সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তোত্তো-চান - তেৎসুকো কুররোয়ানাগি
    তোত্তো-চানের নামের অর্থ ছোট্ট খুকু। তোত্তো-চানের অত্যাচারে তাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। যদিও সেই সম্পর্কে তোত্তো-চানের বিন্দু মাত্র ধারনা নেই। মায়ের সঙ্গে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সে চলছে। নানা বিষয়ে নানা প্রশ্ন, নানান আগ্রহ তার। স্টেশনের টিকেট ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য প্রথম ভাগের উৎসব শেষ। এরপরে দীপাবলি। আলোর উৎসব।তার সাথে শব্দবাজি। আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজমতাদের ক্ষেত্রে সব সময় এই উৎসব সুখের নাও হতে পারে। অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় আওয়াজ,চিৎকার, কর্কশ শব্দশারীরিক ...
  • সিনেমা দেখার টাটকা অভিজ্ঞতা - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
    চট করে আজকাল সিনেমা দেখতে যাই না। বাংলা সিনেমা তো নয়ই। যদিও, টেলিভিশনের কল্যাণে আপটুডেট থাকা হয়ে যায়।এইভাবেই জানা যায়, এক ধাঁচের সমান্তরাল বাংলা ছবির হয়ে ওঠার গল্প। মধ্যমেধার এই রমরমার বাজারে, সিনেমার দুনিয়া আলাদা হবে, এমন দুরাশার কারণ দেখিনা। কিন্তু, এই ...
  • কিংবদন্তীর প্রস্থান স্মরণে...
    প্রথমে ফিতার ক্যাসেট দিয়ে শুরু তারপর সম্ভবত টিভিতে দুই একটা গান শোনা তারপর আস্তে আস্তে সিডিতে, মেমরি কার্ডে সমস্ত গান নিয়ে চলা। এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চু দিনের পর দিন মুগ্ধ করে গেছে আমাদের।তখনকার সময় মুরুব্বিদের খুব অপছন্দ ছিল বাচ্চুকে। কী গান গায় এগুলা বলে ...
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আকাশী ম্যাডাম

Muradul islam

রাত বারোটা আটাশ মিনিট এবং আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় একটি অর্ধ নির্মিত, ভগ্ন দশাগ্রস্ত চেহারার বহুতল ভবনের পাশে। তখন বৃষ্টি নামল আকাশ ভেঙ্গে। বড় বড় ফোঁটায় নামল ঝমঝম করে। আমি দৌড়ে গিয়ে বিল্ডিংটার বারান্দায় আশ্রয় নিলাম।

শহর যেন থেমে গেছে আমার মনে হলো।

বৃষ্টির বড় ফোঁটাগুলিকে আমি রাস্তায় পড়তে দেখছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমার মনে হয় প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা মানুষকে স্পর্শ করার জন্যই আসমান থেকে লাফ দেয়। এর মাত্র ক্ষুদ্র একটি অংশ তাদের উদ্দেশ্যে সফল হয়। আর বাকীরা স্থলে পড়ে,

আরও পড়ুন...

জার্মানী ডায়েরী - ২

Farha Kazi

রান্নাঘর পর্ব:

ডিসেম্বরের চার তারিখ কলকাতা ছেড়েছিলাম , সেদিন উষ্ণতা ছিলো ২৭ ডিগ্রী, রৌদ্র করোজ্জ্বল একটা দিন। ফ্র্যাঙ্কফুর্টে নামলাম -২ ডিগ্রীতে। আগের দিনই প্রবল তুষারপাত হয়েছে।
এক ধাক্কায় মাইনাসে... ২৭ থেকে -২ এর পার্থক্য -২৯ ডিগ্রী, যাকে বলে থার্মাল শক। ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট মাটির উপরে...নীচে রেল স্টেশন। শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত থাকার কারণে বুঝতেও পারিনি বাইরের অবস্থা!
Mainz hauptbahnhof এ নামা মাত্রই জমে গেলাম! প্রধান ট্রেন স্টেশনকে এরা hauptbahnhof বলে। জার্মানরা বড্ডো জটিল

আরও পড়ুন...

একটি কাল্পনিক ইন্টারভিউ

Abhijit Majumder

একটি কাল্পনিক ইন্টারভিউ

-আমার কাজকর্মের বিচার কিন্তু নোট বাতিল দিয়ে করলে চলবে না।
-তবে? জিএসটি দিয়ে করি?
-না, না ওটাও চলবে না।
- তবে স্যার জিডিপি?
-হুমমম্.. নাহ্, ওটারও তো অবস্থা লজ্ঝড়ে। । অন্য কিছু হোক।
-তবে কৃষকদের অবস্থা নিয়ে কথা বলি?
-পরের প্রশ্ন।
-স্যার এক কোটি চাকরি? জব ক্রিয়েশন?
-সেটা হয়েছে। পকোড়া। হ্যাঁ পকোড়া। দিদির চপ, আমার পকেড়া। তারপর ধরো গোরক্ষা বাহিনী, রোমিওদমন ব্রিগেড...চাকরির অভাব? শাইনিংদের জন্য আছে আই টি সেল। ট্রোলপিছু দশ টাকা। এর বাইরে

আরও পড়ুন...

মন ভালো নেই

Sumana Sanyal

ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে পড়ছে। আজ প্রখ্যাত ডাক্তার ভিন্নধর্মের বিবাহ আর প্রেম কে যখন 'লাভ জিহাদ' বলে লেবেল সেঁটে দেন, তখন পূর্ব বর্ধমানের সমস্ত 'বামপন্থী' 'স্যেকুলার' তকমা আঁটা মানুষ চুপ করে থাকেন। ডাক্তার কে চটিয়ে দেবার ক্ষমতা কারোর নেই। ভাবি, আজ যদি কোনো শিক্ষক বলেন মুসলম

আরও পড়ুন...

৯০তম অস্কার মনোনয়ন

Muhammad Sadequzzaman Sharif

অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

শেপ অফ ওয়াটার সেরা ছবি, পরিচালক, চিত্রনাট্য, অভিনেত্রী এবং পার্শ্ব অভিনেত্রী সহ সর্বোচ্চ ১৩টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এতখানি না হলেও এটা মোটামুটি অনুমিতই ছিল।বোবা এক মেয়ে আর এক জলদানবের মাঝের প্রেম কাহিনী দিয়ে ডেল টোরো সেরা প

আরও পড়ুন...

খেজুরবটের আত্মীয়তা

সেখ সাহেবুল হক

খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।
বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার আত্মীয়তা।

মায়ের শাড়ি পরে এসেছো তুমি। ব্রাক্ষ্মণ রমনীর খুঁতখুঁতে গন্ধ লেগে আছে তাতে। সেই শাড়ি বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে আমার পাঞ্জাবির হাতায়। তোমার মায়ের মুসলিম বিদ্বেষে সন্তানসুলভ শ্রদ্ধা রেখে যাচ্ছে আমার নাজুক মুসলমানি...।

লেকের একটুকরো

আরও পড়ুন...

ম্যাসাজ - ২

সুকান্ত ঘোষ

কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি করার জন্যি কনফিউশনটা তৈরী হয় আমাদের মধ্যে। যত দিন যায় ক্রমশঃ ততরূপে ধন আমাদের সামনে পরিস্ফুট হয়। এমন ভাবেই নিমো উন্নত অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক অবস্থা পার করা এবং ক্লাস ফাইভে মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে উঠে সি এ টি – ক্যাট বলে

আরও পড়ুন...

মম দুঃখ বেদন....

Sutapa Das

সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শেষে কমপক্ষে তিনদিন বাক্যালাপ স্হগিত থাকা, আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা, যিনি আমার বাবার ঘোষিত তৃতীয় পক্ষ, তাকে ভুলিয়ে , বকে যেনতেনপ্রকারেণ বাবার সান্নিধ্যে যেতে না দেওয়া এগুলোই পরিবারের বাকী সদস্যদের চেনা চিত্রনাট্য ছিলো। কিন্ত এ কয়েকমাসে সম

আরও পড়ুন...

হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে

Abhijit Majumder

হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে

আমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো জাতীয়তাবাদী ভক্তি প্রদর্শন বাধ্যতামূলেক হয় নি। তাই আমরা নিজেদের আনন্দেই জাতীয়সঙ্গীত গাইতাম, অন্যথা পাকিস্তানে এক্সপোর্ট হওয়ার ভয় থেকে নয়। তবে ভয় কি আর ছিল না? ইতিহাসের বিষ্ণুবাবুকে যমের মত ভয় পেতাম। প্রেয়ারে পৌঁছতে একটু দেরি হলেই সাঙ্ঘাতিক ব

আরও পড়ুন...

জার্মানী ডাইরী-১

Farha Kazi

পরবাস পর্ব:

অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!
বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! কেন রে বাবা! ঝমঝমিয়ে নাম না একবার!! তা নয়, টিপ টিপ করে পড়ছে। যেন একটু বেশি জোরে বৃষ্টি হলেই মাস্টারমশাই খুব বকে দেবে!
কলকাতায় অফিস যাওয়ার সময় খুব চাইতাম একটু মেঘ করুক, সেইসময় আমি অফিস পৌঁছে যাই টুক করে! আর এখানে চাইছি সূর্য উঠ

আরও পড়ুন...

মাতৃরূপেণ

Sutapa Das

আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে।
2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে আসবার পর, 17 তারিখ আমার বড়কন্যেকে তার ইচ্ছাক্রমে আমার কাছেই আনতে , জলপাইগুড়ি যাই বাবার বাড়ীতে, যেখানে তারা দুইবোন অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষে অভয়ারণ্যে বিচরনের আনন্দ উপভোগ করছিলেন। তো, বড়মেয়েকে নিয়ে আমি বেড়োলাম উকিলের সাথে দেখা করতে, আর ছোট

আরও পড়ুন...

খাগায় নমঃ

Ramiz Ahamed

মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।
নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ব্যাগ রেখে জামাকাপড় বদলে একছুটে বাড়ির পেছনের মাঠটা পেরিয়ে পোটোবাড়িতে............
গিয়ে দেখতাম সারি সারি প্রতিমা সাজানো, একমেটে থেকে খড়ির প্রলেপ মেখে নেওয়ার গল্প তৈরী হচ্ছে। পোটোকাকু আমায় দেখে একগাল হেসে বলতেন, 'ওহ! এসে গেছো, দ্যাখো আজ ক

আরও পড়ুন...

হেলেন

Muradul islam

এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।

তখন শীতের সময়। চারিদিকে পড়েছে শীত। মানুষজন গরম কাপড় পরে বের হয়েছেন। অনেকে ব্যস্তভাবে হাঁটছেন, অনেকে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা খাচ্ছেন। ব্যস্ত রাতের পূণ্যভূমি।

এমন অবস্থায় আমাদের লেখক ও তার বন্ধু হাঁটতে হাঁটতে বললেন হেলেনের কথা। ইনু বললে

আরও পড়ুন...

তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম

Sutapa Das

‘ খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি’, ‘ডুবতে রাজী’ থাকার একটা বয়স সব্বার জীবনেই বোধহয় আসে, কেউ সামাল দিয়ে নেয়, কেউ ভেসে ভেসে অবশেষে ডুবেই যায়। জোর দিয়ে বলতে পারি না অবশ্য, আমার অন্য অনেক সদাই প্রশ্নের মুখে পড়া অনুমানের মত এটিও একটি। তাত্ত্বিক আলোচনায় টানলে প্রথম সুযোগেই প্রতিপক্ষ আমায় হেলায় গোল্লাছুট্ করিয়ে ছাড়বেন এ দৃঢ় প্রত্যয় অবশ্য সংশয়াতীত। সে যাই হোক গিয়ে, সে ভয়ে কম্পিত নয় (নাকি!!) এ বীরাঙ্গনার হৃদয়।

ইয়ে , ধান ভানা বড্ড কায়িক-মানসিক শ্রমের ব্যাপার, বরং বেসুরো হলেও শিবের গীত

আরও পড়ুন...

ম্যাসাজ

সুকান্ত ঘোষ

প্রায় মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রফেশ্যনাল ম্যাসাজের বলতে আমার দৌড় ছিল ওই সিধু জ্যাঠা অবদিই। বাড়ির উঠোনে সেই সকাল থেকে বাড়ি শুদ্ধু পাবলিকের দাড়ি, চুল কাটা চলছে। প্রথমেই বাবার দিয়ে শুরু, বাবা দাড়ি কেটে নিমো ফটকগোড়ায় নারানের চায়ের দোকানে রোজকার প্রাতঃকালীন আড্ডায় চলে গেল। কাকা রবিবার ছূটির দিনে দাড়ি ইত্যাদি কেটে একবার গেল চাষের জমিতে রাউন্ড মারতে, সে রাউন্ড মারা অবশ্য সিম্বলিকই ছিল। কাজের কাজ বলতে কাকা মাঝে মাঝে জমি থেকে গোটা কতক মূলো তুলে এনে বলত, মূলো গুলো খাবার মত হয়ে গ্যাছে, মুড়ি দিয়ে খাব বলে নিয়ে এলা

আরও পড়ুন...

দক্ষিণের কড়চা

Parthasarathi Giri

দক্ষিণের কড়চা

▶️

গাঙ ফিরবেন বাবু?

ওরা দুজনেই চোখ তুলে বাম দিকে তাকাল। একটি ছোট ডিঙি নৌকা। নৌকার লোকটি কী বলল তাদের ঠিক ঠাহর হয়নি। বাতাসে জলের সরসর শব্দ। পিছনের গেঁওয়া গাছের মাথায় বড় বাতাসের ঝাঁকুনি।

গাঙ ফিরবেন লাকি গো?

ওরা বুঝল এ গাঙফিরানি ডিঙি। ওপারে মিঠালি বাদি। যে-ঘাটে ওরা দাঁড়িয়ে আছে সেটি পটুয়াখালি ঘাট। মধ্যে বিদ্যাধরী ছলাৎছল।

সূর্য মধ্যগগনে। মেয়েটির কপালে উড়োচুল। শালের পাড়ের আলপনায় মুখটি বেশ দেখায় যেন। যেন এইমাত্র ধুয়ে সাফা করে ক্রিম ট্র

আরও পড়ুন...

রসনামঙ্গল

Parthasarathi Giri

বড়ি দেওয়ার কথা বলছি।

এ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলা মেদিনীপুর। অধুনা পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলাতে ঘরে ঘরে বড়ি দেওয়ার চল।

বড়ির ডালের অনেক রকমফের। সে সব আপনারা আমার চেয়ে বহুগুণ বেশি জানেন। আপনাদের সঙ্গে সে ব্যাপারে পাঙ্গা নিতে গেলে আমি ভির্মি খাব। আমি অন্য কথা বলি বরং।

শীত এল তো ঘরে ঘরে উসখুস মা কাকিমা জ্যেঠিমাদের মধ্যে। কেউ শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।

--মা, বড়ি কবে দেওয়া হবে?
-- আঃ রোসো দিনি বৌমা। শীতের জাড় লাগুক আরো।
-- আরো কত জাড় লাগবে? দাঁত টাঁত তো ভেই

আরও পড়ুন...

রসনামঙ্গল

Parthasarathi Giri

বড়ি দেওয়ার কথা বলছি।

এ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলা মেদিনীপুর। অধুনা পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলাতে ঘরে ঘরে বড়ি দেওয়ার চল।

বড়ির ডালের অনেক রকমফের। সে সব আপনারা আমার চেয়ে বহুগুণ বেশি জানেন। আপনাদের সঙ্গে সে ব্যাপারে পাঙ্গা নিতে গেলে আমি ভির্মি খাব। আমি অন্য কথা বলি বরং।

শীত এল তো ঘরে ঘরে উসখুস মা কাকিমা জ্যেঠিমাদের মধ্যে। কেউ শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।

--মা, বড়ি কবে দেওয়া হবে?
-- আঃ রোসো দিনি বৌমা। শীতের জাড় লাগুক আরো।
-- আরো কত জাড় লাগবে? দাঁত টাঁত তো ভেই

আরও পড়ুন...

দেবকন্যা অথবা একটি খুনের গল্প

Tridibesh Das

একটা ভাঙাচোরা ভ্যানে ওরা রূপসাকে নিয়ে গেল। এতটুকু মায়া না করে ভ্যানে তুলছিল একটা মোটা পুলিশ। পায়ের কাপড় সরে যাচ্ছিল। বাড়ির সামনে ভিড় করে থাকা অজস্র কৌতূহলী চোখ বার বার ছুঁয়ে দিচ্ছিল রূপসাকে।

সবে বৈশাখের শুরু, এখন থেকেই কাঠফাটা গরম। ঘোষেদের দোকানের সামনে একটা লরি দাঁড়িয়ে। সিমেন্টের বস্তা নাবাতে নাবাতে দরদর করে ঘামছে দুজন হাজারী। গরমে রাস্তার পিচ গলতে শুরু করেছে। বড় গাড়ি গেলে চাকার দাগ বসে যাচ্ছে। কলকাতার কাছে হলেও জায়গাটায় এখনো গ্রামের ছাপ স্পষ্ট। রাস্তার দুপাশে এলোমেলো ভাবে গজিয়ে উঠছ

আরও পড়ুন...

Tusu.. Ebong purulia

Aniket Chatterjee

আপনার মতে টুসুর একটা ৫ ফুট উঁচু চৌডল এর দাম কত হতে পারে?

৫০০০ টাকা ?
১০০০ টাকা ?

না এবছর অনেক খরচ করে বানানো চৌডল গুলো বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা বা তারথেকেও কম দাম এ । তাই হয়তো পরের বছর থেকে বন্ধই হয়ে যাবে এই উৎসব।

ছৌনাচ এর থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ন না হওয়া সত্ত্বেও যুগের অগ্রগতির সাথে সাথে শেষ হতে চলেছে টুসু শিল্প।
বামুন্ডির শিল্পীদের মতে শুধু মাত্র কম্পিটিশনের জন্য বানানো খুউব বড় বড় চৌডল ছাড়া একটি চৌদলের লাভ প্রায় ২০-৩০ টাকা। অনেক সময় ৪০০-৫০০ টাকা খরচ কর

আরও পড়ুন...

Three Billboards Outside Ebbing, Missouri (2017)

Muhammad Sadequzzaman Sharif

সাত মাস ধরে নিজের মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের কেসের কোন অগ্রগতি না পেয়ে ভিকটিমের মা এক অভিনব প্রতিবাদ করে বসলেন। প্রায় পরিত্যক্ত তিনটা বিলবোর্ড ভাড়া করে পর পর তিনটা বিলবোর্ডে লিখে দিলেন -
১) RAPED WHILE DYING
২) AND STILL NO ARRESTS?
৩) HOW COME, CHIEF WILLOUGHBY?
তারপর যা হয় আর কি! কেস সমাধানের থেকে পুলিশের সব রাগ গিয়ে পরে বিলবোর্ডে আর ভিকটিমের মা মেলড্রিডের উপরে। যদিও পুলিশ চিফ এই ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। মেলড্রিডের তখন আর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট থাকার মত অবস্থা নাই। যেভাবে হোক মেয়ের হত

আরও পড়ুন...

ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

Binary

কিউবায় মোট পনেরোটি প্রভিন্স আর একটি যাকে ওরা বলে স্পেশাল মিউনিসিপ্যালিটি। আমরা যেখানে গেছিলাম সেই প্রভিন্সের নাম ভিলাক্লারা। আর যে শহরের এয়ারপোর্টে নামলাম বা উঠলাম , সেটা সান্টাক্লারা। এইটুকু ইনফরমেশন অবশ্য যাবার আগেই জানতাম। আর তার সাথে যেটা আমার শিকড়গত বামপন্থা জানিয়ে রেখেছিলো, যে এই সেই সান্টাক্লারা, গেরিলা যুদ্ধের তীর্থক্ষেত্র। চে'র মাত্র সাড়ে তিনশ গেরিলা বাহিনী হারিয়ে দিয়েছিলো আমেরিকান মদতপুষ্ট পাঁচ হাজার সেনা , ট্যাংক , কামান বন্দুক আর সবচেয়ে বড়ো কথা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা-কে। রক্তপা

আরও পড়ুন...

গামছা

সুকান্ত ঘোষ

"কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে” – এই জাতীয় প্রশ্ন মনে হয় কবি আমার মত পাবলিকদের উদ্দেশ্যেই ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সেই কবে। আর তারও আগে থেকে আমার মত পাবলিকদের মায়েরাই ‘সুখে থাকতে ভুতে কিলোয়” বাগধারাটিকে শুধু টিকিয়ে নয় বরং জাগ্রত করে রেখেছেন আমাদের বিদ্ধ করে করেই। সেই দিন ভোর বেলা নাগাদ ফুরফুরে হাওয়ায় বারান্দায় চা খেতে গিয়ে বাঁদরের নাচানাচি এবং পাখির ডাক শুনতে শুনতে ভুতে কিলোনোর ব্যাপারটা আবার চাগাড় দিয়ে উঠল। প্রায় সবার ডাকনাম আছে, কিন্তু আমার কেন নেই – তার মানে কি আমার দিকে ঠিক মত নজর দেওয়া হয়

আরও পড়ুন...

দূরত্বের আখ্যানমালা

ফরিদা

১৩
চলো, আখ্যান লিখি, তুমি কিছু বলো-
কিছু আমি বলি - যদি যেতে চাও, চলো...


যাই ছুঁয়ে আসি, নদীঘাট, একটি শালতি
পলকা দুলতেছিল, কাঁচা পথে কাদের পালকি
হেঁকে যায়, ঝোপ ঝাড়, পিছুপিছু কত বাচ্চারা
জুটেছিল, দেখ মুখ টিপে ঘোমটা আড়ালে
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমক, ওইখানে তুমিই দাঁড়ালে।


তাই হবে, অনেক অনেক দিন আমাদের
কথা নাই, চিঠি ও পত্তর
তোমাকে লেখার খাতা, বারো ভূত দানছত্তর
উড়িয়ে পুড়িয়ে খেয়ে নোনা ইঁট জমিদার বাড়ি
জঙ্গলে দেওয়ালের গলায় বাঁধা আছে অশ্বত্থ

আরও পড়ুন...

স্বভাবজ

Sumana Sanyal

অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পরবর্তী সময়টুকু যেন স্টার জলসা আর জি বাংলার যৌথ প্রযোজনার সিরিয়াল। জমে ক্ষীর। বিউটি মালিকের আছড়ে পড়া কান্নার লাইভ দেখাচ্ছে চ্যানেলগুলো। সেইসঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ায় তাদের যৌথ ছবি সাঁটিয়ে আমাদের বহু লোকের অশ্রুপাত। এর মধ্যে আবার দু' এক টুকরো চাট মশলার মতো টিপ্পনী : "ওর আর কী! গেলো তো মায়ের। ও তো দু'দিন পরেই..."
আমাদের সম্মিলিত ছিছিক্কার, রাগ আছড়ে পড়লো সরকারের ওপর। আমরা সবাই তখন ব্যোমকেশ, সব্বাই ফেলুদা। চুলচেরা বিশ্লেষণে আমরা এক্সপার্ট কমেন্ট দিচ্ছি। কেনো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট

আরও পড়ুন...

শ্রী রামকৃষ্ণ : কিছু দ্বন্দ্ব

Sumana Sanyal

ভাবছিলাম এ বিষয়ে আদৌ কিছু লিখবো কিনা, কারণ প্রবল গালমন্দ খাবার সম্ভাবনা আছে। আসলে, অনেকদিনই, মানে যখন থেকে ভারতবর্ষ এবং বাংলায় গুরুবাদী প্রকল্পের আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন থেকে মাঝেমাঝেই রামকৃষ্ণ দেব এর কথা মনে পড়ে। তাঁকে আমি কখনোই এইসব চমকপ্রদ বাবাদের সঙ্গে মেলাতে পারিনা। সত্যি বলতে কি, কথামৃত পুরোটা পড়িনি আজও। পড়বো নিশ্চয়ই কখনো। কিন্তু যতোটুকু পড়েছি, তাতে ওঁর মধ্যে অদ্ভুত কিছু পরষ্পরবিরোধি চলাচল দেখেছি। সেটা নারী বিষয়েই। বিনোদিনী কে তিনি পঙ্কতল থেকে "উদ্ধার" করেন। বলেন " তুই তো গায়ে হলুদ মেখেই বস

আরও পড়ুন...

ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৩)

Binary

( দ আর কেউ কেউ একজায়গায় চেয়েছিলেন লেখাটা , কিন্তু আজকে কি জানি কেন আমার 'add to first post' অপশনটা পাচ্ছি না , কাল কিন্তু পেয়েছিলাম। ক্ষমাপ্রার্থী। )
--------------------------------------------------------------------------------------------------------
জীপসাফারি-র বাকি গল্পটুকু-তে এখন থাক। তার আগে বলি , এই পর্যন্ত পড়ে যারা ভাবছেন , সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসাবে কিউবা স্বর্গরাজ্য , বিশেষতঃ যাঁরা পারিশ্রমিক আর কাজের সুযোগ-এ অথবা উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষে , আমেরিকার সুবৃহৎ দক্ষতার বাজারে প্যাম্পার

আরও পড়ুন...

আমার লেখা

Sumana Sanyal

অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পরবর্তী সময়টুকু যেন স্টার জলসা আর জি বাংলার যৌথ প্রযোজনার সিরিয়াল। জমে ক্ষীর। বিউটি মালিকের আছড়ে পড়া কান্নার লাইভ দেখাচ্ছে চ্যানেলগুলো। সেইসঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ায় তাদের যৌথ ছবি সাঁটিয়ে আমাদের বহু লোকের অশ্রুপাত। এর মধ্যে আবার দু' এক টুকরো চাট মশলার মতো টিপ্পনী : "ওর আর কী! গেলো তো মায়ের। ও তো দু'দিন পরেই..."
আমাদের সম্মিলিত ছিছিক্কার, রাগ আছড়ে পড়লো সরকারের ওপর। আমরা সবাই তখন ব্যোমকেশ, সব্বাই ফেলুদা। চুলচেরা বিশ্লেষণে আমরা এক্সপার্ট কমেন্ট দিচ্ছি। কেনো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট

আরও পড়ুন...

My Letter to Silence...

Abhijit Majumder

নৈ:শব্দের পত্রগুচ্ছ ১

-সরি আসতে অনেকটা দেরি হয়ে গেল। আসলে বাইপাসে এত জ্যাম ছিল।
-আপনি দমদম থেকে টালিগঞ্জ বাইপাস দিয়ে এসেছেন?! মেট্রো ধরেন নি কেন?
-না মানে, অফিস টাইম, ভিড় হবে তাই।
-আপনি মশাই মুম্বাই গিয়ে পুরো গোল্লায় গেছেন।
-সে গেছি। যাই হোক, আর এম্ব্যারাস করবেন না। বলুন কেন ডেকেছেন?
-আপনাকে একটা গল্প বলব বলে।
-মানে? গল্প শোনাতে এতদূর টেনে আনলেন।
-শুনেই দেখুন। শর্ত হল, যদি গল্পটা পছন্দ হয়, তাহলে আপনাকে তাই নিয়ে একটা বই লিখতে হবে, রাজি?
-কি নিয়ে গল্প?

আরও পড়ুন...

কাঁথা- বৃত্তান্ত

স্বাতী রায়

আমার দুই সন্তানেরই জীবন শুরু হয়েছিল দুটি নিজস্ব অমূল্য সম্পদের মালিক হিসেবে। মেয়েকে তার বড়দিদা, মানে আমার জ্যেঠিমা দিয়েছিলেন আর ছেলেকে দিয়েছিলেন আমার মা। মূল্যের বিচারে তারা তুচ্ছ হলেও আমাদের কাছে তারা অমূল্য। দুটি কাঁথা। রঙিন সুতোর সঙ্গে ভালবাসার বুননে তৈরী দুটি অসাধারণ বস্ত্র খন্ড। নিতান্তই তুচ্ছ, পুরোন কাপড়ের টুকরো দিয়ে তৈরী..... তবু সামান্যকে যেন যাদুস্পর্শে অসামান্য করে তোলা হয়েছে।

মেয়েলি শিল্প। ঠিক যে টানে শিকেয় কড়ি গেঁথে সাজিয়ে তোলা হত, সেই একই টানে কাঁথা সেলাই। কাপড় গুলো কোনক্রম

আরও পড়ুন...

দৈবী

Prativa Sarker

আমাদের শনিদেব তুল্য এ এক স্প্যানিশ দেবী - ঘোর কৃষ্ণবর্ণা, লোল বক্ষ,বীভৎস উজ্জ্বল চক্ষু
- লা সান্তা মুয়ের্তো। শনির দৃষ্টিতে সব ছারেখারে যায়, আবার সুনজরে সর্বসুখ। লা সান্তা মুয়ের্রতোর সামনে নরবলি দেওয়া হয়, সদ্যচ্ছিন্ন রক্তমাখা আঙুল খেতে বাধ্য করা হয় গ্যাবিনো ইগলেসিয়াসের সাড়া জাগানো উপন্যাস জিরো সেইন্টসের নায়ক ফার্নান্দোকে।
কিন্তু এই দেবীর বরাভয় প্রাপ্ত হয় প্রান্তিকতম মানুষজন, গরীবগুর্বো, অসহায় দিন আনি দিন খাই মুটেমজুররা। যতো ছোটখাটো ড্রাগ পেডলার, দোকানী, মুটে মজুর, তাদের সকলের আশ্রয় দেব

আরও পড়ুন...

ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ২)

Binary

ছোট খাটো মুদিখানা বা কিউবান মেমেন্টো বিক্রির হকারি মার্কা দোকান ছাড়া কিউবাতে ব্যক্তিগত মালিকানায় কোনো ব্যবসা নেই। এটা নিয়ে অবশ্য কারো সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয় , কারণ এটাই নিয়ম হওয়ার কথা। আমরা অবশ্য বাজারহাট , কপোরেটিভ স্টোর সেরকম করে দেখিনি। জামা কাপড়ের দোকান-ও দেখিনি। তবে বড়োবাজারী মাড়োয়ারি-র গদি-র মতো কোনো দোকান যে নেই তা নিশ্চিত। এমনকী ওই কনসিয়ারজবাবু-ই বললেন , বিদেশিদের পাসপোর্ট ছাড়া ট্যাক্সি-তে নেওয়াও বারণ ছিল এই সেদিন পর্যন্ত। কারণ দুটো , এক বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা আর দুই , ট্যাক

আরও পড়ুন...

মা-বাবার গল্প: কুম্ভলগড়ের সাধু

Shuchismita Sarkar

কুম্ভলগড়ের সাধু

১৯৯২ এর পুজোর ছুটিতে রাজস্থান যাওয়া হল। পঞ্চমীর দিন স্কুল ছুটি হয়ে বেরোনো। ফেরা ভাইফোঁটা কাটিয়ে স্কুল খোলার আগের দিন। ইন্ডিয়ান রেলে সার্কুলার টিকিট বলে একরকম টিকিট পাওয়া যায়। আগে থেকে কোথায় কোথায় থামা হবে প্ল্যান করে রেলওয়েকে জমা দিতে হয়। শুরু এবং শেষের স্টেশন এক হতে হবে - এই হল শর্ত । একমাস বা চল্লিশ দিন - এইরকম কিছু একটা সময়ের জন্য ভ্যালিড থাকে এই টিকিট। একসময় ইউরোপে ঘোরাঘুরির জন্য ইউরোরেলের খোঁজখবর নিয়েছিলাম। সেখানেও আছে এমন ব্যবস্থা।

আমি তখন ক্লাস এইট, ভাইয়ে

আরও পড়ুন...

গ্রিটিংস কার্ড

Zarifah Zahan

স্কুলবেলা থেকেই নতুন বছরের জন্য অপেক্ষা করতাম আমি। শুধু আমি কেন, 'আমরা' বলাই ভাল, আমরা : ক্লাসের ছেলেমেয়ে সবাই। সেসময় নভেম্বরের কুঁড়িতে ডিসেম্বরের নরম দুপুরফুল ফোটার গন্ধে রোদ্দুর আলসেমি খেলে, বইপত্তর ছড়াতে হত না মাদুরের বেলাভূমিতে। পরীক্ষাপাতির চক্কর ছিল আরও মাস তিনেক পর। ২৫ শে ডিসেম্বরের পর থেকেই শুরু হত সে মাধুকরী অপেক্ষা, কবে আসবে বছরের প্রথম দিন। স্কুল খুললেই গ্রিটিংস কার্ডের ঝাঁপি নিয়ে বসব। কত রঙের সেসব কার্ড, কোথাও ফুল, কোথাও একটা ছোট্ট ঘর , আকাশে দু'তিনটে পাখি, একটা নারকেল গাছ আর নীল নদী

আরও পড়ুন...

ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে

Binary

কিউবা বেড়াতে গেছিলাম বলে দাবি করছিনা যে কিউবা দেখে ফেলেছি। সমাজতান্ত্রিক একটা দেশ দেখা বলতে যেরকম দেশটার মেঠো পথে পথে ঘুরে বেড়ানো বোঝায় , মানুষ কে ছুঁয়ে দেখা বোঝায় , সংস্কৃতিকে নেড়েঘেঁটে দেখা বোঝায় , বিশেষ করে এমন একটা দেশে , যেখানকার বৈশিষ্ট-ই পশ্চিমি বাজারসভ্যতার সঙ্গে ছুঁতমার্গ , তার আমি কিছুই করিনি। কিউবা বললেই আমাদের মতো আশি/নব্বই-এর দশকে বামপন্থী রাজনীতি করা বা বিশ্বাসকরা মানুষ যেমন করে রুকস্যাক কাঁধে মোটরসাইকেলে চে-গেভারার মেঠো পথে ঘুরে বেড়ানো মনে করে , সেরকম কোনো তীর আমি মারিনি। আমি

আরও পড়ুন...