ইন্দ্রাণী RSS feed

পথের যে নাই শ্যাষ...

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

কল্প

ইন্দ্রাণী

ফুলশয্যার রাত অবধি অহনার ধারণা ছিল, সব বাড়িরই নিজস্ব কিছু পুরোনো গল্প আছে। প্রাচীন বালাপোষ আর জরিপাড় শাড়ির সঙ্গে সেইসব কাহিনী মথবল দিয়ে তুলে রাখা থাকে। তারপর যেদিন আত্মীয় বন্ধু বহু বৎসর পরে একত্রিত- হয়ত বিবাহ, কিম্বা অন্নপ্রাশন, অথবা শ্রাদ্ধবাসর- সেই সব গল্পকথা আলমারির অগম সব কোণ থেকে আলগোছে বের করে এনে রোদে দেওয়া হয়। এমনি করে, প্রপিতামহর খুল্লতাত অথবা অতিবৃদ্ধ মাতামহীর পিতৃশ্বসাপতির একটি দুটি আখ্যান , ব্রোকেন টেলিফোন খেলায় যেমন হয় আর কি- মুখে মুখে ফেরে আর একটু একটু করে বদলে যেতে থাকে। আসলে, অহনা এরকম কিছু গল্প শুনে বড় হয়েছে; প্রপিতামহ , অতিবৃদ্ধ মাতামহী অথবা পিতৃশ্বসাপতি শব্দগুলি এবং পুরোনো ভারি অলঙ্কারের মত সরোজিনী, বা নীলাম্বর অথবা সরসীবালা নামের প্রতি প্রগাঢ় মায়াও তার আশৈশব। বস্তুত, অহনার নিতান্ত বাল্যকালে, পিতৃপক্ষে,তার জ্যেষ্ঠতাত বাড়িতেই তর্পণের আয়োজন করলে, অহনা ঘুম ঘুম চোখে, সেইখানে গিয়ে বসত। আশ্বিনের সেই সব ভোর-তাদের বড় ঘরের লাল মেঝে- কোশাকুশি তাম্রপত্র-জ্যেষ্ঠতাতর গরদের ধুতি চাদর কপালে চন্দন আঙুলে কুশের আংটি- এতৎ সতিল-গঙ্গোদকং , তৃপ্তিমখিলাং যাস্তু ,অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা - রহস্যময় সে সকল শব্দ…প্রতিটি কথা , সমস্ত পুরাতন নাম, প্রাচীন সম্পর্ক নিজের মনে, নিজের স্বপ্নে ঢুকিয়ে নিত বালিকা; অবসরে , ঘুমে, শব্দগুলির সর্বাঙ্গে হাত বোলাত পরম মমতায়-

অহনাদের বাড়িতে, যে দু তিনটি গল্পকথা ঘুরে ফিরে বেড়াত- নবীন জামাতা , নববধূ বা নবলব্ধ কুটুম্বকে শোনানো হ'ত, তার মধ্যে দুটি কাহিনী তার প্রিয় ছিলঃ অহনার প্রপিতামহীর কোনো খুল্লতাত সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন -গল্পে তিনি সন্ন্যাসীদাদু। বলা হ'ত, সন্ন্যাসীদাদু নাকি এখনও তাঁর বংশধরদের দেখা দেন - গৃহস্থের দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁক দেন সন্ন্যাসী-হাতে দন্ড, কমন্ডলু, মাথায় পাগড়ি, শরীরে দিব্যাভা- দু দন্ড বসেন , তারপর আশীর্বচন আউড়ে স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে যান। বস্তুত অহনার ঠাকুমার পুজোর ঘরে সেই সন্ন্যাসীর একটি ছবি ছিল-ফ্রেমে বাঁধানো হলদেটে ছবিতে পাহাড়ি নদী গাছ ঘরবাড়ি দেখা যেত - সামনে তিনি হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে। ছবিটি অহনার খুব প্রাচীন মনে হত না। সে কথা বললে, ঠাকুমা দুই হাত জোড় ক'রে মাথায় ঠেকিয়ে বলত -'হ্যার বয়স বাড়ে না'। অহনা বিশ্বাস করত না কিন্তু গল্পটা ওর ভালো লাগত; ছবির সঙ্গে গল্প বা গল্পের সঙ্গে ছবি মেলাতে চাইত। ছবিখানি কবে কে কোথায় তুলেছিল, সে ছবি ঠাকুমার কাছে কি করে এল তা নিয়েও এযাবৎ অচরিতার্থ কৌতূহল অহনার।
সন্ন্যাসী দাদুর গল্প ব্যতীত বৃদ্ধপ্রপিতামহী হিরণ্যপ্রভার কাহিনী অহনার অতীব প্রিয় ছিল। শোনা যায়, হিরণ্যপ্রভা চিত্র রচনায় সবিশেষ পটু ছিলেন- গৃহস্থালির সমস্ত কাজের মধ্যেও উঠান, তুলসী মঞ্চ, গৃহের মৃৎপাত্রগুলিতে তিনি নিরন্তর ছবি এঁকে চলতেন- অঙ্কনকালে শত ডাকেও সাড়া দিতেন না। একদা দ্বিপ্রহরে পুরুষেরা ভোজনে রত, মেয়েরা সন্তানের পরিচর্যায় অথবা রন্ধনে কিম্বা পরিবেশনে ব্যস্ত - বেলা অনেক, অথচ সেদিন তখনও তাদের স্নানও সারা হয় নি-সেই সময় উঠোনে এক বিশাল হাতি এসে দাঁড়িয়েছিল। হাতির সর্বাঙ্গে অলংকরণ, হাওদাটি সুসজ্জিত। উঠোনে দাঁড়িয়ে মাহুতবিহীন সুবৃহৎ সে হাতি বৃংহণ করেছিল। সেই ধ্বনিতে, রন্ধনকক্ষ থেকে হিরণ্যপ্রভা বেরিয়ে এলে, হাতিটি হাঁটু মুড়ে বসে এবং হিরণ্যপ্রভা কোনোদিকে না তাকিয়ে হস্তীপৃষ্ঠের সুসজ্জিত হাওদায় অধিষ্ঠিতা হ'ন। কথিত আছে, সে সময় তাঁর ঘোমটা খসে পড়েছিল- রুক্ষ কেশদাম মধ্যাহ্ন সূর্যের আলোয় মুকুটের মত দেখাচ্ছিল।সেই প্রখর রৌদ্রের মধ্যে, হাতিটি তাঁকে পিঠে নিয়ে মিলিয়ে যায়। হিরণ্যপ্রভা আর ফিরে আসেন নি।
এই গল্পদুটি, কলেজজীবনে অহনা ওর প্রাণের বন্ধু শাল্মলীকে বললে, শাল্মলীও অনুরূপ কিছু ঘটনা শোনায়- যেমন, কোনো কালে, শাল্মলীর মামার বাড়ির দিকের এক বাল্যবিধবা গভীর রাতে নির্জন ছাদে , দু হাত আকাশে তুলে আপন মনে ঘুরে ঘুরে নেচে চলত; তারপর এক জ্যোৎস্নারাতে সে ডানা মেলে উড়ে গিয়েছিল। শাল্মলী তার নাম বলতে পারে নি।
অহনা বলেছিল, 'নাম না থাকলে, গল্প ভালো লাগে না। ওর নাম আমার সঙ্গে মিলিয়ে রাখি ? অঙ্গনা ?'
-'ঠিক। অনাম্নী অঙ্গনা'। শাল্মলী হেসেছিল।
বস্তুতঃ এই সব প্রাচীন কাহিনীর আদানপ্রদান অহনার প্রিয় ছিল। নতুন আত্মীয় পরিজন, নবলব্ধ বন্ধুদের এই গল্প শোনানো সে বাধ্যতামূলক মনে করত-যেন এ গল্প না শোনালে তার পরিচয় দেওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
অতএব, অহনা যে ফুলশয্যায় তার নবীন স্বামীটিকে সন্ন্যাসীদাদু অথবা হিরণ্যপ্রভার কাহিনী বলবে এতে আশ্চর্যের কিছু ছিল না। গল্প শেষ করে সমরের পরিবারের অনুরূপ প্রাচীন কোনো গল্প শুনতে চেয়েছিল অহনা। সমর বলেছিল, 'তোমার মত গল্প শোনার টাইম আমার ছিল না। গল্প ঠল্প কিছু নেই আমাদের। ' তারপর মিলনে প্রবৃত্ত হয়েছিল।
অহনার শ্বশুরমশাই বহুদিন গত, শাশুড়ী পক্ষাঘাতগ্রস্ত- প্রাচীন কোনো কাহিনী জানা থাকলেও তা বলার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। সমরের বাড়ির চিলেকোঠায়, খাটের তলার প্রাচীন তোরঙ্গে কোনো প্রাচীন অক্ষর সে খুঁজে পায় নি গত এক বছরে। কেবল, সমরের মামাবাড়িতে প্রণাম করতে গিয়ে , ঠাকুরঘরে আলমারির মাথার ওপরে নীল মার্কিন কাপড়ের ঢাকনা দেওয়া এক বাদ্যযন্ত্র দেখেছিল।
অহনা বলেছিল, 'এস্রাজ? কে বাজায়?'
সমর আশ্চর্যরকম কঠিন মুখ করে বলেছিল, 'বাজাতো। আমার ছোটোমাসি। ' তার যে কোনো মাসিশাশুড়ি আছেন তাই জানতনা অহনা-সে অবাক হয়ে তাকালে, সমর বলেছিল-'হারিয়ে গেছে'।
-'কেমন করে? ' অহনা জিগ্যেস করেছিল। এই প্রথম সমরের পরিবারে সে একটি গল্পের খোঁজ পাচ্ছিল।
সমর বলেছিল-'জানি না। হারিয়ে গেছে, ব্যাস।তোমাদের মত হাতী ঘোড়ার গল্প আমাদের নেই।'
-'কি নাম ছিল ছোটোমাসির?'
সমর মুখ শক্ত করে বলেছিল-'অনু'।
অনু কি অনুরাধা না অনুশ্রী না অনুমিতা , অনন্যা অথবা অঙ্গনা-এই সব জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হয়েছিল অহনার। সমরের মুখের ভাব দেখে সে আর কথা বাড়ায় নি।

ডিসেম্বরের শেষে , সমরের কিছু কাজ পড়ল সিউড়িতে। অহনা শান্তিনিকেতন যাবে কি না জানতে চাইলে , সে এক কথায় রাজি হল। ছোটোবেলায় একবার শান্তিনিকেতন যাওয়া ঠিক হয়েও ওর চিকেন পক্স হওয়ায় সব পন্ড হয়েছিল। পরবর্তীকালেও , সঙ্গীতবিদ্যা শিক্ষা ও চর্চার জন্য অহনা সেখানে যেতে চেয়েছিল। অহনার গলায় সুর ছিল-সে ভালো গাইত। কিন্তু ততদিনে সমরের সঙ্গে অহনার বিবাহ স্থির- পিতৃদেব এক কথায় অহনার ইচ্ছেয় না বলেছিলেন। এত বছর পরে, ডিসেম্বরের রাতে, আবার শান্তিনিকেতনের কথা উঠল। অফিস থেকে ফেরত সমর সবিশেষ উত্তেজিত ছিল সেদিন। বলছিল, শান্তিনিকেতনে ওর বন্ধুর বাড়ি, সেখানে থাকা যাবে, হোটেল ফোটেলের বুকিং এর দরকার হবে না।

সিউড়ির কাজ শেষ করে সমর যখন অহনাকে নিয়ে বোলপুর এলো, তখন ভাঙামেলা। মেলার মাঠে তবুও ভীড়, নাগরদোলা, টুরিস্ট বাস, শালপাতা । ওরা দুপুরে খানিক ঘুরল। বাটিকের ব্লাউজপিস, পোড়ামাটির গয়না, আপেলবীচির মালা -এইসব টুকটাক দরাদরি করছিল অহনা।
সেদিন সন্ধ্যায় খ্রীষ্টোৎসব। বিকেল বিকেল কাচঘরের বারান্দায় বসতে না পারলে, হিমে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে বাইরে-সমরের বন্ধুর বাড়ি থেকে জানা গিয়েছিল। সেইমত, বিকেল পড়তেই, ওরা কাচঘরের দরজার গোড়ায় শতরঞ্জিতে বসে পড়ে। ভেতরে তখনও সাজসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সংযোগের কিছু কাজ চলছিল। ভীড় ক্রমে বাড়ছিল। ঘর ছাপিয়ে সিঁড়ি, সিঁড়ি ছাপিয়ে রাস্তা অবধিও মানুষজন। চাদর, জহর কোট, সোয়েটার, জ্যাকেট। আলো কমে আসছিল, হিমভাব বাড়ছিল। কাচঘরের ভেতরে গায়ক গায়িকারা সমবেত-একাধিক তানপুরার শীর্ষদন্ড দেখা যাচ্ছিল। সমর উসখুস করছিল-একবার বলছিল-বাথরুমে যেতে হবে, একবার বলছিল, ঠান্ডা লাগছে, টুপি আনতে হবে, আবার সিগারেট খাওয়ার জন্য ছটফট করছিল-ভিতরে উঁকি দিচ্ছিল-বাইরে তাকাচ্ছিল-তার মুখে রাগ আর অসহায়তা দেখছিল অহনা।
-'কী শালা ফেঁসে গেলাম এখানে। এই ঠান্ডায় এই সব কাঁদুনি শুনতে হবে এতক্ষণ। শুরু হবে কখন তাও তো বুঝছি না।'
অহনার অস্বস্তি হচ্ছিল। বলল-'এক্ষুণি হবে, দেখো না , সবাই এসে গেছে।'
সমর ওর কনুই টেনে বলল-'চলো ফিরে যাই। লেপের তলায় ঢুকে যাবো সোজা'। বলে সামান্য চোখ মারল অহনাকে।
অহনা বলল, 'এক্ষুণি শুরু হবে। একটু বসো। আর হয়তো কোনদিন আসাও হবে না'।
-'যাবে না কি ক্রন্দনসঙ্গীত শুনবে? আমি চললাম।' সমর ওর হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। তারপর বেরিয়ে যায়। অহনাও সমরের অনুগামী হয়ে উঠে দাঁড়ায়, হাতের ব্যাগ তুলে নিয়ে, শাড়ি, শাল গুছিয়ে , বেরিয়ে আসার পথ খোঁজে। ঠিক তখন কাচঘরে সমস্ত তানপুরার একসঙ্গে সুর মেলানো শুরু হয়। শীত না কি আকস্মিকতা- অহনা আমূল কেঁপে উঠে আবার বসে পড়ে। সে যেখানে বসেছিল, সেখান থেকে কাচঘরের ঝাড়লন্ঠন দেখা যাচ্ছিল আর তানপুরার শীর্ষগুলি- কখনও হাতের আঙুল-সুর বাঁধছে। অহনার মনে হ'ল, সে যেন এক অলীক কক্ষের দোরগোড়ায় -যেখানে কেবল সুর ভেসে বেড়াচ্ছে - একটি তানপুরার সুর যেন অন্য তানপুরা তুলে নিচ্ছে, তারপর আর একটি তানপুরা , সেখান থেকে আর একটি। শেষ তানপুরাটি থেকে বেরিয়ে একলা সুর অতঃপর যেন ওপরে উঠছে, ঝাড়লন্ঠন ছুঁয়ে ভেসে ভেসে অহনার কাছে আসছে, এরপর সুরে সুরে জড়িয়ে ঈষৎ ভারি হয়ে নিচে নামছে, আবার উঠছে।
ধুপের ধোঁয়ার মত সুরের এই চলাচল অহনাকে ঘিরে ফেলছিল। এক মায়াবরণ যেন অহনার শ্রুতি দৃষ্টি আর মননে জড়িয়ে যাচ্ছিল- আবরণ সরালেই যেন এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সম্মুখীন হবে সে -এরকম তার মনে হচ্ছিল। সমর এসে আবার ওর পাশে বসতে পারে, নাও পারে-অহনার তা নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না-সমরের কথা অমান্য করার জন্য কোনো ভয় কাজ করছিল না আর- বরং ওর মন সমর, তাদের মিল, তাদের অমিলগুলি পেরিয়ে যাচ্ছিল দ্রুত- ঘর দোর সংসার অস্পষ্ট হচ্ছিল। ওর মনে হচ্ছিল, সম্ভবতঃ এই সেই মুহূর্ত-যখন মানুষ হারিয়ে যায় , হয়ত ডানা মেলে উড়ে যায় ভরা জ্যোৎস্নায়। সে ভাবছিল এবং ক্রমশঃ বিশ্বাস করছিল। অহনার মনে হচ্ছিল, কিছু একটা ঘটবে, খুব বড় কিছু, ঠিক কী ঘটবে সে জানে না, কিন্তু তার জন্য আনন্দিতচিত্তে অপেক্ষা করতে পারবে। অহনা কাঁপছিল, ওর চোখে জল আসছিল, দু হাত জড়ো করে এই মুহূর্তটিকে সে আগলে রাখতে চাইছিল আর সমস্ত শরীর দিয়ে এই অপরূপ সুর মেলানো অনুভব করছিল, শুষে নিচ্ছিল।
গান শুরু হয়ে গিয়েছিল। আচার্য কিছু বলছিলেন। হিম মাথায় নিয়ে অজস্র মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। মোমবাতি জ্বলছিল। মেলার মাঠে সম্ভবতঃ বাজি পোড়ানো চলছিল। আকাশে একটি আলোক বিন্দু সহস্র আলোক বিন্দু হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল- গাঢ় বেগুণী আকাশে আলোর কণাগুলি কখনও সিংহের কেশর , কখনও সুবৃহৎ অগ্নিপুষ্পর পরাগরেণু তৈরি করছিল, তারপর ছাই হয়ে ঝরে পড়ছিল হিমভেজা মাঠে।

সেই সময়, বল্লভপুরের হরিণের বন পেরিয়ে এক বিশাল গজরাজ আম্রকুঞ্জের দিকে ধাবিত । সে ঐরাবতের সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 22 -- 41
Avatar: aranya

Re: কল্প

সমরের তো দেখার চোখ নেই
Avatar: kumu

Re: কল্প

এই গল্প পড়ে তার বর্ণনা দিতে যে উপযুক্ত বিশেষণ লাগে,তা আমার জানা নেই।
অসাধারণ,অনির্বচনীয় ইত্যাদি সব কথামালাই কম,খুবি কম।
আশ্চর্য-এইটুকুই বলার।
"বল্লভপুরের হরিণের বন পেরিয়ে এক বিশাল গজরাজ আম্রকুঞ্জের দিকে ধাবিত । সে ঐরাবতের সর্বাঙ্গে অলংকরণ, পৃষ্ঠে সুসজ্জিত হাওদা।"-এর চেয়ে সুন্দর সমাপন ভাবতে পারছি না।


Avatar: T

Re: কল্প

অরণ্যদা, ঠিকই সমরের দেখার চোখ নেই। কিন্তু হোয়াট ইফ বাস্তবতা থেকেই যদি শুরুয়াদটা হয়। গল্পটা নিজস্ব ভাবে তৈরী হতেই তো পারে, নিজের খেয়ালে। লক্ষ্য করুন অহনাও কিন্তু সন্ন্যাসী দাদুর গল্প বিশ্বাস করত না। যদিও গল্পের ছবিটি সে ভালবাসত। গল্পটা কি করে গল্প হয়ে উঠল সে সম্পর্কে তার কৌতুহলও ছিল।

জ্যোৎস্না রাতে ঐ ভাবে ঐরাবতের মন্থর আমি পেলে সটান সমরের চোখে দেখিয়ে দিতাম। সে নিছক একজন সাক্ষী বড়িলাল হিসেবেই না হয় দেখত। যা ত্তারা, হাতিটা এলো কোত্থেকে, আশেপাশের সার্কাস থেকে নাকি। আশ্চর্য! সারাগায়ে অলংকার, সুসজ্জিত হাওদা। কার অপেক্ষায় রয়েচে, এসব ভেবে ওর গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠত না বলছেন। এইরম আর কি। সমর যখন থেকে শুরু করবে, অহনা তখন মাইলযোজন এগিয়ে গেছে সেই পথে।

একক হলে, হাতিটাকে তৈরী করত হিমের রাতে। গজেন্দ্র গমন এবং স্বগতোক্তি। সমরের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। পেছু পেছু। প্রত্যেকের জীবনে থাকতেই হবে একটি না একটি হাতি ঘোড়ার গল্প। নিস্তার নেই কারও। ঃ)

এইটা আমার পড়া ছোটাইদির সবথেকে সেরা গল্প।
Avatar: i

Re: কল্প

বেশ লাগছে সবার কথাবার্তা শুনতে। এবারে অনেক নতুন পাঠক পেলাম। পাঠপ্রতিক্রিয়াও অনেকেই বিশদে লিখলেন-এটা বিরাআআআআট প্রাপ্তি।

নিজের লেখা নিয়ে মানে লেখার সময় কী ভেবে কী লিখেছি সেই নিয়ে বিশেষ কিছু বলার মানে হয় না। এলেখা এখন আপনাদের।
পরে কখনও দু চার কথা অন্যত্র বলব।

তবে যদি মনে করি আমি লিখি নি এ লেখা, একটু দূরে দাঁড়িয়ে পাঠক হিসেবেই যদি দেখি-তবে সমরকে নিয়ে দুকথা বলি?
সমরের দেখার চোখ যে নেই সেটা কি নিশ্চিত করে বলা যায়? সে সব দেখে, সব বোঝে, চোয়াল চেপে থাকে, চোরা ভয় আছে হারিয়ে ফেলার-এমনও হতে পারে তো? ছোটোমাসির হারিয়ে যাওয়ার কথায় সে অমন ভাবে রিঅ্যাক্ট করে কেন? কেমন করে হারিয়ে গেল জানতে চাইলে সে কেন বলে ওঠে-আমাদের হাতি ঘোড়ার গল্প নেই?
এসবই পাঠকের স্পেস।
একটা গল্প থেকে অজস্র গল্পের সম্ভাবনা...পাঠক লিখবেন এবার।

ছোটাই।
Avatar: Arpan

Re: কল্প

ছোটাইদির লেখা সেরা টল্প। নিঃসন্দেহে। অভিনন্দন।

খালি লাস্ট প্যারাটার লোভ কাটাতে পারলে অমরত্ব লাভ হত।

অথবা যদি একটু অন্যভাবে, যেমন সমর সিগারেট কিনে বাড়ি ফেরার পথে সেই অলঙ্কৃত ঐরাবতকে দেখতে পেল।
Avatar: শিবাংশু

Re: কল্প

বাহ,
লেখাটি ভালো লাগার একটি কারণ i ভাষার বিন্যাসটি বদলেছেন। অবশ্য 'রূপ'কথার ভাষা অন্যরকমই হবে। 'পুরোনো গল্প' আর সমরের কন্ট্রাস্টের মাঝখানে সিমেট্রি'র ভরকেন্দ্র । সীবনচিহ্নহীনছবি তৈরি হয়ে যাচ্ছে পর পর। হয়তো প্রেডিক্টেবল। যদিও মহাভারত আর জাতকের গল্পের পর ওপনএন্ড আনপ্রেডিক্টেবল আখ্যানকে 'মৌলিক' রাখা বিশেষ চাপ। অহনাদের গল্প i'র থেকে আগেও পেয়েছি। 'বাস্তবতা'র খাঁচা ভেঙে যাওয়ার পরেও বিশ্বাস্য থেকে যায়। এটাই পাওনা....
Avatar: Rabaahuta

Re: কল্প

"ছোটোমাসির হারিয়ে যাওয়ার কথায় সে অমন ভাবে রিঅ্যাক্ট করে কেন? কেমন করে হারিয়ে গেল জানতে চাইলে সে কেন বলে ওঠে-আমাদের হাতি ঘোড়ার গল্প নেই?"

এই প্রশ্নটা ছিলো, আমারও।
Avatar: ঋক আর কিছুনা

Re: কল্প

বেশ লাগলো , হারিয়ে যাওয়া না যাওয়ার সাসপেন্স।
Avatar: শঙ্খ

Re: কল্প

পড়েছি। কয়েকটা পয়েন্ট আছে ছোটাইদির সঙ্গে ভাগ করে নেবার জন্য। আপাততঃ প্রাথমিক পাঠ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যাই, গা শিরশির করেছিল লাস্ট প্যারাটা পড়ার সময়। যদিও প্রেডিক্টেবল, তবুও দারুণ উপসংহার।
Avatar: জারিফা

Re: কল্প

এ লেখা ঘোরের মত। উপসংহারে যেন মানসচক্ষে দেখতে পেলাম সে দৃশ্য'কল্প'।
Avatar: Titir

Re: কল্প

বড় ভালো লাগল।
Avatar: Atoz

Re: কল্প

ছোটাইদি,
লেখা ভালো লাগলো যেমন তোমার লেখা ভালো লাগে বরাবর ।
আরো কত কথাই বলার ছিল, কিন্তু বলতে পারলাম না কিছুই । হয়তো অন্য কোথাও, অন্য কোনো সময়ে--

Avatar: নিনা

Re: কল্প

ছোটাই , উফ ঘোর লেগে গেল যে -- ছোটমাসীর হারিয়ে যাওয়ার আর শেষ লাইন কটা --- আর ঐরাবত -- সব এক সুতোয় গেঁথে সমর কে চমকে দিলে ?!
Avatar: শক্তি

Re: কল্প

সন্ন্যাসীদাদু মাঝে মাঝে বংশধরদের দেখা দেন ,গৃহস্থের অঙ্গনে দেখা দেন ,হিরণ্যপ্রভা কি সেই চাঁদের রাতে ডানামেলা বিধবা ,ছোটমাসী অনু আর দেখা দেন না বা দিতে পারেন না ।অগ্নিপুষ্পের পরাগরেনুর ছাই হয়ে হিমেল মাঠে ঝরে পড়াই কি তাদের নিয়তি ?ছাই কি অহনার অঙ্গেও উড়ে এসে স্পর্শ করবে ?সমর ?
Avatar: i

Re: কল্প

সমস্ত পাঠককে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও নমস্কার। এত জন আমার টেখা পড়লেন, মন্তব্য করলেন, এত নতুন পাঠক পেলাম-এতে মানে ছোটাই একেবারে অভিভূত।

শঙ্খ, এটু জেড,
যা বলার মেইলেও জানাতে পারো। যা ভালো বোঝো।

দুটো কথা বলার ছিল-মানে, নিজে নিজেই বলা। যেহেতু গুরুচন্ডালিই আমাকে সেই অর্থে 'লেখকের' সম্মান দিয়েছে, তাই কথাগুলো এখানে লেখা যায় আর কি।
আগের একটা পোস্টে লিখেছিলাম মানুষ আর নিয়ে একটা সিরিজ করছি , এই টল্প সেই সিরিজের। মুশকিল হল, এই সিরিজের অন্ততঃ তিনটি গল্পে একটা চেনা সুর এসে যাচ্ছে;আপনারা যাঁরা আমার অন্য টেখাপত্র পড়েছেন তাঁদের থেকে ধমক আসবে ভেবেছিলাম ঠিক এই কারণে। ধমক যখন আসে নি, আমি আর ভেঙে বলছিনা সেই সুরটা কি, গল্পগুলোর নামও বলছি না।
তবে এই সমস্যাটা মাথায় রেখে এই সিরিজের পরের টল্প তৈরি করতে হবে।

যেন টিখে যেতে পারি।

আপনাদের ছোটাই।
Avatar: i

Re: কল্প

'মানুষ আর পশু নিয়ে একটা সিরিজ করছি' হবে। আগের পোস্টে পশু বাদ গেছে।
Avatar: Atoz

Re: কল্প

হুঁ, এই কথাটাও বলার ছিল ছোটাইদি। নাইদার ডে নর নাইটের মায়া রাজীব, মৃগদাবের সুপর্ণা অতনু, আর এই কল্পের অহনা সমর, চরিত্রগুলোর কারুকাজে বড় চেনা সুর। সংবেদনশীল নারী, রুক্ষ পুরুষ, ঘুরে ঘুরে চেনা সুর।

কিছু মনে করলে না তো? আসলে নতুন কাহিনির প্রস্ফুটনের প্রত্যাশা নিয়ে আসি তোমার লেখা পড়তে, তাই মনে হয় কেমন হতো যদি এই নারী পুরুষের মধ্যে অন্য বর্ণিল চরিত্ররা ঢুকে পড়তো, যদি ওদের সন্তান বা বন্ধুস্থানীয়দের সন্তান যারা ওদের সন্তানতুল্য, তারা ঢুকে পড়ত জ্বলজ্বলে হয়ে? মানে ওদের স্মৃতিচারণে নয়, ভাবনায় নয়, সত্যিকার চরিত্র যারা অভিঘাত রাখে ওদের জীবনে।

Avatar: Atoz

Re: কল্প

নাইদার নাইট নর ডে হবে।
আগেরবার জায়গা বদলে গেল। ঃ-)
Avatar: i

Re: কল্প

আমি তো বললামই চেনা সুর আছে। আরও একটা চেনা সুর আছে। সেটা প্রায় প্রতিটিতেই আছে-একটি টেখা বাদে। সেটা পরে বলব।
সিরিজ করতে গিয়ে এই ব্যাপারটা আমার হয়েছে।

আমি নিজেই তো বলেছি আগে যে খানিকটা স্টিরিওটাইপিং আছে। এখনও তো আমিই ত্রুটির কথা তুললাম। দূর, মনে করব কেন? ওসবে আমি নেই।

Avatar: h

Re: কল্প

ইন্দ্রানী দি মাইরি এত নিজের নিন্দে করে না, খুব ই সুন্দর গল্প হয়েছে, কি সুন্দর ছবির মত লেখা, এবং সুন্দর বলে দম বন্ধ টা কম আছে তা না, কি ভালো হয়েছে। এত নিজের নিন্দে করে নাকি, আর লেখা হয়ে যাওয়ার পরে সেটা আমাদের সম্পত্তি, লেখকের বকর বকর বারণ, হেঁ হেঁ করা ছাড়া কিছুই অ্যালাউড না। কি অপূর্ব যত্ন না তোমার এত সুন্দর লাগে। কি চমৎকার গল্প। এত হার্শ হবার কিছু হয় নি। বাই দ্য ওয়ে আমার রিলিজিয়াস সেন্টিমেন্ট নেই, তাই আঘাত পাই নি, কিন্তু এই যে শান্তিনিকেতনে ছেলেরা যাওয়া মানেই প্রায় সেক্স টুরিজম বা নেশা টুরিজম আর মেয়েরা কেবল ই মুক্তি এই টে তে, একদম ই ছেলে মেয়ে ভাগ করে রিয়াকশন পাবে ঃ-) শান্তিনিকেতনের বন্ধু দের মধ্যে , এ কথা আগে থেকে কয়ে দিলাম ঃ-)))))), কারণ আর কিছুই না, অনেক জনপ্রিয় লেখায় এই প্রেক্ষিত ব্যবহৃত আগে হয়েছে, তবে এত সুন্দর হয় নি যদিও। ঐতিহ্য শালী রিয়াকশন ও পেতে পারো, তখন কেটে পোড়ো ঃ-)))))

প্রিন্ট আউট নিয়ে নেবো, ওখানকার বন্ধু দের আর মা বাবা কে পড়াবো , দেখি মানুষ কি বলে। নিজে বাবা আর পড়তে পারেন না, পড়ে দিলে হয়তো শুনবেন। দেখি কি রিয়াক্ট করেন। আমি মাঝে এটা ওটা ভলো লাগলে আজকাল পড়ে শোনাই, বা ডিটেলে গল্প করি।

খ্রীষ্টোৎসব সেটিং টা সুন্দর বোঝা গেছে। আমার আইডিওলজিকাল আপত্তি আছে, আচার্য শব্দটার নতুন ব্যবহারে, কিন্তু তুমি কন্ট্রাস্ট সেট করার জন্য করেছো, এই ব্যবহারে আপত্তি নেই। দারুণ হয়েছে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 22 -- 41


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন