Ramiz Ahamed RSS feed

Ramiz Ahamed এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খাগায় নমঃ

Ramiz Ahamed

মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।
নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ব্যাগ রেখে জামাকাপড় বদলে একছুটে বাড়ির পেছনের মাঠটা পেরিয়ে পোটোবাড়িতে............
গিয়ে দেখতাম সারি সারি প্রতিমা সাজানো, একমেটে থেকে খড়ির প্রলেপ মেখে নেওয়ার গল্প তৈরী হচ্ছে। পোটোকাকু আমায় দেখে একগাল হেসে বলতেন, 'ওহ! এসে গেছো, দ্যাখো আজ কি করি'
তারপর দেখতাম পরমমমতায় দুটো জাদুকরী হাত দিয়ে আস্তে আস্তে তৈরী হচ্ছে দেবীর আঙুল, হাঁসের পাখা, বীণার তন্ত্রীর সূক্ষ্ম কাজ............
তারপর হঠাৎ করে সন্ধ্যা নামতো, পাশের পুকুরে প্যাঁক প্যাঁক করে ডাকা হাঁসটাকে দেখে মনে হতো বুড়ো আংলার সুবচনীর খোঁড়া হাঁস আমায় রিদয় ভেবে নালিশ করছে 'বাড়ি যাও,টের পাবে'। তারপর তেঁতুলতলা পেরিয়ে খিড়কি দরজা দিয়ে বাড়ি ঢুকতাম।
 শুনতাম 'বাঁদর, রোজ রোজ না খেয়ে বেরিয়ে যাওয়া! আজ বাবা আসুক, মজা দেখাচ্ছি!'
পরেরদিন আবার ছুটে যেতাম মটুক রাংতা, সাজপোষাক, দেখার টানে, দেখতাম নিপুণ হাতে পোটোকাকু চোখ আঁকছে, এসময়ে বিরক্ত করা একদম পছন্দ করতো না, সেই সময় টুকু বাকি সরঞ্জাম ঘেঁটে দেখার সুযোগ হতো।
পুজোর আগের রাতে পড়া থাকলে ইচ্ছা করে দেরীতে বাড়ি ফিরতাম, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতাম, কতগুলো ঠাকুর যায় দেখার জন্য, দেখতাম পাশের পাড়ার কিছু উৎসাহীরা ঠাকুর নিয়ে যাওয়ার সময় চেঁচিয়ে বলে যেত, 'দ্যাখো, এবার কিন্তু আমাদের আর্টের ঠাকুর'।
মনে আছে প্রতিবছর স্কুল থেকে পুজোর নিমন্ত্রণ কার্ড পেতাম, আর সেগুলো সব জমিয়ে রাখতাম ডায়েরীর ভেতরে, আর কোনো কোনো বন্ধুদের স্বতস্ফূর্ত হয়ে পাশের গার্লস স্কুলে স্কুলের প্রতিনিধি হয়ে নিমন্ত্রণ করতে যাওয়ার ইচ্ছা দেখে কয়েকজন বন্ধু ডেস্কের তলায় মুখ লুকিয়ে হাসতাম। অঞ্জলি দিতে স্কুলে যেতাম, পাড়ার পুজোতেও। সকাল সকাল স্নান সেরে গিয়ে বসে দেখতাম, আবীর দিয়ে ভূমন্ডলে আঁকা ঘট স্থাপনের আলপনা আর রংবেরং এর নকশাঘেরা শ্রী। ফর্দমালা মিলিয়ে খুঁজতাম যবের শীষ, আর পুজো শুরু হলে দেখতাম ধূপ আর অগুরুর গন্ধে ভেসে বেড়াচ্ছে............
                    শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা।
                    শ্বেতাম্বরধরা নিত্যা শ্বেতগন্ধানুলেপনা।।
                    শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চিতা।...............
দেবীর পায়ে শ্বেতপদ্ম তুলে দিচ্ছেন ঠাকুরমশাই, পাশে দোয়াতে রাখা আম্রমুকুল আর সরু করে কঞ্চি থেকে কাটা লেখনী, চাঁদমালাটা হালকা দুলে উঠলো।
তারপর নিয়মমাফিক খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস, চাটনীর বাসন্তী কার্নিভাল পেরিয়ে..........................................
চিনির মঠ, গাঁদার চেন, বাসন্তীশাড়ি-হলুদপাঞ্জাবী আরো মায়াময় বর্ণগ্রাফি গুলোতে আঁচড় টেনে দিয়ে গেল......... অঙ্কবই-টেস্টপেপারের আশির্বাদী, পুজোর আগে কুল না খাওয়ার মতো আবছা হয়ে আসা মিথগুলো।                 


35 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ঝর্না

Re: খাগায় নমঃ

দারুন লেখা...
Avatar: Sutapa Das

Re: খাগায় নমঃ

সরস্বতী পূজো মানে অবধারিত স্মৃতি রোমন্হন দিদুনের, 'তোর হাতেখড়ির সময় প্যান্ডেলে আগুন ধরে গেছিলো রে।।।' । এতোবার শোনা কথা, তিনি স্বর্গতঃ হবার পরও মনে করি , মনে মনে। কি যে বৈরিতা বিদ্যাদেবীর আমার সাথে, এইট অব্দি হাত্ খড়ি আর হাফিয়ার্লিতে অঙ্কে ফেল!! সেই ত্রাসে মাধ্যমিকের বছর ঝাঁসির রানির মতো যুদ্ধ করে অঞ্জলি বর্জন ও অঙ্কসহ সব বিষয়ে প্রথম ডিভিশনের নম্বরসহ উত্তীর্ন হওয়া। আজও পড়ুয়া আর পরীক্ষার বছর মা সরস্বতীর সাথে ফেস অফ, বিধির বিধান কে খন্ডাতে পারে । আপনার লেখাটি সব মনে করিয়ে দিলো। মায় বিদ্যাদেবীপ পায়ের কাছ থেকে সংগ্রিহীত পলাশ বইয়ে গুঁজে রাখার প্রতিযোগিতা অব্দি! দারুন।
Avatar: aranya

Re: খাগায় নমঃ

সুন্দর
Avatar: পারমিতা

Re: খাগায় নমঃ

পেছন ফিরে চলতে শুরু করলাম।
Avatar: Arindam

Re: খাগায় নমঃ

অনবদ্য
Avatar: দ

Re: খাগায় নমঃ

ভারী ভাল, বড্ড ভাল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন