সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • চলো এগিয়ে চলি 2
    #চলো এগিয়ে চলি 2#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যবিবর্তনের ঠিক কোন জায়গায় মানুষ কথা বলতে শিখেছে আমার জানা নেই।তবে আগুনআবিষ্কারের চেয়ে এর গুরুত্ব কিছু কম নয়।মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম জায়গাকথা বলা।A person with Autism Spectrum দের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কথা ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যদ্রোণাচার্...
  • একটি বই, আর আমার এই সময়
    একটি বই, আর আমার সময়বিষাণ বসুএকটি আশ্চর্য বইয়ে বুঁদ হয়ে কাটলো কিছু সময়। দি রেড টেনডা অফ বোলোনা।প্রকাশক পেঙ্গুইন মডার্ন। দাম, পঞ্চাশ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকা।বোলোনা ইতালির এক ছোটো শহর। শহরের সব জানালার বাইরে সানশেডের মতো করে মোটা কাপড়ের ...
  • রবি-বিলাপ
    তামুক মাঙায়ে দিছি, প্রাণনাথ, এবার তো জাগো!শচীন খুড়ার গান বাজিতেছে, বিরহবিধুর।কে লইবে মোর কার্য, ছবিরাণী, সন্ধ্যা রায়, মা গো!এইক্ষণে ছাড়িয়াছি প্রিয়ঘুম, চেনা অন্তঃপুর।তুহু মম তথাগত, আমি আজ বাটিতে সুজাতা।জাগি উঠ, কুম্ভকর্ণ, আমি বধূ, ভগিনী ও মাতা।তামুক সাজায়ে ...
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বসন্ত এসে গেছে

শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত।এমনিতে কলকাতা শহরে বাজি ছাড়া আর বিশেষ কিছু ফুটতে দেখা মুস্কিল। এমনকি মানুষও কোন খবর ছাড়াই হঠাৎ করে ফুটে যায়, অতএব এ শহরে ফুল ফুটতে দেখার প্রশ্নই আসে না। তবু কোথা থেকে যেন একটা বসন্ত এসে গেছে। রাস্তাঘাটে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, বাঁদুরে হরেক রঙ মেখে ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ানো কলেজ ছাত্রছাত্রীর দল জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে। ফলত ছবি তুলিয়ে আর হতে চাওয়া চবি তুলিয়েরা ডিএসএলআর নিয়ে বেরিয়ে পরেছে শান্তিনিকেতন বা অন্ততপক্ষে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির উদ্দেশ্যে। বেরিয়ে পরেছে সেখানে কোথাও কোন

আরও পড়ুন...

ফড়িং

Zarifah Zahan

দুপুরের খাওয়ার পর আম্মি একটা মাদুর পাতত খড়খড়ি মেঝের ওপর। শুকনো, শক্ত মেঝে, কীসের তৈরি মনে নেই তবে লাল বা ছাই কোনো সিমেন্টেরই প্রলেপ ছিলনা তাতে : যেন কত জন্মের দুঃখ বুকে গেঁথে কঠিন বটের ঝুরির পেছনে লুকিয়ে থাকা পলেস্তরাখসা রাজমন্দির দাঁত ভেঙে পড়ে আছে। মাদুরের ওপর ক্লান্ত শরীরখানা এলিয়ে দিলে আপনিই ঘুম নেমে আসত আম্মির চোখে। আমি অবিশ্যি শুতাম পাশে, আম্মির আঁচলে মুখ ডুবিয়ে তাল পাতা হাতপাখার শরীর ভেদ করে মিহি হাওয়ার আবেশ নেব বলে। চৈত্রের দুপুরে লোডশেডিং ছিল সেকালের স্থাবর সম্পত্তি। আমার যদিও সে হওয়াছা

আরও পড়ুন...

শিক্ষানবীশ

শক্তি দত্তরায় করভৌমিক

বুড়ো নিধুরাম আজকে খুব নিষ্ঠার সঙ্গে গাছকালীবাড়িতে পুজো দিয়েছে। সোয়া পাঁচআনার নকুলদানা আর প্রসাদী বেলপাতা লাল সালুর রুমালে বেঁধে নিয়ে এসেছে। নিধুর বড়ছেলে নুটু স্নান করে শুদ্ধভাবে বাটিতে তেল আর কালি গুলছে। নুটুর বৌ বিরিঞ্চির মা রঙ্গময়ী কালো একটা জাঙিয়ার ফুটোফাটা যত্নে সেলাই করছে। সন্ধ্যেবেলা সবাই স্নান করে তুলসীতলায় বাতাসা দিয়ে হরির লুঠ দিয়েছে। আজকে এই প্রজন্মের প্রথম সন্তান তেরো বছরের বিরিঞ্চি কাজে বেরোবে। তার সঙ্গে বিরিঞ্চির পিতৃবন্ধু সিঁদেল হরি।
এলাকার নামকরা চোর নিধুরাম। এইদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়

আরও পড়ুন...

সেটা কোনো কথা নয়

Anamitra Roy



নওলকিশোরের প্রবল জাত্যাভিমান। মানে ব্যাপারটাকে জাত্যাভিমান হয়তো বলা যায় না ঠিক। তবে কিনা তার হেব্বি গর্ব। তার বংশপরিচয়, তার ছোড়দাদুর গানের গলা, তার দূরসম্পর্কের পিশেমশাইয়ের পি এইচ ডি, তার নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মামার আঁকার হাত, তার বাবার খুড়তুতো ভাইয়ের জার্মানির স্থায়ী ঠিকানা, তার নিজের বোধশক্তি ও বিচক্ষণতা --- মানে একটা তো জায়গা চাই থামবার! এরকমটা হলে কার নাক আর ছোট থাকতে পারে! দোষটা মোটেই নওলকিশোরের নয়! সে বহুবার ভেবে দেখ

আরও পড়ুন...

জেঠু

Koushik Ghosh

প্রায় প্রত্যেক ক্লাশেই একজন মামা, জেঠু, কাকা বা দাদু থাকে। কে এই নাম দেয়, কি তার জেনেসিস, তা বেশ কুয়াশায় ঢাকা। তবে এই পরিবারতান্ত্রিক নামগুলি এত জনপ্রিয় হয় যে এদের আসল নাম ও পদবী বন্ধুরা একসময় ভুলে মেরে দেয়। প্রচলিত ডাকনামেই নামডাক হয় ইঁহাদের। ক্রমে ক্রমে বার্তা রটিয়া যায়, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক। ধীরে ধীরে নিজ-ক্লাশ ছাড়িয়ে, এই সমস্ত পারিবারিক নিকনেম, উঁচু, নীচু ক্লাশ ছাড়িয়ে, গোটা স্কুলে ছড়িয়ে যায়।

জেঠু নামে যার কথা বলছি সে ঈষৎ গাম্বু-প্রকৃতির। সে ক্লাশটিমের স্টপার পো

আরও পড়ুন...

লীন তাপ

Koushik Ghosh

ক্লাশ নাইন-ই হবে। লক্ষ্মণবাবু চশমার একটা ডাঁটিতে আঙুল দিয়ে তুলে, স্বাভাবিক মুদ্রাদোষে, প্রশ্ন করলেন: ‘লীন তাপ বলতে কি বোঝো?’ পরক্ষণে, একটু থেমে, আবার প্রশ্ন: ‘কে বলবে?’

আমার পাশে যে সহপাঠী বসে ছিলো সে প্রশ্ন শুনে কেমন একটা উশখুশ করছিলো। সে হঠাৎ হাত তুললো। গোটা ক্লাশ অবাক। যার কথা বলছি সে পড়াশুনোয় ভালোও নয়, খারাপও নয়, কথা সেটা নয়; কিন্তু, সে, সচরাচর প্রশ্ন শুনে উত্তর দেওয়ার জন্য হাত তোলে না।

তারপর, ধরা যাক, তার নাম- কৃষ্ণেন্দু; তো, কৃষ্ণেন্দু দাঁড়ালো, লক্ষ্মণবাবু তার দিকে তাকালে

আরও পড়ুন...

দক্ষিণের কড়চা

Parthasarathi Giri

দক্ষিণের কড়চা

▶️


ভুবন মাঝি নাকি আত্মহত্যা করেছিল। ভুবন মাঝি কি আত্মহত্যা করেছিল? ভুবন মাঝি কি সত্যি মরে গেছে?

'তুমি বেধবা হইছ বলে কি আমি নাও বাওয়া ছেড়ে দেব?' গভীরতম রাতটিতে লক্ষ্মী বাগদিকে এই ছিল ভুবনের কথা।
'তোমাকে আমি কী দিয়া বাঁধি বলত?' লক্ষ্মী কোমরের লুঙিটা ঈষৎ নামিয়েছিল এবং তখন তার নাভিমূলে হাঁসুয়ার ভাঁজ।


নিতাই যখন হুপিং কাশিতে শেষদিন কেঁপে কেঁপে উঠছিল, গলায় নীল সাপের মতো মরে যাওয়ার ভয় পেঁচিয়ে গেছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তখন তালা ঝুলছে।

আরও পড়ুন...

আমার না-ছোঁওয়া প্রেম

Kallol Lahiri

অমরদার সবজি দোকানে নোনা ধরা দেওয়ালে দক্ষিণেশ্বরের মা কালীর ছবির পাশেই থাকতো রামকৃষ্ণ, সারদা মা, মিঠুন, ব্রুসলি, অমিতাভ আর তার পাশেই এক সুন্দর মহিলার মিষ্টি হাসি মুখের ছবি। যেন ঠিক ওপাড়ার বুলিদি। এর আগে তো ছবিটা দোকানে দেখিনি। ওই ছবিটা কার গো? জিজ্ঞেস করলেই কটমট করে তাকায় অমরদা। দোকান খোলার সময় কারো সাথে সে কথা বলে না। যতক্ষণ না তার ঝাঁট দেওয়া হচ্ছে। দোকানের সামনে জল ছেটানো হচ্ছে। ঠাকুরের থালায় বাতাসা দেওয়া হচ্ছে। অন্তত মিনিট পাঁচেক দেওয়ালের ছবির সামনে ধূপ নিয়ে বিড়বিড় করা হচ্ছে। সবটা হয়ে যাওয়ার প

আরও পড়ুন...

রিফিউজিদের ঠিকানা হয় না

শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায়

যুদ্ধবিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অসংখ্য মানুষ রিফিউজি হয়ে যান প্রতিবছর। তারা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরেন একটা ঠিকানার খোঁজে।আদতে রিফিউজিদের কি কোন ঠিকানা হয়? কোথাও তাদের সন্তান সন্ততিদের লোকে কোথাও মোহাজির বলে না তো? কিংবা কোথাও হয়তো পিঠের কাঁটাতারের দাগ খোঁজে।
আল আমনা একজন সিরিয়ান রিফিউজি, যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়া থেকে হাজার হাজার মানুষ জীবনের খোঁজে ছড়িয়ে পরেছেন, ইওরোপে, এশিয়ায়। তাদেরই একজন আল আমনা, তার অস্ত্র ফুটবল। সে অস্ত্র বারবার মাথা কোটে গোলমুখে, ফিরে আসে একবার দুবার তিনবার তারপর কখনো কখনো হয়ত

আরও পড়ুন...

একা হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশ বছর

Kallol Lahiri

“আমার চারপাশে ঘন অন্ধকার। নিকষ কালো অন্ধকার। আমি দাঁড়িয়ে আছি একটি আলোকিত বৃত্তের মাঝখানে। পরিক্রমা করে চলেছি একটি উজ্জ্বলতম পটভূমি। আমি জানি, স্থির জানি, এই আলো, উজ্জ্বলতা কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়। সেই আলো যে কোন মুহূর্তে নিভে যেতে পারে। আমাকে নিক্ষেপ করতে পারে আরও গভীরে। গভীরতর অন্ধকারে। অথচ আমার চারপাশের এই ঘন অন্ধকারের ওপারেই আছে বিরাট এক আলোর জগৎ। সে আলো মেকী নয়। কৃত্রিম নয়। সেই আলোর জগৎ থেকেই আমার আসা। এসেছিলাম অনেক অন্ধকার পেরিয়ে। কী ভয়ঙ্কর সেই অন্ধকারের মূর্তি।” (আমার আমি/ উত্তম কুমার চট্টোপা

আরও পড়ুন...

আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

Farha Kazi

ঘটনা এক:

তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছি। কলেজের জেরক্স সেন্টারে নোটস জেরক্স করতে গেছি। বকবক করা স্বভাব আমার। অতএব খুব কম সময়েই আলাপ করে ফেললাম সেন্টার দাদার সঙ্গে।
বেশ খানিকক্ষণ গল্পের পরে দাদা নাম জিজ্ঞাসা করলো। নাম শুনে প্রতিক্রিয়া ছিলো “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় না যে তুমি বাঙালী নও।”
আমি খুব বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম “আমি বাঙালী নই তো কি তবে?
ধর্ম আর ভাষা গুলিয়ে ফেলবেন না। বাংলা ভাষার জন্য কত মুসলিম ছেলে প্রাণ দিয়েছে জানেন? বাংলায় যারা কথা বলে, বাংলা যাদের মায়ের ভাষা তারা সবাই বাঙালী। ব

আরও পড়ুন...

আমার ব্যথার পূজা

Sutapa Das

ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে আমার সহন ক্ষমতার জন্যে বাহবা পেতে পেতে ধরেই নিয়েছিলাম যে আমার কান ধরে ওঠবোস করাতে পারে এমন অপারগতা কখনো তৈরী হবে না শরীরের ভূগোলে? চলতে গিয়ে যে মানুষ ভরসা হারিয়েছে নিজের ছায়াতেও, চিকিৎসককে সে বিশেষ মান্যিগন্যি করবে না স্বাভাবিক। নিজের শরীর থেক

আরও পড়ুন...

বইমেলা নোটবই

Subhadeep Gangopadhyay

উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরু

ষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর এক হওয়া নিয়েই মোটামুটি ঘন্টা তিনেক পার হয়ে যেত আর কি। তা আজকাল হিন্দি ছবির নায়ক নায়িকারা কুম্ভ মেলায় যায় না, তাদের যাওয়ার জন্য ইওরোপ আম্রিগা আছে আর আমাদের কাছে ওই হারিয়ে পাওয়ার জন্য কিঞ্চিৎ উল্টোপাল্টা সংস্করণ হয়ে টিকে আছে বইমেলা। বই

আরও পড়ুন...

ভাসাইলি রে

Debarati Chatterjee

মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে একবার অন্তত শহরটা ঘুরতে পারেন। কতটা কি বদলেছে জানতে চাইছিলেন। হঠাৎ বললেন, যদি দুর্গা পুজোর সময়ে হত তাহলে খুব মজা হত। নিজেদের সংস্কৃতিকে আরও কাছে পাওয়া যেত।আমিও দ্বিগুণ উৎসাহে বললাম, তাতে কি? ভাষা দিবস আছে তো চারদিন বাদেই। খবরের কাগজে চোখ রাখবেন, দেখ

আরও পড়ুন...

সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ

souvik ghoshal

বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে নস্যাৎ করার কাজটা আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে শুরু করেছিলেন ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং। ১৯১৮ সালে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার নদীয়া সাহিত্য পরিষদের সভায় একটি বক্তৃতা দেন। সেটি তারপর ছাপা হয় সবুজপত্র পত্রিকায়। “বাঙলা ভাষার কুলজী” নামক সেই অতি গ

আরও পড়ুন...

রক্তকরবী, অল্প কথায়

রুকু

মানুষের স্বতস্ফুর্ততা যখন মরে যায় তখন যন্ত্রে আর মানুষে তফাত থাকে কই! একটা ঘোর মেক্যানিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে আবর্তিত হয় তার দৈনিক যাপন, বাকি সমাজের সাথে সম্পর্ক হয় অ্যালগোরিদিমিক্যাল। কাজের সূত্রে সে কথা বলে আবার ঢুকে যায় নিজের মৃত চামড়ার খোলসে।
ঠিক যেন এই মানুষ গুলোর মতই শিলঙের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রবীন্দ্রনাথ দেখেছিলেন লোহার বিমের তলায় থেঁতলে থাকা টকটকে লাল করবী ফুল সহ ডাল। আবার এই মানুষদের মধ্যে কিছু মানুষ থেকে যায় যারা অপ্রেশানের মধ্যেও মাথা তুলে শ্বাস নেয়, ঐ ডালের মধ্যেই কিছু ফুলের মত,

আরও পড়ুন...

একাত্তরের দিন গুলি

Kallol Lahiri

কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা ঢাকার রাস্তায় কণিকা নামের একটা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে। আসলে আমরা খুঁজছিলাম একটা ফেলে আসা সময়কে। একটা পরিবারকে। যে বাড়িটা আসলে ব্লাইন্ড লেনের এক্কেবারে শেষ সীমায়। যে বাড়ির গলি আঁধার রাতে ভারী হয়েছিল পাকিস্তানী মিলিটারী বুটের আওয়াজে। যে বাড়িতে এক মা অপেক্ষা করে গেছেন ছেলের জন্যে। স্বামীর জন্যে। কিন্তু তাঁরা আর কেউ ফিরে আসেননি কোন দিন। দোতলায় উঠতে ঢুকেই একটা প্রশস্ত ঘর। একটা খাট। রেফ্রিজারেটার। বইয়ের আলমারী। গানের ক্যাসেট। দেওয়াল জুড়ে মিষ্টি হাসির রুমী। তার জা

আরও পড়ুন...

#পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা

স্বাতী রায়

#পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা

আশালতা দেবী / আশালতা সিংহ
১৯১১-১৯৮৩

আগেকার দিনের মহিলা লেখকদের নিয়ে আমার একটু বিশেষ কৌতূহল আছে। এঁরা হয়তো ভাষা বা ফর্ম নিয়ে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন নি, কিন্তু সহজ ভাবে একটি নিটোল গল্প বলার যে কাজটা সেটা বেশিরভাগই বেশ নিখুঁত ভাবে করেছেন। আর বেশিরভাগ জনের লেখায় তখনকার সমাজের, বিশেষত অন্দরমহলের বেশ একটা অন্তরঙ্গ ছবি পাওয়া যায়। তাই কিছু বছর আগে কখন বই মেলায় "আশালতা সিংহের গল্প সংকলন" হাতে পেলাম, কিনে নিতে দ্বিধা করি নি। দেজ এর ২০০৭ র বই। অভিজিত স

আরও পড়ুন...

হিমুর মনস্তত্ত্ব

Muradul islam

সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে বলে মনে হয়, কিন্তু সে কখনো তা স্বীকার করে না, এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে সে রহস্যময় হাসি হাসে।

এই চরিত্রের প্রায় গল্পই সম্ভবত হিমুর নিজস্ব বয়ানে লেখা। হিমুর পোশাক হলুদ পকেটবিহীন পাঞ্জাবি, খালি পায়ে সে হেঁটে বেড়ায়, এবং সে রাতে হাঁটে, সে অদ্ভু

আরও পড়ুন...

এক অজানা অচেনা কলকাতা

Arijit Guha

১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের আদায় কাচকলায় সম্পর্ক।দুর্ধর্ষ আরাকানদের মোগলরা কিছুতেই পরাজিত করতে পারে নি।রণতরীটি চট্টগ্রামে গিয়ে অন্য ডিভিশনের সেনাদের সাথে যোগ দেবে।তার কারন ব্রিটিশদের সাথে মোগলদের বাঙলাপ্রদেশ নিয়ে এক স্বার্থের সংঘাত ঘটেছে,সেই সংঘাত মেটাতেই ব্রিটিশরা আরা

আরও পড়ুন...

ভারতবর্ষ

Arijit Guha

গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলায় ঠাকুমার সাথে বাজারে গেলেই মন্দিরের ঘন্টা বাজিয়ে আসতাম।চরণামৃতর সাথে দুটো নকুল দানা ছিল ফ্রি।নতুন কেউ বাজারে এলে চট করে মন্দিরটা খুঁজে পাবে না।মেন এন্ট্রান্স দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে গেলে প্রথমে মাছের বাজার পড়বে।মাছের বাজার ছাড়িয়ে সবজি বাজারের দিকে একটু এগোলে বাঁ দ

আরও পড়ুন...

A room for Two

রুকু

Courtesy: American Beauty

It was a room for two. No one else.They walked around the house with half-closed eyes of indolence and jolted upon each other. He recoiled in insecurity and then the skin of the woman, soft as a red rose, let out a perfume that he could sense all around the place.The sweet nothings were in whispers when their eyes met, they could hear each other's thoughts flowing like a gushing stream.
At Eclipse, the ecstatic episodes of passion would bring down the cold

আরও পড়ুন...

মিতাকে কেউ মারেনি

শারদ্বত

২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো লেখার লিঙ্ক কমেন্টে রইল) সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের পাশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন বলেই গণমাধ্যম সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং, অবশেষে, প্রশাসনের টনক নড়ে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ১৭ই অক্টোবর সিআইডির হাতে মিতার হত্যা মামলার দায়ভার তুলে দেন, এবং পরিবারের একজনক

আরও পড়ুন...

আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি- ২

রুকু

আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে বেঁধে রেখেছ তুমি
মায়া নামক মোহিনী বিষে...

অনেক দিন পরে আবার দেখা। সেই পরিচিত মুখের ফ্রেস্কো। তখন কলেজ স্ট্রিট মোড়ে সন্ধ্যে নামছে। আমি ছিলাম রাস্তার এপারে। সে ওপারে মোহিনিমোহনের সামনে। জিন্স টিশার্টের ওপর আবার নীল হাফ জ্যাকেট। দেখেই এমন ভাবে হেসে হাত নাড়লো..

- "এতো জ্বর নিয়ে কেউ বেরোয়? আমি জ্বর হলে থ্রিলার পড়ি শুয়ে, আর ব্ল্যাক কফি খাই।"

-"বয়সে তুই আমার থেকে অনেক ছোট তাই এসব করিস। বয়স বাড়লে জ্বর অন্য ভাবে সেলিব্রেট করতে হয় প্রিয় বালিকা। আসলে সব

আরও পড়ুন...

লেখক, বই ও বইয়ের বিপণন

Dibyendu Singha Roy

কিছুদিন আগে বইয়ের বিপণন পন্থা ও নতুন লেখকদের নিয়ে একটা পোস্ট করেছিলাম। তারপর ফেসবুকে জনৈক ভদ্রলোকের একই বিষয় নিয়ে প্রায় ভাইরাল হওয়া একটা লেখা শেয়ার করেছিলাম। এই নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে বেশ কিছু মতামত পেয়েছি এবং কয়েকজন মেম্বার বেক্তিগত আক্রমণ করে আমায় মিন স্পিরিটেড বা আপনার এত ফাটছে কেন বলতে দ্বিধা করেননি।
নিজের লেখা ও পরে ভদ্রলোকের শেয়ার করা লেখা পড়ে মনে হয়েছে যারা পক্ষে , বিপক্ষে ও বেক্তি আক্রমণ করেছেন তাদের অনেককেই ব্যাপারটা আরেকটু ভালো ভাবে বোঝানো দরকার।
আসলে অল্প বইপত্র পড়ি ও বিভ

আরও পড়ুন...

পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

বিপ্লব রহমান

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি আদিবাসী গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে মেয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিটুকু পার করাতে পেরেছেন। কিন্তু এরপর? চটপটে পাহাড়ি মেয়েটি এই লেখককে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার লেখাপড়া এখানেই শেষ। এ সময় আমরা শুনতে পাই মোনঘর শিশু সদনের কথা। সেখানে নাকি নামমাত্র বেতনে খুব ভালো লেখাপড়া হয়। এরপর

আরও পড়ুন...

আমি নস্টালজিয়া ফিরি করি

রুকু

The long narrow ramblings completely bewitch me....

The silently chaotic past casts the spell...

অতীত থমকে আছে;দেওয়ালে জমে আছে পলেস্তারার মত;অথবা জানলার শার্শিতে নিজের ছায়া রেখে গিয়েছে।
এক পা দু পা এগিয়ে যাওয়া আসলে অতীত পর্যটন, সমস্ত জায়গার বর্তমান মলাট এক ঝটকায় খুলে ফেললে এখনো খড়খড়ির ফাঁকে টেক্কা প্যাটার্নের নাকছাবি ঝকঝক করে ওঠে;কিংবা বারান্দা থেকে ঘরে যাওয়ার সময় আঁচলের চাবিতে মৃদু শব্দ হয়।
টাইম ওয়ার্প ঘটে যাওয়া দুপুরগুলোয় এই অতীত পর্যটনের নেশায় হাঁটতে হাঁটতে সে পৌঁছে

আরও পড়ুন...

কি সঙ্গীত ভেসে আসে..

Sutapa Das


কিছু লিরিক থাকে, জীবনটাকে কেমন একটানে একটুখানি বদলে দেয়, অন্য চোখে দেখতে শেখায় পরিস্হিতিকে, নিজেকেও ফিতের মাপে ফেলতে শেখায়। আজ বিলিতি প্রেমদিবসে, বেশ তেমন একখান গানের কথা কই!
না রবিঠাকুর লেখেন নি সে গান, নিদেন বাংলা গানও নয়, নেহায়ত বানিজ্য-অসফল এক হিন্দি সিনেমা, এক সদ্য বিবাহ-‘বন্ধনে’ আবদ্ধ সেসময় ও আজও সফলভাবে সে বাঁধন বহন করে চলা যুগলের সে সময়ের নিরিখে অন্যবিষয়ের চলচ্চিত্রায়ন। অ্যালঝেইমার্স রোগ বিষয়ক ডিটেলসে গাঁজাখুরি থাকলেও , সেই যে বিশেষ গানটি, সেটি এই ফিল্মের জন্যে শ্রেয়া ঘোষাল গে

আরও পড়ুন...

দক্ষিণের কড়চা

Parthasarathi Giri

দক্ষিণের কড়চা

▶️

গঙ্গাপদ একজন সাধারণ নিয়মানুগ মানুষ। ইলেকট্রিকের কাজ করে পেট চালায়। প্রতিদিন সকাল আটটার ক্যানিং লোকাল ধরে কলকাতার দিকে যায়। কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে কোনো কোনোদিন দশটা কুড়ির লাস্ট ডাউন ট্রেন।

গঙ্গাপদ একটি অতিরিক্ত কাহিনির জন্ম দিয়েছে হঠাৎ করে। ইদানিং গঙ্গাপদ ভয় পাচ্ছে না কোনো কিছুতে। কবে থেকে ঠিক এটা শুরু হয়েছে, সে নিজে তো জানেই না, আমরাও জানি না। এই অতিরিক্ত কাহিনির দরুন গঙ্গাপদ ঠিক বিশিষ্ট কোনো চরিত্র হল বলা যাবে না, কিন্তু গঙ্গাপদ একদিন মার খেয়ে গেল।

আরও পড়ুন...

দক্ষিণের কড়চা

Parthasarathi Giri

দক্ষিণের কড়চা

▶️

গঙ্গাপদ একজন সাধারণ নিয়মানুগ মানুষ। ইলেকট্রিকের কাজ করে পেট চালায়। প্রতিদিন সকাল আটটার ক্যানিং লোকাল ধরে কলকাতার দিকে যায়। কাজ সেরে ফিরতে ফিরতে কোনো কোনোদিন দশটা কুড়ির লাস্ট ডাউন ট্রেন।

গঙ্গাপদ একটি অতিরিক্ত কাহিনির জন্ম দিয়েছে হঠাৎ করে। ইদানিং গঙ্গাপদ ভয় পাচ্ছে না কোনো কিছুতে। কবে থেকে ঠিক এটা শুরু হয়েছে, সে নিজে তো জানেই না, আমরাও জানি না। এই অতিরিক্ত কাহিনির দরুন গঙ্গাপদ ঠিক বিশিষ্ট কোনো চরিত্র হল বলা যাবে না, কিন্তু গঙ্গাপদ একদিন মার খেয়ে গেল।

আরও পড়ুন...

গুরুতে যা যা হয়ঃ বইমেলা ২০১৮

রৌহিন

বেয়াল্লিশতম কলকাতা বইমেলা নানান দিক থেকে বেশ ব্যতিক্রমী বলা যায়। যেমন ধরুন বইমেলার হিস্টিরিতে এই প্রথম কলকাতা বইমেলা হল কলকাতার মূল ভুখন্ডের বাইরে, বিধাননগর পুলিশের এলাকায়। অথবা ধরুন গে দু'দুখানা (পান নট ইন্টেন্ডেড) ফুডপার্ক। কিম্বা আমেরিকা আর ভিয়েতনামের পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে ভীড়ের ক্ষীর খাওয়া – এরকম আরো অনেক। তা ব্যতিক্রমে গুরুই বা কিছু কম যাবে কেন? ধরুন গে মেলা এবং গুরুর ইতিহাসে এই প্রথমবার মেলাশেষের অনেক আগেই গুরুর স্টলের ট্রেড লাইসেন্স থেকে ইনশিওরেন্স, সব্ব কম্ম সারা। এমন কি শেষদিনের গেটপা

আরও পড়ুন...

হাসপাতাল মানেই নরক গুলজার 'কথাশিল্প' থেকে প্রকাশিত 'পা মিলিয়ে পথচলা' থেকে

Punyabrata Gun

মেডিক্যাল কলেজে আমি ১৯৭৮-এর ব্যাচ। ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৯৭৯-এর জানুয়ারীতে। শুরু থেকেই আমি মেডিক্যাল কলেজ ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস’ অ্যাসোশিয়েসনের সদস্য। এমসিডিএসএ ১৯৭৭-এ গড়ে উঠছিল আভ্যন্তরীণ জরুরী অবস্থার অবসানে, কলেজের গণতান্ত্রিক ও সমাজ-পরিবর্তনকামী ছাত্র-ছাত্রীরা এই সংগঠনের সদস্য। ’৭৭ থেকে ’৮৩ ছাত্র-সংসদ ছিল এমসিডিএসএ-র নেতৃত্বে। ’৭৯-এর এপ্রিলের ছাত্র-সংসদ নিরবাচনে জিতে আমি ক্লাসের পাঁচজন শ্রেণী-প্রতিনিধির মধ্যে একজন।

১৯৭৯-এর শেষার্ধে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদ ও এমসিডিএসএ-র উদ্যোগে হাস

আরও পড়ুন...

জার্মানী ডায়েরী - ৩

Farha Kazi

জুতোপর্ব:

নতুন দেশ, ঝাঁ চকচকে রাস্তা... ছবির মতো শহর, সাজানো গুছানো এক্কেবারে সিনেমার মতো।
আহা ইউরোপ শুনলেই DDLJ এর শাহরুখকে মনে পরে।
“তুঝে দেখা তো এ জানা সনম”... আল্পস পর্বত, রাইন নদী, বরফ, টয়ট্রেন, নীল আকাশ, রাস্তাভর্তি টিউলিপ, ড্যাফোডিল! কি সুন্দর ভাবতে লাগে না?

ক্লাস টেনে আমাদের ইংরাজী পাঠ্যবইয়ে কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থের একখান কবিতা ছিলো... ড্যাফোডিল!

“When all at once I saw a crowd,
A host, of golden daffodils;
Beside the lake, beneath the trees,

আরও পড়ুন...

কাক

Srijita Sanyal Sur

চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে আশেপাশে ফোনটা খুঁজছিল অদিতি। সকালের নিয়ম করে মন ভাল করানো মেসেজের আশায়। তখনই চোখ পড়ল কাকটার দিকে। বারান্দার সামনে জামরুল গাছটায় বসে যেন ওর দিকে তাকিয়ে আছে। এই মফস্বলে এখনো গাছ, ফুল, পাখি, পুকুর সব বেঁচে আছে। সকালে বাড়ির সামনের গাছে কাক বসাতেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু অদিতি একটু থমকে গেল পাখিটার তাকানোর ভঙ্গীতে। যেন একচোখ জিজ্ঞাসা নিয়ে গম্ভীর তাকানো।

উড়েও গেল না। তাকিয়েই রইল অদিতির দিকে।

-"হ্যাঁ গো, চা দিলে?"

সম্বিত ফিরল ঘর থেকে প্রবালের ডাক

আরও পড়ুন...

আমার ডাক্তার হওয়া সদ্য কথাশিল্প থেকে প্রকাশিত 'পা মিলিয়ে পথচলা' থেকে

Punyabrata Gun

ছোটো বেলায় থাকতাম মানিকতলা পোস্ট অফিসের কাছে। অসুখ-বিসুখে এলাকার মানুষের সম্বল ছিলেন ডা হরিসাধন বন্দোপাধ্যায়, তাঁর বিবেকানন্দ ফার্মেসি মানিকতলা মোড়ের কাছে, এখন যেখানে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক তারই পাশে। বিশাল ডাক্তারখানা, একটা ঘরে রোগীরা বসে আছেন, অন্য ঘরে ডাক্তারবাবু রোগী দেখছেন, আরেকটা ঘরে কম্পাউন্ডাররা ওষুধ দিচ্ছেন—বড়ি, বড়ি গুঁড়িয়ে পুরিয়া, বড় ওষুধের বোতল থেকে ছোট কাঁচের বোতলে, বোতলের গায়ে কাগজে মাত্রা বোঝানো। জ্বর হলে অ্যালকালি মিকশ্চার, বদহজমে কার্মিনেটিভ মিক্সচার। আজ যেমন বুঝি, ডাক্তারবাবুর

আরও পড়ুন...

আকর্ষ

ইন্দ্রাণী



বিকেলের হাওয়া বইছিল রেলব্রিজের ওপর - দু হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আঁচল সামলাতে নাজেহাল হচ্ছি। স্কুল ছুটির পরে বাজার হয়ে বাড়ি ফেরা এখন নিয়মের মত। ভারি বাজার তো নয়-টুকটাক -একটু আলু, পেঁয়াজ, ধনে পাতা, দুটো ডিম হয়ত। সকালে মাছটা এনে দেয় বাবুলাল; চাল ডাল মাসকাবারি বাড়িতে দিয়ে যায় গোপীর দোকান থেকে। দু'দিন হ'ল বাবুলাল এখানে নেই। কবে আসবে জানি না। তবু ক'টা ডিম নিলাম আজ - রাতের দিকে যদি আসে ; তারপর ফুলকপি কিনতে গিয়ে দুহাতে ব্যাগ হয়ে গেল। বাড়ি দূরে নয়, কাছেই। এই তো রেলব্রিজ পেরোলেই বাজার, শনিম

আরও পড়ুন...

এমন কত হয়

Srijita Sanyal Sur

এমন কত হয়

__


তিন নম্বর ঘুঁষিটা মারার আগে সব রাগটা মনে মনে এক করে আনতে হল। নইলে এত জোরে মারতে পারত না। ছিটকে পড়ে যাওয়ার আগে ছেলেটা একটা আওয়াজ করে উঠেছিল। মাথার মধ্যে হাজার একটা রাগ গুটিশুটি মেরে বসে আছে তার। বাবা অনুরাগের ছোঁয়া দেখে নাম রেখেছিল, তাপস। নিজের নামটা মনে আসতেই রাগটা গনগন করে ওঠে মাথায় আবার। এই হতচ্ছাড়া গুন্ডাগুলো তার থেকে অনেক বেশি তৈরি হয়ে এসেছে। শুধু নেহাত বোনটার মুখ মনে করে সে লড়ে যাচ্ছে। আজ বাড়ি ফিরে ওটাকেও পালিশ করতে হবে। এসব আপদ জোটে কি করে কে জানে।

আরও পড়ুন...

সেপিয়া টোনের চালচিত্তির

Parthasarathi Giri

🎎

আমার শিক্ষক জীবনটি নয় নয় করে আট দশ বছর জিইয়েছিল। কাজ পাচ্ছি না তো শিক্ষাদান কর। সুতরাং প্রাইভেট টিউশন নামক জীবিকায় ক্ষুন্নিবৃত্তি, কলাটা মুলোটা এবং সন্ধ্যের টিফিন।

যেহেতু গণিতশাস্তর পড়াতাম, তাই অধিকাংশের কাছে বেহ্মদত্যির মতো ছিলাম। আমাকে দেখামাত্তর ছাত্র-ছাত্রীর মা-বাবা যতটা নিশ্চিন্ত, খুদে নাগরিকটি ততোধিক মর্মাহত হত। মুখের আলোটি তৎক্ষণাৎ ঘনমেঘে অবলুপ্ত। কী মুশকিলেই না পড়তাম!

মুশকিলের আসান তো চাই।

প্রথমে ফাঁদ পাতলাম। তারপর চাঁদ পাতলাম।

সঙ্গে বিষয় ব

আরও পড়ুন...

এক সাপ পাগলের মনের কথা পড়ুন

Punyabrata Goon

বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা আমি করতে পারি না। আমি পারি না, পারেন না আমার মতো বেশির ভাগ ডাক্তারই। কেন না, আমাদের শেখানো হয় না। ডাক্তারী পাঠ্যক্রমে সাপে কাটার স্থান ফরেনসিক এন্ড স্টেট মেডিসিনে। এই বিষয়ে অন্যান্য বিষক্রিয়ার সঙ্গে সাপের বিষ সম্পর্কে পড়ানো হয়। কিন্তু বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা শেখানো হয় না। শেখানো যেতে পারত যে বিষয়টায় সেই মেডিসিনে সাপের কামড়ের চিকিৎসার স্থান নেই, অথচ এমন অনেক রোগের বিষয়ে পড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করা হয়, সারা জীবনে ডাক্তার যে সব রোগের রোগী দেখতেই পাবেন না হয়তো।

আরও পড়ুন...