বিপ্লব রহমান RSS feed

biplobr@gmail.com
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

বিপ্লব রহমান

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি আদিবাসী গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে মেয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিটুকু পার করাতে পেরেছেন। কিন্তু এরপর? চটপটে পাহাড়ি মেয়েটি এই লেখককে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার লেখাপড়া এখানেই শেষ। এ সময় আমরা শুনতে পাই মোনঘর শিশু সদনের কথা। সেখানে নাকি নামমাত্র বেতনে খুব ভালো লেখাপড়া হয়। এরপর আমি এই আবাসিক স্কুলে এসে ভর্তি হই। এখন এখানে আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছি। মোনঘরের হাত ধরে আমি আরো অনেক দূর এগোতে চাই।’

আদিবাসী অধ্যুষিত খাগড়াছড়ির দীঘিনালার দুর্গম বাঘাইছড়িমুখ গ্রামের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া কিরণ জ্যোতি চাকমার গল্পটি আবার অন্য রকম। বাবার অকালমৃত্যুতে কিরণের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়। এর মধ্যে ওর মা আবার বিয়ে করেন। ছোট্ট কিরণ এর পরও জুমের ক্ষেতে দিনমজুরি করে চেষ্টা করে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে সে চমকে দেয় গ্রামবাসীকে। সবার আগ্রহে অদম্য মেধাবী কিরণের ঠাঁই হয় রাঙামাটির উপকণ্ঠ রাঙাপানির মোনঘর শিশু সদনে। স্বেচ্ছাশ্রমের ব্যতিক্রমী এই আবাসিক বিদ্যালয়ে কিরণ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে জীবন গড়ার।

শুধু দুর্গম গ্রামের গরিব শিশু সুমি তঞ্চঙ্গ্যা বা কিরণ চাকমাই নয়; ওদের মতো ভাগ্যহত হাজারো আদিবাসী পাহাড়ি শিশুকে খুঁজে বের করে ‘মোনঘর শিশু সদন’ করে দিয়েছে আবাসন আর দুবেলা খাবারের পাশাপাশি লেখাপড়ার সুযোগ। স্বেচ্ছাশ্রমের ব্যতিক্রমী এই বিদ্যাপীঠ খুদে শিক্ষার্থীদের ‘মোনঘর’ নৈতিকতার পাশাপাশি জীবনের পাঠও দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘মোনঘর’ নামক চাকমা ভাষার কথাটির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পাহাড়িদের হাজার বছরের জীবনচিত্র ও সংস্কৃতি। জুম চাষের জমিতে আবাদ পাহারা দেওয়ার জন্য অস্থায়ী যে মাচাং (বাঁশের কুঁড়েঘর) তৈরি করা হয় তাকেই বলে ‘মোনঘর’।

প্রায় চার দশকে আবাসিক এই বিদ্যালয়টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে রাঙামাটি ছাড়িয়ে পাহাড়ের বাইরে, এমনকি বিদেশেও। এটিই এখন পাহাড়ের সবচেয়ে বড় আবাসিক বিদ্যালয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি ভাষাগত সংখ্যালঘু পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি যেন নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকেও ধারণ করে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য এই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সদা তৎপর। খেলাধুলা, হাতের কাজ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান, বয়ন শিল্প ইত্যাদি প্রশিক্ষণেও পিছিয়ে নেই এই আনন্দ নিকেতন।

আবার ‘মোনঘরের’ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরাও ছুটিতে শিক্ষাঙ্গনটিতে ছুটে আসেন প্রাণের টানে। বিনা বেতনে তাঁরা খুদে শিক্ষার্থীদের লেখাপাড়ার পাশাপাশি মমতা আর ভালোবাসায় স্বপ্ন দেখান নতুন আগামীর।

এসব কারণে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত স্কুলটির ফলাফল অন্যান্য নিয়মিত স্কুলের তুলনায় অনেক ভালো। গত বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ৯০ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী। আর বরাবরই স্কুলটির মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা থাকছে প্রায় ৮০ শতাংশ। জিপিএ, জিপিএ ৫ ও গোল্ডেন জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

মোনঘরের ইতিকথা : মোনঘর নিয়ে বিস্তারিত আলাপচারিতা হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ঝিমিত ঝিমিত চাকমার সঙ্গে। আড়াই দশক ধরে তিনি এই শিক্ষাঙ্গনকে আগলে রেখেছেন। চার বছর ধরে পালন করছেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব।

তাঁর কাছ থেকে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের উপকণ্ঠে ভেদভেদী ও রাঙাপানি নামে দুটি গ্রামের মাঝখানে ১৭ একর জমিতে ‘মোনঘরের’ আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা ১৯৭৪ সালে। এর আগে ১৯৬০ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষের জমি কর্ণফুলী নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয় প্রায় এক লাখ পাহাড়ি। ১৯৬৩ সালে বৌদ্ধ পুরোহিত জ্ঞানশ্রী মহাথের খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কিছু বিপন্ন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য পাহাড়ি শিশু অনাথ, অসহায় ও ছিন্নমূল হয়ে পড়ে। জ্ঞানশ্রী মহাথেরের প্রেরণায় তাঁরই অনুসারী তিনজন ভদন্ত বিমল তিষ্য মহাথের, ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথের ও ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের এসব শিশুর শিক্ষার ভার গ্রহণ করেন। তিনি রাঙাপানির মিলন বৌদ্ধ বিহারে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মোনঘর’।

দুবেলা খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থায় মাত্র ৩০ জন শিশু নিয়ে তাঁরা বৌদ্ধ ধর্মের জ্ঞানদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দান করেন সাধারণ শিক্ষার পাঠও। তবে তখনো এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না। ১৯৮০ সালে শুভানুধ্যায়ীদের অনুদানে প্রতিষ্ঠা হয় স্কুল ভবন। সেই থেকে ‘মোনঘর শিশু সদন’ যাত্রা শুরু করে আনুষ্ঠানিকভাবে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে এটি উন্নীত হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আগে পাহাড়ে অশান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভারতের ত্রিপুরায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয় প্রায় ৬০ হাজার পাহাড়ি। সে সময় অনেক শিশু-কিশোর হয়ে পড়ে আশ্রয়হীন। এ সময় আবাসিক এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবাসন ও পড়াশোনার জন্য ফি নেওয়া হতো না।

ফরাসি ‘পারটেজ’ নামে একটি উন্নয়ন সংস্থা এর একটি বড় অংশের ব্যয় বহন করত। শান্তিচুক্তির পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের সময় পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড টানা সাত বছর বিদ্যালয়টির জন্য বছরে দুই কোটি টাকা করে ব্যয় করেছে। এরপর স্কুল কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বিদ্যালয়টিকে আর অনুদাননির্ভর রাখা যাবে না। একে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে হবে।

তখন থেকেই স্কুলে চালু হয় শিক্ষার্থীদের আবাসন ও লেখাপড়া বাবদ নামমাত্র বার্ষিক ফি প্রদান রীতি। প্রাথমিক শ্রেণির জন্য জনপ্রতি ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, আর মাধ্যমিকে দুই হাজার ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করে এখন ফি নেওয়া হচ্ছে। হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না।

বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ২৫টি উপজেলার ২৪টি থেকেই ভিন্ন ভাষাভাষী পাহাড়ি শিশুরা এসে ভর্তি হচ্ছে স্কুলটিতে। অজ্ঞাত কারণে শুধু খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা থেকে শিক্ষার্থীরা তেমনভাবে স্কুলে আসছে না। ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যা এক হাজার ৩৬৫ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই আবার কন্যাশিশু।

এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী সাফল্যের সঙ্গে পাস করেছে মোনঘর থেকে। আর এর আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ২৮ জন। এর মধ্যে ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা সরকারি এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠানের অধীনে এখন একটি দোতলা আবাসিক বিদ্যালয় এবং ১২টি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮ জন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় এখানে রয়েছে স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

মোনঘরের চাওয়া : মোনঘরের উদ্দেশ্য কী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক ঝিমিত ঝিমিত চাকমা হেসে বলেন, ‘দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। দুস্থ শিশুদের শুধু শিক্ষিত করা নয়, তারা যেন পাহাড়, প্রকৃতি, নিজস্ব মাতৃভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, তারা যেন দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

কিভাবে যুক্ত হলেন এই স্বেচ্ছাশ্রমের মহান ব্রতে তা জানতে চাইলে ঝিমিত ঝিমিত চাকমা বলেন, “আধুনিক সংস্কৃতির চোরা স্রোতে হারাতে বসা পাহাড়িদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আশির দশকে আমরা ছাত্রাবস্থায় প্রতিষ্ঠা করি জুম এস্থেটিক কাউন্সিল (জাক) নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। মঙ্গল কুমার চাকমা, পবিত্র চাকমা, মৃত্তিকা চাকমা, শিশির চাকমা, শান্তি চাকমা, প্রয়াত সুহৃদ চাকমা ছিলেন এর প্রধান উদ্যোক্তা।

জাকের প্রেরণাতেই লেখাপড়া শেষে ১৯৮৫ সালে যুক্ত হই ‘মোনঘরের’ কাজে। সব সময়ই তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম, তথা দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছি। তাই নামমাত্র সম্মানী আমাদের শিক্ষকতার কাজে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আজ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে মোনঘরের কৃতী শিক্ষার্থীরা। এখন স্বপ্ন দেখি ‘মোনঘর’ একদিন আবাসিক মহাবিদ্যালয় হবে। পরে হয়ে উঠবে এক অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়।”



শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

কর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ না হলে এমন করে এগিয়ে যেতে পারে না কোন প্রতিষ্ঠান। মহাবিদ্যালয় হোক মোনঘর, ঐকান্তিক প্রার্থনা।
Avatar: Sutapa Das

Re: পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

কর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ না হলে এমন করে এগিয়ে যেতে পারে না কোন প্রতিষ্ঠান। মহাবিদ্যালয় হোক মোনঘর, ঐকান্তিক প্রার্থনা।
Avatar: de

Re: পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

অজস্র শুভকামনা রইলো এই প্রতিষ্ঠানের জন্য -


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন