্যে সে শুনতে পায় শুভাশীষ বলছে, "ও বাবা, এ তো জাদুডাব গো! ভেতরে কি লেখা আছে দেখেছো?" আর ডাবওলা উত্তর দিচ্ছে, "কই, দেখি দেখি! ওমা! সে কি! তাজ্জব ব্যাপার তো! এতদিন ধরে ডাব বেচছি, কই, আগে তো কখনও এমনটা দেখিনি!"
- "ও স্যার! দেখেছেন কান্ড? ডাবের ভেতর লেখা ফুটছে!" শুভাশীষ তাকেই বলছে এবার, অভিমন্যু বুঝতে পারে। চা খেতে যাওয়াটাই কি উচিত ছিল তবে? ডাব খেতে আসার সিদ্ধান্তটাই কি তাহলে ভুল? শুভাশীষের ডাবে আবার কি লেখা আছে কে জানে ! গলাটাকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে এনে অভিমন্যু বলে, "কি যা তা বকছো? গরম লেগে গেলো, নাকি?" শুভাশীষ ডাবের খোলাটা হাতে করে নিয়ে এগিয়ে আসে, "এই দেখুন!" স্পষ্ট দেখতে পায় অভিমন্যু, লেখা রয়েছে "বলে ফ্যাল্"; য-ফলা, আকার, এবং হসন্ত, তিনটিই ব্যবহার করা হয়েছে "ফ্যাল্" লিখতে।
- তুমি কি কিছু লুকোচ্ছ শুভাশীষ আমার কাছে?
- লুকোতে তো চাইনি স্যার, কিন্তু আপনি আর বলতে দিলেন কোথায়!
- আমি তো বাধা দিইনি! আমি তো বললাম বলে ফেলো!
- ওইভাবে বললে স্যার বলা যায়! আপনিই বলুন!
- তা এবার তো বলবে, নাকি?
- চলুন, যেতে যেতে বলি...
প্রথম পর্ব : http://www.guruchandali.com/blog/2018/02/26/1519595113328.html
দ্বিতীয় পর্ব (চলছে) : http://www.guruchandali.com/blog/2018/03/06/1520349527914.html

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন