Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

বিজয় দিবস

Muhammad Sadequzzaman Sharif

১৬ ডিসেম্বর,১৯৭১ সালে আসলে কি হয়েছিল? পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল মিত্র বাহিনীর কাছে, মেজর জেনারেল জ্যাকব আত্মসমর্পণের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন,লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। মোটামুটি ১৬ তারিখের মূল আলোচিত ঘটনা এমনই। এই বছর গত ১৪ আগস্ট ভারতীয় টিভি চ্যানেল সনির sony liv নামক ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি নামে একটা শর্ট ফিল্ম প্রকাশ করে। তারা যদিও কোথায় উল্লেখ্য করেনি যে এটা পুরোটা সত্য ঘটনার উপরে নির্ভর করে বানানো হয়েছে। কিন্তু মানুষ কেন জানি ধরেই নিয়েছে এটাতে যা দেখিয়েছে তা পুরোপুরি সত্য। মুক্তিযোদ্ধাদের কে হাইলাইট করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ কে যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয়েছে সেই সাথে এই শর্ট ফিল্মে ইতিহাস কে দুমড়ে মুচড়ে নিজের মত করে লেখাও হয়েছে। অনেকটা বিষাদ সিন্ধুতে যেমন দারুণ থ্রিলার ভাব আনা হয়েছিল ইতিহাস কে পাসে সরিয়ে রেখে, এখানেও অনেকটা তেমনই করা হয়েছে।

৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যা হয়েছে তার কথা বলতে হলে একটু আগে থেকে বলতে হবে। যুদ্ধের পরিস্থিতি বুঝে নিয়াজি ১২ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে পরবর্তী করনীয় জানতে চেয়ে বার্তা পাঠান। Witness to Surrender বইয়ে সিদ্দিক সালিক লিখেছেন যে “ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক তার বহুবিধ কাজের ভিতর থেকে সময় বের করলেন এবং গভর্নর ও জেনারেল নিয়াজিকে ‘যুদ্ধ বন্ধ ও জীবনহানি’ রোধের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থাবলি গ্রহণের নির্দেশ দিলেন।”

প্রেসিডেন্টের জবাব আসে ১৪ তারিখ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে। নিয়াজি এবং রাও ফরমান আলি ইউএস কনসাল জেনারেল হাবার্ট স্পিভ্যাকের সাথে দেখা করে যুদ্ধ বিরতির ব্যবস্থা নিতে বলেন।জবাবে স্পিভ্যাক এটা তার এক্তিয়ারের বাইরে বলে জানান। তারপরেও তিনি একটা বার্তা পাঠাবেন বলে জানান। রাও ফরমান আলী একটা খসড়া বার্তা দেন, সেখানে পাকিস্তানের দাবি যুদ্ধ বিরতি, সবার যান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার জাতিসঙ্ঘের গৃহীত ব্যবস্থা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তরিত হবে বলে উল্লেখ্য ছিল। স্পিভ্যাক বার্তাটি ভারতীয়দের কাছে পাঠানোর আগে ইউএসেতে আগে পাঠান। ১৫ তারিখ জেনারেল মানেকশ বার্তাটি পান।মার্কিন সরকার একদিন বার্তাটি ধরে রেখেছিলেন দাবার গুটির কোন পরিবর্তন হয় কিনা দেখার জন্য।১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টায় জেনারেল মানেকশ জ্যাকব কে ফোন করে ঢাকা আসতে বলেন এবং আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। জ্যাকব কে নিয়াজি তার অফিসে স্বাগত জানান। জ্যাকব সেখানে দেখতে পান রাও ফরমান আলী কে, মেজর জেনারেল জমসেদ কে, নৌ বাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল শরিফ, বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডোর ইমাম ও বিগ্রেডিয়ার বকর সিদ্দিকিকে। তিনি সেখানে আরও দেখা পান ভারতীয় বাহিনীর মেজর জেনারেল জি সি নাগরা কে।

জি সি নাগরার কথা আলাদা করে বলা দরকার। তিনি তার বাহিনী নিয়ে মানিকগঞ্জ দিয়ে ঢাকার কাছে এসে যান ১৬ তারিখ ভোরের দিকে। তিনি নিয়াজির কাছে চিরকুট পাঠালেন : “প্রিয় আব্দুল্লাহ, আমি এখন মিরপুর ব্রিজের কাছে। আপনার প্রতিনিধি পাঠান।” সকাল নয়টার দিকে নিয়াজি এই চিরকুট হাতে পান। নিয়াজি সহ সকলে যখন ভারতীয় বাহিনীর কাছ থেকে আলোচনার জন্য প্রতিনিধির অপেক্ষা করছে তখন ঢাকার প্রায় কলিজার কাছ থেকে ভারতীয় বাহিনীর অফিসারের কাছ থেকে এমন চিরকুট পেয়ে তারা হতভম্ব হয়ে যান। এটাই আলোচক দল কিনা তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। এই দল কে অভ্যর্থনা জানানো হবে নাকি মোকাবেলা করতে হবে তা জানতে চাইলে নিয়াজি চুপ করে থাকেন। রাও ফরমান আলী নিয়াজি কে জিজ্ঞাস করেন, আপনার কোন রিজার্ভ বাহিনী আছে? নিয়াজি এবারও চুপ করে থাকেন। রিয়ার অ্যাডমিরাল শরিফ পাঞ্জাবীতে অনুবাদ করে আবার জিজ্ঞাস করেন, কুজ পাল্লে হ্যায়? ( থলেতে কিছু কি আছে?) নিয়াজি মেজর জেনারেল জমসেদের দিকে তাকালে তিনি দুই দিকে মাথা নাড়েন। রাও ফরমান আলী তখন বলেন যদি তাই হয় তাহলে যান - যা সে বলে, করেন গিয়ে। মেজর জেনারেল জমসেদ নাগরাকে মিরপুর থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসেন। অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে নাগরা ঢাকা প্রবেশ করেন। ঢাকার পতন মূলত তখনই হয়ে যায়।

জ্যাকব নাগরাকে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বলেন। তিনি নিজে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা করতে লাগেন। আত্মসমর্পণের শর্ত যখন পাঠ করে নিয়াজি কে শোনানো হয় তখন নিয়াজি দরদর করে চোখের পানি ফেলে কাঁদতে থাকেন। তার কি সেদিন মনে হয়েছিল যে তিনি প্রথম যেদিন ঢাকার দায়িত্ব নেন সেদিন তিনি কি বলেছিলেন? ১০ এপ্রিল তিনি ঢাকার দায়িত্ব নিয়ে নিজের অফিসারদের সাথে রাগারাগি আর গালাগালি দিয়ে আতঙ্কিত করে ফেলেছিলেন। তিনি সেদিন বলে ছিলেন “ ম্যায় ইস হারামজাদী কওম কি নাসাল বাদাল দুংগা। ইয়ে মুঝে ক্যায়া সমঝতে হ্যায়?” (আমি এই বেজন্মা জাতির জাত বদলে দেবো। এরা আমাকে কি ভাবে?) প্রথম দিনই তিনি ঘোষণা দেন বাঙালি নারীদের উপরে তার সৈন্যদের লেলিয়ে দিবেন তিনি। যাই হোক, আত্মসমর্পণের শর্ত শুনে নিয়াজি প্রতিবাদ জানান নাই, প্রতিবাদ করেছিলেন রাও ফরমান আলী। রাও ফরমান আলী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি ছিলেন না, তিনি ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাচ্ছলেন। কিন্তু জ্যাকব তাদের কে বলে যে আত্মসমর্পণ এই শর্ত মেনেই করতে হবে। সব ঠিক হয়ে যাওয়ার পরে জগজিৎ সিং অরোরা কে আনতে নিয়াজি কে নিয়ে বিমান বন্দর যান জ্যাকব। পথে মুক্তিযোদ্ধারা নিয়াজিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিমান বন্দরে কাদের সিদ্দিকিও আসেন নিয়াজিকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। জ্যাকব দক্ষ হাতে সব সামাল দেন। অরোরা নিজের স্ত্রী কে নিয়ে আসেন আত্মসমর্পণের সাক্ষর করার জন্য। পৃথিবী ইতিহাসে এই রকম আত্মসমর্পণ একটা বিরল ঘটনা। তারচেয়েও বিরল ঘটনা সম্ভবত অরোরার স্ত্রী কে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নিয়ে এসে আত্মসমর্পণ দলিলে সাক্ষর করা। এখানে একটা ঐতিহাসিক গড়মিল আছে যা আজো মীমাংসা হয়নি কেন ( বা হলেও আমি পাইনি কোথাও) কে জানে। গড়মিল হচ্ছে জ্যাকব বলছে তিনি সাক্ষর করার সময় দলিলের শিরোনাম দেখে হতবুদ্ধি হয়ে যান। তিনি দেখেন সেখানে লেখা “ Instrument of surrender - To Be Signed at 1631 Hours IST (Indian Standard Time) । তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন ৪ টা ৫৫ মিনিট বাজছে। পরবর্তীতে জ্যাকব বলেন তিনি কোন দিনই বুঝতে পারেন নাই মানেকশ কিভাবে আগে থেকে চারটা একত্রিশ মিনিট আত্মসমর্পণের সময় হিসেবে নির্ধারণ করল। তিনি বলেন,যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল সে সময়ে অরোরা আর সঙ্গীরা বিমান বন্দরে অবতরণই করেন নাই, এটা তার কাছে একটা রহস্য।

আরেকটা মজার তথ্য দিয়ে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। পরবর্তীতে নিয়াজির আত্মসমর্পণের নিদর্শন সরূপ তার ল্যানিয়ার্ড(ছোট দড়ি) আর .৩৮ রিভলভার জ্যাকব পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পান রিভলভারটি ময়লা দিয়ে ভর্তি, ব্যারেল বন্ধ হয়ে আছে ময়লা দিয়ে, বেশ অনেকদিন যে তা পরিষ্কার করা হয়নি তা নিশ্চিত। আর যে ল্যানিয়ার্ডটি তিনি দিয়েছিলেন তা নোংরা, কয়েক জায়গায় ছেঁড়া, ঘষা খাওয়া। জ্যাকব তার মতামত দিয়েছেন যে এটা কোনমতেই নিয়াজির হতে পারে না। নিয়াজি কারো কাছ থেকে নিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয় এগুলা নিয়াজির হতেও পারে, অত চকচকে করে রাখার তার সময় কোথায় ছিল!!!

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাই কে।

তথ্য সূত্র:
১. সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা, একটি জাতির জন্ম - লে জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব।
২. এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওউন কান্ট্রি, ইস্ট পাকিস্তান ১৯৬৯ - ১৯৭১ - মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
৩. নিয়াজির আত্মসমর্পণের দলীল - সিদ্দিক সালিক
৪. বাংলাদেশের জন্ম - রাও ফরমান আলী খান
মুক্তি শর্ট ফিল্মের লিংক -

https://www.youtube.com/watch?v=6bGdIAf2J_k

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: বিজয় দিবস

বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়--১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধটি যেহেতু শুধু 'বাংলাদেশ' নামক ৫৬ হাজার বর্গমাইল স্বাধীনতার একক যুদ্ধ ছিলো না, এর ব্যপ্তি ছিলো সব ধরণের শোষণ থেকে মুক্তির, তাই এতে বাঙালির পাশাপাশি ভাষাগত সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠির মানুষও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।...

মুক্তি যুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু গংগা/তিস্তার পানি বণ্টন থেকে শুরু করে বাজার দখল, অসম বাণিজ্য ইতাদিতে ভারত এদেশ থেকে মাশুল আদায় করছে শত সহস্রগুন বেশী। ভারত এ দেশকে নয়া উপনিবেশ করেছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় বোধহয় অনেক আগেই এসেছে।

এখন ভারতীয় মিডিয়া দাদাগিরি করে মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করলেই বাংলাদশের ইতিহাস পালটে যায় না। ভারতের মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতীত্ব নেওয়ার স্বমেহন আগেও হয়েছে। এতে আর কিছু না হোক, আমরা যারা প্রজন্ম ৭১ তারা ভেতরে ভেতরে কিছুটা কষ্ট পাই।

আমরা জানি, ওপারে সব প্রগতিশীল মানুষ বাংলাদেশের পাশে সব সময় আছে। সে প্রমান আমরা বার বার পেয়েছি। সবশেষ ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুআরি শাহবাগ গণ বিস্ফারণেরকালে সে প্রমাণ ভারতীয় জনগণ, বিশেষ করে ওপারের বাংগালিরা যথেষ্টই দিয়েছেন। আপনারা আমাদের অভিনন্দন ও ভালবাসা জানবেন।

আর আমরা এ-ও বিশ্বাস করি বাংলা আসলে একটাই। কাঁটাতারের সাধ্য নেই একে ভাগ করার। একদিন এ কাঁটাতার দুই বাংলার মেলবন্ধনে কোনো বাঁধাই আর মানবে না!

আর আমরা জানি, প্রজন্ম ৭১ কে আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে হিজাব, তালেবান, হেফাজত, পাকিপনার বিরুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু কাঙ্খিত মুক্তির লড়াই ফুরিয়ে যায়নি। নানা মাত্রায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলে আমাদের মুক্তির লড়াই।

সকলে ভাল থাকুন। সবার কল্যান হোক।

জয় বাংলা! ...
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: বিজয় দিবস

পুনশ্চ: এই সুতোয় শহীদ আজাদকে নিয়ে লেখা একটি অসামান্য গানও থাক।

https://youtu.be/ldjky20flYE
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: বিজয় দিবস

দারুণ বলেছেন। কিন্তু একবার ভাবুন আমাদের কথা যারা ৭১ প্রজন্মের অনেক অনেক পরের প্রজন্ম। আপনারা যারা ৭১ প্রজন্ম তাদের অনেক সুবিধা। খুব সহজেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বিপক্ষ চিনে নিতে পারেন আপনারা। আমাদের জন্য রাস্তাটা অনেক কঠিন ছিল। ছোট বেলায় স্কুলের পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ থাকত একটা চ্যাপ্টারের কয়েকটা অনুচ্ছেদ মাত্র। পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা করেছে এই কথা লিখতে খুব লজ্জা পেত সরকার, তাই লিখত হানাদার বাহিনী। বুদ্ধিজীবী দিবসের জন্য বরাদ্দ থাকত কয়েকটা লাইন। সেখান থেকে আমাদের কে মুক্তিযুদ্ধ কে জানা এবং চেনা খুব জটিল পথ ছিল। আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল শাহবাগ। শত্রু-বন্ধু, পক্ষ বিপক্ষ সব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল তখন। আর প্রতিদিন ভোরে যখন সারা রাতের ক্লান্তি নিয়ে একটু ঘুমানোর জন্য আশ্রয় খুঁজতে যেতাম তখন মনের ভিতর কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম তৃপ্তি খুঁজে পেতাম। মনে হত কিছু একটা করলাম। দেশ কে একটু কিছু হলেও ফিরিয়ে দিতে পারলাম। শাহবাগ আন্দোলন এখন নাই কিন্তু এর চেতনা এখনো আছে। আর চেতনার যে কখনো মৃত্যু হয় না তার বড় পরমান আমি নিজে।
অন্য দিকে আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য নানা ধরনের মণ্ডা মিঠাই নেট জুড়ে ছড়িয়ে আছে। কয়জনের পক্ষে সম্ভব এমন সুন্দর একটা ভিডিও কে অস্বীকার করে সত্য জানার জন্য একটু বই পত্র নাড়াচাড়া করার? দেশে এবং বিদেশ থেকে এমন ইতিহাস বিকৃতি চলছে তো চলছেই। যারা পথ হারাবার তারা দ্রুত পথ হারাছে এতে। উল্টা পাল্টা প্রচার যে কি থেকে কি করে ফেলে তার বড় প্রমাণ ১৩ সালের ৫ মে পরবর্তী সময়ে সরকারের অবস্থা।

যাই হোক, ভাল থাকবেন,ধন্যবাদ, জয় বাংলা।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন