Ramiz Ahamed RSS feed

Ramiz Ahamed এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খাগায় নমঃ

Ramiz Ahamed

মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।
নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ব্যাগ রেখে জামাকাপড় বদলে একছুটে বাড়ির পেছনের মাঠটা পেরিয়ে পোটোবাড়িতে............
গিয়ে দেখতাম সারি সারি প্রতিমা সাজানো, একমেটে থেকে খড়ির প্রলেপ মেখে নেওয়ার গল্প তৈরী হচ্ছে। পোটোকাকু আমায় দেখে একগাল হেসে বলতেন, 'ওহ! এসে গেছো, দ্যাখো আজ কি করি'
তারপর দেখতাম পরমমমতায় দুটো জাদুকরী হাত দিয়ে আস্তে আস্তে তৈরী হচ্ছে দেবীর আঙুল, হাঁসের পাখা, বীণার তন্ত্রীর সূক্ষ্ম কাজ............
তারপর হঠাৎ করে সন্ধ্যা নামতো, পাশের পুকুরে প্যাঁক প্যাঁক করে ডাকা হাঁসটাকে দেখে মনে হতো বুড়ো আংলার সুবচনীর খোঁড়া হাঁস আমায় রিদয় ভেবে নালিশ করছে 'বাড়ি যাও,টের পাবে'। তারপর তেঁতুলতলা পেরিয়ে খিড়কি দরজা দিয়ে বাড়ি ঢুকতাম।
 শুনতাম 'বাঁদর, রোজ রোজ না খেয়ে বেরিয়ে যাওয়া! আজ বাবা আসুক, মজা দেখাচ্ছি!'
পরেরদিন আবার ছুটে যেতাম মটুক রাংতা, সাজপোষাক, দেখার টানে, দেখতাম নিপুণ হাতে পোটোকাকু চোখ আঁকছে, এসময়ে বিরক্ত করা একদম পছন্দ করতো না, সেই সময় টুকু বাকি সরঞ্জাম ঘেঁটে দেখার সুযোগ হতো।
পুজোর আগের রাতে পড়া থাকলে ইচ্ছা করে দেরীতে বাড়ি ফিরতাম, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতাম, কতগুলো ঠাকুর যায় দেখার জন্য, দেখতাম পাশের পাড়ার কিছু উৎসাহীরা ঠাকুর নিয়ে যাওয়ার সময় চেঁচিয়ে বলে যেত, 'দ্যাখো, এবার কিন্তু আমাদের আর্টের ঠাকুর'।
মনে আছে প্রতিবছর স্কুল থেকে পুজোর নিমন্ত্রণ কার্ড পেতাম, আর সেগুলো সব জমিয়ে রাখতাম ডায়েরীর ভেতরে, আর কোনো কোনো বন্ধুদের স্বতস্ফূর্ত হয়ে পাশের গার্লস স্কুলে স্কুলের প্রতিনিধি হয়ে নিমন্ত্রণ করতে যাওয়ার ইচ্ছা দেখে কয়েকজন বন্ধু ডেস্কের তলায় মুখ লুকিয়ে হাসতাম। অঞ্জলি দিতে স্কুলে যেতাম, পাড়ার পুজোতেও। সকাল সকাল স্নান সেরে গিয়ে বসে দেখতাম, আবীর দিয়ে ভূমন্ডলে আঁকা ঘট স্থাপনের আলপনা আর রংবেরং এর নকশাঘেরা শ্রী। ফর্দমালা মিলিয়ে খুঁজতাম যবের শীষ, আর পুজো শুরু হলে দেখতাম ধূপ আর অগুরুর গন্ধে ভেসে বেড়াচ্ছে............
                    শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা।
                    শ্বেতাম্বরধরা নিত্যা শ্বেতগন্ধানুলেপনা।।
                    শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চিতা।...............
দেবীর পায়ে শ্বেতপদ্ম তুলে দিচ্ছেন ঠাকুরমশাই, পাশে দোয়াতে রাখা আম্রমুকুল আর সরু করে কঞ্চি থেকে কাটা লেখনী, চাঁদমালাটা হালকা দুলে উঠলো।
তারপর নিয়মমাফিক খিচুড়ি, লাবড়া, পায়েস, চাটনীর বাসন্তী কার্নিভাল পেরিয়ে..........................................
চিনির মঠ, গাঁদার চেন, বাসন্তীশাড়ি-হলুদপাঞ্জাবী আরো মায়াময় বর্ণগ্রাফি গুলোতে আঁচড় টেনে দিয়ে গেল......... অঙ্কবই-টেস্টপেপারের আশির্বাদী, পুজোর আগে কুল না খাওয়ার মতো আবছা হয়ে আসা মিথগুলো।                 


142 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ঝর্না

Re: খাগায় নমঃ

দারুন লেখা...
Avatar: Sutapa Das

Re: খাগায় নমঃ

সরস্বতী পূজো মানে অবধারিত স্মৃতি রোমন্হন দিদুনের, 'তোর হাতেখড়ির সময় প্যান্ডেলে আগুন ধরে গেছিলো রে।।।' । এতোবার শোনা কথা, তিনি স্বর্গতঃ হবার পরও মনে করি , মনে মনে। কি যে বৈরিতা বিদ্যাদেবীর আমার সাথে, এইট অব্দি হাত্ খড়ি আর হাফিয়ার্লিতে অঙ্কে ফেল!! সেই ত্রাসে মাধ্যমিকের বছর ঝাঁসির রানির মতো যুদ্ধ করে অঞ্জলি বর্জন ও অঙ্কসহ সব বিষয়ে প্রথম ডিভিশনের নম্বরসহ উত্তীর্ন হওয়া। আজও পড়ুয়া আর পরীক্ষার বছর মা সরস্বতীর সাথে ফেস অফ, বিধির বিধান কে খন্ডাতে পারে । আপনার লেখাটি সব মনে করিয়ে দিলো। মায় বিদ্যাদেবীপ পায়ের কাছ থেকে সংগ্রিহীত পলাশ বইয়ে গুঁজে রাখার প্রতিযোগিতা অব্দি! দারুন।
Avatar: aranya

Re: খাগায় নমঃ

সুন্দর
Avatar: পারমিতা

Re: খাগায় নমঃ

পেছন ফিরে চলতে শুরু করলাম।
Avatar: Arindam

Re: খাগায় নমঃ

অনবদ্য
Avatar: দ

Re: খাগায় নমঃ

ভারী ভাল, বড্ড ভাল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন