Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প
    *********বাউণ্ডুলে পিঁপড়ের গল্প*******মহারাজ গল্প টল্প লেখেন না, যা দেখেন তাই। তা আমার সাথে সেদিন এক মক্কেলের মুলাকাত হয়েছিলো, নচ্ছারটা যদিও আমায় নানান কু কথা বলেছে, তাও বন্ধুত্বের খাতিরের ওর কথা গুলো বলে গেলাম। 'এই শোন একটা গাড়ি আসছে বুঝলি একটু চমকাবি ...
  • ১৯৪৬, এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বছর
    সদ্য তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে।ফ্যাসিস্ট বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছে।পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগসন্ধিক্ষণ।পৃথিবী জুড়ে সব মানুষের বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। যারা যারা যুদ্ধে নিজের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তারাও এই বিভৎসতার শেষে হাপ ছেড়ে বেঁচেছে।সারা পৃথিবীর ...
  • যৌননির্যাতন সম্পর্কে কিছু কথা যা আমি বলতে চাই
    মিডিয়া ট্রায়ালের পর শুরু হয়েছে এক নতুন ফেনোমেনন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল। সবার কী সুন্দর বিচার, ফাঁসি, জেল, সব কিছুর নিদান দিয়ে দেন। নির্ভয়া কান্ডের পর গোটা ফেসবুক জুড়ে ফাঁসির জন্য কী প্রচণ্ড চিৎকার। শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, একটা গোটা জাত ফাঁসি চায়, ...
  • ডারউইন
    মশাদের জগতে একটা বেশ মজার ঘটনা ঘটে চলেছে। ধরুন প্রথম যখন মশা মারবার জন্যে মানুষ কোন কীটনাশক আবিষ্কার করলো। সেই সময় যত মশা ছিলো তার মধ্যে ৯৫% এর ওপর এই কীটনাশক কাজ করে। বাকি ৫% এর ওপর করে না। এবার কীটনাশক আবিষ্কারের আগে এই ৫%কে সেই ৯৫% এর সাথে প্রতিযোগীতা ...
  • রংচুগালা: বিপন্ন আদিবাসী উৎসব
    [ওই ছ্যাড়া তুই কই যাস, কালা গেঞ্জি গতরে?/ছেমড়ি তুই চিন্তা করিস না, আয়া পড়ুম দুপুরে/ হা রে রে, হা রে রে, হা রে রে…ভাবানুবাদ, গারো লোকসংগীত “রে রে”।]কিছুদিন আগে গারো (মান্দি) আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং আলাপচারিতায় জানাচ্ছিলেন, প্রায় ১২৫ বছর আগে গারোরা আদি ...
  • মুক্ত বাজার
    নরেন্দ্র মোদী নিশ্চয় খুশি হয়েছেন। হওয়ারই কথা। প্রধানমন্ত্রী’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ভারতবর্ষের ১০০ জন ধনকুবের’দের ক্রমাঙ্কে টানা দশ বছর শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন। গত বছরে, রেকর্ড হারে, ৬৭% সম্পত্তি বাড়িয়ে, আজ তিনি ৩৮০০ কোটি ডলারের মালিক। ...
  • আমরহস্য
    শহরে একজন বড় পীরের মাজার আছে তা আপনি জেনে থাকবেন, পীরের নাম শাহজালাল, আদি নিবাস ইয়ামন দেশ। তিনি এস্থলে এসেছিলেন এবং নানাবিদ লৌকিক অলৌকিক কাজকর্ম করে অত্র অঞ্চলে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। গত হয়েছেন তিনি অনেক আগেই, কিন্তু তার মাজার এখনো জাগ্রত। প্রতিদিন দূর ...
  • সিনেমার ডায়লগ নিয়ে দু চার কথা
    সাইলেন্ট সিনেমার যুগে বাস্টার কিটন বা চার্লি চ্যাপ্লিনের ম্যানারিজমের একটা বিশেষ আকর্ষন ছিল যেটা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। চোখে মুখের অভিব্যক্তি সংলাপের অনুপস্থিতি পূরণ করার চেষ্টা করত। আর্লি সিনেমাতে ডায়লগ ছিল কমিক স্ট্রীপের মত। ইন্টারটাইটেল হিসাবে ...
  • সিঁদুর খেলা - অন্য চোখে
    সত্তরের দশকের উত্তর কলকাতার প্রান্তসীমায় তখনো মধ্যবিত্ততার ভরা জোয়ার. পুজোরা সব বারোয়ারি. তবু তখনো পুজোরা কর্পোরেট দুনিয়ার দাক্ষিণ্য পায় নি. পাড়ার লোকের অর্থ সাহায্যেই মা দুর্গা সেজে ওঠেন তখনো. প্যান্ডাল হপিং তখন শুরু হয়ে গেছে. পুজোর সময় তখনই মহঃ আলি ...
  • অন্য রূপকথা
    #অন্য_রূপকথা পর্ব এক একদেশে এক রানী ছিল। সেই রানীর রাজ্যে কত ধন, কত সম্পত্তি। তাঁর হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, আর গাড়িশালে খানকয়েক রোল্স রয়েস আর মার্সিডিজ বেন্জ এমনিই গড়াগড়ি যেত। সেই রাজ্যের নাম ছিল সুবর্ণপুর। যেমন নাম, তেমনি দেশ। ক্ষেতে ফলত সোনার ফসল, ...

ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ

Muradul islam

নুরুন্নবী ভাবিয়া যায়। আমি নতুন ভাষায় কথা বলব। নতুন ভাষায় তুই তাই করে কথা বলব নামীদামী লোকের লগে। কবিতা বলব, গান লেখব, ইচ্ছা হইলে অশ্রাব্য কুকথা লেইক্ষা টেইক্ষা ভরাইয়া ফেলব। কিন্তু কেউ বুঝতে পারবে না।

নুরুন্নবী ভেতরে ভেতরে উৎসাহ পায়। পানি খাওয়ার গ্লাসের মধ্যে মুখ রাইখা সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর গ্লাস চোখে লাগাইয়া আশপাশরে ঝাপসা দেখতে দেখতে তার মনে হয় চারপাশের সমস্ত গাছ বিরিক্ষি লতা পাতা, কাঠের দেয়াল সবাই তারে যেন গ্লাসের ঝাপসায় অস্পষ্টভাবে দেখছে। নুরুন্নবী কয়েকটা লাফ দিয়া নিজেরে নিজেই বলে, আমি তো ঝাপসা হইয়া গেলাম রে নুরুন্নবী। এইটা কেমনে হইল? এইটা ক্যামনে হইল? ক্যামনে ক্যামনে ক্যামনে...!

নুরুন্নবীর এক সময় চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হাতের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে। একধরনের কাচব শব্দের মাধ্যমে গ্লাস ভেঙ্গে যায়। নুরুন্নবীর কিছুটা হুশ ফিরে তখন। সে ভেঙ্গে যাওয়া গ্লাসের দিকে অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। শালিক পাখি যখন খাঁচায় থাকে তখন মাঝে মাঝে এরা মাথা ঘুরিয়ে অদ্ভুত ভাবে তাকায়। নুরুন্নবী সেইভাবেই তাকিয়ে থাকে।

ভাঙ্গা গ্লাস দেখে তার গ্লাসের জন্য দুঃখবোধ জেগে উঠে। সে তখন তার রুক্ষ চুলভর্তি মাথা চুলকে বিষন্ন কন্ঠে অস্পষ্টভাবে বলে, গেলাশ ভাইঙ্গা ফেললাম নাকী রে নুরুন্নবী!

এইসব, সব কিছুই যেন কেমন কেমন। এমন কেন হয়? নুরুন্নবী মাটিতে বসে মাথায় এক হাত দিয়া ভাবে। এমন ক্যান হয়? ক্যানো হয়? কেনো কাচের গ্লাসে নিঃশ্বাস ফেললে ঝাপসা হইয়া যায় কারো কারো পৃথিবী? কেনো কিছু ভাষায় কথা কইলে কেউ বুঝে না? কেনো, ও ঈশ্বর! কেনো কাচের গ্লাস মাটিতে পইড়া ভাইঙ্গা যায়?

নুরুন্নবী এইসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পায় না। তার কাছে সব কিছু অর্থহীন লাগে। তার কাছে মনে হয় এই যে কাচের গ্লাস পইড়া এক ধরনের অদ্ভুত শব্দের সহিত ভাইঙ্গা গেল, কোন ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই; এগুলা যেন অযৌক্তিক। যুক্তি কোথাও নাই। খালি যুক্তিহীনতা। কাচের গ্লাস এইভাবে পইড়া ভাইঙ্গা যাওয়ার কোন মানে হয়?

নুরুন্নবীর দুঃখবোধ কমে না। বরং আরো বাড়তে থাকে। যুক্তিহীনতা তারে এক প্রগাঢ় দুঃখের দিকে যেন টানতে থাকে। নুরুন্নবী তার চোখ মুছে। গাল মুছে। মাথার পিছনে খামছি দিয়া কিছু চুল ধরে উঁকুনের বসতবাটি বিধ্বস্ত করে দিতে চায়। তারপর সে গলা দিয়ে গড় গড় গড় শব্দ করে। প্রথমে আস্তে আস্তে। তারপর ধীরে ধীরে শব্দ বাড়তে থাকে।

কিছুক্ষণ পর একটা নির্দিষ্ট তালে।

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়গড়গড়গড়

গড়

হুশ

হুশহুশহুশ!

নুরুন্নবী চুপ হয়ে যায়।

একেবারে নিরব। সে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে। মেঝেতে কয়েকটি পিঁপড়া ছন্নছাড়ার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। নুরুন্নবী তাদের দেখতে থাকে। তার মনে হয় এই পিঁপড়াগুলো দলছুট। এরা দলহারা হয়েছে। দলের পিঁপড়াগুলো এদের আর খেলায় নেয় না। মেলায় নেয় না। বিয়াতে দাওয়াত দেয় না। কিছুতেই নেয় না।

তাই তারা একা একা ঘুরে বেড়ায়। এরা কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। কোথায় যাবে তাও বুঝতেছে না। নুরুন্নবী যেন পিঁপড়াগুলোকে বুঝতে পারে। সে উবু হয়ে কাছ থেকে পিঁপড়াদের দেখতে থাকে।

এবং এক সময় নিজের জিহবা দিয়ে একটা পিঁপড়াকে তুলে আনে। জিহবায় লেগে পিঁপড়াটি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছোটাছোটি করে। নুরুন্নবী দুই চোখ দ্বারা নাকের উপর দিয়ে জিহবায় তাকিয়ে পিঁপড়াকে দেখে। এক সময় তার জিহবায় ব্যথা হয়। তখন সে তার জিহবা ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে। এর সাথে পিঁপড়াটিও তার ভিতরে ঢুকে যায়।

সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে নুররুন্নবীর মন ভাল হয়ে যায় এরপর। সে কয়েকটা লাফ দেয়। তারপর সারা ঘর ঘুরে বেড়ায়। তার ঘরে জিনিসপত্র কিছুই নেই তেমন। কয়েকটি কাঠের ভাঙ্গা টেবিল, পোকায় খাওয়া টেবিল। একটি দুই পা ভাঙ্গা খাট। আর চারপাশে কাঠের দেয়াল।

নুরুন্নবীর ঘরময় ঘুরতে ঘুরতে টেবিল গুলোকে ইচ্ছামত কিল ঘুষি লাথি মারে। এতে এক ধরনের শব্দ হয় যা তার ভাল লাগে। টেবিলগুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এক ধরনের শব্দ হয়। হয়ত তাদের জীবনের শেষ শব্দ। নুরুন্নবী কান পেতে শুনে। কাঠের টেবিল ভাঙ্গার শব্দ, খাট ভাঙ্গার শব্দ, দেয়াল ভাঙ্গার শব্দ, দরজা ভাঙ্গার শব্দ, গাছ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ। সব ভাঙ্গার শব্দ তার ভাল লাগে।

এগুলোর সাথে সে নিজের মিল খুঁজে পায়। নুরুন্নবীর মূর্তিমান অস্তিত্বটিই যেন তার একান্ত নিজের ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ। তাই নুরুন্নবী সবকিছুই ভাঙ্গতে চায়। নিজেকেও ভাঙ্গতে চায়।

---------




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন