Asish Das RSS feed

Asish Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বইয়ের গ্রাম ভিলার
    মহারাষ্ট্রের পঞ্চগণি মহাবলেশ্বর হিলস্টেশান হিসেবে বিখ্যাত, বিখ্যাত এর স্ট্রবেরী চাষের জন্যও। বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা লাভ হয় শুধু এই অঞ্চলে উৎপাদিত স্ট্রবেরী বিক্রি করে। দাক্ষিণাত্যের বিখ্যাত কৃষ্ণা নদীর উৎসও এই মহাবলেশ্বর অঞ্চল। সারাবছর পর্যটকের ...
  • আমার সোহিনী আর বাবার বউ
    সবচেয়ে ভোরে উঠে একটা মোক্ষম জিনিশ টের পাই। শালা, য-ফলাতেই মেয়েদের কাঁখতল দেখি আমার নির্ঘাৎ ঘোর অসুখ করেছে। এবং, রোগটা অস্বস্তির। এ যৌনব্যাধির একটা স্পেসিফিক নাম নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু তজ্জন্যে মাকুন্দ ডাক্তারের মদত নেব না। কেননা রোগটা আমারই। অন্য কারো ...
  • নকশার উল্টো পিঠ
    আমার দিদার ছিল গোটা চারেক ভালো শাড়ী। একটা বিয়ের বেনারসী, একটা গরদ, মাঝবয়েসে বেনারস বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে কেনা একটা কড়িয়াল বেনারসী, এছাড়া শেষের দিকে তসরও হয়েছিল। মায়ের প্রথম দামী শাড়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন হস্তশিল্প মেলা থেকে কেনা দুধে আলতা রঙের একটা ...
  • আরও একটি ভ্রমণ কাহিনী - কুমায়ুনে চারদিন
    প্রাককথনযেমন আর পাঁচটা বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়, কোথায় যাওয়া হবে, তারিখ, ফেরা কবে, কতদূর যাব এইসব টালবাহানা চলে, এবারেও ঠিক তাই ছিল। তা, সেই পর্ব মিটে যায় ভালোয় ভালোয়। আরও একটা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন থাকে, তবু তার বাইরেও অনেকটা অনিশ্চয়তা থাকে, ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৫
    http://bigyan.org.in...
  • সেখ সাহেবুল হক
    শ্রীজগন্নাথ ও ছোটবেলার ভিড়-----------------...
  • মাতৃত্ব বিষয়ক
    এটি মূলতঃ তির্যকের 'রয়েছি মামণি হয়ে' ও শুচিস্মিতা'র 'সন্তানহীনতার অধিকার'এর পাঠপ্রতিক্রিয়া।-----...
  • ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা
    ভারতে বিজ্ঞান গবেষণা ও সেই সংক্রান্ত ফান্ডিং ইত্যাদি নিয়ে কিছুদিন আগে 'এই সময়' কাগজে একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। http://www.epaper.ei...
  • কেমন হবে বেণীমাধব?
    - দিস ব্লাডি ইউনিয়ন কালচার ইস ক্র্যাপ। আপিস ফেরত পথে চিলড্ বিয়ারে চুমুক দিয়ে বলেছিল অসীম। কেতাদুরস্ত মাল্টিন্যাশন্যালে প্রজেক্ট ম্যানেজার অসীম। ব্যালেন্স শিট, ডেটা মাইনিং, ক্লায়েন্ট মিটিং’র কচকচানি, তার উপর বিরক্তিকর ট্রাফিক, আর গোদের উপর বিষ ফোড়া ...
  • ইফতার আর সহরির মাঝে
    কলকাতার বুকের মধ্যে যে কত অগুন্তি কলকাতা লুকিয়ে আছে! রমজান মাসে সূর্য ডুবে গিয়ে রাত ঘনিয়ে এলে মধ্য কলকাতার বুকে জেগে ওঠে এক আশ্চর্য বাজার। যে বাজার শুরু হয় রাত দশটার থেকে আর তুঙ্গে ওঠে রাত বারোটা একটা নাগাদ। ফিয়ার্স লেন, কলুটোলা, জাকারিয়া স্ট্রিট, সাবেক ...

গর্ব

Asish Das

গর্ব
---------------------------------------------

পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা বরাবর তাদের দুর্বল ইংরেজি স্কিলের জন্য হাসির পাত্র হয়ে এসেছেন। মজা অবশ্যই মজা হিসেবে নেওয়া যায়। কিন্তু যখন একটা উপমহাদেশীয় দেশের ক্রিকেটারদের ইংরেজিতে দুর্বলতা নিয়ে ক্রমাগত ট্রল করা হতে থাকে তখন বুঝতে হয় মজ্জায় মজ্জায় কলোনিয়ালিজম কিভাবে ঢুকে আছে আজও। একজন ক্রিকেটারের কাজ খেলা, মাতৃভাষা ব্যাতীত অন্য ভাষা জানতেই হবে এরকম দাবী হাস্যকর রকমের অযৌক্তিক। তবে আমরা আর কবেই বা যুক্তিপূর্ণ কাজ করেছি?

যাইহোক এত গৌরচন্দ্রিকার কারণ হল, পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন সরফরাজ আহমেদের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায় কদিন আগে। তাতে দেখা যাচ্ছে প্রেস কনফারেন্সের আগে উদ্বিগ্ন মুখে তিনি জানতে চাইছেন, "সারে ইংলিশ হ্যায় কেয়া?"। স্বাভাবিক, তার মাতৃভাষা আলাদা এবং তিনি ইংরিজিতে ততটা স্বচ্ছন্দ নন (যেটা বিশ্বের কয়েকশো কোটি মানুষের ক্ষেত্রেই সত্যি)। তাই নার্ভাস বোধ করছেন সবার সামনে ইংরেজিতে কথোপকথন চালাতে।

তো এই ভিডিও প্রকাশ হবার পরই আমাদের দেশের সারকাজম ও উইটের ধারক ও বাহক, অর্থাৎ মিম ও ট্রল পেজগুলো, ল্যাজ উঁচিয়ে নেমে পড়ে হাস্যরসের ফল্গুধারা বইয়ে দিতে। একে পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন, তার উপর ফটফটিয়ে ইংরেজি বলার উপর খ্যাঁচ তো আমাদের আড়াইশো বছর ধরে। অচিরেই ট্রলের বন্যা শুরু হয়। এই অবদি ছবিটা চেনাই। এরকমই হয়ে থাকে। এর পরের স্টেপে মিমের কমেন্টবক্স "কাটার বাচ্ছারা চারটে বউকে লাগানো থেকে টাইম পেলে তো ইংরেজি শিখবে" বা "ইললিটারেট পাকিস, ফাক দেয়ার মাদার" টাইপের কমেন্টে ভরে যাওয়ার কথা। একদম ছকেবাঁধা স্ক্রিপ্ট!

কিন্তু অদ্ভুতভাবে আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়েও সেটা হয়নি!! গুচ্ছ গুচ্ছ মানুষ মিম পেজের কমেন্টে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বলেছেন এভাবে ইংরেজি না জানার জন্য কাউকে ব্যঙ্গ করা নিজেদের মানসিক দৈন্যের প্রকাশ। একটা দুটো না, পরপর সব কমেন্টে!! ভাবা যায়! আজকের ভারতে! সাড়া এসেছে সীমান্তের ওপার থেকেও। টুইটার, ফেসবুকে বহু পাকিস্তানি ভারতীয়দের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ট্রলের প্রতিবাদ করার জন্য, মানসিক দৈন্যের বিরুদ্ধে গলা তোলার জন্য! এরকম অদ্ভুতুড়ে ব্যাপার শেষ কবে দেখেছি আমার মনে পড়ছে না!

হ্যাঁ আমিও ভারতীয়। সহ-নাগরিকদের কাজে মাথা নীচু হয়ে গেলে যেমন সেই ক্রোধ বা লজ্জা ফেসবুকে উগড়ে দিই, আজ তাদের কাজে গর্ব বোধ করছি যখন সেটাও সোৎসাহে চিৎকার করে বলবো। নাহ, এখনো আশা রাখাই যায় বলুন?



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন