সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সুইডেনে সুজি
    আঁতুরঘরের শিউলি সংখ্যায় প্রকাশিত এই গল্পটি রইল আজ ঃদি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল সুইডেনে সুজি#############পিও...
  • প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজঃ সর্বজয়া ভট্টাচার্য্যের অভিজ্ঞতাবিষয়ক একটি ছোট লেখা
    টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভারসিটির এক অধ্যাপক, সর্বজয়া ভট্টাচার্য্য একটি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর কলেজে শিক্ষকদের প্রশ্রয়ে অবাধে গণ-টোকাটুকি, শিক্ষকদের কোনও ভয়েস না থাকা, এবং সবথেকে বড় যেটা সমস্যা, শিক্ষক ও ছাত্রদের কোনও ইউনিয়ন না থাকার সমস্যা নিয়ে। এই পর্যন্ত নতুন ...
  • চিরতরে নির্বাসিত হবার তো কথাই ছিল, প্রিয় মণিময়, শ্রী রবিশঙ্কর বল
    "মহাপৃথিবীর ইতিহাস নাকি আসলে কতগুলি মেটাফরের ইতিহাস"। এসব আজকাল অচল হয়ে হয়ে গেছে, তবু মনে পড়ে, সে কতযুগ আগে বাক্যটি পড়ি প্রথমবার। কলেজে থাকতে। পত্রিকার নাম, বোধহয় রক্তকরবী। লেখার নাম ছিল মণিময় ও মেটাফর। মনে আছে, আমি পড়ে সিনহাকে পড়াই। আমরা দুজনেই তারপর ...
  • বাংলা ব্লগের অপশব্দসমূহ ~
    *সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: বাংলা ব্লগে অনেক সময়ই আমরা যে সব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করি, তা কখনো কখনো কিম্ভুদ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন ব্লগার বা সাধারণের কাছে এসব অপশব্দ পরিচিত নয়। এই চিন্তা থেকে এই নোটে বাংলা ব্লগের কিছু অপশব্দ তর্জমাসহ উপস্থাপন করা হচ্ছে। বলা ভালো, ...
  • অ্যাপ্রেজাল
    বছরের সেই সময়টা এসে গেল – যখন বসের সাথে বসে ফর্মালি ভাঁটাতে হবে সারা বছর কি ছড়িয়েছি এবং কি মণিমুক্ত কুড়িয়েছি। এ আলোচনা আমার চিরপরিচিত, আমি মোটামুটি চিরকাল বঞ্চিতদেরই দলে। তবে মার্ক্সীস ভাবধারার অধীনে দীর্ঘকাল সম্পৃক্ত থাকার জন্য বঞ্চনার ইতিহাসের সাথে আমি ...
  • মিসেস গুপ্তা ও আকবর বাদশা
    এক পার্সি মেয়ে বিয়ে করলো হিন্দু ছেলেকে। গুলরুখ গুপ্তা তার নাম।লভ জিহাদ? হবেও বা। লভ তো চিরকালই জিহাদ।সে যাই হোক,নারীর ওপর অবদমনে কোন ধর্মই তো কম যায় না, তাই পার্সিদেরও এক অদ্ভুত নিয়ম আছে। ঘরের মেয়ে পরকে বিয়ে করলে সে স্বসম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ ...
  • সমবেত কুরুক্ষেত্রে
    "হে কৃষ্ণ, সখা,আমি কীভাবে আমারই স্বজনদের ওপরে অস্ত্র প্রয়োগ করবো? আমি কিছুতেই পারবো না।" গাণ্ডীব ফেলে দু'হাতে মুখ ঢেকে রথেই বসে পড়েছেন অর্জুন আর তখনই সেই অমোঘ উক্তিসমূহ...রণক্ষেত্...
  • আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?
    আরও একবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের এই চিরন্তন প্রশ্নটার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে -- আমরা কিভাবে শিখি, কিভাবে চিন্তা করি। আলফা গো জিরো সেই দিক থেকে টেকনোক্র্যাট দের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ।দাবার শুধু নিয়মগুলো বলে দেওয়ার পর মাত্র ৪ ঘণ্টায় শুধু নিজেই নিজের সাথে ...
  • ছড়া
    তুষ্টু গতকাল রাতে বলছিলো - দিদিভাই,তোমার লেখা আমি পড়ি কিন্তু বুঝিনা। কোন লেখা? ঐ যে - আলাপ সালাপ -। ও, তাই বলো। ছড়া তো লিখি, তা ছড়ার কথা যে যার মতো বুঝে নেয়। কে কবে লিখেছে লোকে ভুলে যায়, ছড়াটি বয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। মা মেয়েকে শেখান, ...
  • ঘিয়ে রঙের চৌবনি বা ভ্রমরগাথা
    বাতাসের গায়ে লেখা (Wriiten on the Wind) নামে ছবি ছিল একটা। টসটসে রোদ্দুরের মতন ঝাঁ আর চকচকে মতন। বাতাসের গায়ে লেখা। আসলে প্রতিফলকের চকচকানি ওটা। যার ওপরে এসে পড়বে আলোর ছটা। বা, সঙ্গীতের মূর্ছনা। কিছু একটা সাজানো হবে মনে কর। তার মানে তার পোয়া বারো। এবারকার ...

গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

আগরতলা নাকি বানভাসি

Shakti kar bhowmik

আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো লালমাটিগোলা জলের প্রাচুর্যে। মাইকিং হোত, আতঙ্ক হোত, ফাজিল কোন লোক বা লোকেরা চেঁচিয়ে ভয় দেখাতো আইয়ে রে, আইয়ে। শেষ পর্য্যন্ত আমাদের ভয়ে মাখামাখি প্রতীক্ষা উপেক্ষা করে বন্যা আসতো না। ড্রেন উপচে জল ঢোকেনি কখনো। হরিগঙ্গা বসাক রোডে আমার মাতামহের পৈতৃক বাড়ী তখনই প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন। আগরতলায় রাজধানী পত্তনের সময় থেকে ওই বাড়ীর পত্তন, মা'র কাছে শুনেছি বাছুর সহ একটি গরু পঞ্চাশ টাকায় বিক্রি করে বিচক্ষণ গৃহকর্ত্রী এই বাড়ী কিনেছিলেন। আখাউড়া সীমান্ত সংলগ্ন কেন্দুয়াই গ্রামে চৌধুরীদের জমিদারী ছিলো। সে বাড়ী আমার অদেখা। পঞ্চাশটাকার বাড়ী এখন কতো কোটির সম্পত্তি তা জানবেন আগরতলার বর্তমান বাসিন্দারা। আমার কাছে যা লাখ টাকার গল্প তা হোল বর্ষা দিনের হারানো জলছবি। তখনকার আগরতলায় গৃহকর্মের প্রয়োজনে সব বাড়ীতেই একটা করে ছোট বা বড় পুকুর। ছোট্ট পুকুর গুলিকে কেন কে জানে বলা হোত কুয়া। কুয়ার জল টলটলে পরিষ্কার। তলার কাদামাটি শিংগি, মাগুর ল্যাটা মাছের যোগানদার। ভাঙ্গা কলসী ডুবিয়ে রাখা হোত; পুরোনো জেলে তুফানী মামা মানকচুর পাতা মাথায় দিয়ে এসে কলসী তুলবে, বড়বড় তৈলাক্ত দেশী মাগুর সীমের বীচি দিয়ে মাখা মাখা করে অতি উপাদেয় রান্না হবে; বাজারে কে যাবে কাদা মাড়িয়ে? কর্দমাক্ত পথ ছিলো ওরিয়েন্ট চৌমুহনী থেকে জ্যাকসন গেট অবধি। তবুও বৃষ্টির দিনে পায়ের পাতাডোবা কাদা মাড়িয়ে মহোত্সাহে স্কুলে যেতাম - কোনোদিন রেণিডে হোত, কোনো দিন বড়দি'মণি বলতেন, যারা পুরো ভিজেছে তারা স্কুলের লেজিমস ড্রিলের জামা কি ব্রতচারীর শাড়ী পরে ক্লাস কর। সেই বয়েসে সবেতেই আনন্দ।দিদিমণিরা কেউ কেউ বকতেন এতো বৃষ্টিতে স্কুলে আসার জন্য। কেউ বলতেন আজ আর পড়া নয় গান হোক্। আগরতলা তখন পুলিন দেববর্মণ, হীরেন দেববর্মণ, মহেন্দ্র কৃষ্ণ দেববর্মণ, ঝর্ণা দেববর্মণদের সঙ্গীতসমৃদ্ধ শহর। ছাত্রীরা কজনই বা গান না জানা। টিনের চালে বারি ঝরে ঝরঝর ওদিকে আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে দুয়ার কাঁপে থেকে বরিষে বাদরিয়া শাওনকি - সব হতে হতে কখন রামধনু জেগে ওঠে কালো আকাশের চোখে।
একবার তো সন্ধ্যেবেলায় মাইকে বন্যার সতর্কবার্তা দেয়া হোল, আমাদের বইপত্র আর দরকারী কাগজ সব তোলা হোল সিলিং এ। আকাশবাণী আগরতলা তখনো হয়নি। কোলকাতাতায় শুক্রবার নাটক হতো রাতে। সবাই শুনতো। হচ্ছিলো মুক্তধারা নাটক। বাঁধ ভেঙ্গেছে বাঁধ ভেঙ্গেছে বলে শোর উঠতে স্থানীয় কিছু মানুষ বুঝে না বুঝে গলা মেলাতে সেকি হুটোপুটি। বন্যা হয়নি, কিন্তু মাটির বাঁধে ফাটল ধরেছিলো। তবে পঞ্চান্ন বা ছাপান্ন সনে প্রচণ্ড বন্যার গল্প শুনেছি বড়দের মুখে। আমি তখন আগরতলায় ছিলাম না, ছোট ও ছিলাম। বিধ্বংসী বন্যার দুর্ভোগের কাহিনীর চেয়ে বাড়ী ছাড়তে অনিচ্ছুক আমার দাদুকে মিলিটারিরা জোর করে গামলায় বসিয়ে কোতয়ালী থানার নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে এসেছিলেন এই গল্পই খুব কৌতুকপ্রদ মনে হয়েছিলো।
বন্যা দেখিনি, তবে বানভাসি আগরতলা দেখেছি বৈকি! কতো ভোগান্তি পেরিয়ে কর্মস্থলে গেছি, ফিরেছি। জুলাই মাস, স্কুলে টার্মিনাল পরীক্ষা, মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের মুখে গঙ্গা জল দিয়ে রওয়ানা হয়েছি। তখন নোডালে ভাগ করা হয়েছে স্কুল গুলি। আমার স্কুলে প্রশ্নের ভাঁড়ার, প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাত। পরীক্ষা ব্যাহত হয়নি, ফিরে এসে মাকে আর পাইনি। অঝোর ঝরনেই মা'র শেষ যাত্রা। গৌহাটি নিবাসী বোন ফ্লাইট ধরতে পেরেছিলো, মাকে দেখতে পায়নি।
আগরতলার জন্য উদ্বেগ ভোগ করছি। আত্মীয় বন্ধুরা বলছেন প্রশাসন যথাসাধ্য তত্পরতায় বানভাসি মানুষকে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন, যথাসাধ্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন; কিন্তু সেই হারানো পুকুর, কুয়া, লেক যেগুলো নির্বিচারে বুজিয়ে নিয়ে বড় বড় দালান বাড়ী হোল তাদের কে ফেরাবে? বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা দায়ী তো বটেই আর শহুরে নাগরিক সমাজ, তাঁদের কম দায়িত্ব? যাঁরা নিঃসঙ্কোচে নিজের নিজের বাড়ী আর দোকানের জঞ্জাল ঝেঁটিয়ে বিদেয় করেন ড্রেনের গর্ভে আর পলিথিন মুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন তছনছ করে সব পরিত্যাগ করেন নালা নর্দমায় তাঁদের দায় নেই?
সাধের আগরতলা আর তার অধিবাসীদের জন্য উদ্বেগে আজকের রাত কেটে যাবে এই দূরবর্তী পরবাসিনীর কিন্তু দুর্গত মানুষের কোনো সুরাহা হবেনা। তবুও লিখলাম। আগরতলার জন্য আগরতলার ডায়ালেকটে হাপ্পুই বাপ্পুই ছাড়া এ তো আর কিছু না।

শেয়ার করুন


Avatar:  দ

Re: আগরতলা নাকি বানভাসি

ত্রিপুরা, উত্তরবঙ্গ সব জায়গাতেই খিব খারাপ অবস্থা
Avatar: দ

Re: আগরতলা নাকি বানভাসি

খুব


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন