Malay Bhattacharjee RSS feed

Malay Bhattacharjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মুনির অপটিমা থেকে অভ্র: জয় বাংলা!
    শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে উদ্ভাবন করেন ‘মুনীর অপটিমা’ টাইপরাইটার। ছাপাখানার বাইরে সেই প্রথম প্রযুক্তির সূত্রে বাংলা পেল নতুন গতি। স্বাধীনতার পর ইলেকট্রনিক টাইপরাইটারেও যুক্ত হয় বাংলা। পরে আটের দশকে ‘বিজয়’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সম্ভব ...
  • সুইডেনে সুজি
    আঁতুরঘরের শিউলি সংখ্যায় প্রকাশিত এই গল্পটি রইল আজ ঃদি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল সুইডেনে সুজি#############পিও...
  • প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজঃ সর্বজয়া ভট্টাচার্য্যের অভিজ্ঞতাবিষয়ক একটি ছোট লেখা
    টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভারসিটির এক অধ্যাপক, সর্বজয়া ভট্টাচার্য্য একটি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর কলেজে শিক্ষকদের প্রশ্রয়ে অবাধে গণ-টোকাটুকি, শিক্ষকদের কোনও ভয়েস না থাকা, এবং সবথেকে বড় যেটা সমস্যা, শিক্ষক ও ছাত্রদের কোনও ইউনিয়ন না থাকার সমস্যা নিয়ে। এই পর্যন্ত নতুন ...
  • চিরতরে নির্বাসিত হবার তো কথাই ছিল, প্রিয় মণিময়, শ্রী রবিশঙ্কর বল
    "মহাপৃথিবীর ইতিহাস নাকি আসলে কতগুলি মেটাফরের ইতিহাস"। এসব আজকাল অচল হয়ে হয়ে গেছে, তবু মনে পড়ে, সে কতযুগ আগে বাক্যটি পড়ি প্রথমবার। কলেজে থাকতে। পত্রিকার নাম, বোধহয় রক্তকরবী। লেখার নাম ছিল মণিময় ও মেটাফর। মনে আছে, আমি পড়ে সিনহাকে পড়াই। আমরা দুজনেই তারপর ...
  • বাংলা ব্লগের অপশব্দসমূহ ~
    *সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: বাংলা ব্লগে অনেক সময়ই আমরা যে সব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করি, তা কখনো কখনো কিম্ভুদ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন ব্লগার বা সাধারণের কাছে এসব অপশব্দ পরিচিত নয়। এই চিন্তা থেকে এই নোটে বাংলা ব্লগের কিছু অপশব্দ তর্জমাসহ উপস্থাপন করা হচ্ছে। বলা ভালো, ...
  • অ্যাপ্রেজাল
    বছরের সেই সময়টা এসে গেল – যখন বসের সাথে বসে ফর্মালি ভাঁটাতে হবে সারা বছর কি ছড়িয়েছি এবং কি মণিমুক্ত কুড়িয়েছি। এ আলোচনা আমার চিরপরিচিত, আমি মোটামুটি চিরকাল বঞ্চিতদেরই দলে। তবে মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত থাকার জন্য বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে আমি ...
  • মিসেস গুপ্তা ও আকবর বাদশা
    এক পার্সি মেয়ে বিয়ে করলো হিন্দু ছেলেকে। গুলরুখ গুপ্তা তার নাম।লভ জিহাদ? হবেও বা। লভ তো চিরকালই জিহাদ।সে যাই হোক,নারীর ওপর অবদমনে কোন ধর্মই তো কম যায় না, তাই পার্সিদেরও এক অদ্ভুত নিয়ম আছে। ঘরের মেয়ে পরকে বিয়ে করলে সে স্বসম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ ...
  • সমবেত কুরুক্ষেত্রে
    "হে কৃষ্ণ, সখা,আমি কীভাবে আমারই স্বজনদের ওপরে অস্ত্র প্রয়োগ করবো? আমি কিছুতেই পারবো না।" গাণ্ডীব ফেলে দু'হাতে মুখ ঢেকে রথেই বসে পড়েছেন অর্জুন আর তখনই সেই অমোঘ উক্তিসমূহ...রণক্ষেত্...
  • আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?
    আরও একবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের এই চিরন্তন প্রশ্নটার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে -- আমরা কিভাবে শিখি, কিভাবে চিন্তা করি। আলফা গো জিরো সেই দিক থেকে টেকনোক্র্যাট দের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ।দাবার শুধু নিয়মগুলো বলে দেওয়ার পর মাত্র ৪ ঘণ্টায় শুধু নিজেই নিজের সাথে ...
  • ছড়া
    তুষ্টু গতকাল রাতে বলছিলো - দিদিভাই,তোমার লেখা আমি পড়ি কিন্তু বুঝিনা। কোন লেখা? ঐ যে - আলাপ সালাপ -। ও, তাই বলো। ছড়া তো লিখি, তা ছড়ার কথা যে যার মতো বুঝে নেয়। কে কবে লিখেছে লোকে ভুলে যায়, ছড়াটি বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। মা মেয়েকে শেখান, ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

Malay Bhattacharjee

দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল

অমর্ত্য সেন

#########

২০০২ সাল। ঠিক পূজোর আগে আগে হেড অফিস যেতে হয়েছে। খুব সম্ভবত মহালয়ার দিন পৌঁছেছি। দিন চার এর কাজ সেরে পঞ্চমীর দিন কলকাতায় ফিরে আসবো, আসতেই হবে, এই ভাবে টিকিট করিয়ে যাত্রা করেছি। প্রথম তিন দিন রুটিন মাফিক কাজ কর্ম এগিয়েছে। চতুর্থ দিনে আমাদের এম ডি সাহেবের ফাইনাল রিভিউ মিটিং। আমি এবং আমার জার্মান কলিগ সকলেই মোটামুটি নিশ্চিত কাজ ঠিক সময়ে শেষ করে আমি আমার "স্যাস্টি" র দিন বাড়িতেই থাকতে পারবো। হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত। মিসেস কেম্পার খবর দিলেন আমাদের এম ডি সাহেবের পত্নীর ডান পায়ের বুড়ো আংগুল টাকে ওনার পোষা দানবের মত গ্রে হাউন্ড সসেজ ভেবে হাল্কা চিবিয়ে দেখতে গিয়ে গন্ডগোল করে ফেলেছে। আমার দোর্দন্ড প্রতাপ এম ডি কুঁই কুঁই করতে করতে পত্নী বগলে হাস্পাতাল এ বসে আছেন। সাথে গ্রে হাউন্ড টাকেও নিয়ে গ্যাছেন। সে নির্লজ্জ ব্যাটা ঘুরে ফিরে এম ডি পত্নীর অন্য পায়ের অক্ষত বুড়ো আংগুল টা কে দেখছে আর ঘন ঘন জিভ চাটছে। এক পিস বুড়ো আংগুল চিবিয়ে ব্যাটার নোলা বেড়ে গ্যাছে।

ফলাফল পরিষ্কার, আমার শুধু "স্যাস্টি" নয়, "স্যাপ্ঠামি, এস্ট্যামি, ন্যাবামি, " সব ভোগে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অত অল্প নোটিশে পুজোর আগে ইউরোপ থেকে কলকাতা ফেরার টিকিট পাওয়া আর মিন্টো পার্কের মোড়ে চাট্টি হাট্টা কাট্টা বাঘ কে বসে বসে বরবটি চেবাতে দ্যাখা এক ই ব্যাপার।

বডি ফেলে দিলাম মিসেস কেম্পারের সামনে। পুরো গুছিয়ে বোঝালাম পুজোর কেস টা।

বড়দিনের ছুটিতে মিস্টার কেম্পার বাড়িতে নেই। বিদেশে পড়ে আছে এটা ভাবুন ম্যাডাম, বলাতে খুব একটা ইম্প্যাক্ট হল বলে মনে হল না। এবার সন্তানের এংগেল থেকে এটাক করলাম। আপনার ছেলে বড়দিনে আপনার কাছে নেই, ভাবতে পারছেন? আপনি ঝাউ গাছে টুনি ফুনি লাগিয়ে বসে আছেন, আপনার ছেলে আম্রিগায় আটকে আছে, এটা ভাবুন। কাজ হল। খুব অল্প সময়ে এটা বুঝে গেছিলাম, আমাদের ওই দোর্দন্ড প্রতাপ এম ডি দুজনের কাছেই নেতিয়ে থাকতেন। এক ওনার ড্যামেজ বুড়ো আংগুল স্ত্রী, আর এই মিসেস কেম্পার। ঘজ ঘজ করে জার্মান ভাষায় এম ডির সাথে ফোনে কি বলাবলি করে আমার বন্দোবস্ত করে দিলেন। "স্যাস্টির" দিন লন্ডন হয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এর, আরি শ্লা, বিজনেস ক্লাস টিকিট। ডাইরেক্ট কলকাতা।সপ্তমীর অঞ্জলীর লগ্নভ্রষ্ঠ যাতে কোনভাবেই না হই, তার গ্যারান্টি সহ।

কাজ কম্ম মিটিয়ে, এম ডি সাহেবের পত্নীর বুড়ো আংগুলের প্রতি যথাযথ সমবেদনা জানিয়ে, দুগগা দুগগা বলে স্যাস্টির সকালে ডুসেলডর্ফ এয়ারপোর্ট থেকে প্লেন এ পৌঁছলাম হিথরো তে। চেক ইন করা থেকেই শুরু হল খিল্লী কেস। একটু বুঝিয়ে বলি।

বিজলী গ্রীল এর ফাইভ স্টার কেটারিং এ একবার এক আজব নিমন্ত্রিত দেখেছিলাম। হাই ফাই সব খাওয়া চেটে পুটে খেয়ে, সেই সরল সাধারণ মানুষ টি আমার বিষ্ফারিত দুই চোখের সামনে ওই প্লাস্টিকের বাটিতে ঈষদুষ্ণ জল দ্যায় না, হাত ধোবার জন্য, তাতে সাবানের স্লাইস পেপার টা ফেলা মাত্র চোঁ করে চুমুক দিয়ে মেরে দিয়ে আমাকে বলেছিলেন " সব ই ভালো করসিলো, লাস্ট এ হেইডা কি দিল, এক্কেরে অখাইদ্য"। এই গল্প টা কেন বললাম? ঠিক ধরেছেন। ব্রিটিশ এয়ার এর বিজনেস ক্লাস এ এক মধ্যবিত্ত ঘর থেকে উঠে আসা বংগসন্তানের অনুভব
টা এর থেকে ভালো বোঝাতে পারতাম না। চেক ইন থেকে শুরু করে ইনফ্লাইট অভিজ্ঞতা আমার এক্সাটলি ওই রকম। কোনটা চাটবো, কোন টা চুমুক দেবো আর কোনটা তে হাল্কা আংগুল ডুবিয়ে ছেড়ে দেবো সবটাই বিষ্ময় আমার কাছে।

বিজনেস ক্লাস লাউঞ্জ এ "ইয়েস, হাউ লাভলি, গ্রেট টেস্ট, সি ইউ এগেইন সুন ফুন " ফুটানি মেরে বোর্ডিং এনাউন্স হতেই ঢুকে গেলাম প্লেন এ। ব্রিটিশ এয়ার এর বিজনেস ক্লাস হচ্ছে পিওর প্যাম্পারিং। স্রেফ জমিদারবাজি। পূজোর অষ্টমীর সন্ধ্যে বেলায় দেখবেন দেহাত থেকে ঠাকুর দেখতে আসা কিছু পাবলিক এমন হাঁ করে একডালিয়ার প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে প্যান্ডেলের লাইটিং দ্যাখে, মুখে বোলতা ঢুকে আলজিভে হাল্কা ঠোক্কর মেরে বেরিয়ে গেলেও তাদের হুঁশ আসে না। আমার হল সেই কেস। শালা এদিক মুখি ওদিক মুখি সিট পাশাপাশি। মাঝে সাইড এ টেনে দেওয়া যায় শাটার। সিট তো নয়, সিংহাসন। খুঁজে পেতে জানলার ধারের সিট টায় বসতে না বসতে এয়ার হস্টেস একটা লম্বা মত গ্লাস এ বুদবুদি কাটা একটা কিছু দিয়ে গেল। সাথে ঠান্ডা একটা টাওয়েল। একচুমুকে খেতে গিয়ে খেলাম বিষম। আপেল জুস ভেবে শ্যাম্পেন এক ঢোকে মারতে গেছিলাম।
একটু থিতু হয়ে এদিক ওদিক দেখা শুরু করলাম। ইরি শ্লা, হেব্বি সফি সফি সব লোক আর মহিলা। যেমন তাদের হাইফাই চেহারা তেমনি পোশাক আর তেমনি স্থীর গাম্ভীর্যময় ব্যাক্তিত্ব। মনে হচ্ছিল এখনও যদি ব্রিটিশ রাজ থাকতো, তার জমিদার, রাজবাহাদুর গুলো এইরকমই দেখতে হত সব। নিজেকে কেমন ক্যালব্যালে লাগছিল। মরুকগে, এগারো ঘন্টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে ভেবে জানলা দিয়ে বাইরে নজর দিলাম। তখনো কি জানি আরো কি বাকি আছে?

ফ্লাইট এর গেট বন্ধ হবে হবে করছে, আমার পাশের সিট টা মনে হচ্ছে খালি যাবে। ঠিক ওই সময় উনি এলেন। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার সামনে দাঁড়িয়ে বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ, নোবেল বিজয়ী
শ্রী অমর্ত্য সেন। ইয়েস, অমর্ত্য সেন হিমসেল্ফ ইন ওয়ান পিস। এয়ার হস্টেস ওনাকে আমার পাশের সিট এ বসিয়ে আমার দিকে একটু মুচকি হেঁসে শ্যাম্পেন এর গ্লাস টা তুলে নেবার অনুমতি চাইতেই আমার হাঁ হয়ে থাকা মুখ ঘ্যাঁত করে আওয়াজ করে বন্ধ হল।

প্লেন গড়ানো শুরু হল। একটা জিনিস খেয়াল করছিলাম। ওনাকে দেখে আশেপাশের যাত্রী দের মধ্যে সেরকম কোন হোলদোল নেই, আর উনি তো কারো দিকে তাকাচ্ছিলেন ই না। আমি যে পাশে বসে ফ্যাল ফ্যাল করে ওনাকে দেখছি, এক বারের জন্য আমাকেও দেখছেন না। আমি শালা বেলেঘাটার রত্নাকেবিনে ভোলার দোকানে চা খাওয়া পার্টি, ভাবছি, বিজনেস ক্লাস এর অন্য পাবলিক ও নিশ্চই কেষ্টবিষ্টু হবে। হয়তো সেন সাহেবের পাড়াতেই থাকে। আমিও তো রোজ অফিস যাওয়ার বাসে পাড়ার বুলু দা কে দেখি। রোজ কি আর বুলুদার সাথে আদিখ্যেতা করি গিয়ে? এদের ও হয়তো রোজ দেখা সাক্ষাত আছে। যাক গে, আমার কি?

ফ্লাইট টা টেক অফ করতেই সেন সাহেব উঠে টয়লেট চলে গেলেন। একটু পরে যখন ফিরলেন, গায়ে ধোপদুরস্ত সাদা পাজামা পাঞ্জাবী। আমি শালা ভাবছি সত্যি এরা নমস্য কেস সব। আগে কলেজ যাওয়ার সময় দার্জিলিং মেল উল্টোডাংগা ছাড়ালেই, লুংগি ফুংগি পড়ে আমরা বন্ধুরা তাস পিটতে বসে যেতাম। বেশ একটা খেলানো আয়েস হত। ইনিও কি সুন্দর হাল্কা হয়ে নিলেন। আমি তো এরকম কিছু ভাবিও নি আর হ্যান্ড লাগেজে কিছু রাখিও নি সেরকম।

সেন সাহেব সিট এ বসে মাথার উপরে সাপের মত পাকিয়ে থাকা লাইট জ্বালিয়ে একটা বই তে মুখ ডোবালেন।

এবার আমার নজর গ্যালো আমার সিটের হাতলে রাখা অজস্র বোতামের দিকে। এটা টিপছি স্যাট করে ফুটরেস্ট টা উঠে যাচ্ছে, ওটা টিপছি পিঠ আর পাছায় ম্যাসাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে, আরেকটা টিপলেই সিট টা হেলে যাচ্ছে। হেব্বি খিল্লী কেস লাগছে আমার। ভালো টাইমপাস হচ্ছে। ধেঁড়ে খোকা এক কাড়ি বোতাম নিয়ে টুঁই টাঁই চুঁই চাঁই করেই চলেছি। হঠাৎ এক আকাশ ললনা আমার সামনে এসে ওয়াইন এর কার্ড খুলে ধরে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কোন ওয়াইন টা খাবো? শালা কার্ড এর দিকে তাকিয়ে আমি তো অবাক। কি সব দাঁত ওপড়ানো নাম। এমনিতেই আমার এসবের বেশী জানকারি নেই। অফিস পার্টি ফার্টিতে যে যা দ্যায় খেয়ে নেই। অত নাম ধাম ধার ধারি না। আফটার অল, কলেজে আপসু রাম খাওয়া পার্টি,সাথে জিভে জাস্ট নুন ঠেকিয়ে তিতকুটে ভাব টা কাটাতাম। তার সামনে বিশ্বের সেরা সেরা ওয়াইন এর মেনু কার্ড খুলে এইভাবে হ্যাজানোর মানে হয়? ভাগ্যিস নামের পাশে পাশে নাম্বার লেখা ছিল। গম্ভীর ভাবে "নাম্বার থ্রী" বলে আবার কেতরে বসেছি। সেই ললনা আমার সিটের হাতল থেকে ট্রে টা বার করে এক গ্লাস নাম্বার থ্রী নামিয়ে চলে গ্যাছেন। আমি আবার ব্যাক টু, টুঁই টাঁই চুঁই চাঁই। ঠিক সেই সময় হল সেই কেলোর কিত্তি। টিপতে টিপতে কি টিপেছি কে জানে, হঠাৎ আমার সিট টা পিঠের দিকে হিলতে হিলতে ফ্ল্যাট হয়ে গেল।আর ফুট রেস্ট টা সোজা উঠে একদম কমপ্লীট ফ্ল্যাট বিছানা হয়ে গ্যালো। একদম দার্জিলিং মেইল এর থ্রী টায়ার স্লীপার এর বার্থ এর মত। বেশ বসে ছিলাম, হঠাৎ কেলিয়ে বেডরিডেন হয়ে গেলাম। চিৎপাৎ হয়ে বাঁ হাতে যে কটা বোতাম পাচ্ছি টিপছি, শালা বেয়াড়া সিট সোজা আর হয় না। নিজে যে হ্যাঁচোড় প্যাঁচোড় করে ওঠার চেষ্টা করব, সেটাও পাচ্ছি না। সেই নাম্বার থ্রী গ্লাস ভর্তি অবস্থায় ঠিক আমার পেট এর উপর ট্রে তে বুদবুদি কাটছে। একটু বেকায়দা হলেই উলটে নোবেল বিজয়ীর কোল আলো করার ভরপুর চান্স আছে। দীঘাতে একবার একটা কচ্ছপ কে চিৎ করে দিতে দেখেছিলাম। সে তার কি প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা সোজা হওয়ার। আমার নিজেকে ঠিক ওই কচ্ছপ টার মত লাগছিল। প্রায় মিনিট খানেক চেষ্টা করেও যখন খাঁড়া হওয়ার আশা প্রায় শেষ, এমন কি ললনাদের ডাকার বোতামটাও হাতে পাচ্ছি না, তখন ঘটালাম সেই কান্ড টা। " স্যার, স্যার, মিস্টার সেন, ক্যান ইউ প্লীজ হেল্প মি টু মেক মাই সীট আপরাইট? " এমন কেতরিয়ে গেছি তখন পারলে " আমার এই দেহখানি তুলে ধর....." গেয়েই ফেলি প্রায়। বই থেকে মুখ সরিয়ে সেন সাহেব একটু ঝুঁকে আমার সিট এর একটা বোতাম টিপে দিতেই, বেয়াড়া সিট গড়্গড়িয়ে আবার খাঁড়া। কৃতজ্ঞতা জানানো উচিৎ। কিন্তু ওই জ্ঞ্যানী মানুষ টা কে কি বলবো? নোবেল পেয়েছেন জানি। কিন্তু অর্থনীতির কি বুঝি আমি যে ওনার সাথে দু কথা বলা যায়? একটা চুড়ান্ত নার্ভাসনেস আর তার সাথে খানিক টা কৃতজ্ঞতা পাঞ্চ হয়ে আমি বলে ফেললাম, " থ্যাংকু স্যার, কনগ্রাচুলেশন ফর নোবেল"।

কি অসহ্য গ্যাঁড়ামি ভাবুন। কথাটা বলেই আমি নিজেকে মনেমনে জুতোপেটা শুরু করে দিয়েছি। শালা ও তোমার পাড়ার মধুছন্দা বৌদি নাকি? রবীন্দ্র সন্ধ্যায় " একটুকু ছোঁয়া লাগে......." গেয়ে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছে ৫০১ টাকা আর গোলাপের তোড়া আর তুমি শালা ব্যাকস্টেজে " কনগ্রাচুলেশ মধু বৌদি, অনবদ্য, ফাটাফাটি হয়েছে" মারাচ্ছো? ওরে গ্যাঁড়া, ওটা অমর্ত্য সেন। তুই কোথাকার হনু শালা, নোবেল পাওয়ার চার বছর পরে, হ্যাবলা কাত্তিক ছত্তিসহাজার ফিট আকাশে অমর্ত্য সেন কে নোবেল এর অভিনন্দন দেওয়ার?

জ্ঞ্যানী মানুষ, আমার অভিনন্দন নিয়েই আমাদের দুজনের সিটের মাঝখানের শাটার সেই যে টেনে দিলেন, কলকাতায় ফ্লাইট ল্যান্ড করার আগে আর ওনাকে দেখতেই পেলাম না।

আজ এই ঘটনা টা লিখে ফেললাম তার কারণ আছে একটা। ছুটি নিয়ে আমরা চার বন্ধু পরিবার নিয়ে শান্তিনিকেতন এসেছি। সকালে ঘুরতে ঘুরতে ওনার বাড়ীর সামনে গেছিলাম। " প্রতীচির" সামনে দেখি বেশ কিছু পুলিশ আর রিপোর্টার দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞাসা করে জানলাম উনি আজ ওখানে আছেন। একটু পরেই কোলকাতা রওনা দেবেন। ভাবলাম দাঁড়িয়ে যাই। বেরোলে একবার চোখের দেখা দেখবো। ভাগ্য হলে দুটো কথাও বলবো। সাথের বাচ্চা কাচ্চা গুলোর ক্ষিদে পেয়ে যাওয়ায় আর অপেক্ষা করা গ্যালো না।

যদি দ্যাখা হত, তাহলে নিশ্চই বলতাম, "স্যার, আজকাল টিভি তে নানারকম ঘোষ, বোস দের বলতে শুনি, আপনি কি করেছেন দেশের জন্য? আমি সামান্য মানুষ। ওদের প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য আপনার কি অবদান সেটাও আমার বিচার্য নয়, আমি কৃতজ্ঞ আপনি এত বিরাট মাপের মানুষ হয়েও আজ থেকে পনেরো বছর আগে বোতাম টিপে এই অধম কে বসিয়ে দিয়েছিলেন একটি অনুরোধে। ইচ্ছা হলে নাই করতে পারতেন। আমার জীবনের এক অমূল্য অভিজ্ঞতা ওই এগারো ঘন্টা। ধন্যবাদ স্যার।"

মলয় ভট্টাচার্য

১৬.০৭.২০১৭
শান্তিনিকেতন

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 8 -- 27
Avatar: avi

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

এটা ভয়াবহ ভালো। প্রসঙ্গত, দার্জিলিং মেইলে শুয়ে শুয়েই পড়লাম। জাস্ট দারুণ।
Avatar: সিকি

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

বেএশ ভালো, কিন্তু আপনি অমর্ত্য সেনের সাথে ইংরেজিতে কথা বললেন কেন? উনি তো নিপাট বাঙালি মানুষ! বিজনেস ক্লাস এফেক্ট?
Avatar: দ

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

হা হা হা হা দারুণ ভাল।

না বিখ্যাত আর বড় লোকেদের সাথে সবসময় বাঙালি ইংরিজি বলে @সিকি।
Avatar: শেখর

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

অনেকদিন পর নির্মল হাসি হাসলাম | থামলে চলবে না, চালিয়ে যান |
Avatar: abcd

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

খুব হাসলাম। দারুন লেখা। গুরু-র এরকম দমফাটা হাসির লেখাগুলো একটা লিন্কে পেলে বেশ হ'ত।
Avatar: Malay Bhattacharjee

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

ঘাবড়ে গিয়ে ইংরাজিতে বলেছি। খুব বেশি আর কি বলেছি। ওই তো " থ্যাংক ইউ আর কনগ্রাচুলেশন ফর নোবেল" 😆 ছি ছি।
Avatar: S

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

বাঙালী রেগে গেলে ইংরাজী বলে শুনেছি। ঘাবড়ে গেলেও যে বলে সেটা জানা গেলো।
Avatar: avi

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

না না, ঘাবড়ে গেলেও বলে। আমার এক বন্ধু ক্লাসে ঢুকতে দেরি হওয়ায় স্যর কৈফিয়ত তলব করায় বলেছিল, আই ওয়াজ দ্য রুম বিসাইড দ্য রুম। তাতে বহুদিন প্যাঁক খেয়েছিল।
Avatar: Atoz

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

নবনীতার ওরকম একটা ফ্লাইটের গল্প আছে, তখন ওঁরা তরুণ। সম্ভবত প্রথম বিদেশ যাচ্ছেন। খুব ঝড়ে পড়েছে প্লেন, উনি হঠাৎ অমর্ত্যের হাত চেপে ধরে বললেন, "পাসপোর্ট? পাসপোর্টগুলো কোথায়?"
অমর্ত্য বলেন, "কেন? পাসপোর্ট কী হবে?"
"যার যার কাছে রাখা দরকার। এই প্লেন তো পড়েই যাবে,সবাই পুড়ে যাবো, তখন বডি আইডেনফাই করতে গেলে পাসপোর্ট ছাড়া কী করে হবে? "
ঐ টেনশনের মধ্যেও অমর্ত্য হেসে ফেলে বললেন, " আরে পাগলি, পাসপোর্ট বুঝি পুড়বে না?"

সব কথা ঠিকঠাক হল না, কিন্তু কাহিনি এইরকমই ছিল। ঃ-)

Avatar: S

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

"আরে পাগলি"
এটা তো সুখেন দাসের ডায়ালগ মনে হচ্ছে।
Avatar: Atoz

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

ভাবুন, সুখেন যদি দাশ হতেন। তাহলেই ম্যাচ করে যেত। ঃ-) বদ্যি বদ্যি ভাই ভাই। ঃ-)
Avatar: avi

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

গপ্পোটার নাম 'সেদিন দুজনে'। আরেকখান অনবদ্য নবনীতা।
Avatar: Atoz

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

হুঁ, থ্যাংক্স অভী। নবনীতার লেখাগুলো অনবদ্য। একটা লেখায় ছিল ঝুলন্ত মই বেয়ে জানলা দিয়ে নিজেদের ঘরে ঢোকা, কারণ চাবি ঘরে রয়ে গেছিল। ঃ-)
Avatar: h

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

দারুণ মজার লেখা
Avatar: avi

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

সেটা এই গল্পটাই। শুরু হয়েছিল শান্ত, সভ্যভব্য কত্তার সংসারে বুনো গিন্নী আসার রকমারি উদাহরণ সহ, শেষ হয়েছিল ওই ঘটনায়। ডাস্টবিন উল্টে গিন্নী কত্তার কাঁধে চেপে মইতে উঠেছিলেন।
Avatar: রোবু

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

ইনফ্যাক্ট, ওই লেখাটা থেকেই জানতে পারি আমেরিকাতে চাবি ঘরে রেখেও ঘর বন্ধ করে চলে যাওয়া যায়। তার অনেক পরে সে জিনিস নিজের কক্ষে দেখি।
এই লেখাগুলো অমর্ত্য সেন নোবেল পাওয়ার পর পর বেরিয়েছিল।
Avatar: রোবু

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

আরো একটা গল্প ছিল। আরেক কাপলকে নেমন্তন্ন করা হয়েছিল। বেশ জুটি জুটি করে বসার ব্যবস্থা। তা সেই ভদ্রলোক এসে সব ঘেঁটে দিলেন। নবনীতাকে ওনার পাশে বসলেন, অমর্ত্যকে বসলেন ওনার স্ত্রীর পাশে। বিখ্যাত প্রফেসর। নাম ভুলে গেছি।
Avatar: Rabaahuta

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

এগুলো ১৯৯৮এর পরের লেখা? আমার কেমন মনে হচ্ছিল পুরনো অনেক।

নটী নবনীতা, নব-নীতা এই বইগুলিতে যেন কি আছে?
Avatar: Malay Bhattacharjee

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

মন্তব্যে কত্ত গল্প জানতে পারছি।😃। সবাইকে ধন্যবাদ।
Avatar: দ

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল, অমর্ত্য সেন

গল্প সমগ্র ১ আর ২ তে সবগুলো আছে

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 8 -- 27


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন