Abhijit Majumder RSS feed
Abhijit Majumder খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

My Letter to Silence...

Abhijit Majumder

নৈ:শব্দের পত্রগুচ্ছ ১

-সরি আসতে অনেকটা দেরি হয়ে গেল। আসলে বাইপাসে এত জ্যাম ছিল।
-আপনি দমদম থেকে টালিগঞ্জ বাইপাস দিয়ে এসেছেন?! মেট্রো ধরেন নি কেন?
-না মানে, অফিস টাইম, ভিড় হবে তাই।
-আপনি মশাই মুম্বাই গিয়ে পুরো গোল্লায় গেছেন।
-সে গেছি। যাই হোক, আর এম্ব্যারাস করবেন না। বলুন কেন ডেকেছেন?
-আপনাকে একটা গল্প বলব বলে।
-মানে? গল্প শোনাতে এতদূর টেনে আনলেন।
-শুনেই দেখুন। শর্ত হল, যদি গল্পটা পছন্দ হয়, তাহলে আপনাকে তাই নিয়ে একটা বই লিখতে হবে, রাজি?
-কি নিয়ে গল্প?
-বড় হয়ে ওঠা...


*********

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ২

-শর্ত হল, যদি গল্পটা পছন্দ হয়, তাহলে আপনাকে তাই নিয়ে একটা বই লিখতে হবে, রাজি?
-কি নিয়ে গল্প?
-বড় হয়ে ওঠা...
-আপনার ছোটবেলার গল্প?
-উঁহু।
-তবে? কার?
-সেটা ঠিক করার দায়িত্ব তো আপনার। যে বড় হল আর বড় হয়ে যে হল, দুজন মানুষ তো এক না ও হতে পারে। তাই না? তাছাড়া বড় কি মানুষ শুধু ছোটবেলাতেই হয়?
-হুম্, তাও বটে।
-তাহলে শুরু করি?
-করুন।
-তারপর একদিন গুটি কেটে বেরিয়ে এল একটা রঙীন প্রজাপতি।
-সে কি? আপনার গল্প প্রজাপতি দিয়েই শুরু? প্রজাপতি তো বড় হয়েই গেছে।
-কেন অভিজিৎবাবু, প্রজাপতিরা আর বড় হয় না বুঝি?
-সে তো জানি না।
-তবে? নিন, শুনুন। তারপর একদিন গুটি কেটে বেরিয়ে এসে একটা রঙীন প্রজাপতি ডানা মেলল আকাশে....

*****
নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৩

জানেন এক্ষুনি হঠাৎ FB পাতায় আপনার নৈঃশব্দ্যের পত্রগুচ্ছর পোস্টটা দেখে থমকে গেলাম।
পোস্টের শুরু আপনার সাথে কেজো দেখা করার স্মৃতি দিয়ে, সেই আপনার বাইপাসের বোকামি আর আমার মৃদু বকুনি!

লেখার শেষে একটা আমার তৈরি করা ডিজি আর্ট.

কিছু খন্ড ভাবনা দিয়ে যে চিন্তাটা শুরু হয়েছিল প্রায় একবছর আগে, অনেক পথ চলা, ওঠানামার শেষে My letter to Silence..এ তার culmination!

আমার বেঁচে থাকা আর আমার বেঁচে ওঠা দুটো কেমন মিলেমিশে যাচ্ছে!

**********

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৪

-কি ব্যপার এখনও ঘুমোন নি? সবুজ আলো জ্বলছে যে নামের পাশে?
-আপনার গল্পটাকে মনের ভেতর জারণ করে দেখছিলাম কতটা অবশিষ্ট থাকে। নাড়াচাড়া ফেলাছড়ানোর পর যেটুকু পড়ে থাকবে তাই হবে আমার লেখার আকর।
-কিছু রইল পড়ে? আর না কি সবই ভেসে গেল?
-হ্যাঁ রইল। কিছু প্রশ্ন।
-যেমন?
-প্রজাপতিদের কি মন খারাপ হয়? ডিপ্রেশান? ওরাও কি কখনও নৈতিকতার দ্বন্দে ভোগে?
-আচ্ছা, প্রজাপতিদের জ্বর হয় কি না তো জিজ্ঞেস করলেন না? কিংবা পেট খারাপ?
-এমা, প্রজাপতিদের নিয়ে ওসব প্রশ্ন করতে আছে না কি? ঐশ্বর্য রাই রাত্রে ঘুমোলে নাক ডাকেন কি না জিজ্ঞাসা করতে নেই। ওগুলো বড় mundane. বরং আমরা জানতে চাই, প্রজাপতিদের শরীরেও ন হন্যতে আত্মা বিরাজমান কি না।
-প্রজাপতিরা মাণিকবাবু হলে আজ আপনাকে নিশ্চই বলত, মন, মন... কুসুম, তোমার কি শরীর নাই?

*****

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৫

আপনার পোস্টটা পড়লাম।

আচ্ছা অভিজিতবাবু, শরীরের সাথে স্বভাবের সম্পর্কটা কি বলুন তো? যেমন ধরুন বলিষ্ঠ পেশীর সাথে মানসিক দৃঢ়তার অথবা পক্ককেশের সাথে স্থৈর্য্য বা বিচক্ষণতার? আছে কিছু? কিংবা ধরুন গৌরবর্ণের সাথে সৌন্দর্য্যের?

শরীরের সাথে আকর্ষণই বা কিভাবে জড়িত?

পুজোর আগে যে দলে দলে বিউটি পার্লারে ভিড় জমানো বা জিমে গিয়ে সিক্স প্যাকের আকুতি সেটা কি আকর্ষণের সংজ্ঞাকে নির্দেশ করে? যখন এক বিসমকামী ছেলে বেশি 'মাল’ তুলতে, অথবা নিজ যৌনসত্তা নিয়ে আত্মলজ্জিত সমকামী পুরুষ আরও সো কল্ড পুরুষালী হওয়ার আশায় জিমের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ে, তখন তাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আরেকটু এগিয়ে প্রশ্ন করি, শরীরের সাথে যৌন আচরণের কি সম্পর্ক? নীলছবিতে কালো মানেই কেন অ্যাগ্রেসিভ, বন্য?

অন্যদিকে দাড়ি, বয়েস, শারীরিক অপরিপাট্য কিভাবে intellectual হওয়ার সংজ্ঞা হয়? কি করে আপনি আমার থেকে studious ও intellectual হিসেবে visually বেশি convincing হন! 🙂

অনেক প্শ্ন করে ফেললাম। আচ্ছা শেষ দুটো প্রশ্ন,

প্রথম, "গোপাল বড় সুবোধ ছেলে, বললে ঠিক কি শারীরিক বৈশিষ্ট্য আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠে?

দ্বিতীয়, ডানার কোন কোন ছোপ দেখে বুঝবেন কোন প্রজাপতিটা শান্ত, ঘরেলু আর কোনটা আপনাকে সারা রাত জাগিয়ে রাখবে?

*****

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৫

-আজ অনেকটা লেখা হল। পাঠাচ্ছি একটু বাদে।
-কত অব্দি পৌঁছলেন?
-ওই যে, যেখানে শুঁয়েপোকাটা নিজের চারদিকে একটা কোকুন বানিয়ে নিল, সেই পর্যন্ত।
-প্রজাপতিটা যখন বের হবে, তার রঙটা কি হবে?
-সে তো শুঁয়োপোকা জানে। আর জানে সময়।
-শুঁয়োপোকা কি সত্যিই জানে, সময় তার ডানায় কোন রঙের জলছবি আঁকবে?
-তা বটে। সে অত জেনেশুনে কিছু করে না। কোকুনের ভেতর সে যায় স্বভাবে। সেখানে বসে সে খেয়ালখুশির ছবি আঁকে নিজের ডানায়। সেই আঁকিবুঁকি দেখে জগতসংসার কি বলবে, তা নিয়ে সে ভাবে না।
-আচ্ছা অভিজিৎবাবু, আপনি যখন ইস্কুলে ছিলেন, বড় হয়ে শিক্ষক-গবেষক হবেন ভাবতেন? না কি স্বপ্ন দেখতেন অ্যাস্ট্রোনট হওয়ার? অথবা অটো ড্রাইভার? লেখালেখি না করে গবেষনা বা পঠনপাঠনকেই নিজের কেরিয়ার হিসেবে বাছলেন কেন? খেয়ালখুশি না জগতসংসার? একটু ভেবে বলবেন তো।
-আমার শুঁয়োপোকা জীবন শুনতে চাইছেন?
-আপনি নিশ্চিত, আপনি গুটি কেটে বেরিয়েছেন?
-গুটি কাটা কি আর সারা জীবনেও হয়ে ওঠে? এত গুটি বুনি আমরা নিজেদের চারদিকে। একটা কাটতে না কাটতেই বুনে ফেলি আরও কয়েকটা। মায়া, মোহ, মমতা, মাৎসর্য্য, প্রেম, কৃপণতা। ইনসিকিয়োরিটি। ই এম আই। এত গুটি কেটে বেরনো কি আর চাট্টিখানি কথা? এ জীবনে হবে বলে তো মনে হচ্ছে না।

(চলবে)
নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৭

"একাকী গায়কের নহে তো গান,   মিলিতে হবে দুই জনে--
গাহিবে একজন খুলিয়া গলা,   আরেক জন গাবে মনে।
তটের বুকে লাগে জলের ঢেউ   তবে সে কলতান উঠে,
বাতাসে বনসভা শিহরি কাঁপে   তবে সে মর্মর ফুটে।"

তবে তাই হোক রবিবাবু। তোমার কথার অন্যথা হবার যো কই? নৈ:শব্দ্যের সিরিজের এই সপ্তম পর্বে এসে নাহয় লেখক আর পাঠক মিলে যাক। ক্ষণকালের জন্য লেখক মৌন আর পাঠক মুখর হোক।

পরবর্তী চারটি চিঠি অনুজপ্রতিম বান্ধব, স্কুলের জুনিয়র (যাকে স্কুলে চিনতাম না) সৌরদীপের অসামান্য কলমে। আমার পোস্টের উত্তরে ওর লেখা।

*****
চিঠি ১

অভিজিতবাবু,

আমাদের একজন স্যার ছিলেন, ( আপনারও থাকবেন হয়তো), অপূর্ব বাবু। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ক্লাসে তাঁর মুখ দিয়ে প্রজাপতি বেরোত। তাদের শুধু সেদিনের চোখেই দেখা যায়। চারতলার গ্রীলটানা বারান্দা, নারকেলগাছ, ইলেভেন এ -এর ক্লাসরুম, ডেস্ক, ব্ল্যাকবোর্ড সব ঢেকে যেত অপূর্ব সব প্রজাপতিতে। আমরা, শুঁয়োপোকার দল গুটি বুনতাম তাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে।
তারপর একদিন সেই গুটির মধ্যে ঢুকে পড়লাম। তারপর কতদিন কেটে গেছে, বেরনো হয়নি এখনও। এদিকে আপনার লেখার প্রজাপতিগুলো ডাক দিচ্ছে, আয়।
অভিজিতবাবু, আপনি আর কদিন পরে জন্মাতে পারতেন।
*****
চিঠি ২

অভিজিৎবাবু,

গুটি যদি কাটা নাও হয়, তাতে ক্ষতি কি? গুটির ভিতরটা কি কম সুন্দর? জানি, বলবেন উড়ান কোথায় সেখানে। অভিজিতবাবু, উড়ান বুঝি শুধু ডানায় থাকে? আমরা তো সারাজীবন অন্ধকার কোকুনের মধ্যে উড়ি। সে অন্ধকারেরও অন্য আলো আছে। যেমন কোকুন আছে আমাদের শুঁয়োপোকা-দিনগুলোর। উড়ি আর সুতো বানাই। উড়ি আর সুতো কাটি। কাটতে কাটতে জগত নামের কোকুনটুকুকে ছেড়ে যাব একদিন। তখন প্রজাপতি হব। ডানার রঙ চোখে পড়বে না কারো আর।

অভিজিতবাবু, কোকুনের মধ্যে বসে কি বাইরের ডানার রঙ চেনা যায়?

তার আগে শরীর বানাই বা না বানাই, ঘরে থাকি বা বাইরে বেরোই। সবই তো কোকুনের গায়ে পড়া রঙের ছায়া।

*******
চিঠি ৩

অভিজিৎবাবু,

আমার কিন্তু দিনের প্রজাপতি দেখলেই রঙের ধাঁধা লাগে চোখে। সারাদিন ধরে পাখার রঙ ঝরাতে ঝরাতে, সন্ধ্যায় তারা টিউবলাইটের বুকে এসে বসে। আর একটা মোটাসোটা টিকিটিকি তাকে কপ করে গিলে খায়।
আমার মা সারাজীবন টিউবলাইট থেকে বিবর্ণ প্রজাপতিদের সরানোর চেষ্টা করেছে। আজ, তাঁর বয়সের সুযোগ নিয়ে সেই প্রজাপতিটা কখন যে তাঁর ছেলের শরীরে এসে বাসা বাঁধল, সমস্ত জগত অন্ধকার করে এল তার ডানার রঙহীনতায়, তিনি বুঝতে পারেন না। শুধু অপেক্ষা করেন। একদিন একটা টিকটিকি সত্যিই আসবে। আর ছেড়া ডানার প্রজাপতিটা গিলে নেবে।

*****
চিঠি ৪

অভিজিৎবাবু,

মৃত্যুর সাথে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে আছি বহুদিন। আমি চোখ সরালেই, সে আঘাত হানে, আর সে সরালেই আমি। তার চোখে চাইতে গিয়ে সমস্ত আলো অদেখা থেকে যাচ্ছে আজও। তাই আপনার, আমায় যিনি ভালোবাসেন তাঁর কারো চোখের দিকে তাকানো হয় না। প্রজাপতিরা আসে, ফাঁকি দিয়ে উড়ে যায়। আর হঠাৎ বড় হয়ে ওঠা ছেলেটা তাদের পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে চিৎকার করে বলে, "ওই নীল ডানাটা ভীষণ দূরন্ত। উঁচু গাছের দিকে নজর ওর। কমলাজন কিন্তু ধরা দেয় অকুতোভয়ে। ছুটতে হয়, অভিজিৎবাবু!

ডানার ছোপ দেখে প্রজাপতি চেনা যায় বই কি?.....

****

এই পর্ব শেষ হোক ইস্কুলের বন্ধু অননুকরণীয় রণজয়ের অনবদ্য কমেন্ট দিয়ে:

...and the man kept staring at the sky, not sure if he was dreaming about the butterfly in his dream or he himself was the dream of the butterfly... Chuang Tzu

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৮

আচ্ছা অভিজিতবাবু, সৌরদীপবাবু এবং রণজয়বাবু, প্রজাপতির ডানা কি তার নিজের? আর তার গুটির সুতো? সেটা কার?

তার ডানা মেলার অনুমতি কি তাকে কোনও সরকার থেকে নিতে হয়? সমাজ কি ঠিক করে তার ডানার কম্পন স্পন্দন?

আচ্ছা প্রজাপতি কি তার ডানার রঙ নিজে পছন্দ করে?

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ৯

-বুঝলেন, ভাবছি গল্পে এখানে একটা টুইস্ট দেব।
-কি রকম?
-ধরুন, সুজয় আর রিমঝিমের যদি বিয়ে দিয়ে দেই?
-তাহলে অনিকেতের কি হবে? ওর এত বছরের ভালোবাসাকে ভাসিয়ে দেবেন?
-আহা, ভাসাবো কেন? অনিকেতও থাকবে। তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে।
-একটু সিরিয়াল মার্কা হয়ে যাবে না?
-আসলে সুজয়ও তাই চায়।
-আর রিমঝিম?
*******

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ১০

-আপনার হাতে কলম, আপনি এখন ঈশ্বর। যা চাইবেন, তাই করবেন। কিন্তু, বিয়ে দেওয়াটা কি বাধ্যতামূলেক?
-বাহ্, না হলে গল্প জমবে কেন? বিয়ে, ডিভোর্স, আবার বিয়ে...এইভাবেই তো পাঠককে টেনে রাখতে হবে। সিরিয়াল দেখো না বুঝি?
-প্রজাপতিদের নিয়ে কোনও সিরিয়াল দেখি নি এখনও।
-ও, আচ্ছা। আমার কাছে আছে। পাঠিয়ে দেবো।
-কি হয় সেখানে? তারা ভুলে যায় তাদের পুরোনো প্রেম?
-আরে না না। তাদের হঠাৎ দেখা হয়ে যায় রেলের কামরায়। একজনের হাতে থাকে ভাঙা হারমোনিয়াম, অন্যজনের হয়তো ঝালমুড়ি।
-তারপর?
-ঝালমুড়ি আড়চোখে তাকায় হারমোনিয়ামের দিকে।
-আর হারমোনি?
-সে তো তখন চোখ বুজে গাইছে, একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি।
-আসে ঘুরে? একবার বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পরে?
-সেটাই তো ঝালমুড়ি জিজ্ঞেস করতে চায়, "সেই যে আবার আসবে বলে অন্যের হাত ধরে চলে গেলে, কই আর তো এলে না?
-জিজ্ঞেস করল, ঝালমুড়ি?
-নাহ্, তার আগেই যে স্টেশন এসে গেল।
-কি নাম স্টেশনের?
-নীরবতা।

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ১১

-তাহলে এবার গানের পালা সাঙ্গ করা যাক। কি বলেন?
-আপনি গীতিকার, যা ভালো বুঝবেন।
-সুরটি যে আপনার বেঁধে দেওয়া। আপনার অনুমতি না পেলে যে খেলা বন্ধ করতে পারি না।
-খেলা কি বন্ধ হয়, অভিজিৎবাবু? খেলোয়াড় পাল্টে যায়, দর্শক পাল্টে যায়। কিন্তু খেলা বন্ধ হয় না। আজ একদল কানামাছি খেলা শেষ করে বাড়ি ফিরে যায়, কাল আরেকদল কুমীর ডাঙা খেলতে নামে। যতদিন চোখ বাঁধার ফেট্টি আছে, যতদিন জলে কুমীর আছে, যতদিন ডুবতে ডুবতে আঁকড়ে ধরার ডাঙা আছে, ততদিন খেলা থামবে না। খেলা চলতে থাকে এক আবর্তন থেকে অন্য আবর্তনে, এক পাহাড়চূড়ো থেকে অন্য পাহাড়চূড়োয়। এক প্রজাপতি পাখা ছিঁড়ে মুখ থুবড়ে পড়লে, তার জায়গা নেয় অন্য প্রজাপতি। তা না হলে যে পরাগমিলন বন্ধ হয়ে যাবে।
-ন হন্যতে?
-একদমই তাই।
(সমাপ্য)


নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ১২

-আজ বাইরেটা পুরো কুয়াশায় ঢাকা।
-আমাদের এদিকে একদমই ঝকঝকে। দাঁড়ান ছবি পাঠাচ্ছি।
-আমার ফ্লাইট কখন ছাড়বে কে জানে। কুয়াশার জন্য লেট করবে মনে হচ্ছে।
-কি দরকার ছাড়ার। ছাড়লেই তো পৌঁছে যাবেন।
-যাত্রা যখন শুরু করেছি, পৌঁছতে তো হবেই।
-সব যাত্রার কি গন্তব্য থাকে?
-আবার কথার খেলা শুরু করলে?
-কথা বলব না বলছেন?
-কি দরকার? বরং পেঁয়াজের খোসার মতন একটা একটা করে কথাগুলো সরিয়ে নিন। দেখুন, শেষ পর্য়ন্ত কি পড়ে থাকে।
-পড়ে থাকবে নৈ:শব্দ্য।
-অথবা সত্য।
-(হেসে) একই কথা।

(সমাপ্য)

নৈ:শব্দ্যের পত্রগুচ্ছ ১৩

-শুনেছেন, নৈঋতাকে বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে?
-কেন, কি করেছিল?
-প্রেম।
-শুনেছেন, হাদিয়াকে বাড়িতে আটকে রেখেছে?
-কেন, কি করেছিল?
-প্রেম।
-শুনেছেন, অভ্র-অনিকেতকে কলেজ থেকে সাসপেন্ড করেছে?
-কেন, কি করেছিল?
-প্রেম।
-শুনেছেন, প্রীতমকে ওর বাড়ির ছাদে ওর প্রতিবেশীরা পিটিয়েছে?
-কেন, কি করেছিল?
-প্রেম।
-জানেন, প্রত্যেক বছর ভারতবর্ষের ১০০০-এর বেশী ছেলেমেয়ে তাদের পরিবারের হাতে খুন হয়?
-কেন, কি করেছিল তারা?
-প্রেম।
-জানেন, আমেরিকাতে অন্তত: সাত লাখ টিন-এজারস বাবা-মা থাকা সত্ত্বেও হোমলেস?
-কেন, কি করেছিল তারা?
-প্রেম।
-এগুলোর বিরূদ্ধে কিছু লিখবেন না? কিছু করবেন না?
-করব তো।
-কি?
-প্রেম।

(সমাপ্য)

শেয়ার করুন


Avatar: স্বাতী রায়

Re: My Letter to Silence...

আহা! মন ভরে গেল... অপেক্ষায় থাকলাম ...

Avatar: দ

Re: My Letter to Silence...

সুন্দর


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন