Asish Das RSS feed

Asish Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#2
    [৩] যাদুবিদ্যা ও ধর্মপৃথিবীর সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই প্রথম যুগে এই ম্যাজিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কেন? আসুন, এবার আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখি। সমাজ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা যাবে, ধর্মের উদ্ভবের সময়কালের সাথে এই যাদুবিদ্যার আর্থসামাজিক ...
  • আমার বাবার বাড়ি
    আমাদের যাদের বয়েস স্বাধীনতার বয়েসের পাশাপাশি তারা ছোটবেলায় প্রায়ই একটা অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম, দেশ কই? উত্তরে যে দেশের নাম বলার রীতি ছিলো যেমন ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী সব ছিলো ভারতের ম্যাপের বাইরে সবুজ এলাকায়। আবার সদ্যস্বাধীন দেশে আমরা খুব ...
  • পরীবালার দিনকাল
    ১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1
    আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। ...
  • আমার বাবা আজিজ মেহের
    আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ...
  • উপনিষদ মহারাজ
    একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)******************...
  • চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল
    চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর ...
  • আগরতলা নাকি বানভাসি
    আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো ...
  • ভূতের_গল্প
    পর্ব এক"মদন, বাবা আমার ঘরে আয়। আর গাছে গাছে খেলে না বাবা। এক্ষুনি ভোর হয়ে যাবে। সুয্যি ঠাকুর উঠল বলে।"মায়ের গলার আওয়াজ পেয়ে মদনভূত একটু থমকাল। তারপর নারকেলগাছটার মাথা থেকে সুড়ুৎ করে নেমে এল নীচে। মায়ের দিকে তাকিয়ে মুলোর মত বিরাট বিরাট দাঁত বার করে ...
  • এমাজনের পেঁপে
    একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা ...

গর্ব

Asish Das

গর্ব
---------------------------------------------

পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা বরাবর তাদের দুর্বল ইংরেজি স্কিলের জন্য হাসির পাত্র হয়ে এসেছেন। মজা অবশ্যই মজা হিসেবে নেওয়া যায়। কিন্তু যখন একটা উপমহাদেশীয় দেশের ক্রিকেটারদের ইংরেজিতে দুর্বলতা নিয়ে ক্রমাগত ট্রল করা হতে থাকে তখন বুঝতে হয় মজ্জায় মজ্জায় কলোনিয়ালিজম কিভাবে ঢুকে আছে আজও। একজন ক্রিকেটারের কাজ খেলা, মাতৃভাষা ব্যাতীত অন্য ভাষা জানতেই হবে এরকম দাবী হাস্যকর রকমের অযৌক্তিক। তবে আমরা আর কবেই বা যুক্তিপূর্ণ কাজ করেছি?

যাইহোক এত গৌরচন্দ্রিকার কারণ হল, পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন সরফরাজ আহমেদের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায় কদিন আগে। তাতে দেখা যাচ্ছে প্রেস কনফারেন্সের আগে উদ্বিগ্ন মুখে তিনি জানতে চাইছেন, "সারে ইংলিশ হ্যায় কেয়া?"। স্বাভাবিক, তার মাতৃভাষা আলাদা এবং তিনি ইংরিজিতে ততটা স্বচ্ছন্দ নন (যেটা বিশ্বের কয়েকশো কোটি মানুষের ক্ষেত্রেই সত্যি)। তাই নার্ভাস বোধ করছেন সবার সামনে ইংরেজিতে কথোপকথন চালাতে।

তো এই ভিডিও প্রকাশ হবার পরই আমাদের দেশের সারকাজম ও উইটের ধারক ও বাহক, অর্থাৎ মিম ও ট্রল পেজগুলো, ল্যাজ উঁচিয়ে নেমে পড়ে হাস্যরসের ফল্গুধারা বইয়ে দিতে। একে পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন, তার উপর ফটফটিয়ে ইংরেজি বলার উপর খ্যাঁচ তো আমাদের আড়াইশো বছর ধরে। অচিরেই ট্রলের বন্যা শুরু হয়। এই অবদি ছবিটা চেনাই। এরকমই হয়ে থাকে। এর পরের স্টেপে মিমের কমেন্টবক্স "কাটার বাচ্ছারা চারটে বউকে লাগানো থেকে টাইম পেলে তো ইংরেজি শিখবে" বা "ইললিটারেট পাকিস, ফাক দেয়ার মাদার" টাইপের কমেন্টে ভরে যাওয়ার কথা। একদম ছকেবাঁধা স্ক্রিপ্ট!

কিন্তু অদ্ভুতভাবে আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়েও সেটা হয়নি!! গুচ্ছ গুচ্ছ মানুষ মিম পেজের কমেন্টে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বলেছেন এভাবে ইংরেজি না জানার জন্য কাউকে ব্যঙ্গ করা নিজেদের মানসিক দৈন্যের প্রকাশ। একটা দুটো না, পরপর সব কমেন্টে!! ভাবা যায়! আজকের ভারতে! সাড়া এসেছে সীমান্তের ওপার থেকেও। টুইটার, ফেসবুকে বহু পাকিস্তানি ভারতীয়দের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ট্রলের প্রতিবাদ করার জন্য, মানসিক দৈন্যের বিরুদ্ধে গলা তোলার জন্য! এরকম অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার শেষ কবে দেখেছি আমার মনে পড়ছে না!

হ্যাঁ আমিও ভারতীয়। সহ-নাগরিকদের কাজে মাথা নীচু হয়ে গেলে যেমন সেই ক্রোধ বা লজ্জা ফেসবুকে উগড়ে দিই, আজ তাদের কাজে গর্ব বোধ করছি যখন সেটাও সোৎসাহে চিৎকার করে বলবো। নাহ, এখনো আশা রাখাই যায় বলুন?



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন