Prosenjit Bose RSS feed

Prosenjit Boseএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বেশ্যাদ্বার

Prosenjit Bose

বেশ্যাদ্বার (প্রথম পর্ব)
প্রসেনজিৎ বসু

রামচন্দ্র দুর্গাপুজো করছেন। রাবণবধের জন্য। বানরসেনা নানা জায়গা থেকে পুজোর বিপুল সামগ্রী জোগাড় করে এনেছে। রঘুবীর পুজো শুরু করেছেন। ষষ্ঠীর বোধন হয়ে গেছে। চলছে সপ্তমীর মহাস্নান। দেবীস্বরূপা সুসজ্জিতা নবপত্রিকাকে একেকটি মন্ত্রে একেকটি দ্রব্য দিয়ে স্নান করাচ্ছেন রাম। নদীজলে, শঙ্খজলে, গঙ্গাজলে স্নান হল। উষ্ণজলে, গন্ধজলে, শুদ্ধজলে স্নান হল। কুশজলে, পুষ্পজলে, ফলজলে স্নান হল। শিশিরজলে, সাগরজলে,ওষধিজলে স্নান হল। তীর্থজলে, বৃষ্টিজলে, ঝর্ণাজলে স্নান হল। দধি-দুগ্ধ-ঘৃত-মধু-ইক্ষুরসে স্নান হল। তিলতৈলে-বিষ্ণুতৈলে স্নান হল। সুস্নাতা সানন্দা নবপত্রিকার প্রতি অঙ্গ থেকে স্নিগ্ধ বিভা ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ব্রহ্মাপুত্র জাম্ভুবান বললেন, "সুলক্ষণ রঘুনাথ। দেবী প্রসন্না হচ্ছেন।"

মৃত্তিকাস্নান আরম্ভ হল। রাজদ্বার মৃত্তিকা ও চতুষ্পথ মৃত্তিকা-মিশ্রিত জলে দেবী নির্মলা হলেন। বিমলা হলেন বৃষশৃঙ্গ ও হস্তীদন্ত মৃত্তিকার জলে। গঙ্গামৃত্তিকা ও উভয়কূল মৃত্তিকার জলে দেবী হলেন উজ্জ্বলা। শীতলা হলেন তীর্থমৃত্তিকার জলে। আরও কয়েকটি উপচারে স্নান করিয়ে রঘুনাথ থামলেন। বললেন, "মহাস্নান শেষ। অতঃপর পত্রীপ্রবেশ ও চক্ষুর্দান।"

বানরসেনার মধ্যে থেকেই কে-একজন মৃদুস্বরে ডাকল, "প্রভু, পত্রিকাটি যেন কেমন একটু..."। সবার দৃষ্টি ফিরল নবপত্রিকার দিকে। দেখা গেল, কদলীবৃক্ষের সজীব সতেজ পত্রগুলি অকস্মাৎ বিশুষ্ক হতে আরম্ভ করেছে। কয়েক নিমেষের ব্যবধানে এ কী বিপর্যয় ! রাম সপ্রশ্ন চোখে জাম্বুবানের দিকে চাইলেন। চিন্তান্বিত জাম্বুবান গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, "কুলক্ষণ রঘুনাথ। পূজায় কোনও অঙ্গহানি হয়েছে।"

সকলের মধ্যে উদ্বেগের মৃদু গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল। অঙ্গহানি ! সে যে বড় ভয়ানক ! অনুকূল হওয়ার বদলে দেবী আরও প্রতিকূল হয়ে উঠবেন। রাবণবধের দুরাশা কোনওদিনই বাস্তবায়িত হবে না। "কী অঙ্গহানি হল মহাত্মন জাম্বুবান ?" রামের এই প্রশ্ন আসলে একা রামের নয়, উপস্থিত সকলেরই। জাম্বুবান ভাল করে চোখ চালিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "রঘুনন্দন ! দেবীর মহাস্নানে আপনি বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা অর্পণ করেছেন কি ?"

যা ছিল গুঞ্জন, তা কোলাহলের রূপ নিল। অনেকেই এই উপচারটির কথা জানত না। তারা বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে গেল। যারা জানত, যেমনটা জানত, তারা তেমনটা অন্যদের বলতে লাগল। শুনে কারুর কৌতুক হল, কারুর ঘৃণা, কারুর লজ্জা, কারুর কৌতূহল। রাম বিব্রত মুখে বললেন, "যথার্থ আশংকা আপনার, ব্রহ্মাপুত্র জাম্বুবান। সত্যিই তো ! বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা দ্বারা দেবীর স্নান তো আমি করাইনি ! হনুমান ! উপচার-সংগ্রহের প্রধান দায়িত্ব ছিল তোমার। এই দ্রব্যটি কোথায় রেখেছ, শীঘ্র বলো।"

মহাবীর মারুতি জোড়হস্তে এগিয়ে এলেন। বললেন, "প্রভু, দেবীসেবার যে-সকল উপচার লঙ্কায় উপলব্ধ ছিল না, সেগুলির সবই আমি জোগাড় করে এনেছিলাম। এইটি আনিনি দুটি কারণে। প্রথমত, আমি ব্রহ্মচারী। পতিতালয়ে গমন, তা সে যে উদ্দেশ্যেই হোক, আমার পক্ষে অনুচিত। দ্বিতীয়ত, আমি ভেবেছিলাম, এটি লঙ্কাতেই পাওয়া যাবে। নগর যখন আছে, নগরনটী গণিকা কি সেখানে থাকবে না ? এই ভেবেই ওটি আনিনি।"

দেখা গেল, ঐ মৃত্তিকা কেউই আনেনি। রাম স্পষ্টত বিরক্ত হলেন। বললেন, "যাও। এক্ষুনি লঙ্কার বেশ্যাগৃহ থেকে মৃত্তিকা নিয়ে এসো। শীঘ্র।" আপনা হতেই সবার চোখ ঘুরে গেল বিভীষণের দিকে। লঙ্কার কোন স্থানে গণিকালয় রয়েছে, তা বানরদের জানার কথা নয়। বিভীষণই সহায়। কিন্তু তার মুখে যে দুশ্চিন্তার আঁধার ! কম্পিত কণ্ঠে তিনি বললেন, "প্রভু ! মার্জনা। লঙ্কা নগরীতে তো কোনও বেশ্যাগৃহ নেই ! না প্রভু, বিস্মিত হবেন না। দেখুন, রাক্ষসগণ রাক্ষসমতে বিবাহে অভ্যস্ত। অর্থাৎ মনোমত নারীকে প্রয়োজনে বলপূর্বক হরণ করে তারা স্বচ্ছন্দে বিবাহ করে। লঙ্কেশ্বর রাবণ নিজেও সেই মতানুসারেই জনকনন্দিনীকে হরণের স্পর্ধা দেখিয়েছেন। ইচ্ছানুযায়ী যে-কোনও নারীকেই বলপূর্বক বিবাহ বা সম্ভোগ করার অধিকার থাকায় রাক্ষসগণ বেশ্যাগমনের প্রয়োজন কখনও অনুভব করেনি। লঙ্কা তাই গণিকাশূন্যা, প্রভু।"

রামের দুর্ভাবনা ঘনীভূত হওয়ার আগেই কথা বলে উঠলেন হনুমান, তাঁর চিরাভ্যস্ত অকুতোভয় স্বরে। "আমাকে অনুমতি দিন প্রভু।সাগরলঙ্ঘন করে আমি সেই মৃত্তিকা এনে দিচ্ছি। আপনার সেবার জন্য না-হয় বেশ্যাগৃহ গমনের অনাচারটুকুও করব।"

রাম আশ্বস্ত হলেন। কিন্তু সে আর কতক্ষণ ! তৎক্ষণাৎ শোনা গেল জাম্বুবানের খেদোক্তি। "না হনুমান। এখন আর তা সম্ভব নয়।" "কেন ঋক্ষরাজ ! কেন অসম্ভব ?" প্রায় একই বাক্য একই সঙ্গে উচ্চারিত হয় রাম ও হনুমানের মুখে।

(ক্রমশ)

শেয়ার করুন


Avatar: debu

Re: বেশ্যাদ্বার

অপুর্ব
Avatar: সুতপা

Re: বেশ্যাদ্বার

মনোগ্রাহী। পরের পর্ব পড়ার অধীর প্রতীক্ষায় রইলাম।
Avatar: Arindam

Re: বেশ্যাদ্বার

বেশ বেশ। কিন্তুক একটি কোস্নো - " লঙ্কেশ্বর রাবণ নিজেও সেই মতানুসারেই জনকনন্দিনীকে হরণের স্পর্ধা দেখিয়েছেন।" - বিভীষণ এই কথা কি রাবণের সামনেই বল্লেন? ইয়ে মানে এই ভার্সানে কি রাবণ অকালবোধনের পুরোহিত নন ?

Avatar: শঙ্খ

Re: বেশ্যাদ্বার

দারুণ!
অরিন্দমের প্রশ্নের উত্তরে, প্রথম লাইন বলছে পুজো করছেন রাম। রাবণ পিকচারে এলেন কোথায়?
Avatar: AS

Re: বেশ্যাদ্বার

ভালো লাগল । পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
Avatar: R2H

Re: বেশ্যাদ্বার

রাবণ এই পুজোর পুরোহিত ছিলেন এমন একটা কিছু আছে - সেই হিসেবে রাবণের প্রসঙ্গ।
কোন ভার্শনে সেসব জানিনা।
Avatar: pi

Re: বেশ্যাদ্বার

পরের পর্ব কই ?
Avatar: Arindam

Re: বেশ্যাদ্বার

বারে! নিজে পুজো করলে ও পুরোহিত থাকতে দোষ কোথায়। ও সব এই পোড়া বাংলায় হয়। রাম উত্তর ভারতীয় কি না, ওখানে পুরোহিত যজমানকেও পুজোয় involve করেন, অন্যভাবে বলতে গেলে পুজোয় খটোমটো মন্ত্র পড়তে সাহায্য করেন। ঃ)

Avatar: Blank

Re: বেশ্যাদ্বার

খটোমটো মন্ত্র যে পড়ে সে যজমান নয়, তাকে বলে তন্ত্রধারী।
Avatar: Arindam

Re: বেশ্যাদ্বার

ঐ যে বল্লুম , ও সব এই পোড়া বাঙ্গলায় হয় ! ঊত্তর ভারতীয়েরা রীতিমতন পুজোপাটা করেন পুরোহিতের সাহায্যে । তবে থাক, এই তুশ্চু বিষয় নিয়ে আর তক্কো করব না, রসভঙ্গ হবে ঃ)

Avatar: রুখসানা কাজল

Re: বেশ্যাদ্বার

দারুণ দারুণ। পরের পর্ব কিছুতেই মিস করতে চাইনে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন