সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...
  • রক্তকরবী, অল্প কথায়
    মানুষের স্বতস্ফুর্ততা যখন মরে যায় তখন যন্ত্রে আর মানুষে তফাত থাকে কই! একটা ঘোর মেক্যানিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে আবর্তিত হয় তার দৈনিক যাপন, বাকি সমাজের সাথে সম্পর্ক হয় অ্যালগোরিদিমিক্যাল। কাজের সূত্রে সে কথা বলে আবার ঢুকে যায় নিজের মৃত চামড়ার খোলসে।ঠিক যেন এই ...
  • একাত্তরের দিন গুলি
    কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা ঢাকার রাস্তায় কণিকা নামের একটা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে। আসলে আমরা খুঁজছিলাম একটা ফেলে আসা সময়কে। একটা পরিবারকে। যে বাড়িটা আসলে ব্লাইন্ড লেনের এক্কেবারে শেষ সীমায়। যে বাড়ির গলি আঁধার রাতে ভারী হয়েছিল পাকিস্তানী ...
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ম্যাসাজ - ২

সুকান্ত ঘোষ

কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি করার জন্যি কনফিউশনটা তৈরী হয় আমাদের মধ্যে। যত দিন যায় ক্রমশঃ ততরূপে ধন আমাদের সামনে পরিস্ফুট হয়। এমন ভাবেই নিমো উন্নত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক অবস্থা পার করা এবং ক্লাস ফাইভে মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে উঠে সি এ টি – ক্যাট বলে ওঠা আমার ইংরাজীই কাজে লেগে গেল ইংল্যান্ডে।

লাইফ রিলেটিভিটিতে ভর্তি এবং সেই শর্তানুযায়ী আমার ইংরাজী হয়ে উঠল চাইনীজ, তাইওয়ানিজ, থাই এবং জাপানীদের কাছে সন্দীপনীয়। ৩৪ রিচমন্ড হিল রোডে থাকা বেশ কটা চাইনীজ মেয়ে বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে তাদের থিসিস এর ইংরাজী ঠিক করে দেবার জন্য তারা এজেন্সীদের সাহায্য নেয় এবং পাতা প্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ পাউন্ড পর্যন্ত নাকি খরচ করে! মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, জুয়েলারী ডিজাইন ইত্যাদি নিয়ে থিসিস লিখে তাতে পাতা প্রতি পাঁচ পাউন্ড খরচার কথা শুনে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম! কেন না যতই ঘষাঘষি কর, আমার ধারণা ছিল যে উপরিউক্ত বিষয়গুলি হল চর্যাপদের ভাষার মত! আমি প্রস্তাব দিলাম যে দ্যাখ, তোদের থিসিস আমি চর্যাপদের ধোঁয়াশা থেকে ভারতচন্দ্র পর্যন্ত এনে দিচ্ছি রগড়ে রগড়ে – তবে তার বিনিময়ে আমার টাকা চাই না, অন্য কিছু দিলেই হবে! থিসিস থেকে মুক্তি পেতে নিমো উন্নত অবৈতনিক-কেও প্রবল বিশ্বাস করতে পিছু হঠল না ওরা! বলে দিল, যা চাই তাই তোকে দেওয়া হবে সুকি। মধ্যবিত্ত মানসিকতার সেই আমি, বান্ধবীদের প্রবল হতাশ করে বললাম, “দ্যাখ ল্যাব থেকে ফিরে প্রচুর ক্লান্ত হয়ে যাই, আর ফিরে দেখি তোরা বিশাল বিক্রমে রান্না করছিস। তাই তোরা যদি মাঝে মাঝে আমার জন্যও একটু খাবার বানাস, তা হলেই হবে!” রিয়া সঙ্গে সঙ্গে রাজি, কারণ সে ভালো রান্না করত – আইভি বলল, “দ্যাখ, আমি আর রিয়া তো একসাথে খাই। কিন্তু তোর কাছ থেকে আমি ফ্রী সার্ভিস নেব না, অন্য কিছু চাইলে বল”। আমি কি চাইব বুঝতে পারলাম না – আইভি মনে করিয়ে দিল, “আমি তো তোর পাশের ঘরেই থাকি, রাতেও কোন অসুবিধা নেই”। আমি অনেক ভাবলাম – দিয়ে মনে পড়ে গেল চাইনীজ ম্যাসাজের কথা! আমাদের পাশের গাঁয়ের ফিরোজ নাকি জাহাজে কাজ করে, এখান সেখান ঘুরে বেরায়। তা সে গেল বার গ্রামে এসে তার বন্ধু, আমাদের সিনিয়ার বোলো-কে হংকং এর দিকে ভালো চাইনীজ ম্যাসাজ নেবার কথা বলেছিল। শোনা কথা মাত্র – তা সেই শোনা কথার উপর ভরসা করে আমি আইভি-কে বললাম, “আমাদের দেশে চাইনীজ ম্যাসাজ-এর খুব নাম, থাই ম্যাসাজ এর পরেই। তা তুই কি পারবি চাইনীজ ম্যাসাজ দিতে?” আইভি, “চাইনীজ ম্যাসাজ ঠিক কেমন”? আমি, “ওতো আমি জানি না, তুই চাইনীজ (যদিও তাইওয়ানীজদের চাইনীজ বললে রেগে যেত) যখন, তখন তুই ম্যাসাজ পারলে সেটাই চাইনীজ”। আমাকে অবাক করে আইভি রাজী হয়ে গেল আমাকে চাইনীজ ম্যাসাজ দিতে! রিয়া বলল, “আমিও জানি ম্যাসাজ, আইভি যে দিন রাঁধবে, সেই দিন আমি তোকে ম্যাসাজ দেব”!

বললে বিশ্বাস করবেন না, এই ভাবে আমি, মানে পিওর বর্ধমানের চাষা, অন্তত বছর দুয়েক প্রায় নিয়মিত আইভি আর রিয়ার কাছ থেকে চাইনীজ ম্যাসাজ পেয়েছিলাম! যদিও ইন্টারনেটে জাপানী ম্যাসাজেরও প্রবল নাম, কিন্তু কেন জানি না আমাকে সেই জাপানী ম্যাসাজ কোনদিন আকর্ষণ করে নি তেমন! ম্যাসাজ একটা রিল্যাক্সের ব্যাপার – জাপানীরা যা এফিসিয়েণ্ট আর টাইম মেনে কাজ কর্ম করে, তাতে করে ম্যাসাজ নিতে গেলে আরামের থেকে চাপ বেশী থাকবে আমার ব্রেনের ভিতর। তাই অতো সতো ভেবে জাপানী ম্যাসাজ বাদ আমার সিলেবাস থেকে অন্ততঃ তখনো পর্যন্ত। জাপানী টময়ো আমাকে ম্যাসাজের পরিবর্তে শুধু খাদ্য প্রদানেই আবদ্ধ রেখেছিল।

আমার আরেক পাশের ঘরে থাকা যোসেফ একদিন দেখলাম ক্লিপার দিয়ে নিজের মাথায় যে কটা চুল আছে সেটা মুছে দেবার চেষ্টা করছে। সেই দেখে আমার মাথায়ও একটা বুদ্ধি খেলে গেল – ম্যাসাজের ব্যবস্থা তো হয়েই গ্যেছে, তাহলে আবার চুল কাটতে সেলুনে যাবার কি দরকার! আর তা ছাড়া ইংল্যান্ডে বড় চুল রাখা একটু চাপের বলে কনক্লুশান টানলাম, প্রধান কারণ প্রায় সব সময়েই বৃষ্টি ঝরছে! ল্যাবে গিয়ে মাথা মোছ, খেলে এসে মাথা মোছ, বাজার করতে গিয়ে মাথা মোছ – সে এক হ্যাপা। তাই স্থির করলাম, এক ঢিলে দুই পাখি, ৫ পাউন্ডও বাঁচবে আবার চুল মোছার হাত থেকে রেহাই। সেই ভেবে যোসেফকে প্রস্থাব দিলাম, “দ্যাখ, তুই তো পিছন দিকে হাত নিয়ে গেয়ে চুল কামাতে স্ট্রাগল করছিস, তার থেকে আমি তোর চুল কেটে দিই, আর তুই দে আমার”। যোসেফ এককথায় রাজী – সেই থেকে আমরা একে অপরের চুল কাটতাম। দুই দিন চুল কাটার পর, আমি কাটা শেষে অভ্যাসবশতঃ যোসেফকে বলে বসলাম, একটু মাথাটা ম্যাসাজ করে দে না। সে প্রথমে বুঝতে পারল না, কারণ মালটা দেশে চুল কাটার পর মাথা ম্যাসাজ বলে কোন প্রস্তাব হয় না। আমি তখন বুঝিয়ে বললাম তাকে কি ভাবে মাথা ম্যাসাজের প্রস্তাব দিচ্ছি তাকে। ভালো করে শুনে যোসেফ বলল, “ইউ বেটার কিস্ মাই অ্যাশ” – যার বঙ্গানুবাদ হচ্ছে, “বাপের হেগো পোঁদে গিয়ে চুমু খাও”। পোঁদ মারা নিয়ে নিমোতে আমরা অনেক আলোচনা করেছি সেই ছোট থেকে, কিন্তু পোঁদে চুমু খাওয়া আমার আউট অব সিলেবাস বলে, সেই নিয়ে আর বেশী নাড়াচাড়া করলাম না। আইভি আর রিয়ার সাথে আমার আর যোসেফের অনেক সময় কাটত বলে, কিছু দিন পর ওই মেয়ে দুটি আমাদের দুজনার চুল কাটার ভার নিয়ে নিয়েছিল সানন্দে! আমাকে ম্যাসাজ দেয় শুনে যোসেফ অনিচ্ছা সত্ত্বেও একদিন আইভির কাছে ম্যাসজ নিল – ফলতঃ পরের দিন ল্যাব যাওয়া বন্ধ, কারণ তার নাকি ম্যাসাজ নিয়ে গায়ে এত ব্যাথা হয়েছে যে বিছানা থেকে উঠতে পারছে না! এর পর থেকে ম্যাসাজ আমার একার হয়ে গেল।

গ্রীষ্মকালীন প্রচলিত বার-বি-কিঊ আয়োজিত হয়েছে সেবার আমাদের কাঠের বাড়ির পিছনে বিশাল বাগানে। আগুন সবে ধরানো হয়েছে, আমরা বসে বসে সেই মনোরম রোদে বসে ভাঁট মারছি বা খুনসুটি। আমার পাশে বসে গল্প করছিল সেই সময় ফ্রেঞ্চ মেয়ে হেলেন দ্যুফোঁ। গল্প করতে করতে এক সময় বলল, গত রাত থেকে তার নাকি ঘাড়ে ব্যাথা হয়েছে, মনে হচ্ছে শোবার দোষে। আমি ফট করে অভ্যাস বশতঃ বলে ফেললাম, তা হলে ঘাড়টা ম্যাসাজ করিয়ে নে। সে বলে, “ঘাড় ম্যাসাজ আবার কোথায় করাতে যাব, তুই কি পারিস ম্যাসাজ করতে?” আমি আর কি বলি, বললাম, “এদিকে ঘোর তা হলে, তোর ঘাড়টা একটু টিপে দিই”। হেলেন ঘুরল, কাঁধ থেকে জামা ইত্যাদি অনেকটা নেমে এল – এমনিতেই গ্রীষ্মের বার-বি-কিউ তে পোষাক খুব একটা বেশী ছিল না তার। ঘাড় থেকে ফিতে ইত্যাদিও সরিয়ে দেওয়া গেল বাধার সৃষ্টি করছে বলে। ম্যাসজ খেয়ে হেলেন তো যা পর নাই আনন্দ। সাইকোলজিক্যাল কিনা বলতে পারব না, ম্যাসাজ শেষেই বলল, অনেক বেটার ফিল করছি। হেলেন বলতে গিয়ে খুবই সুন্দরী ছিল – আমাদের কাঠের বাড়িতে বেশ কয়েকটি রীতিমত সুন্দর দেখতে মেয়ে থাকত, এবং তার মধ্যেও হেলেন-এর র‍্যাঙ্ক উঁচুর দিকে। যোসেফের সাথে এই নিয়ে আলোচনায় তার মতামত ছিল, “হেলেন বেশী সুন্দরী তোর এশিয়ান চোখে”। ওর বুক দুটো আরো একটু বড় এবং ভারী হলে ইউরোপীয়ান চোখেও নাকি তখন সুন্দর দেখাবে! আমি আর কি বলি – চাইনীজ মেয়েদের সাথে মিশে মিশে বুক ছোট ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে ফেলেছে অ্যাক্রশ এশিয়ার! কালিদাস একটু হালকা শোনালাম যোসেফকে – কিন্তু ভবি ভোলবার নয়!

তো যাই হোক, হেলেনকে ম্যাসাজ দিয়ে আমি পড়লাম তো খুবই বিপদে। এবার প্রায়ই বলে, “সুকি, সেদিনের মত একটু ম্যাসাজ করে দে না”। আমি এড়িয়ে যাই বেশ কয়েকদিন – কিন্তু সুন্দরী মেয়েদের অনুরোধ কয়বার আর এড়ানো যায়! বললাম, “ঠিক আছে তুই ম্যাসাজ ওয়েল জোগাড় করে রবিবার রুমে ডাকবি আমায়, ম্যাসাজ করে দেব”। রবিবার সকালে সেন্সবেরী থেকে ঘুরে এসে গেলাম হেলেনের ঘর। এমন নয় যে হেলেনের ঘরে সেই প্রথম, মাঝে মাঝে ভাঁট মারতে যাওয়া হয়। কিন্তু সেই বার দরজা খুলে দিল হেলেন – আমি দেখলাম সময় থমকে দাঁড়ালো, পশ্চিমের বাগানের দিকের জানালাটা খোলা – সেখান থেকে হাওয়া এসে উড়িয়ে দিচ্ছে জানালার পর্দা – আরো ভিতরে ঢুকে হাওয়া উড়িয়ে দিচ্ছে হেলেনের হালকা সোনালী চুল। ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যাপার – মোদ্দা কথা হেলেন বিকিনি পরে রেডি ম্যাসাজ নেবে বলে। শর্টেষ্ট বিকিনি এবং তার সাথে নাম মাত্র কাঁচুলি। ম্যাসাজের তেলটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল! এবার আপনি আমার অবস্থাটা একবার ভাবুন – থিওরী আর প্রাক্টিক্যাল এর মধ্যে পার্থক্য আরো একবার হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। সে থিওরী আমাদের অনেকদিন পড়ানো হয়েছে – সচিত্র ব্যাখ্যাও বি ই কলেজে কাকা প্রায়ই সময় নিয়ে করত। কিন্তু তা বলে এই! প্রায় নগ্ন প্রচন্ড সুন্দরী বিদেশী মেয়ের শরীর মর্দন! কথায় বলে বড়দের কথা শুনতে হয় – ইংল্যান্ড আসার আগে রাজেশদা আমাকে পই পই করে রাজু বা ভি আই পি ফ্রেঞ্চী পরে থাকতে বলেছিল, অবশ্য এই মুহুর্তের কারণের জন্য নয়, ঠাণ্ডার হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য। রাজেশদার মতামত ছিল গরমের দেশের ছেলেদের এক প্রধান প্রবলেম হল, জাঙ্গিয়া পরে থাকা। সেই প্রবল গরমে ঘাম হয়ে শরীরের ডাকা জায়গায় থেকে গিয়ে এক বাজে অবস্থার সৃষ্টি করে, তা নিয়ে বিশেষ কোন দ্বিমত ছিল না। কিন্তু তার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য অনেক ছেলে ছোকরা যে ল্যুজ আন্ডারপ্যান্ট পড়ত, এটা রাজেশদার পছন্দ ছিল না। রাজেশদার অভিমত ছিল, আণ্ডারপ্যান্ট পড়ে থাকলে বীচি ঝুলে যায় – এবং আমাদের মত নওজোয়ানদের (বিশেষ করে অবিবাহিত) বীচি ঝুলে যাওয়া কোন কাজের কথা নয়। তাই ইংল্যাণ্ড আসার আগে রাজেশদা বলেছিল, “সুকান্ত, ঠান্ডার দেশে যাচ্ছ তো, একদিক দিয়ে ভালো হল। বীচি ঝুলে যাবার ব্যাপারটা যেটা তোমাকে আমি অনেকবার বুঝিয়েছিলাম, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না আর। তুমি এখান থেকে রাজু বা ভি আই পি নিয়ে যাও কিনে অনেকগুলো – ঠান্ডায় বীচি গরমও থাকবে, আর ঝুলে যাবার ভয়ও থাকবে না”।

তো হেলেনকে ম্যাসাজ করতে গিয়ে আমার জাঙ্গিয়া খুব কাজ দিল – জাঙিয়ার টাইটনেশ ছাড়া ওই অবস্থায় নিজের জিনিসপত্র কন্ট্রোলে রাখা খুব শক্ত ছিল। হেলেন উপুড় হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে – আমি তেল ডেলে দিলাম তার পিঠে – এবার ম্যাসাজ চলছে, প্রায় সাদা, মসৃণ, নির্লোম পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে গ্যাছে তেল – আমার হাত খেলা করে বেড়াচ্ছে জানা টেকনিকেগুলির প্রয়োগে। প্রবলেম হল পিঠের নীচের এবং ধারের দিকে এসে – কতটা নীচে নামা যায় আর, বা কতটা ধার বরাবর উপুর হয়ে থাকা বুক-পেটের দিকে হাত নিয়ে যাওয়া যায়! আমি ইতস্তত করছি। ওদিকে হেলেন মাঝে মাঝে উহ, আহ করছে, সব মিলিয়ে ব্যাপার জটিল। এমন সময় মনে পড়ে গেল ইতস্তত হবার কোনই কারণ নেই, ইতস্তত করছে ভিক্টোরিয়ান মাইন্ডসেট – কিন্তু এ মেয়ে তো ফ্রেঞ্চ। তদোপরি কিছুদিন আগেই হেলেনের সাথে কামাসূত্র নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হল।

আলোচনা বলতে – আমি ডাইনিং রুমে খেতে গিয়ে দেখলাম দুই ফ্রেঞ্চ বান্ধবী, হেলেন আর অলিভিয়া কি নিয়ে কথাবর্তা বলছে ফরাসী ভাষায়। আমি রুমে ঢুকলে আমাকে ডাকল, “সুকি, সুকি – এদিকে আয়। তোদের দেশের কামসূত্র নিয়ে তোর বক্তব্য একটু শোনা যাক”। আমার হাতে ছিল পাস্তার প্লেট – মুখে ছিল ফেত্তুচিনি-র একটা প্রান্ত। হেলেনের আহ্বান শুনে আমার গলা দিয়ে ফেত্তুচিনি ঢক করে ঘুঁষে গেল। কিন্তু যেতে হল কাছে আলোচনা করতে – ভারত মাতার সম্মানের ব্যাপার। হেলেন এবার এল আই সি পলিসি টেবিলের মত রেফার করে বলে নাম্বার ১৪৯টা খুবই ভালো – ওদিকে অলিভিয়া বলে ১৭৮ এ নাকি স্বাচ্ছন্দ বেশী। আমি গেছি মাঝেখানে ফেঁসে – আলোচনায় আমার নিবেদন বলতে, “ইয়েস, ইয়েস – দ্যাট ইস কোয়াইট গুড”, “ইয়াহ, নো ডাউবট্‌ ইট ইজ ইনডিড কোয়াইট ইনটেন্স”, “আই থিঙ্ক, ফর দি ফার্ষ্ট টাইম দ্যাট অপশন ওয়াজ এ ভেরী গুড চয়েস”। এই সব। এরপর হেলেন প্রশ্ন ছুঁড়ল, “আচ্ছা সুকি, এই যে ডিপ ব্যাপারে যাবার আগে, কামাসূত্র-তে ম্যাসাজের ব্যাপারটা বলেছে, এটা কি খুব ইন্ডিয়াতে খুব চলে? আর কি সত্যি খুব আরাম হয়”? আমি আর কি বলি – শুধু ম্যাসাজেই আমার যা আরাম হয় তার উপর ডিপে ঢুকলে না জানি কি জিনিস দাঁড়াবে! আমি জোর গলায় বললাম, “অবশ্যই আরাম হয় বেশী – দ্বিগুণ, তিনগুণ আরাম। সাধে কি আর হাজার দুই বছর ধরে বই প্রিন্ট হয়ে চলেছে!” এবার প্রশ্ন এল, ইন্ডিয়াতে আমরা ডিপে যাবার আগে ম্যাসাজ করি কিনা! কি আর বলি – পিছোতেও পারছি না জানি না বলে! কাউকে লাগাতে গিয়ে আগে ম্যাসাজ করছে, এই গল্প নিমোতে আমি কোনদিন শুনি নি। লাগানো ব্যাপারটার মধ্যে একটা তাড়াহুড়ো থাকে – এই বুঝি কেউ চলে এল! আর বন্ধুদের বলতে তখনো বিবাহ করেছিল কেবল মাত্র আমাদের মধ্যে দিবাকর। তার কাছেও ফুলশয্যার গল্পে ম্যাসাজের কোন রেফারেন্স শুনি নি। একেবারে শুনি নি বললে ভুল হবে – দিবাকরও ম্যাসাজ দিয়েছিল বুকে, তবে একেবারেই অন্যকারণে। ফুলশয্যা রাতে প্রথমবার লাগাতে গিয়ে তার কম বয়েসী বউ কেমন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, এবং তার ফলে দিবাকরের কি জিনিস কোথায় উঠে গিয়েছিল সেই গল্প মনে পড়ে গেল। দিবাকর বলেছিল, “শালা, না পারছি কাউকে ডাকতে, না পারছি অন্য কিছু করতে। তাড়াতাড়ি উঠে জাঙ্গিয়াটা পড়ে গ্লাসের জলটা এনে মুখে ছেটালাম। দিয়ে মাথায় গোড়ায় জাঙ্গিয়া পরে বসে বউকে হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করতে লাগলাম। তাতেও কিছু না হলে, হালকা করে বুকটা ম্যাসাজ করতে লাগলাম। এই করে খানিক পরে বউয়ের জ্ঞান ফিরে এল”। আমার কাছে এই এক্টাই রেফারেন্স থাকায়, আমি হেলেনকে জানালাম যে ইন্ডিয়া তো অনেক বড় জায়গা, এক জায়গার কালচারের সাথে অন্য জায়গার অনেক তফাত। কেউ ম্যাসাজ দেয়, আবার কেউ দেয় না! এই কামসূত্র আলোচনার ঘটনা মনে পড়ে গেলে, আমি আর ইতস্তত করার কোন কারণ দেখলাম না হেলেনকে ম্যাসাজ দিতে গিয়ে। আর বেশী ডিপে ঢুকতে চাইছি না আমি সেই গল্পের – আপনারা ভেবে নিন, আই টু হ্যাড এ ড্রিম – অ্যান্ড এ পেয়ার অব্‌ হ্যান্ডস্‌!

থাই ম্যাসাজও খেয়েছি সুপিনিয়া-র কাছ থেকে যার শুরু সেই বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের ওপেন এয়ার মিউজিক ফেষ্টিভেল থেকে। আমি ইংরাজী ম্যুজিক কিচ্ছু বুঝি না – কিন্তু বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে যেতাম। সেবার ঘাসের উপর বসে শুনছি – আমি আবার বেশী ক্ষণ ঘাসে বসতে পারি না। খানিক পরেই এক হাতে ভর দিয়ে বডি এলিয়ে দিয়েছি – আরো খানিক পরেই কোলে মাথা রেখে অভ্যাস বশতঃ। সেই কোলটা ছিল থাইল্যাণ্ডের মেয়ে সুপিনিয়ার। সে কিছু বলে না – দেখি না চাইতেই খানিক পরে হালকা চুল হাত বোলাচ্ছে, বিলি কাটা যাকে বলে। আমার তো মিউজিক শোনা তখন হয়ে গ্যাছে – মাথায় ম্যাসাজের প্রাথমিক স্টেজের ইঙ্গিত পেয়ে আবেশে চোখ বুজে এসেছে। তা সেই সুপিনিয়াও পরে অনেক বার ম্যাসাজ করে দিয়েছে ভালোবেসে।

পরের বার আমষ্টারডাম শহরের ম্যাসাজের গল্প।



শেয়ার করুন


Avatar: সুকি

Re: ম্যাসাজ - ২

ম্যাসাজের দ্বিতীয় পর্ব।
Avatar: T

Re: ম্যাসাজ - ২

:)
Avatar: সিকি

Re: ম্যাসাজ - ২

কী সব জিনিস দিচ্চো গুরু!
Avatar: avi

Re: ম্যাসাজ - ২

হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা।
Avatar: শঙ্খ

Re: ম্যাসাজ - ২

এডাল্ট গল্প (চন্দ্রবিন্দু স্টাইলে বলতে হবে)
Avatar: সিকি

Re: ম্যাসাজ - ২

মানে আমস্টারডামে পৌঁছবার আগেই এই, পৌঁছলে তারপরে কী হবে?

দমবন্ধ করে অপেক্ষায় রইলাম। বাবা সুকি, আমায় বাঁচিয়ে রেখো।
Avatar: শিবাংশু

Re: ম্যাসাজ - ২

বাবা সিকি, বাঁচতে চাইলে কপালভাতি করো। সুকি এখন পুরো ভৈরব সাধনা করছে। অজ্জিন্যাল বজ্রযান....
Avatar: শঙ্খ

Re: ম্যাসাজ - ২

ঐ যে লিখেছে, "জাপানী ম্যাসাজ বাদ আমার সিলেবাস থেকে অন্ততঃ তখনো পর্যন্ত"

আমস্টারডামে পোঁছে জাপানি নুরু ম্যাসাজ শুরু হবে আশা রাখি। ;) ;)
Avatar: সুকি

Re: ম্যাসাজ - ২

সবাইকে ধন্যবাদ।

সিকি,

আমস্টারডামের গল্প সময় পেলেই লিখছি। কিন্তু এক্সপেকস্টেশন লেভেল কম করতে হবে - তা না হলে আমি চাপ নিতে পারব না। টেনশনে পড়ে যাব!

শঙ্খ,
অ্যাডাল্ট গল্প বললে খেলব না কিন্তু। এতে আমি শুধু মর্দনের আনন্দ আলোচনা করছি।

শিবাংশুদা,
স্মাইলি
Avatar: mahua

Re: ম্যাসাজ - ২

সুকির গিন্নি ম্যাসাজ এর গল্প টা পড়ছে?
Avatar: avi

Re: ম্যাসাজ - ২

নীরবতা হিরন্ময়। :)))


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন