Sudipto Nag RSS feed

Sudipto Nagএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা ▶️ভুবন মাঝি নাকি আত্মহত্যা করেছিল। ভুবন মাঝি কি আত্মহত্যা করেছিল? ভুবন মাঝি কি সত্যি মরে গেছে?'তুমি বেধবা হইছ বলে কি আমি নাও বাওয়া ছেড়ে দেব?' গভীরতম রাতটিতে লক্ষ্মী বাগদিকে এই ছিল ভুবনের কথা।'তোমাকে আমি কী দিয়া বাঁধি বলত?' লক্ষ্মী কোমরের ...
  • আমার না-ছোঁওয়া প্রেম
    অমরদার সবজি দোকানে নোনা ধরা দেওয়ালে দক্ষিণেশ্বরের মা কালীর ছবির পাশেই থাকতো রামকৃষ্ণ, সারদা মা, মিঠুন, ব্রুসলি, অমিতাভ আর তার পাশেই এক সুন্দর মহিলার মিষ্টি হাসি মুখের ছবি। যেন ঠিক ওপাড়ার বুলিদি। এর আগে তো ছবিটা দোকানে দেখিনি। ওই ছবিটা কার গো? জিজ্ঞেস ...
  • রিফিউজিদের ঠিকানা হয় না
    যুদ্ধবিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অসংখ্য মানুষ রিফিউজি হয়ে যান প্রতিবছর। তারা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরেন একটা ঠিকানার খোঁজে।আদতে রিফিউজিদের কি কোন ঠিকানা হয়? কোথাও তাদের সন্তান সন্ততিদের লোকে কোথাও মোহাজির বলে না তো? কিংবা কোথাও হয়তো পিঠের কাঁটাতারের দাগ খোঁজে। ...
  • নাটকঃ বিণির্মান
    এক্ট-১দৃশ্য-১সময় রাত। বেডরুম। বিছানায় দুইটি মানুষ। তারা স্বামী ও স্ত্রী। স্বামীটির নাম হাসান। স্ত্রী’টির নাম অবন্তী। তাদের বয়স ত্রিশের নিচে। তারা বেশ রোমান্টিক আবহে কথাবার্তা বলছে।অবন্তীঃ আজ আপা ফোন দিয়েছিল। কাল তার বাসায় দাওয়াত দিয়েছে।হাসানঃ ...
  • একা হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশ বছর
    “আমার চারপাশে ঘন অন্ধকার। নিকষ কালো অন্ধকার। আমি দাঁড়িয়ে আছি একটি আলোকিত বৃত্তের মাঝখানে। পরিক্রমা করে চলেছি একটি উজ্জ্বলতম পটভূমি। আমি জানি, স্থির জানি, এই আলো, উজ্জ্বলতা কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়। সেই আলো যে কোন মুহূর্তে নিভে যেতে পারে। আমাকে নিক্ষেপ করতে ...
  • আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা
    ঘটনা এক:তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছি। কলেজের জেরক্স সেন্টারে নোটস জেরক্স করতে গেছি। বকবক করা স্বভাব আমার। অতএব খুব কম সময়েই আলাপ করে ফেললাম সেন্টার দাদার সঙ্গে। বেশ খানিকক্ষণ গল্পের পরে দাদা নাম জিজ্ঞাসা করলো। নাম শুনে প্রতিক্রিয়া ছিলো “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় ...
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সিনেমার ডায়লগ নিয়ে দু চার কথা

Sudipto Nag



সাইলেন্ট সিনেমার যুগে বাস্টার কিটন বা চার্লি চ্যাপ্লিনের ম্যানারিজমের একটা বিশেষ আকর্ষন ছিল যেটা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। চোখে মুখের অভিব্যক্তি সংলাপের অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা করত। আর্লি সিনেমাতে ডায়লগ ছিল কমিক স্ট্রীপের মত। ইন্টারটাইটেল হিসাবে ডায়লগ আসত। তাই ডায়লগ আমাদের মনে সেইভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারতনা। টকি চালু হওয়ার পর ডায়লগের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ঠিক নাটকে যেমন ডায়লগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সিনেমার ক্ষেত্রেও খুব প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। আজ একটি ছবি হিট করানোর পেছনে শুধু স্টার পাওয়ার বা গল্প নয়, গল্পের ভতরে ক্যারেক্টারদের ডায়লগ একটা বিশাল রোল প্লে করে। এই ফ্যাক্টারটা কিন্তু আজ তৈরি হয়নি। হয়েছে বহুকাল আগে। মনে করে দেখা যাক সেই সময়টা যখন চার্লি সাইলেন্ট ছবি বানিয়ে যাচ্ছে আর অন্যদিকে টকি এসে গেছে। চার্লি টকি বানাতে নারাজ কিন্তু সে বুঝেছিল ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর ছবিতে সে ট্র্যাম্পকে কথা বলাতে পারে। কারণ ওই শেষের শান্তি স্থাপনের স্পিচটা ন্যারেশানের আকারে এলে দর্শকের মনে কোন প্রভাব বিস্তারই হতো না হয়তো। একজন সাকসেসফুল ডায়লগ রাইটারের কৃতিত্বটা ঠিক কোথায়? এই বিষয়ে তর্ক বিতর্কের জায়গা প্রচুর। তবে খতিয়ে দেখলে বেশ কিছু জিনিস চোখে পড়ে। হলিউডি ছবি কেন আমাদের টানে? খুব সহজ। উত্তরটা হল আমেরিকান ড্রিম। এই আমেরিকান ড্রিম ঘোড়ার ডিমের মতই অলীক। কিন্তু এই আমেরিকান ড্রিম তৈরি করেছেন দক্ষ ডায়লগ রাইটাররা। ‘প্রিটি ওম্যান’ ছবির শেষ দৃশ্যে একটি ভয়েসওভার এই আমেরিকান ড্রিম নিয়ে একদম অকপট বলা হয়েছে- “Welcome to Hollywood! What's your dream? Everybody comes here; this is Hollywood, land of dreams. Some dreams come true, some don't; but keep on dreamin' - this is Hollywood. Always time to dream, so keep on dreamin”
হলিউড ছবিতে ওয়েস্টার্ণ থেকে শুরু করে ফিল্ম নোয়া সব জনারাতেই ডায়লগ আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কেন? একটা এমন কিছু আছে এইসব ডায়লগে যেগুলো আমাদেরকে উত্তজিত করছে। এগুলো আমদের মুখের সহজাত ডায়লগ নয়। তার চেয়ে একটু বেশি। সোজা কোথায় এমন কিছু ডায়লগ যেগুলো আমরা বলতে চাই কিম্বা হয়তো সেগুলো আমরা ভাবতেই পারিনা চট করে। সিনেমাতে মেলোড্রামা আমরা এনজয় করি তার একটা বড় কারণ ডায়লগ। আমাদের হিরো আর ভিলেন মারামারি করে জিনিসপত্র ভাঙ্গলে আমরা যতটা খুশি হই তারচেয়েও বেশি খুশি হই যখন তাদের মধ্যে কথার লড়াই হয়। একটা প্রবাদ আছে পেন ইজ মাইটার দ্যান দা সর্ড। পেন এর বদলে ডায়লগ কথাটাও বসানো যায়। শোলে তে পুলিশ অফিসারের ন্যায় বিধান করার হাত কেটে ফেলার আগে গব্বর যদি না বলে- মুঝে ইয়ে হাত দে দে ঠাকুর তাহলে আমাদের স্পাইনে ঐ শিরশিরে অনুভূতিটা হবেনা। তাই না? সিনেমাতে সারকাজম, ব্ল্যাক হিউমার এইসব ডায়লগ ছাড়া অনেকটাই পঙ্গু। আবার শোলেতে ফিরে যাই। ‘কিতনে আদমি থে’? এই প্রশ্ন ব্যাঙ্গাত্মক প্রশ্ন। ডাকু সর্দারের এই ব্যাঙ্গাত্মক ডায়লগ গুলি না থাকলে তিনি ডাকু সর্দারই হয়ে যেতেন। গব্বর হতেন না। সুপার হিউম্যান ক্যারেক্টার তৈরি করতে আগে চরিত্রের ভূমিকা রচনা করতে হয় ডায়লগের মাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে ‘ব্যাটম্যান বিগিন্স’ র ব্যাটম্যানের ডায়লগ মনে পড়ে গেল- ‘It's not who I am underneath, but what I do that defines me’.
এই ডায়লগটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ব্রুস নয় তার অল্টার ইগো ব্যাটমানই নায়ক। তার মিশনকে কেন্দ্র করেই এই ছবি। অন্যদিকে জোকারও বুঝিয়ে দিচ্ছে ডায়লগের মাধ্যমে যে প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে টক্কর দেবার জন্যই তার অস্তিত্ব। অনেক ক্ষেত্রে এক-একটা ডায়লগ চরিত্রকে ডিফাইন করে দেয়। যেমন লেজেণ্ড অফ নাইন্টিন হাণ্ড্রেডে পিয়ানিস্ট টিম রথের পরিচয় যে সে শুধু সমুদ্রের তলাতেই বাজায়। ডায়লগ যেমন ওয়ান লাইনারের কাজ করে কিম্বা প্রবাদের আকার ধারণ করে নেয় তেমনি ডায়লগ আমাদের ফিল্মের গভিরেও নিয়ে যায়। উইম উইন্ডার্সের এর প্যারিস-টেক্সাসে স্বামী এবং স্ত্রীর গভীর দীর্ঘ কথোপকথন আমাদের উত্তজিত কিম্বা বোর করেনা। আমাদের ভাবাতে সাহায্য করে।
ডায়লগের এত গুরুত্ব থাকলেও ফিল্ম হল ভিজুয়াল মিডিয়াম। নাটকে যেমন জায়গা পরিবর্তন হয়েনা এবং সেটসের লিমিটেশান থাকে তেমন সিনেমাতে নয়। সেখানে বলার জায়গা বা পদ্ধতি অনেকরকম হতে পারে। তাই বেলা তার, কিম কি ডুক, আন্তনিওনির মত পরিচালকরা মিনিমাল ডায়লগ কে প্রশ্রয় দিয়ে অন্য দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘কিড’ ছবিতে চার্লির হাত থেকে বাচ্চাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে আর চার্লির সেই অদ্ভূত অভিব্যক্তি আমাদের বুক মুচড়ে দেয়। সেখানে কোন ডায়লগ নেই আছে মনের মধ্যে ছুঁয়ে দেওয়ার তরঙ্গ। সেই তরঙ্গ আজকাল আর সচরাচর চোখে পড়েনা। যদি ডায়লগের মোহ থেকে একটু সরে গিয়ে অন্যভাবে দেখি তাহলে হয়তো অনেক দরজা খুলতে পারে যেগুলোর জন্য আমাদের ইন্দ্রিয়কে হয়তো আরেকটু সজাগ করতে হবে।


শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন