Alpana Mondal RSS feed

Alpana Mondalএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমার প্রতিবাদের শাড়ি

Alpana Mondal

আমার প্রতিবাদের শাড়ি

সামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের গ্রাম দেশে রীতি । আমার মা এ ব্যাপারে এক্সপার্ট । পুরানো , রঙ ওঠা ,ছেঁড়া দু একটা শাড়ি এদিক ওদিক কেটে হাতে সেলাই করে তিনি এমন সাইমানা বানিয়ে দেবেন যা দেখে আচ্ছা আচ্ছা দর্জি চমকে যাবে ।

আমি তখন গাজিপুরে আলুর গুদাম তৈরির কাজে জোগাড়ের কাজ করি । মাথায় করে ইট বয়ে বিভিন্ন তলায় পৌছে দেওয়া আমার কাজ । হাজিরা ৬০টাকা । মেয়ে তখন মাত্র এক দের বছরের হবে । মাকে না দেখলেই কাঁদে ,আর মা মেয়ের কাছে থাকলেই হেড মিস্তিরি বকা লাগায় । বাধ্য হয়ে তাকে পিঠে বেঁধে বালি, ইট তুলি তিন তলা চার তলায় । কাজ শেষ হয়ে যেত চারটে নাগাদ । মাঠের মধ্যে নুতন আলুর গুদাম যাকে আপনারা হিমঘর বলেন তৈরি হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি । সবাই আমরা বাংলার লেবার । হেড মিস্তিরিরা সব বর্ধমান , হুগলী জেলার লোক , সেখানে অনেক হিমঘর ,তাদের অনেক অভিজ্ঞতা -আর বাকি লেবার সব আমাদের নদীর ওপারের । কাজের জায়গায় লাইট নেই , অর্ধেক দিন জেনারেটর চলেনা , বললে বলে তেল নেই । জলের জন্য একটা চৌবাচ্ছা । বাথরুমে দরজা নেই । অন্ধকারে যে কেউ যার তার ঘরে ঢূকে পড়তে পারে ।

কাজে আনবার সময় বলেছিল থাকার জায়গা , কল বাথরুম ,লাইট ,নিরাপত্তা দেওয়া হবে কিন্তু এতো চুক্তিভংগ।কথামত মজুরি ছাড়া আর কিছুই নেই। মালিকের তরফে এক বিহারী ম্যানেজার ছিল , খিটখিটে , আমাদের মানুষ বলে হিসাবে আনতোনা । আমার তখন দু মাস মত হয়েছে ঐ আলুর গুদামে , সকলের সাথে অল্প বিস্তর পরিচয় হয়েছে , আমি একদিন গিয়ে আমাদের সর্দার কে গিয়ে ধরলাম - এটা কি হচ্ছে? কিছুই ত নেই চুক্তিমত, এভাবে থাকা যায় , কাজ করা যায় ? তুমি বলোনা কেন ? আরে ছাড়তো আর তো এক দু মাস , আর বলে কিছু লাভ নেই ম্যানেজারটা খুব বদমাশ।হেড মিস্তিরিদের গিয়ে ধরলাম তারাও গা এড়িয়ে গেল -অসুবিধা তো আমাদের ,ছেলেরা এদিক ওদিক চালিয়ে নেয় । আমরা প্রায় ১০-১২ জন মেয়ে কাজ করি ,সকলের অসুবিধা ,দল পাকালাম। এরা যখন গা লাগাচ্ছেনা তখন মালিক এলে আমরাই বলব , না শুনলে হাঁটা লাগাব দেশে এভাবে থাকা যায় ?

কিন্তু কেউ হিন্দি জানেনা, বিদেশ বলবে কে ? আমি সেই ন বছর বয়স থেকে টিকিয়াপাড়ায় জয়শোয়াল দের বাড়ি কাজ করেছি । হিন্দি আমি ভালই বলতে পারি - আমি বলব ।

একদিন মালিক এলেন , এম এল এ না নেতা কিছু হবেন , দুটো গাড়ি ভর্ত্তি সাঙ্গপাঙ্গ।শয়তান ম্যানেজার সাথে সাথে লেগে আছে । আমি প্রানপনে সাহস জোটাতে থাকলাম -যা হবে দেখা যাবে এইভাবে অমানুষের মত গরুর গোয়ালে থেকে কাজ করা যায়না । গরিব তো কি ? সন্মান নেই ?

হিন্দিতে বললাম - আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই, এখানে না অফিসে ?

তিনি চমকে গেলেন -সেকি একটা লেবার তাও মেয়ে - পরিস্ষ্কার হিন্দিতে কথা বলছে ? তিনি বললেন এখানেই বল । আমাদের সর্দার , হেড মিস্তিরিরা হাঁ হাঁ করে উঠল । কিন্তু আমি বললাম ,আমাদের সমস্ত অভিযোগ। দেখলাম মালিক সত্যিই জানেনা আমাদের জন্য কোন সুবিধা নেই -ম্যানেজার রোজ জেনারেটরের তেলের হিসাব দিয়ে বিল চুরি করে । মনে হল লজ্জা পেলেন । অত বড় মানুষ আর অত বাইরের সাঙ্গপাঙ্গর সামনে একটা সামান্য জোগাড়ে, তাও মেয়ে তাকে লাইন দিয়ে অভিযোগের ফিরিস্তি শোনাচ্ছে । তিনি ঘুরে ঘুরে আমাদের থাকার জায়গা ,জলের ব্যবস্থা ,বাথরুম দেখলেন । চলে গেলেন গম্ভীর মুখে। সবাই আমাকে তুমুল ঝাড় লাগালো ,এই মেয়েটার পাকামোর জন্য আমাদের সবাইকে কালকেই কলকাতার ট্রেন ধরতে হবে । বলে তো দিয়েছি , সহ্যের বাইরে এখন যা হবে দেখা যাবে ।

পরের দিন থেকে দেখি জেনারেটর আর বন্ধ হয়না ,ছেলেদের মেয়েদের আলাদা নুতন বাথরুম হয়ে গেল । দুটো টিউকল বসল আর সেই শয়তান ম্যানেজারের বদলে এলো এক বয়স্ক ম্যানেজার ।

কাজ শেষ হওয়ার আগের দিন আমাদের সব্বাইকে তিনি তার বাড়িতে ডেকেছিলেন , খাওয়ালেন ,আমরা রেকর্ড সময়ে আলু গুদামের কাজ শেষ করেছি । আমাকে ডেকে উনি ওনার পরিবারের সাথে আলাপ করালেন , জানলাম তিনি আমার কথা শুনেছেন -আর আমাদের সব মেয়েদের একটা করে চুমকি বসানো শাড়ি দিয়েছিলেন । সেই শাড়ি -আমি বহুদিন পরেছি ।

১০ বছর আগে পাওয়া আমার সেই প্রতিবাদের শাড়ী এখন সাইমানা হয়ে মাথার ওপর ঝোলে , মা তার চারিধারে ঝালরের মত করেছে ।

সাইমানা মনে করিয়ে দেয় "প্রতিবাদ নায্য।"

শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

অন্য সমস্ত বাদ দিলেও, শুধু একটা লেখা হিসেবেই অদ্ভূত ভালো।
Avatar: দ

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

আল্পনার সাহস, প্রতিবাদের শক্তি, লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা হাজারবার লক্ষবার কুর্নিশযোগ্য।

আহেম .. "শুধু একটা লেখা" মানে কি ন্যারেটিভের কথা বলছিস? তাহলে ইসে ঐটে বোধহয় আল্পনার নয়। ঘটনাটা আল্পনার অবশ্যই এবং অবশ্যই যে কোনও প্রশংসার উর্ধ্বে। কিন্তু ন্যারেটিভ ....

Avatar: de

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

সত্যিই অসাধারণ ভালো লেখা!

এমন জীবন আড়ালে থেকে গেলে কতো কিছুই জানা হোতো না -
Avatar: i

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি


এত কিছু তো জানি না-

Avatar: kumu

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

১০ বছর আগে পাওয়া আমার সেই প্রতিবাদের শাড়ী এখন সাইমানা হয়ে মাথার ওপর ঝোলে -এইটা দারুণ।
খুব ভাল গল্পলেখা হয়,একটুসাজিয়ে গুজিয়ে দিলে।আলপনার লেখাটাও খুব সুন্দর,সরল,সবল ও সহজ।
Avatar: aranya

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

নামটা দেখে একটা গানের লাইন মনে পড়ল - 'আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার প্রতিরোধের আগুন', বেসুরো গলায় খুব গাইতাম এক কালে

আল্পনার লড়াই-কে কুর্নিশ
Avatar: শঙ্খ

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

বাহ! কুর্নিশ!
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

আলপনা নিজেই এখন সরাসরি গুরুতে লিখছে!
জয় চণ্ডাল!
Avatar: মাধব মন্ডল

Re: আমার প্রতিবাদের শাড়ি

বাইরের জগতের শোনা গল্প ভেতর থেকে জানলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন