Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা ▶️ভুবন মাঝি নাকি আত্মহত্যা করেছিল। ভুবন মাঝি কি আত্মহত্যা করেছিল? ভুবন মাঝি কি সত্যি মরে গেছে?'তুমি বেধবা হইছ বলে কি আমি নাও বাওয়া ছেড়ে দেব?' গভীরতম রাতটিতে লক্ষ্মী বাগদিকে এই ছিল ভুবনের কথা।'তোমাকে আমি কী দিয়া বাঁধি বলত?' লক্ষ্মী কোমরের ...
  • আমার না-ছোঁওয়া প্রেম
    অমরদার সবজি দোকানে নোনা ধরা দেওয়ালে দক্ষিণেশ্বরের মা কালীর ছবির পাশেই থাকতো রামকৃষ্ণ, সারদা মা, মিঠুন, ব্রুসলি, অমিতাভ আর তার পাশেই এক সুন্দর মহিলার মিষ্টি হাসি মুখের ছবি। যেন ঠিক ওপাড়ার বুলিদি। এর আগে তো ছবিটা দোকানে দেখিনি। ওই ছবিটা কার গো? জিজ্ঞেস ...
  • রিফিউজিদের ঠিকানা হয় না
    যুদ্ধবিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অসংখ্য মানুষ রিফিউজি হয়ে যান প্রতিবছর। তারা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরেন একটা ঠিকানার খোঁজে।আদতে রিফিউজিদের কি কোন ঠিকানা হয়? কোথাও তাদের সন্তান সন্ততিদের লোকে কোথাও মোহাজির বলে না তো? কিংবা কোথাও হয়তো পিঠের কাঁটাতারের দাগ খোঁজে। ...
  • নাটকঃ বিণির্মান
    এক্ট-১দৃশ্য-১সময় রাত। বেডরুম। বিছানায় দুইটি মানুষ। তারা স্বামী ও স্ত্রী। স্বামীটির নাম হাসান। স্ত্রী’টির নাম অবন্তী। তাদের বয়স ত্রিশের নিচে। তারা বেশ রোমান্টিক আবহে কথাবার্তা বলছে।অবন্তীঃ আজ আপা ফোন দিয়েছিল। কাল তার বাসায় দাওয়াত দিয়েছে।হাসানঃ ...
  • একা হয়ে যাওয়ার পঞ্চাশ বছর
    “আমার চারপাশে ঘন অন্ধকার। নিকষ কালো অন্ধকার। আমি দাঁড়িয়ে আছি একটি আলোকিত বৃত্তের মাঝখানে। পরিক্রমা করে চলেছি একটি উজ্জ্বলতম পটভূমি। আমি জানি, স্থির জানি, এই আলো, উজ্জ্বলতা কিছুই দীর্ঘস্থায়ী নয়। সেই আলো যে কোন মুহূর্তে নিভে যেতে পারে। আমাকে নিক্ষেপ করতে ...
  • আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা
    ঘটনা এক:তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছি। কলেজের জেরক্স সেন্টারে নোটস জেরক্স করতে গেছি। বকবক করা স্বভাব আমার। অতএব খুব কম সময়েই আলাপ করে ফেললাম সেন্টার দাদার সঙ্গে। বেশ খানিকক্ষণ গল্পের পরে দাদা নাম জিজ্ঞাসা করলো। নাম শুনে প্রতিক্রিয়া ছিলো “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় ...
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ

Muradul islam

নুরুন্নবী ভাবিয়া যায়। আমি নতুন ভাষায় কথা বলব। নতুন ভাষায় তুই তাই করে কথা বলব নামীদামী লোকের লগে। কবিতা বলব, গান লেখব, ইচ্ছা হইলে অশ্রাব্য কুকথা লেইক্ষা টেইক্ষা ভরাইয়া ফেলব। কিন্তু কেউ বুঝতে পারবে না।

নুরুন্নবী ভেতরে ভেতরে উৎসাহ পায়। পানি খাওয়ার গ্লাসের মধ্যে মুখ রাইখা সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর গ্লাস চোখে লাগাইয়া আশপাশরে ঝাপসা দেখতে দেখতে তার মনে হয় চারপাশের সমস্ত গাছ বিরিক্ষি লতা পাতা, কাঠের দেয়াল সবাই তারে যেন গ্লাসের ঝাপসায় অস্পষ্টভাবে দেখছে। নুরুন্নবী কয়েকটা লাফ দিয়া নিজেরে নিজেই বলে, আমি তো ঝাপসা হইয়া গেলাম রে নুরুন্নবী। এইটা কেমনে হইল? এইটা ক্যামনে হইল? ক্যামনে ক্যামনে ক্যামনে...!

নুরুন্নবীর এক সময় চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হাতের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে। একধরনের কাচব শব্দের মাধ্যমে গ্লাস ভেঙ্গে যায়। নুরুন্নবীর কিছুটা হুশ ফিরে তখন। সে ভেঙ্গে যাওয়া গ্লাসের দিকে অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। শালিক পাখি যখন খাঁচায় থাকে তখন মাঝে মাঝে এরা মাথা ঘুরিয়ে অদ্ভুত ভাবে তাকায়। নুরুন্নবী সেইভাবেই তাকিয়ে থাকে।

ভাঙ্গা গ্লাস দেখে তার গ্লাসের জন্য দুঃখবোধ জেগে উঠে। সে তখন তার রুক্ষ চুলভর্তি মাথা চুলকে বিষন্ন কন্ঠে অস্পষ্টভাবে বলে, গেলাশ ভাইঙ্গা ফেললাম নাকী রে নুরুন্নবী!

এইসব, সব কিছুই যেন কেমন কেমন। এমন কেন হয়? নুরুন্নবী মাটিতে বসে মাথায় এক হাত দিয়া ভাবে। এমন ক্যান হয়? ক্যানো হয়? কেনো কাচের গ্লাসে নিঃশ্বাস ফেললে ঝাপসা হইয়া যায় কারো কারো পৃথিবী? কেনো কিছু ভাষায় কথা কইলে কেউ বুঝে না? কেনো, ও ঈশ্বর! কেনো কাচের গ্লাস মাটিতে পইড়া ভাইঙ্গা যায়?

নুরুন্নবী এইসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পায় না। তার কাছে সব কিছু অর্থহীন লাগে। তার কাছে মনে হয় এই যে কাচের গ্লাস পইড়া এক ধরনের অদ্ভুত শব্দের সহিত ভাইঙ্গা গেল, কোন ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই; এগুলা যেন অযৌক্তিক। যুক্তি কোথাও নাই। খালি যুক্তিহীনতা। কাচের গ্লাস এইভাবে পইড়া ভাইঙ্গা যাওয়ার কোন মানে হয়?

নুরুন্নবীর দুঃখবোধ কমে না। বরং আরো বাড়তে থাকে। যুক্তিহীনতা তারে এক প্রগাঢ় দুঃখের দিকে যেন টানতে থাকে। নুরুন্নবী তার চোখ মুছে। গাল মুছে। মাথার পিছনে খামছি দিয়া কিছু চুল ধরে উঁকুনের বসতবাটি বিধ্বস্ত করে দিতে চায়। তারপর সে গলা দিয়ে গড় গড় গড় শব্দ করে। প্রথমে আস্তে আস্তে। তারপর ধীরে ধীরে শব্দ বাড়তে থাকে।

কিছুক্ষণ পর একটা নির্দিষ্ট তালে।

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়গড়গড়গড়

গড়

হুশ

হুশহুশহুশ!

নুরুন্নবী চুপ হয়ে যায়।

একেবারে নিরব। সে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে। মেঝেতে কয়েকটি পিঁপড়া ছন্নছাড়ার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। নুরুন্নবী তাদের দেখতে থাকে। তার মনে হয় এই পিঁপড়াগুলো দলছুট। এরা দলহারা হয়েছে। দলের পিঁপড়াগুলো এদের আর খেলায় নেয় না। মেলায় নেয় না। বিয়াতে দাওয়াত দেয় না। কিছুতেই নেয় না।

তাই তারা একা একা ঘুরে বেড়ায়। এরা কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। কোথায় যাবে তাও বুঝতেছে না। নুরুন্নবী যেন পিঁপড়াগুলোকে বুঝতে পারে। সে উবু হয়ে কাছ থেকে পিঁপড়াদের দেখতে থাকে।

এবং এক সময় নিজের জিহবা দিয়ে একটা পিঁপড়াকে তুলে আনে। জিহবায় লেগে পিঁপড়াটি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছোটাছোটি করে। নুরুন্নবী দুই চোখ দ্বারা নাকের উপর দিয়ে জিহবায় তাকিয়ে পিঁপড়াকে দেখে। এক সময় তার জিহবায় ব্যথা হয়। তখন সে তার জিহবা ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে। এর সাথে পিঁপড়াটিও তার ভিতরে ঢুকে যায়।

সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে নুররুন্নবীর মন ভাল হয়ে যায় এরপর। সে কয়েকটা লাফ দেয়। তারপর সারা ঘর ঘুরে বেড়ায়। তার ঘরে জিনিসপত্র কিছুই নেই তেমন। কয়েকটি কাঠের ভাঙ্গা টেবিল, পোকায় খাওয়া টেবিল। একটি দুই পা ভাঙ্গা খাট। আর চারপাশে কাঠের দেয়াল।

নুরুন্নবীর ঘরময় ঘুরতে ঘুরতে টেবিল গুলোকে ইচ্ছামত কিল ঘুষি লাথি মারে। এতে এক ধরনের শব্দ হয় যা তার ভাল লাগে। টেবিলগুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এক ধরনের শব্দ হয়। হয়ত তাদের জীবনের শেষ শব্দ। নুরুন্নবী কান পেতে শুনে। কাঠের টেবিল ভাঙ্গার শব্দ, খাট ভাঙ্গার শব্দ, দেয়াল ভাঙ্গার শব্দ, দরজা ভাঙ্গার শব্দ, গাছ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ। সব ভাঙ্গার শব্দ তার ভাল লাগে।

এগুলোর সাথে সে নিজের মিল খুঁজে পায়। নুরুন্নবীর মূর্তিমান অস্তিত্বটিই যেন তার একান্ত নিজের ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ। তাই নুরুন্নবী সবকিছুই ভাঙ্গতে চায়। নিজেকেও ভাঙ্গতে চায়।

---------


শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন