priyak mitra RSS feed

priyak mitraএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু

priyak mitra



এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে নানান কিসিমে।

স্টিফান রাহমস্টর্ফ বলে একজন বিজ্ঞানী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আমরা এখন বাস করছি ক্লাইমেট এমারজেন্সির মধ্যে। আবহাওয়ার এই জরুরি অবস্থা জারি হল কীভাবে? আদতে আধুনিক যুগে সভ্যতার অগ্রগতির প্রাথমিক শর্তই হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রকৃতিকে উপেক্ষা করা, এবং প্রয়োজনমত প্রকৃতির সর্বনাশ করা। সভ্যতার দুর্নিবার এগিয়ে যাওয়ার পথে কাঁটা হতে দেওয়া হয়নি পরিবেশকে। 'আরণ্যক'-এর সত্যচরণ নগর এবং অরণ্যের মাঝের দ্বান্দ্বিকতার সেতুতে দাঁড়িয়েছিল। সভ্যতা যত অগ্রগামী হয়েছে তত নগর গিলে খেয়েছে অরণ্যকে। হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, সমুদ্রের পাকস্থলীতে জমা হয়েছে প্লাস্টিকজাত এবং তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য, সমুদ্রতটে এসে জমা হয়েছে জলজ প্রাণীদের লাশ। যুদ্ধ ধ্বংস করেছে বনভূমি, বাতাসে নির্বিচারে মিশেছে কার্বন, সমুদ্রের উপরিতল তৈলাক্ত হয়ে উঠেছে।
শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্র বারবার বিপন্মুখী হয়েছে। সভ্যতার করাল দাঁতনখ ক্রমশ এগিয়ে এসেছে প্রকৃতির দিকে। লিভিংস্টোনের পিছু পিছু যে দখলদার প্রথম বিশ্ব ঢুকে পড়েছিল আফ্রিকার গহিন অন্তরে, তার উদ্দেশ্য ছিল অবাধ লুন্ঠন। 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে বোঝা গিয়েছিল দুঃসাহসী অভিযানের যে পাশ্চাত্যলালিত ধারণা তার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক আগ্রাসী মনন। 'রক্তকরবী'-র মাটি খুঁড়ে তাল তাল সোনা বার করে আনার মেটাফরকেও এই দৃষ্টিকোণ থেকে পড়া যেতে পারে।
প্রকৃতির ওপর আস্ফালনের যে অধিকারকে আধুনিক সভ্যতা জায়েজ বলে ধরে নিয়েছে, যে প্রসঙ্গে বব ডিলান বলেছেন 'লাইসেন্সড্ টু কিল', তা ভাবেনা বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলশ্রুতি নিয়ে, আসন্ন বিপদ নিয়ে। সভ্যতার সহায়ক নয়া উন্নয়নের সন্দর্ভ সবসময় পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়েছে এসে। রাষ্ট্রই এই বিরোধকে মান্যতা দিয়েছে। এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। খুব বেশি দূর যেতে হবে না আমাদের, আমাদের রাজ্যের সাম্প্রতিকের একটি ঘটনার ওপর নজর রাখলেই বোঝা যাবে যে তাও বস্তুত এই বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন। অন্তত অবরোহী যুক্তিক্রম মেনে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো যেতে পারে।
ভাবাদীঘি, গোঘাট। জেলা হুগলি। ৫৪ বিঘার একটি দীঘি এই এলাকার প্রাণ। বিবিধ প্রাপ্ত তথ্য এবং লিফলেট থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১১ তে হওয়া জনগণনা অনুসারে এই দীঘিটিকে ঘিরে সর্বমোট ১৯৮টি পরিবার বাস করে। গ্রামবাসীদের মধ্যে শতকরা ৯৬.৩৯ ভাগ তফশিলি উপজাতিভুক্ত। এই দীঘিটি এই মানুষগুলির যাপনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে, তাদের স্বনির্ভরতা এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অভিজ্ঞান। দীঘিটির জল পূর্বে সেচকার্যে ব্যবহৃত হত। ডিপ টিউবওয়েল বিকল্প হিসেবে আসার পরেও, টিউবওয়েল বিকল হলে এখনও সেচের কাজে দীঘির জলই ভরসা। বর্তমানে মাছচাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে এই দীঘিটি। ১৫০-২০০ কুইন্টাল মাছচাষ হয় এই দীঘিতে। তা থেকে বছরভর আয় হয় গ্রামবাসীদের। পরিযায়ী পাখিদের ভিড় আগের মতন না হলেও পানকৌড়ি, বক, মাছরাঙার চারণক্ষেত্র এখনও এই দীঘি। দীঘির পাড়জুড়ে বট অশ্বত্থ সার দিয়ে দাঁড়িয়েছিল এককালে। বাম আমলে বনসৃজনের উদ্দেশ্যে ইউক্যালিপটাস রোপণ করা হয় এইসব গাছ সরিয়ে। সেই প্রকল্পের দরুণ ফাঁকা মাঠও ভরাট হয়ে ওঠে। কিন্তু পরিবেশ সচেতনতার এই রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় যে পরিবেশের ভারসাম্যের স্বাভাবিকত্ব একটু হলেও টাল খেল তা সম্ভবত ঠাহর করতে পারেন নি তৎকালীন সরকারবাহাদুর।
তবে যে সমস্যার কারণে বিগত কয়েকমাসে ভাবাদীঘির নাম মানুষের গোচরে এসেছে তা গুরুতর। সে সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে খানিক গৌরচন্দ্রিকা করতে হয়। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর ব্রডগেজ লাইনের প্রস্তাব যখন দেওয়া হয়, তখন কেন্দ্রে রেলমন্ত্রী ছিলেন এ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। এই রেললাইনের জন্য প্রস্তাবিত ম্যাপ অনুযায়ী গোঘাট-ময়নাপুর লাইনের জন্য একটি নকশা আঁকা হয়। প্রাপ্ত তথ্য এবং গুগল ম্যাপের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে এই লাইন যাওয়ার কথা ছিল এই দীঘির ২০০ মিটার দূরত্বে মাঠের ওপর দিয়ে।ক্রমে সেই নকশা বদলে দীঘির পাড়ে সরে আসে। ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে গোলপুর এবং নবাসন মৌজার কিছু জমি অধিগৃহীত হয়। কিছু গ্রামবাসীর বাড়িঘর ভাঙা হয়, এবং জানা যাচ্ছে তারা যথাযোগ্য ক্ষতিপূরণও পাননি।
তবে সবথেকে বড় কথা, এখন, গ্রামের মানুষকে প্রায় ভুল বুঝিয়ে দীঘির বুক চিরে রেললাইন নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত নকশা বদলে রেললাইন দীঘির ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন? গ্রামের মানুষের দাবি, প্রস্তাবিত নকশা অনুসারে পাশের গ্রামের যে জমির ওপর দিয়ে রেললাইন প্রাথমিকভাবে যাওয়ার কথা ছিল সেই জমিটি গোলপুর গ্রামের একটি পরিবারের মালিকানাভুক্ত। তারা ওই গ্রামের পূর্বতন জমিদার এবং ওই পরিবারের বর্তমান এক সদস্য পিডব্লুডি-র প্রভাবশালী অফিসার। তাদের হাতযশেই এই নকশা পরিবর্তিত হয়েছে বলে অভিযোগ। সাধারণ তফশিলি উপজাতিভুক্ত মানুষ এই দীঘিটিকে নিয়ে বাঁচেন। তাদের আবেগকে নেহাত পাত্তা না দিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা সরকারি জেদ এই ভাবনাটাও উপেক্ষা করেছে যে এই মাপের একটি দীঘি আক্রান্ত হলে পরিবেশের কী অপূরণীয় ক্ষতি হবে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী অবলীলায় বলে দিতে পারেন দীঘি তিনি প্রয়োজনে আরেকটা বানিয়ে দেবেন। প্রশাসক হিসেবে তার এই ঔদ্ধত্য খুব বেনজির নয়, কিন্তু পরিবেশ সম্পর্কে এই ঔদাসীন্যের পরিচয় দেওয়ার মধ্যে আসলে এক নির্বোধ আপোষহীন উন্নয়নের মানসিকতা রয়েছে। সেই মানসিকতার জেরেই নেতা থেকে জেলাশাসক সকলেই গ্রামবাসীদের নানাবিধ হাস্যকর প্রলোভন দেখিয়েছেন এবং শেষমেষ হুমকি দিতেও পিছপা হননি‌। এতে গ্রামবাসীদের দীঘিটিকে বুক দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার জেহাদ আরও তীব্রতর হয়েছে।
এইখানেই সমস্যাটিতে একটি অন্যতর মাত্রা যোগ হয়। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষের দ্রোহ স্বভাবতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিবিধ রাজনৈতিক সংগঠন গ্রামের মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ান, এবং সহজেই সরকারি তরফে এই আন্দোলনকে মাওবাদী তকমা দিয়ে চিহ্নিত করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পরিবেশের পক্ষে লড়াইকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে দাগিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করতে হচ্ছেনা রাষ্ট্রকে। ভাঙরে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনেও পরিবেশের প্রশ্ন আপনা থেকেই গৌণ হয়ে গেছে। শাসকের রোষের শিকার হয়েছেন ভাঙরের সাধারণ মানুষ, রেড স্টারের এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার ওপর থেকে নজর সরে যাচ্ছে অনেকেরই। এখন এই ‘অনেক’-এর পরিসীমার মধ্যে তারাই থাকবেন যারা আন্দোলনের বাইরে থেকে আন্দোলনকে পাঠ করছেন। রাইন নদীতে রাসায়নিক মিশে যাওয়ায় রাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, স্যান্ডোজ কেমিক্যাল হাবের দাক্ষিণ্যে। নন্দীগ্রামে যখন সালিমের কেমিক্যাল হাব হয়েছিল, কিছু মহল থেকে তখনও দাবি তোলা হয়েছিল যে একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হলদি নদীও। কিন্তু শাসকের কল্যাণে ক্রমেই জমি অধিগ্রহণের প্রসঙ্গ সামনে চলে আসতে শুরু করে, এবং তারপরেই সেই গণহত্যার ঘটনা। এক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদমাধ্যম, রাষ্ট্র নিয়ন্তা হয়ে ওঠে, আন্দোলনগুলিকে গণপরিসরে পড়া হবে কীকরে তার চাবিকাঠি থাকে প্রতিষ্ঠানের হাতে। ফলে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের থেকে যে তথ্যাদি বা লিফলেট হাতে হাতে এবং অধুনা সোশ্যাল মিডিয়া মারফত পাওয়া যায় তা সেভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারেনা। শাসকের পীড়নের খবর তাই বলে গুরুত্ব পাবেনা এমন দাবি করছি না, গুরুত্ব পাবে মানুষের আবেগও, কিন্তু জনমানসে পরিবেশ সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার সেতু নির্মাণ হওয়ার আশু প্রয়োজন আছে।
পূর্ব কলকাতায় দীর্ঘ জলাজমি সংকটাপন্ন বহুদিন যাবৎ। শহরের নিকাশিব্যাবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল এই জলাজমির ওপর। এই জলাজমি ছিল বহু জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল এবং এর পার ঘেঁষে বাস করত প্রায় ২০ রকমের স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার অর্ধেক এখন টিকে আছে কোনোক্রমে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শুমারি বলছে ২৬৪ টি মাছ ধরার পুকুর এসে ঠেকেছে ২০৩ টিতে। হাইকোর্টের নির্দেশ, রামসার ফাউন্ডেশনের সব প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে বেআইনি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। রিয়েলএস্টেট-এর লোভী দৃষ্টি পড়েছে এই দীর্ঘ জলাজমির ওপর। একক সেনানীর মত লড়াই করে চলেছেন ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ। এই বিষয় নিয়ে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে তেমন এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। তবে আশার আলোও দেখা যাচ্ছে। যশোর রোডের ধারের শতাব্দীপ্রাচীন গাছগুলিকে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে এই সিদ্ধান্তের ওপর। কিছু মানুষের একক চেষ্টাতেই তা সম্ভব হয়েছে। লাটাগুড়িতে এখনও বেশ কিছু গাছের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রতিরোধের আগুন জ্বলছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অধ্যুষিত অঞ্চলকে রক্ষা করার তাগিদ তাদের মধ্যে সর্বাঙ্গীণভাবে উপস্থিত। আশা জাগাচ্ছে ভাবাদীঘি ভাঙড়। জল জমি জঙ্গল পরিবেশ বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে সচেষ্ট হচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। পরিবেশ কোনো নিরালম্ব বায়ুভূত বিষয়বস্তু হয়ে থাকছেনা।
তবে রাষ্ট্র তার ভূমিকায় অটল। এই লেখা যখন লিখছি তখন নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারী মেধা পাটেকর গ্রেফতার হয়েছেন মধ্যপ্রদেশে। কেন্দ্রীয় সরকার মধ্যপ্রদেশের বিশাল অরণ্যানী তুলে দিতে চলেছিল এক মার্কিন হীরক প্রস্তুতকারী সংস্থার হাতে, এই জঙ্গল ধ্বংস হলে নষ্ট হয়ে যেতে পারত বাঘেদের বিস্তীর্ণ থাকার জায়গা। ভাগ্যক্রমে তা ঘটেনি। করবেটের জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ালপুল নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। এসবের বিরুদ্ধে মুখ খুললে সরকার উন্নয়নবিরোধিতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলবে, যাতে বাইনারি সহজ হয় আরও। সহজেই যাতে মূল সমস্যা থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। অমর্ত্য সেন এবং জঁ দ্রিজ-এর বইতে দিশা দেখানো হয়েছিলো পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের। তবে রাষ্ট্রের উন্নয়নের মডেল সেসবের পরোয়া করেনি। তবু মানুষ একরোখা, চিপকো আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছিল মানুষ কীভাবে প্রাণ বাজি রাখতে পারে পরিবেশের জন্য। আলো দেখাক ভাবাদীঘি, আলো দেখাক যশোর রোড, আলো দেখাক রামপালবিরোধী আন্দোলন। “পৃথিবীটা পাখি গাছ মানুষ সবার”- এঈ স্লোগান দীর্ঘজীবী হোক।



Avatar: sswarnendu

Re: 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু

অদ্ভুত হ্যাজের লেখা। রচনা লিখবেন না লিফলেট লিখবেন সেইটা লেখক লেখার শেষ অবধি স্থির করে উঠতে পারেননি বোধহয়।
Avatar: Ranodip

Re: 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু

চমত্কার লেখা।
Avatar: aranya

Re: 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু

ভাল লাগল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন