Anamitra Roy RSS feed

Anamitra Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...
  • কালচক্রের ছবি
    বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা ...
  • এয়ারপোর্টে
    ১।আর একটু পর উড়ে যাবভয় করেকথা ছিল কফি খাবফেরার গল্প নিয়েকত সহজেই না-ফিরেফুল হয়ে থাকা যায়যারা ফেরে নি উড়ার শেষেতাদের পাশ দিয়ে যাইভয় আসেকথা আছে কফি নেব দুজন টেবিলে ফেরার পর ২।সময় কাটানো যায়শুধু তাকিয়ে থেকেতোমার না বলা কথাওরা বলে দেয়তোমার না ছুঁতে পারাওরা ...
  • ভগবতী
    একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর ...
  • শীতের কবিতাগুচ্ছ
    ফাটাও বিষ্টুএবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব সেই মেয়েটার, সেই যারজয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।বাঁয়ে রাখো, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - দশম ভাগ

Anamitra Roy

ডাবের জলটা বেশ মিষ্টি। বহুদিন এতো ভালো ডাব খায়নি অভিমন্যু। স্ট্রয়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছিলো সে। তাকে এখন দেখতে লাগছে গম্ভীর এবং চিন্তামগ্ন। আর থেকে থেকে "হুম" বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে সে। যেন কত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে তার অর্ধোন্মিলিত চোখের সামনে। কত জটলার জট ছাড়িয়ে সে বুঝে যাচ্ছে যেন এরপরে ঠিক কি ঘটতে চলেছে। আসলে গোটাটাই ভাঁওতা। শুভাশীষকে চাপে রাখার উপায়। সে ভাবছে বলতে মূলত ওইটাই --- আহা রে! কি মিষ্টি ডাবের জল! রোজ যদি এরকম পাওয়া যেত!
জলটা শেষ হয়ে যেতে ওইভাবেই না তাকিয়ে কোনোদিকে না ফিরে বাঁহাতে শুভাশীষের দিকে খালি ডাবটা এগিয়ে ধরলো অভিমন্যু। স্ট্র সমেত! "শাঁস খাবেন তো স্যার, শাঁস? এই, ডাবটা ছাড়িয়ে দাও। স্যার শাঁস খাবেন।" -- অভিমন্যুকে হ্যাঁ না কিছু বলতেই হলো না। মানুষকে চাপে রাখার এই এক সুবিধা। পটাপট কাজ হয়ে যায়। তা না হলে এক্ষুনি খাজুর করতে হতো। আপনার কোথায় বাড়ি ! হেঁ হেঁ ! বাড়িতে কে কে আছে ! হেঁ হেঁ ! আজকে গরমটা কেমন পড়েছে বলুন ! হেঁ হেঁ ! যত্তসব ! জেমস বন্ড কোনোদিন করেছে ওসব? --- বন্ড! হেঁ হেঁ ! জেমস বন্ড! --- ওরকম করলে কেউ আর কোনোদিন তাকে সিরিয়াসলি নিতোইনা। লোকে শুধু হাঁ করে দেখবে কিন্তু শিখবে না কিছুই। এইজন্যেই বাঙালির কিচ্ছু হলো না !

- "স্যার, শাঁস!" শুভাশীষ মাঝখান থেকে ভাগ করা ডাবটা অভিমন্যুর দিকে এগিয়ে ধরেছে।
- " হ্যাঁ? ও!" বলে হালকা করে একবার তাকিয়ে ডাবটা নেয় অভিমন্যু অন্যমনস্কভাবে। তারপর আবার যেদিকে তাকিয়ে ছিল সেদিকেই ফিরে চিন্তামগ্নভাবে শাঁস খেতে থাকে। আদতে সে অন্যমনস্ক নয় মোটেই। তার গোটা মন জুড়ে একটি কচি ডাব, তাহার শাঁস ও তাহার জল। মন থেকে গোটা ব্যাপারটার ধীরে ধীরে পেটে স্থানান্তর ঘটছে। জলটা আগেই চলে গেছে। শাঁসটাও যাচ্ছে এবার। চিন্তা বলতে একটাই। এমন নরম শাঁস, আশেপাশে কেউ না থাকলে বেশ সপাৎ সপাৎ আওয়াজ করে খাওয়া যেত। ভদ্রতার খাতিরে সেটা করা যাচ্ছেনা আপাতত। ওয়েট কমে যাবে ওরকমটা করলে। শুভাশীষের ওপর থেকে চাপটাও কমে যাবে সেক্ষেত্রে। বড় মানুষরা ওরকমটা করেন না। রাষ্ট্রপতি সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দে চা খান না। প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণ দিতে উঠে হাঁচি পায় না প্রধানমন্ত্রীর। বা পেলেও তিনি কাউকে বুঝতে দেন না। কারণ এরকমটাই চলে আসছে। এটাই নিয়ম। রাষ্ট্রপুঞ্জে বৈঠক চলাকালীন পুতিন আসলে টেকো কিনা সেই নিয়ে ফিসফাস আলোচনা জুড়ে দেয় না কেউ। সিরিয়াস ব্যাপারস্যাপারে এইসব ফচকেমির কোনো স্থান নেই। এখানে দু'দুটো লোক ভ্যানিশ হয়ে গেছে। মরেও গিয়ে থাকতে পারে, বলা যায় না। সেই ঘটনার তদন্তে এসে ডাবের শাঁস খেতে খেতে শব্দ করাটা উচিত হবে না মোটেই।

শাঁসটা শেষ হয়ে এসেছে। ডাবের খোলা কেটে বানানো চামচটা দিয়ে শেষ টুকরোটা তুলে মুখে দিতেই ওই জায়গাটায় চোখ পড়লো অভিমন্যুর। এতক্ষন শাঁসের আড়ালে থাকায় প্রাকৃতিক আঁকিবুকি মনে হচ্ছিলো। জিনিসটা দেখে একটু চমকেই গেলো অভিমন্যু।এটা কি ডাবওলার কাজ? শুভাশীষকে দেখানো কি উচিত হবে? নাকি সেও জড়িত থাকতে পারে এই চক্রান্তে? কিন্তু ডাবওলার হাতে তো দা ! দা-এর মতো জিনিস দিয়ে তো এটা করা সম্ভব নয়! স্পষ্ট মনে হচ্ছে ডাবের খোলার ভিতরের দিকের গায়ে ছুরি দিয়ে কেউ একটা "না" খোদাই করে রেখেছে। একটা বন্ধ ডাবের খোলার ভিতর শাঁসের নিচে কিভাবে সম্ভব হয় এটা?
-"আরেকটা ডাব কাটুন তো", ডাবওলাকে বলে অভিমন্যু। ডাব কাটার পদ্ধতিটাকে সে ভালোভাবে লক্ষ্য করে এবার। না, কোনও গোলমাল নেই সেখানে। ডাবটা হাতে পেতেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জলটা খেয়ে নেয় অভিমন্যু। তারপর ডাবটা ডাবওলার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, "শাঁস খাবো"। ডাবওলা সেকেন্ড দশেকের মধ্যে ডাবটা চিরে খোলা কেটে চামচ বানিয়ে অভিমন্যুর হাতে ফিরিয়ে দেয়। গোটাটা ভালো করে লক্ষ্য করে অভিমন্যু। এখানেও কোনো চালাকি নেই। গপগপ করে শাঁসটা খেয়ে ফেলে সে মিনিট দেড়েকের মধ্যে। এবারেও একই কেস। অক্ষরগুলো একটু ছোট, কিন্তু বার্তাটি আরও স্পষ্ট। "একদম না" লেখা আছে ডাবের ভিতরে !
- "আরও একটা কাটুন!" অভিমন্যু বলে।
- "আপনি একটাও খাবেন না স্যার? কচি ছিল কিন্তু!" ডাবওলা বলে শুভাশীষের দিকে তাকিয়ে।
- "হ্যাঁ! স্যারের তো মনে হচ্ছে বেশ মনে ধরেছে। দিন আমাকেও একটা। কিন্তু ওই একটাই।" শুভাশীষ বলে।
- "আচ্ছা। আমি আমি জোর করতে যাবো কেন? ভালো মাল আছে, একটাও খাবেন না? তাই বললাম। চিনির মতো মিষ্টি!"
- "সে কি! পিঁপড়ে ধরে যাবে তো!" শুভাশীষ মনে হয় মনের মতো লোক পেয়েছে এতক্ষনে।
- "কি যে বলেন স্যার!" ডাবওলাটি বেশ লাজুক ধরণের।
- "আচ্ছা হয়েছে! আমারটা তাড়াতাড়ি কাটুন তো!" অভিমন্যু বাগড়া দিয়ে রসভঙ্গ ঘটিয়ে বলে ওঠে।
- "হ্যাঁ হ্যাঁ! ওনারটা কেটে দিন আগে", শুভাশীষ বলে।
- "এই তো। হয়ে গেছে।" ডাবওলা তৃতীয় ডাবটি এগিয়ে দেয়।

তারপর শুভাশীষ আর ডাবওলার মধ্যে কি কথা হয় না হয় সেসব কিছুই কানে ঢোকে না অভিমন্যুর। সে কোনোমতে জলটা শেষ করে ফিরিয়ে দেয় ডাবটা। কিছু বলতেও হয় না তাকে। ডাবওলা বকবক করতে করতেই মন্ত্রমুগ্ধের মতো ডাবটাকে ফাঁক করে ফেলে মাঝখান থেকে। একপ্রকার ছিনিয়েই নেয় অভিমন্যু ডাবটা তার থেকে। ওদিকে শুভাশীষও তখন ডাব খাচ্ছে। কিন্তু অভিমন্যুর সেদিকে নজর দেওয়ার সময় নেই। সে ভাবছে এবারেও কি একই ঘটনা ঘটতে চলেছে? কি লেখা থাকতে পারে এবার? কিসের "না"? কেনই বা "একদম না"? উত্তর মেলে তাড়াতাড়িই !

"খবরদার !" লিখে সাবধান করা রয়েছে তৃতীয় ডাবটির ভিতরে, একদম বিস্ময়বোধক চিহ্ন সহকারে ! কেন কেউ অভিমন্যুকে সাবধান করতে চাইছে? কি থেকেই বা? কেন কেউ তাকে বারণ করতে যাবে কোনোকিছু করতে? তাও এরকম অদ্ভুত উপায়ে? কিভাবেই বা এটা সম্ভব! বিস্ময় কাটতে চায় না অভিমন্যুর। তারই মধ্যে সে শুনতে পায় শুভাশীষ বলছে, "ও বাবা, এ তো জাদুডাব গো! ভেতরে কি লেখা আছে দেখেছো?" আর ডাবওলা উত্তর দিচ্ছে, "কই, দেখি দেখি! ওমা! সে কি! তাজ্জব ব্যাপার তো! এতদিন ধরে ডাব বেচছি, কই, আগে তো কখনও এমনটা দেখিনি!"
- "ও স্যার! দেখেছেন কান্ড? ডাবের ভেতর লেখা ফুটছে!" শুভাশীষ তাকেই বলছে এবার, অভিমন্যু বুঝতে পারে। চা খেতে যাওয়াটাই কি উচিত ছিল তবে? ডাব খেতে আসার সিদ্ধান্তটাই কি তাহলে ভুল? শুভাশীষের ডাবে আবার কি লেখা আছে কে জানে ! গলাটাকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করে এনে অভিমন্যু বলে, "কি যা তা বকছো? গরম লেগে গেলো, নাকি?" শুভাশীষ ডাবের খোলাটা হাতে করে নিয়ে এগিয়ে আসে, "এই দেখুন!" স্পষ্ট দেখতে পায় অভিমন্যু, লেখা রয়েছে "বলে ফ্যাল্"; য-ফলা, আকার, এবং হসন্ত, তিনটিই ব্যবহার করা হয়েছে "ফ্যাল্" লিখতে।
- তুমি কি কিছু লুকোচ্ছ শুভাশীষ আমার কাছে?
- লুকোতে তো চাইনি স্যার, কিন্তু আপনি আর বলতে দিলেন কোথায়!
- আমি তো বাধা দিইনি! আমি তো বললাম বলে ফেলো!
- ওইভাবে বললে স্যার বলা যায়! আপনিই বলুন!
- তা এবার তো বলবে, নাকি?
- চলুন, যেতে যেতে বলি...
প্রথম পর্ব : http://www.guruchandali.com/blog/2018/02/26/1519595113328.html
দ্বিতীয় পর্ব (চলছে) : http://www.guruchandali.com/blog/2018/03/06/1520349527914.html

60 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন