সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় RSS feed

আর কিছুদিন পরেই টিনকাল গিয়ে যৌবনকাল আসবে। :-)

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তোত্তো-চান - তেৎসুকো কুররোয়ানাগি
    তোত্তো-চানের নামের অর্থ ছোট্ট খুকু। তোত্তো-চানের অত্যাচারে তাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। যদিও সেই সম্পর্কে তোত্তো-চানের বিন্দু মাত্র ধারনা নেই। মায়ের সঙ্গে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সে চলছে। নানা বিষয়ে নানা প্রশ্ন, নানান আগ্রহ তার। স্টেশনের টিকেট ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য প্রথম ভাগের উৎসব শেষ। এরপরে দীপাবলি। আলোর উৎসব।তার সাথে শব্দবাজি। আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজমতাদের ক্ষেত্রে সব সময় এই উৎসব সুখের নাও হতে পারে। অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় আওয়াজ,চিৎকার, কর্কশ শব্দশারীরিক ...
  • সিনেমা দেখার টাটকা অভিজ্ঞতা - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
    চট করে আজকাল সিনেমা দেখতে যাই না। বাংলা সিনেমা তো নয়ই। যদিও, টেলিভিশনের কল্যাণে আপটুডেট থাকা হয়ে যায়।এইভাবেই জানা যায়, এক ধাঁচের সমান্তরাল বাংলা ছবির হয়ে ওঠার গল্প। মধ্যমেধার এই রমরমার বাজারে, সিনেমার দুনিয়া আলাদা হবে, এমন দুরাশার কারণ দেখিনা। কিন্তু, এই ...
  • কিংবদন্তীর প্রস্থান স্মরণে...
    প্রথমে ফিতার ক্যাসেট দিয়ে শুরু তারপর সম্ভবত টিভিতে দুই একটা গান শোনা তারপর আস্তে আস্তে সিডিতে, মেমরি কার্ডে সমস্ত গান নিয়ে চলা। এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চু দিনের পর দিন মুগ্ধ করে গেছে আমাদের।তখনকার সময় মুরুব্বিদের খুব অপছন্দ ছিল বাচ্চুকে। কী গান গায় এগুলা বলে ...
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

২০১৫ সালের সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হবার পর, ফরাসী দেশের একটি সুবিখ্যাত কার্টুন উৎপাদক পত্রিকা শার্লি হেবদো (নাকি অন্য কোনো উচ্চারণ হবে কে জানে) এখন একটি অতি পরিচিত নাম। এদের অফিসে হামলার পর, আমি, আপনি সহ প্রায় গোটা দুনিয়া হাতে হাত মিলিয়ে মৌলবাদের বিরুদ্ধে এবং বাক-স্বাধীনতার পক্ষে থাকার শপথ নিয়েছিল। ফ্রান্সের নানা শহরে হয়েছিল বিরাট মিছিল। এবং জন্ম হয়েছিল একটি নতুন বাক্যাংশের। Je suis charlie। অর্থাৎ কিনা 'আমিই শার্লি'। ওই ঘটনার পর এই বাক্যাংশটিতে ক্রমশ বাক-স্বাধীনতার এবং সহমর্মিতা জ্ঞাপনের প্রতীক হয়ে যায় গোটা দুনিয়ায়।

সে ছিল বাক-স্বাধীনতার পক্ষে গলা তোলার সময়। পাশে দাঁড়ানোর সময়। সহমর্মিতা জ্ঞাপনএর সময়। সে সময়ই এরা কী ধরণের কার্টুন প্রকাশ করত, তা নিয়ে ক্ষীণ কিছু আপত্তিও নজরে আসে সবার। কিন্তু যেহেতু বিষয়টা বাক-স্বাধীনতা, যেহেতু বিষয়টা মৌলবাদ-বিরোধিতা, তাই কণ্ঠগুলি খুব তীব্র হয়নি। তবুও সেই সূত্রেই, আমরা যারা ফরাসী জানিনা, তাদের কাছে সেই সময়ই, কিছু কার্টুন অনুবাদে সামনে আসে।ফরাসী ভাষা না জানার ফলে শার্লি হেবদোর সমস্ত কীর্তি দেখা সম্ভব হয়নি, কিন্তু কয়েকটি দেখে, যা বোঝা যায়, যে, এই পত্রিকা খুব বিপজ্জনক এলাকায় বিচরণ করত। অনেকগুলিই ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের বেশ আপত্তিকর লেগেছিল, এবং প্রায় কোনোটাতেই হাস্যরস পাইনি।

সচিত্র উদাহরণ দিয়েই বলা যাক। সমলিঙ্গ বিবাহের পক্ষে ২০১৩ সালে এই পত্রিকা একটি কার্টুন প্রকাশ করেছিল, যা নিচে দেওয়া হল।

http://all-that-is-interesting.com/wordpress/wp-content/uploads/2015/0
1/controversial-charlie-hebdo-gay-rights.jpg

ফরাসী তে এর যা বক্তব্য, তা হলঃ পুত্র পিতা এবং হোলি স্পিরিট একে অপরের সঙ্গে পায়ুকামে লিপ্ত। এতে হাস্যরস কী আছে, আমি ঠিক বুঝিনি। সেটা অবশ্য আমারই দোষ হতে পারে।

এর আগে ২০১০ সালে ফরাসী সরকার সাধারণ্যে ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ করে। পত্রিকাটি সে নিয়েও একটি কার্টুন প্রকাশ করে। চবিটি একটি নগ্ন নারীর। তাই দিলাম না, অফিস টফিসে লোকে ঝামেলায় পড়তে পারে। শুধি বলে দিই, কার্টুনে যে সম্পূর্ণ নগ্ন নারীটিকে দেখা যাচ্ছে, তার পশ্চাদ্দেশের ছিদ্র দিয়ে যে কাপড়ের কাপড়ের টুকরোটি বেরিয়ে আছে, তা সম্ভবত বোরখা। কারণ, ছবির শিরোনাম ছিল "বোরখা পরুন, কিন্তু কেবলমাত্র ভিতরে"।

এরও আগে, ২০০৯ সালে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর একটা সাদা কঙ্কালের ছবি প্রকাশ করে পত্রিকাটি। কঙ্কাল্টি মাইকেল জ্যাকসনেরই।

http://all-that-is-interesting.com/wordpress/wp-content/uploads/2015/0
1/controversial-charlie-hebdo-michael-jackson.jpg

এর শিরোনাম ছিল "অবশেষে মাইকেল জ্যাকসন শ্বেতাঙ্গ হতে পেরেছেন।"

এই পত্রিকার সর্বশেষ যে কার্টুনটি দেখি, সেটা অবশ্য আরও কিছুদিন পরে। সেটা ছোট্টো আইলানকে নিয়ে। সেই আইলান, যে তার বাবা-মা এবং ভাইয়ের হাত ধরে সিরিয়া থেকে পালাচ্ছিল। নৌকো ডুবে যায়, মারা যায় ভাই এবং মা। ছোট্টো আইলানও মারা যায়, টুকটুকে লাল জামা পরে সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা তার নিথর শরীরের ছবি আমরা সকলেই দেখেছি। সেই ছবিটিকে কপি করেই শার্লি হেবদো বানায় তার বিতর্কিত কার্টুনটি।

http://images.indianexpress.com/2015/09/charlie-759.jpg
সৈকতে উল্টো হয়ে শুয়ে থাকা শিশুটির পিছনে দেখা যায় এক হোর্ডিং, যেখানে লেখা থাকে "বিশেষ অফার, একটি শিশুর দামেই দুটি শিশুর মেনু"। আর পাশে দেখা যায় এক ক্রিশ্চিয়ান সন্তকে। যিনি মুচকি হেসে বলছেন, "খ্রিশ্চানরা কিন্তু জলে হাঁটতে পারে, মুসলিমরা পারেনা"।

এগুলো ছিল সেই তথাকথিত হিউমার, যে কথাগুলি বলতে দেবার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল গোটা দুনিয়া। যুক্তি খুব পরিষ্কার ছিল। "আমি তোমার বক্তব্যের বিপক্ষে হতে পারি, কিন্তু তোমার বলার অধিকারের পক্ষে"। অন্যভাবে বললে দাঁড়ায় এই, যে, "তুমি আমাকে বা অন্য লোককে আঘাত দিচ্ছ ঠিকই, কিন্তু সেটা তোমার অধিকার। আমি তোমার সেই অধিকারের পক্ষে দাঁড়াব"। অনুভূতিতে আঘাত করা খারাপ কাজ হতে পারে, নিম্নরুচির কাজ হতে পারে, সমালোচনার যোগ্য হতে পারে, কিন্তু অপরাধ তো নয়ই, বরং অধিকার -- এটাই বাক স্বাধীনতার স্পিরিট।

সে স্পিরিটের পক্ষে বিপুল জনসমাগমের পর তিন বছরও কাটেনি এখনও। কলকাতা পুলিশ একটি মিম বানানোর জন্য গ্রেপ্তার করেছে এক যুবককে। মিমটি নিঃসন্দেহে কুরুচিকর। কতটা কুরুচিকর? এ খুব বিষয়ীভিত্তিক ব্যাপার, আমার ব্যক্তিগত বিচারে শার্লি হেবদোর এই কার্টুনগুলির চেয়ে বেশি কুরুচিকর নয়। কিন্তু পুলিশের আচার আচরণে আকাশ-পাতাল তফাত ( সন্ত্রাসবাদীদের কথা এখানে ধরছিইনা, তারা তো এমনিই মৌলবাদী)। ২০১২ সালে মহম্মদ কে নিয়ে হেবদোর কার্টুনটি প্রকাশিত হবার পর, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়েছিল। ফরাসী সরকার তীব্র নিন্দা করেছিল কার্টুনটির। কিন্তু একই সঙ্গে ফরাসী পুলিশ পাহারা দিয়েছিল পত্রিকার অফিসটিকে, যাতে তাদের বাক-স্বাধীনতা ব্যাহত না হয়।

কলকাতাতেও মিমটি প্রকাশের পর নিন্দার ঝড় নামে। ফ্রান্সের সঙ্গে তফাত হল, যে, পুলিশ তারপরে গ্রেপ্তার করে যুবকটিকে। তাকে 'বিকৃতকাম' আখ্যা দেয়। এবং ফেসবুকে তার নাম-ধাম ও ছবি প্রকাশ করে নিজেদের বীরত্বের কথা গর্ব করে জাহির করে। এবং সেই পুলিশি কাণ্ডের পক্ষেও দাঁড়ানোর জন্য বেশ কিছু লোক পাওয়া যায়। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যে, 'মিম' এর নামে সোশাল মিডিয়ায় যা চলছে, লাল-নীল-গোলাপি বা বাঁকুড়া-পুরুলিয়া নাম দিয়ে বিভিন্ন পাতা বানিয়ে যে মিমগুলি 'হিউমার' হিসেবে পেশ করা হচ্ছে দুনিয়ার দরবারে, রুচি এবং হাস্যরসের প্রশ্নে তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হওয়া সম্ভব কিনা সন্দেহ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, যে, এগুলি এমনকি টিভি সিরিয়ালের চেয়েও অনেক অনেক খারাপ (সাধারণভাবে, সবকটি নয় অবশ্যই)। কিন্তু কেউ নিম্নরুচি বা বিকৃতরুচি বা নেতাজীবিদ্বেষী বা নারীবিদ্বেষী বা হিন্দুবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী হলেই (বা সেরকম স্ট্যাম্প দিলেই) যে সেই স্ট্যাম্পের সুবাদে তার বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়াটা অগণতান্ত্রিক, এই বহুচর্চিত বিষয়টা হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে অনেকে ভুলে যাচ্ছেন।

আসলে এখন সময় বড় দ্রুত চলে। শার্লি হোবদোর কার্টুনের তীব্র নিন্দার পরও তার অফিসকে রক্ষা করেছিল পুলিশ। ২০১২ সালে। তার পর ৫ বছরও কাটেনি। বাক-স্বাধীনতা মানে অনুভূতিতে আঘাত দেবার স্বাধীনতা, সে কথা হয়তো এই ৫ বছরে আমরা ভুলে মেরে দিয়েছি। কিংবা হয়তো কোনোদিন বুঝিইনি, তাও হতে পারে।

55 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

একমত।
এবং এই স্পেসিফিক মিম নিয়ে যে আপত্তি এসেছে, তাই নিয়ে যে তিনটে কথা বলার ছিল, মামুর অন্য পোস্টে তার দুটো আছে। আর আলাদা করে তাই লিখলাম না। ঐ সুনীল গাঙ্গুলি, রন্জন বন্দ্যোর উদা এনে, অন্যটা অভিযুক্তের নাম ছবি দেওয়া আর বিকৃতকাম নিয়ে। তৃতীয় বক্তব্য ঐ মহাপুরুষ শেমিঙ্গ না, মিসোজিনির জন্য জেল হওয়া উচিত যাঁরা বলছেন, তাঁদেরকে। পিনাকীদা দেখ্লাম এনিয়ে গুছিয়ে লিখেছে। মোবাইল থেকে আর টাইপাতে পারছিনা
পিনাকীদার বক্তব্যে ক।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10155777530792534&id=6
04947533

Avatar: S

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

তাঁরকাটার মীমটা কোথায়?
Avatar: pi

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

আমার কাছে সেভ করা নেই।

মামুর পোস্টটা দিয়ে দিলাম।


'আজ সাত সকালে ফেসবুক খুলে চক্ষু চড়কগাছ। আবার ভাবাবেগে আঘাত। এখন পাবলিকের মনে আঘাত দিলে নাকি পুলিশে ধরছে। "মনীষীদের বিকৃত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার" অপরাধে একটি মিম পেজের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। ফলাও করে সেই কৃতিত্বের কথা জানানো হয়েছে তাদের নিজেদের পেজে। ধৃতের নামধাম ছবি সমেত। এবং ধৃতকে সরকারিভাবে 'বিকৃতকাম' আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের নাম-ধাম ব্যক্তিপরিচয় এভাবে ফাঁস করে 'শেম' করা পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা আমার জানা নেই। পুলিশ কি একাধারে আইনরক্ষক এবং সাইকিয়াট্রির মাস্টারমশাই, যে বিকৃতকাম ট্যাগ দিয়ে চিকিৎসার দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে তুলে নিচ্ছে? সেটাও জানা নেই।

তারকাঁটা নামক পেজটি আমি কখনও দেখিনি। খুব সম্ভবত আর পঞ্চাশটি মিম পেজের মতো এটাও খুবই নিম্নমানের। যে মিমটি নিয়ে এত হট্টগোল, সেটা অবশ্য দেখেছি। অত্যন্ত অখাদ্য, নিম্নরুচি এবং চোখের পক্ষে পীড়াদায়ক সে নিয়েও কোনো সন্দেহ নেই। যারা নিন্দেমন্দ করছিলেন, অনেকেই সঙ্গত কারণে করছিলেন। আমি নিজে করিনি। কারণ এরকম অসহ্য বাজে কনটেন্ট দিনে অন্তত কুড়িটা করে নজরে আসে, সবার নিন্দে করতে হলে আর অন্য কিছু করার সময় পাওয়া যাবেনা। সেসব ঠিকই আছে, কিন্তু কথা হল, এর মধ্যে পুলিশ কোথা থেকে এল? মনীষীদের নিয়ে 'খারাপ' লেখা, 'বাজে' ছবি, 'অপমানজনক' বক্তব্য, 'কুৎসিত' অভিব্যক্তি, সবই খুব নিন্দনীয় কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু সেসবের বিচার কি পুলিশ করবে এবার থেকে? মনীষীদের জীবন-যৌবন-যৌনতা নিয়ে অন্তত দুজন, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ফিকশন লিখেছেন। তার কিছুটা কাল্পনিক, সেখানে অনেকেই 'আপত্তিকর' নানা জিনিস খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের কি তাহলে পুলিশে ধরবে? 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' এসবই মনীষীদের জীবন নিয়ে আধা-কাল্পনিক আধা-বাস্তব লেখা। রামমোহন থেকে বিকানন্দ, নিবেদিতা থেকে রবীন্দ্রনাথ, মনীষীদের ছড়াছড়ি। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি, লোকে 'আঘাত' ও কম পায়নি, সেসব লেখা কি তাহলে বাজেয়াপ্ত করা উচিত ছিল?

এ পর্যন্ত পড়ে যাঁরা বলছেন, "হুঁহু বাওয়া কোথায় সুনীল গাঙ্গুলি আর কোথায় এই হতচ্ছাড়ার মিম, তুলনা করলেই হল?" তাঁরা ঠিকই বলছেন। 'সেই সময়' তর্কযোগ্যভাবেই খুব ভালো লেখা। এই তারকাঁটা তার ধারেকাছেও নির্ঘাত আসেনা। কিন্তু কথা হল, দেশের আইন তো 'ভালো' সাহিত্য আর 'খারাপ' লেখা বিচার করতে পারেনা। ওরকম কোনো আইন এখনও পর্যন্ত হয়নি, কী ভাগ্যিস। আইনের জগতে হরেক মাল পাঁচ সিকে, আইডিয়ালি। "উনি মহান মানুষ, তাই যাই লিখুন সাত খুন মাপ", আর "তুই ব্যাটা লিখতে গেলেই বানান ভুল করিস, পদ্য লিখতে গিয়ে পদ্ম লিখলেই তোকে জেলে দেব" এ জিনিস করা যায়না।

'উচ্চরুচি' আর 'নিম্নরুচি'র গন্ধবিচার পুলিশের কাজ নয়। পুলিশ সেটা পারেও না। আমরা যেমন চোর ধরতে পারিনা। যে যা পারেনা, সেটা করতে গেলেই ব্যাপারটা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়, সবসময় না, কিন্তু বিশেষ করে যদি তার হাতে রাষ্ট্রীয় দন্ড থাকে, তাহলে হয়ই। তাই পুলিশের হাতে এসবের ফয়সালার দায়িত্ব না তুলে দেওয়াই মঙ্গলজনক। কোনো মিম পছন্দ না হলে তেড়ে নিন্দে করুন, গলা খুলে করুন। নিন্দে মন্দ, ফেসবুকে রিপোর্টিং, পেজ উড়িয়ে দেওয়া, একটা মাত্রা পর্যন্ত এসব ঠিকই আছে, কিন্তু সিনে পুলিশ ঢুকে পড়লেই ব্যাপারটা বিপজ্জনক মাত্রা নেয়। পুলিশ তখন মরাল পুলিশ হয়ে দাঁড়ায়। সে মরাল পুলিশি কোথায় থামবে তার কোনো সীমারেখা নেই।

অতএব বাংলা কথা হল পুলিশ আইন শৃঙ্খলা দেখুক। অপরাধ দমন করুক। চোর ধরুক, ডাকাত ধরুক। আমরা হাততালি দেব। পেজে গিয়ে লাইক করে আসব। কিন্তু মানুষের 'ভাবাবেগ' রক্ষার দায়িত্ব পুলিশ তুলে নেবার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যাপারটা আপত্তিকর এবং বিপজ্জনক।'
Avatar: hu

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

লেখাটা ভালো লাগল। তবে কি করা উচিত তা নিয়ে নিজের মনেই দ্বন্দ আছে। তারকাঁটা পেজের মিমগুলো দেখিনি। বাঁকুড়া মিম কয়েকটা দেখেছি। রোজ সন্ধ্যায় আপামর বাঙালী যে টিভি সিরিয়ালগুলো গেলে সেগুলো ভালো ভাবেই ফলো করেছি। কলকাতা পুলিশ মনীষীদের অপমান করা হয়েছে বলে যে যুক্তিটা দিয়েছে সেটা ভুলভাল লেগেছে। অভিযুক্তের নাম-ছবি প্রকাশ করা তো রীতিমত বেআইনী। কিন্তু বাকস্বাধীনতার নামে মিসোজিনি কতখানি চলতে দেওয়া যেতে পারে এবং কোথায় গিয়ে একটা লাইন টানা উচিত সেই আলোচনাটা হওয়া দরকার। বাংলা সিরিয়ালের একটা খুব কমন প্লট লক্ষ্য করেছি যেকোন কারনে বাড়ির বউকে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া। এই প্লট যখন বহুল প্রচলিত হয়, রোজ সন্ধ্যায় রিপিট হয়, তখন অনেকে ভেবে বসতেই পারেন এভাবে বের করে দেওয়া যায়, এখানে মেয়েটির কোন অধিকার নেই। সিরিয়ালের পর সব ঘটনা কাল্পনিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এই ভাবনাকে আটকানোর উপায় নেই। এক্ষেত্রে তাহলে কি করনীয়? বাকস্বাধীনতা ও দর্শকের পছন্দের দোহাই দিয়ে এই প্লটের সম্প্রচারে রাশ না টানার ফলটা কি খুব ভালো হচ্ছে?
Avatar: Ishan

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

টিভি সিরিয়াল বা সিনেমায় শুধু 'আদর্শ নারী'কে দেখায় (মানে ওদের মতে যেটা অদর্শ, ভিলেন, বা ঘর-কি-বহু দিয়ে সেটাই তো তুলে ধরে) তা তো নয়। 'আদর্শ গরীব লোক' দেখায়। টিভিতে বা সিনেমায় চাকর-বাকরের রোল দেখবেন। মূলত একটু নিচু করে দেখা হয়। টিভি এবং সিনেমায় 'আদর্শ গ্রামের লোক' বা 'আদর্শ মফঃস্বলী' দেখায়। তারা অদ্ভুত অ্যাকসেন্টে কথা বলে, শহরের লোকেদের চেয়ে একটু নিচু। ইত্যাদি প্রভৃতি। এছাড়াও টিভিতে দেখানো হয় নানা ধর্মীয় 'অলৌকিক' কান্ডকারখানা। এর সব কটাই 'আধুনিক' চোখে অদ্ভুত এবং আপত্তিকর লাগে। এবং এর সবকটাই লোকে হাউমাউ করে গেলে। আমরা মাঝেমাঝে সমালোচনা করি, ইয়ার্কিও করি। সেসব ঠিক আছে। কিন্তু বন্ধ করার দাবী বা লাইন টানার দাবী কখনও ওঠেনা। শুধু 'মেয়েদের প্রসঙ্গে আলাদা করে কেন উঠবে বুঝতে পারিনা।

তদুপরি, চাকর-বাকরদের নিচু চোখে দেখানোকে আমরা 'শ্রেণীঘৃণা' বলে লেবেল করিনা। গ্রামের লোকেদের নিচু নজরে দেখানোকে 'গ্রামঘৃণা' বা 'কৃষকঘৃণা' বলে লেবেল মারিনা। মহাভারত বা আজকের বামাক্ষ্যাপা সিরিয়ালকে সরাসরি মৌলবাদী বলে দাগাইনা। শুধু 'পতিই পরম গুরু' মার্কা বাণীকে সরাসরি মিসোজিনি বলে আখ্যা দিই। সেটা নারীঘৃণা বা নারীবিদ্বেষ, যে অর্থেই বলুননা কেন।

এই দুম করে দাগিয়ে দেওয়াটা সমস্যাজনক। কারণ স্টিরিওটাইপিং মানেই 'ঘৃণা' নয়। একটা জনপ্রিয় সিরিয়াল হোক, সিনেমা হোক, বা মিম, তার বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনার অনেকগুলো অংশ থাকে।
১। বাস্তবতা। 'জনপ্রিয়তা' বহুলাংশেই জনতার 'বাস্তবতা' সম্পর্কে যা ধারণা তা দিয়ে নির্ধারিত। অধিকাংশ স্টিরিওটাইপিং সেই জায়গা থেকেই আসে। 'আদর্শ' গ্রামের লোকেদের অ্যাকসেন্ট আলাদা হয়, চাকর-বাকররা ভদ্রলোকেদের চেয়ে একটু নিচু হয়। 'আদর্শ নারী'র একটি নির্দিষ্ট স্থান আছে সমাজে। এর কোনোটাই সিনেমা বা সিরিয়াল বা মিম বানিয়ে তোলেনা। এর সঙ্গে নির্মাতাদের ঘৃণারও বিশেষ সম্পর্ক নেই। মানে, তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘৃণা পোষণ করতেও পারেন, নাও পারেন, কিন্তু সেটা এই স্টিরিওটাইপিং থেকে বোঝা যায়না।
২। নির্মাতাদের সৃজনশীলতা। স্রেফ বাস্তবতা দেখালেই তো লোকে দেখবেনা। একটু নতুন কিছু যোগ করতে হবে। একবিংশ শতকের মিডিয়া বিস্ফোরণ এই জায়গাটায় প্রচন্ড প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এবং প্রতিযোগিতা যে উৎপাদনের মানোন্নয়ন ঘটায়না সবসময়, বরং টি-আর-পির খেলা মান নামিয়ে আনে, সেটা আজকের গণমাধ্যম দেখলেই বোঝা যায়। এই প্রতিযোগিতা যেটা ঘটিয়েছে, সেটা হল, প্রতি মুহূর্তে নতুন চমক তৈরি করার চাপ। খেলাটা হল গণ উন্মাদনা তৈরির। যেটা তাৎক্ষণিক এবং তীব্র। রবিশঙ্কর অন্নপূর্ণার আঙুল কেটে দিয়েছিলেনই হোক, আর দুজন মাস্টার মিলে একটি চার বছরের বাচ্চার যৌনাঙ্গে হাত দিয়েছেই হোক, এখানে 'সত্য' 'মিথ্যা' 'ঘৃণা' 'প্রগতিশীলতা' কিচ্ছু ম্যাটার করেনা। একটা জিনিসই পড়ে থাকে। আমার বিষয়বস্তু কতটা উন্মাদনা তৈরি করতে পারল। লোককএ কতটা 'এনগেজ' করতে পারল। আমরা সবাই এই খেলাই খেলে যাচ্ছি। সচেতনে বা অবচেতনে।
৩। নির্মাতাদের উদ্দেশ্য। এটা আসে এই দুটো ধাপের পর। যেখানে নির্মাতারা আগের দুটো বিষয় সম্পর্কে সচেতন। অর্থাৎ 'বাজার কী খাবে' এই নিয়ে তাঁর একটা ধারণা আছে। সেটাকে তিনি ব্যবহার করেন। গণমাধ্যমরা এটাকে ব্যবহার করে স্রেফ পাঠক বা দর্শক বাড়ানোর খেলায়। আলাদা করে কিছু বলার নেই, এবেলা বা এই সময়ের ই ভার্সান খুললে যে কোনোদিন ভুরি ভুরি উদাহরণ পাওয়া যাবে। বিজেপির মতো পার্টিরাও এই পদ্ধতিটা সম্পর্কে সচেতন। তারা জিনিসটাকে ব্যবহার করে নিজেদের মতাদর্শ প্রচারের জন্য। যেমন, (এটা অবশ্য আমার ধারণা, কিন্তু একেবারেই শূন্যে বানানো নয়), এই নেতাজী সংক্রান্ত মিমটি ছড়ানো হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট হাওয়া তোলার জন্য। বিজেপি মানে যে মূলত অবাঙালি কালচার, সেটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল বাজারে। কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি হিসেবে 'বাঙালির ঐতিহ্যকে অপমান', 'বাঙালির নারীজাতিকে অপমান', ইত্যাদি হাওয়া তোলার জন্য। যিনি বানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য এটা ছিলনা, তিনি খালি ঝপ করে পপুলার হতে চেয়েছিলেন। বিরুদ্ধতার হাওয়াটা যেখান থেকে তোলা হয়েছে, আমি তাদের কথা বলছি।

ফলে মোদ্দা কথা যেটা দাঁড়াল, সেটা হল, 'উদ্দেশ্য' (সেটা 'ঘৃণা' হোক বা 'প্রগতি') গণমাধ্যমের উপস্থাপনার একটা অংশ মাত্র। এবং 'উদ্দেশ্য'টাও খতিয়ে না দেখলে বোঝা মুশকিল। হয়তো উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে মনীষীদের অপমান রোধ, বা নারীর পক্ষে আওয়াজ তোলা, কিন্তু গভীরে গেলে দেখা যেতেই পারে, উদ্দেশ্য আসলে সঙ্ঘ পরিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

এতটা লম্বা করে লিখলাম, এই জন্য, যে, গণমাধ্যমের পাগলাটেপনায় আমরা যারা বিচলিত, পুরোটা খুঁটিয়ে না দেখলে তারা বিকল্প কোনো স্ট্র্যাটেজি কখনও নিতেই পারবেনা। আজকের সামাজিক মাধ্যম খুব কঠিন ঠাঁই। এখানে স্রেফ শ্রেণীঘৃণা বা মিসোজিনি ট্যাগ করে কোনো লড়াইই লড়া যাবেনা। বরং এখানে খেলতে খেলার নিয়ম টা ভালো করে বোঝা দরকার। একটা জিনিস কীভাবে পপুলার হয়, তার ডায়্নামিক্সটা বোঝা দরকার। সেটা বুঝে নিজেদের কনটেন্টকে ছড়ানো দরকার। এই চটজলদি চটকের বিরুদ্ধে, নিজস্ব কনটেন্ট এবং প্রকাশভঙ্গীই একমাত্র আয়ুধ হতে পারে, অন্য কিছু না।

দুঃখের কথা কী বলব। এই বিজেপি বাহিনীর আগে, এমনকি খবরের কাগজের উত্থানেরও আগে, মাধ্যমের এই ক্ষমতার কথা আমরা বুঝেছিলাম। সিরিয়াস কথাকে পপুলার মোড়কে কীভাবে গুঁজতে হবে, গুরুচণ্ডা৯ ছিল, তারই গবেষণাগার। সেটা ব্যর্থও না। বিনয় করে লাভ নেই, বাংলা লেখার ইতিহাসে প্রথম যে দুটি লেখা ভাইরাল হয়, তার একটু দুখেবাবুর একটি আমার। দুখেবাবুর টা পরবাসে বেরিয়েছিল, কিন্তু তিনি আমাদের লেখকও ছিলেন তো। ভাষা, প্রকাশভঙ্গী, এবং বিষয়, সব নিয়েই চিন্তাভাবনার একটা জায়গা গড়ে উঠছিল। কিন্তু কিছুদিন বাদেই বিষয়টা স্রেফ দাঁড়িয়ে গেল নরম, পেলবতা। মিষ্টিমধুর নস্টালজিয়া এবং স্মৃতিচারণে। না, ভুল ভাববেন না, এগুলোকে আমি খারাপ বলছিনা একেবারেই। সুখপাঠ্য জিনিস খারাপ কেন হবে। কিন্তু বড় মিডিয়ারা যেখানে সশরীরে সচেতনভাবে চমক তৈরিতে নেমে পড়েছে, সেখানে প্রতিনিয়ত নিজের প্রকাশভঙ্গী এবং বিষয় নিয়ে ভাঙ্চুর না চালালে, 'পাবলিক কেন আমার লেখা পড়বে' না ভেবে চললে, নিজের গলার আওয়াজ তোলার কোনো উপায়ই নেই। অবশ্যই, এই গলা তোলাটা আমি আমার অ্যাজেন্ডার কথা বললাম। অন্যদের একেবারেই সেরকম কোনো অ্যাজেন্ডা না থাকতে পারে। তাতে দোষের কিছু নেই।
Avatar: hu

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

এইরে! আলাদা করে লেখা উচিত ছিল হয়ত। মিসোজিনি নেহাতই উদাহরণ হিসেবে এসেছে। ডোমেস্টিক হেল্পদের যেভাবে সিরিয়ালে দেখানো হয় তা নিয়েও আপত্তি আছে বইকি। "ঘরের বউএর সাথে কাজের লোকের চেয়েও খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে" - এও সিরিয়ালে খুব কমন প্লট/ডায়ালগ। গ্রামের লোক, কেরিয়ারিস্ট মেয়ে সব নিয়েই প্রচুর আপত্তিজনক চরিত্রচিত্রণ আছে। এগুলোর সবকিছু নিয়েই ভাবছি। শুধু মিসোজিনি না।
Avatar: পাই

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

এটা ঠিক কীভাবে হচ্ছে?

'কিন্তু গভীরে গেলে দেখা যেতেই পারে, উদ্দেশ্য আসলে সঙ্ঘ পরিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
'
Avatar: Parvej Khan

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

একদম একমত।
Avatar: Ishan

Re: আমি তোমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু বলার অধিকারের পক্ষে

এইটা সবক্ষেত্রেই হচ্ছে এমন না। আবার হচ্ছেই, যে, এর কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই। শুধু পর্যবেক্ষণ এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। ব্যস।

এতদিন, বঙ্গে সঙ্ঘপরিবারের উত্থানের প্রচেষ্টার মোকাবিলা করার জন্য একটা বাঙালিত্বের লাইন চলছিল। বাঙালি নববর্ষ পালন করা হল। ইদকে ফুড ফেস্টিভ্যালে পরিণত করা হল। জোরকদমে রামনবমী পালনের বিরুদ্ধতার সময় ব্যাপারটা আরও জোর পেল। এবং রাজস্থানে বাঙালি খুনের পর ব্যাপারটা চরমে পৌঁছল। উল্টো দিকের লোকেরা তো এমনি বএ থাকবেনা। তাই তারাও লাইন বদলাল। কেরালয় 'বাঙালি খুন' ধরে বাঙালিত্বের লাইনটাকে একটা 'বাঙালি হিন্দুত্ব'এর লাইনে পরিণত করার চেষ্টা হল। সেটা আগেও হয়েছে। বাঙালি মনীষীদের অপমান, নিবেদিতা এবং বিবেকানন্দকে অপমান -- এই লাইনটি খেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটা খুব অর্গানাইজড ছিলনা। অতএব এবার 'নেতাজী'র অপমান, লাইন। বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে বাঙালি সহিষ্ণু হলেও নেতাজিকে নিয়ে একেবারেই নয়, এটা জেনে বুঝেই। লিবারালরা বাক স্বাধীনতা নিয়ে বলতে গেলেই তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে, এটা জেনেই। যাঁরা পুলিশে নালিশ করেছেন, যাঁরা মনীষীদের অপমান নিয়ে সক্রিয়ভাবে উত্তেজিত, তাঁদের ডেমোগ্রাফি এই চিত্রটাই তুলে ধরছে আর কি। যদিও কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই।

তার সঙ্গে একই ভাবে জুড়ে গেছে লিঙ্গ রাজনীতিও। মহিলাদের নিয়ে সঙ্ঘ পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই সরব। ধর্ষণের অপরাধীকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে, এ তাদের দীর্ঘদিনের দাবী। তাদের মহিলা সংক্রান্ত দাবীদাওয়ার পুরোটাই অবশ্য মেয়েদের 'রক্ষা' করতে হবে, এইরকম জায়গা থেকে আসছে। উল্টোদিকে লিবারালদের নারী-আন্দোলনেরও গত পাঁচ বছরে মোড় ঘুরে গেছে। দশ বছর আগে নারীর অধিকার বলতে মূলত ছিল 'লিবারেশন', এখন মোড় ঘুরে মুখ্য জায়গায় চলে এসেছে 'সেফটি'। লিবারেশন এখন পিছনের সিটে। ফলে একদিকে নিরাপতা এবং অন্যদিকে সুরক্ষা, একটা আদানপ্রদানের জায়গা এমনিই তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায়, আপ্নই যদি বলেন, 'মেয়েদের নিয়ে কটু কথা বলাটাও বাক্স্বাধীনতা' মহিলাদের একটা বড়ো ভোকাল অংশ তার পিছনে থাকবেনা। উল্টোদিকে 'মহিলাদের ভোগ করবে বলেছে (শব্দটা ছিল ঠাপানো), এই ভোগবাদী অপসংস্কৃতির বিকৃতকামী দালালকে হাজতে পুরে পেটাও' এটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে বিভিন্ন সেকশনের মানুষের কাছে। আজকে যারা নেতাজীর অবমাননাকারীকে বাকস্বাধীনতা দিতে রাজি নয়, মেয়েদের অপমানকারীকে বাক্স্বাধীনতা দিতে রাজি নয়, পরশুদিন এই দাদা কালচার তাদেরও বাকস্বাধীনতা দেবেনা, এটা ইমিদিয়েটলি ক্রুদ্ধ মানুষের মাথায় ঢোকানো তো সোজা নয়। ফলে সব জায়গাতেই এইসব ফাঁকফোকর দিয়ে একটু একটু করে গ্ড়ণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এই আর কী।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন