Parthasarathi Giri RSS feed

Parthasarathi Giriএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - ত্রয়োদশ তথা অন্তিম ভাগ
    অবশেষে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অন্তিমভাগে এসে উপস্থিত হয়েছি। অন্তিমভাগ, কারণ এরপর আমাদের তৃতীয় পর্বে চলে যেতে হবে। লেখা কখনও শেষ হয় না। লেখা জোর করেই শেষ করতে হয়; সেসব আমরা আগেই আলোচনা করেছি।তবে গল্পগুলো শেষ করে যাওয়া প্রয়োজন কারণ এই পর্বের কিছু গল্প পরবর্তী ...
  • প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..
    'তারা' আসেন, বিলক্ষণ!ক্লাস নাইনযষ্ঠীর সন্ধ্যে। দুদিন আগে থেকে বাড়াবাড়ি জ্বর, ওষুধে একটু নেমেই আবার উর্ধপারা।সাথে তীব্র গলাব্যাথা, স্ট্রেপথ্রোট। আমি জ্বরে ঝিমিয়ে, মা পাশেই রান্নাঘরে গুড় জ্বাল দিচ্ছেন, দশমীর আপ্যায়ন-প্রস্তুতি, চিন্তিত বাবা বাইরের ...
  • জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান
    Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে, “…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন ...
  • 'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
    'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'ঝুমা সমাদ্দার।ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার ...
  • পাছে কবিতা না হয়...
    এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই ...
  • মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক
    আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় ...
  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?
    মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের ...
  • উন্নয়নের তলায় শহিদদের সমঝোতা
    আশা হয়, অনিতা দেবনাথরা বিরল বা ব্যতিক্রমী নন। কোচবিহার গ্রামপঞ্চায়েতের এই তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দলের বেআব্রু ভোট-লুঠ আর অগণতন্ত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই তামাশায় তাঁর তরফে কোনও উপস্থিতি থাকবে না। ভোট লড়লে অনিতা বখেরা পেতেন, সেলামি পেতেন, না-লড়ার জন্য ...
  • ইচ্ছাপত্র
    আমার ডায়াবেটিস নেই। শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে (যদি কখনো ধরা পড়েও বা, আমি আর প্যাথোলজিস্ট ছাড়া কাকপক্ষীতেও টের পাবে না বাওয়া হুঁ হুঁ! ) হ', ওজন কিঞ্চিত বেশী বটেক, ডাক্তারে বকা দিলে দুয়েক কেজি কমাইও বটে, কিঞ্চিত সম্মান না করলে চিকিচ্ছে করবে কেন!! (তারপর যে ...
  • হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    গরমের ছুটিটা বেশ মজা করে জাঁকিয়ে কাটানো যাবে ভেবে মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো সকাল থেকে। তার আগে বাবার হাত ধরে বাজার করতে যাওয়া। কিন্তু একি গঙ্গার ধারে এই বিশাল প্যান্ডেল...কি হবে এখানে? কেউ একজন সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে বলে গেল “মাষ্টারমশাই...বালীত...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দক্ষিণের কড়চা

Parthasarathi Giri

দক্ষিণের কড়চা

▶️

গঙ্গাপদ একজন সাধারণ নিয়মানুগ মানুষ। ইলেকট্রিকের কাজ করে পেট চালায়। প্রতিদিন সকাল আটটার ক্যানিং লোকাল ধরে কলকাতার দিকে যায়। কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে কোনো কোনোদিন দশটা কুড়ির লাস্ট ডাউন ট্রেন।

গঙ্গাপদ একটি অতিরিক্ত কাহিনির জন্ম দিয়েছে হঠাৎ করে। ইদানিং গঙ্গাপদ ভয় পাচ্ছে না কোনো কিছুতে। কবে থেকে ঠিক এটা শুরু হয়েছে, সে নিজে তো জানেই না, আমরাও জানি না। এই অতিরিক্ত কাহিনির দরুন গঙ্গাপদ ঠিক বিশিষ্ট কোনো চরিত্র হল বলা যাবে না, কিন্তু গঙ্গাপদ একদিন মার খেয়ে গেল।
শিয়ালদা সাউথে নেমে রোজ সে ফ্লাইওভারের তলা দিয়ে গুঁতোগুতি করতে করতে প্রাচী সিনেমার উল্টো ফুটে এসে দাঁড়ায়। এখান থেকে সে সেদিনের গন্তব্যের বাস ধরে।

রোজকার মতো সেদিনও সে ফ্লাইওভারের নিচে সব্জিবাজারের ভেতর দিয়ে গুঁতোগুতি করে এগোচ্ছিল। সব্জির পসরা রাস্তা প্রায় ঢেকেই ফেলেছে। পথটা যেন কেবল যারা সব্জি কিনবে, তাদেরই। চলাফেরা করাটা বাহুল্য।

একজন সব্জিওলা কাঁচা কুমড়োর ডাঁই করেছে। দুটি কুমড়ো গড়িয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। সব্জিওলা দেখছিল বটে, কিন্তু সে চাইছিল, কোনো একজন পথচারী ঠিক তুলে রেখে দেবে। তার পক্ষে সব্জির ডাঁই পেরোনো খুব মুশকিলের।

গঙ্গাপদ কুমড়ো দুটো সটান তুলে নিয়ে নীরবে হাঁটতে শুরু করে। সব্জিওলা হাঁকপাঁক করে তেড়ে আসে। গঙ্গাপদ যদি ক্ষমা চেয়ে নিত, তাহলে গোলমাল হত না। কিন্তু সে ক্ষমা চায়নি। উল্টে সব্জিওলার চোখে সোজাসুজি তাকিয়েছিল। সব্জিওলা 'চোরচোদা' বলে গাল পাড়ে। গঙ্গাপদ তখনও সেই একভাবে কুমড়োর মালিকের চোখে চেয়ে থাকে। সব্জিওলা দোনোমনা করে গঙ্গাপদকে একটি চড় কষিয়ে দেয়। গঙ্গাপদ ব্যাগ থেকে স্ক্রু ড্রাইভার বার করে পোঁদে ঢোকাবার মুদ্রা দেখায়। ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়। লোক জড়ো হয়ে যায়।
কেউ গঙ্গাপদকে চোর ভাবতে পারছে না। অতএব কিছু পথচারি গলা তুললেন, বেশ করেছে নিয়েছে। তোমার বাপের রাস্তা নাকি বে? সব্জিওলা বেগতিক বুঝে ফের সব্জির ডাঁইতে আশ্রয় নেয়। গঙ্গাপদ হেঁটে চলে আসে।

এটা প্রথম দিন। এর পরে একদিন গঙ্গাপদ রাস্তা পেরোচ্ছিল। হিউজ ট্রাফিক সেদিন শিয়ালদায় এবং এলোমেলো। গঙ্গাপদ বেশ কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে সোজা রাস্তা পেরোতে শুরু করে। তখনই একটি বাস থার্ড গিয়ারে তাকে পিষে দেবার মুখে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। বাস কন্ডাক্টর নেমে এসে গঙ্গাপদকে থাপ্পড় লাগায় এবং হিন্দিতে খিস্তি দেয়। 'ভোঁসড়ি কে, উপ্পর জানে কা শওখ হ্যায় কেয়া?'
লোক জড়ো হয় এক্ষেত্রেও। যথারীতি জনতা কিছু পরে গলা তোলে, তোমার বাপের রাস্তা নাকি বে? দেখে চালাবে না?
বাস কন্ডাক্টর বেগতিক বুঝে বাস নিয়ে চলে যায় এবং গঙ্গাপদ হাঁটা দেয়।

এর পরের ঘটনা দুদিন বাদে।

গঙ্গাপদর মোবাইল খারাপ হতে সে একটি মোবাইলের শো-রুমে যায়। তার খারাপ মোবাইলটি দেখায় এবং জানতে পারে এখানে কেবল মোবাইল বিক্রি হয়, সারাই মেরামতি হয় না।

গঙ্গাপদ শোরুমের র্যাকের দিকে তাকিয়ে বিভোর হয়ে যায়। কতরকম বড় বড় সব টাচস্ক্রিন মোবাইল সেট। সে জেনে গেছে ভিড়ের ট্রেনে ভেন্ডারের বগিতে দিব্যি গেম খেলতে খেলতে দীর্ঘ ক্ষুধিত পেটে যাত্রার দিগদারি লাঘব হয়। গঙ্গাপদ পকেট থেকে পাঁচশ টাকার একটি নোট বার করে বিক্রেতাকে দেয় এবং পাঁচহাজারি অ্যান্ড্রয়েড সেট ব্যাগে ঢোকাবার উপক্রম করে। বিক্রেতা যথারীতি তাকে ধাক্কা দিয়ে শোরুম থেকে বার করে দেয়।

গঙ্গাপদ এমন চরিত্রের মানুষ ছিল না। সে গলি দিয়ে যখন যেত বেরোত কেউ তার পায়ের শব্দও পেত না। গোবেচারা মানুষ। অনুক্ষণ সংকুচিত। রাস্তার পাশের ড্রেন ছুঁয়ে ছুঁয়ে হাঁটা অভ্যেস, পাছে সাইকেল ধাক্কা দেয়। গভীর রাতে ফেরার সময় কুকুরের দল যখন তাকে ছিঁড়ে খাবার উপক্রম করত, ছোট ছোট ঢিল ছুঁড়তে ছুঁড়তে যেত।

গঙ্গাপদর স্ত্রী বছর পাঁচেক হল গঙ্গাপদকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। গঙ্গাপদর বীর্যে মরা বীজানু। যে ক'টা জীবিত, তাদের ফ্ল্যাজেলার ঝটকায় তেজ কম বলে, সে পিতা হতে পারবে না। ডাক্তারে নিদান দিয়েছে।

গঙ্গাপদর স্ত্রী সবিতা রানি একদিন ভোরে নিঃসাড়ে পরেশের সঙ্গে পশ্চিমে চলে যায়। পরেশ সোনার দোকানে কোথায় যেন কাজ করে। সে তাকে সুখে রাখবে, নাকে নথ, পায়ে রূপোর চুটকি গড়িয়ে দেবে কথা দিতে সবিতা রানি আর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি। নিজের গুটিকয় শায়া বেলাউজ নিয়ে দোর ভেজিয়ে চলে যায়। পাঁচটি বছর তারপরে চলে গেছে।

গঙ্গাপদর ঘরে একটি বিশাল প্রকট খাট। ঘরের তূলনায় বেঢপ। গোটা ঘরটাকে প্রায় দখল করে নিয়েছে। সবিতা রানির জন্য সে রাজাবাজার থেকে সস্তায় কিনে এনেছিল। বড় দেখেই কিনেছিল সবিতা রানির গরমের ধাত বলে।
যেহেতু মড়ার খাটের কাঠ থেকে বানানো, তাই ঘূণ লেগে গেছে। অনেক জায়গায় একস্ট্রা কাঠ দিয়ে গোঁজাতালি মারা।

খাটের ওপরে তার প্রচুর খুঁটিনাটি যন্ত্রপাতি খবরকাগজ মেলে রাখা। গঙ্গাপদ অধিক রাতে রুটি তড়কা খেয়ে ঐ খাটটির এক কোণায় গুটিসুটি মেরে 'দ' হয়ে শুয়ে পড়ে। যেন অনেকটা সংকোচে, যেন বাড়তি, যেন অযথা, একটি উটকো মানুষ অন্যের শয্যায় সুপ্তির ভিক্ষায় ঢলে পড়ে।

এই অভ্যেসটি তার বহুকালের। সবিতা রানির গরমের ধাত, উপরন্তু মার্চ মাস পড়তে না পড়তে পিঠময় বিজবিজে ঘামাচির জমি। এক নজরে দেখলে একজিমা বলে ভ্রম হবে। লাল লাল ঘামাচিময় খোলা পিঠ দেখে গঙ্গাপদর যখন লিঙ্গ সাড়া দিত, সবিতা রানি ধমকে গঙ্গাপদকে ঘামাচি মারতে ঠেকিয়ে দিত। গঙ্গাপদ সারাদিনের পরিশ্রমে ঢুলে ঢুলে পড়ত। একসময় খাটের একটি কোণায় 'দ' হয়ে অচেতন হয়ে পড়ত।

এই খাট থেকে তার রোজকার উঠে যাওয়া এবং ফিরে আসা।

গঙ্গাপদ কয়েকদিন আগে একটি এন জি ও-তে ইলেকট্রিকের কাজ করছিল। ভেতরের লনে কতকগুলো অটিস্টিক বাচ্চা ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে টলমল পায়ে। গঙ্গাপদ কাজ করতে করতে আড় চোখে দেখছিল। বেঞ্চে বসে থাকা বাচ্চাগুলোর বাবা কিংবা মায়ের চোখে মুখে অসীম ক্লান্তি। শরীরময় কী যেন এক অবলা কষ্টের ছায়া গঙ্গাপদ দেখতে পাচ্ছিল, সে বুঝিয়ে বলতে পারবে না।

সেদিন প্রথম গঙ্গাপদ নিজের ভেতরে কাকে যেন টের পায়। সে হঠাৎ গিয়ে একটি বাচ্চাকে কোলে তুলে নেয়। বাচ্চাটির ঠোঁট থেকে লালা ঝরে ঝরে জামার সামনের দিকটা ভিজে গেছে। দুধ খেয়েছিল বোধহয়। দুধের গন্ধ গঙ্গাপদর নাকে লাগে। গঙ্গাপদ বাচ্চাটাকে জড়িয়ে চুমু খায়।

বাচ্চার মা দৌড়ে আসে হাঁ হাঁ করে, যেমন কোনো কুকুর-মা তার শাবককে কেউ ধরতে এলে আগলে আড়ালে নিয়ে যেতে চায়। বাচ্চাটিকে তার মা গঙ্গাপদর থেকে কেড়ে নেয় ভর্ৎসনার চোখে। যেন গঙ্গাপদর গা থেকে জীবানু চলে যাবে বাচ্চাটির গায়ে।
এই সব কান্ডে বাচ্চাটা কাঁদতে শুরু করে অদ্ভুতভাবে ঠোঁট বেঁকিয়ে মাথা হেলিয়ে। গঙ্গাপদ মাথা নিচু করে চলে আসে।

মাথা নিচু করে চলে আসে বটে, কিন্তু গঙ্গাপদর মাথার ওপর থেকে যেন একটা সামিয়ানা খুলে যায়। যেন কতকালের আঁশ ডোকলা বাকল নদীর বুকে জন্মানো পুবালি বাতাসের স্রোতে ঝরঝর করে মাটিতে ঝরে পড়ে যায়।

কতদূর যেতে পারো তুমি গঙ্গাপদ? অনেকটা পারো না? হ্যাঁ, পারি তো। কেন পারব না? নেই আর আছে, যে আছে সে কেমন আছে? সে যদি অটিস্টিক হয়? বাবা গো, মা গো, ও বাবা, ও তুমি মা, তোমরা ঘিরে ঘিরে আছো হৃৎপিন্ডকে? আমিও কি তবে ঘিরে থাকব আমার প্রিয় অক্ষমকে?

গঙ্গাপদ শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরছে। গলির আকাশে সজনে গাছের ফাঁকে ফাঁকে নীল নিঃসীম চাঁদ। পৃথিবীর একাকী বিরহের প্রিয়। গঙ্গাপদ চোখ তুলে দেখে সজনে গাছের ফাঁকে অতিরিক্ত অনেক গঙ্গাপদ। যেন বিচ্ছুরিত বিকশিত পুংবীজে অযুত অর্বুদ সজনে ফুলেরা।

কুকুরেরা আজ চুপ। লেজ নেড়ে নেড়ে গঙ্গাপদর পায়ে গা ঘষে। কী দেবে গো তুমি? যা দেবে, তার চেয়ে বেশি দেব বলে এই যে ঠোঁট ঘষছি তোমার গায়ে। এই তো আমি গো। এই তো আমি আর অসংখ্য টুকরো টুকরো অপূর্ণ তুমি। এই সব নিয়ে প্রতিদিনের ঘরে ফেরা। এই সব নিয়ে ফের কালকের বেঁচে ওঠা। চোখে জল কেন তোমার? আমাকে সোহাগ করো, আনন্দম্ আনন্দম্।

গঙ্গাপদ এই গভীর নিশীথে একা সজনে গাছের চাঁদের নিচে মুখ ঢেকে কেঁদে ওঠে। সে কান্না বুঝি কোনোদিন থামবে না। কুকুরেরা সপ্ত ঋষির মতো সামগানে তাকে ঘিরে ঘিরে নৃত্য করতে থাকে।

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: দক্ষিণের কড়চা

......
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: দক্ষিণের কড়চা

একদা ফরিদা অনেকটা এরকম লিখেছিলেন:
" জানি, ভালবাসা পেলে সব হবে!"

গংগাপদ বৃত্তান্ত পড়তে পড়তে সেই কথাটি মনে পড়লো! 💔
Avatar: pi

Re: দক্ষিণের কড়চা

'গঙ্গাপদ শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরছে। গলির আকাশে সজনে গাছের ফাঁকে ফাঁকে নীল নিঃসীম চাঁদ। পৃথিবীর একাকী বিরহের প্রিয়। গঙ্গাপদ চোখ তুলে দেখে সজনে গাছের ফাঁকে অতিরিক্ত অনেক গঙ্গাপদ। যেন বিচ্ছুরিত বিকশিত পুংবীজে অযুত অর্বুদ সজনে ফুলেরা।'


গঙ্গাপদদের মত সাধারণ ছোটখাটো লোকদের মধ্যে থেকে এই অতিরিক্ত অনেক গঙ্গাপদ বের করে আনতে পারার কলমের জন্য মুগ্ধতা রইল।


কিন্তু আপনার লেখাগুলোর আলাদা নাম থাকবে না ?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন