Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল। আরোরা সাহেব
    দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল।আরোরা সাহেব।সাল টা ১৯৯৩ / ৯৪।সদ্য বছর ৩ কলেজ ছেড়ে মাল্টিন্যাশনাল চাকরি, চরকির মত সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছি। সকালে দিল্লী, বম্বে, মাদ্রাস (তখনো মুম্বাই / চেন্নাই হয় নি) গিয়ে রাতে ফিরে বাড়ির ভাত খাওয়া তখন এলি তেলি ব্যাপার আমার ...
  • মাজার সংস্কৃতি
    মাজার সংস্কৃতি কোন দিনই আমার পছন্দের জিনিস ছিল না। বিশেষ করে হুট করে গজিয়ে উঠা মাজার। মানুষ মাজারের প্রেমে পরে সর্বস্ব দিয়ে বসে থাকে। ঘরে সংসার চলে না মোল্লা চললেন মাজার শিন্নি দিতে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। মাজার নিয়ে যত প্রকার ভণ্ডামি হয় তা কল্পনাও করা যায় ...
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমাদের দুর্গা পূজা

Muhammad Sadequzzaman Sharif

ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর বৌদ্ধরা উত্তর। আমি মেনে গেছিলাম। ভাবছিলাম ঠিকই তো আছে, চার ধর্ম চারটা দিক। ছোটবেলাটা ভাল ছিল, আমার পশ্চিম দিক পেয়ে আমি খুশি ছিলাম আর অন্যরাও যে ঠিকঠিক একটা দিক পেয়ে গেছে তা ভেবেও স্বস্থি পেয়েছিলাম। বড় হলাম আর শিখলাম সব দিকই আমার, অন্যের জন্য কোন ছাড় নেই। আর সব ভুয়া আমরাই শুধু সঠিক। জানলাম দুর্গা পূজার সময় আমি যে আনন্দে মেতে উঠতাম তা নাজায়েজ, বিলকুল হারাম। আমরা সাচ্চা মুসলমান হয়ে উঠলাম দিনে দিনে।

আমাদের ছোট শহর। তাই প্রায় প্রতিটা পূজা কমিটিতে আমাদের বন্ধু বান্ধব, চেনা জানা মুখ। বন্ধুদের দেখি কি দারুন ব্যাস্ত একেক জন। সবাই কিছু না কিছু দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়ে ঘুরছে। আগে কাছের বন্ধুদের সাথে মিশে যেতাম আমরা। খুব কাছের বন্ধুদের যে মন্ডব সেটা হয়ে যেত আমার মন্ডব। ব্যাস্ততার জন্য এখন আগের মত মন্ডবে যাওয়া হয় না। গত বছর যখন সময় পেয়ে গেলাম আমার বন্ধু আমাকে দেখে খুশিতে ডগমগ হয়ে গেলো আর তারপরই বলল ওর না বলা কথা, ও বলল তুই আইছস, অথচ দেখ পূজা শেষ হয়ে যাইতাছে একটা পুলাপান আইলো না!! কারা আসে নাই আমি জানি, ওকেও নাম বলে বলতে হলো না। বুঝলাম দেশ এগিয়ে গেছে বহুদুর, খাঁদে পড়তে আর দেরি নাই।

দুর্গা পূজা দোরগোড়ায়। একটা উৎসব যে আসছে তা বোঝা যায় দুর্গা পূজার আগে আগে।উৎসবের যে আলাদা রঙ আছে তা দেখা যায় দুর্গা পূজায়। দারুন রঙে সেজে উঠছে চারপাস। কত্ত কত্ত বাতি লাগানো হচ্ছে। কাজে হাত লাগচ্ছে ছেলে বুড়ো। কেউ নিশ্চিন্তে বসে জ্ঞান ঝাড়ছে। কেউ সেই জ্ঞান গিলছে। চোখে চোখে ঠুকা ঠুকি হচ্ছে।নানান পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে পূজা ঘিরে। কাজের লোকরা কাজ করে যাচ্ছে ধর্ম কে হিসেবে না নিয়েই। মঞ্জু ভাইয়ের কাজ ছাড়া পূজা মন্ডব তৈরি হয় না। সবাই চায় মঞ্জু ভাই ওদের মন্ডবে কাজ করুক। আর মঞ্জু ভাইয়ও হয়েছে একটা মানুষ, আটটা দশটা মন্ডবের কাজ নিয়ে পূজার কয়টা দিন পাগলের মত ঘুরে। আমি একবার জিজ্ঞাস করেছিলাম, খুব কামাচ্ছেন? উনি হাঁসি দিয়ে বললেন, আরে নাহ, টাকার জন্য না, ধর্মিয় কাজে টাকার হিসাব করলে চলে!! পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, আসলেই তাই। যে মঞ্জু ভাই কে বিয়ের প্রোগ্রামের জন্য দেন দরবার করে পেতে হয় আমাদের সবার, সেই মঞ্জু ভাই অনায়াসে সকলের সাথেই আছে, টাকা পয়সাও যে যত যখন পারছে দিচ্ছে।
মঞ্জু ভাইদের জন্যই এখনো দেশ নিয়ে আশা করি, করতে পারি। খাঁদ থেকে হয়ত বেঁচেও যেতে পারি আমরা।

শেয়ার করুন


Avatar: S

Re: আমাদের দুর্গা পূজা

"উৎসবের যে আলাদা রঙ আছে তা দেখা যায় দুর্গা পূজায়।"

"উৎসব" ঃ এইটাই হলো আসল কথা। আর "উৎসব" আরো বড় হয় যখন সেখানে সব্বাই আমন্ত্রিত হন, যখন সেই উৎসবে সকলের স্থান থাকে, যখন সেখানে সবাই নিজের নিজের মতন করে মজা করতে পারে। "উৎসব"। "উৎসব"। "উৎসব"। কথাটার একটা মানে আছে। আমরা যেন তা ভুলে না যাই।
Avatar: aranya

Re: আমাদের দুর্গা পূজা

দামী কথা, 'উৎসব', ভুলতে বসেছিলাম


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন