Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

বুড়ু'র পাখপাখালী'রা

Jhuma Samadder

বুড়ু'র পাখপাখালী'রা
ঝুমা সমাদ্দার।
"জানিস, আজ এখানে আকাশ'টা কুয়াশার কাছে দশ গোল খেয়ে বসে আছে।" সক্কাল বেলাতেই ফোনের ওপারে বন্ধু।
মনের জানালা খুলতেই স্পষ্ট ফুটে উঠল , সে দেশের ‎মেঘলা আকাশ,ঝিরঝিরে বৃষ্টি, পাগলা হাওয়ায় শিরশিরে শীত ।
বাবা বলতেন - "অঘ্রানে বৃষ্টি...চাষের বড় ক্ষতি।"
কী জানি কী একটা ইংরিজি বই হাতে নিয়ে উল্টোতে উল্টোতে চোখেমুখে দুশ্চিন্তা নিয়ে মাথা নাড়তেন বাবা। বাবার সঙ্গে দূর-দুরান্তেও চাষের কোনো সম্পর্ক নেই, তবু বাবার এমন দুশ্চিন্তার কারণ ঠাহর হোতো না মোটেই।
বুড়ু'র কিন্তু বেশ লাগত। এমনিতেই বৃষ্টি তার বেশ পছন্দের, তার উপর আবার পরীক্ষা শেষের শীতের বৃষ্টি।
মেড়োর দেশের কাল শীতে গুটিসুটি মেরে লেপ কাঁথার ভেতরে ঢুকে জানালা দিয়ে গাছেদের মাথা নাড়া দেখলে তার মনের ভিতর কী যেন একটা হোতো। 'এইবার কিছু একটা হবে...হবেই।'- এমনই মনে হতে থাকত।
‎অনে..এ..ক অনে..এ..ক দূর থেকে আকাশটা নীচু হয়ে মাটির কাছাকাছি নেমে এসেছে, ঝাঁকড়া গাছের পাতাগুলো তার সঙ্গে গভীর মনোযোগে শলায় ব্যস্ত। মনে মনে তাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য তৈরী হয়ে বসতেই হোতো।
'কিছু'ই যে একেবারে ঘটতোও না, এমনটাও নয়। গোটানো কুঁড়ি আর খুলে ফেলা গরবিনী পাপড়ি নিয়ে সজনে ফুলে ভারী হয়ে থাকা গাছটা রাস্তার উপর ঝুঁকে পড়ত। অন্যদিনে কিপটের মতন দু'চারটে কালচে ফুল ঝরাত সে।
কিন্তু, সেদিনের এক পশলা বৃষ্টির পর আর তার অহংকার বজায় থাকত না। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ত কোনো একটা ডাল।
‎ সাদা ফুলগুলোর মটমটে অহংকারী পাপড়িগুলোতে জল কাদা মেখে পড়ে থাকা দেখলে, বড্ড যেন মায়া হোতো তার। আহা রে! অহংকার ভাল নয়, সে জানে, তবু দর্পের এমন অসহায় অবস্থা, কোথায় যেন বুকে টনটনে ব্যাথা ধরাত।
ভারী মিষ্টি একটা গন্ধ সজনে ফুলের। দু'হাতের ছোট্ট অঞ্জলি ভরে তুলে ফ্রকের ঘেরে কাদা মুছে ফেলার চেষ্টা করতে গেলেই ফ্রকে লেগে থাকত সে গন্ধ।
শীতের বুড়োটে বুড়োটে কালচে রঙের পেয়ারা পাতাগুলোর ফাঁকে কচি সবজে রঙের নতুন পাতা উঁকি মারত। তারা কেমন একটা নতুন সবুজ কচি গন্ধ পাঠাত ওকে। কচি পেয়ারার গন্ধ।
কাঁকুড়ে মাটিতে জল জমে থাকতে দেখলেই চড়ুইদের সে কী ফুর্তি ! কী নাচন-কোঁদন! দেখতে ভারী মজা লাগত ওর। যেন শান বাঁধানো পুকুরপাড়ের চারদিকে এসে জড়ো হয়েছে এক ঝাঁক কচিকাঁচা । মাথা নীচু করে একে একে ডুব দিচ্ছে। কিচিরমিচির করে গা ঝাড়া দিয়ে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে একে অন্যের গায়ে।
‎কাকেরা কিন্তু আবার ভারী ভীতু। দেখতে বড়-সড় ষণ্ডা মতন হলে কী হয় ! পাতার জল কয়েক ফোঁটা গায়ে পড়তেই পালক-টালক ভিজিয়ে গোবেচারা হয়ে উলুক সুলুক চাইছে। আহা রে! অন্যসময় অমন দুষ্টুছেলের মতন গুন্ডামি, দু-ফোঁটা জল পড়তে না পড়তেই মায়ের আঁচলের উষ্ণ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছে !!
‎এমনিতে, অন্য সময় কাক দেখলে বুড়ু'র কেমন যেন 'রোব্বার' 'রোব্বার' মনে হয়। কেন কে জানে ! হয়ত ওই রোদ পিছলানো চকচকে কালো রঙটাই রোব্বারের ঝকঝকে ছুটির দিনের কথা মনে পড়ায়।
‎রোব্বার'টা ওদের 'শিশুমহল', বাবার শিরা ওঠা আঙুল ধরে হাটে যাওয়ার বায়না, শুকোতে দেওয়া গম, রাজ্যের কাচা কাপড়,নখ কাটা, শক্ত ধুঁধুলের খোসা দিয়ে সাবান ঘষে স্নান, আবার সেই লাল হয়ে ওঠা গা'য়ে সর্ষের তেলের জ্বালা জ্বালা ভাব নিয়ে কোন ফাঁকে ফুরিয়ে যেত।
‎ওদিকে শালিকের 'ব্যাকব্রাশ' করা চুল দেখলে ঠিক যেন 'অফিস বাবু' মনে হয় বুড়ু'র। বাবার মতন। ধবধবে ধুতি পাঞ্জাবীতে, পকেটে গোঁজা পেনে, আঁচড়ানো চুলে তৈরী বেলা সাড়ে ন'টায় অফিসে যাওয়ার জন্য।
‎বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরদিন ভারী মিষ্টি একটা আদুরে রোদ উঠত। মাঝে মাঝে এক আধবার দেখা দিয়েই মিলিয়ে যেত। ভেজা হাওয়ার সঙ্গে মিশে রোদটাকে কেমন স্কুলের সামনের টক ঝাল মিষ্টি 'কুলগুড়ি'র মতন মনে হত।
‎এমন সব দিন গুলোতেই কেন যেন পিকনিকের প্ল্যান জমে যেত। ছোটোদের খিচুড়ি পিকনিকের নাম ছিল 'চালে ডালে চারানা'। বাড়ি বাড়ি থেকে চাল,ডাল,তেল,নুন জোগাড় করে খিচুড়ি হত। আর চার-আনা পয়সায় ডিম। পয়সা বাঁচলে একটা করে দানাদারও জুটত শেষ পাতে। প্ল্যানের জন্য দিনটা ভাল, তবু সকলে মিলে বলতেই হোতো, "পিকনিকের দিন যেন বৃষ্টি না হয়, ঠাকুর।"
বৃষ্টি তেমন হোতোও না অবশ্য পিকনিকের দিনগুলোতে। সরকার জেঠু ভুঁড়ির উপর সাদা প্যান্ট এঁটে অফিসে যাওয়ার সময় ওদের সকাল সকাল ঘুম ভেঙে কিচিরমিচির করতে দেখলে দু'দণ্ড দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হেসে চলে যেতেন।
যদিও ‎সে দিন ওদের ভাগে কেবলমাত্র বস্তায় ঘষে নতুন আলুর খোসা ছাড়ানো কিম্বা রসুন ছাড়ানোর মত বিচ্ছিরি কাজগুলোই পড়ত। বাকী সব 'মজার কাজ'গুলো মা-কাকীমা'রাই করে দিতেন।
‎গরম খিচুড়ি নামলেই পাতায় করে একহাতা খিচুড়ি নিয়ে গিয়ে দিয়ে আসত ওরা বনদেবীকে। 'বেলতলা'য় 'বনদেবী'কে না দিলে বনদেবী ওদের 'পাপ' দেন।
‎খানিক পরেই সেখানে কাক-শালিখের ঝগড়া বেঁধে যেতে দেখা যায়। আর আসত একদল ধূসর রঙের বড় বড় কী-জানি কী পাখি। লাফিয়ে লাফিয়ে খুঁটে খুঁটে পাতার নীচ থেকে পোকা খেতে ব্যস্ত। ওদের খিচুড়ি'তে রুচি নেই। কেবল শুকনো পাতায় 'ঝুম' 'ঝুম' শব্দ তুলে ঝগড়ায় বাগড়া দিয়ে চলত তারা।
‎মাঝে মাঝেই দুপুরের দিকটাতে দল বেঁধে টিয়াপাখিরা বেড়াতে আসত ওদের পেয়ারা গাছে।
‎সেদিকে তাকিয়ে কাকীমা হঠাৎই বলে উঠতেন, "চল, সাহেব বাঁধ যাবি? সন্ধ্যের আগেই ফিরে আসব।"
‎ অমনি লাফিয়ে উঠে তৈরী ওরা। চলল সবাই দল বেঁধে সাহেব বাঁধ। সাহেব বাঁধে তখন বালিহাঁস আর পানকৌড়ি'রা সূর্যাস্তের সোনালী আলো ডানায় মেখে 'জলপরী' খুঁজতে বেরিয়েছে।
বাঁধের ধারে ‎মাদুর পেতে বাদাম ভাজা আর সিঙ্গারা'র ক্ষুদে পিকনিক সেরে ফেরার সময় চাঁদ উঠে পড়ত দূরের তালগাছটার পেছন থেকে। গ্রামের খড়ের চলের উপর চাঁদের আলো পড়ে সোনার তৈরী রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলত ।
‎ চলতে চলতে ওরা থমকে দাঁড়াত। কাকীমা ওদের চাঁদের আলোয় নিকোনো উঠোনে নিমগাছের ছায়ার আলপনা চেনাতেন। ঝির্ ঝির্ করে কাঁপত হাওয়ায়।
‎হঠাৎই চোখ পড়ত ঝুপসি গাছের মাথায় সাদা ধবধবে ইয়াব্বড় হুতোম পেঁচা'টার দিকে। বেচারী গোল গোল ভীতু ভীতু কাজল পরা চোখে তাকিয়ে থাকত । তারপরই উড়ে পালাত বিরাট বড় রূপোলী ডানা জোড়া মেলে দিয়ে।
‎গ্রামের সীমানা পেরিয়ে স্টেশন বাজারে ঢুকতে ঢুকতেই চোখে পড়ত গাছের উপর সাদা ফুলের মত অসংখ্য কী যেন ফুটে রয়েছে। ওদের দেহাতি ভাষায় 'ঝুন্ড কে ঝুন্ড' বক উড়ে আসত... কে জানে কোত্থেকে... কেমন 'দারুচিনি' গন্ধে ম' ম' করত সে গাছের চারপাশ।
‎বুড়ু ঠিক জানত বকেরা'ই 'দারুচিনি' গন্ধ বয়ে আনে ওদের সাদা ডানায়। সেই দারুচিনি গন্ধের সঙ্গে মিলেমিশে যেত আরপিএফ ব্যারাকের 'জয় জগদীশ হরে' গানের সুর।
‎বড্ড অনেকটা হেঁটে ঘরে ফিরে পা'য়ে ব্যাথা হত খুব। সেই সঙ্গে জাঁকিয়ে শীত। চৌবাচ্চার কনকনে জলে কোনো মতে পা ধুয়েই লেপের তলায় । লোডসেডিংয়ের আলো আঁধারে , বুকে বয়ে আনা বুনো গন্ধে, 'জয় জগদীশ হরে'র সুরে, হুতোম পেঁচার কাজলকালো চোখে, চাঁদের আলোয় জড়িয়ে মড়িয়ে ঘুম নেমে আসত দু'চোখে।

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন