সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...
  • কালচক্রের ছবি
    বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা ...
  • এয়ারপোর্টে
    ১।আর একটু পর উড়ে যাবভয় করেকথা ছিল কফি খাবফেরার গল্প নিয়েকত সহজেই না-ফিরেফুল হয়ে থাকা যায়যারা ফেরে নি উড়ার শেষেতাদের পাশ দিয়ে যাইভয় আসেকথা আছে কফি নেব দুজন টেবিলে ফেরার পর ২।সময় কাটানো যায়শুধু তাকিয়ে থেকেতোমার না বলা কথাওরা বলে দেয়তোমার না ছুঁতে পারাওরা ...
  • ভগবতী
    একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর ...
  • শীতের কবিতাগুচ্ছ
    ফাটাও বিষ্টুএবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব সেই মেয়েটার, সেই যারজয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।বাঁয়ে রাখো, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জাদুলণ্ঠন

Writobroto Ghosh

জাদুলণ্ঠন - ১

আমার যখন জন্ম হয় মা তখন অসুস্থ ছিলেন,
তারপর থেকেই আমি ছেলেবেলায় বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকতাম,
মা আমার শুশ্রূষা করতেন কারণ পেশায় তিনি ছিলেন নার্স,
ছেলেবেলা নিয়ে আর কিছু মনে নেই আমার।
বহুবছর কেটে গেছে তারপর
আমি বড় হয়ে গেছি, নাটকদলে যোগ দিয়েছি
ধীরে ধীরে দলের সাথে গড়ে উঠতে উঠতে একদিন
হয়েছি মোশন মাস্টার,
বাবা মা থেকে গেছেন গ্রামে সেখানে আমার যাওয়া হয়ে ওঠে না বড় একটা,
একদিন আমার প্রথম নাটকের শো চলছে নাট্যরঙ্গে
সেদিন ভীষণ বৃষ্টি, ভেসে গে

আরও পড়ুন...

শুক্কুরবারের মহারিলিজ

ওঁ ৬৬

আজ যাকে আপনারা দাঙ্গা বোলছেন, সেসোব আসোলে কোনো দাঙ্গা নয়, বামৈস্লামিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হিন্দুস্তানের সোয়াধীনতা সোংগ্রাম। আজকের দিনে হয়তো দাঁড়িয়ে বলতেন শ্রী মহাগুরু যাদব। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রাম কেন? এই ষড়যন্ত্রের স্বরূপই বা কী? জানতে গেলে দেখতেই হবে এই খুচরো চলচ্চিত্র।
একটা ক্লিক করলেন আর আড়াই সেকেন্ডে ফুস করে শেষ হয়ে গেল, এ বস্তু তেমন নয়। হিন্দুস্তানে বামৈস্লামিক ষড়যন্ত্র অতি সিরিয়াস বিষয়, বুঝতে হলে পাক্কা সতেরো মিনিট একটানা দেখতে হবে। তাই পয়লা এপ্রিলের প্রাক্কালে, সন্ধ্যাহ্নিকের প্

আরও পড়ুন...

অপসৃয়মান শব্দতরঙ্গের হ্রাস পেতে থাকা কম্পাঙ্ক বিষয়ক শোকজ্ঞাপ্তি (Translation from The Doppler Elegies by Ben Lerner)

Writobroto Ghosh

সময়বন্ধনীর মধ্যে লেখাটি শেষ করে ফেলতে
চাইছি। উদ্ভ্রান্ত মৌমাছির দল
এই নিখুঁত বিশ্বে
কমপিউটার গেমস্-এ উইলো প্যাটার্ন বা প্রভাব বলা হয় যাকে - ক্যাটফিসিং।
বৃষ্টির ছাঁটে রেকর্ডিং
এই ফর্মটা বেশ ভালো, চলে যাবে
সাম্প্রতিককালে সবকিছুই, বর্ণিল তারার বর্ণনায়
একটা গোলাকার বিরতি
কণ্ঠস্বরকে খানখান করে চিরে ফেলে তার বিন্যাস
আমি কেন তোমারি কবিতায় সুপ্ত?
কোমল চলচ্ছক্তিহীন ফেটে ফেটে পড়ছি,
যে আপাত জীবন আমরা বেছে নিয়েছিলাম
ড্রপডাউন পর্যায়ণী থেকে
যতগুলো প্রাপ্ত

আরও পড়ুন...

সৌদামিনীর নকশিকাঁথায় আঁকা নকশা থেকে (Translation of : "From the Lichtenberg Figures" by Ben Lerner)

Writobroto Ghosh

অন্ধকার কুড়িয়ে রাখছে শূণ্যতা, শূণ্য হয়ে যাচ্ছে ছাইদান আমাদের ঘরে।
'এভাবে চলবে বরাবর' কথাগুলো ভালো মনে বলেছিলে তুমি?
ছাদের ঢালে সুরভিত বরগার মধ্যে মথ খুঁজে ফেরে মিহি তাজা ধুলো।
নিভিয়ে দাও বা খেই ধরে অগ্রসর হও - যা তোমার মন চাইছে

ডার্করুমের ভেতরের আলো। মানদণ্ডের ক্রমানুসারে, খোদিত অক্ষর বা প্রতীক,
বহ্য এবং তীক্ষ্ণ - ধুত্তেরি একদম ফক্কা। আবার হারিয়ে ফেলেছি। ছায়াখানি পড়ে থাকে শুধু।
দূর থেকে বহুদূর অবধি শেষমেষ। ডার্ক রুমের অন্ধকার
আবার ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাদের।
আগে

আরও পড়ুন...

মানুষ

Prativa Sarker

প্রতিভা সরকার লিখছেন;

তরতাজা ছেলেটার গলায় পোঁচের পর পোঁচ পড়েছিল ধারাল ছুরির। নিয়মিত শারীরিক কসরত করত বলে ওকে মারতে অনেক সময় লেগেছিল ফেজ টুপিওয়ালাদের। ওর দোষ ছিল ভালবাসা। ভালবাসার মেয়েটির ধর্ম ছিল আলাদা। আইনী স্ত্রীর মর্যাদা দেবে বলে মেয়েটির বাবার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছিল ও। এতো স্পর্ধা সহ্য হয়নি ধর্মপ্রাণ পিতার। তাই মা বাবার চোখের সামনে দিল্লীর রাজপথে পোঁচের পর পোঁচে নিথর হয়ে যায় অঙ্কিত সাক্সেনার দেহ।
২)
এই অব্দি পড়ে যারা একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে অকথ্য গাল দেবার জন্য

আরও পড়ুন...

বামৈস্লামিক

ওঁ ৬৬

বক্স অফিস চুরমার করে দিতে, জানা ইতিহাসকে ঘেঁটে ঘ করে দিতে, পাঠ্যবই নতুন করে লেখার দাবী তুলে, এপ্রিল ফুলের আগাম শুভেচ্ছা সহ আসছে মননশীল ঋদ্ধ তথ্যচিত্র বামৈস্লামিক। একটুও গ্যারান্টি না দিয়ে দিয়ে একথা নিশ্চিন্তে বলা যায়, যে, গোদারের পর এভাবে রিয়েলিটিকে কেউ পাছা ওল্টাতে বাধ্য করেননি, ফারেনহাইট ৯১১ ছাড়া আর কোনো তথ্যচিত্র এমন নাটকীয় হয়নি, পথের পাঁচা৯র পর আবহসঙ্গীতের এমন প্যাঁচ আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি। এ জিনিস দেখলে মানব চোখে সর্ষেফুল দেখবে, মানবীর গায়ে কাঁটা দেবে, শিশুর বাসযোগ্য হয়ে উঠবে পৃথিবী, আর

আরও পড়ুন...

মহাজোট

ওঁ ৬৬

এবার মহাজোট। ঁ৬৬এ গুরুচণ্ডা৯র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল। যেমত গাছের ডালে পাখি, এবার ৬৬এ বহন করবে গুরুর প্যাঁচাকে। যেমত জলের মধ্যে মাছ, গুরুতে থাকছে ৬৬এর পাতা। অ্যাদ্দিন মীনগণ হীন হয়ে ছিল সরোবরে। আলাদা আলাদা খোপে ছিল উট ও যাযাবর। এবার তারা সুখে জলক্রীড়া করবে। শহরের সার্কাস ময়দানে খেলা দেখাবে একসাথে। খেলার নিয়ম কানুন খুব মাপজোক করা আছে তা অবশ্য না। ফলত বাঁকা উঠোনের নাম হবে নৃত্যনাট্য, খামারের নাম যৌথ ক্যালোর ব্যালোর। সঙ্গে ভিডিও টিডিও ফ্রি। বলাবাহুল্য, কেলোর কীর্তিও কিছু হতে পারে, কারণ ৯ এর সঙ্গে ৬ যো

আরও পড়ুন...

রামের মুখোশ ও তুলসীমানস

শিবাংশু

ছোটোবেলায় দেখা একটি লোকপ্রিয় সিনেমায় মহানায়কের একটা উক্তি মনে পড়ে। কোনও চাকরির ইন্টারভিউ তে চাওয়া হয়েছিলো প্রার্থী যেন শেক্ষপিরের মতো ইংরিজি, রবীন্দ্রনাথের মতো বাংলা আর তুলসীদাসের মতো হিন্দি জানে। তা মহানায়ককে যখন প্রশ্ন করা হলো, তিনি কী বললেন? হ্যাঁ, আমি জানি। তবে একটু এদিকওদিক। মানে? তাঁর উত্তর, তিনি শেক্ষপিরের মতো বাংলা, রবীন্দ্রনাথের মতো হিন্দি আর তুলসীদাসের মতো ইংরিজি জানেন। হ্যাঁ, চাকরিটা তাঁর হয়ে গিয়েছিলো।
গোস্বামী তুলসীদাস সম্বন্ধে বাঙালিদের ধারণা এর বেশি আর যায়নি কখনও। তবে শুধু তু

আরও পড়ুন...

কৃত্যা

Prosenjit Bose

কৃত্যা : প্রথম পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

যুধিষ্ঠির ক্লেশকম্পিত কণ্ঠে বললেন, "যিনি আকুঞ্চিত নীলকুন্তলা, মল্লিকামুখী, পদ্মনেত্রী ও পদ্মগন্ধা, যিনি মেষপালিকার ন্যায় শেষে নিদ্রিতা ও অগ্রে জাগ্রতা, সেই শ্রীলক্ষণা দ্রৌপদীকে পণ রাখলাম।"

দ্যূতসভা চাঞ্চল্যবিক্ষুব্ধ হল। এ এক অভিনব ঘটনা বটে ! ইতোপূর্বে পতিকর্তৃক পত্নীপীড়ন, পত্নীদান, পত্নীপরিত্যাগ, পত্নীহত্যা ইত্যাদি বহুবিধ কর্ণরোচক সংবাদ প্রাপ্ত হওয়া গেছে। কিন্তু পতিকর্তৃক পত্নীকে দ্যূতের পণরূপে বিঘোষণা -- এটি প্রথম ! প্রকাশ্যে সকলেই উদ্বেগে

আরও পড়ুন...

রোজনামচা

স্বাতী



কলকাতা ও লাগোয়া অঞ্চলে কত বস্তী আছে, তার কত শতাংশ নথিভুক্ত আর কত নয় এ তথ্য গুগল করলেই পাওয়া যায়। পাওয়া যায়না যা তা হলো এই সমস্ত অঞ্চলের দৈনন্দিন সাধারণ সচেতনতার রূপরেখা। বস্তী থেকে চোখ তুলে তাকালেই দেখা যায় বহুতল ইমারৎ, একটু এগোলেই চোখ ধাঁধানো শপিং মল। কিন্তু এই সমস্ত বস্তীতে একটি ব্যবহার যোগ্য শৌচালয় পর্যন্ত নেই। সমস্যা অনেক, তালিকা রইলো

১. স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাব। ন্যূনতম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। কোথাও পাশেই পূতিগন্ধময় খাল তো কোথাও ঘরের সামনেই খোলা নর্দমা, মশা মাছি

আরও পড়ুন...

'দেশপ্রেমিক' সঙ্ঘ পরিবার

Sushovan Patra

- ভাগ্যের জোরে যে রাজনৈতিক দল দেশে ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে তিরঙ্গা জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছেন। দেশের মানুষ কোনদিনই তিরঙ্গা জাতীয় পতাকা কে সম্মান করবে না। ‘তিন’ সংখ্যাটি অশুভ। তিরঙ্গা যতদিন জাতীয় পতাকা থাকবে, ততদিন মানসিক ভাবে খারাপ প্রভাব ফেলবে এবং দেশের ক্ষতি করবে ¹।
কে বলে এমন অলক্ষণে কথা ? ‘দেশদ্রোহী’ কানাহাইয়া কুমার ? ‘পাকিস্তানের স্পাই’ উমর খালিদ ? না ‘চিনের দালাল’ সীতারাম ইয়েচুরি ? আজ্ঞে না ! গণপরিষদ তিরঙ্গা কে জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার প্রতিবাদে, ১৪’ই অগাস

আরও পড়ুন...

পরীছাঁট

ইন্দ্রাণী

রবিবারের বিকেলে শপিং মলের এস্ক্যালেটরের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যান হ্যাথওয়েকে মনে করার কথাই নয় অদিতির। অ্যান হ্যাথওয়ের সিনেমা সে খুব কমই দেখেছে - দুই মেয়ের সঙ্গে প্রিন্সেস ডায়ারি আর হিমানীশের সঙ্গে ডেভিল ওয়ারস প্রাডা দেখেছিল। আর কি একটা সিনেমা দেখতে গিয়ে সং ওয়ানের একটা ট্রেলার- অথচ এই রবিবারের বিকেলে এস্ক্যালেটর থেকে নেমে ঐ ট্রেলারটাই মনে এল অদিতির। এই শপিং মলের উপচে ভরা ভীড়, আলোকোজ্জ্বল বিপণি, এস্ক্যালেটর, স্যান্টা ক্লজ , শেষ বিকেলের রোদ্দুরটুকু, গোটা মল জুড়ে ক্রিসমাসের সাজ-সব ছাপিয়ে সং ওয়ানের অ্যান

আরও পড়ুন...

আমার স্বাধীনতা - দিবস

Muhammad Sadequzzaman Sharif

স্কুল জীবনে স্কাউটিং করতাম। লিডার ট্রেনিং করে টরে একাকার। কিন্তু আমি প্যারেডে গলা ছেড়ে কমান্ড দিতে পারতাম না। মানে ওইটা আমার ভিতরে নাইই। কিন্তু স্কুল তা মানতে চাইত না। তুমি লিডার শিপ ট্রেনিং করে আসছ কাজেই তুমিই আরামে দাঁড়াও, সোজা হও বলে চিৎকার করবা! আমি বুঝাতে পারি নাই যে স্কাউটিং করা এক জিনিস আর প্যারেড পরিচালনা করা আরেক জিনিস। শুধু এই কারনেই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস আমাকে একটা আতঙ্কে ফেলে দিত সেই সময়। (এই আতঙ্কেই আমি কলেজে উঠে রোভার স্কাউটিং এর যোগদানের ফরম হাতে নিয়েও ফেরত দিয়ে দিয়েছিলাম।আমি

আরও পড়ুন...

বাদলা দিনের..

রুকু

তারপর সমস্ত ছড়ানো অপমান কুড়িয়ে নিয়ে মুখোশ বানাতে বসি। খসে যাওয়া পাতার পোষাক সযত্নে চড়িয়ে নিই গায়ে। অনিবার্য খুকি ডাকে সাড়া দিতে ভুলে যাই। চৌকাঠের ওপারে তখন শহরের স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। তুমি জানো, আমার অন্তঃস্থিত নদীর পারে তখন স্রোত বাড়ে, রক্ত চঞ্চল হয়। চোখ তুলে তাকাই না আমি। চৌকাঠে পিঠ ঠেকিয়ে বসি।
বাদরিয়া ঘেরি আয়ি চারহু ঔর কারি..
এই নতুন বাড়িটা ভালোলাগে, আরো ভালোলাগে সব ঘরগুলোয় কেমন তুমি তুমি গন্ধ। অভিমানে সরে থাকি, মায়াটুকু ছেড়ে তুমি এনে দাও অনুপম স্নেহ। আজ যানে কি জিদ না করোর সুরে র

আরও পড়ুন...

ফারহা জারীনের কথা

রাণা আলম

আপনি ফারহা জারীন কে চিনবেন না।চেনার কথাও নয়।তিনি একডাকে চিনে ফেলার মতন কোনো কেউকেটাও নন। এবার যদি আপনি এন্টালি’র বাসিন্দা হয়ে থাকেন বা ওই চত্বর দিয়ে যাতায়াত থাকে তাহলে দেখে থাকতেও পারেন।মেরেকেটে পাঁচফুট উচ্চতা, ক্ষয়াটে চেহারা,কাঠির মতন হাত পা, মাথায় ওড়না। আর কাঁধে একটা পুরোনো ব্যাগ।তালতলা থানা থেকে ডানদিকে যে রাস্তাটা ঢুকে গেছে,তার কিছু অলিগলি পেরিয়ে একটা গলির ভিতরে তিনতলায় একটা দুকামরার ফ্ল্যাটে উনি থাকেন।

দাঁড়ান। এই ‘থাকেন’ শব্দটা সর্বার্থে সত্য নয়। উনি ওই ফ্ল্যাটে থাকেন রাত আটটা থেকে

আরও পড়ুন...

নিজেকে চেনার শুরু

Muradul islam

রাতের শুরুর দিকে আমি গিয়েছিলাম থিয়েটারে, দারুণ সব নৃত্যগীত হবে, হবে সার্কাস ম্যাজিক। নাম জানা অনেক দেশ বিদেশ থেকে এসেছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাদের নাম যশ খ্যাতি দিগন্ত বিস্তৃত। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল আমাদের শহরের রাস্তাঘাট, দোকানপাট। এই কয়দিন এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ছিল মহা উৎসবের আমেজ।

রাত বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ঢল নামল থিয়েটারে। যেন শহর উজার করে চলে এসেছে সবাই।
সিটে বসে আছি আমি, একেবারে পিছনের দিকে। দর্শকদের বিমোহিত করছিল নৃত্যগীত, অভিনয়। আমার হাই উঠল, ঘুম পেল। মনে হলো সব

আরও পড়ুন...

একজন কমলালেবু - শাহাদুজ্জামান

Muhammad Sadequzzaman Sharif

শাহাদুজ্জামানের লেখা একজন কমলালেবু পড়ে শেষ করলাম। জীবনানন্দ দাশের জীবনী বলা যেতে পারে এই উপন্যাসকে। শাহাদুজ্জামান সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নাই। ক্র্যাচের কর্নেল দিয়ে মুগ্ধ করেছেন অনেক আগেই। ক্র্যাচের কর্নেলের পরে অন্য কিছু আর পড়া হয়নি, দুই একটা গল্প বাদে। একজন কমলালেবু দিয়ে তিনি আবার মুগ্ধ করে দিলেন আমাদের। গত বছরের বই, আমার সৌভাগ্য হয়েছে এ বছর পড়ার।

জীবনানন্দ দাশ কে বলা হয় বিশুদ্ধতম কবি। আধুনিক কবিতা যার হাত ধরে পূর্ণতা পেয়েছে। যাকে রবীন্দ্রনাথের পরে বা রবীন্দ্রনাথের সম পর্যায়ের কব

আরও পড়ুন...

ক্যানেস্তারা

Debarati Chatterjee

-দিদিভাই।দিদিভাই। ও দিদিভাই। দিদিভাই। দিদিভাইইইইইইই!
- আঃ! ধাক্কাচ্ছিস কেন?
- ধাক্কা কোথায় দিলাম? চ্যাঁচালাম তো।
- ঐ হলো। আমার কানে ধাক্কা লাগলো।
- তা,আর কি করব?সেই কখন একটা প্রশ্ন করেছি,তুমি জবাব দেওয়ার বদলে তেপান্তরের দিকে তাকিয়ে রয়েছ। রয়েছ তো রয়েইছ।তাই চ্যাঁচাতেই হল। এবার বলতো..
- কি বলব?
- আবার? কী জানতে চাইলাম?
- কী জানতে চাইলি?
- তুমি কি নারীবাদী? মানে ফেমিনিস্ট? নারীবাদটা কি ব্যাপার বলতো?
-......
- আবার চুপ! ঠিকাছে, বলতে হবে না। তুমি আমাকে ওসব আলোচন

আরও পড়ুন...

বিনয় মজুমদারের 'একটি উজ্জ্বল মাছ'-পাঠ প্রতিক্রিয়া

Koushik Ghosh

'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' কবিরা সংবেদনশীল হন। কবিরা দ্রষ্টা হন।যে দৃশ্য অন্যরা সাধারণভাবে দেখেন, সেই 'কেউ কেউ কবি', এ-সব দৃশ্যের অন্তরালে দেখতে পান অন্যতর সত্য। সেই সত্যের ধারাভাষ্য লেখেন তাঁরা।
বিনয় মজুমদার এই ধরনের কবি ছিলেন। চেনা ও আপাত দৃশ্যের আড়ালে ঢাকা সত্য বের করে আনতেন স্বকীয় দক্ষতায়। তাঁর বহুচর্চিত কাব্যগ্রন্থের নাম ' ফিরে এসো চাকা'। 'ফিরে এসো চাকা'র প্রথম কবিতাটি নিয়েই এই সামান্য প্রয়াস, সেটি পড়লে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়:

একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে
দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্

আরও পড়ুন...

সব চরিত্র জ্যান্ত

Debarati Chatterjee

সব চরিত্র জ্যান্ত
............................

দুটি অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে প্রেমে পড়ল। দুজনেই আমার থেকে বয়সে ছোট এবং আমার বন্ধু স্থানীয় ছিল। কলকাতার একটা শপিং মলে দুজনে সেলসে চাকরী পায়। সেই সূত্রেই আলাপ ও প্রেম। ছেলেটা জেলা থেকে আসা, গড়পরতা বাঙালীছাপ চেহারার ছেলে। মধ্যবিত্ত পরিবার কিন্তু অনটন আছে।বাবা মারা গেছে। মা একা যতটা পেরেছে টেনেছে, এবার ছেলে দায়িত্ব নিয়েছে। মেয়েটা ভয়ানক ফর্সা, রূপসী। লেকটাউনে পুরনো বাড়ি। মধ্যবিত্ত পরিবার কিন্তু অনটন আছে।বাবা মারা গেছে।বাড়ি প্রমোটর নিচ্ছে। প্রচু

আরও পড়ুন...

মহিনের ঘোড়া

bilkis mousumi

মহিনের ঘোড়া
মৌসুমী বিলকিস

ঘোড়াটা উড়ছে। ওকে ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। ওর চারপাশে শুধু রঙ। দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে রংগুলো। সবুজ, হলুদ কত রঙ পার হচ্ছে ঘোড়াটি। ধানের খেত, সর্ষে খেত তুলি বোলানো রঙ হয়ে যাচ্ছে কেবল। নাকি আকাশের কোনো রঙ? মনে হচ্ছে ওর ডানাও দেখতে পাচ্ছি। আমি চেঁচিয়ে বলি,

: নিশি, আমাকে নিয়ে চল।

ও মুখ ঘুরিয়ে তাকায়। তারপরেই আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি লাগাম টেনে ধরে ওর পিঠে ওঠার চেষ্টা করি। চেষ্টা করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।

আরও পড়ুন...

সমীকরণে আগুন ফোঁকে কীসে :স্টিফেন হকিং, মহাবিশ্ব, জৈব নশ্বরতা ও অ-নশ্বর জিগীষা

Debasis Bhattacharya

যে ছেলেটা কলেজে পড়ার সময় ভালবাসত বেপরোয়াভাবে নৌকো বাইতে, এবং তা করতে গিয়ে প্রায়শই নৌকোটির বারোটা বাজিয়ে বিস্তর বদনাম কিনত, সে বা অন্য কেউই বোধহয় কখনও ভাবেনি যে, তার জীবনের শেষ দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে সে শুধু নিশ্চুপে বসে মহাবিশ্বের সাথে কথা বলবে মনে মনে । ছেলেটা মানে স্টিফেন উইলিয়াম হকিং, অসাড় দেহ আর অসীম মেধা নিয়ে মহাবিশ্বের দুর্বোধ্যতার সাথে সাপলুডো খেলে যাওয়া সেই অবিশ্বাস্য বিজ্ঞানী । গণিত দিয়ে বিশ্বকে বাঁধতে চাওয়াটা তাঁর বরাবরেরই, কিন্তু ক্রমেই শুকিয়ে এসেছে স্নায়ু আর পেশি, শিকেয় উঠেছে নিজের হাতে অ

আরও পড়ুন...

সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - দশম ভাগ

Anamitra Roy

ডাবের জলটা বেশ মিষ্টি। বহুদিন এতো ভালো ডাব খায়নি অভিমন্যু। স্ট্রয়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছিলো সে। তাকে এখন দেখতে লাগছে গম্ভীর এবং চিন্তামগ্ন। আর থেকে থেকে "হুম" বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে সে। যেন কত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে তার অর্ধোন্মিলিত চোখের সামনে। কত জটলার জট ছাড়িয়ে সে বুঝে যাচ্ছে যেন এরপরে ঠিক কি ঘটতে চলেছে। আসলে গোটাটাই ভাঁওতা। শুভাশীষকে চাপে রাখার উপায়। সে ভাবছে বলতে মূলত ওইটাই --- আহা রে! কি মিষ্টি ডাবের জল! রোজ যদি এরকম পাওয়া যেত!
জলটা শেষ হয়ে যেতে ওইভাবেই না তাকিয়ে কোনোদিকে না ফিরে বাঁহা

আরও পড়ুন...

জর্জের বিশ্ববহ্মান্ডের গোপন চাবি

স্বাতী রায়


জর্জ ফাঁকা শুয়োরের খোঁয়াড়টার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে ছিল আর ভাবছিল যে শুয়োরটা কি এমনি এমনি হাওয়া হয়ে গেল? একবার চোখ বন্ধ করে আবার খুলল - যদি কোন বিচ্ছিরি আলোর কারচুপি হয়ে থাকে! কিন্তু আবার যখন চোখ খুলল , দেখল - নাঃ শুয়োরটা নেই ই. ওর মোটকু গোলাপী রংএর বিশাল বপুটা কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে কি, জর্জ যখন দ্বিতীয় বারের মত ব্যাপারটা খতিয়ে দেখতে গেল, ব্যাপারটা খারাপ থেকে খারাপতর হল। ও দেখল যে খোঁয়ারের পাশের দরজাটা হাট করে খোলা। তার মানে কেউ একজন সেটা ঠিক করে বন্ধ করে নি। আর সেই কেউ একজনটা খ

আরও পড়ুন...

মা হওয়া

স্বাতী রায়

মা হওয়া। একটা আনন্দজনক, মন আলো করা কথা। মাতৃত্ব ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের দেশে যত আলোচনাই হোক, সেটি অর্জনের পূর্ব-মুহূর্তের কথাগুলো কিন্তু ধামাচাপা দেওয়া থাকে। ছিঃ ওগুলো নেহাত-ই ব্যক্তিগত ব্যাপার – ওসব নিয়ে আবার আলোচনা করে নাকি কেউ?

আমিও করতাম না। যদি না এই লেখাটা ( https://qz.com/1177627/assault-and-battery-in-the-delivery-room-the-disturbing-trend-of-obstetric-violence/?utm_source=kwfb&kwp_0=716657) কাকতালীয় ভাবে চোখে পড়তো। মনে হল একটু কথা হোক। নন-আকাডেমিক পরিসরের আলোচনা। আমার শরীর, আম

আরও পড়ুন...

আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস ও পোস্তুবালা।

Prativa Sarker

নাটক নভেলে পুরুলিয়ার নাচনীকে জানা এক কথা, আর নারী দিবসের ঠিক আগে তাদের এক আইকনকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার কেশের নারিকেল তেলের সুবাস নেওয়া, তার জীবনের নানা তোলপাড়ে ভেসে যাওয়া, আর এক।

আমার বাহুবন্ধনে পোস্তুবালা দেবী কর্মকার। নিজে নাচনী , আবার নির্যাতিত নাচনী সম্প্রদায়ের লড়াকু নেত্রী, পোস্তদানার মতোই মহার্ঘ এই নারী। দুর্বার মহিলা সমণ্বয় সমিতি এবং নাচনী সম্প্রদায়ের যৌথ উদ্যোগে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রাণনারী পোস্তুবালার সংগে নাচনীদের সাজঘরে বসে অনেক কথা হল।
আরও পড়ুন...

আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস ও পোস্তুবালা।

Prativa Sarker

নাটক নভেলে পুরুলিয়ার নাচনীকে জানা এক কথা, আর নারী দিবসের ঠিক আগে তাদের এক আইকনকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার কেশের নারিকেল তেলের সুবাস নেওয়া, তার জীবনের নানা তোলপাড়ে ভেসে যাওয়া, আর এক।

আমার বাহুবন্ধনে পোস্তুবালা দেবী কর্মকার। নিজে নাচনী , আবার নির্যাতিত নাচনী সম্প্রদায়ের লড়াকু নেত্রী, পোস্তদানার মতোই মহার্ঘ এই নারী। দুর্বার মহিলা সমণ্বয় সমিতি এবং নাচনী সম্প্রদায়ের যৌথ উদ্যোগে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রাণনারী পোস্তুবালার সংগে নাচনীদের সাজঘরে বসে অনেক কথা হল।
আরও পড়ুন...

‘আহ্বান আসিল মহোৎসবে’

Jhuma Samadder



মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপণে।'
না, কেবল মুখই ঢাকে না। বুদ্ধিশুদ্ধিও ঢেকে যায়। কর্পোরেট জগৎ, বিজ্ঞাপণ জগৎ যখন যে ভাবে আমাদের ভাবাতে চায়, আমরাও সেভাবেই ভেবে চলি।
কবছর আগে ধুঁয়ো তোলা হোলো, 'লেটস্ সেলিব্রেট ওমেনস্ ডে'। আমরাও নেচে উঠলুম।
'চলো।'
'লেটস... '।
‎ওমেনস্ ডে-র হদ্দমুদ্দ করে ছাড়লাম। পথে-ঘাটে নেমে, টেলিভিশনে, খবরের কাগজে জিগির তুলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন জ্বেলে - সে কী রইরই ব্যপার! এমনকি, গয়নার মজুরীতে কিম্বা শাড়ীকাপড়ে ওই দিন 'বিশেষ ছাড়ে'র বন্দোবস্তও করা হল।
আবার এব

আরও পড়ুন...

মালতী, নীতা আর আমি

Kallol Lahiri

দাদা এসে ঘুম ভাঙালো। বিকেল শেষের পড়ন্ত রোদটা সবে আমাদের বাড়ির উঁচু পাঁচিলটা ছেড়ে এবার কন্টিদের ছাদে মিলিয়ে যাবে। “এখোনও ঘুমোচ্ছিস ভাই? বিশালদের বাড়িতে টিভি এসেছে।” দাদার সাথে আমি ছুটি। কিন্তু ঢুকবো কী করে? সামনে যেন সিনেমা হলের মতো ভিড়। তবুও সবাইকে ঠেলে ঠুলে আমি আর দাদা ঢুকে পড়ি বিশালদের বাড়িতে কোনমতে। এককোণে জায়গাও হয়ে যায়। এই প্রথম পাড়ার লোকের সাথে আমি দেখি টিভি। উত্তেজনার পারদ আরো চড়ে যখন একটা সিনেমা শুরু হয়। জানলা থেকে বাদুড় ঝোলা লোক, ঘরের মধ্যে ঠাসা ভিড়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেছে পথ চলতি মানুষ।

আরও পড়ুন...

তিনি আমাদের মেঘে ঢাকা তারা

Kallol Lahiri

https://s14.postimg.org/9nxth9ev5/image.jpg

সারা দিনের কর্মক্লান্ত কলকাতা শহরের রাস্তায় একটি মেয়েকে হাতে গুচ্ছের কাগজপত্র আর একটা কালো ছাতা নিয়ে হাঁটতে দেখতেন পরিচালক ঋত্ত্বিক। মেয়েটি এই শহরের খুব বেশী দিনের বাসিন্দা নয়। মেয়েটি এসেছে তার জন্মভূমি থেকে উৎপাটিত হয়ে এক নতুন শহরে। এসেছে বাবা, মা, দাদা, ভাই বোনদের সাথে। রয়েছে কলোনী এলাকায়। যেখানে মানুষদের মনে দানা বেঁধে আছে স্বাধীনতা মানে দেশভাগ। মনের মধ্যে সেঁধিয়ে আছে নিজের দেশে পর হয়ে যাওয়ার অপমান। সংসারের গায়ে মাটির প্রলেপের মতো হাহাকার ক

আরও পড়ুন...

সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব

Anamitra Roy

প্রথম পর্বের লিঙ্ক - http://www.guruchandali.com/blog/2018/02/26/1519595113328.html

আরও পড়ুন...

জন্মদিনের শুভেচ্ছা গাবো

Kallol Lahiri

'কেমন করে গল্প লিখতে হয়...চিত্রনাট্যের কর্মশালা'য় আমি তখন খুবই মনোযোগী ছাত্র। প্রত্যেকটি গল্প গিলছি হাঁ করে। পাশে খোশ মেজাজে গল্প করছেন গাবো। হ্যাঁ এই নামেই নাকি তোমাকে তোমার ভালোবাসা...ভালোলাগার লোকগুলো ডাকতো। আমিও তো তোমাকে ভালোবাসতাম...। না তোমার মাতৃভাষায় না...আমার মাতৃভাষায়। কিন্তু তাতে কোনো অসুবিধে হতো না। আমার বইয়ের পাতাগুলো বারবার মনে করিয়ে দিতো ভাষা যেন কোনো বাধাই না...। সেটা তো তুমিই দেখিয়েছিলে গাবো, 'নিঃসঙ্গতার একশো বছরে' বরফের ধূসর বিষন্নতায়। তুমিই তো বলেছিলে ছবি দেখে গল্প শেখার প্রক

আরও পড়ুন...

শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের পথ-চলাঃ শ্রমিক-কৃষক মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ

Punyabrata Gun

১৯৯৮-এ আমি, অমিতাভ আর সুমিত ভাবলাম এবার একটা সংগঠন বানানো দরকার, সেই সংগঠন-শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ সোসাইটি হিসেবে রেজিস্টার্ড হয় ১৯৯৯-এর ডিসেম্বরে। আমরা তখন কাজ করি চেঙ্গাইলের শ্রমিক-কৃষক মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। আমি ১৯৯৫ থেকে, অমিতাভ আর সুমিত যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ থেকে।

৯০-এর দশকের গোড়ায় কানোরিয়ার শ্রমিক আন্দোলন যখন তুংগে তখন, শ্রমিকরা ঠিক করেন যে তারা ছত্তিশগড়ের শ্রমিকদের মত এক স্বাস্থ্য কর্মসূচী শুরু করবেন শহীদ হাসপাতালের ধাঁচে। ১৯৯৫-এর ২১শে মার্চ চেঙ্গাইলের বেলতলায় এক পরিত্যক্ত

আরও পড়ুন...

শক্তির একটি কবিতা: পাঠ প্রতিক্রিয়া

Koushik Ghosh

শক্তির কবিতা পড়লে কখনো কখনো মনে হয় ভেতরে বারুদ ঠাসা রয়েছে। অনেকে শক্তির কবিতায় জটিলতা খুঁজে পান, কেউ পান গভীর আস্তিক্য। আমার শক্তি পাঠ করে মনে হয়েছে তিনি ভীষণ প্রশ্ন করতে ভালোবাসেন, আর নিরন্তর উত্তর খুঁজে চলেন। এবং, তাঁর কবিতায় থাকে বিনির্মাণের ঝোঁক। একটি বিখ্যাত কবিতা পড়ে যা মনে হলো লিখছি।

তীরে কি প্রচন্ড কলরব
'জলে ভেসে যায় কার শব।
কোথা ছিল বাড়ি?'
রাতের কল্লোল শুধু বলে যায় -'আমি স্বেচ্ছাচারী।'

সমুদ্র কি জীবিত ও মৃতে
এভাবে সম্পূর্ণ অতর্কিতে
সমাদরণীয়?
কে

আরও পড়ুন...

পাহাড়ের পথে অভিযানের অসুস্থতা ও প্রাপ্তি - পর্ব ১

Gautam Mistri

কেন যেতে চাইবঃ

পাহাড় পর্বতের নীচের দিককার ও মাঝারি উচ্চতার কিছু কিছু অংশে শহরের মানুষ গাঁটের কড়ি ফেলে পৌঁছে যায় খেয়াল খুশি মত। পাহাড়ের দেওয়াল কেটে, ডিনামাইট দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে, পাহাড়ি ঝর্নার উপরে সেতু বেঁধে নয়নাভিরাম সব জায়গা গুলিতে ক্যামেরা নিয়ে পৌঁছে যাবার সুবন্দোবস্ত করা আছে। কিন্তু সেই ভাবে পাহাড় চড়ার একটাই সমস্যা। যে শব্দ ও দৃশ্য দূষণ এবং তার আনুষঙ্গিক বাতাবরণের বিষ-বাষ্প থেকে মুক্তি পাবার আশে পাহাড়ে যাওয়া, বাসে-ট্রাকে-এরোপ্লেনে চেপে সেই দূষণ পাহাড়েও পৌঁছে যায়। ন

আরও পড়ুন...

আমার ভোপাল

Punyabrata Gun

মেডিকাল কলেজে হাউসস্টাফশিপ শেষ করে ভোপালের জন স্বাস্থ্য কেন্দ্র-এ কাজ শুরু করেছিলাম ১৯৮৫-র ২৫শে আগস্ট। ২৮শে আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিলেন জন স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে থায়োসালফেট সরবরাহ করতে।

সায়ানাইড বিষের প্রতিষেধক সোডিয়াম থায়োসালফেট। ২-৩ ডিসেম্বর, ১৯৮৪-র ভোপাল গ্যাস-কান্ডের পরপরই অনেক চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যাস-পীড়িতদের শরীরে সায়ানাইড বিষের প্রমাণ পেয়ে জীবিত মানুষদের সোডিয়াম থায়োসালফেট লাগানোর সুপারিশ করেন। বিরোধিতা করেন ভোপালের সরকারী চিকিৎসকরা, নানাভাবে যাঁরা ইউনিয়ন কারবাইডের প্রস

আরও পড়ুন...

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস~

বিপ্লব রহমান

এই জন্মদিনে ট্রেনে চেপে বাড়ি যাচ্ছি মা'র সংগে দেখা করতে। সেই কোন ছোটবেলায় কয়লার ট্রেনে করে বাড়ি যেতাম! তারপর নানা এসি বাস এল, রাস্তা হলো, ঘাট হলো, উন্নয়ন আর হলো না। বার বার শৈশবের কথা মনে পড়ছে।

খুব ছোট বেলায় একবার দাদুবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। তখন আমার বয়স কত আর হবে, ধরা যাক, ছয় কি সাত। দাদু বাড়ি হচ্ছে সিরাজগজ্ঞের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। তিনি ছিলেন ব্রিটিশের এক জাঁদরেল দারোগা। তার বাড়িটা খুব সুন্দর, একবারে ব্রিটিশ আমলের লাল ইটের খিলান করা একতলা পাকাবাড়ি। বাড়ির সামনে দিগন্তজোড়া সর্ষে ফুলের ক্ষ

আরও পড়ুন...

আজ বিরজ মে হোরি রে রসিয়া...

Abhijit Majumder

আজ বিরজ মে হোরি রে রসিয়া...

বৃন্দাবনের পথে পথে আজ রঙের উৎসব। গত এক মাস যাবৎ পলাশ, অপরাজিতা, গোলাপ ইত্যাদি পুষ্পপত্র শুষ্ক ও চূর্ণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে লাল, গোলাপি, সবুজ ও নীল গুলাল। আর সব কিছুর ওপরে রয়েছে বৃন্দাবনের নয়নমণি পীতাম্বরের প্রিয় হলুদ। হরিদ্রাচূর্ণর ভেষজগুনের জন্যই অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নন্দলাল একে হোরিখেলায় প্রাধান্য দিয়েছেন। চতুরচূড়ামণি জানেন অনুরোধ-উপরোধ-পরামর্শ-তিরস্কারে যে কার্য সিদ্ধি করা যায় না, তাকে রীতি-লৌকিকতায় মিশিয়ে দিলে সহজেই পালিত হয়।

এই সব আব

আরও পড়ুন...

ওষুধের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহারের সংগ্রামে

Punyabrata Gun

পেডিয়াট্রিক সার্জারীর সিনিয়ার হাউসস্টাফ তখন। আউটডোরে একটা টেবিলের তিনদিকে আমরা তিনজন বসতাম—স্যার ডা পি কে সরকার, আরএমও সুমিত্রদা (বিশ্বাস) আর আমি। স্যার রোগী দেখে প্রেসক্রিপশন ডিক্টেট করতেন, আমি লিখে নিতাম। একজন বাচ্চাকে দেখে স্যার যথাযথ মাত্রায় কোট্রাইমোক্সাজোল আর প্যারাসিটামল লিখতে বললেন, লিখলাম। তৃতীয় ওষুধ—একটা টনিক। আমি স্যারের দিকে প্রেসক্রিপশন এগিয়ে দিলাম—স্যার আমি এটা লিখতে পারবো না, আপনি লিখুন। স্যার আমার আপত্তির কারণ বুঝতে পারলেন। সেই রোগীকে টনিক লেখা হল না।

কেবল টনিকই নয়, কা

আরও পড়ুন...

বাংলা কমিক্স ও আমাদের ছোটবেলা

Koushik Ghosh

সবে স্লেট-পেন্সিল থেকে খাতা-পেন্সিলে উত্তরণ হচ্ছে। আঁকাবাঁকা অক্ষরে নিজের নাম লিখি। স্যার রোলকল করলে ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘প্রেজেন্ট প্লিজ’ বলি। আমাদের বাংলা মিডিয়ামে ওইটুকু ইংরিজি-ই বলতাম। সঙ্গে চলছে যোগ-বিয়োগ আর অভিশপ্ত নামতা। একের নামতা আর দশের নামতা সবচে সুন্দর লাগতো। সকলের-ই লাগে। পাঁচেরটাও মন্দ ছিলো না। কিন্তু ঝামেলা পাকাতো বাকি সংখ্যাগুলো, বিশেষ করে পাঁচ এর পরেরগুলো। এরকম ঘোর দুর্দিনে হাতে এসে পড়লো শুকতারা পত্রিকা। কমিক্সে রঙিন বাঁটুল দি গ্রেট, আর শাদা কালোর হাঁদা-ভোঁদা। এলো বেশ স্বস্তি নিয়ে।

আরও পড়ুন...

হর কিসিকো নহী মিলতা ইয়াহা প্যার জিন্দেগী মেঁ

Sutapa Das

আপনার চেয়ে বেশী ভালো করে কেউ বোধহয় বোঝাতেই পারতো না, ভালোবাসা কি, কি রিল কি রিয়েল লাইফে! মৃত্যুতেও এক অনন্য স্বকীয়তা বজায় রাখলেন কিন্তু আপনি, ঠিক ফিল্মি রহস্যময়তায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, অন্তত নিউজ চ্যানেলগুলোর ঘন্টার পর ঘন্টা 'ঠিক কি ভাবে ঘটেছিলো দূর্ঘটনা' শিরোনামের আলোচনা শুনে তো তাই-ই মনে হয়। পরভীন বাবি বিষাদগ্রস্ত ছিলেন শুনেছি, সেই বিখ্যাত পরিচালক কে নিয়ে প্রচন্ড নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগতেন, যা শেষের পথে নিয়ে গিয়েছিলো সেই সম্পর্ক কে। আপনার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাও যেন এক বিষাদপ্রতিমা তৈরী করছিলো আপন

আরও পড়ুন...