Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...
  • হউল মাছের মজা
    এইবার আমি যেই গল্পটি বলব আপনাকে তা কিন্তু আমার জীবনের না সরাসরি, তবে একেবারে আমার জীবনের না তাও বলা যায় না, বরং একরকম জীবনের সাথে সংযুক্ত বলা যায়; কিন্তু একেবারে নিজের গল্প যেমন, যেমন আমার ছেলেবেলার গল্প, আলোর ইস্কুলে যাবার গল্প, কিংবা কিংবা দূর দীঘির জলে ...
  • আনন্দের বাজারে হাম্পটি ডাম্পটি
    পথিকের প্রদর্শিত পথ সুজয়যুক্ত করতে আনন্দের বাজারে এখন হাম্পটি ডাম্পটি।গতকাল ( ৬ই এপ্রিল, ২০১৮) যে দৈনিক দৈনিক না পড়লে আপনি পিছিয়ে পড়বেন তাঁরা আপনাকে এগিয়ে রাখতে জেনেভা থেকে নিয়ে এলেন হাম্পটি ডাম্পটি কে ( এখানে দেখুনঃঃ ...
  • কৃত্যা
    কৃত্যা : তৃতীয় পর্বপ্রসেনজিৎ বসু[পাণ্ডবগণ অধোনেত্রে নীরব এবং ধৃতরাষ্ট্র অন্ধনেত্রে সরব -- এমন সময়ে দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রাঞ্চল ধরে সজোরে টান দেন।]প্রবল উল্লাসধ্বনির মাঝে প্রথমে কিছুই বোঝা যায় না। পৈশাচিক আমোদে সভা তখন মত্ত। আঁচল খসে যায়, কিন্তু দ্রৌপদীর ...
  • মকুবাবুর প্রত্যাবর্তন
    গোটা ব্যাপারটাই বোগাস ! তবে সুখের কথা এই যে কোনোরকম বাওয়ালি ছাড়াই ২৪ ঘন্টার ওপর কেটে গেছে। বামৈস্লামিক ফিরে এসেছে যথাস্থানে। স্ক্রেপিংপূর্বক আমাদের আদরের থাম্বনেলটিও ফেরত পাওয়া গেছে। তন্ময়বাবু জানিয়েছেন যে গোটা ব্যাপারটাই আসলে ভুলবোঝাবুঝি ছিল। ত্রিপুরায় ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - দশম ভাগ

Anamitra Roy

ডাবের জলটা বেশ মিষ্টি। বহুদিন এতো ভালো ডাব খায়নি অভিমন্যু। স্ট্রয়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছিলো সে। তাকে এখন দেখতে লাগছে গম্ভীর এবং চিন্তামগ্ন। আর থেকে থেকে "হুম" বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে সে। যেন কত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে তার অর্ধোন্মিলিত চোখের সামনে। কত জটলার জট ছাড়িয়ে সে বুঝে যাচ্ছে যেন এরপরে ঠিক কি ঘটতে চলেছে। আসলে গোটাটাই ভাঁওতা। শুভাশীষকে চাপে রাখার উপায়। সে ভাবছে বলতে মূলত ওইটাই --- আহা রে! কি মিষ্টি ডাবের জল! রোজ যদি এরকম পাওয়া যেত!
জলটা শেষ হয়ে যেতে ওইভাবেই না তাকিয়ে কোনোদিকে না ফিরে বাঁহাতে শুভাশীষের দিকে খালি ডাবটা এগিয়ে ধরলো অভিমন্যু। স্ট্র সমেত! "শাঁস খাবেন তো স্যার, শাঁস? এই, ডাবটা ছাড়িয়ে দাও। স্যার শাঁস খাবেন।" -- অভিমন্যুকে হ্যাঁ না কিছু বলতেই হলো না। মানুষকে চাপে রাখার এই এক সুবিধা। পটাপট কাজ হয়ে যায়। তা না হলে এক্ষুনি খাজুর করতে হতো। আপনার কোথায় বাড়ি ! হেঁ হেঁ ! বাড়িতে কে কে আছে ! হেঁ হেঁ ! আজকে গরমটা কেমন পড়েছে বলুন ! হেঁ হেঁ ! যত্তসব ! জেমস বন্ড কোনোদিন করেছে ওসব? --- বন্ড! হেঁ হেঁ ! জেমস বন্ড! --- ওরকম করলে কেউ আর কোনোদিন তাকে সিরিয়াসলি নিতোইনা। লোকে শুধু হাঁ করে দেখবে কিন্তু শিখবে না কিছুই। এইজন্যেই বাঙালির কিচ্ছু হলো না !

- "স্যার, শাঁস!" শুভাশীষ মাঝখান থেকে ভাগ করা ডাবটা অভিমন্যুর দিকে এগিয়ে ধরেছে।
- " হ্যাঁ? ও!" বলে হালকা করে একবার তাকিয়ে ডাবটা নেয় অভিমন্যু অন্যমনস্কভাবে। তারপর আবার যেদিকে তাকিয়ে ছিল সেদিকেই ফিরে চিন্তামগ্নভাবে শাঁস খেতে থাকে। আদতে সে অন্যমনস্ক নয় মোটেই। তার গোটা মন জুড়ে একটি কচি ডাব, তাহার শাঁস ও তাহার জল। মন থেকে গোটা ব্যাপারটার ধীরে ধীরে পেটে স্থানান্তর ঘটছে। জলটা আগেই চলে গেছে। শাঁসটাও যাচ্ছে এবার। চিন্তা বলতে একটাই। এমন নরম শাঁস, আশেপাশে কেউ না থাকলে বেশ সপাৎ সপাৎ আওয়াজ করে খাওয়া যেত। ভদ্রতার খাতিরে সেটা করা যাচ্ছেনা আপাতত। ওয়েট কমে যাবে ওরকমটা করলে। শুভাশীষের ওপর থেকে চাপটাও কমে যাবে সেক্ষেত্রে। বড় মানুষরা ওরকমটা করেন না। রাষ্ট্রপতি সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দে চা খান না। প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণ দিতে উঠে হাঁচি পায় না প্রধানমন্ত্রীর। বা পেলেও তিনি কাউকে বুঝতে দেন না। কারণ এরকমটাই চলে আসছে। এটাই নিয়ম। রাষ্ট্রপুঞ্জে বৈঠক চলাকালীন পুতিন আসলে টেকো কিনা সেই নিয়ে ফিসফাস আলোচনা জুড়ে দেয় না কেউ। সিরিয়াস ব্যাপারস্যাপারে এইসব ফচকেমির কোনো স্থান নেই। এখানে দু'দুটো লোক ভ্যানিশ হয়ে গেছে। মরেও গিয়ে থাকতে পারে, বলা যায় না। সেই ঘটনার তদন্তে এসে ডাবের শাঁস খেতে খেতে শব্দ করাটা উচিত হবে না মোটেই।

শাঁসটা শেষ হয়ে এসেছে। ডাবের খোলা কেটে বানানো চামচটা দিয়ে শেষ টুকরোটা তুলে মুখে দিতেই ওই জায়গাটায় চোখ পড়লো অভিমন্যুর। এতক্ষন শাঁসের আড়ালে থাকায় প্রাকৃতিক আঁকিবুকি মনে হচ্ছিলো। জিনিসটা দেখে একটু চমকেই গেলো অভিমন্যু।এটা কি ডাবওলার কাজ? শুভাশীষকে দেখানো কি উচিত হবে? নাকি সেও জড়িত থাকতে পারে এই চক্রান্তে? কিন্তু ডাবওলার হাতে তো দা ! দা-এর মতো জিনিস দিয়ে তো এটা করা সম্ভব নয়! স্পষ্ট মনে হচ্ছে ডাবের খোলার ভিতরের দিকের গায়ে ছুরি দিয়ে কেউ একটা "না" খোদাই করে রেখেছে। একটা বন্ধ ডাবের খোলার ভিতর শাঁসের নিচে কিভাবে সম্ভব হয় এটা?
-"আরেকটা ডাব কাটুন তো", ডাবওলাকে বলে অভিমন্যু। ডাব কাটার পদ্ধতিটাকে সে ভালোভাবে লক্ষ্য করে এবার। না, কোনও গোলমাল নেই সেখানে। ডাবটা হাতে পেতেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলটা খেয়ে নেয় অভিমন্যু। তারপর ডাবটা ডাবওলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, "শাঁস খাবো"। ডাবওলা সেকেন্ড দশেকের মধ্যে ডাবটা চিরে খোলা কেটে চামচ বানিয়ে অভিমন্যুর হাতে ফিরিয়ে দেয়। গোটাটা ভালো করে লক্ষ্য করে অভিমন্যু। এখানেও কোনো চালাকি নেই। গপগপ করে শাঁসটা খেয়ে ফেলে সে মিনিট দেড়েকের মধ্যে। এবারেও একই কেস। অক্ষরগুলো একটু ছোট, কিন্তু বার্তাটি আরও স্পষ্ট। "একদম না" লেখা আছে ডাবের ভিতরে !
- "আরও একটা কাটুন!" অভিমন্যু বলে।
- "আপনি একটাও খাবেন না স্যার? কচি ছিল কিন্তু!" ডাবওলা বলে শুভাশীষের দিকে তাকিয়ে।
- "হ্যাঁ! স্যারের তো মনে হচ্ছে বেশ মনে ধরেছে। দিন আমাকেও একটা। কিন্তু ওই একটাই।" শুভাশীষ বলে।
- "আচ্ছা। আমি আমি জোর করতে যাবো কেন? ভালো মাল আছে, একটাও খাবেন না? তাই বললাম। চিনির মতো মিষ্টি!"
- "সে কি! পিঁপড়ে ধরে যাবে তো!" শুভাশীষ মনে হয় মনের মতো লোক পেয়েছে এতক্ষনে।
- "কি যে বলেন স্যার!" ডাবওলাটি বেশ লাজুক ধরণের।
- "আচ্ছা হয়েছে! আমারটা তাড়াতাড়ি কাটুন তো!" অভিমন্যু বাগড়া দিয়ে রসভঙ্গ ঘটিয়ে বলে ওঠে।
- "হ্যাঁ হ্যাঁ! ওনারটা কেটে দিন আগে", শুভাশীষ বলে।
- "এই তো। হয়ে গেছে।" ডাবওলা তৃতীয় ডাবটি এগিয়ে দেয়।

তারপর শুভাশীষ আর ডাবওলার মধ্যে কি কথা হয় না হয় সেসব কিছুই কানে ঢোকে না অভিমন্যুর। সে কোনোমতে জলটা শেষ করে ফিরিয়ে দেয় ডাবটা। কিছু বলতেও হয় না তাকে। ডাবওলা বকবক করতে করতেই মন্ত্রমুগ্ধের মতো ডাবটাকে ফাঁক করে ফেলে মাঝখান থেকে। একপ্রকার ছিনিয়েই নেয় অভিমন্যু ডাবটা তার থেকে। ওদিকে শুভাশীষও তখন ডাব খাচ্ছে। কিন্তু অভিমন্যুর সেদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই। সে ভাবছে এবারেও কি একই ঘটনা ঘটতে চলেছে? কি লেখা থাকতে পারে এবার? কিসের "না"? কেনই বা "একদম না"? উত্তর মেলে তাড়াতাড়িই !

"খবরদার !" লিখে সাবধান করা রয়েছে তৃতীয় ডাবটির ভিতরে, একদম বিস্ময়বোধক চিহ্ন সহকারে ! কেন কেউ অভিমন্যুকে সাবধান করতে চাইছে? কি থেকেই বা? কেন কেউ তাকে বারণ করতে যাবে কোনোকিছু করতে? তাও এরকম অদ্ভুত উপায়ে? কিভাবেই বা এটা সম্ভব! বিস্ময় কাটতে চায় না অভিমন্যুর। তারই মধ্যে সে শুনতে পায় শুভাশীষ বলছে, "ও বাবা, এ তো জাদুডাব গো! ভেতরে কি লেখা আছে দেখেছো?" আর ডাবওলা উত্তর দিচ্ছে, "কই, দেখি দেখি! ওমা! সে কি! তাজ্জব ব্যাপার তো! এতদিন ধরে ডাব বেচছি, কই, আগে তো কখনও এমনটা দেখিনি!"
- "ও স্যার! দেখেছেন কান্ড? ডাবের ভেতর লেখা ফুটছে!" শুভাশীষ তাকেই বলছে এবার, অভিমন্যু বুঝতে পারে। চা খেতে যাওয়াটাই কি উচিত ছিল তবে? ডাব খেতে আসার সিদ্ধান্তটাই কি তাহলে ভুল? শুভাশীষের ডাবে আবার কি লেখা আছে কে জানে ! গলাটাকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে এনে অভিমন্যু বলে, "কি যা তা বকছো? গরম লেগে গেলো, নাকি?" শুভাশীষ ডাবের খোলাটা হাতে করে নিয়ে এগিয়ে আসে, "এই দেখুন!" স্পষ্ট দেখতে পায় অভিমন্যু, লেখা রয়েছে "বলে ফ্যাল্"; য-ফলা, আকার, এবং হসন্ত, তিনটিই ব্যবহার করা হয়েছে "ফ্যাল্" লিখতে।
- তুমি কি কিছু লুকোচ্ছ শুভাশীষ আমার কাছে?
- লুকোতে তো চাইনি স্যার, কিন্তু আপনি আর বলতে দিলেন কোথায়!
- আমি তো বাধা দিইনি! আমি তো বললাম বলে ফেলো!
- ওইভাবে বললে স্যার বলা যায়! আপনিই বলুন!
- তা এবার তো বলবে, নাকি?
- চলুন, যেতে যেতে বলি...
প্রথম পর্ব : http://www.guruchandali.com/blog/2018/02/26/1519595113328.html
দ্বিতীয় পর্ব (চলছে) : http://www.guruchandali.com/blog/2018/03/06/1520349527914.html

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন