সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন ভালো নেই
    ভালোবাসায় আদর আসে,সোহাগ আসে,মন ভেঙে যাওয়া আসে, যন্ত্রণা আসে, বিরহ জেগে থাকে মধুরাতে, অপেক্ষা আসে, যা কখনো আসেনা, তার নাম 'জেহাদ'। ভালোবাসায় কোনো 'জেহাদ' নেই। ধর্ম নেই অধর্ম নেই। প্রতিশোধ নেই। এই মধ্যবয়সে এসে আজ রাতে আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলা কে মনে ...
  • ৯০তম অস্কার মনোনয়ন
    অনেকেই খুব বেশি চমকে গেলেও আমার কাছে খুব একটা চমকে যাওয়ার মত মনে হয়নি এবারের অস্কার মনোনয়ন। খুব প্রত্যাশিত কিছু ছবিই মনোনয়ন পেয়েছে। তবে কিছু ছবি ছিল যারা মনোনয়ন পেতে পারত কোন সন্দেহে ছাড়াই। কিন্তু যারা পাইছে তারা যে যোগ্য হিসেবেই পেয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা ...
  • খেজুরবটের আত্মীয়তা
    খুব শান্তি পাই, যখন দেখি কালচারগুলো মিলে যাচ্ছে।বিধর্মী ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছো শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। দুটি হাত ছোঁয়া সংবেদী বিন্দুতে ঘটে যাচ্ছে বনমহোৎসব। দুটি ভিন্ন ধর্মের গাছ ভালোবাসার অক্সিজেন ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন খেজুর বটের অপার ...
  • ম্যাসাজ - ২
    কবি অনেকদিন হতেই “জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা” বলে আশ্বাস দিয়ে এলেও ছোটবেলায় হালকা ডাউট ছিল কবি কোন ধনের কথা বলেছেন এবং ফেলা অর্থে কোথায় ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ধন যে ফ্যালনা জিনিস নয়, সেটা আবার নিমোর ছেলেদের থেকে ভালো কে বুঝত! কিন্তু সেই নিয়ে কাব্যি ...
  • মম দুঃখ বেদন....
    সেদিন, অঝোর ধারে কাঁদতে কাঁদতে বাবার চেয়ারের হাতল ধরে মেঝেতে বসে পড়েছি। দৃশ্যত শান্ত বাবা, খানিকক্ষণ কাঁদার সুযোগ দিলেন। এ দুটি বাক্যে ভেবে নেবার কোনো কারণই নেই, বাবা আর আমার সম্পর্ক অতি সুমধুর ও বোঝাপড়ার। বরং তার অব্যবহিত কয়েক মাস আগে পর্যন্তও উত্তপ্ত ...
  • হিন্দু স্কুলের জন্মদিনে
    হিন্দু স্কুলের জন্মদিনেআমাদের স্কুলের খেলার মাঠ ছিল না। থাকার মধ্যে ছিল একটা উঠোন, একটা লাল বেদী আর একটা দেবদারু গাছ। ওই লাল বেদীটায় দাঁড়িয়ে হেডস্যার রেজাল্ট বলতেন। ওই উঠোনটায় আমরা হুটোপাটি আর প্রেয়ার করতাম। আমাদের ইস্কুলের প্রেয়ার ছিল জনগনমন। তখনো ...
  • জার্মানী ডাইরী-১
    পরবাস পর্ব:অদ্ভুত একটা দেশে এসে পড়েছি! এদেশের আকাশ সবসময় মেঘাচ্ছন্ন.. সূর্য ওঠেই না বললে চলে! হয় বৃষ্টি নয়তো বরফ!!বর্ষাকাল আমার খুবই প্রিয়.. আমি তো বর্ষার মেয়ে, তাই বৃষ্টির সাথে আমার খুব আপন সম্পর্ক। কিন্তু এদেশের বৃষ্টিটাও বাজে! এরা অতি সন্তর্পণে ঝরবে! ...
  • মাতৃরূপেণ
    আমার বাবাকে জীবনকালে , আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে, থানায় যেতে হয়েছিলো একবারই। কোনো অপরাধ করায় পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তা নয়, নিছক স্নেহের আকুল টান বাবাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো 'মামা'দের মাঝে। 2007 সাল। তখন এপ্রিল মাস। 14ই মার্চ ঘর ছেড়ে মাসতুতো বোনের বাড়ী চলে ...
  • খাগায় নমঃ
    মাঘ এলেই মনে পড়ে শ্রীপঞ্চমীর বিকেলে অপু বাবার সাথে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে বেরিয়েছিল।নিজে ও রোজকার রুটিন বদলে ফেলতাম পুজোর দিনপনেরো আগে। স্কুল থেকে রোজ বিকেলে বাড়ি ফিরে খুঁটিয়ে দেখতাম উঠোনের আমগাছটায় মুকুল এলো কিনা, আর গাঁদার চারায় কতগুলো কুঁড়ি এলো, তারপর ...
  • হেলেন
    এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।তখন ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

অ্যাপ্রেজাল

সুকান্ত ঘোষ

বছরের সেই সময়টা এসে গেল – যখন বসের সাথে বসে ফর্মালি ভাঁটাতে হবে সারা বছর কি ছড়িয়েছি এবং কি মণিমুক্ত কুড়িয়েছি। এ আলোচনা আমার চিরপরিচিত, আমি মোটামুটি চিরকাল বঞ্চিতদেরই দলে। তবে মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত থাকার জন্য বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে আমি প্রবলভাবে ফ্যামিলিয়ার। সেই ভাবধারার অনেক কিছু ভুলে গেলেও মূল সারবস্তু মাথায় গেঁথে আছে – “নিজের অবস্থার জন্য সর্বদাই পরকে দায়ী করবে, তুমি না টের পেলেও জানবে যে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত সবসময় তোমার মাথার উপর ঘুরপাক খাচ্ছে”। সেই আমি যখন ক্যাপিটালিষ্ট দেশের কম্পানীর চাকুরী করতে ঢুকলাম তখন বঞ্চনা যে আমাকে তাড়া করবে তাই নিয়ে বিশেষ অবাক ছিলাম না।

বসের সাথে আমার আলোচনার আউটকাম হল গিয়ে ফুটবল খেলায় বিপক্ষের বক্সে পেনেল্টি আবেদনের মত। যদি আমার ডাকে রেফারি সাড়া দেয় তা হলে আমার দাবী ন্যায্য ছিল মনে হবে। আর যদি আমার ডাকে সাড়া না দেওয়া হয় তা হলেও আমার দাবী ন্যায্য ছিল, ওই বদখত, নন-কমপিটেন্ট রেফারির জাজমেন্ট বেফালতু। নিম্নলিখিত পারমুটেশন – কম্বিনেশান মূলত আমার জীবন জর্জরিত করে চলেছে প্রতি ডিসেম্বরঃ

এক)

আমি জানি যে আমাকে ফাউল করা হয় নি - আমি ডাইভ মেরেছি, পেনেল্টি আমার প্রাপ্য নয়। সেটাই রেফারি জানালেন, আর আমি মাথা পেতে মেনে নিলাম ভদ্রসন্তানের মত। আড়চোখে দেখে নিলাম যে হলুদ কার্ড পকেট থেকে বের করতে চলেছে নাকি রেফারি। সে তেমন কিছু করল না, কেবল সামনে এসে কড়া চোখে বলল, দুষ্টুমি করো না, আর এমন করলে টের পাবে। আবার খেলায় ঢুকে পড়লাম।

দুই)

আমি বিলক্ষণ জানি যে আমাকে ফাউল করা হয় নি – বল কন্ট্রোলের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল, আমার আর কিছু করার ছিল না। আমি ডাইভ মেরে দেখলাম যে রেফারি কি বলে, মানে রেফারীর বাই-ইন আছে কিনা। পেনেল্টি পেলে ভালো, না পেলেও ঠিক আছে। রেফারি চালাক, সে কেস বুঝতে পেরেছিল, আমাকে দিল হলুদ কার্ড দেখিয়ে দুম করে।

দুই – অ) আমি মাথা পেতে মেনে নিলাম ভদ্রসন্তানের মত। মৃদু হেসে খেলায় ঢুকে পড়লাম।
দুই – আ) আমি ফোঁস করে উঠলাম। এই সামান্য ব্যাপারের জন্য হলুদ কার্ড? পেনেল্টি দিলেন না ঠিক আছে, কিন্তু তা বলে হলুদ কার্ড দেখিয়ে
ইনসাল্ট! ফোঁস ফাঁস চলতে থাকল।

তিন)

বাকি সবাই দেখছে যে ওটা পেনেল্টি নয়, কেবল আমিই যুক্তি দিচ্ছি সেটা নিদারুণ পেনেল্টি বলে। মানে ওর থেকে ডেফিনিট কেস বেশী কিছু হয় না বলে। কেউ আমাকে লেঙ্গি মারে নি, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, পিছনে থেকে কেউ ল্যাঙ মেরেছে আমাকে। হাইপোথেটিক্যাল ল্যাঙ! আমি খেলায় ঢুকলাম, কিন্তু খেলা চলাকালীন মাঝে মাঝেই রেফারির কাছে গিয়ে নালিশ করতে থাকলাম। “একটু চোখ কান খোলা রাখুন”, “আমার কিন্তু ছড়াবার হিষ্ট্রি নেই – ছোটবেলা থেকেই” ইত্যাদি ইত্যাদি।

চার)

সবাই দেখছে ওটা পেনেল্টি, এমনকি আমার বিপক্ষও মনে মনে জানে আমি পেনেল্টির হক দাবীদার। কিন্তু রেফারী দিলেন না। আমি হত-চকিত, বিষ্মিত –

চার – অ) আমি কি বলব বুঝতে পারছি না। আমি মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে থাকলেও কর্মফলে বিশ্বাস করি, তাই হালকা করে রেফারীকে বললাম
যে, আপনি কি সত্যিই জানেন না যে আপনি ভুল করছেন? ভগবান যা ভালো বুঝবেন করবেন।

চার – আ) এ হতে পারে না, এ হতে পারে না বলে আমি মাথা নাড়াতে লাগলাম। রেফারির খুব কাছে গিয়ে জোর গলায় অনেক কিছু বললাম, মাঠের
সাইডলাইনের মাইক্রোফোনেও সেই উতপ্ত বাক্য বিনিময় ধরা পড়ল। নিউট্রাল দর্শক মজা নিল।

পাঁচ)

আমি কি ছড়িয়েছি সেটা রেফারী ঠিক বুঝতে পারছে না। অনেকটা দূরে ছিল ঘটনা থেকে বা একটু অফ-পজিশনে ছিল রেফারী। তাই সে গ্যাছে লাইন্সম্যানের সাথে আলোচনা করতে। আমিও চললাম পিছু পিছু – আমাকে বলা হল দূরে থাকতে, কিন্তু আমি বারবার আলোচনায় ঘুঁসে পড়ছি। বলছি, ওদের দলের মুকুন্দকে যদি পেনেল্টি দেওয়া হয়, তা হলে আমাকে কেন দেওয়া হবে না? আর তা ছাড়া ঘুঁতো, খ্যাপা, কেষ্ট –এরাও তো অনেক পেনেল্টি পেয়েছে এর থেকেও কম ফাউলে!

ছয়)

এই পেনেল্টির আবেদন তত জোরালো ছিল না, আমি করতে হয় করেছি। কীর্তনের মাঝে হরি হরি বলার মত। কথায় বলে আশায় মরে চাষা। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ রেফারী রঙ জাজমেন্ট দিল – আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে আমার আবেদনে সাড়া দেওয়া হয়েছে! তখন আমার কেস জোড়দারের জন্য আমার পায়ে যে চোট একদমই লাগে নি সেই চোট নিয়ে বসে বসে অনেকক্ষণ রগড়ালাম এমনকি খানিকক্ষণ খুঁড়িয়েও হাঁটলাম।

বঞ্চিত হয়েও খেলার সময় মাঠের ভিতর আর বেশী কিছু করতে পারি নি। হাফ-টাইমে ডেসিংরুমে ফেরার সময় চট করে রেফারীর পাশে চলে এসে মুখের কাছে হাত চাপা দিয়ে বললাম (নিজের মুখে চাপা দিয়ে – তবে মুখে গন্ধের জন্য নয়, যাতে অন্য কেউ লিপ রিডিং করতে না পারে) –

- এটা কি হল বস?
- কেন কি হল আবার?
- আমার ডেফিনিট কেসটা এই ভাবে নাকচ করে দিলেন? এর থেকে জোরে আর কিভাবে পড়ব পেনেল্টি বক্সে?
- শুধু জোরে পড়লেই তো হবে না, কায়দা (পড়ুন সফিস্টিকেটেড) করে পড়তে হবে। তোমার পড়ার মধ্যে সেই কায়দাটাই তো ছিল না!
- আরে ল্যাঙ মেরেছে পড়ব, এর মধ্যে আবার কায়দা আসবে কোথা থেকে?
- এটাই তো তোমার সাথে মুকুন্দ-র পার্থক্য। তুমি কি দ্যাখো নি মুকুন্দ কি সুন্দর পড়লো? আমি তো কোন ছাড় অমন পড়া দেখলে, যে কোন রেফারী পেনেল্টি দেবে
- কিন্তু ওকে তো কেউ টাচই করে নি! ওমন ভাবে পড়ল কি ভাবে?
- বুঝতে পারছ তো তোমার সাথে পার্থক্যটা নিজেই? কি ভাবে পড়া যায় সেই নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হয়।
- অতো জোরে ছুটছিলাম – আর তা ছাড়া বিপক্ষ কেমন ট্যাকেল করবে সেটা তো আমি আগে থেকে হাত গুণতে পারি না! যেমন আমাকে আটকানো হবে আমি তো শুধু সেই গুলোকেই পেরেবো নাকি?
- ভাবো, ভাবো – ভাবা প্র্যাকটিশ করো।

সেকেন্ড হাফের খেলায় আমি চেষ্টা দিলাম সফিস্টিকেটেড ভাবে পড়ে গিয়ে পেনেল্টি পেতে – কিন্তু হায়, পেনেল্টি তো পেলাম না, বরং হলুদ কার্ড! এবার লেখার শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরতে ফিরতে –

- এবার এটা কি হল বস? কত ভেবে চিন্তে কায়দা করে পড়লাম!
- তোমাকে তো পড়াশুনা করা শিক্ষিত ছেলে বলেই জানতাম। ‘সম্পর্ক’ কি জিনিস জানো?
- তা জানবো না কেন?
- তাহলে নিশ্চিয়ই এটা জানো যে সম্পর্ক তৈরী করতে হয়। শুধু তৈরী করলেই হয় না, টিকিয়েও রাখাতে হয়।
- হুঁ, তা তো বটেই
- হুঁ হুঁ করছো বটে, কিন্তু যদি সত্যি বুঝতে তা হলে জানা উচিত ছিল যে সারা বছর পোঁদ ঘুরিয়ে থেকে, আর সিনিয়র হিসাবে সম্মানও তো দাও না, তপার দোকানের সামনে সিগারেট একটু লুকিয়ে নিলাম, সেই সবও তো কিছু নেই! এমন করে সোম বচ্ছর কাটিয়ে মাঠে খেলার সময় চিৎ হয়ে পড়ে, এটা ন্যায্য পেনেল্টি, আলবাত পেনেল্টি, এমন বেমাক্কা চেঁচালেই হয় না!
- তো আমাকে কি করতে হবে? আপনার সাথে তো আমি প্রকাশ্যে তাড়ি খেতে যেতে পারি না – সবাই দেখে ফেললে ফিসফাস করবে
- না তা যেতে পারো না, কিন্তু কি করতে হবে সেটা তোমায় নিজেই ভেবে বের করতে হবে। যেমন, ঘুঁতোর মত তোমার বৌদিকে বাড়িতে জমির একঝুড়ি আলু বা গাছের পেয়ারাটা তো পাঠাতে পারো।
- আচ্ছা সেটা করলেও হবে? আমি ভাবলাম শুধু আপনার সাথেই সম্পর্ক বানালে হবে –
- আরে বাবা, আমরা তো সমাজবদ্ধ জীব নাকি? পরিবার বাদ দিয়ে সম্পর্ক? আমরা কি সাদা চামড়ার লোক?
- তা হলেই কি পেনেল্টি পাবো?
- তুমি তোমার কর্ম করে যাবে, ফল নিয়ে বেশী চিন্তা করো না। শুধু কায়দা নিয়ে পড়ে যাওয়াতে মন দাও – বাকিটা আমি দেখছি। আর শোনো, তোমার ভাই শুনলাম নাকি টোটো কিনেছে, মাঝে মাঝে বৌদির বাজারে যাওয়ার দরকার হলে দেখো একটু।
- একটা পেনেল্টি পেতে এ্যাতো?
- তুমি জানোতো এই সব ব্যাপার আপেক্ষিক? তোমার প্রতিপক্ষ কেষ্ট সম্পর্ক জোরদার করতে আর কি কি করেছে একটু খোঁজ নিও।
- আর যদি আপনাকে পরের ম্যাচে রেফারি করতে দেওয়া না হয়?
- সে চিন্তা করো না – আমি নিজেও ঠিক জায়গাতে চুলকে যাচ্ছি। আর শোনো ঠিক মত চুলকাতে পারলে, শুধু পেনেল্টি নয় – বিপক্ষের বক্সে পোঁছাবার আগেই মাঝ মাঠে দুই-একটা ফাউল তোমার পক্ষে দেওয়া যাবেক্ষণ।
- কিন্তু এই সব পারশোন্যাল সম্পর্ক কি আসা উচিত আমাদের এই খেলোয়াড়ী ব্যাপারে?
- তুমি দেখছি খুবই বুক-ইস টাইপ। মনে রাখবে তুমিও মারাদোনা নয়, আর আমিও নয় কলিনা। এমন নয় যে তোমাকে দেদার না মারলে তুমি পড়বে না, আর অকাট্য পেনেল্টি না হলে আমি দেব না! আমরা ভারতীয়, তোমার আমার সম্পর্ক হবে প্রদীপ নাগ – শিশিরের মত।
- বুঝলাম না ঠিক
- বেশী বুঝে কাজ নেই, তুমি মাঠের বাইরে সম্পর্ক তৈরীতে আর মাঠের ভিতর কায়দা করে পড়ে যাওয়াতে নজর দাও শুধু। তুমি মাঠে কেমন পড়বে সেটা আমি ঠিক করে দিতে পারব না, কিন্তু সেই পড়া পেনেল্টি হবে কিনা তা অনুধাবন করব আমি। আর তুমি হয়ত জানো না, তবুও জানিয়ে রাখি, সম্পর্ক অনুধাবনের মাত্রা এবং স্তর পাল্টে দেয়। সম্পর্ক স্নেহময় হয়ে ওঠে।

আমি ড্রেসিংরুমে ফিরে এসে ভাবতে বসলাম – ইস্কুল মাষ্টার রেফারী নিয়ে শালা এই প্রবলেম, বড় বড় লেকচার খালি। এই এ্যাতো কষ্ট করে সম্পর্ক তৈরী করতে হবে! আর তা ছাড়া খেটেখুটে সম্পর্ক তৈরী করলাম, দেখলাম যে শেষে মালটা আমাদের ম্যাচের দায়িত্ব নিল না! অন্য রেফারী এল খেলাতে। তার থেকে একবার কোচের সাথেই কথা বলা যাক, আফটার অল কাকে কি করতে হবে সেটা তো ওই বলে দিয়েছিল।

- ও কোচ, কোচ – একটা কথা ছিল
- কি বলছিস?
- না মানে বলছিলাম কি দেখলে তো যে আমার কোন দোষ ছিল না, আমি দারুণ খেললাম ম্যাচে। যদি রেফারী ন্যায্য পেনেল্টি না দেয়, তা হলে আমি আর কি করব!
- তোর তো ওটাই প্রবলেম! তুই ভুলে যাস যে ফুটবল হল গিয়ে টিমগেম। তুই গোল করলি বা অন্য কেউ, সেটা কোন বড় ব্যাপার নয়। টিমের জেতাটাই বড় কথা। তোর তো বলটা পাস দেওয়া উচিত ছিল পলু-কে।
- কিন্তু ও যা প্লেয়ার, ওকে আমি বিশ্বাস করি না ঠিক। খালি ফাঁকে গোলে বলটা ঠেলে ক্রেডিট নিতে ওস্তাদ! আর তাও যদি ঠিক ঠাক পারে গ্যারান্টি দিয়ে
- দ্যাখ তোকে হায়ার খেলতে এনেছি শুধু তুই ভালো খেলিস এটা বলে তো নয়! তোর খেলার মাপকাঠি শুধু তো তোর নিজের খেলা নয়, বরং তুই বাকিদের কেমন খেলিয়ে নিতে পারছিস সেটাই
- মানে?
- পলুকে দ্যাখ। তোর মত ভালো প্লেয়ার নয় হয়ত, কিন্তু ও যার পাশে থাকে তারা কেমন গোল করে দেখেছিস তো –
- তাতে পলু-র কি ভূমিকা? ও তো নিজে কিছুই করছে না –
- আসলে তোর এটা বোঝার ক্ষমতা নেই যে পলু পাশে বলেই ওরা গোল গুলি করতে পারছে।

আমি আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। পাশে বসা সাত নম্বর আমাকে ফিসফাস করে জানালো যে পলু হল গিয়ে কোচের শালা। রেফারীর ডায়লগ মনে পড়ে গেল, “সম্পর্ক স্নেহময় হয়” – তাই আর কিছু বললাম না কোচকে।

কিন্তু পলু গোল করলে আমার কি লাভ? আমি শালা খেলতে এসেছি হায়ারে। আজ মোহনপুরের হয়ে খেলছি, কাল খেলব শোনপুর, পরশু তাতারপুর, তার পরের দিক দুবরাজপুর – ইত্যাদি ইত্যাদি। পলু গোল করলে মোহনপুর ট্রফি পাবে, কোচ সুনীল নন্দীর আন্ডারে ট্রফি জেতা হবে। কিন্তু কার পাশ থেকে সেই জয়ের গোল এসেছিল, তা আর কেউ মনে রাখবে কি?

ঘটনা এতো সোজা নয় – আমাকে ফাইন্যালের দিকে উঠতে হবে, প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলে কেউ আর হায়ারে ডাকবে না। তার মানে সুনীল নন্দীকে খুব বেশী চটানো যাবে না – আমাকে যদি বেঞ্চে বসিয়ে কেরিয়ারের ধাক্কা মারার চেষ্টা করে! কিংবা বাজারে দূর্নাম ছড়িয়ে দেয়, আফটার অল অন্য দলও কোচের কথাই বেশী প্রামাণ্য মনে করবে একজন ফুটবলারের থেকে। এদিকে আমাকে আবার গোল করতে হবে – না হলে মার্কেট ভ্যালু পড়ে যাবে, তখনও আবার কেঊ ডাকবে না! এই সুনীল নন্দীদের সাথে কিভাবে ‘সম্পর্ক’ গড়ে তোলা যায়, সেই নিয়ে একটু ভাবনা চিন্তা করতে হবে। পাশের সাত নম্বর কয়েক বছর সাউথে ছিল মাহিন্দ্রার ট্রাক ফ্যাক্টরীতে কাজ করতে গিয়ে। ও কি জানে ‘সম্পর্ক’ তৈরী এবং জিইয়ে রাখার কোন গোপন সূত্র? আমাকে বলবে কি বিশ্বাস করে? আমি অবশ্য চাষা –


শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন