Sumana Sanyal RSS feed

Sumana Sanyalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

স্বভাবজ

Sumana Sanyal

অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পরবর্তী সময়টুকু যেন স্টার জলসা আর জি বাংলার যৌথ প্রযোজনার সিরিয়াল। জমে ক্ষীর। বিউটি মালিকের আছড়ে পড়া কান্নার লাইভ দেখাচ্ছে চ্যানেলগুলো। সেইসঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ায় তাদের যৌথ ছবি সাঁটিয়ে আমাদের বহু লোকের অশ্রুপাত। এর মধ্যে আবার দু' এক টুকরো চাট মশলার মতো টিপ্পনী : "ওর আর কী! গেলো তো মায়ের। ও তো দু'দিন পরেই..."
আমাদের সম্মিলিত ছিছিক্কার, রাগ আছড়ে পড়লো সরকারের ওপর। আমরা সবাই তখন ব্যোমকেশ, সব্বাই ফেলুদা। চুলচেরা বিশ্লেষণে আমরা এক্সপার্ট কমেন্ট দিচ্ছি। কেনো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছাড়া পাঠালো, কেনো অমিতাভর মতো অনভিজ্ঞ অফিসার কে পাঠালো, এইসব চললো বেশ কিছুদিন। এরপরে সিরিয়ালের দ্বিতীয় পর্ব।
মহাপর্ব। বিউটি মালিক চাকরী পেলেন। সৌমেন মালিকেরও চাকরী পাবার কথা ছিলো, অমিতাভর বাবার। বয়েস বেশী হয়ে যাওয়াতে মালিক পরিবার চাইলেন অমিতাভর ভাই চাকরীতে ঢুকুক। অনেকদিন চাকরী করতে পারবে। ব্যস। এবার এতদিনের সহানুভূতির সুরগুলো বাঁকা পথ নিলো স্যোশাল মিডিয়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সুলভ চাকরী প্রকল্প, মানে কেউ মারা গেলেই চাকরী দেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হোলো। সঙ্গে এলো সেই অনিবার্য তুলনা। সীমান্তে জান লড়িয়ে দেওয়া বাংলার সৈনিকদের মৃত্যু হোলে কেনো এত ফুটেজ দেওয়া হয়না, কেনো তার পরিবারের কাউকে চাকরী দেওয়া হয়না, লেগে গেলো তৃণ- সিপিএম- বিজেপি- আরএসএস এর চেনা ক্যাচাল।
হ্যাঁ, মেগাসিরিয়ালের শর্ত মেনেই আবার পিকচারে এলেন বিউটি মালিক। মন্তব্য উড়ে এলো
" চাকরী পেয়ে গেলো, এবার দেখবেন ছেলে ধরতে বেরিয়েছে।" গতকালের সহানুভূতির শীর্ষে থাকা বিউটি মালিক সেই এক মুহূর্তে "ছেলেধরা" হয়ে গেলেন। এরপর যোগ হোলো আরও হরেক কিসিমের খবর। বিউটি চাকরী পেয়ে "নাকি" শ্বশুরবাড়ি তে জানাননি, বিউটি "নাকি" বাপের বাড়ি চলে গেছেন...সবটাই "নাকি"! এক এক সময় এক এক রকম খবর। টিআরপি এই উঠছে, এই পড়ছে। চরম উত্তেজনা। যৌন উত্তেজনা কোথায় লাগে! আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সেই খাপ পঞ্চায়েত, সেই মেগার চিত্রনাট্যকার মাথা তুললো কমেন্ট বক্সে।
"শ্বশুরবাড়ি তে আর যাবে কেনো? এখন অন্য শ্বশুরবাড়ি যাবে" সেই চিরাচরিত তীব্র সিটি, যা নাকি অর্থবহ ছিলো ষাট সত্তর, আশি র সিনেমায়, সেই সিটিও শোনা গেলো এইসব কমেন্টে। বিউটি মালিক কে ক্যামেরা কি সর্বদা ফলো করে? বিউটি কোন পোষাকে চাকরীতে জয়েন করলেন,হাতে অমিতাভর নাম লেখা ট্যাটু কতো বড়ো এই সবকিছু লোকজনের মুখস্থ হয়ে গেলো। বিউটি মালিকের জীবন "পাবলিক প্রপার্টি" হয়ে গেলো। ব্যক্তিগত শব্দটাই আর রইলোনা। এও তো মৃত্যু! বিভিন্ন নিউজ থ্রেডে কারা এসব লেখেন, কী তাদের ভাষাজ্ঞান, তাদের বোধ আমি জানিনা। বিউটি মালিক জ্যাকেট চুরি করতে গিয়ে গলা চড়িয়েছেন এটাও খবর। এরপর ওঁর সঙ্গে রাস্তার অটো ড্রাইভারের বচসা হোলেও এভাবেই লেখা হবে "বিউটি মালিক কি বদলে গেছেন?" এ শুধু নিরুত্তাপ নির্দোষ একটা প্রশ্ন নয়। একটা তীব্র উস্কানি, আমাদের ভেতরের সেই খাপ পঞ্চায়েতটাকে প্ররোচনা দেওয়া। যে পঞ্চায়েত অনায়াসে "বেশ্যা, ছেলেধরা" তকমা এঁটে দেয়।
বিদ্যেসাগরমশাই মরে বেঁচেছেন। বিধবা বিবাহ এখনো কী পরিমাণ গাত্রদাহ সৃষ্টি করে, এ দেখলে তিনিও হয়তো বলতেন "ধন্য আশা কুহকিনী"।
আপনারা কী চাইছেন? একটা একুশ বছরের মেয়ে সারাজীবন থান পরে হবিষ্যি খাবে? আর চাকরী তো ইনি একা পাননি। সরকারী কর্মী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে অদ্যাবধি কি তাঁর পরিবারের কেউ চাকরী পায়নি এ রাজ্যে? এখন যখন অমিতাভর ভাই ও চাকরী তে ঢুকলো তখন শুরু হোলো নবতর দীর্ঘশ্বাসের পালা। ইশশ! দু উ উ জ ন চাকরী গেঁড়িয়ে নিলো? এই বাজারে?
বিমল গুরুং ইস্যু ঠাণ্ডা আপাতত। অমিতাভ মালিকও বিস্মৃতপ্রায়। এখন বাজারে বিউটি মালিকের সিরিয়াল চলছে। এ সপ্তাহে জ্যাকেট পর্বে তাঁর টিআরপি বাড়লো।
খাপখোলা পঞ্চায়েত চলছে, চলবে।

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন